সুন্নাহর ব্যাপারে স্কলারদের মতামত

2
Print Friendly

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না

রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

লিখেছেনঃ মেরিনার

সুন্নাহকে মুসলিম জীবন থেকে cut off করা হচ্ছে ইসলামবিদ্বেষী সকল অবিশ্বাসী এবং ইসলামী বিশ্বের আধুনিকতাবাদী তথা প্রগতিশীলদের একটা অন্যতম লক্ষ্য! কারণটা খুব simple: সুন্নাহ্ না থাকলে, ইসলামেরই আর কোন অস্তিত্ব থাকবে না। এই ব্লগেই সুন্নাহর গুরুত্ব নিয়ে অনেক কয়টা লেখা লাগানো রয়েছে। আজ আমরা ইনশা’আল্লাহ্ দেখবো যে, স্কলাররা সুন্নাহকে কি চোখে দেখেছেন! মূল লেখা:Jamaal al-Din M. Zarabozo-র]


এই অংশে আমরা ব্যাখ্যাকে সংক্ষিপ্ত রাখবো ৷ আমরা এর আগে যে সব আলোচনা করলাম, তারপরে বিস্তারিত বা দীর্ঘ ব্যাখ্যার প্রয়োজন হবে না ৷ সকল মুসলিমদের জন্য নবীর (সা.) সুন্নাহ অথবা নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এঁর পথ অনুসরণ করাটা যে আবশ্যকরণীয়, সে ব্যাপারে সকল সময়ের বিশাল সব ইসলামী স্কলাররাই যে একমত ছিলেন, তা দেখাতে এখানে তাঁদের কিছু বক্তব্য উদ্ধৃত করা হবে ৷

ইবন খুযাইমা বলেন, “একটা বিষয় সম্বন্ধে আল্লাহর রাসূল (সা.) যদি কিছু বলে থাকেন, আর তা যদি আমাদের কাছে একটা সহীহ সনদে এসে থাকে, তবে আর কেউ সে ব্যাপারে কিছু বলতে পারে না ৷”

বিখ্যাত স্কলার মুজাহিদ (রঃ) বলেন, “আমরা সবার বক্তব্যেরই কিছু গ্রহণ করি এবং কিছু প্রত্যাখ্যান করি কেবল আল্লাহর রাসূল (সা.) ছাড়া ৷” অন্য কথায় রাসূল (সা.)-এঁর সব বক্তব্যই গ্রহণ করতে হবে।

উরওয়া বলেন, “সুন্নাহর অনুসরণ হচেছ দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা ৷”

আবু সুলায়মান আল দারেমী বলেন, “আমার অন্তরে হয়তোবা আমার সময়কার সমস্যাবলী ও কথাবার্তা খচ খচ করে এবং আমি কখনোই দুটি ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী – কুর’আন ও সুন্নাহর সাক্ষ্য ছাড়া কোন কিছুই গ্রহণ করি না ।”

আহমদ ইবন আবু আল হুয়ারী বলেন, “যে এমন কোন একটা কাজ করে, যা সুন্নাহসম্মত নয়, সে আসলে একটি নিষ্ফল কর্ম সম্পাদন করলো ৷”

আবু কিলাবা বলেন, “তুমি যদি কারো সাথে সুন্নাহ নিয়ে কথা বলো আর সে যদি বলে, ‘এসব আমার কাছ থেকে দূরে রাখ এবং আলৱাহর কিতাব নিয়ে আস’ তাহলে জানবে যে সে পথভ্রষ্ট ৷”

আসলে সুন্নাহর মর্যাদা ও কর্তৃত্ব হচেছ এমন একটা বিষয়, যে সম্বন্ধে বলা যায় যে, এর পক্ষে স্কলারদের সর্বসম্মত রায় রয়েছে ৷ শাওয়াত বলেন,
“ইবন হাজম, আল বাজী, আল-গাজালী, আল-আমাজী, আল-বাজদাওয়ী এবং অন্যান্য স্কলার – যাঁরা ইসলামের আইন তত্ত্বের উপর লিখে গিয়েছেন, তাঁরা এই ব্যাপারে (অর্থাৎ, সুন্নাহর মর্যাদা ও কর্তৃত্ব নিয়ে) আলোচনা করেছেন এবং তাঁরা বলে গেছেন যে, এই প্রশ্নে গোটা মুসলিম জাতির মাঝে একটা সর্বসম্মত অবস্থান রয়েছে ৷ তাঁদের পুস্তকাদিতে তাঁরা স্পষ্টভাবে অথবা এমনকি ইঙ্গিত সহকারেও এমন কিছু বলে যাননি, যাতে বোঝা যায় যে, সুন্নাহর কর্তৃত্ব সম্মন্ধে কোন মতপার্থক্যের অস্তিত্ব রয়েছে ৷ আর এঁরা ছিলেন ঐ ধরণের ব্যক্তি, যাঁরা নিজ মাযহাবের পূর্বসূরীদের বই পুস্তক তন্ন তন্ন করে খুঁজে দেখেছেন এবং তাঁদের মতপার্থক্যগুলো – যুক্তিযুক্ত হোক অথবা অগ্রহণযোগ্য হোক, যাচাই করেছেন এবং সময় নিয়ে সে সবকে (অগ্রহণযোগ্য মতামতকে) খন্ডন করেছেন ৷ কেউ এটা কিভাবে কল্পনা করতে পারে যে, মুসলিমদের মধ্যে একটা বিষয়ে মতবিরোধ থাকবে, যা কিনা দ্বীনের মৌলিক বিষয়সমূহের অন্তর্ভূক্ত – যা অপরিহার্যভাবেই দ্বীন ইসলামের অংশ এবং যা নিয়ে কেউ যদি বাকবিতন্ডা করে তাহলে সে একজন মুরতাদ, ইসলামের গন্ডীর বাইরে অবস্থিত….. ইমাম আস-শাফি‘ঈ তাঁর আল-উম্ম বইতে জিমা আল ইলম-এ লেখেন, ‘আমি এমন কোন লোকের কথা জানি না, যাকে লোকে জ্ঞানী মনে করে অথবা যে নিজেকে জ্ঞানী মনে করে – যে এই সত্যের ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করে যে, রাসূল (সা.)-এঁর আদেশসমূহ অনুসরণ করা এবং তাঁর অনুশাসনের কাছে নিজেকে সমর্পণ করাটা আল্লাহ ফরজ করে দিয়েছেন এবং তাঁর পরে আর কারো জন্য তাঁকে অনুসরণ করা ছাড়া আল্লাহ আর কোন বিকল্প খোলা রাখেন নি…..৷’ ঐ সমস্ত উপদলগুলি যারা নিজেদেরকে মুসলিম বলে জাহির করে, অথচ যারা সত্য থেকে বিচ্যুত ও এই বিষয়ে পথভ্রষ্ট তাদের কারোই মুলনীতি হিসেবে সুন্নাহর কর্তৃত্ব অস্বীকার করার সাহস হয় না, কেননা তারা জানতো যে এমন কিছু করাটা তাদেরকে দ্বীনের বাইরে নিয়ে যাবে ৷”
এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হচ্ছে, উপরে উদ্ধৃত স্কলারগণ (এবং আরও হাজার হাজার স্কলার) যাঁরা রাসূল (সা.)-এঁর মৃত্যুর পরে জীবনযাপন করে গেছেন, তাঁদের কেউই কখনো এমনকি স্বল্পতম কোন ইঙ্গিত সহকারেও এমন সম্ভাবনার কথা বলে যান নি যে, কেবল নবীর (সা.) জীবদ্দশায়ই সুন্নাহ মেনে চলার কথা ছিল এবং কিয়ামত পর্যন্ত্ত সময়ের জন্য তার প্রয়োজন নেই ৷ বরং এ ধরণের চিন্তাভাবনা হচ্ছে সমকালীন সময়ের এক নব্য উদ্ভাবন – যার কোন ভিত্তি নেই, যেমনটা আমরা পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদগুলোতে দেখলাম ৷
সাহাবী এবং অন্যান্য স্কলারদের বক্তব্য থেকে একটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়:
তাঁরা সবাই এ ব্যাপারে একমত ছিলেন যে, নবী (সা.)-এঁর কাছ থেকে যা কিছু এসেছে, তা অবশ্যই গ্রহন করতে হবে এবং আর যে কারো কাছ থেকে যা কিছু আসুক না কেন, তা কেবল তখনই গ্রহণ করা যাবে, যদি তা কুর’আন এবং সুন্নাহয় যা রয়েছে, তার সাথে বিরোধপূর্ণ না হয় ৷ অন্য যে কোন মানুষই ভুল-ত্রুটির উর্দ্ধে নয়, অথচ নবী (সা.)-কে আল্লাহ দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন এবং ভুল করা থেকে রক্ষা করেছেন ৷ অপর কথায় বলতে গেলে, কারো কাছে যদি রাসূল (সা.)-এর একটা সহীহ হাদীস উপস্থাপন করা হয়, তবে সেই হাদীস অনুসরণ করা ছাড়া তার আর গত্যন্তর থাকবে না ৷ আল্লাহ্‌র রাসূল (সা.) যা বলেছেন, তার সপক্ষে তার ব্যক্তিগত মতামত ত্যাগ করতে হবে ৷ তাকে অবশ্যই তার মাযহাব, তার সংস্কৃতি ও তার ঐতিহ্যগত মতামত ত্যাগ করতে হবে – নবী (সা.)-এঁর কাছ থেকে সহীহ-শুদ্ধ ভাবে যা এসেছে, তার পক্ষ অবলম্বণ করতে গিয়ে ৷ নবী (সা.) যখন কোনকিছুর ব্যাপারে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়ে গেছেন, তখন সে ব্যাপারটা আর বিতর্ক, আলোচনা অথবা মতামতের জন্য উন্মুক্ত নয় ৷


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

পাঠকের মন্তব্য

Loading Facebook Comments ...

2 মন্তব্য

  1. আল্লাহ আমাদের বেদাতি কাজ থেকে হেফাজত করুন(আমিন)

  2. আলহামদুল্লাহ নবিজির সঃ এর সুন্নাত নিয়া আলোচনা খুব ভাল লেগেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here