দীনী মাদারিস: দীন রক্ষার মজবুত দূর্গ

0
Print Friendly

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না

রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

লেখক : মুহাম্মাদ তকী আল উসমানী
অনুবাদক : জহীর উদ্দীন বাবর
140

বর্তমান সময়ে দীনী মাদারিসসমূহের ব্যাপারে বিভিন্ন প্রচার-প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। যারা এসব করছে তাদের অনেকেই সরাসরি দীনের দুশমন। ইসলামের উত্থান ঠেকাতে তারা মরিয়া। আল্লাহর কালেমা জগতে বুলন্দ হোক এটা তাদের কাছে সবচেয়ে অপ্রিয়। তাদের এই বিরোধিতা স্বাভাবিক। কিন্তু অনেক সময় দীনের সঙ্গে সম্পৃক্ত উচ্চ শিক্ষিত একটি শ্রেণীও এ অপপ্রচারের নির্মম শিকার হন। জেনে কিংবা না জেনে তারা দীনের মজবুত দূর্গ দীনী মাদরাসাসমূহের ব্যাপারে বিভিন্ন প্রান্তিক মন্তব্য করে বসেন। বিরূপ ধারণা পোষণ করেন। তাদের অন্তরে এসব প্রতিষ্ঠান সস্পর্কে বিদ্বেষ বদ্ধমূল হয়ে রয়েছে।

মৌলভীদের সব কাজে বিরোধিতা : আমার মরহুম আব্বা (মুফতি মুহাম্মদ শফি রহ.) অনেক সময় হেসে হেসে বলতেন ‘মৌলভী দলটিই নিন্দার পাত্র।’ অর্থ্যাৎ দুনিয়ার যে কোনো স্থানে কোনো মন্দ কাজ হলে লোকেরা এটাকে মৌলভীদের ওপর আরোপ করার চেষ্টা চালায়।

মৌলভীরা যে কোনো কাজ করলে তাতে কোনো না কোনো প্রশ্ন উত্থাপন কিংবা বিরোধিতা করবেই। মৌলভী যদি নীরবে বসে বসে সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ করে, ক্বালাল্লাহ-ক্বালা রাসূলুল্লাহর দরস দেয় তাহলে তাদের ওপর অভিযোগ হচ্ছে এসব মৌলভী দুনিয়া সম্পর্কে বেখবর। দুনিয়া কোনো দিকে যাচ্ছে সে সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই। তারা নিজের বিসমিল্লাহর গুঞ্জন থেকে বেরিয়ে আসার কোন ফুসরত পায়না। মৌলভী বেচারা যদি সামাজিক সংশোধনের জন্য কিংবা যৌথ কোনো কাজের জন্য খানকা থেকে বেরিয়ে আসে তখন লোকেরা অভিযোগ করে যে মৌলভীদের কাজ তো মাদরাসা ও খানকায় বসে বসে আল্লাহ আল্লাহ করা। অথচ তারা আজ রাজনৈতিক ময়দানে, ক্ষমতার দৌঁড়ে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করে নিচ্ছে। যদি কোনো মৌলভী অর্থনৈতিক দৈন্যদশায় ভোগেন এবং বাইরের কোনো ধান্ধায় লিপ্ত হন, তাহলে লোকেরা বলাবলি করতে থাকে যে, তিনি তার ছাত্রদের জন্য অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার কোনো পন্থা বের করেননি; নিজের ধান্ধায় সময় ব্যয় করছেন। তার ছাত্রদের ভবিষ্যৎ কী হবে? তাদের রুটি-রুজির যোগান হবে কোথায় থেকে? তাদের অবলম্বন কী হবে? কোনো মৌলভী যদি অর্থনৈতিকভাবে একটু স্বাবলম্বী হন তখন তার ব্যাপারে প্রশ্ন উত্থাপন করা হয় যে, তিনি কিভাবে লাখপতি-কোটিপতি হলেন ? তার এত সম্পদ কিভাবে হল? বেচারা মৌলভী সাহেবের সামনে কোনো পথই খোলা নেই। তিনি যে দিকে যাবেন সে দিকেই প্রশ্নবানে জর্জরিত হবেন। এজন্য এদেরকে নিন্দার পাত্র বলে আখ্যায়িত করা হয়।

দরাসা মজবুত দূর্গ : এটি ঐ শ্রেণী যারা বিরামহীন অপপ্রচারের মাধ্যমে দীনের আলেম ও ছাত্রদের বিরুদ্ধে খারাপ ধারণার বিস্তৃতি ঘটায়। ভালভাবে বুঝতে হবে যে এটা ইসলামের সঙ্গে প্রকাশ্য শত্র“তা। কেননা ইসলামের শত্র“রা এ বাস্তবতা সস্পর্কে সম্যক জ্ঞাত যে, দুনিয়ার বুকে ইসলামের জন্য ঢাল হিসেবে যে সমস্ত কাজ হচ্ছে তার মূলে নিন্দার পাত্র এই জামাত। তারা ইসলামের জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে ঢালস্বরূপ কাজ আঞ্জাম দিচ্ছে। ঐ লোকেরা এ কথা জানে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত দুনিয়ার বুকে মৌলভীদের অস্তিত্ব বাকী থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত ইনশাআল্লাহ ইসলামের নিশানা মিটাতে পারবে না। এটি একটি পরীক্ষিত সত্য যে, যেখানে নিন্দার পাত্র এই মৌলভীদের অস্থিত্ব বিলীন হয়ে গেছে সেখানে ইসলামও তার স্বরূপ হারিয়েছে। ইসলাম বিরোধীরা সেখানে পূর্ণ সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা আমাকে তাঁর ফজল ও করমে দুনিয়ার অনেক জায়গা দেখার তাওফিক দিয়েছেন। মুসলিম বিশ্বের এমন এলাকায়ও যাওয়ার সুযোগ হয়েছে যেখানে এসব মাদরাসার বীজ সমূলে বিনাশ করে দেয়া হয়েছে। তার ফল সচক্ষে যা অবলোকন করেছি তার উদাহরণ হচ্ছে ভেড়ার পাল যার রাখালকে হত্যা করে দেয়ার পর বাঘকে ফিরিয়ে রাখার মত কোনো জিম্মাদার থাকে না বরং বাঘ তার ইচ্ছা মত প্রাণীগুলোকে ছিঁড়েফিরে খায়। বর্তমানে বিশ্বের অনেক প্রান্তেই দীনের দিক থেকে মুসলমানদের এই অবস্থা বিরাজ করছে।

বাগদাদে দীনী মাদারিসের সন্ধান : বাগদাদ হচ্ছে এমন একটি শহর যা শত শত বছর পর্যন্ত ইসলামী দুনিয়ার অন্তর্ভূক্ত ছিল। সেখানকার খেলাফতে আব্বাসিয়ার শৌর্য-বীর্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের জৌলুস সারা বিশ্ব দেখেছে। আমি যখন সেখানে পৌঁছলাম তখন একজনের কাছে জিজ্ঞেস করলাম, এখানে কোনো মাদরাসা কিংবা ইলমে দীনের কোনো মারকাজ আছে কি? আমি সেগুলো জিয়ারত করতে চাই। উত্তরে সেই ব্যক্তি জানাল যে, এখানে এ ধরনের মাদরাসার কোন অস্থিত্ব নেই। বর্তমানে এখানকার সব মাদরাসা স্কুল-কলেজে রূপান্তরিত হয়ে গেছে। দীনের শিক্ষার জন্য এখন বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে ফ্যাকাল্টি খোলা হয়েছে। দীনিয়াত বিষয় এখানেই পড়ানো হয়। কিন্তু সেখানকার শিক্ষকদেরকে দেখে এ ব্যাপারে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়তে হয় যে, তারা কি মুসলমান না অন্য ধর্মাবলম্বী ! এসব প্রতিষ্ঠানসমূহে সহশিক্ষা প্রচলিত। ছেলে-মেয়ে পাশাপাশি বসে পড়ালেখা করে। ইসলাম শুধু একটি মতবাদ হিসেবেই টিকে আছে এখানে যাকে ঐতিহাসিক দর্শন হিসেবেই পড়া ও পড়ানো হয়। বাস্তব জীবনে এর কোনো প্রভাব পরিলক্ষিত হয় না। তারা তেমনি পড়ছে যেমন প্রাচ্যবিদরা পড়ছে। বর্তমানে আমেরিকা, কানাডা ও ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে পর্যন্ত ইসলামী বিষয় পড়ানো হয়। সেখানেও হাদীস, তাফসীর ও ফিকাহ পড়ানোর ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের লেখা গবেষণামূলক প্রবন্ধ-নিবন্ধ আপনি পড়লে এমন সব কিতাবাদীর নাম পাবেন যে সম্পর্কে আমাদের সাদাসিধে মৌলভীদের পর্যন্ত কোনো খবর নেই।

বাহ্যিকভাবে খুবই চিন্তা-গবেষণামূলক কাজ আঞ্জাম হচ্ছে। কিন্তু সেটি দীনের কি শিক্ষা যা মানুষকে ঈমানের দৌলত দান করতে পারে না। সকাল-সন্ধ্যা ইসলামী জ্ঞানসমূদ্রে নিমজ্জিত থাকার পরও এর একটি ফোটা দ্বারা উপকৃত হতে পারে না। এক ফোটা পানি দ্বারা পিপাসাকাতর জিহ্বাটিকে ভিজাতে পারে না। পাশ্চাত্যের এসব প্রতিষ্ঠানসমূহে শরয়ী ও ইসলামী আইন অনুষদও রয়েছে। কিন্তু এর কোনো ছাপ তাদের মধ্যে সঞ্চালিত হয়না। এ শিক্ষার কোনো রূহ খোঁজে পাওয়া যায়না।

পরে আমি তাদেরকে বললাম, কোন মাদরাসা না থাক পুরোনো তরীকার কোন আলেম থাকলে তার সঙ্গে আমাকে সাক্ষাৎ করিয়ে দাও। আমি তার খেদমতে হাজির হতে চাই। তারা আমাকে জানাল শায়খ আব্দুল কাদির জিলানী রহ. এর মাজারের কাছে মসজিদে একটি মকতব রয়েছে যাতে একজন প্রবীণ উস্তাদ আছেন। তিনি পুরোনো পদ্ধতিতেই পড়ান। আমি তালাশ করতে করতে তাঁর কাছে পৌঁছে গেলাম। তাঁকে দেখে আমি আশ্বস্ত হলাম যে তিনি বাস্তবেই একজন পুরোনো বুজুর্গ। তাঁর চেহারা দেখে অনুভূত হল যে একজন মুত্তাকী আলেমের জিয়ারত লাভে ধন্য হয়েছি। তিনিও হাঁটুগাড়া দিয়ে বসে লেখাপড়া করেছেন। সাধারণ খানা খেয়ে, মোটা কাপড় পড়ে ইলমে দীন হাসিল করেছেন। আল্লাহর বিশেষ মেহেরবানীতে তাঁর চেহারা থেকে ইলমের নূর চমকাচ্ছিল। সামান্য সময় তাঁর দরবারে বসে এটা অনুভূত হল যে আমি জান্নাতের গণ্ডির ভেতর এসে গেছি।

মাদরাসার অস্তিত্ব নিশ্চি‎হ্ন হতে দিবেনা : সালাম ও কুশল বিনিময়ের পর তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন- আপনি কোথায় থেকে এসেছেন ? আমি বললাম ঃ পাকিস্তান থেকে। এরপর তিনি আমাকে দারুল উলূম করাচী সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন যে, যে মাদরাসায় আপনি পড়েছেন এবং পড়াচ্ছেন সেটি কী ধরনের মাদরাসা? আমি তাঁকে বিস্তারিত খুলে বললাম। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন- সেখানে কী পড়ানো হয়, কী কিতাব পড়ানো হয় ইত্যাদি। যে সমস্ত কিতাব পড়ানো হয় আমি সেগুলোর নাম বললাম। এসব কিতাবাদীর নাম শুনে তিনি আবেগে আপ্লুত হয়ে চিৎকার দিয়ে উঠলেন এবং কাঁদতে শুরু করলেন। তাঁর দুচোখ বেয়ে অশ্র“ গড়িয়ে পড়তে লাগল। তিনি আশ্চর্য হয়ে বলতে লাগলেনঃ এখনও এসব কিতাবাদী আপনাদের এখানে পড়ানো হয় ? আমি বললাম- আলহামদুলিল্লাহ পড়ানো হয়। তখন তিনি বললেনÑআমরা তো বর্তমানে এসব কিতাবাদীর নাম শোনা থেকেও বঞ্চিত হয়ে পড়েছি। অনেকদিন পর আজ এসব কিতাবের নাম শুনে আমার কান্না এসে গেছে। এসব কিতাব আল্লাহওয়ালা মানুষ সৃষ্টি করত। এর দ্বারা প্রকৃত মুসলমান জন্ম নিত। আমাদের দেশ থেকে এগুলো বিতাড়িত হয়ে গেছে। আমি আপনাকে নসিহত করছি, আপনি আমার এই কথাকে আপনার দেশের আলেম ও সাধারণ মানুষ পর্যন্ত পৌঁছে দিন যে, আল্লাহরওয়াস্তে যে কোনো বিষয় সহ্য করবে কিন্তু এ ধরনের মাদরাসার ধ্বংস হওয়াকে কোনো ক্রমেই বরদাশত করবে না। ইসলামের দুশমনেরা এই নিগুঢ় রহস্য সম্পর্কে ওয়াকেফহাল যে, যতদিন পর্যন্ত এই সাদাসিধে, হাঁটুগেড়ে বসে অধ্যয়নকারী এসব মৌলভী এই সমাজে অবশিষ্ট থাকবে ততদিন মুসলমানদের অন্তর থেকে তাদের অমূল্য সম্পদ ঈমানকে হরণ করা যাবে না। তাই যে কোনো মূল্যে আপনারা এর অস্থিত্ব টিকিয়ে রাখুন।

ইসলামবিদ্বেষীরা এসব মাদরাসার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের প্রচার প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। এসব মৌলভীরা চৌদ্দশত বছরের পুরোনো বিষয় নিয়ে মাতামাতি করছে, তারা প্রগতি বিরোধী, দুনিয়া সম্পর্কে তাদের কোনো খোঁজ-খবর নেই, সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে বাস করার যোগ্যতা তাদের নেই, জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলো থেকে তারা বহু দূরে অবস্থান করে, তারা মুসলমানদেরকে পশ্চাৎপদতা শেখাচ্ছে ইত্যাদি নানা অপপ্রচার ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। সম্প্রতি শরু হয়েছে নতুন এক অভিযোগ যা পূর্বেকার সকল অভিযোগকে ছাড়িয়ে গিয়েছে অর্থাৎ এসব মাদরাসায় সন্ত্রাসবাদ শিক্ষা দেয়া হয়। তারা উৎকর্ষের পথে বড় অন্তরায়। এভাবে নানা অপবাদ দিয়ে তাদেরকে দমানোর চেষ্টা করা হয়। সমস্ত দুনিয়ার অভিযোগের তীর তাদের ওপর নিপতিত হয়। তবুও তাদেরকে দমানো যায় না। নিপাত করা যায় না।

মৌলভীদের প্রাণ খুবই শক্ত : আমার আব্বাজান রহ. বলতেন, এই মৌলভীদের প্রাণ খুবই শক্ত। তাদের ওপর অভিযোগের যত ঝড়ই তোলা হোক না কেন তারা সকল দুর্যোগপূর্ণ অবস্থারই সামাল দিতে পারঙ্গম। এর কারণ হল কোনো মানুষ যখন এই দলে অন্তর্ভুক্ত হয় তখন কমর বেঁধে পূর্ণ হিম্মত নিয়েই অন্তর্ভুক্ত হয়। তারা এ মানসিকতা তৈরি করেই এ পথে আসে যে, আমাকে দুনিয়ার সকল অভিযোগ ও অপবাদ সহ্য করতে হবে। দুনিয়া আমাকে মন্দ বলবে, নিন্দার ঝড় আমার ওপর দিয়ে বইয়ে দিবে, আমার দিকে বাঁকা চোখে তাকাবে, এসব কিছু আমাকে অম্লান বদনে মেনে নিতেই হবে। এসব বাস্তবতা জেনেশুনেই এপথে পা রাখেন তারা। ফলে সমস্ত প্রতিকূল অবস্থা সামাল দিতে সক্ষম হয়। কবি বলেন “যার প্রাণের ভয় আছে, কষ্ট স্বীকার করতে প্রস্তুত নয়, সে কেন দুর্গম গিরিপথ পাড়ি দেবে?” সুতরাং দীনী মাদরাসায় ইলমে দীন অর্জনের জন্য আসার আগে সবাইকে এব্যাপারে মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই আসতে হবে যে, আমাকে নানা অভিযোগ ও তীর্যক বাক্য বরদাশত করতে হবে।

আল্লাহ তাআলা যখন কাউকে তাঁর কৃপাদৃষ্টি দান করেন তখন এসব অভিযোগ একজন সত্য পথের পথিকের জন্য গলার মালা হয়ে যায়। এধরনের অভিযোগ ও অপবাদ যুগে যুগে নবী-রাসূলগণ শুনেছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারাই এ পথে চলবে তাদেরকে শুনতে হবে। আল্লাহ আমাদেরকে এ অভিযোগ শোনার তাওফিক দান করেছেন এজন্য তাঁর শোকরিয়া আদায় করা উচিত। এসব অভিযোগ অযৌক্তিক ও বানোয়াট। একদিন আসবে যেদিন মৌলভীরা এসব অভিযোগের জবাব দেয়ার সুযোগ পাবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে
ﭽ ﰑ ﰒ ﰓ ﰔ ﰕ ﰖ ﰗ ﭼ المطففين: ٣٤
‘সেদিন মুমিন বান্দারা কাফেরদের অবস্থা দেখে হাসবে।’ ( সূরা মুতাফফিফীন: ৩৪)

আজকের অভিযোগকারীদের কন্ঠস্বর সেদিন স্তব্ধ হয়ে যাবে। কথা বলার কোনো শক্তি থাকবে না। আল্লাহ তাআলা তাঁর ফজল ও করমে সেদিন আজকের অপাঙক্তেয় শ্রেণীকে সম্মান ও মর্যাদায় ভূষিত করবেন। ইরশাদ হচ্ছে
ﮔ ﮕ ﮖ ﮗ ﮜ ﭼ المنافقون: ٨
‘সমস্ত ইজ্জত ও সম্মান শুধু আল্লাহর, তাঁর রাসূলের ও মুমীনদের জন্য নির্ধারিত।’ (সূরা মুনাফিকুন : ৮)

প্রকৃত সম্মান দান করেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। আল্লাহর অশেষ করুণার ফলে দীনী মাদরাসাসমূহ অভিযোগ ও অপবাদের তুফান সামাল দিয়ে এখনও স্বদর্পে টিকে আছে। আল্লাহ তাআলা যতদিন পর্যন্ত এই দীনে হককে টিকিয়ে রাখতে চান ততদিন ইনশাআল্লাহ এসব মাদরাসাও টিকে থাকবে। লোকদের হাজারো অভিযোগ ও অপবাদ সামান্য ক্ষতিও করতে পারবে না।

সমাপ্ত


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

পাঠকের মন্তব্য

Loading Facebook Comments ...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here