QuranerAlo.com - কুরআনের আলো ইসলামিক ওয়েবসাইট » মুসলিম জাহানের খবর http://www.quraneralo.com ইসলামিক রিসোর্সেস - আকিদা, কুরআন, হাদিস, ইসলামী প্রবন্ধ, ইসলামী বই, ইসলামী ওয়াজ | Bangla/Bengali Islamic Website | Bangla Islamic Articles, Bangla Islamic Books, Bangla Islamic Waz Fri, 17 May 2013 05:32:05 +0000 en-US hourly 1 http://wordpress.org/?v=3.5.1 মিয়ানমারে দাঙ্গার নতুন ভিডিও প্রকাশ http://www.quraneralo.com/riot-in-burma/ http://www.quraneralo.com/riot-in-burma/#comments Tue, 23 Apr 2013 05:44:46 +0000 QuranerAlo Editor http://www.quraneralo.com/?p=4353 BBC_intro-1মিয়ানমারের মিকতিলা শহরে গত মার্চে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার একটি ভিডিও চিত্র প্রকাশ করেছে বিবিসি।

ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, একদল লোক মুসলিম মালিকানাধীন একটি স্বর্ণের দোকানে হামলা চালাচ্ছে এবং তাদের বাড়ি-ঘরে আগুন দিচ্ছে। এসময় একজন মুসলমানকে আগুনে পুড়তে দেখা যাচ্ছে আর নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারা দাঁড়িয়ে রয়েছেন।

সোমবার সকালে বিবিসি’র অনলাইন সংস্করণে এ ভিডিওটি চিত্রটি প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটি পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

মিকতিলা শহরে গত ২০ ও ২১ মার্চ সংঘটিত দাঙ্গায় ৪৩ জন নিহত হন। মুসলমানদের বেশ কিছু বাড়ি-ঘর এবং মসজিদে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সে সময় ওই এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।

মিকতিলা শহরে মুসলমানের সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার এবং বৌদ্ধদের সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। মিকতিলা মিয়ানমারের সেই অল্প কয়েকটি শহরের অন্যতম, যেখানে জনসংখ্যার একটা বড় অংশ মুসলমান।

এর আগে, গত বছর জুন মাসে রাখাইন প্রদেশে রাখাইন বৌদ্ধ ও রোহিঙ্গা মুসলমানদের মধ্যে দাঙ্গায় দুই শতাধিক রোহিঙ্গা নিহত হন। বাস্তুহারা হন এক লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান।

 

 

 

 Here is the Full Video: 


 

Source: BBCপরিবর্তন

আর আমাদের মুসলিম নেতাদের অবস্থা হল এখন এইরকম? 

___Gaza_on_Fire____by_Alghafri

আল্লাহ্‌ আমাদের এই ফিতনা-ফাসাদ থেকে হেফাজাত করুক। আমিন

]]>
http://www.quraneralo.com/riot-in-burma/feed/ 0
সিরিয়ায় এক মাসে ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিহত http://www.quraneralo.com/syria-news/ http://www.quraneralo.com/syria-news/#comments Wed, 03 Apr 2013 14:09:36 +0000 QuranerAlo.com Editor http://www.quraneralo.com/?p=4047 syria_by_ahmad8m-d4wbj6aসিরিয়ায় গত এক মাসে সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সহিংসতায় ৬ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। ব্রিটেনভিত্তিক দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকা এ তথ্য জানিয়েছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক একাটি মানকবাধিকার সংগঠনের বরাত দিয়ে গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, মার্চ মাসে দেশটিতে ৬ হাজার ৫ জন নিহত হন।

নিহতদের মধ্যে ১ হাজার ৪শ' ৬৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও দেড় হাজার সরকার বিরোধী বিদ্রোহী ।

এছাড়া, গত মাসে নারী ও শিশুসহ মারা যায় প্রায় ৬'শ বেসামরিক নাগরিক। বাকীদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া জানা যায়নি।

জাতিসংঘের হিসেব মতে, সিরিয়ায় দু’বছরের বেশি সময় ধরে চলমান সহিংসতায় ৭০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। তবে সরকার বিরোধীদের অভিযোগ, সংঘাতে নিহতের সংখ্যা ১ লাখ ২০ হাজারেরও অধিক।

নির্মমভাবে আমাদের মুসলিম ভাই বোনদের এভাবে হত্যা করা হচ্ছে। আমাদের মন কি কাঁদে তাদের জন্য?  আমাদের দু'আতে কি তাদের জন্য কোন অংশ থাকে?

নু’মান ইবনে বাশীর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “মু’মিনদের আপোসের মধ্যে একে অপরের প্রতি সম্প্রীতি, দয়া ও মায়া-মমতার উদাহরণ (একটি) দেহের মত। যখন দেহের কোন অঙ্গ পীড়িত হয়, তখন তার জন্য সারা দেহ অনিদ্রা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়।” [সহীহ বুখারী ৬০১১; সহীহ মুসলিম ২৫৮৬]

আল্লাহ্‌ তা'আলা সিরিয়ায় নিহত সকল ভাই বোনদেরকে ক্ষমা করে দিন, এবং তাদেরকে জান্নাতুল ফিরদাউস নাসীব করুন। আমীন

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান।

 

বাংলাদেশে বসে আমরা হয়ত কিছুই করতে পারব না, কিন্তু অন্তত তাদের জন্য দুয়া তহ আমরা করতে পারি?

]]>
http://www.quraneralo.com/syria-news/feed/ 0
মরুর প্রাচীর পেরিয়ে -৩ (কুরআনের মাঝে, কুরআনের ছায়ায়) http://www.quraneralo.com/beyond-the-desert-3/ http://www.quraneralo.com/beyond-the-desert-3/#comments Sat, 23 Mar 2013 04:56:07 +0000 QuranerAlo.com Editor http://www.quraneralo.com/?p=4017 লিখেছেনঃ নায়লা নুজহাত

পর্ব ১ | পর্ব ২ | পর্ব ৩ 

Pics 5

 

আজ থেকে প্রায় ১৪০০ বছর আগে, হেরা পর্বতের এক গুহাতে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষটির (সা) কাছে জিবরাইল (আ) নিয়ে এসেছিলেন এক অপূর্ব বার্তার পরিচয়। আল্লাহর তরফ থেকে সমগ্র মানবজাতির জন্য এক অসাধারণ রহমত—দিক নির্দেশনা এবং এক পরিপূর্ণ জীবন বিধান। পরবর্তী ২৩ বছর সময়কাল ধরে সেই বার্তা পরিপূর্ণরূপে মানুষের কাছে পৌঁছে আল্লাহর রাসুল (সা) এর মাধ্যমে। তিনি (সা) সেই বার্তা প্রচারের সাথে সাথে কিভাবে তা জীবনে আঁকড়ে ধরে সাফল্যের দিকে মানুষ এগিয়ে যাবে তাও দেখিয়েছেন নিজের জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে। সেই বার্তা, যা কিনা আমাদের মুসলিমদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়ার কথা। সেই বার্তা - যা কোন সাধারণ পুস্তক না— যার প্রতিটি অক্ষর বলে দেয় যে এর উৎপত্তি সাধারণ কোন উৎস থেকে নয়। এ যে আমাদের সৃষ্টিকর্তার কথা, আমাদের উদ্দেশ্যে—তাঁর বান্দাদের উদ্দেশ্যে। এ সেই কুরআন।

আল্লাহর রাসুল (সা) এর যুগ থেকে শুরু করে আমাদের এই সময় পর্যন্ত কুরআন বিভিন্ন ভাবে মানুষের কাছে সংরক্ষিত হয়েছে। যুগে যুগে বিভিন্ন দেশে অজস্র মানুষ কুরআন কে স্মৃতিতে ধরে রেখেছেন। নাম না জানা অজস্র এই হাফিযদের মর্যাদা আল্লাহর কাছে কতই না ঊর্ধ্বে। কখনো পারিবারিকভাবে, কখনো শিক্ষকের মাধ্যমে আর কখনোবা কুরআন স্কুলের মাধ্যমে কুরআনের এই জ্ঞান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বাহিত হয়েছে। নানান দেশের কুরআন স্কুলের ধরন ভিন্ন প্রকৃতির হলেও তাদের উদ্দেশ্য একটাইঃ আল্লাহর বানী মানুষের মাঝে সংরক্ষণ করা। বিনোদনের এই যুগে আমাদের জীবন থেকে কুরআনের অংশ অনেকখানি কমে গিয়েছে। আজকে আমরা মুসলিমরা এই অভাবনীয় রহমত আস্বাদন করা থেকে নিজেদের অনেক দূরে নিয়ে গিয়েছি।

কালের আবর্তনে ইসলামের জন্মভূমি এই মরুর দেশে অনেক পরিবর্তন আসলেও কুরআন শিক্ষার এক অবিচ্ছিন্ন সংস্কৃতি এখনো এখানে বহাল রয়েছে। এদেশের অনারব অধিবাসীদের অনাগ্রহের কারনে এই সংস্কৃতির কথা আমাদের অনেকের হয়ত জানা নেই। সেই অজানা সংস্কৃতির বাহক এমন একটি স্কুলের কথা আজ লিখতে বসেছি।

প্রতিটি মহল্লাতেই একটি করে কুরআন মুখস্থ করার স্কুল আছে যা কেবল মহিলাদের জন্য; মহিলাদের দ্বারা পরিচালিত। আমাদের এলাকার স্কুলটা খুঁজে পেতে বিশেষ কষ্ট হয়নি। ভেতরে ঢোকার আগে বিল্ডিঙটা ভালো করে দেখলাম। বুঝলাম যে এই বিশেষ স্কুলটি বেশীরভাগ স্কুলের মত আবাসিক কোন বাসার ভেতর খোলা হয়নি, এটা রীতিমত একটি প্রাতিষ্ঠানিক ভবন। গেটের ভেতরে ঢুকে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যর মুখোমুখি হলাম।

হ্যাঁ, আলোর মিছিল। এ কথাটাই প্রথমে মনে এসেছিল। আমি যেন আলোর মিছিলের মাঝে এসে দাঁড়িয়েছি।

তখনো ক্লাস শুরু হয়নি, সকলে ঘণ্টা বাজার অপেক্ষায়। বেশীরভাগের হাত এ কুরআন। কেউ মুখস্থ করছে, কেউ বান্ধবীকে মুখস্থ শোনাচ্ছে, কেউ বা নিজের উচ্চারণ ঠিক করছে। অবাক হয়ে ভাবছিলাম যে পাঁচ বছর বয়সী বাচ্চা থেকে শুরু করে পঁচাত্তর বছরের দাদীমা পর্যন্ত সকলে এখানে এসেছেন কুরআন মুখস্থ করতে। যার যার দক্ষতা অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণীতে পড়ছেন। এক ছাঁদের নিচে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ভাষার মানুষ এক হয়েছেন কেবল আল্লাহর কিতাব শেখার জন্য। চত্বর পেরিয়ে বিল্ডিং এ ঢোকার আগে চোখে পানি নিয়ে একবার আকাশের দিকে তাকালাম—কে জানে দলে দলে কতই না ফেরেস্তা নেমে আসেন এই বরকতময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কে তাঁদের ডানা মেলে ঘিরে ধরতে?

দেখা করলাম প্রিন্সিপাল এর সাথে। তিনি নিজে তাঁর অফিস এর বাইরে দাঁড়িয়ে নবাগত ছাত্রীদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন। আমার সাথে কুশল বিনিময়ের পর আমি কোন শ্রেণীতে যেতে পারি তা বলে দিলেন। অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম তিনি একটা বারও জানতে চাননি আমি কোন দেশের মানুষ। শুধু তাঁদের ভাষা বুঝবো কিনা সেটুকু বুঝতে চেয়েছেন আরব এক শিক্ষিকার ক্লাসে আমাকে দেয়ার আগে। সত্যি বলতে ক্লাসে যাওয়ার আগে একটু অস্বস্তি লাগছিলো, শিক্ষিকার কথা বুঝবো তো? আমাকে তাঁরা সানন্দে গ্রহণ করবেন তো? শুধু যে তাঁরা আমাকে সানন্দে গ্রহণ করেছিলেন তাই না, আমি টের পাওয়ার আগেই তাঁরা আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছিলেন!

তবু প্রথমদিন আমি কিছুই বুঝতে পারিনি। ছাত্রীদের আন্তরিকতা, আমাকে বার বার বুঝিয়ে বলার জন্য শিক্ষিকার সেই প্রচেষ্টা। একটা দিন অনুপস্থিত থাকলে খোঁজ নেয়া--- কেউ যেন মুখস্থ করতে না পেরে হাল ছেড়ে না দেয়! ছাত্রীদের আমাকে নোট তুলতে সাহায্য করা—সে ছিল আমার জীবনের এক সোনালী অধ্যায়। কিন্তু সেতো অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই এমনটি হয়ে থাকে। এখানে এমন কী ছিল যা জীবনের মোড় পালটে দিয়েছিলো?

সে ছিল কুরআন। আমাদের শিক্ষিকাদের অনেকের বয়সই পঁচিশ বছরের নিচে। একেকজনের তিলাওয়াত শুনলে মনে হত এরা কোন জগত থেকে ট্রেনিং নিয়ে এসেছে? বড় জানতে মন চাইত এদের মা বাবা কেমন যে তাঁরা তাঁদের সন্তানদের জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছেন আলোর পথে? এরা তো কেবল কুরআন মুখস্থ করেননি, সহীহ উচ্চারন শিখেছেন, কুরআন পাঠের আদব শিখেছেন, শিখেছেন অসাধারণ সুর করে কুরআন পড়া। আর এখন তাঁরা সেই আলো পৌঁছে দিচ্ছেন আরও অজস্র মানুষের কাছে!
কুরআন প্রতিদিন মুখস্থ করতে হয় প্রায় দেড় পাতার মত। প্রথমে পড়া মুখস্থ নেয়া হয়, তারপর পরের দিনের পড়া শিক্ষিকা তিলাওয়াত করে শোনান—এরপর ছাত্রীরা পড়ে। পাশাপাশি তাজউইদ এর নোটও দেন। এসব হয় প্রথম এক ঘণ্টা। পরবর্তী এক ঘণ্টায় কখনো তাফসীর এর আলোচনা হয়, কখনো বা বিশাল হলঘরে সব শ্রেণীর ছাত্রীদের এক করে আকিদাহর ক্লাস হয়। যখন আল্লাহর রাসুল (সা) কে অবমাননা করে ফিল্ম তৈরি হোল, তখন আমাদের দৈনন্দিন পড়ার সাথে যোগ করা হোল আল্লাহর রাসুলের জীবনী নিয়ে আলোচনা আর দৈনন্দিন জীবনের সুন্নাহ নিয়ে আলোচনা—যা কিনা প্রত্যেকে জীবনে ধারণ করবে। হয়ত কোন দুয়া যা তিনি (সা) করতেন, অথবা অজুর কোন সুন্নাহ যা আমরা উপেক্ষা করি। বেশী সময় ধরে চলত না এ আলোচনা। হয়ত পনেরো মিনিট। কিন্তু অন্তরে যেই আলো প্রবেশ করত তাতো এই পৃথিবীর কোন পরিমাপে ফেলে মাপা যায় না!

ছোট ছোট বাচ্চাদের উৎসাহ ধরে রাখতে শিক্ষিকারা যে কত কী করেন! ছোট ছোট উপহারের ব্যবস্থা। প্রতি মঙ্গলবার কিছু না কিছু extra- curricular activity থাকবেই! এক মঙ্গলবারে তাঁরা আয়োজন করলেন কুরআন ও হাদিস এ বর্ণিত খাদ্য দ্রব্যের মেলা। বাচ্চারা শিক্ষিকার সাথে বসে বসে ছোট ছোট প্যাকেট এ কালজিরা ভরে মুখ আটকে রাখছে। তারপর শিক্ষিকার নির্দেশে আঠা দিয়ে সেঁটে দিচ্ছে রঙ্গিন ছোট ছোট কাগজ। দেখে বুঝলাম কালজিরার ওপর হাদিসটা ওই কাগজ এ লেখা আছে। এমন করে কোন ক্লাসের বাচ্চারা মধুর ওপর কাজ করছে, কেউ বা জমজমের পানি নিয়ে। কেউ স্টল দিয়েছে খেজুরের উপকারিতা বর্ণনা করে। আরেকবার হোল বিভিন্ন দেশের খাবারের মেলা। একেকটি শ্রেণী একেকটি মুসলিম দেশের খাবার, পোশাক ও কালচার প্রদর্শন করবে। বাচ্চাগুলো কুরআন পড়াটাকে বোঝা মনে করে না, আমরা যেমন মনে করতাম বাড়িতে হুজুর আসার সময় হলে! ওরা মহা উৎসাহে পড়তে যায়, তার প্রমাণ তো আমার নিজের ছোট্ট মেয়েটা। সে সারাদিন অপেক্ষা করে থাকে কখন “তাহফিয স্কুল” এ যাবে। সে তার ছোট্ট মনে অনেক বড় আশা রাখে যে একসময় তার পুরো কুরআন মুখস্থ হয়ে যাবে, আর সেও তার “উস্তাযার”ই মত সুন্দর করে পড়তে পারবে!

বলতে চাইলে এই প্রতিষ্ঠান নিয়ে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অনেক কথা বলা যায়। হয়ত সারাদিন বললেও শেষ হবে না। কিন্তু একটা প্রতিষ্ঠানে কিভাবে কি শেখানো হয় তা জানার পাশাপাশি বোঝার বিষয় হোল, এই প্রতিষ্ঠান সমাজের ওপর কী প্রভাব ফেলছে? সবচেয়ে প্রথমে আমার যেটা মনে আসে, কুরআন শেখার ব্যাপারটা ছাড়া—অল্প বয়সী মেয়েগুলো, ভালো কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকছে! সকালে ওরা স্কুল এ থাকে। ফেরার পর বিকেল বেলাটা কাটে কুরআন শিখতে। এমন বান্ধবীদের মাঝে থাকে যারা একে অপরকে সাহায্য করছে কুরআন শিখতে, জানতে। বাসায় যখন ফেরে, স্কুলের পড়া আর কুরআন মুখস্থ নিয়ে সময় কেটে যায়। এলোমেলো চিন্তা মাথায় ঢুকতে দেয়ার সময় ও সুযোগ দুটোই কম থাকে। এই যে বাচ্চা মেয়েগুলো ১৫-২০ বছর বয়সের মাঝে হাফিযা হয়ে যাচ্ছে, এরাই কিন্তু আগামীতে মা হবে। তারা বড় করবে এমন এক প্রজন্ম যারা মায়ের মুখ থেকে কুরআনের ট্রেনিং নিয়ে বড় হবে। আবার মহিলারা যারা বিকেলে আসতে পারেন না, তাঁরা সকালের ক্লাসে আসছেন। শিখছেন, শেখাচ্ছেন। বয়স্কা যারা আজীবন হয়ত স্বপ্ন দেখেছেন মুখস্থ করার আল্লাহর কালাম কিন্তু সুযোগ পাননি, তাঁরাও এখন শিখছেন। এই সমাজের বেশীরভাগ মেয়েরাই কুরআন শিখে বড় হচ্ছে। মেয়ে হিসেবে, মা হিসেবে, স্ত্রী হিসেবে এরা কত উত্তম হবে তা সহজেই কল্পনা করা যায়। এমন স্কুল ছেলেদেরও আছে, কিন্তু আমি কোনদিন দেখিনি বলেই তার বর্ণনা দিতে পারছি না।

আসুন আমরা এখন নিজেদের কে একটা প্রশ্ন করি। কুরআন কি শুধুই সৌদি আরব এর প্রতিটি মহল্লায় পাঠের উদ্দেশ্যে এসেছিল? যদি তা না হয়ে থাকে, তাহলে আমরাও কি পারিনা, আলোর মিছিলে সামিল হতে? নিজেদের বোনদের, মেয়েদের জন্য কি আমরা আমাদের নিজেদের গণ্ডীতে এমন সুন্দর ব্যবস্থা নিতে পারি না? প্রায়ই বাবা মায়েরা চিন্তিত থাকেন তাঁদের সন্তানদের নিয়ে। এমন সুস্থ পরিবেশ কি আমরা নিজেদের জন্য তৈরি করে নিতে পারি না? হ্যাঁ, প্রতিটি মহল্লায় আমরা হয়ত পারব না কুরআন এর প্রতিষ্ঠান খুলে বসতে। কিন্তু নিজেরা নিজেদের কিছু মানুষকে নিয়ে কি এমন কিছু একটা করতে পারি না, যেখানে কুরআন হোল জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ? যেখানে কুরআন পড়া, মুখস্থ করা, শেখাটা জীবনের লক্ষ্য? যেখানে আলো তৈরি হয়, যেখান থেকে আলো ছড়িয়ে যায় প্রতিটা ঘরে? কে কবে এসে আমাদের জন্য করে দিবে এই নিয়ে বসে থাকলে হয়ত আমাদের জীবদ্দশায় এমন কিছুর সূচনা আমরা দেখতে পাব না। নিয়ত করতে হবে, আল্লাহর কাছে তৌফিক চাইতে হবে। নিজেদের পথ নিজেদেরই কেটে তৈরি করতে হবে। হ্যাঁ, এর মাঝে বাঁধা আসবে, নতুন নতুন সমস্যা আসবে। আমরা না পারলে আমাদের অসমাপ্ত কাজ অন্য কেউ হাতে তুলে নেবে। আল্লাহর কুরআনের আলো আল্লাহই পৌঁছে দিবেন যেখানে তিনি চান। আপনার আমার মত মানুষের দ্বারাই দিবেন। আমরা কি কেবল সেই আলো পৌঁছানোর কাজে নিজেদের নিয়জিত করতে পারার সম্মানটুকু চাইতে পারি না আল্লাহর কাছে, একেবারে অন্তরের গভীর থেকে?

কুরআনের চেয়ে সুমিষ্ট আর কিছু এই পৃথিবীতে নেই। কুরআন আমাদের জীবনের দিক নির্দেশনা। কুরআন সেই কিতাব যা আল্লাহ পাঠিয়েছেন আমাদের জন্য। কুরআন সেই মাধ্যম যা আমাদের রবের কথা আমাদের কাছে পৌঁছে দেয়। এ যে আমাদের চোখের প্রশান্তি, অন্তরের ভালবাসা! এই কুরআন থেকে দূরে সরে আমরা কোথায় চলেছি! আল্লাহ যেন আমাদের ঘরে ঘরে কুরআনের আলো পৌঁছে দেন। আমাদের ঘরে ঘরে যেন এমন সন্তানেরা বড় হয় যারা কুরআনকে বুকে করে রাখবে, ভালবাসার সাথে, মমতার সাথে। আল্লাহ যেন আমাদের তৌফিক দেন কুরআনকে ভালবাসতে, কুরআনের শিক্ষা নিজেদের জীবনে ধারণ করতে। কুরআন যেন হয় আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আলাহুম্মা আমীন!

]]>
http://www.quraneralo.com/beyond-the-desert-3/feed/ 0
বিশ্বকে বোকা বানিয়ে ইরাকে হামলা হয় http://www.quraneralo.com/attack-on-iraq-was-wrong/ http://www.quraneralo.com/attack-on-iraq-was-wrong/#comments Wed, 20 Mar 2013 05:25:46 +0000 QuranerAlo.com Editor http://www.quraneralo.com/?p=4009 OLYMPUS DIGITAL CAMERA

বিশ্বকে বোকা বানিয়ে ইরাকে হামলা হয়

 

একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ সম্ভবত ইরাক যুদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, পোল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, জর্জিয়া, ইউক্রেন, নেদারল্যান্ড, স্পেন, এল
সালভাদর, জাপান, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, আর্মেনিয়া, মঙ্গোলিয়া, হাঙ্গেরি, পর্তুগাল, নিউজিল্যান্ড, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরসহ মোট ৪১টি দেশ ইরাকে হামলা চালায়। কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছিল, ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র তৈরি করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর হামলা করতে চান। কিন্তু বিবিসি আজ সোমবার এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, যে অজুহাতে ইরাকে হামলা চালানো হয়, তা ছিল পুরোপুরি মিথ্যা। দুজন গুপ্তচর ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআইসিক্স ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বোকা বানিয়েছিল।

২০০৩ সালের ২০ মার্চ থেকে ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় নয় বছরব্যাপী এ যুদ্ধে ইরাক কী হারিয়েছে, তার হিসাব আজও হয়নি। কত মানুষ প্রাণ হরিয়েছে, কতজন পঙ্গু হয়েছে, কত নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, কত শিশু অকালে মরে গেছে, কত হাহাকার ইরাকের দজলা-ফোরাতে ভেসে গেছে, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। যুদ্ধে ধ্বংস হয়ে গেছে ইরাকের কয়েক হাজার বছরের পুরনো সভ্যতা, পাঠাগার, জাদুঘর, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাগার, সৌধ ও সম্পদ।

ইরাক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ব্যয় এক লাখ ৭০ হাজার কোটি ডলার (প্রায় এক কোটি ৩৩ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা)। যুদ্ধফেরত সেনাদের পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা বাবদ আরও ব্যয় হয়েছে ৪৯ হাজার কোটি ডলার (প্রায় ৩৮ লাখ ৫২১ হাজার কোটি টাকা)।

ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াটসন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের ‘কস্টস অব ওয়্যার’ প্রকল্প গত বৃহস্পতিবার ইরাক যুদ্ধের ব্যয় নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে বলা হয়েছে, ইরাক থেকে যুদ্ধফেরত সেনাদের জন্য আগামী ৪০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও ছয় ট্রিলিয়ন ডলার (প্রায় চার কোটি ৭২ লাখ কোটি টাকা) ব্যয় করতে হবে।
প্রকল্পটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শুধু সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী যুদ্ধে মৃত ইরাকিদের সংখ্যা কমপক্ষে এক লাখ ৩৪ হাজার। তবে সঠিকভাবে হিসাব করলে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারলে এ সংখ্যা বেড়ে চার গুণ হয়ে যাবে বলে মনে করছেন গবেষকেরা। তাঁরা বলছেন, যুদ্ধকালে যেসব মৃত্যুর খবর বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, কেবল সেগুলোই গণনায় ধরা হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন মৃত্যুর খোঁজ মিলছে এবং এ জন্য সংখ্যাটি ক্রমে বড় হচ্ছে।

মিথ্যা ও হেলাফেলা

democracy_in_iraq_by_cunaka

শুধু সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী যুদ্ধে মৃত ইরাকিদের সংখ্যা কমপক্ষে এক লাখ ৩৪ হাজার। তবে সঠিকভাবে হিসাব করলে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারলে এ সংখ্যা বেড়ে চার গুণ হয়ে যাবে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

কিন্তু এমন একটি যুদ্ধ শুরু হয়েছিল মিথ্যা আর খামখেয়ালি দিয়ে। যেসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইরাক আক্রমণের যৌক্তিকতা দাঁড় করানো হয়েছিল, তা ছিল দুর্বল, কখনো কখনো ভিত্তিহীন।

সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে বিবিসির বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্যানোরমায় ইরাক যুদ্ধে প্রতারণার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। বিবিসি জানায়, যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছিল যে ইরাকের কাছে কোনো মারণাস্ত্র নেই। কিন্তু তবু স্বল্প নির্ভরযোগ্য ও দুর্বল সূত্রের কথার ওপর ভিত্তি করে ইরাক আক্রমণ করা হয়।
ইরাক যুদ্ধের ছয় মাস আগে ২০০২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে বলেছিলেন, সাদ্দাম হোসেনের কাছে গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র আছে। তিনি বলেছিলেন, ‘(অস্ত্র বানানোর) প্রকল্প বন্ধ করা হয়নি। এটি ছিল এবং এখনো চলছে।’ বিবিসি বলছে, যুদ্ধে জড়ানোর বিষয়টি যৌক্তিক করতেই টনি এ ধরনের গোয়েন্দাসূত্র ব্যবহার করেছিলেন।

ওই দিনই ইরাকের মারণাস্ত্র নিয়ে গোপন নথিপত্র প্রকাশ করে ব্রিটেন। নথিপত্রের সঙ্গে টনি ব্লেয়ারের একটি ভূমিকাও জুড়ে দেওয়া হয়। সেখানে তিনি ব্রিটেনবাসীকে আশ্বস্ত করেছিলেন, সাদ্দামের কাছে যে মারণাস্ত্র আছে, তা ‘সন্দেহাতীত’।

নথিগুলো প্রকাশের সময় গোয়েন্দাসূত্রগুলোর সত্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্নই তোলা হয়নি। এমআইসিক্স ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা নিয়ে যে সংযুক্ত গোয়েন্দা কমিটি তৈরি হয়েছিল, সেটির দেওয়া তথ্য ‘এলোমেলো ও জোড়াতালি দেওয়া’ এবং ‘সীমাবদ্ধ’ হলেও সেগুলো সত্য বলে গ্রহণ করা হয়েছিল।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ব্যর্থতা

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কাছে থাকা তথ্যগুলো ছিল গাঁজাখুড়ি, গোঁজামিল দেওয়া ও মিথ্যাসর্বস্ব।

ওই সময় ব্রিটেনের সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন জেনারেল মাইক জ্যাকসন। তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দারা কিছু বিষয় সোনা ভেবে বোকা বনেছিলেন। কারণ, যেগুলো সোনা বলে মনে হয়েছিল, তা কখনোই সোনা ছিল না।’

যুদ্ধের পর সাদ্দামের কথিত গণবিধ্বংসী অস্ত্র নিয়ে প্রথম তদন্তকারী ব্রিটিশ দলের প্রধান ছিলেন লর্ড বাটলার। তিনি বিবিসিকে বলেন, ব্লেয়ার ও তাঁর গোয়েন্দারা নিজেদের ‘ধোঁকা দিয়েছিলেন’।

মাইক জ্যাকসন ও লর্ড বাটলার অবশ্য বলছেন, টনি ব্লেয়ার মিথ্যাবাদী নন। কারণ, তিনি সত্যিই বিশ্বাস করতেন সাদ্দামের কাছে গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র আছে।

চোরের ওপর বাটপারি

যে গুপ্তচরেরা সবচেয়ে বড় বাটপারি করেছেন, তাঁদের শিরোমণি রাফিদ আহমেদ আওয়ান আল জানাবি। তিনি সাদ্দামের পক্ষ ত্যাগ করে ব্রিটেনে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

রাফিদের মিথ্যাচার ও ফাঁদা গল্প গোয়েন্দাদের কাছে সত্যি বলে মনে হয়েছিল। বিশ্বের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিভেদ সৃষ্টিকারী যুদ্ধ শুরুর জন্যও তিনি দায়ী। আর তিনি যা করেছেন, সেটি গোয়েন্দাবৃত্তির ইতিহাসে অন্যতম ‘চরম ব্যর্থতা’।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা রাফিদের কোড নাম দিয়েছিলেন ‘কার্ভবল’ অর্থাত্ খেলার মাঠে যে বল হঠাত্ করে বাঁক নেয়। রাফিদ এই নামের সার্থকতা ধরে রেখেছিলেন।
১৯৯৯ সালে রাসায়নিক প্রকৌশলী রাফিদ জার্মানিতে আশ্রয়প্রার্থী হন। সে সময় তাঁর সঙ্গে জার্মান গোয়েন্দা সংস্থা বুন্দেসনাকরিক্টনডিন্সটের (বিএনডি) যোগাযোগ হয়। তিনি বিএনডিকে বলেন, ইরাক সরকার ভ্রাম্যমাণ জীবতাত্ত্বিক গবেষণাগার তৈরি করেছে। ট্রাকের ওপর তুলে এগুলো এদিক-সেদিক নেওয়া হয়। এগুলোর ওপর যেন কেউ হামলা করতে না পারে, সে জন্যই এসব করা হয়েছিল।

জার্মান গোয়েন্দারা রাফিদকে বিশ্বাস না করলেও মার্কিন ও ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের সঙ্গে তথ্য বিনিময় করেন। এমআইসিক্স অবশ্য সে সময় রাফিদকে সন্দেহ করত। কিন্তু পরে তারা রাফিদের ওপর ভরসা করতে শুরু করে। মার্কিনদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে।
রাফিদ পরে মিথ্যাচারের কথা স্বীকার করেন।

রাফিদের মতো আরেক গুপ্তচর ধোঁকাবাজি করেছিলেন। তিনি ইরাকের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান মেজর মুহাম্মদ হারিজ। তিনি দাবি করেছিলেন, ভ্রাম্যমাণ গবেষণাগার তৈরি তাঁরই পরিকল্পনা। এ জন্য তিনি ফরাসি গাড়ি নির্মাতা রেনোকে সাতটি ট্রাক সরবরাহ করার ফরমায়েশ দিয়েছিলেন। প্রথমে তিনি জর্ডানে মার্কিন গোয়েন্দাদের সঙ্গে মিলিত হয়েছিলেন।
মুহাম্মদ হারিজ সম্ভবত একটি নতুন ঠিকানার খোঁজে অমন মিথ্যাচার করেছিলেন। তবে যুদ্ধ শুরুর ১০ মাস আগে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাঁর জারিজুরি ধরে ফেলে এবং তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করে।

রাফিদের সূত্রে ব্রিটিশ গোয়েন্দারা আরেক গুপ্তচরের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেন। তাঁর কোড নাম ছিল ‘রেড রিভার’। তিনি আরেক সূত্রকে উদ্ধৃত করে এমআইসিক্সকে জানান, ইরাকিরা ট্রাকের ওপর গাঁজনযন্ত্র বসিয়েছে।

গোয়েন্দারা সে তথ্য বিশ্বাস করেছিলেন, অথচ রেড রিভার কখনো বলেননি, গাঁজনযন্ত্রগুলো দিয়ে কী করা হতো।

নির্ভরযোগ্য সূত্র

তবে গোয়েন্দাদের সব সূত্র ভুল বা প্রতারক ছিল না। এমন গুপ্তচর কমপক্ষে দুজন। তাঁরা দুজনই বলেছিলেন, সাদ্দামের কাছে কোনো মারণাস্ত্র নেই। তাঁদের একজন সিআইএর চর ও ইরাকের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাজি সাব্রি।

প্যারিসে সিআইএর প্রধান বিল মারি এক আরব সাংবাদিকের সহায়তা নিয়ে নাজি সাব্রির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ জন্য তিনি নাজিকে আগাম দুই লাখ ডলার (প্রায় এক কোটি ৫৭ লাখ টাকা) দিয়েছিলেন।

আরেকটি সূত্র হলো, ইরাকের গোয়েন্দাপ্রধান তাহির জলিল হাব্বুশ আল তিকরিতি। এমআইসিক্সের এক কর্মকর্তা ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে জর্ডানে তাহির জলিলের সঙ্গে দেখা করেন। যুদ্ধ শুরুর দুই মাস আগে এ সাক্ষাত্ হয়।

তথ্য বিনিময়ের জন্য তাহির শর্ত দিয়েছিলেন, কোনো হামলা করা চলবে না। তিনি বলেছিলেন, সাদ্দামের কাছে কোনো মারণাস্ত্র নেই। তবে তাঁকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন গোয়েন্দারা।

ইরাকে তদন্তকারী দলের প্রধান লর্ড বাটলার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী দেশকে ভুল পথে পরিচালিত করেছেন এটা বিশ্বাস করার অধিকার প্রত্যেক ব্রিটেনবাসীর আছে। তিনি জানিয়েছেন, তাহিরের দেওয়া তথ্য হাতে পাওয়ার পর তিনি সতর্ক হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি ঠিক বুঝিয়ে বলতে পারব না। আমার মনে হয়, আমাদের হিসাব-নিকাশে ভুল ছিল। যখন এ তথ্যের কথা আমরা বলেছিলাম, তখন এমআইসিক্সের বড় কর্মকর্তারা বলেছিলেন, সাদ্দাম আমাদের বিভ্রান্ত করার জন্য (তাহিরকে দিয়ে) ওই তথ্য আমাদের দিয়েছেন।’

সিআইএর সাবেক কর্মকর্তা বিল মারি গোয়েন্দাদের কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধপূর্ব সময়ে যে ধরনের গোয়েন্দাগিরি করা যায়, আমরা সম্ভবত সেটার সেরাটাই করেছি। অনেক পরে দেখা গেছে, আমাদের তথ্যগুলো ঠিক ছিল। কিন্তু যখন প্রয়োজন ছিল, তখন সেগুলো বাতিল বলে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। কোনো কাজেই লাগানো হয়নি।’

উৎসঃ প্রথম আলো 

]]>
http://www.quraneralo.com/attack-on-iraq-was-wrong/feed/ 0
ফেব্রুয়ারী মাসে ঘটে যাওয়া মুসলিম জাহানের কিছু খবর http://www.quraneralo.com/february-news/ http://www.quraneralo.com/february-news/#comments Sat, 02 Mar 2013 06:38:26 +0000 Mohammad Gaffer http://www.quraneralo.com/?p=3971 উৎসঃ আত-তাহরীক   :   ওয়েব সম্পাদনাঃ মোঃ মাহমুদ ইবনে গাফফার

14

কাতারে নির্মিত হচ্ছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ হাসপাতাল

কাতারের দোহায় নির্মিত হ’তে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল। কাতারে অনুষ্ঠিতব্য ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে পরিকল্পনা করা হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ আগামী ২০২০ সালের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কাতারের আমীরের নামে নামকরণ করা হবে হাসপাতালটির। এরই মধ্যে এর জন্য নকশা, বাজেট ও ভূমি চূড়ান্ত করা হয়েছে। তথ্যমতে, রোগী ধারণের ক্ষমতা এবং চিকিৎসা সুবিধার দিক দিয়ে এটিই হবে পৃথিবীর বৃহত্তম হাসপাতাল।

 

ইসলাম গ্রহণ করলেন যুক্তরাজ্যের পার্টি গার্ল হিদার

তিন মাস আগেও তিনি ছিলেন ‘পার্টি গার্ল’। আকণ্ঠ মদ্যপান করে উদ্দাম নাচে মাতাতেন নৈশক্লাব। যুক্তরাজ্যের এই নারীর নাম হিদার ম্যাথিউস (২৭)। যিনি ইসলাম গ্রহণ করায় এখন হিজাব পরিহিতা সম্পূর্ণ উল্টো চেহারার এক ভদ্র নারী।

তিনি বলছেন, ‘তার ‘গা-ভাসানো’ জীবনে সব ছিল, কেবল ছিল না শান্তি। ইসলাম আমাকে ‘লালসার নয়, প্রকৃত ভালোবাসার’ খোঁজ দিয়েছে। পেয়েছি নতুন এক শান্তির জীবন।’

তিনি বলেন, স্বামী জেরোম ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হ’লে তার সঙ্গে দ্বন্দ্ব বাধে। জেরোমকে তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেন, ধর্ম একটি অর্থহীন ও বায়বীয় বিষয়। তর্কে নিজের পক্ষে জোরালো যুক্তি দাঁড় করানোর উদ্দেশ্যে তিনি পবিত্র কুরআন শরীফসহ বিভিন্ন বইপত্র পড়েন। এর মধ্যে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপরও তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যান। একপর্যায়ে তাঁর মনে হয়, ইসলাম সঠিক জীবন বিধান। অতঃপর সম্প্রতি তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

 

পাকিস্তানে ড্রোন হামলায় নিহতদের মাত্র ২% চরমপন্থী

যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ও নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ জরিপে বলা হয়েছে, ড্রোন হামলা চালিয়ে পাকিস্তানে সন্ত্রাস বিরোধী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে ওয়াশিংটন। হামলায় নিহতদের মাত্র ২% চরমপন্থী। মার্কিন ড্রোন হামলায় ইতিমধ্যে ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ মানুষ নিহত হয়েছে এবং এদের মধ্যে ১৭৪ জন শিশু রয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক বলেছেন, চলতি বছর এ পর্যন্ত ৩৩৬টি ড্রোন হামলায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের ৮০%ই নিরীহ সাধারণ মানুষ।

 

ব্রিটিশ নওমুসলিম লোরেন বুথ : মুসলিম হিসাবে আমি গর্বিত

সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের শ্যালিকা সাংবাদিক লোরেন বুথ বলেছেন, একজন মুসলিম হিসাবে তিনি গর্বিত। ২০১০ সালে ইসলাম গ্রহণকারী লোরেন বুথ গত ১৩ অক্টোবর নিউইয়র্কে এক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য দেয়ার সময় একথা বলেন।

এ সময় ফিলিস্তীন সম্পর্কে তিনি বলেন, ফিলিস্তীন ও ফিলিস্তীনীদের সম্পর্কে আমরা যা জেনে এসেছি ও ভেবেছি, তা পুরোপুরিই ভুল।

 

৬৫ বছর ধরে ফিলিস্তীনীদের ওপর অবর্ণনীয় নিপীড়ন চলছে, অথচ তারা নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রেখেছে কেবলমাত্র ইসলামের প্রতি তাদের অবিচল আস্থার কারণে, ঈমানী শক্তির বলে।

সেখানে আমাকে আপ্লুত করেছে এক ব্যক্তির বক্তব্য, যিনি তাঁর দু’পা হারিয়েও বলছেন, ‘আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি যে, আমার চোখ দু’টি এখনও ভালো আছে, আমি দেখতে পাই, আমার হাত দু’টি ভালো আছে, যা আমি এখনও কাজে লাগাতে পারি।’

 

এছাড়া আরো কয়েকটি বিষয় আমাকে ইসলাম গ্রহণের দিকে উদ্বুদ্ধ করেছে। তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষের জন্য মহান আল্লাহ তা‘আলার একটি পরিকল্পনা রয়েছে এবং আমার ক্ষেত্রেও তা ছিল বলে আমি যথাসময়ে তার পরিকল্পনা অনুযায়ী সঠিক পথে এসেছি।

 

]]>
http://www.quraneralo.com/february-news/feed/ 0
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মুসলিমরা নির্মম নির্যাতনের শিকার : ঢাকায় আশ্রয় নিয়েও রেহাই মিলছে না http://www.quraneralo.com/revert-muslims-in-banglades/ http://www.quraneralo.com/revert-muslims-in-banglades/#comments Tue, 08 Jan 2013 03:54:55 +0000 QuranerAlo.com Editor http://www.quraneralo.com/?p=3872 পার্বত্য চট্টগ্রামে নির্মম নির্যাতনের শিকার ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মুসলমানরা ঢাকায় এসে বিভিন্ন মসজিদ ও মাদরাসায় আশ্রয় নিয়েও রেহাই পাচ্ছেন না। পুলিশ ও র্যাবে নিয়োজিত খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের ধরে নিয়ে অমানবিক নির্যাতনের পাশাপাশি থানায় সোপর্দ করছে। পার্বত্যাঞ্চলের খ্রিস্টান মিশনারিদের দেয়া তালিকা অনুযায়ী রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও মাদরাসা কমপ্লেক্সে হানা দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে থাকা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওইসব সদস্য। সর্বশেষ গত ২ জানুয়ারি রাজধানীর বাসাবো এলাকার একটি মাদরাসায় হানা দিয়ে পুলিশ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ৫ মুসলিম এবং তাদের ১১ সন্তানকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। একই মাদরাসায় অধ্যয়নরত আরও ৫ জনকেও আটক করে তেজগাঁও থানা ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে সোপর্দ করা হয়। এর আগে গত জুলাই মাসে গাজীপুরের একটি মাদরাসা থেকে ৮ জন ও ঢাকার অপর একটি মাদরাসা থেকে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ৩ মুসলিম ছাত্রকে আটক করে থানায় সোপর্দ করে পুলিশ। আমার দেশ-এর অনুসন্ধানে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

বর্বর নির্যাতনের শিকার এসব মুসলিম আমার দেশ-কে জানান, পাহাড়ে থাকলে শান্তি কমিটির অত্যাচার আর নির্যাতন। ঢাকায় এসেও আশ্রয় পাচ্ছি না। কোনো মসজিদ কিংবা মাদরাসায় আশ্রয় নিলেও ভাগ্যে জোটে পুলিশ ও র্যাবের নির্যাতন। মুসলমান হিসেবে বাংলাদেশে আমাদের কি বাঁচার অধিকারটুকুও নেই? ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অন্তর্ভুক্ত রাজধানীর মিরপুরের একটি মসজিদ কমপ্লেক্সের পরিচালক আক্ষেপ করে আমার দেশ-কে বলেন, স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে। পার্বত্য এলাকায় বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর হাজার হাজার সদস্য খ্রিস্টান বানানো হচ্ছে। অথচ উপজাতীয়দের মধ্যে কেউ নিজ উপলব্ধি থেকে মুসলমান হলেই তার আর রক্ষা নেই। এদের রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে উদ্যোগ নেয়া হলেও তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত ১ জানুয়ারি রাঙামাটির সাংড়াছড়ি এলাকার মো. করিম হোসেন (আগের নাম হামাজং ত্রিপুরা), মো. নূর ইসলাম (আগের নাম সুবামং ত্রিপুরা), মো. সোহেল (আগের নাম বিন্দুলাল চাকমা)সহ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ৫ মুসলমান তাদের ১১ সন্তানকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত একটি মাদরাসায় ভর্তি করাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। ঢাকায় আগে থেকে পড়ালেখা করে এমন ৫ মুসলিম ছাত্রছাত্রীও তাদের সঙ্গে ছিলেন। পরদিন ২ জানুয়ারি ভোরে তারা ঢাকায় পৌঁছে বাসাবো আবুজর গিফারী কমপ্লেক্সে পৌঁছেন। কিছুক্ষণ পরই সবুজবাগ থানা পুলিশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানটি থেকে অভিভাবকসহ সব ছাত্রকে আটক করে নিয়ে আসে। পরে অবশ্য পুলিশ নতুন ভর্তি হওয়া ১১ ছাত্রছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের ছেড়ে দেয়। অবশিষ্ট ৫ ছাত্রছাত্রীকে অভিভাবক সঙ্গে না থাকার কারণ দেখিয়ে সবুজবাগ থানা কর্তৃপক্ষ ঢাকার আদালতে সোপর্দ করে। আদালত তাদের তেজগাঁও থানাধীন ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে হস্তান্তর করে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের কাছে তাদের হস্তান্তর করার নির্দেশ দেয় আদালত। এ বিষয়ে সবুজবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বাবুল মিয়া আমার দেশ-কে বলেন, আমরা একটি তথ্যের ভিত্তিতে তাদের আটক করেছিলাম। তাদের সঙ্গে থাকা ৫ অভিভাবকের মুসলমান হওয়ার এফিডেভিটসহ যাবতীয় কাগজপত্র ছিল। এগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ১১ ছাত্রছাত্রীসহ তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ৫ ছাত্রছাত্রীর মা-বাবা সঙ্গে ছিল না বিধায় তাদের বিষয়ে আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এদিকে তেজগাঁও থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের ৫ ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ২ জনকে ওইদিনই গাজীপুর শিশু-কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। গতকাল তাদের মা-বাবা তেজগাঁও থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে এসে দিনভর অপেক্ষা করেন। এফিডেভিটসহ মুসলমান হওয়ার সব কাগজপত্র পুলিশকে দেখানোর পরও পুলিশ তাদের সন্তানদের মুক্তি দেয়নি। খাওয়া-খাদ্য ভুলে সারাদিন তারা তেজগাঁও থানা চত্বরে কাটিয়ে দেয় প্রাণপ্রিয় সন্তানদের মুক্তির অপেক্ষায়।

এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকায় ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফোরামের সভাপতি উদয় ত্রিপুরাসহ ১০-১২ জন উপজাতীয় তরুণ ভিকটিম সেন্টারে এসে ভিড় করে। তারা থানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পৃথকভাবে দেনদরবার করে। শেষপর্যন্ত পুলিশ এসব ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মুসলমান ছাত্রছাত্রীদের কারও কাছেই হস্তান্তর না করে আজ (মঙ্গলবার) উভয় পক্ষকে আসতে বলে। এ বিষয়ে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (তদন্ত) মেরিন সুলতানা আমার দেশ-কে বলেন, গত ৩ জানুয়ারি সবুজবাগ থানা পুলিশ অভিভাবকহীন এই ৫ শিশুকে আমাদের কাছে রেখে যায়। এখান থেকে ২ জনকে সবুজবাগ থানায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সেন্টারের সহকারী পুলিশ কমিশনার রওনক আমার দেশ-কে বলেন, আমাদের আশ্রয় সেন্টারে থাকা ৩ জনের মধ্যে ১২ বছরের রবিউল ইসলাম ও ৯ বছরের মতিউল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়েছে। রবিউল ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলমান হয়েছে বলে আমাকে জানিয়েছে। সে আরবি ভাষা শিখেছে।

গতকাল বিকালে মতিউল ইসলামের মা রংবেতির সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি (অন্যের সহযোগিতা নিয়ে) আমার দেশ-কে জানান, তার এক ছেলে ও এক মেয়ে ঢাকায় মাদরাসায় পড়ালেখা করছে। পুলিশ কী কারণে তাদের আটক করেছে জানি না। পাড়ার একজন মুরব্বি আমাদের খবর দিলে আমরা ঢাকায় আসি। ছেলেমেয়ের আটকের খবর শোনার পর থেকেই খাওয়া ও ঘুম নেই। ঢাকায় এসেও আমাদের আদরের সন্তানদের মুখ দেখার সুযোগ পাইনি। এ বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন রংবেতি। কথা বলার একপর্যায়ে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর যুবকরা অভিভাবকদের আশ্রয় দেয়ার কথা বলে দ্রুত থানা এলাকা ত্যাগ করে। ভিকটিম সেন্টারে আটক এসব ছাত্রছাত্রীকে খ্রিস্টানদের হাতে তুলে দেয়ার জন্য একটি ক্যাথলিক চার্চ থেকে চিঠিও দেয়া হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমার দেশ-কে বলেন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মুসলমানদের হয়রানি নির্যাতনের ঘটনা এখন প্রতিনিয়তই ঘটছে। তারা ঢাকায় এলেই অদৃশ্য কারণে পুলিশ প্রতিবারই তাদের গ্রেফতার করে। এর আগেও একই এলাকার জুতিরাং ত্রিপুরা ওরফে জালাল ত্রিপুরা তার সন্তান ও ছোট ভাইকে মাদরাসায় ভর্তি করাতে ঢাকায় এসে বাস থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই একজন চাকমা কমান্ডারের নেতৃত্বে র্যাবের একটি দল তাকে গ্রেফতার করে। তাকে বেদম প্রহার করে সারা শরীর রক্তাক্ত করে ফেলে। তাদের ছাড়িয়ে আনতে গেলে মিরপুরের সংশ্লিষ্ট মাদরাসার ২ শিক্ষককেও সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে গত জুলাই মাসে ১১ শিক্ষার্থীকে পুলিশ আটক করে। গাজীপুর মিয়াপাড়ার দারুল হুদা ইসলামীয়া মাদরাসায় অধ্যয়নরত ৮ শিক্ষার্থীকে একটি খ্রিস্টান মিশনারির ইন্ধনে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঢাকায় আশ্রয় নেয়া ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর একজন মুসলমান আমার দেশ-কে জানান, ‘আমি রাঙামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া এলাকার দুমদুমিয়া গ্রামের বাসিন্দা। আমাদের এলাকায় কোনো স্কুল কিংবা অন্য কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। কেবল খ্রিস্টান মিশনারিদের একটি মিশনারি প্রাইমারি স্কুল রয়েছে। বাধ্য হয়েই ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর এসব মুসলমান শিক্ষার্থীকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ অন্যান্য সংস্থা পরিচালিত ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়। রাঙামাটি শহর থেকে আমাদের গ্রামে যেতে হয় কখনও হেঁটে, কখনও ইঞ্জিনচালিত নৌকায়। শুকনো মৌসুমে যেতে প্রায় তিনদিন এবং বর্ষাকালে দু’দিন লাগে।’ তিনি বলেন, ‘দুমদুমিয়া গ্রামের কাছাকাছি পাহাড়ের উপরে বিজিবির একটি ক্যাম্প রয়েছে। ক্যাম্পে লাকড়ি সাপ্লাইয়ের কাজ করতাম আমি। বিজিবি সদস্যদের আজানের সুমধুর আওয়াজ এবং সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া দেখে তার মনে পরিবর্তন আসে। প্রায়ই আজানের জন্য অপেক্ষা করতাম এবং নামাজরত ব্যক্তিদের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। স্ত্রীকে বিষয়টি জানালে সেও একই অনুভূতি প্রকাশ করে। পরে পুরো বিষয়টি গ্রামের সবার সঙ্গে আলাপ করলে তারাও মুসলমান হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন।

তিনি বলেন, ২০০৮ সাল থেকে দু’বছরেরও বেশি সময় তারা মুসলমান হওয়ার জন্য বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করে ব্যর্থ হন। কাপ্তাই উপজেলার তত্কালীন ইউএনওর কাছে বিষয়টি জানালে তিনি তাদের রুম থেকে বের করে দেন। ২০১০ সালে রাঙামাটি শহরে ইসলামিক ফাউন্ডেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে জানতে পারি। কোনো ধরনের পূর্বযোগাযোগ ছাড়াই নারী-পুরুষ মিলে প্রায় ১৫-১৬ জনের একটি দল তাদের পোষা শূকর এবং ছাগল বিক্রি করে টাকা জোগাড় করে রাঙামাটির উদ্দেশে রওনা দেন। শুকনো মৌসুম থাকায় কখনও হেঁটে, কখনও বোটে চড়ে প্রায় তিনদিন পর তারা রাঙামাটি এসে পৌঁছান। শহরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাত্ করার পর তারা ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করলে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি যদিও ইসলামের প্রচার ও প্রসারের জন্য করা হয়েছে, তবু এখানে মানুষকে মুসলমান করার কোনো কার্যক্রম নেই। তবে ঢাকায় আবুজর গিফারী ট্রাস্টসহ আরও কিছু সরকার অনুমোদিত সংস্থা রয়েছে, যারা ভিন্নধর্মাবলম্বীদের ইসলামিক রীতিনীতি শেখাতে সহযোগিতা করে। তবে আগে এফিডেভিট করে মুসলমান না হলে ওই ট্রাস্টও সহযোগিতা করে না। ফলে তারা নিজ উদ্যোগে এফিডেভিট করে মুসলমান হয়ে পরে ঢাকায় গিয়ে নামাজ-রোজাসহ ইসলামের কিছু রীতিনীতি শিখে আসেন। পরে তাদের অনুসরণ করে ওই গ্রামের হেডম্যানসহ সব লোক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ক্রমান্বয়ে পার্শ্ববর্তী সাংগ্রছড়ি গ্রামের লোকজনও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে শুরু করেন।

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর এসব মুসলমানের ওপর জুলুম-নির্যাতন বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত একটি সেন্টারের পরিচালক আমার দেশ-কে জানান, পার্বত্য এলাকায় একসময় সবাই বৌদ্ধধর্মের অনুসারী ছিলেন। খ্রিস্টান মিশনারিরা বিভিন্ন লোভ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের অধিকাংশকেই খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করেছে। মন ও প্রাণের টানে অথবা মুসলমানদের সংস্পর্শে এসে তাদের মধ্যে কেউ মুসলমান হলে তার আর রক্ষা নেই। নিজ বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পাশাপাশি তাদের ওপর চরম নির্যাতন চালানো হয়। ঢাকায় এসে আশ্রয় নিলেও তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। ভিকটিম সেন্টারে আটক ছাত্রছাত্রীদের অবিলম্বে তাদের মা-বাবার হাতে তুলে দেয়ার জন্য তিনি জোর দাবি জানিয়ে বলেন, তাদের খ্রিস্টানদের হাতে তুলে দিলে এটা হবে ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে বড় অবমাননা। এটা মুসলমানরা সহ্য করবে না।

সূত্রঃ আমাদের দেশ

]]>
http://www.quraneralo.com/revert-muslims-in-banglades/feed/ 0
প্রতিবন্ধী তানভীর কুরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বসেরা http://www.quraneralo.com/tanvir-became-first-in-quran-competition/ http://www.quraneralo.com/tanvir-became-first-in-quran-competition/#comments Thu, 13 Dec 2012 06:48:35 +0000 QuranerAlo.com Editor http://www.quraneralo.com/?p=3841

Tanvir receiving award from Sheikh Sudais and Religion Minister of Saudi Arabia

সৌদি আরবের মক্কায় কাবাঘর কনফারেন্সের মসজিদে হারামে অনুষ্ঠিত ৭৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের হাফেজ তানভীর হোসেন প্রথম স্থান অধিকার করে বিজয়ের মাসে বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছে। ৯ ডিসেম্বর তার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন সৌদি ধর্মমন্ত্রী সালেহ বিন আবদুল আজিজ বিন মোহাম্মদ আলী শেখ। এ সময় মক্কার কেন্দ্রীয় ইমাম আবদুর রহমান আস সুদাইস উপস্থিত ছিলেন।

পুরস্কার হিসেবে তানভীর হোসেনকে আন্তর্জাতিক স্মারক সার্টিফিকেট ও বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ২২ লাখ টাকা নগদ অর্থ দেয়া হয়।

বাংলাদেশী প্রতিবন্ধী তরুণের এমন কৃতিত্বে ভূয়সী প্রশংসা করে সৌদি ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘৩৪ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম কোনো দেশ তিনটি বিভাগেই প্রথম স্থান অধিকার করে। যার মধ্যে একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীও রয়েছে।’ তিনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে কোরআন শিক্ষায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

জানা গেছে, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের সাতবাড়িয়া গ্রামের ইলিয়াস হোসেনের ছেলে তানভীর হোসেন। সে জন্মান্ধ। এর আগে তানভীর একাধিকবার বাংলাদেশ জাতীয় কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে। এছাড়াও সে বাংলাভিশন-পিএইচপি কোরআন প্রতিযোগিতায় ২০১১ সালে দ্বিতীয় এবং একই বছর হুফ–াজুল কোরআন ফাউন্ডেশনে পূর্ণ কোরআনে প্রথম স্থান লাভ করে। সে যাত্রাবাড়ীর মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদরাসার প্রিন্সিপাল নেছার আহমেদ আন নাছিরির কাছে শিক্ষা লাভ করে।

এ ব্যাপারে আমার দেশ কার্যালয়ে কথা হয় মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনালের প্রিন্সিপাল হাফেজ নেছার আহমেদ আন নাছিরির সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি গর্বিত এ জন্য যে, তিনজনের মধ্যে দু’জনই আমার মাদরাসার ছাত্র। আরও বেশি গর্বিত, প্রথম স্থান অধিকারী তিনজনই বাংলাদেশী।’

কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয় করে তার এই খুশির খবর জানাতে গতকাল তিনি আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের সঙ্গে দেখা করেন। মাহমুদুর রহমান তার এই পুরস্কারপ্রাপ্তিতে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।

উল্লেখ্য, নেছার আহমেদ আন নাছিরি পরিচালিত ঢাকার যাত্রাবাড়ীর মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদরাসার তানভীর হোসেন ও সাদ শুরাইল এবং উত্তরার তানজিবুল উম্মার আহসান উদ্দিন নোমান এ পুরস্কার অর্জন করে। এছাড়া গত রমজানে আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত বিশ্ব কোরআন প্রতিযোগিতায় মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনালের ছাত্র হাফেজ মহিউদ্দিন প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে।

সূত্রঃ আমার দেশ

]]>
http://www.quraneralo.com/tanvir-became-first-in-quran-competition/feed/ 7
মক্কার রাজপথে বদলে গেল এক বাংলাদেশী ঝাড়ুদারের জীবন!! http://www.quraneralo.com/street-sweeper-s-life-transforms-in-makkah/ http://www.quraneralo.com/street-sweeper-s-life-transforms-in-makkah/#comments Sat, 10 Nov 2012 04:23:13 +0000 QuranerAlo.com Editor http://www.quraneralo.com/?p=3759 রিপোর্টঃ হাবিব তউমি | অনুবাদঃ কুরআনের আলো

Image Credit: Courtesy: Sabq

 

নিমেষেই বদলে গেল মক্কার রাজপথের এক প্রবাসী বাংলাদেশী ঝাড়ুদারের জীবন। ঘটনাটি ঘটেছে এবারের হজ্জ্বের মৌসুমে। একসময় সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাওয়া ছোট ভাইকে তার প্রাপ্য বিষয় সম্পত্তির ভাগ ফিরিয়ে দিয়ে নিজের কৃত অন্যায়ের প্রায়শ্চিত্ত করতে গিয়ে ঘটল এই ঘটনা।

প্রবাসী বাংলাদেশী ঐ ঝাড়ুদার তখন মক্কার তানীম সড়ক ঝাড়ু দিতে ব্যস্ত। এমন সময় হজ্জ্বের এহ্‌রাম পরিহিত এক বৃদ্ধ ব্যক্তি ব্যস্ত রাজপথ পার হয়ে এসে ঝাড়ুদারকে দু’হাত দিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরেন। এতে আশপাশের সব পথচারীরা অবাক হয়ে যান। তবে ঝাড়ুদারও যখন বৃদ্ধকে সাদরে বুকে জড়িয়ে নিলেন তখন বোঝা গেল বৃদ্ধও ঝাড়ুদারের পূর্ব পরিচিত!

পরস্পরকে আলিঙ্গনে জড়িয়ে থাকা এই ব্যক্তি দু’জন আসলে আপন দু’ভাই; উত্তারধিকার সূত্রে প্রাপ্ত পারিবারিক সম্পত্তি ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে বিবাদের জের ধরে একসময় দু’ভাইয়রে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। গত পাঁচ বছরেরও বেশী সময় ধরে এরা কেউ কাউকে দেখেনি। এক সৌদি নিউজ সাইটের সূত্র মতে, বাংলাদেশের সম্ভ্রান্ত এবং সম্পদশালী এক পরিবারের সন্তান এরা। কিন্তু, বর্তমানে  বৃদ্ধ এই বড় ভাই একসময় তার এই ঝাড়ুদার ছোট ভাইকে ১৭ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল (৩৭ কোটি টাকা) সমমূল্যের নগদ অর্থ সহ আরো অনেক বিষয় সম্পত্তি দিতে অস্বীকার করে তাকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্য সমুদয় বিষয় সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেছিল।

এমনকি যখনই ছোট ভাই তার সম্পত্তির ভাগ চাইতো তখনই বড় ভাই কোনো না কোনোভাবে তাকে জেল পাঠিয়ে জেল খাটাতো। দুঃখ আর মানসিক যন্ত্রণায় বিপর্যস্ত ছোট ভাইটি গত্যন্তর না দেখে বাংলাদেশ ছেড়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমায় এবং মক্কার রাজপথে ঝাড়ুদারের চাকরি নেয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশে সে একজন কোটিপতি!

দু’ভাইয়ের মধ্যেকার আবেগঘন দৃশ্য দেখে আশপাশে অনেক লোকজন জড়ো হয়ে যায়। তাদেরকে উদ্দেশ্য করে ছোট ভাই বলেন, “আমার প্রতি খারাপ আচরণের জন্য আমার ভাই করজোড়ে মিনতি করে বারবার ক্ষমা চাচ্ছেন; আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। আমি ভাইয়ের সাথে বাড়ি ফিরে যেতে প্রস্তুত।”

বড় ভাই জানান, তার ক্যান্সার ধরা পড়েছে এবং তিনি যে কোনো সময় মারা যেতে পারেন। তিনি আরো বলেন, ভাইয়ের কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য তিনি তাকে অনেক জায়গায় খুঁজেছেন। এতোগুলো বছর তিনি তাকে বঞ্চিত জীবন যাপনে বাধ্য করেছেন। ভাইয়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি তার প্রায়শ্চিত্ত করতে চেয়েছেন। এমনকি তার ভাইকে কেউ খুঁজে দিলে তার জন্য তিনি অর্থ পুরস্কারও ঘোষণা করেছিলেন।

ওয়েব সাইটটির সূত্র মতে, ছোট ভাইয়ের বক্তব্য হলো তিনি অতীতকে ভুলে গিয়ে তার নতুন জীবন নিয়ে আগামীর পথে এগিয়ে যেতে চান। তিনি বলেন, “দরিদ্র আর অভাবীদের প্রতি আমি সর্বদায় সদয় থাকবো। গত পাঁচ বছরে দারিদ্র আর বঞ্চনার জীবন আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। বছরের পর বছর অন্যায় আর অবিচারের মাঝে জীবন কাটিয়ে এখন আমি প্রতিটি মানুষের সাথে সদাচরণ করে চলবো।”-মক্কার রাজপথ ঝাড়ু দিতে দিতে বিগত পাঁচ বছরে শিখে ফেলা আরবি ভাষায় কথাগুলো বলেন তিনি।

উৎসঃ Gulf News

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করে দিবে, আল্লাহ তাআলা তার প্রয়োজন পূরণ করে দিবেন।” (আল-বুখারী ৩/৯৮, মুসলিম ৪/১৯৯৬)

এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:

যে ব্যক্তি, এই পৃথিবীতে একজন বিশ্বাসীর দুশ্চিন্তা দূর করে দিবে, মহান আল্লাহ তাকে পুনরুত্থান দিবসের দূশ্চিন্তা থেকে নিরাপদে রাখবেন। যে ব্যক্তি, কারো কাজকে সহজ করে দিবে(যে কঠিন কাজে নিয়োজিত), মহান আল্লাহ তার দুনিয়া ও পরকালের কাজকে সহজ করে দিবেন। যে ব্যক্তি, একজন মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে মহান আল্লাহ দুনিয়া ও পরকালে তার দোষ গোপন রাখবেন। মহান আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত একজনকে সাহায্য করতে থাকেন যতক্ষণ পর্যন্ত সে তার ভাইকে সাহায্য করতে থাকে।” (মুসলিম ৪/২০৭৪);

 

]]>
http://www.quraneralo.com/street-sweeper-s-life-transforms-in-makkah/feed/ 8
৪৭ বৎসর বয়স্ক এক বসনিয়ান মুসলিম পায়ে হেঁটে হজ্জ করতে আসলেন http://www.quraneralo.com/senad-hadzik-hajj-story/ http://www.quraneralo.com/senad-hadzik-hajj-story/#comments Tue, 23 Oct 2012 10:52:26 +0000 QuranerAlo.com Editor http://www.quraneralo.com/?p=3732 অনুবাদঃ কুরআনের আলো

 

৪৭ বৎসর বয়স্ক এক বসনিয়ান মুসলিম হজের উদ্দেশ্যে পায়ে হেঁটে সৌদি আরবে এসে পৌঁছালেন এই সপ্তাহে । প্রায় ৩,৬০০ মাইল দূরত্ব ( ৫,৯০০ কি.মি ) তার গ্রাম থেকে পায়ে হেঁটে ভ্রমণ করে আসলেন ।

তার দুর্বার আকাঙ্ক্ষা ছিলো হজ করার কিন্তু অর্থের অভাবে তা বাস্তবায়িত হচ্ছিলো না বললেন সেনাদ হাদযিক ।  তাই তিনি মনস্থ করলেন পায়ে হেঁটে সৌদি আরবে আসার। তিনি মাত্র ২০০ ইউরো নিয়ে যাত্রা শুরু করেন।

হজের অনুপ্রেরণা বুকে  বেঁধে  হাদযিক সুদীর্ঘ পথে প্রথম পা বাড়ালেন উত্তর বসনিয়ার বনাভিচি গ্রাম থেকে ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসে ।

তার ভ্রমণ যাত্রায় , তিনি ৩,৬০০ মাইল (৫,৯০০ কি। মি ) অতিক্রম করে  সুদূর বসনিয়ার একটি গ্রাম হতে পায়ে হেঁটে মাক্কাতে এসে পৌঁছাতে পারলেন ।

দৈনিক ১২ থেকে ২০ মাইল অতিক্রম করে হাদযিক তুর্কী , জর্ডান , সিরিয়া  সহ ছয়টি দেশ  পেরিয়ে এই সপ্তাহে সৌদি আরবে প্রবেশ করতে সক্ষম হলেন ।

হাদযিক জানালেন বহু সুহৃদ পরিবারের আতিথেয়তা  সহ তিনি রাত কাটিয়েছেন মসজিদ , মাদ্রাসা এবং অন্যান্য নানা স্থানে ।

"কেহ কেহ আমাকে জিজ্ঞাসা করেছেন আমি কি কখনো ভীত হয় নি দুর্গম পথ অতিক্রম করতে ?" আমি জবাবে বলেছি , " আল্লাহ আমার সাথে আছেন ...আমি কেনো ভয় পাব ?"

 সমগ্র বিশ্বের মুসলিম সমাবেশ ঘটে ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হজ আদায়ের উদ্দেশ্যে এই মক্কাতে । যা শুরু হচ্ছে ইনশাআল্লাহ এই ৮ ই যিলহজ  ২৪ অক্টোবর থেকে !

 

উৎস: The World

]]>
http://www.quraneralo.com/senad-hadzik-hajj-story/feed/ 12
অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে ইসলাম http://www.quraneralo.com/islam-fastest-growing-religion-in-australia/ http://www.quraneralo.com/islam-fastest-growing-religion-in-australia/#comments Sun, 24 Jun 2012 03:06:57 +0000 QuranerAlo.com Editor http://www.quraneralo.com/?p=3485 Australia Day in Sydney: Flags

অস্ট্রেলিয়ায় ধর্মবিশ্বাসীর সংখ্যা ব্যাপক হারে কমলেও অন্যান্য ধর্মের তুলনায় ইসলাম সবচেয়ে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে বলে এক জরিপ থেকে জানা গেছে। দেশটির আদমশুমারিতে দেখা গেছে, ২০০৬ সালের আদমশুমারির পর থেকে সেখানে মুসলমানের সংখ্যা শতকরা ৪০ ভাগ বেড়েছে। অন্যদিকে খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা ১৯৭৬ সালের পর থেকে গত ৩৫ বছরে কমে শতকরা ৬১ ভাগে দাঁড়িয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় ১৯৭৬ সালে মুসলমানের সংখ্যা ছিল মাত্র ৪৪ হাজার ৭১ জন। কিন্তু এখন দেশটিতে মুসলমানের সংখ্যা ৪ লাখ ৭৬ হাজার ২৯১ জন। অর্থাত্ তখন থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মুসলমানের সংখ্যা দশগুণ বেড়েছে। মুসলমানরা এখন অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যার শতকরা ২ দশমিক ২ ভাগ। গত ৫ বছরে তাদের সংখ্যা বেড়েছে শতকরা ৪০ ভাগ। অমুসলিমদের মধ্যে ধর্মবিশ্বাসীর সংখ্যা কমছে।

২০০৬ সালের পর থেকে কোনো ধর্মে বিশ্বাসী নন এমন নাগরিকের সংখ্যা বেড়েছে শতকরা ২৯ ভাগ। ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার শতকরা ১৮ ভাগ নাগরিক (৩৭ লাখ) বলেছিলেন, তারা কোনো ধর্মে বিশ্বাস করেন না। আসলে বহু বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ায় ধর্মবিশ্বাসীর সংখ্যা কমে আসছে। কমে আসছে খ্রিস্টানের সংখ্যাও। ১৯১১ সালে দেশটির শতকরা ৯৬ ভাগ নাগরিক ছিলেন খ্রিস্টান। ১৯৭৬ সালে এ হার ছিল শতকরা ৮৯ ভাগ। ৩৫ বছর পর এখন দেশটিতে এ হার ৬১ শতাংশ।

সূত্রঃ আমার দেশ , আল-জাজিরা

]]>
http://www.quraneralo.com/islam-fastest-growing-religion-in-australia/feed/ 2