<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>QuranerAlo.com - কুরআনের আলো ইসলামিক ওয়েবসাইট &#187; ইতিহাস</title>
	<atom:link href="http://www.quraneralo.com/category/topic/history/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://www.quraneralo.com</link>
	<description>ইসলামিক রিসোর্সেস - আকিদা, কুরআন, হাদিস, ইসলামী প্রবন্ধ,  ইসলামী বই, ইসলামী ওয়াজ   &#124; Bangla/Bengali Islamic Website &#124; Bangla Islamic Articles, Bangla Islamic Books, Bangla Islamic Waz</description>
	<lastBuildDate>Tue, 21 May 2013 04:44:42 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
	<generator>http://wordpress.org/?v=3.5.1</generator>
		<item>
		<title>মক্কার মুশরিকরা কেমন ছিল?</title>
		<link>http://www.quraneralo.com/mushriks-of-makkah/</link>
		<comments>http://www.quraneralo.com/mushriks-of-makkah/#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 07 Jan 2013 06:16:29 +0000</pubDate>
		<dc:creator>QuranerAlo.com Editor</dc:creator>
				<category><![CDATA[ইতিহাস]]></category>
		<category><![CDATA[মুশরিক]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.quraneralo.com/?p=2224</guid>
		<description><![CDATA[মক্কার মুশরিকদের যদি জিজ্ঞাসা করা হত, বলতো, তোমাদের কে সৃষ্টি করেছেন? এই আকাশ-জমিন কে সৃষ্টি করেছেন? আশ্রয় দেয়ার মালিক কে? কার হাতে সকল কিছুর কর্তৃত্ব? এই প্রশ্নগুলোর জবাবে তারা বলতো, আল্লাহ। &#160; আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ বল,‘তোমরা যদি জান তবে বল, ‘এ যমীন ও এতে যারা আছে তারা কার?’ অচিরেই তারা বলবে, ‘আল্লাহর । বল,‘তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?’ বল, ‘কে সাত আসমানের রব এবং মহা আরশের রব’? তারা বলবে,‘আল্লাহ।’ বল, ‘তবুও কি [...]]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p>মক্কার মুশরিকদের যদি জিজ্ঞাসা করা হত, বলতো, তোমাদের কে সৃষ্টি করেছেন? এই আকাশ-জমিন কে সৃষ্টি করেছেন? আশ্রয় দেয়ার মালিক কে? কার হাতে সকল কিছুর কর্তৃত্ব? এই প্রশ্নগুলোর জবাবে তারা বলতো, আল্লাহ।</p>
<p><img class="aligncenter size-full wp-image-4339" alt="194" src="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2013/01/194.jpg" width="500" height="375" /></p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ বল</strong><strong>,</strong><strong>‘</strong><strong>তোমরা যদি জান তবে বল</strong><strong>, </strong><strong>‘</strong><strong>এ যমীন ও এতে যারা আছে তারা</strong><strong> </strong><strong>কার</strong><strong>?</strong><strong>’</strong><strong> </strong><strong>অচিরেই তারা বলবে</strong><strong>, </strong><strong>‘</strong><strong>আল্লাহর । বল</strong><strong>,</strong><strong>‘</strong><strong>তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে</strong><strong> </strong><strong>না</strong><strong>?</strong><strong>’</strong><strong> </strong><strong>বল</strong><strong>, </strong><strong>‘</strong><strong>কে সাত আসমানের রব এবং মহা আরশের রব</strong><strong>’</strong><strong>? </strong><strong>তারা বলবে</strong><strong>,</strong><strong>‘</strong><strong>আল্লাহ।</strong><strong>’</strong><strong> </strong><strong>বল</strong><strong>, </strong><strong>‘</strong><strong>তবুও কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না</strong><strong>?</strong><strong>’</strong><strong> </strong><strong>বল</strong><strong>, </strong><strong>‘</strong><strong>তিনি কে যার হাতে সকল কিছুর</strong><strong> </strong><strong>কর্তৃত্ব</strong><strong>, </strong><strong>যিনি আশ্রয় দান করেন এবং যাঁর ওপর কোন আশ্রয়দাতা নেই</strong><strong>?</strong><strong>’</strong><strong> </strong><strong>যদি তোমরা</strong><strong> </strong><strong>জান। তারা বলবে</strong><strong>, </strong><strong>‘</strong><strong>আল্লাহ।</strong><strong>’</strong><strong> </strong><strong>বল</strong><strong>, </strong><strong>‘</strong><strong>তবুও কীভাবে তোমরা মোহাচ্ছন্ন হয়ে আছ</strong><strong>?</strong><strong>’</strong> <strong>[</strong><strong>সূরা মুমিনূনঃ ৮৪-৮৯</strong><strong>]</strong><br />
আল্লাহ তা’আলা আরো বলেনঃ <strong>আর তুমি যদি জিজ্ঞাসা কর</strong><strong>,</strong><strong>আসমানসমূহ ও যমীন কে সৃষ্টি</strong><strong> </strong><strong>করেছেন</strong><strong>? </strong><strong>তারা অবশ্যই বলবে</strong><strong>, </strong><strong>মহাপরাক্রমশালী সর্বজ্ঞই কেবল এগুলো সৃষ্টি</strong><strong> </strong><strong>করেছেন।</strong><strong> </strong><strong>[</strong><strong>সূরা যুখরফঃ ৯</strong><strong>]</strong></p>
<p>আল্লাহ তা’আলা আরো বলেনঃ অর্থঃ <strong>আর তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর</strong><strong>, </strong><strong>কে তাদেরকে সৃষ্টি করেছে</strong><strong>? </strong><strong>তারা অবশ্যই বলবে</strong><strong>, </strong><strong>‘</strong><strong>আল্লাহ।</strong><strong>’</strong><strong> </strong><strong>তবু তারা কীভাবে বিমুখ হয়</strong><strong>?</strong> <strong>[</strong><strong>সূরা</strong><strong> </strong><strong>যুখরফঃ ৮৭</strong><strong>]</strong></p>
<p>অর্থাৎ আয়াতগুলোর অর্থ পর্যালোচনা করলে আমরা পাইঃ সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, আশ্রয়দাতা, সকল কিছুর একমাত্র কর্তৃত্ব হিসেবে আল্লাহ তা’আলাকে মেনে নেয়ার পরও এই মুশরিকরা কিন্তু মুসলিম হতে পারে নি! বিষয়টি ভেবে দেখার দাবী রাখে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>নিম্নে কিছু পয়েন্ট আলোচনা করা হল যে কারণে মুশরিকগণ মুসলিম হতে পারেন নি।</p>
<p><strong>১. আল্লাহ তা</strong><strong>’</strong><strong>আলার রবুবিয়াতের স্বীকৃতি প্রদান কিন্তু উলুহিয়াতে</strong><strong> </strong><strong>অস্বীকৃতি করাঃ</strong><br />
সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, আশ্রয়দাতা, সকল কিছুর একমাত্র কর্তৃত্বশীল - এই বিষয়গুলো তাওহীদুর রবুবিয়াতের সাথে সম্পৃক্ত। মক্কার মুশরিকরা তাওহীদুল উলুহিয়া তথা সকল প্রকার ইবাদত শুধুমাত্র আল্লাহর জন্যে এই বিষয়টিতে অস্বীকার করে তারা নানা রকম রসম-রেওয়াজের মাধ্যমে তাদের ইবাদতগুলো সম্পাদন করতো। তারা যুক্তি প্রদর্শন করতো এই নানা রকম রসম-রেওয়াজ, মূর্তিপূজাতাদেরকে আল্লাহর নৈকট্য করে দিবে অথচ এই বিষয়ে আল্লাহ তা’আলা কোন দলীল নাযিল করেন নি। যার ফলশ্রুতিতে মক্কার মুশরিকগণ মুসলিম হতে পারেনি।</p>
<p>পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছেঃ <strong>“</strong><strong>জেনে রেখ</strong><strong>,</strong><strong>আল্লাহর জন্যই বিশুদ্ধ ইবাদাত-আনুগত্য। আর যারা আল্লাহ</strong><strong> </strong><strong>ছাড়া অন্যদেরকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে তারা বলে</strong><strong>, </strong><strong>‘</strong><strong>আমরা কেবল এজন্যই</strong><strong> </strong><strong>তাদের </strong><strong>‘</strong><strong>ইবাদাত করি যে</strong><strong>, </strong><strong>তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেবে।</strong><strong>”</strong><strong>[</strong><strong>সূরা যুমারঃ ৩</strong><strong>]</strong><br />
আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন,আল্লাহর নিকট দোয়া চাইতে সুন্নাহ বহির্ভূত মাধ্যম গ্রহণ যেমনঃ মূর্তির ইবাদত করা ছিল মক্কার মুশরিকদে রীতি। আর এর আধুনিক ভার্সন হচ্ছে মৃত ব্যক্তির নিকট দোয়া করা, মাজারে যেয়ে দান করার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের মাধ্যম গ্রহণ করা, পীর তথা বিভিন্ন দরবার এর তরীকা গ্রহণ করা। বিভিন্ন মতবাদ এর অনুসরণ করা।।<br />
<strong>২. আল্লাহ তা</strong><strong>’</strong><strong>আলা কর্তৃক নাযিলকৃত উপদেশ গ্রহণ করতে অস্বীকার করাঃ</strong><br />
মানব জাতিকে একত্ববাদের পথে প্রতিষ্ঠিত রাখার জন্যে আল্লাহ তা’আলা যুগে যুগে নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। আর শেষ নবী ও রাসূল হচ্ছেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা ‘যিকর’ বা ‘উপদেশ’ তথা কুরআন এবং সুন্নাহ(কর্মনীতি,কর্মপদ্ধতী) নাযিল করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাদের নাযিলকৃত ‘যিকর’ তথা ‘উপদেশ’ অনুযায়ী ইবাদত সম্পাদন করার জন্যে আহবান জানালেন তখন তারা তা অস্বীকার করেছিল। বরং নিজেদের বাপ-দাদা তথা পূর্বপুরুষদের নিকট থেকে যে পদ্ধতী তারা হাতে পেয়েছে তাই নিয়ে তারা সন্তুষ্ট ছিল, উপদেশ গ্রহণ করতে সম্মত হয়নি। নিজস্ব যুক্তি-পদ্ধতী ও ঐতিহ্য অনুযায়ী ইবাদত করা তাদের কে মুসলিম বানাতে পারে নি যদিও তারা আল্লাহ তা’আলাকে সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, আশ্রয়দাতা, সকল কিছুর একমাত্র কর্তৃত্বশীল হিসেবে মেনে নিয়েছিল। কারণ, আল্লাহ তা’আলা কর্তৃক নাযিল কর্তৃক ‘যিকর’ বা ‘উপদেশ’ বিনা শর্তে মেনে নেয়া এবং তা মানার ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শর্তহীন আনুগত্য করা হচ্ছে একজন মুসলিমের দায়িত্ব।<br />
ইরশাদ হচ্ছেঃ <strong>“</strong><strong>বল</strong><strong>, </strong><strong>‘</strong><strong>যদি তোমরা আল্লাহকে(সত্যিই) ভালবাস</strong><strong>, </strong><strong>তাহলে আমার অনুসরণ</strong><strong> </strong><strong>কর(অর্থাৎ</strong><strong>, </strong><strong>ইসলামের একত্ববাদ গ্রহণ কর</strong><strong>,</strong><strong>কুরআন এবং সুন্নাহ</strong><strong>’</strong><strong>র অনুসরণর কর)</strong><strong>, </strong><strong>আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর</strong><strong> </strong><strong>আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল</strong><strong>, </strong><strong>পরম দয়ালু</strong><strong>’</strong><strong>।</strong><strong>”</strong> <strong>[</strong><strong>সূরা ইমরানঃ ৩১</strong><strong>]</strong></p>
<p><strong>৩. তাকওয়া অবলম্বন না করাঃ</strong><br />
মানুষ যখন ইসলামের একত্ববাদ মেনে নিবে,কুরআন ও সুন্নাহ’র অনুসরণ করবে তখন তার মাঝে তাকওয়ার গুণাবলী পরিস্ফুটিত হবে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সে তাগুত থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে কুরআন ও সুন্নাহ’র অনুসরণ করবে। সর্বাবস্থায় আল্লাহকে ভয় করবে। মুসলিম হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্তই হচ্ছে তাগুতকে অস্বীকার করা আর সংক্ষিপ্ত আকারে তাগুত হচ্ছে তাই যা শয়তানের পথ, যা ‘যিকর’ বা ‘উপদেশ’ এর বিপরীত। একজন তাকওয়া অবলম্বনকারী শুধু নিজেই বাঁচবে না বরং সেই সাথে তার পরিবার, আত্মীয় স্বজন, বন্ধু-বান্ধবদেরকেও তাকওয়া অবলম্বনকারী হওয়ার আহবান জানাবে। মক্কার মুশরিকগণ আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করে তাদের কর্ম সম্পাদন করে নি, আল্লাহ তা’আলা কর্তৃক নাযিল কৃত কুরআন-সুন্নাহ মেনে নেয়নি,অনুসরণ করে নি যার ফলশ্রুতিতেতারা মুসলিম হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেনি।</p>
<p><strong>৪. সত্য সামনে প্রকাশিত হওয়ার পরও তা অস্বীকার করাঃ</strong><br />
আল্লাহ তা’আলাকে সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, আশ্রয়দাতা, সকল কিছুর একমাত্র কর্তৃত্বশীল হিসেবে মেনে নেয়া। এরপর যখন সামনে আল্লাহ তা’আলা কর্তৃক নাযিলকৃত ‘যিকর’ বা ‘উপদেশ’ তথা কুরআন-সুন্নাহ সামনে দলীল এবং উপযুক্ত প্রমাণ সহকারে উপস্থিত হয় আর সেই সাথে সে এটাও বুঝতে পারে যে এ ‘যিকর’ বা ‘উপদেশ’ তথা কুরআন-সুন্নাহ(কর্মনীতি, কর্মপদ্ধতী) আল্লাহর নিকট থেকে এসেছেকিন্তু তবুও তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করা। নাযিলকৃত ‘যিকর’ গ্রহণ করতে এবং সেই অনুযায়ী জীবন পরিচালিত করতে গড়িমসি করা,মোহাচ্ছন্ন ভাব প্রদর্শন করা, ‘যিকর’ এর বিপরীত কর্মনীতি-কর্মপদ্ধতী অনুসরণ করা মক্কার মুশরিকদের কর্মনীতি। যার কারণে মক্কার মুশরিকগণ মুসলিম হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি।</p>
<p>আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ <strong>“</strong><strong>তার চাইতে বড় যালেম আর কে হতে পারে যে ব্যক্তিকে তার</strong><strong> </strong><strong>মালিকের আয়াতসমূহ দ্বারা নসীহত করা হয়</strong><strong>, </strong><strong>অতপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়</strong><strong>, </strong><strong>অবশ্যই আমি নাফরমানদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিবো</strong><strong>”</strong> <strong>[</strong><strong>সূরা</strong><strong> </strong><strong>আস-সাজদাঃ২২</strong><strong>]</strong><br />
সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, আশ্রয়দাতা, সকল কিছুর একমাত্র কর্তৃত্বশীল হিসেবে আল্লাহ তা’আলাকে মেনে নেয়ার পরও তা মক্কার মুশরিকদের মুসলিম বানাতে পারেনি তাই আমাদের মুসলমান ভাইদের ভেবে দেখার আহবান জানাই এবং সেই সাথে কুরআন-সুন্নাহ’র অনুসরণ করার আহবান জানাই। আল্লাহ তা’আলার নিকট আশ্রয় চাইছি বিভ্রান্ত হওয়া থেকে, পথভ্রষ্ট হওয়া থেকে এবং সত্য সামনে প্রকাশ্য দিবালোকের মত প্রকাশিত হওয়ার পরও যেন আমরা তা গ্রহণ করা থেকে বিন্দুমাত্র বিলম্ব না করি। হে আল্লাহ, তুমি আমাদের হক বুঝার সুমতি দান কর এবং আমাদের হিদায়াতের পথে প্রতিষ্ঠিত রাখ, আমীন।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.quraneralo.com/mushriks-of-makkah/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>দশ স্বর্ণমুদ্রার ক্রীতদাস</title>
		<link>http://www.quraneralo.com/dosh-shornomudra/</link>
		<comments>http://www.quraneralo.com/dosh-shornomudra/#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 06 Jan 2013 04:39:20 +0000</pubDate>
		<dc:creator>QuranerAlo.com Editor</dc:creator>
				<category><![CDATA[সাহাবা]]></category>
		<category><![CDATA[ইতিহাস]]></category>
		<category><![CDATA[বিলাল]]></category>
		<category><![CDATA[আবু বকর (রাঃ)]]></category>
		<category><![CDATA[ক্রীতদাস]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.quraneralo.com/?p=3868</guid>
		<description><![CDATA[সংকলনঃ কুরআনের আলো মক্কার ধনী ব্যাক্তি উমাইয়া। ধনে-মানে সব দিক দিয়েই কুরাইশদের একজন প্রধান ব্যাক্তি সে। প্রাচুর্যের যেমন তার শেষ নেই, ইসলাম বিদ্বেষেও তার কোন জুড়ি নেই। শিশু ইসলামকে ধ্বংসের কোন চেষ্টারই সে কোন ত্রুটি করে না। এই ঘোরতর ইসলাম বৈরী উমাইয়ারই একজন ক্রীতদাস ইসলাম গ্রহন করেছে। তা জানতে পারল উমাইয়া। জানতে পেরে ক্রোধে ফেটে [...]]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: center;"><strong>সংকলনঃ</strong> কুরআনের আলো</p>
<p style="text-align: center;"><img class="aligncenter size-full wp-image-3871" alt="282nmkjhjnp" src="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2013/01/282nmkjhjnp.jpg" width="400" height="320" /></p>
<p style="text-align: justify;">মক্কার ধনী ব্যাক্তি উমাইয়া। ধনে-মানে সব দিক দিয়েই কুরাইশদের একজন প্রধান ব্যাক্তি সে। প্রাচুর্যের যেমন তার শেষ নেই, ইসলাম বিদ্বেষেও তার কোন জুড়ি নেই। শিশু ইসলামকে ধ্বংসের কোন চেষ্টারই সে কোন ত্রুটি করে না। এই ঘোরতর ইসলাম বৈরী উমাইয়ারই একজন ক্রীতদাস ইসলাম গ্রহন করেছে। তা জানতে পারল উমাইয়া। জানতে পেরে ক্রোধে ফেটে পড়ল সে। অকথ্য নির্যাতন সে শুরু করল। প্রহারে জর্জরিত প্রায় সংজ্ঞাহীন ক্রীতদাসকে সে নির্দেশ দেয়, “এখনও বলি, মুহাম্মাদের ধর্ম ত্যাগ কর। নতুবা তোর রক্ষা নেই।”</p>
<p style="text-align: justify;"> কিন্তু তার ক্রীতদাস বিশ্বাসে অটল। শত নির্যাতন করেও তাঁর বিশ্বাসে বিন্দুমাত্র ফাটল ধরান গেল না। ক্রোধে উন্মাদ হয়ে পড়ল উমাইয়া। শাস্তির আরও কোঠরতর পথ অনুসরণ করল সে।</p>
<p style="text-align: justify;"> একদিনের ঘটনা। আরব মরুভুমির মধ্যাহ্ন। আগুনের মত রৌদ্র নামছে আকাশ থেকে। মরুভুমির বালু যেন টগবগিয়ে ফুটছে। উমাইয়া তার ক্রীতদাসকে নির্দয়ভাবে প্রহার করল। তারপর তাঁকে সূর্যমুখী করে শুইয়ে দেওয়া হল। ভারী পাথর চাপিয়ে দেওয়া হল বুকে। ক্রীতদাসের মুখে কোন অনুনয় বিনয় নেই। মনে নেই কোন শঙ্কা। চোখে অশ্রু নেই, মুখে কোন আর্তনাদও নেই। ঊর্ধ্ব মুখী তাঁর প্রসন্ন মুখ থেকে বেরিয়ে আসছে আল্লাহ্‌র প্রশংসা ধ্বনি- ‘আহাদ’, ‘আহাদ’।</p>
<p style="text-align: justify;"> ঐ পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন হযরত আবু বকর (রাঃ)। ‘আহাদ’ ‘আহাদ’ শব্দ তাঁর কানে গেল। অনুসন্ধিৎসু হয়ে শব্দ লক্ষ্যে তিনি মরুভুমির বুকে শায়িত ক্রীতদাসের সমীপবর্তী হলেন। উমাইয়াকে দেখে তিনি সব ব্যাপারটাই মনে মনে বুঝে নিলেন। বললেন, “উমাইয়া, আপনাকে তো ধনী ও বিবেচক লোক বলেই জানতাম। কিন্তু আজ প্রমান পেলাম, আমার ধারণা ঠিক নয়। দাসটি যদি এতই না পসন্দ, তাকে বিক্রি করে দিলেই পারেন। এমন নির্দয় আচরণ কি মানুষের কাজ?”</p>
<p style="text-align: justify;"> হযরত আবু বকরের (রাঃ) ঔষধে কাজ হল। উমাইয়া বললেন, “এত বাহাদুরী দেখাবেন না। দাস আমার, এর উপর সদাছার-কদাচার করার অধিকার আমারই। তা যদি এতই দয়া লেগে থাকে, তবে একে কিনে নিলেই পারেন।”</p>
<p style="text-align: justify;"> হযরত আবু বকর (রাঃ) এই সুযোগেরই অপেক্ষা করছিলেন। তিনি চট করে রাজী হয়ে গেলেন। একজন শ্বেতাঙ্গ ক্রীতদাস ও দশটি স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে কিনে নিলেন কৃষ্ণাঙ্গ ক্রীতদাসকে। হযরত আবু বকর (রাঃ) ক্রীতদাসকে মরুভুমির বুক থেকে টেনে তুলে গা থেকে ধুলা ঝেড়ে দিলেন। উমাইয়া বিদ্রূপের হাসি হেসে বললেন, “কেমন বোকা তুমি বলতো? এই অকর্মণ্য ভৃত্যটাকে একটি স্বর্ণমুদ্রার বিনিময়েই বিক্রি করে দিতে চেয়েছিলাম। এখন আমার লাভ ও তোমার ক্ষতি দেখে হাসি সংবরণ করতে পারছি না।”</p>
<p style="text-align: justify;"> আবু বকর (রাঃ)ও হেসে বললেন, <strong><span style="color: #800080;">“আমি ঠকিনি বন্ধু! এ ক্রীতদাসকে কেনার জন্য আমার সমস্ত সম্পত্তি দিতে হলেও আমি কুণ্ঠিত হতাম না। কিন্তু একে আমি ধারণাতীত সস্তা মুল্যে ক্রয় করে নিয়ে চললাম।”</span></strong></p>
<p style="text-align: justify;"> <span style="color: #800000;"><strong>এই দাসটিই ছিলেন বিশ্ব বিশ্রুত বিলাল। ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন হযরত বিলাল (রাঃ)।</strong></span></p>
<p><em><span style="color: #008080;">উৎসঃ বই- আমরা সেই সে জাতি (আবুল আসাদ)</span></em></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.quraneralo.com/dosh-shornomudra/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>বই &#8211; আশুরা ও কারবালা</title>
		<link>http://www.quraneralo.com/ashura-o-karbala/</link>
		<comments>http://www.quraneralo.com/ashura-o-karbala/#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 18 Nov 2012 04:15:26 +0000</pubDate>
		<dc:creator>QuranerAlo.com Editor</dc:creator>
				<category><![CDATA[ধর্মীয় দল ও গোষ্ঠী]]></category>
		<category><![CDATA[শির্‌ক ও বিদআত]]></category>
		<category><![CDATA[ইতিহাস]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামিক বই]]></category>
		<category><![CDATA[শিয়া]]></category>
		<category><![CDATA[আশুরা]]></category>
		<category><![CDATA[আহলে বায়াত]]></category>
		<category><![CDATA[কারবালা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.quraneralo.com/?p=3779</guid>
		<description><![CDATA[লেখকঃ আবু আহমাদ সাইফুদ্দীন বেলাল সংক্ষিপ্ত বর্ণনাঃ বইটিতে আশুরা ও কারবালা অর্থ, ফজিলত, রোজা রাখার নিয়ম, বিধান, কারবালার মর্মান্তিক ইতিহাস, কারবালা কেন্দ্রিক বিদাত, কুসংস্কার ও মিথ্যা কেচ্ছা-কাহিনী, কারবালা ও কিছু জাল-য‘য়ীফ হাদীস সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আসাকরি বইটি আমাদের সকল পাঠকদের অনেক উপকারে আসবে। Download [2.4 MB] Download from MediaFire]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p><img class="aligncenter size-full wp-image-3780" title="ashura-blog" src="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/11/ashura-blog.jpg" alt="" width="600" height="660" /></p>
<p style="text-align: center;"><strong>লেখকঃ</strong> আবু আহমাদ সাইফুদ্দীন বেলাল</p>
<p style="text-align: left;"><strong>সংক্ষিপ্ত বর্ণনাঃ</strong> বইটিতে আশুরা ও কারবালা অর্থ, ফজিলত, রোজা রাখার নিয়ম, বিধান, কারবালার মর্মান্তিক ইতিহাস, কারবালা কেন্দ্রিক বিদাত, কুসংস্কার ও মিথ্যা কেচ্ছা-কাহিনী, কারবালা ও কিছু জাল-য‘য়ীফ হাদীস সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আসাকরি বইটি আমাদের সকল পাঠকদের অনেক উপকারে আসবে।</p>
<h2 style="text-align: center;"><a href="http://quraneralo.com/book/Ashura_o_Karbala_QA.pdf" target="_blank">Download</a></h2>
<p style="text-align: center;">[2.4 MB]</p>
<p style="text-align: center;"><a href="http://www.mediafire.com/view/?j5nf4tv3c70sag8" target="_blank">Download</a> from MediaFire</p>
<p><iframe src="http://docs.google.com/viewer?url=http%3A%2F%2Fquraneralo.com%2Fbook%2FAshura_o_Karbala_QA.pdf&#038;embedded=true" width="600" height="780" style="border: none;"></iframe></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.quraneralo.com/ashura-o-karbala/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>3</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>পরাজিত মানসিকতার মুসলিম</title>
		<link>http://www.quraneralo.com/muslims-of-defeated-mentality/</link>
		<comments>http://www.quraneralo.com/muslims-of-defeated-mentality/#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 05 Nov 2012 05:09:38 +0000</pubDate>
		<dc:creator>QuranerAlo.com Editor</dc:creator>
				<category><![CDATA[ইতিহাস]]></category>
		<category><![CDATA[ইলম (জ্ঞান)]]></category>
		<category><![CDATA[উৎসাহ উদ্দিপনা মূলক গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[পরাজিত]]></category>
		<category><![CDATA[মানসিকতা]]></category>
		<category><![CDATA[defeated]]></category>
		<category><![CDATA[mentality]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.quraneralo.com/?p=3716</guid>
		<description><![CDATA[লেখকঃ আবু হামযা ‘তারবিয়াহ’ একটি আরবি শব্দ যার ভাষাগত অর্থ হচ্ছে বৃদ্ধি করা, জন্মানো, উন্নতি ইত্যাদি। প্রচলিত অর্থে, তারবিয়াহ’ মানে হচ্ছে মানুষকে বিভিন্ন উপায়ে উন্নত করা ও প্রশিক্ষণ দান । তাকওয়া, ইলম অর্জন, অন্যদের ইসলাম সম্পর্কে শিক্ষা দান এগুলো সবই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তারবিয়াহ’র অন্তর্ভুক্ত তবুও কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ে মুসলিমদের মানসিকতা উন্নয়ন কিংবা ‘তারবিয়াহ’র বিষয়টি হয়তো [...]]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: center;"><span style="color: #003300;"><strong>লেখকঃ</strong> আবু হামযা</span></p>
<p style="text-align: center;"><img class="aligncenter size-full wp-image-4340" alt="195" src="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/11/195.jpg" width="500" height="334" /></p>
<p><span style="color: #800080;">‘তারবিয়াহ’</span> একটি আরবি শব্দ যার ভাষাগত অর্থ হচ্ছে বৃদ্ধি করা, জন্মানো, উন্নতি ইত্যাদি। প্রচলিত অর্থে, তারবিয়াহ’ মানে হচ্ছে মানুষকে বিভিন্ন উপায়ে উন্নত করা ও প্রশিক্ষণ দান । তাকওয়া, ইলম অর্জন, অন্যদের ইসলাম সম্পর্কে শিক্ষা দান এগুলো সবই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তারবিয়াহ’র অন্তর্ভুক্ত তবুও কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ে মুসলিমদের মানসিকতা উন্নয়ন কিংবা ‘তারবিয়াহ’র বিষয়টি হয়তো সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে কিংবা সচেতনভাবে বাদ দেয়া হচ্ছে। এমন একটি ভুলে যাওয়া বিষয় হচ্ছে, কিভাবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর অনুসারীদের মাঝে একটি বিজয়ী মন মানসিকতা রেখে গিয়েছিলেন, তাদের মাঝে তিনি এই বিজয়ী মানসিকতার লালন ও বৃদ্ধি শিখিয়েছেন। বর্তমান সময়ের মুসলিম উম্মাহর মাঝে বিজয়ী মানসিকতা কিংবা এর লালন, বৃদ্ধি করা এগুলো নেই, অনুপস্থিত।<br />
● <strong>সারা দুনিয়াজুড়ে মুসলিমদের আজ দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থা,</strong> নির্যাতন, নিপীড়নের এক অভিন্ন চিত্র সবখানে প্রতিফলিত হচ্ছে। এ কারণে এই কঠিন সময়ে এটা কোন অস্বাভাবিক ঘটনা নয় যে, মুসলিমদের সেই বিজয়ী মন মানসিকতা আর নেই, বরং তাদেরকে গ্রাস করেছে একটি বিপরীত পরাজিত ক্ষমাপ্রার্থী মানসিকতা। আর এটা যুলুম নির্যাতনের একটি সহজাত ও অনিবার্য ফলাফল। যত বেশি আপনি যুলুম নির্যাতনের ভিকটিম হবেন, তত বেশি আপনার মাঝে তৈরি হবে ভিকটিম মানসিকতা বা পরাজিত মানসিকতা, ক্ষমাপ্রার্থী মনোভাব, কিছু হলেই আপনি ভাবতে শুরু করবেন কিভাবে নিজেকে যুলুমের হাত থেকে রক্ষা করবেন, কুফফারদের থেকে নিজের পিঠ বাঁচাতে কি অজুহাত প্রদর্শন করবেন -এই মানসিকতা। এই পরাজিত অজুহাত প্রদর্শনকারী ক্ষমাপ্রার্থী মানসিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপ হচ্ছে, নিজের অবস্থানের উপর অসন্তুষ্টি প্রকাশ করা, তা থেকে উত্তরণে অপারগতা প্রকাশ করা <strong>এবং দায়িত্ব এড়িয়ে যাবার প্রচেষ্টা</strong> । অতিরিক্ত রয়েছে হতাশা ও নিষ্কর্ম মনোভাব এর জন্মলাভ।</p>
<p>● <span style="color: #800080;"><strong>এটা সেই পরাজিত মানসিকতা যা উম্মাহকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে</strong></span> এবং সমাজ বা আমাদের পরিবেশকে বর্তমান শোচনীয় অবস্থা থেকে উন্নত করে এগিয়ে নিয়ে যাবার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দখলদারদের থেকে আমাদের মুসলিম ভূমিকে মুক্ত করা, ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করা, দীন কায়েম করা কিংবা চূড়ান্ত লক্ষ্য জান্নাতুল ফিরদাউস অর্জন - এগুলোর পথে বড় বাধা আমাদের পরাজিত মানসিকতা।</p>
<p>●●►<span style="color: #800000;"> অনাকাংক্ষিতভাবে, এই পরাজিত মানসিকতা নিজেই একটি অভিশাপ।</span> যত বেশি আপনি অজুহাত প্রদর্শনকারী পরাজিত মানসিকতার অধিকারী হবেন, এটা আপনাকে আরও পেঁচিয়ে ধরবে, এরপর তা আরও বাড়তে থাকবে, এটা থেকে কোন মুক্তি নেই, চক্রাকারে কেবল আপনাকে নিচের দিকে টেনে নামিয়ে নিয়ে যাবে। যারা সত্যিকারের ভিকটিম, তাদের সমবেদনা প্রাপ্য; কিন্তু অধিকাংশ সময়েই যারা নিজেরা পরাজিত মানসিকতার শিকার তাদের দুরবস্থার জন্য সমব্যথা অনুভব করাটাও কঠিন। এমনকি তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করাও অসম্ভব হয়ে পড়ে কারণ তারা এমনভাবে কথা বলে, আচরণ করে বা বিশ্বাস করে যে, যেন তারা একটি ক্রমিক ক্ষয়ের মধ্যে রয়েছে !</p>
<p><span style="color: #800080;">●●►</span> অথচ আমরা যখন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের দিকে মনোযোগী হই, আমরা দেখতে পাই যে তিনি এবং তাঁর সাথীরা সম্মুখীন হয়েছিল এরচেয়েও অনেক কঠিন অত্যাচার-নির্যাতনের। এত কিছুর পরেও তারা নিজেদের মানসিকতার পরাজয় ঘটতে দেননি। বরং, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের মাঝে যে মানসিকতার বৃদ্ধি ঘটিয়েছিলেন ও লালন করেছিলেন তাতে তাঁরা শিখেছিলেন ও মনে প্রাণে বিশ্বাস করেছিলেন যে তারাই সেই সকল লোক যারা দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা লাভ করছেন আর জীবন ব্যবস্থা বা সিস্টেম হিসেবে ইসলাম চূড়ান্তভাবে বিজয় ও সফলতা লাভ করবে। <strong>তাদের প্রতি হুমকি আর যুলুম যত বেশি কঠিন হতো, তাঁরা তাদের মন মানসিকতাকে তার চেয়েও বেশি ইতিবাচক করে নিতেন।</strong></p>
<p><span style="color: #993366;"><strong><em>উদাহরণস্বরূপ</em></strong></span>, খাববাব ইবন আল-আরাত রাদিয়াল্লাহু আনহু ও অন্যান্য সাহাবীরা একবার আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে তাদের উপর চলমান অত্যাচার নির্যাতনের কথা তুলে ধরে অনুযোগ অভিযোগ পেশ করলেন। তাঁরা চাইলেন, তিনি যেন তাদের জন্য মুশরিকদের বিরুদ্ধে দুয়া করেন ও আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন।</p>
<blockquote><p><span style="color: #3366ff;"> বুখারী ৩৫৭৩ ৬ষ্ঠ খণ্ড হতে, “...আমি একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খেদমতে হাযির হলাম। তখন তিনি তাঁর নিজের চাদরকে বালিশ বানিয়ে কা’বা গৃহের ছায়ার বসে বিশ্রাম গ্রহণ করছিলেন। আমরা মুশরিকদের পক্ষ থেকে কঠিন নির্যাতন ভোগ করছিলাম। তাই আমি বললাম, আপনি কি (আমাদের শান্তি ও নিরাপত্তার)জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ করবেন না? <strong>তখন তিনি উঠে বসলেন এবং তাঁর চেহারা রক্তিম বর্ণ হয়ে গেল।</strong> তখন তিনি বললেন, তোমাদের পূর্ববর্তী ঈমানদারদের মধ্যে কারো কারো শরীরের হাড় পর্যন্ত সমস্ত মাংস ও শিরা উপশিরাগুলি লোহার চিরুনী দিয়ে আঁচড়ে বের করে ফেলা হত। কিন্তু এসব নির্যাতনও তাদেরকে দীন থেকে বিমুখ করতে পারতো না। তাঁদের মধ্যে কারো মাথার মধ্যবর্তী স্থানে করাত স্থাপন করে তাকে দ্বিখণ্ডিত করে ফেলা হত। কিন্তু এ নির্যাতনও তাঁদেরকে তাঁদের দীন থেকে ফিরাতে পারতো না। আল্লাহর কসম, আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই এ দীনকে পরিপূর্ণ করবেন,ফলে একজন উষ্ট্রারোহী সান’আ থেকে হাযারামাউত পর্যন্ত একাকী ভ্রমণ করবে। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে সে ভয় করবে না”। রাবী (র) আরো অতিরিক্ত বর্ণনা করেন “এবং তার মেষ পালের উপর নেকড়ে বাঘের আক্রমণে সে ভয় করবে না”।</span></p></blockquote>
<p><strong>এরকম বিপরীত প্রতিক্রিয়ার কারণ ছিল এই যে,</strong> তিনি সাহাবাদেরকে আশ্বস্ত করলেন যে, তাদের উপর চলমান নিপীড়ন তো কেবল স্বল্প একটি সময়ের জন্য আর অচিরেই ইসলাম হবে বিজয়ী। তিনি সাহাবাদেরকে তাদের নিজেদের অবস্থার উপর দুঃখ অনুভব, সমবেদনা করতে নিষেধ করে দিলেন, বরং তাদের কষ্টকে তুলনা করলেন পূর্ববর্তী জাতির লোকেরা ঈমান আনার কারণে যে কষ্টের সম্মুখীন হয়েছিলেন সেই অবস্থার সাথে যেন তারা এই অত্যাচার নিপীড়নকে তুচ্ছ জ্ঞান করেন, আর এটাও জানিয়ে আশ্বস্ত করলেন যে, চূড়ান্ত বিজয় হবে ইসলামের।</p>
<p>●●► মদীনার পথে হিজরতকালে, একটি আশ্চর্য ঘটনা ঘটেছিল। আল্লাহর <strong>নবীকে ধরিয়ে দিলে ১০০ উট পুরষ্কার</strong> দেয়া হবে, এ লোভে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সন্ধান করতে এক ব্যক্তি বের হল, সে সুরাকা বিন মালিক। একসময় সে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবস্থান সনাক্ত করতে সক্ষম হল। এই ভয়াবহ বিপদের মুহুর্তে, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম <strong>উলটো সুরাকা বিন মালিকের জন্য একটি নিরাপত্তা পত্র</strong> লিখে দিলেন ! <strong>বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি বিপদের কারণ ব্যক্তিকে নিরাপত্তা পত্র লিখে দিয়েছিলেন</strong> ! তদুপরি তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুরাকাকে একটি সোনার বালা উপহার দিতেও রাজি হলেন, তাও কিনা পারস্য সম্রাটের রাজকোষ হতে! আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ও সুরাকার অবস্থান হতে চিন্তা করলে, জীবন রক্ষার্থে উটের পিঠে চড়ে আপন জন্মভূমি হতে নির্বাসিত একজন ব্যক্তির কাছ থেকে এরকম কিছু লাভ করা শুধ অচিন্তনীয় নয়, বরং এক নিশ্চিত অসম্ভব ব্যাপার। অথচ, এরকম এক বিপর্যস্ত সময়ে এহেন সুমহান প্রতিশ্রুতি প্রদান শুধু আবু বকর সিদ্দিকের নিরাপদে মদীনায় গমনের আত্মবিশ্বাসকেই বৃদ্ধি করলো না বরং ইসলাম যে বিজয় লাভ করবে তার প্রতিও বিশ্বাস বৃদ্ধি হল। আর অবশ্যই, যখন পারস্য বিজয় হয়েছিল, সেই সোনার বালা ও খসরুর (পারস্য সম্রাট) মুকুট আনা হল হযরত উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট, তিনি সুরাকা ইবন মালিককে ডেকে পাঠালেন ও সেই রাজপোশাক পরিধান করিয়ে দিলেন।</p>
<p>●●► এমনকি জিহাদে রণাঙ্গনের কঠিন সময়েও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবা রাদিয়াল্লাহু আনহুমকে উজ্জীবিত করার একটি আশ্চর্য সক্ষমতা ছিল, এমনকি যদি মনে হতো অনিবার্য পরাজয় সামনে তবুও তিনি তা করতে পারতেন। উহুদ যুদ্ধের কথা স্মরণ করুন, যেখানে কিছু মুসলিম তীরন্দাজের ভুল ও আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদেশ অমান্য করার কারণে মুসলিমদের মাঝে ব্যাপক বিশৃংখলা দেখা দিল, যার ফলে অনেক মুসলিম শহীদ হলেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও মারাত্মক আহত হলেন। এমনি একটি পরিস্থিতিতে, ক্লান্ত পরিশ্রান্ত মুসলিমেরা যুদ্ধের শেষে উহুদ পাহাড়ের উপর বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, কুফফারদের কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ান বিজয়ের উদযাপনসূচক ভংগীতে বলে উঠল, <strong>“</strong><strong>হুবাল (আরবদের মূর্তি) এর জয় হোক</strong><strong>”</strong><strong>।</strong> এটা ছিল বিজয়ের উদযাপনের ভংগীতে বলা এবং মুসলিমদের প্রতি একটি বিদ্রুপ, যারা ময়দানের আকস্মিক পট পরিবর্তনের কারণে দুর্বলতা অনুভব করছিলেন।</p>
<p>নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, <span style="color: #993300;"><strong>তোমরা জবাব দিচ্ছো না কেন?</strong></span><br />
সাহাবায়ে কেরাম বললেন, আমরা কি জবাব দিব?<br />
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, বলো, <span style="color: #993300;"><strong>আল্লাহ তায়ালা মহান এবং সর্ব শক্তিমান।</strong></span><br />
মুসলিমদের পক্ষে জবাব দিচ্ছিলেন, হযরত উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু।<br />
একথা শুনে আবু সুফিয়ান উচ্চস্বরে বললো, <strong>আমাদের জন্যে ওযযা আছে, তোমাদের ওযযা নেই।</strong><br />
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, <span style="color: #993300;"><strong>তোমরা জবাব দিচ্ছো না কেন?</strong></span><br />
সাহাবায়ে কেরাম বললেন, আমরা কি জবাব দিব?<br />
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, বলো, <span style="color: #993300;"><strong>‘</strong><strong>আল্লাহু মাওলানা ওয়া-লা মাওলা লাকুম</strong><strong>’</strong><strong>- </strong><strong>“</strong><strong>আল্লাহ তায়ালা আমাদের অভিভাবক, আর তোমাদের কোন অভিভাবক নেই</strong><strong>”</strong></span><strong><span style="color: #993300;">।</span><br />
</strong><br />
● এরপর আবু সুফিয়ান যে উক্তিটি করেছিল তা থেকে বোঝা যায় যে, মুসলিমদের ইতিবাচক মনোভাব দেখে সে আশ্চর্য হয়েছিল এবং সে বুঝতে পারল যে কথায় সে নীচু হয়ে যাচ্ছে, তাই সে কথার লড়াইয়ে সমতা আনার জন্য বলল, “দিনের বদলা দিন। তোমাদের জন্য বদর ছিল, আর আমাদের জন্য উহুদ...আজ বদরের যুদ্ধের প্রতিশোধ গ্রহণের দিন। যুদ্ধ হচ্ছে একটা বালতি”।</p>
<p>হযরত উমার আবু সুফিয়ানের মনোবল ভেঙ্গে দিয়ে বললেন,<span style="color: #ff0000;"> <span style="color: #000000;">“ না, সমান নয়। আমাদের যারা নিহত হয়েছেন, তারা জান্নাতে রয়েছেন আর তোমাদের যারা নিহত হয়েছে, তারা জাহান্নামে রয়েছে”।</span></span></p>
<p>মুসলিমদের আত্মবিশ্বাস ও মনোবল চাঙ্গা করতে এই কথাগুলো দারুণ কার্যকরী ভূমিকা রাখল আর তারা ঘোষণা করলেন, <strong>বিজয় হয়েছে মুসলিমদেরই, ময়দানে কি হয়েছে তাতে কিছুই আসে যায় না।</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেবল <strong>ফাঁকা বুলি আওড়ানো মানুষ ছিলেন না।<br />
উহুদের বিপর্যয়ের পরদিনের ঘটনা দেখুন,</strong> যখন অধিকাংশ মুসলিম ক্লান্ত ও আহত, তিনি সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যারা লড়াই করেছিলেন তাদের সবাইকে আদেশ দিলেন যে তাঁরা তাদের লৌহবর্ম পড়ে নেয় ও হামরা আল-আসাদ পর্যন্ত যেন কুফফারদের সাথে লড়াইয়ের উদ্দেশ্যে তাড়া করে যায়। এটি ছিল এমন একটি সময়, যখন সাহাবাগণ শারিরীক ও মানসিক উভয় দিক থেকে চরমভাবে পরিশ্রান্ত ছিলেন, আহত মন ও দেহ, ব্যথায় অনেকে কাতরাচ্ছেন; এমন পরিস্থিতিতে এ ধরণের আদেশ কেবলমাত্র সেই নেতার কাছ থেকেই আসতে পারে যিনি দূরদর্শী ও অত্যন্ত কুশলী। কুরাইশরা, মক্কায় ফেরার পথে, তারাও চিন্তা করল মদীনায় ফিরে বাকি মুসলিমদের একেবারে চিরদিনের জন্য বিদায় করে দিতে কেননা এখন তারা দুর্বল, এমন সময়ে উলটো তারাই খবর পেল যে, হামরা আল-আসাদের দিকে মুসলিমরা রওনা দিয়েছে, এরপর তারা তড়িঘড়ি করে মক্কার পথে ছুটে পালাল ও আক্রমণের যাবতীয় কল্পনা মন থেকে বিদায় করে দিল। মুসলিমরা হামরা আল-আসাদে তিনি দিন পর্যন্ত অবস্থান করলেন মদীনায় ফেরত আসার পূর্বে; এবারে সমস্ত বাহিনী একেবারে চাঙ্গা ও খোশ মেজাজে ফিরে এলেন, বিজয়ের উদযাপনের আমেজ মন-মেজাজে চলে এল। সপ্তাহ খানেক আগের শারিরীক পরাজয়- বদলে গেল বিজয়ে।<strong></strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আমাদের জন্যে আরও উদাহরণ হয়েছে খন্দকের যুদ্ধে<br />
যখন মদীনার মুসলিমদের ঘিরে ফেলেছিল ১০,০০০ সৈন্যের এক বিশাল শক্তিশালী বাহিনী, যাদের মধ্যে ছিল কুরাইশ ও অন্যান্য গোত্র। মুসলিমদের ছিল মাত্র ৩০০০ জন, উপরন্তু এত বড় বাহিনী তাঁরা কখনো দেখেননি। তখন মদীনায় ছিল দুর্ভিক্ষ, তারা পেটে পাথর বেঁধে ক্ষুধা দূর করার চেষ্টা করতেন, আর চরম বৈরী আবহাওয়ার মাঝে নিজেদের রক্ষার্থে একটানা কাজ করে চললেন ও পরিখা খনন করলেন। যদি এই অবস্থা যথেষ্ট ভীতিকর বলে প্রতীয়মান না হয়, তবে জেনে রাখুন সেই কঠিন পরিস্থিতিতে খবর এল, মদীনার ভেতরকার ইহুদীরা মুসলিমদের সাথে চুক্তি ভংগ করেছে ও শহরের পিছন দিক থেকে আক্রমণের রাস্তা উন্মুক্ত করে দিয়েছে। তদুপরি, মুনাফিকরা মুসলিমদের সাথে এই কষ্টকর সংগ্রাম ত্যাগ করল ও আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি বিদ্রুপ,কটাক্ষ করা শুরু করল। মুসলিমরা এত কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হলেন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কুর’আনে এ অবস্থাকে বর্ণনা করেছেন “...এবং যখন তোমাদের দৃষ্টিভ্রম হচ্ছিল, প্রাণ কন্ঠাগত হয়েছিল এবং তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে নানা বিরূপ ধারণা পোষণ করতে শুরু করছিলে”।<br />
(আহযাব ১০)</p>
<p><strong>এটা ছিল এক প্রাণান্তকর পরিস্থিতি,</strong> অথচ তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবাদের সুসংবাদ দিলেন যে, তারা বিরাট শক্তিধর তৎকালীন ‘সুপার পাওয়ার’ পারস্য ও রোমান সাম্রাজ্য বিজয় করবেন, আর বাকি আরব্য উপদ্বীপ তো বিজয় হবেই। এতে তাদের মনোবল বৃদ্ধি পেল ও চূড়ান্ত বিজয়ের সংবাদে আত্মবিশ্বাস ফিরে এল। আল্লাহ বর্ণণা করছেন, এরপর কিভাবে তারা সেই সম্মিলিত কুফফার সেনাবাহিনীর দিকে ফিরে তাকালো ও আল্লাহকে স্মরণ করলো, তিনি বলেন, “যখন মুমিনরা শক্রবাহিনীকে দেখল, তখন বলল, আল্লাহ ও তাঁর রসূল এরই ওয়াদা আমাদেরকে দিয়েছিলেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূল সত্য বলেছেন। এতে তাদের ঈমান ও আত্নসমর্পণই বৃদ্ধি পেল”।(আহযাব ২২)</p>
<p><strong>মানসিকতার পরিবর্তনের প্রভাব ছিল ব্যাপক,</strong> এবং এটা ছিল আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপদেশ। তিনি আদেশ করেছিলেন যেন তারা পরাজিত ভিকটিম মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। যদি তারা পরাজিত মানসিকতার অধিকারী হতেন, হীনমন হয়ে থাকতেন, তারা সেই সুবিশাল শত্রুবাহিনীর সামনে নিঃশেষ হয়ে যেতেন।<br />
অথচ, ইতিহাস সাক্ষী, এবারও তারাই বিজয়ী হলেন।</p>
<p><strong>সীরাহ(জীবনী)গ্রন্থগুলো এমন ঘটনার বর্ণনায় ভরপুর।</strong><br />
যখন খালিদ বিন ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর বাহিনীকে কৌশলগত কারণে মদীনার দিকে পিছু হটে নিয়ে এলেন, কারণ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে মুতার সেই ময়দানে রোমান সৈন্যদের সংখ্যাধিক্যের কাছে মুসলিমদের ক্ষুদ্র বাহিনীর সৈন্যসংখ্যার কোন তুলনাই হয় না। ফিরতি পথে, অনেকে খালিদ বিন ওয়ালিদকে<span style="color: #800080;"> <strong>‘</strong><strong>ইয়া ফাররার</strong><strong>’</strong><strong> (হে পলায়নকারী)</strong></span> বলে বিদ্রুপ করছিলেন। এই কথাগুলো খালিদকে মনোবল হারা করে দিতে পারতো, এমনকি তা মুসলিম সেনাবাহিনীর মাঝেও দুর্বলতা ছড়িয়ে দিতে পারতো, অথচ আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে চাঙ্গা করে দিলেন ও শত্রুদের বিদ্রুপাত্মক কথাকে পালটে দিলেন, তিনি তাদের আদেশ করলেন যেন তারা বলেন,<span style="color: #800000;"> <strong>‘</strong><strong>ইয়া কাররার</strong><strong>’</strong></span><strong><span style="color: #800000;">(হে অগ্রগামী)</span>।</strong> এতে তারা বুঝতে পারলেন, কৌশলগত কারণে পিছু হটা আর পলায়ন করা এক নয়। এটা খালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাহস শক্তি বৃদ্ধি করল আর তাঁরা এতে এরপর ডজনখানেক যুদ্ধে রোমান ও পারস্য বাহিনীকে পরাভূত করলেন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>●●►<span style="color: #993366;"><strong>বিজয়ী মানসিকতা লালন করা ও তা ধরে রাখা, বৃদ্ধি করা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে,</strong> </span><br />
আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যুর পরেও সাহাবীরা জিহাদ চালিয়ে গেলেন ও ইসলামের বিজয় আনতে লাগলেন। উদাহরণ দেখুন, আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন উসামা বিন যায়িদ(রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর বাহিনীকে ফিরিয়ে আনতে অস্বীকার করেছিলেন তখন তিনি কি বলেছিলেন? অথচ সেই বাহিনী প্রেরণের দিনকয়েক পরেই আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত্যু বরণ করেন। এত বড় মানসিক আঘাত ও দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে আরবের গোত্রগুলো পরিকল্পনা করছিল মদীনা আক্রমণের, একারণে অনেকে পরামর্শ দিয়েছিলেন এই পরিস্থিতিতে বাহিনী প্রেরণ করা উচিত হবে না। আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু জবাব দিলেন, <strong>“</strong><strong>যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীদের পায়ের গোড়ালি কামড়ে ধরে কুকুর টেনে নিয়ে যাও তারপরও আমি এই বাহিনী প্রেরণ করবো, আর যদি মদীনায় আমি ছাড়া আর কেউ নাও থাকে তারপরও আমি এই বাহিনী পাঠাব কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আদেশ দিয়েছেন</strong><strong>”</strong><strong>!<br />
</strong><br />
তিনি কিছুতেই সেই বাহিনীকে ফেরত আনতে চাননি, যারা আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদেশে বের হয়েছিলেন। আর যখন উসামার বাহিনী সামনে এগিয়ে চলল, শত্রুভাবাপন্ন আরব গোত্রগুলো লা-জওয়াব হয়ে গেল, তারা ভেবে পেল না, আল্লাহর নবীর মৃত্যুর মাত্র দিন কয়েকের মধ্যে কিভাবে এই বাহিনী জিহাদের ময়দানের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন। এটা সাক্ষ্য দেয়, বিপদের মুখে অবিচল ও অটল থাকার এই মানসিকতার কারণে শত্রুদের অন্তরে ভয় সৃষ্টি হল ও তারা মদীনা আক্রমণের যাবতীয় কল্পনা বাদ দিল।</p>
<p>সাহাবারা অনুধাবন করেছিলেন, মুসলিম হিসেবে যদি টিকে থাকতে হয়, যদি সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করতে হয় তাহলে তাদেরকে অতিক্রম করতে হবে নানা রকম ফিতনা ও পরীক্ষা, সম্মুখীন হতে হবে যুলুম,নির্যাতন ও যন্ত্রণার। কিন্তু তারা জানতেন, দুনিয়া কিংবা আখিরাতে চূড়ান্ত বিজয় তাদেরই। তারা আরও জানতেন যে, ইসলামের বিজয় হবেই সেটা তাদের জীবদ্দশাতে না হলেও পরবর্তী সময়ে হবে। এটা ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি যিনি আমাদেরকে কুর’আন ও হাদীসের বহু স্থানে অবগত করেছেন যে, সত্য ও মিথ্যার মধ্যে চলমান লড়াইয়ে মুসলিমরাই হবে চূড়ান্ত বিজয়ী আর ইসলাম টিকে থাকবে।</p>
<p>আমাদের অবশ্যই উচিত হল এই পরাজিত ভিকটিম মানসিকতা পরিত্যাগ করা, যাতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি আমাদের দৈনন্দিন দুঃখ দুর্দশার কারণে, এগুলো ঝেড়ে ফেলে আমাদের উচিত একিন তথা দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে সামনে এগিয়ে যাওয়া কারণ বিজয় মুমিন ও মুসলিমদেরই। ফলে আমরা আমাদের বর্তমান অপমানজনক অবস্থা থেকে মুক্ত হতে সক্ষম হব ইনশা আল্লাহ, অথচ আজ আমরা যুলুম ও বাতিলের মোকাবিলা করতে গিয়ে অন্যদের সাহায্য ও সমবেদনার দিকে মুখাপেক্ষী হয়ে থাকি। যদি আমাদের মত করে সাহাবা রাদিয়াল্লাহু আনহুমও নিজেদেরকে খোলসের ভেতর গুটিয়ে নিতেন, নিজেদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী মনোভাব পোষণ করতেন, নিজেদের উপর চাপ অনুভব করতেন কিংবা অন্যদের কাছে সাহায্যের আবেদন করতেন, তাহলে আজ আমরা যেভাবে তাদের নাম ও খ্যাতির কথা জানি তা জানতাম না, এটা নিশ্চিত। একমাত্র আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মত ও পথে, তাঁর দেখানো পদ্ধতিতেই সর্বোত্তম উদাহরণ রয়েছে আমাদের জীবনের সকল ক্ষেত্রে, আমরা কি পারি না নিজেদের সম্মান ও মর্যাদাকে সেই পদ্ধতিতেই উদ্ধারের জন্য প্রচেষ্টা চালাতে ?</p>
<h3><span style="color: #800000;">আমরা কি পারি না নিজেদেরকে সেই সুনিশ্চিত বিজয়ের অংশ করতে, যার আগমন নিয়ে কোন সন্দেহ নেই?</span></h3>
<p>&nbsp;</p>
<p><span style="color: #333399;">কৃতজ্ঞতাঃ <a href="http://sorolpath.com/index.php/%E0%A6%86%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A6%BF/446-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%A4-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AE" target="_blank"><span style="color: #333399;"><strong>সরল পথ </strong></span></a></span></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.quraneralo.com/muslims-of-defeated-mentality/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>4</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আসহাবে ফীল (হাতি ওয়ালার) ঘটনা</title>
		<link>http://www.quraneralo.com/story-from-surah-feel/</link>
		<comments>http://www.quraneralo.com/story-from-surah-feel/#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 10 Sep 2012 03:58:12 +0000</pubDate>
		<dc:creator>QuranerAlo.com Editor</dc:creator>
				<category><![CDATA[ইতিহাস]]></category>
		<category><![CDATA[ঐতিহাসিক]]></category>
		<category><![CDATA[সূরা ফীল]]></category>
		<category><![CDATA[হাতি ওয়ালা]]></category>
		<category><![CDATA[ঘটনা]]></category>
		<category><![CDATA[গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[কা'বা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.quraneralo.com/?p=3615</guid>
		<description><![CDATA[রাসুল (সাঃ) এর দাদা আব্দুল মুত্তালিবের সময় এক বিরাট ঘটনা ঘটে যায় যাকে কুরআন চির স্মরনীও করে রেখেছে। সেটি হচ্ছে হাতি ও হাতি ওয়ালার ঘটনা। ‘আবরাহা আল-হাবশী’ যিনি তৎকালীন ইয়েমেনের শাসক ছিলেন। তিনি নিজের জন্য একটি গির্জা নির্মাণ করেন, যার নামকরণ “আল-কুল্লায়েস”। এটি তৈরি করার পেছনে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল যে, আরব হাজীগণ যেন কা’বার পরিবর্তে [...]]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/09/81T0Zmoe1vL._SL500_AA300_.png.jpg"><img class="alignright size-full wp-image-3616" title="81T0Zmoe1vL._SL500_AA300_.png" src="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/09/81T0Zmoe1vL._SL500_AA300_.png.jpg" alt="" width="300" height="300" /></a>রাসুল (সাঃ) এর দাদা আব্দুল মুত্তালিবের সময় এক বিরাট ঘটনা ঘটে যায় যাকে কুরআন চির স্মরনীও করে রেখেছে। সেটি হচ্ছে হাতি ও হাতি ওয়ালার ঘটনা। ‘আবরাহা আল-হাবশী’ যিনি তৎকালীন ইয়েমেনের শাসক ছিলেন। তিনি নিজের জন্য একটি গির্জা নির্মাণ করেন, যার নামকরণ “আল-কুল্লায়েস”। এটি তৈরি করার পেছনে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল যে, আরব হাজীগণ যেন কা’বার পরিবর্তে গির্জার পানে ফিরে যায়। যার কারণে আরবরা খুব রাগান্বিত হন এবং কেনানী গোত্রের জনৈক ব্যক্তি ঐ গির্জায় মল ত্যাগ করে দেয়। এই সংবাদ যখন আবরাহা জানতে পারেন তখন অত্যন্ত রাগান্বিত হন এবং এই বলে কসম করেন যে তিনি অবশ্যই কা’বার কাছে এসে তা ধ্বংস করবেন। অতঃপর তিনি হাবশীদের আদেশ দেন যে, তারা যেন প্রস্তুতি নেয় এবং হাতি সঙ্গে নিয়ে রওয়ানা হয়।</p>
<p>যখন তারা তায়েফের রাস্তায় (মুগাম্মাস নামক স্থানে) পৌঁছায় তখন আল-আসওয়াদ বিন মাকসুদ হাবশীকে ঘোড়ায় চাপিয়ে মক্কা পাঠান, সে তাহামা এলাকায় কুরাইশ ও অন্যান্য লোকদের মাল লুট করে। এমনকি আব্দুল মুত্তালিবের দু’শ উট ও নিয়ে যায়। তৎকালীন আব্দুল মুত্তালিব কুরাইশদের মধ্যে প্রবীণ ও নেতা ছিলেন। অতঃপর কুরাইশ, কেনানাহ এবং হুযায়েল গোত্রে তার মোকাবেলা করার ইচ্ছা করে; কিন্তু যখন তারা জানতে পারে তার মোকাবেলা করতে তারা অক্ষম তখন ঐ পরিকল্পনা বাতিল করে।</p>
<p>এরপর ‘আবরাহা’ হুনাতা আল হিমইয়ারীকে মক্কায় প্রেরণ করেন এবং বলেনঃ তুমি এই শহরের নেতাদের সাথে সাক্ষাত কর এবং তাদেরকে বল (আবরাহা) তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে আসেনি। আমি এসেছি কেবল এই (আল্লাহর) ঘর ধ্বংস করতে। তোমরা যদি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না কর তাহলে রক্তপাতের কোন প্রয়োজন নেই। যদি যুদ্ধ করতে না চায় তাহলে তাদেরকে আমার নিকট হাজির কর।</p>
<p>হুনাতা যখন মক্কায় প্রবেশ করে তখন সে কুরাইশদের নেতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। প্রত্যুত্তরে তাকে বলা হয় আব্দুল মুত্তালিব বিন হাশেম। অতঃপর সে তার কাছে আসে এবং আবরাহা হুনাতাকে যা বলতে বলেছিলেন তা আব্দুল মুত্তালিবকে বলে। প্রত্যুত্তরে আব্দুল মুত্তালিব তাকে বলেন, আল্লাহর কসম আমরা তার সাথে যুদ্ধ করার কোন ইচ্ছা রাখিনা এবং তার মোকাবেলা করারও কোন শক্তি রাখিনা। এটি আল্লাহর ও তার খলীফা ইব্রাহীম (আলাইহিস সালাম) এর সম্মানিত ঘর। আল্লাহ যদি এই ঘরকে রক্ষা করতে চান তাহলে তা সুরক্ষিত হবে। এটি তাঁর ঘর ও হারাম। আর যদি তিনি তাকে বাধা না দেন, তাহলে আমরা তাঁর প্রতিরোধ করতে পারব না। এরপর হুনাতা তাকে বলে, তুমি আমার সঙ্গে ছল, কারণ আবরাহা তোমাকে তাঁর কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাকে আদেশ করেছেন।</p>
<p>আব্দুল মুত্তালিব সুন্দর সুঠাম এবং লম্বা মানুষ ছিলেন। আবরাহা তাঁর এই সুন্দর চেহারা দেখে তাকে নিচে বসানো অনুচিত মনে করেন। অন্য দিকে হাবশীরা তাদের বাদশাহের গদিতে তাকে বসতে দেখুক এটিও তিনি ভাল মনে করলেন না। সেই জন্য আবরাহা নিজ আসন থেকে নেমে এসে চটের উপর বসেন ও আব্দুল মুত্তালিবকে তাঁর পাশে বসান। অতঃপর অনুবাদককে বললেন, আব্দুল মুত্তালিবকে জিজ্ঞাসা কর এখন তুমি কি চাও? অনুবাদক তাঁকে তার কথা অনুবাদ করে শোনায়। প্রত্যুত্তরে তিনি বলেন, বাদশাহ যেন আমার দু’শ উট ফেরত দিয়ে দেন। একথা যখন আবরাহাকে অনুবাদ করে শুনান হয় তখন তিনি অনুবাদককে বলেনঃ তুমি তাঁকে বল, আমি যখন তোমাকে দেখি তখন খুব বিচক্ষন ও জ্ঞানী ভাবি; কিন্তু তুমি আমাকে অতি তুচ্ছ কথা শুনালে। তুমি কেবল তোমার দু’শ উটের কথা ভাবছ? আমি ঐ ঘর ধ্বংস করতে এসেছি যা তোমার ও তোমার বাপ-দাদাদের দ্বীনের ভিত্তি। এ সম্পর্কে আমাকে কোন কথা বলছ না? আব্দুল মুত্তালিব প্রত্যুত্তরে বললেন, আমি উটের মালিক, কা’বার যিনি মালিক তিনি তার প্রতিরক্ষা করবেন। আবরাহা বললেন, তিনি কা’বাকে আমার আক্রমন থেকে রক্ষা করতে পারবে না।  আব্দুল মুত্তালিব বলেনঃ (পারবেন কি পারবেন না) আপনি এবং তিনি জানেন। এরপর আবরাহা তাঁর (আব্দুল মুত্তালিবের) উট ফেরত দেন। আব্দুল মুত্তালিব কুরাইশদের নিকট ফিরে আসেন ও তাদেরকে মক্কা ত্যাগ করতে আদেশ দেন, যাতে তারা পাহাড়ের চূড়ায় আশ্রয় নেয় ও সেনাদের আক্রমন হতে পরিত্রান পেতে পারে। এই বলে সরদার আব্দুল  মুত্তালিব উঠে গিয়ে কা’বার দরজা ধরেন ও তাঁর সঙ্গে কিছু সংখ্যক কুরাইশ বংশের লোক আবরাহা ও তার সেনার বিরুদ্ধে আল্লাহ সমীপে দোয়া করেন ও সাহায্য চান। বিশেষ করে আব্দুল মুত্তালিব কা’বার দরজা ধরে এই দোয়া করেনঃ “হে আল্লাহ! সকল মানুষ নিজ নিজ ঘরের হেফাজত করে। তুমি তোমার ঘরের হেফাজত কর। আগামীকাল যেন তার সালীব (খৃষ্টান প্রতীক) ও চক্রান্ত তোমার শক্তির উপর জয়ী না হয়।”</p>
<p>যখন সকাল হয় তখন আবরাহা মক্কায় প্রবেশ করার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত হন। নিজ হাতি সেনাদলকে সাজান। তার হাতির নাম ছিল ‘মাহমুদ’। সেনারা যখন হাতিকে মক্কার দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তখন সে বসে যায়। এমনকি তারা যখন হাতিকে উঠানোর জন্য মারপিট করে, তখন তা উঠতে অস্বীকার করে। যখন তারা একে ইয়েমেনের দিকে ফিরায় তখন তা ছুটতে আরম্ভ করে। অনুরূপ যখন শাম ও পূর্ব দিকে রওয়ানা করা হয় তখন সে ছুটতে আরম্ভ করে এবং যখনই মক্কার দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালানো হয় তখনই সে বসে যায়। অতঃপর আল্লাহ তা’য়ালা সমুদ্রের দিক থেকে পাখি প্রেরণ করেন। প্রতিটি পাখি তিনটি করে পাথর বহন করছিল, একটি ঠোঁটে আর দুটি দু’পায়ে। পাথরের আকার ছিল মসুরি ডাল অথবা চলার দানার মতো। ঐ পাথর যার শরীরে লাগছিল সেই ধ্বংস হচ্ছিল। বাকীরা কেউ রাস্তায়, কেউ পানির ঘাটে পড়ে মারা যায়। আবরাহার গায়েও পাথর লাগে। তার লোকেরা তাকে ‘সান’আয়’ (ইয়েমেনের রাজধানী) তে নিয়ে যায়। রাস্তায় তার আঙ্গুলের গিঁট এক এক করে খসে পরে। যখন সে সান’আয় পৌঁছে, তখন সে পাখির ছানার মতো (দুর্বল) হয়ে যায় ও সেখানে মারা যায়।</p>
<p>এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কুরাইশদের সম্মান বৃদ্ধি পায় ও অন্যান্য গোত্রের মধ্যে ছরম প্রভাব ফেলে। হাবশীরা যখন আযাবে পতিত হয় ও ধ্বংস হয় এবং আল্লাহ মক্কাকে তাদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করেন তখন আরবরা কুরাইশদের সম্মান করে ও বলে, আল্লাহ তাদের হয়ে যুদ্ধ করেছেন এবং শত্রুকে ধ্বংস করেছেন। অনুরুপভাবে এই ঘটনায় আরবদের মাঝে আব্দুল মুত্তালিবের নাম, সম্মান ছড়িয়ে পরে। কারণ তিনি বুদ্ধিমত্তার সাথে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং নিজ কাওমকে বড় বিপদ ও ধ্বংসের মুখ থেকে বাঁচিয়েছিলেন।</p>
<p><span style="color: #000080;"><em>উৎসঃ বই- পবিত্র মক্কার ইতিহাস, দারুসসালাম পাবলিকেশন্স</em></span></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.quraneralo.com/story-from-surah-feel/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>1</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>কা’বার গেলাফ ও তার ইতিহাস</title>
		<link>http://www.quraneralo.com/ghilaf-of-kaaba-and-its-history/</link>
		<comments>http://www.quraneralo.com/ghilaf-of-kaaba-and-its-history/#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 05 Sep 2012 05:15:07 +0000</pubDate>
		<dc:creator>QuranerAlo Editor</dc:creator>
				<category><![CDATA[ইতিহাস]]></category>
		<category><![CDATA[গিলাফ]]></category>
		<category><![CDATA[গেলাফ]]></category>
		<category><![CDATA[কা'বা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.quraneralo.com/?p=3602</guid>
		<description><![CDATA[কা’বার গেলাফের ইতিহাস স্বয়ং কা’বার ইতিহাস থেকে আলাদা নয়। কা’বার গিলাফের গুরুত্ব, মুসলিমদের নিকট তার পবিত্রতা ও উচ্চ মর্যাদা প্রকাশিত।  রাসুল (সাঃ) এর পূর্বে কা’বার গেলাফঃ ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বলেন, ‘একাধিক আলেমের কথা থেকে জানতে পারি যে সর্বপ্রথম “তুব্বা” আসাদ আল-হেমইয়ারী কা’বার গেলাফ লাগান। তিনি স্বপ্নে দেখেন যে তিনি কা’বা ঘরের গেলাফ লাগাচ্ছেন। সেই [...]]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/09/016.jpg"><img class="aligncenter size-medium wp-image-3603" title="016" src="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/09/016-442x297.jpg" alt="" width="442" height="297" /></a>কা’বার গেলাফের ইতিহাস স্বয়ং কা’বার ইতিহাস থেকে আলাদা নয়। কা’বার গিলাফের গুরুত্ব, মুসলিমদের নিকট তার পবিত্রতা ও উচ্চ মর্যাদা প্রকাশিত।</p>
<h3><span style="color: #800000;"> <strong>রাসুল (সাঃ) এর পূর্বে কা</strong><strong>’</strong><strong>বার গেলাফঃ</strong><strong></strong></span></h3>
<p>ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বলেন, ‘একাধিক আলেমের কথা থেকে জানতে পারি যে সর্বপ্রথম “তুব্বা” আসাদ আল-হেমইয়ারী কা’বার গেলাফ লাগান। তিনি স্বপ্নে দেখেন যে তিনি কা’বা ঘরের গেলাফ লাগাচ্ছেন। সেই জন্য তিনি চামড়ার গেলাফ চড়ান। এর পরও তাকে স্বপ্নে আরও গেলাফ লাগানোর কথা বলা হচ্ছে। তাই তিনি ইয়েমেনের তৈরি লাল কাপড়ের গেলাফ লাগান’[আখবারে মক্কা-আযরুকী]। এরপর জাহেলী যুগে অনেকে নিজ নিজ যুগে গেলাফ লাগিয়েছেন। কারণ এটিকে তারা দ্বীনের অপরিহার্য কর্ম মনে করত; যে যখন ইচ্ছা করত তখন যে কোন প্রকারের গেলাফ লাগাতে পারত। (তৎকালীন সমহ ও প্রকারের কোন শর্ত ছিল না)। কা’বায় হরেক রকম গেলাফ লাগান হত। যেমনঃ চামড়ার, মাআফির (ইয়েমেনের হামদান গ্রামের তৈরি কৃত কাপড়ের গেলাফ), ইয়েমেনের তৈরি লাল পাড়ের গেলাফ, পাতলা ও হালকা কাপড়ের গেলাফ এবং ইয়েমেনের কারুকাজ করা কাপড়ের গেলাফ।</p>
<p>তখন কা’বায় গেলাফের উপর গেলাফ লাগান হত। যখন বেশী ভারী হয়ে যেত অথবা কোন গেলাফ পুরাতন হয়ে যেত তখন সেটিকে তুলে নিয়ে বরকত হাসিলের জন্য বণ্টন করা হত অথবা মাটিতে দাফন করা হত।</p>
<p>জাহেলী যুগে কুরাইশরা আপোষে সহযোগিতার মাধ্যমে গেলাফ তৈরি করত। আর্থিক অবস্থার প্রেক্ষিতে প্রতি গোত্রের টাকার পরিমান নির্ধারণ করা হত। ‘কুসসীর’ যুগেও এই পদ্ধতি চালু ছিল। তবে যখন রাবীআ ‘মুগীরা বিন মাখযুমীর যুগ আসে তখন তিনি ব্যবসার উদ্দেশ্যে ইয়েমেন যাওয়া আসা করতেন। তিনি অতি ধনী ছিলেন। তিনি ঘোষণা করেন আমি এক বছর একাই গেলাফ দিব। আর এক বছর কুরাইশরা সকলে মিলে দিবে। তার মৃত্যুকাল পর্যন্ত একাই এই কাজ করতে থাকেন। তিনি ইয়েমেনের জানাদ শহর থেকে সুন্দর সুন্দর কাপড় আনতেন এবং গেলাফ তৈরি করে লাগাতেন। কুরাইশরা তার উপাধি দেয় ‘আদল’ কারণ তিনি একাই সমস্ত কুরাইশদের সমান কাজ করেছেন। তার সন্তানদের উপাধি দেয় ‘বানু আদল’। আরবী ভাষায় ‘আদল’ এর অরথ সমতুল্য। কা’বায় সর্বপ্রথম রেশমের গেলাফ লাগান একজন আরব মহিলা, যিনি ছিলেন আব্বাস (রাঃ) এর মা ‘নুতাইলা বিনতে জানাব’।</p>
<h3><span style="color: #800000;"> <strong>ইসলামী যুগে কা</strong><strong>’</strong><strong>বার গেলাফঃ<a href="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/09/7430846996_bf7fe784c5.jpg"><img class="alignright size-full wp-image-3604" title="7430846996_bf7fe784c5" src="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/09/7430846996_bf7fe784c5.jpg" alt="" width="431" height="500" /></a></strong></span><strong></strong></h3>
<p>রাসুল (সাঃ) ও তাঁর সাহাবাগন মক্কা বিজয়ের পূর্বে কা’বায় গেলাফ চড়াননি। কেননা কুফফাররা এ কাজে অনুমতি দিত না। মক্কা বিজয়ের পরও রাসুল (সাঃ) কা’বার গেলাফ পরিবর্তন করেননি। তবে জনৈক মহিলা কা’বায় ধুপ দিতে গেলে তাতে (গেলাফে) আগুন লেগে যায় এবং পুড়ে যায়। তারপর রাসুল (সাঃ) ইয়েমেনী কাপড়ের গেলাফ চড়ান। এরপর আবু বকর (রাঃ), উমর (রাঃ), এবং উসমান (রাঃ) “কিবাতী” কাপড়ের গেলাফ চড়ান।</p>
<p>একথা প্রমানিত আছে যে, মুআবিয়া বিন আবী সুফিয়ান বছরে দু’বার কা’বায় গেলাফ চড়াতেন। আশুরার দিনে রেশমের এবং রমজানের শেষে কিবতী কাপড়ের গেলাফ লাগাতেন। এরপর ইয়াযীদ বিন মু’আবিয়া, ইবনে যুবায়ের আব্দুল্ল মালেক বিন মারওয়ান রেশমের গেলাফ চড়িয়েছেন।</p>
<p>কা’বায় প্রতি বছর দুটি গেলাফ চড়ানো হতঃ একটি রেশমের অপরতি কিবাতী কাপড়ের। রেশমি গেলাফের উপরের অংশ (যাকে কাসীস বলা হয়)জুলহিজ্জা মাসের ৮ তারিখে চড়ানো হত হাজীদের ফিরে যাওয়ার পর। যাতে তাদের হাত লেগে তা নষ্ট না হয়। রেশমের গেলাফ রামাদানের ২৭ তারিখ পর্যন্ত থাকতো এবং ঈদুল ফিতরের জন্য কিবাতী কাপড়ের গেলাফ চড়ানো হত।</p>
<p>বাদশাহ মামুনের যুগে কা’বাকে তিনটি গেলাফ পড়ানো হত। জুলহিজ্জার ৮ তারিখে লাল রেশমি গেলাফ, রজবের প্রথম তারিখে কিবাতী এবং রামাদানের ২৭ তারিখে শ্বেত রেশমি গেলাফ। বাদশাহ মামুন যখন জানতে পারেন যে, সাদা রেশমি গেলাম হজ্জ্বের মৌসুমে নষ্ট হয়ে যাবে তখন আরও একটি সাদা গেলাফের ব্যবস্থা করেন। এরপর নাসের আব্বাসী সবুজ রঙের গেলাফ তারপর কালো রঙের গেলাফ চড়ান। সেই সময় থেকে আজও কালো গেলাফ চড়ানো হচ্ছে।</p>
<p>আব্বাসী খেলাফত পতনের পর ৬৫৯ হিজরিতে সর্বপ্রথম ইয়েমেনী বাদশাহ ‘মুজাফফর’ কা’বা ঘরের গেলাফ লাগান। তিনি বেশ কয়েক বছর মিশরী বাদশাহর সঙ্গে পালাক্রমে গেলাফ চড়ানোর কাজ চালু রাখেন। ৬৬১ হিজরিতে আব্বাসীদের পর যে মিশরী শাসক সর্বপ্রথম গেলাফ চড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি হচ্ছেন বাদশাহ যাহের বাইবেরাস বন্দুকধারী। ৭৫১ হিজরিতে মিশরের বাদশাহ ইসমাইল বিন নাসের বিন মুহাম্মাদ বিন কালাউন কা’বার গেলাফের জন্য বিশেষ ওয়াকফের ব্যবস্থা করেন। তিনি কা’বার জন্য প্রতি বছর কালো গেলাফ ও প্রতি পাঁচ বছর পর মদীনায় রাসুল (সাঃ) এর রওজার জন্য সবুজ রঙের গেলাফ পাঠাতেন। কিন্তু ‘আল-খাদীউবী মুহাম্মাদ আলী’ হিজরির ১৩ শতাব্দীতে ওয়াকফ বন্ধ করেন এব্বং সরকারী খরচে গেলাফ তৈরি হতে আরম্ভ করে। তুর্কির উসমানী খলীফাগণ কা’বার ভিতরের গিলাফ নিজেদের জন্য খাস করে নেন। ৮১০ হিজরিতে কা’বার দরজার জন্য নকশাদার চাদর তৈরি করা হয়; যাকে ‘বুরকা’ বলা হয়। অতঃপর ৮১৬ – ৮১৮ হিজরি পর্যন্ত স্থগিত হয়ে যায় এবং পুনরায় ৮১৯ হিজরিতে আরম্ভ হয় যা আজও গেলাফের সাথে তৈরি করা হচ্ছে।</p>
<h3><span style="color: #800000;"> সৌদি যুগের গেলাফঃ<a href="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/09/6323292392_44dce1ef6f.jpg"><img class="alignright size-medium wp-image-3605" title="6323292392_44dce1ef6f" src="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/09/6323292392_44dce1ef6f-442x295.jpg" alt="" width="442" height="295" /></a></span></h3>
<p>বাদশাহ আব্দুল আযীয বিন আব্দুর রহমান আলে সউদ মক্কা মদীনায় অবস্থিত দু’হারামের খেদমতের খুব গুরুত্ব দেন। এই গুরুত্বের ভিত্তিতে বাদশাহ সউদ বিন আব্দুল আযীয পবিত্র মক্কায় কা’বার গেলাফ তৈরি করার জন্য বিশেষ এক কারখানা তৈরি করার আদেশ দেন এবং তাতে গেলাফ তৈরির যাবতীয় সরঞ্জাম মওজুদ করা হয়। ১৩৮২ হিজরিতে বাদশাহ ফয়সাল নতুন করে কারখানা তৈরি করার আদেশ দেন, যাতে উত্তম ও মজবুত গেলাফ প্রস্তুত করা সম্ভব হয় এবং কা’বা যেমন শানদার ঘর, তাঁর শানের উপযোগী  হয়। ১৩৯৭ হিজরিতে মক্কায় ‘উম্মুল জুদ’ নামক স্থানে নতুন বিল্ডিং এর উদ্ভোধন করা হয়। তাতে গেলাফ তৈরির জন্য আধুনিক সরঞ্জাম সংযোজিত হয়। সেখানে মেশিনের সাহায্যে গেলাফ তৈরির ব্যবস্থার সাথে সাথে হাতের কাজের যে কারুকার্য তা বজায় রাখা হয়েছে। কারণ শিল্প জগতে তার উচ্চ মূল্য রয়েছে। এই কারখানা ধারাবাহিক ভাবে উন্নতি শাধনের পথে রয়েছে এবিং হাতের কারুকার্য বহাল রেখেছে, যাতে কা’বাকে অতি আকর্ষণীও গেলাফ উপহার দেওয়া সম্ভব হয়।</p>
<p><span style="color: #000080;"><em>উৎসঃ বই- পবিত্র মক্কার ইতিহাস, দারুসসালাম পাবলিকেশন্স   </em></span></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.quraneralo.com/ghilaf-of-kaaba-and-its-history/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>জুম’আর হুকুম ও ইতিকথা</title>
		<link>http://www.quraneralo.com/obligations-of-jumma/</link>
		<comments>http://www.quraneralo.com/obligations-of-jumma/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 08 Dec 2011 16:07:35 +0000</pubDate>
		<dc:creator>QuranerAlo.com Editor</dc:creator>
				<category><![CDATA[সালাত / নামায শিক্ষা]]></category>
		<category><![CDATA[জুম'আ]]></category>
		<category><![CDATA[ইতিহাস]]></category>
		<category><![CDATA[ইবাদত]]></category>
		<category><![CDATA[নামায]]></category>
		<category><![CDATA[নামাজ]]></category>
		<category><![CDATA[শুক্রবার]]></category>
		<category><![CDATA[সালাত]]></category>
		<category><![CDATA[জুমু'আ]]></category>
		<category><![CDATA[জুম্মা]]></category>
		<category><![CDATA[friday]]></category>
		<category><![CDATA[jumma]]></category>
		<category><![CDATA[jumua]]></category>
		<category><![CDATA[salat]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.quraneralo.com/?p=2450</guid>
		<description><![CDATA[জুম’আর সালাত ফরজ; তবে ঐ সব পুরুষদের জন্য, যাদের উপর জামা’আতে সালাত আদায় করা ওয়াজিব। আল্লাহ তায়ালা বলেন, يٰأَيُّهَا الَّذينَ ءامَنوا إِذا نودِىَ لِلصَّلوٰةِ مِن يَومِ الجُمُعَةِ فَاسعَوا إِلىٰ ذِكرِ اللَّهِ وَذَرُوا البَيعَ ۚ ذٰلِكُم خَيرٌ لَكُم إِن كُنتُم تَعلَمونَ  “হে মু’মিনগণ! জুম’আর দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হবে তখন তোমরা আল্লাহর স্মরনে ধাবিত [...]]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p>জুম’আর সালাত ফরজ; তবে ঐ সব পুরুষদের জন্য, যাদের উপর জামা’আতে সালাত আদায় করা ওয়াজিব।</p>
<p>আল্লাহ তায়ালা বলেন,<a href="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2011/12/68046585_b9df59c8062.jpg"><img class="alignright" title="68046585_b9df59c806" src="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2011/12/68046585_b9df59c8062.jpg" alt="" width="332" height="500" /></a></p>
<blockquote>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #008000;"><strong>يٰأَيُّهَا الَّذينَ ءامَنوا إِذا نودِىَ لِلصَّلوٰةِ مِن يَومِ الجُمُعَةِ فَاسعَوا إِلىٰ ذِكرِ اللَّهِ وَذَرُوا البَيعَ ۚ ذٰلِكُم خَيرٌ لَكُم إِن كُنتُم تَعلَمونَ</strong></span></p>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #008000;"><strong> “হে মু’মিনগণ! জুম’আর দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হবে তখন তোমরা আল্লাহর স্মরনে ধাবিত হও এবং ক্রয় বিক্রয় ত্যাগ কর, এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয় যদি তোমরা উপলব্ধি কর।”</strong> (সূরা জুম’আঃ৯)</span></p>
</blockquote>
<p>উল্লেখ্য যে, فَاسعَوا  ‘ফাস’আউ’ শব্দের অর্থ এখানে দৌড়ানো উদ্দেশ্য নয়। অর্থাৎ আযান হওয়া মাত্র সকল কাজ বাদ দিয়ে সালাত আদায়কে সবকিছুর উপর গুরুত্ব ও প্রাধান্য দিতে হবে। এখানে এই অর্থই বোঝানো হয়েছে। সালাতে দৌড়ে আসতে হবে- এটা বুঝান হয়নি। কারণ দৌড়ে এসে সালাতে শরীক হওয়ার ব্যপারে হাদীসে নিষেধাজ্ঞা আছে। সালাতে আসতে হয় খুশু-খুযু, ভয়-ভীতি ও বিনয়ের সঙ্গে।</p>
<h3><span style="color: #800000;"> <strong>জুম</strong><strong>’</strong><strong>আর নামকরণ</strong></span><strong></strong></h3>
<p>মুসুল্লীদের জমায়েত হওয়ার কারণে এ দিনের নাম জুম’আর দিন অর্থাৎ জমা হওয়ার দিন। ‘জুম’আ’ অর্থ সমাবেশ বা সম্মেলন।</p>
<h3> <span style="color: #800000;"><strong>সর্বপ্রথম জুম</strong><strong>’</strong><strong>আ </strong></span><strong></strong></h3>
<p>প্রথম হিজরীতে হিজরতের পরপর নবী করিম (সাঃ)এর মদীনা আগমনের সাথে সাথে জুম’আ ফরয হয়। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) সর্বপ্রথম জুম’আ পড়েছিলেন মদীনার কুবা মসজিদে ও মসজিদে নববীর মধ্যবর্তী ‘বনু সালেম ইবনে আউস’ গোত্রে (ইবনু শাইবা, তারীখুল মদীনাঃ ১/৬৮)। বর্তমানে এ জায়গায় নির্মিত মসজিদটির নাম ‘মসজিদে জুম’আ’। এরপর তিনি (সাঃ) মসজিদে নববীতে জুম’আ আদায় শুরু করেন। বর্তমান  সৌদি আরবের পূর্ব এলাকা বাহরাইনের একটি গ্রামের নাম ‘জুওয়াসা’ (বুখারীঃ ৮৯২, ইফা ৮৪৮, আধুনিক ৮৪১)। এ এলাকায় আবদে কাইস গোত্রের বসতি ছিল। অতঃপর এখানে জুম’আ পড়া শুরু হয়েছিল। উল্লেখ্য যে, এই বাহরাইন বর্তমান রাষ্ট্র বাহরাইন নয়।</p>
<h3> <span style="color: #800000;"><strong>জুম</strong><strong>’</strong><strong>আ ও যোহরের মধ্যে পার্থক্য</strong></span><strong></strong></h3>
<p>জুম’আ ও যোহরের মধ্যে পাঁচটি পার্থক্য আছে-</p>
<p>(১) যোহর সকল বিবেক সম্পন্ন মুমিন নর-নারীর উপর ফরজ, আর জুম’আ সকলের উপর ফরজ নয়;</p>
<p>(২) যোহর হল মূল সালাত, আর জুম’আ হল যোহরের পরিবর্তে;</p>
<p>(৩) জুম’আর কিরা’আত প্রকাশ্যে আর যোহরের কিরা’আত চুপে চুপে;</p>
<p>(৪) জুম’আর ফরজ দুই রাকা’আত, আর যোহরের ফরজ চার রাকা’আত;</p>
<p>(৫) জুম’আয় খুৎবা আছে কিন্তু যোহরে কোন খুৎবা নেই।</p>
<h3> <span style="color: #800000;"><strong>জুম</strong><strong>’</strong><strong>আর সালাতের ওয়াক্ত</strong></span><strong></strong></h3>
<p>অধিকাংশ আলেমের মতে, জুম’আ ও যোহরের সময় একই। যখন যোহরের শুরু হয় জুম’আও তখনই শুরু হয়। অর্থাৎ ঠিক দুপুরে সূর্য মাথার উপর থেকে পশ্চিমে কিছুটা ঢলে পড়লে জুম’আর সময় শুরু হয় (বুখারীঃ ৪১৬৮)।</p>
<h3> <span style="color: #800000;"><strong>জুম</strong><strong>’</strong><strong>আর সালাতে মুসুল্লীর সংখ্যা</strong></span><strong></strong></h3>
<p>কমপক্ষে কতজন মুসুল্লী হলে জুম’আর সালাত আদায় করা যায় এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখপূর্বক কোন হাদীস পাওয়া যায় না। তবে বিজ্ঞ আলেমদের মতে, ইমাম ব্যতীত কমপক্ষে ৩ জন হলেই যথেষ্ট। একজন খুৎবা দেবে, বাকী তিনজন শুনবে। ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা (রাঃ) এ অভিমতটি গ্রহন করেছেন। আর এটাই সর্বাধিক গ্রহনযোগ্য মত।</p>
<h3><span style="color: #800000;"><strong>জুম</strong><strong>’</strong><strong>আ আদায়ের নুন্যতম এলাকা</strong></span><strong></strong></h3>
<p>যত ছোট গ্রামই হোক সেখানে জুম’আ পড়া জায়েয আছে। খলীফা উমর (রাঃ) বাহরাইনের অধিবাসীদের লিখেছেন, তোমরা যেখানেই থাক জুম’আ পড় (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা; বুখারী ৮৯৩, ইঃফাঃ ৮৯৩, আধুনিক ৮৪২)।</p>
<p>ইবনে উমর (রাঃ) মক্কা মুকাররামা ও মদীনা মুনাওারার মধ্যবর্তী পথে ছোট ছোট জনপদগুলোতে মানুষকে জুম’আ পড়তে দেখেছেন। তিনি তাতে কোন আপত্তি করতেন না (মুসান্নাফে আঃ রাজ্জাক)।</p>
<p>অপরদিকে পাড়াগ্রামে জুম’আ হবে না মর্মে খলীফা আলী (রাঃ) এর উদ্ধৃতি দিয়ে একটি হাদিস বর্ণনার প্রচলন এ দেশে আছে। আসলে এটি সহীহ হাদীস নয় (মাজাল্লাতুল বুহসিল ইসলামিয়া ১৬/৩৫২-৩৫৪, ২২/৭৫)।</p>
<p>উল্লেখ্য যে, কোন অমুসলিম দেশে পড়াশোনা বা চাকরীরত অবস্থায় সেখানে মসজিদ না থাকলে কোন একটি রুমে ৩ জন মিলে জুম’আ পড়লেও তা আদায় হয়ে যাবে (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিকঃ ১৫/৮৫)।</p>
<h3><span style="color: #800000;"><strong>জুম</strong><strong>’</strong><strong>আ যার উপর ফরজ</strong></span><strong></strong></h3>
<p>হুঁশ-জ্ঞান সম্পন্ন ও স্বাধীন প্রত্যেক বালেগ মুসলমান পুরুষদের উপর জুম’আ ফরজ। এ বিষয়ে সারকথা হচ্ছে, যার মধ্যে নিম্নে বর্ণিত শর্তগুলো একযোগে পাওয়া যায় তার উপর জুম’আ ফরজ।</p>
<p>১. মুসলমান হওয়া (কারণ ইসলাম গ্রহন ছাড়া কোন ইবাদতই কবুল হয় না)।</p>
<p>২. বালেগ হওয়া (তবে নাবালেগ শিশু জুম’আ পড়লে সওয়াব পাবে)।</p>
<p>৩. হুঁশ জ্ঞান থাকা (কারণ বেহুঁশ বা পাগলের কোন ইবাদত নেই)।</p>
<p>৪. পুরুষ হওয়া (মেয়েদের উপর জুম’আ ফরজ নয়, তবে পড়লে আদায় হবে)।</p>
<p>৫. স্বাধীন হওয়া (গোলাম বা ক্রীতদাস হলে জুম’আ ফরয হয় না)।</p>
<p>৬. মুকীম হওয়া (মুসাফির অবস্থায় জুম’আ ফরজ হয় না)।</p>
<p>৭. শরয়ী উযর না থাকা (অসুস্থ, ভয়ভীতি বা নিরাপত্তাহীনতায় না থাকা)।</p>
<p>● যাদের উপর জুম’আ ফরয নয় তারা যদি জুম’আ পড়ে তবে তা আদায় হয়ে যাবে। যেমন শিশু, মহিলা, রোগী বা উযর আছে এমন যে কেউ জুম’আ পড়লে তা আদায় হয়ে যাবে এবং এর সওয়াব ও পাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে তাদের আর যোহর পড়তে হবে না। তবে মেয়েরা ইমাম হতে পারবে না, খুৎবা দিতে পারবে না।</p>
<p>● রাস্তায় কাদা থাকা, পথ পিচ্ছিল হওয়া ইত্যাদি কারণে কেউ জুম’আয় যেতে না পারলে এমতবস্থায় তার গুনাহ হবে না। তবে বাসায় যোহর পড়ে নেবে। (বুখারীঃ৯০১, ইঃফাঃ৮৫৫, আধুনিকঃ৮৪৮; মুসলিমঃ৬৯৯)</p>
<p>● যারা লোকালয়ের বাইরে বা সমুদ্রে এতটুকু দূরে কাজ করে যে, সেখান থেকে আযান শুনতে পায় না, তাদের উপর জুম’আ ফরজ নয়, তবে এসে জুম’আয় শরীক হতে পারলে সওয়াব পাবে। (ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীনঃ১/৩৯৯)</p>
<p>● মুসাফির ব্যক্তি জুম’আর খুৎবা দিতে ও ইমামতি করতে পারবে। (ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীনঃ৫/২৩)</p>
<p>● জুম’আ ফরজ ‘এমন’ ব্যক্তির জুম’আর দিনে সফরে বের হলে, পথিমধ্যে কোথাও জুম’আ পড়তে পারে- এমন নিশ্চয়তা থাকলে একদল আলেমের মতে, এ দিন সফর করা জায়েয আছে। আর যদি কোথাও জুম’আ না পাওয়ার আশঙ্কা থাকে তবে এ দিন সফর করা উচিত নয়। তবে জুম’আর সালাত শেষ হওয়ার পর সফর করতে কোন নিষেধ নেই।</p>
<p>সূত্রঃ বই-<em>প্রশ্নোত্তরে জুমু</em><em>’</em><em>আ ও খুৎবা (লেখকঃ অধ্যাপক মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম; পরিমার্জনেঃ ডঃ মোহাম্মদ মনজুরে ইলাহী, ডঃ আবু বকর মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদার, ডঃ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।)</em></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.quraneralo.com/obligations-of-jumma/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>9</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>হজকর্ম সমূহের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস</title>
		<link>http://www.quraneralo.com/history-of-hajj/</link>
		<comments>http://www.quraneralo.com/history-of-hajj/#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 17 Oct 2011 23:52:40 +0000</pubDate>
		<dc:creator>QuranerAlo.com Editor</dc:creator>
				<category><![CDATA[হজ্জ ও উমরাহ]]></category>
		<category><![CDATA[ইতিহাস]]></category>
		<category><![CDATA[হজ]]></category>
		<category><![CDATA[হজ্জ]]></category>
		<category><![CDATA[উমরা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.quraneralo.com/?p=2315</guid>
		<description><![CDATA[লেখকঃ মুহাম্মাদ শামসুল হক সিদ্দীক তাওয়াফ পবিত্র কুরআনে এসেছে : ...এবং আমি ইব্রাহীম ও ইসমাইলের নিকট অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে,  তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী ও ইতিকাফকারীদের এবং রুকু ও সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রেখ।(সুরা বাকারাঃ১২৫)  এ আয়াত থেকে বুঝা যায় তাওয়াফ কাবা নির্মাণের পর থেকেই শুরু হয়েছে। রামল রামল শুরু হয় সপ্তম হিজরীতে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ষষ্ঠ ‘হিজরীতে [...]]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p><img class="aligncenter size-full wp-image-4298" alt="SONY DSC" src="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2011/10/164.jpg" width="500" height="378" /></p>
<p><strong>লেখকঃ মুহাম্মাদ শামসুল হক সিদ্দীক</strong></p>
<h2><span style="color: #993300;"><strong>তাওয়াফ</strong></span></h2>
<p>পবিত্র কুরআনে এসেছে :</p>
<p style="text-align: justify;"><strong><span style="color: #008000;">...এবং আমি ইব্রাহীম ও ইসমাইলের নিকট অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে,  তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী ও ইতিকাফকারীদের এবং রুকু ও সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রেখ।(সুরা বাকারাঃ১২৫)</span></strong></p>
<p> এ আয়াত থেকে বুঝা যায় তাওয়াফ কাবা নির্মাণের পর থেকেই শুরু হয়েছে।</p>
<h2><span style="color: #993300;"><strong>রামল</strong></span></h2>
<p>রামল শুরু হয় সপ্তম হিজরীতে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ষষ্ঠ ‘হিজরীতে হুদায়বিয়া থেকে ফিরে যান উমরা আদায় না করেই। হুদায়বিয়ার চুক্তি অনুযায়ী পরবর্তী বছর তিনি ফিরে আসেন উমরা পালনের উদ্দেশ্যে। সময়টি ছিল যিলকদ মাস। সাহাবাদের কেউ কেউ জ্বরাক্রান্ত হয়েছিলেন এ বছর। তাই মক্কার মুশরিকরা মুসলমানদেরকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে পরস্পরে বলাবলি করতে লাগল, ‘এমন এক সম্প্রদায় তোমাদের কাছে আসছে ইয়াছরিবের (মদিনার) জ্বর যাদেরকে দুর্বল করে দিয়েছে’।  শুনে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সাহাবাদেরকে (রাঃ) রামল অর্থাৎ আমাদের যুগের সামরিক বাহিনীর কায়দায় ছোট ছোট কদমে গা হেলিয়ে বুক টান করে দৌড়াতে বললেন। উদ্দেশ্য, মুমিন কখনো দুর্বল হয় না এ কথা মুশরিকদেরকে বুঝিয়ে দেয়া (সহীহ মুসলিমঃ ৪/২৯২৪ ইঃফাঃ)। একই উদ্দেশ্যে রামলের সাথে সাথে ইযতিবা অর্থাৎ চাদর ডান বগলের নীচে রেখে ডান কাঁধ উন্মুক্ত রাখারও নির্দেশ করলেন তিনি। সেই থেকে রমল ও ইযতিবার বিধান চালু হয়েছে।</p>
<h2><span style="color: #993300;"><strong>যমযমের পানি ও সাফা মারওয়ার সাঈ</strong></span><strong></strong></h2>
<p><strong> </strong>ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর এক বর্ণনায় এসেছে, ‘ইব্রাহীম (আঃ) হাজেরা ও তাঁর দুগ্ধপায়ী সন্তান ইসমাইলকে নিয়ে এলেন ও বায়তুল্লাহর কাছে যমযমের উপর একটি গাছের কাছে রেখে দিলেন। মক্কায় সে সময় মানুষ বলতে অন্য কেউ ছিল না। পানিরও কোনো ব্যবস্থা ছিল না তখন সেখানে। এক পাত্রে খেজুর ও অন্যটিতে পানি রেখে ফিরে যাওয়ার জন্য রওয়ানা হলেন ইব্রাহীম (আঃ)। ইসমাইল (আঃ) এর মা তার পিছু নিলেন। বললেন, এই জনমানবশূন্য তৃণ-লতা-হীন ভূমিতে আমাদেরকে ছেড়ে আপনি কোথায় যাচ্ছেন? তিনি একাধিকবার ইব্রাহীম (আঃ) কে কথাটা বললেন। ইব্রাহীম তার দিকে না তাকিয়েই সামনের দিকে এগিয়ে চললেন। অতঃপর তিনি বললেন, ‘আল্লাহ কি আপনাকে নির্দেশ করেছেন? হাঁ, ইব্রাহীম (আঃ) উত্তর করলেন। তাহলে আল্লাহ আমাদেরকে ধ্বংস করবেন না। হাজি ফিরে এলেন। ইব্রাহীম এগিয়ে চললেন। তিনি যখন দু’পাহাড়ের মধ্য খানে সরু পথে প্রবেশ করলেন, যেখানে কেউ তাঁকে দেখছে না, তিনি বায়তুল্লাহর পানে মুখ করে দাঁড়ালেন! হাত উঠিয়ে এই বলে দোয়া করলেন,-</p>
<p style="text-align: center;"><strong><span style="color: #008000;">  <strong>‘</strong><strong>হে আল্লাহ! আমি আমার বংশধরকে শস্যবিহীন এক উপত্যকায় বসবাস করতে রেখে দিলাম</strong><strong>, </strong><strong>তোমার পবিত্র ঘরের সন্নিকটে। হে আল্লাহ যাতে তারা সালাত কায়েম করে। অতঃপর মানুষের হৃদয় তাদের প্রতি আকৃষ্ট করে দাও</strong><strong>, </strong><strong>এবং তাদের রিজিক দাও ফলের</strong><strong>, </strong><strong>যাতে তারা শুকরিয়া আদায় করতে পারে।</strong><strong>’(</strong><strong>সুরা ইব্রাহীমঃ৩৭)  </strong></span><strong></strong> </strong></p>
<p> ইসমাইল (আঃ) এর মা তাকে দুধ পান করাতে থাকলেন। নিজে ওই পানি থেকে পান করে গেলেন। পাত্রের পানি শেষ হয়ে গেলে তিনি পিপাসার্ত হলেন। পিপাসা পেল সন্তানকেও। সন্তানকে তিনি তেষ্টায় কাতরাতে দেখে সরে গেলেন দূরে যাতে এ অবস্থায় সন্তানকে দেখে কষ্ট পেতে না হয়। পাহাড়সমূহের মধ্যে সাফাকে তিনি পেলেন সবচেয়ে কাছে। তিনি সাফায় আরোহণ করে কাউকে দেখা যায় কি-না জানার জন্য উপত্যকার দিকে মুখ করে দাঁড়ালেন। কাউকে দেখতে না পেয়ে সাফা থেকে নেমে এলেন। উপত্যকায় পৌঁছালে তিনি তাঁর কামিজ টেনে ধরে পরিশ্রান্ত ব্যক্তির মতো দ্রুত চললেন। উপত্যকা অতিক্রম করলেন। অতঃপর মারওয়ায় আরোহণ করলেন। মারওয়ায় দাঁড়িয়ে তাকিয়ে দেখলেন কাউকে দেখা যায় কি-না। কাউকে দেখতে না পেয়ে নেমে এলেন মারওয়া থেকে। আর এ ভাবেই দু’পাহাড়ের মাঝে সাতবার প্রদক্ষিণ করলেন। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, এটাই হল সাফা মারওয়ার মাঝে মানুষের সাঈ (করার কারণ)। তিনি মারওয়ার ওপর থাকাকালে একটি আওয়াজ শুনতে পেয়ে নিজেকে করে বললেন, ‘থামো!’ তিনি আবারও আওয়াজটি শুনতে পেয়ে বললেন- শুনতে পেয়েছি, তবে তোমার কাছে কোনো ত্রাণ আছে কি না তাই বলো। তিনি দেখলেন, যমযমের জায়গায় একজন ফেরেশতা তাঁর পায়ের গোড়ালি বা পাখা দিয়ে মাটি খুঁড়ছে। এক পর্যায়ে পানি বের হয়ে এল, তিনি হাউজের মতো করে পানি আটকাতে লাগলেন। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘আল্লাহ ইসমাইলের মাতার ওপর রহম করুন। তিনি যমযমকে ছেড়ে দিলে, বর্ণনান্তরে-যমযমের পানি না ওঠালে, যমযম একটি চলমান ঝরনায় পরিণত হত।ফেরেশতা হাজেরাকে বললেন, হারিয়ে যাওয়ার ভয় করো না, কেননা এখানে বায়তুল্লাহ, যা নির্মাণ করবে এই ছেলে ও তার পিতা। আর আল্লাহ তার আহালকে ধ্বংস করেন না।(সহীহ বুখারী ৬/৩১২৬; ইঃফাঃ)</p>
<h2><span style="color: #993300;"><strong>উকুফে আরাফা</strong></span></h2>
<p>আমরা সুনির্দিষ্ট স্থানের বাইরে উকুফে আরাফা করছিলাম। ইবনে মেরবা আনসারি আমাদের কাছে এলেন এবং বললেন, আমি আপনাদের কাছে রাসূলুল্লাহর প্রতিনিধি। তিনি বলেছেন: হজের মাশায়ের—জায়গায় অবস্থান করুন—কেননা আপনারা আপনাদের পিতা ইব্রাহীমের ঐতিহ্যের ওপর রয়েছেন(আবু দাউদ ৩/১৯১৭ ইঃফাঃ)। এর অর্থ ইব্রাহীম (আঃ) উকুফে আরাফা করেছিলেন, সে হিসেবে আমরাও করে থাকি।</p>
<h2><span style="color: #800000;"><strong>হজ পালনের পবিত্র স্থানসমূহের পরিচিতি</strong><strong></strong></span></h2>
<h3><span style="color: #993300;">পবিত্র কাবা</span></h3>
<p>১৪১৭ হিজরীতে বাদশা ফাহাদ ইবনে আব্দুল আজীজ সংস্কার করেন পবিত্র কাবা ঘর। ৩৭৫ বছর পূর্বে অর্থাৎ ১০৪০ হিজরীতে সুলতান মারদান আল উসমানির সংস্কারের পর এটাই হল ব্যাপক সংস্কার। বাদশা ফাহাদের সংস্কারের পূর্বে পবিত্র কাবাকে আরও ১১ বার নির্মাণ পুনর্নিমাণ সংস্কার করা হয়েছে বলে কারও কারও দাবি। নীচে নির্মাতা, পুন:নির্মাতা, ও সংস্কারকের নাম উল্লেখ করা হল-</p>
<p>১. ফেরেশতা। ২. আদম।. ৩. শীশ ইবনে আদম। ৪.ইব্রাহীম ও ইসমাইল (আ) ৫. আমালেকা সম্প্রদায়। ৬. জুরহুম গোত্র। ৭.কুসাই ইবনে কিলাব। ৮ .কুরাইশ। ৯.আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রাঃ) [৬৫ হি.] ১০. হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ [৭৪ হি.] ১১. সুলতান মারদান আল-উসমানী [১০৪০ হি.] বাদশা ফাহাদ ইবনে আব্দুল আজীজ [১৪১৭ হি.]। (দেখুন- ডঃ মুহাম্মদ ইলিয়াস আব্দুল গনি, তারিখু মাক্কাল মুকাররামা, পৃঃ৩৪)</p>
<h3> <span style="color: #993300;">পবিত্র কাবার উচ্চতা ও দৈর্ঘ্য-প্রস্থ</span></h3>
<p><strong>উচ্চতাঃ </strong>১৪ মিটার; <strong>মুলতাযামের দিকে দৈর্ঘ্যঃ</strong> ১২.৮৪ মিটার; <strong>হাতিমের দিকে দৈর্ঘ্যঃ</strong> ১১.২৮ মিটার; <strong>রুকনে ইয়ামানি ও হাতিমের মাঝখানকার দৈর্ঘ্যঃ</strong> ১২.১১ মিটার; <strong>হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে য়ামানির মাঝখানকার দৈর্ঘ্যঃ </strong>১১.৫২ মিটার</p>
<h3><span style="color: #993300;"> হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর)</span></h3>
<p>পবিত্র কাবার দক্ষিণ কোণে, জমিন থেকে ১.১০ মিটার উচ্চতায় হাজরে আসওয়াদ স্থাপিত। হাজরে আসওয়াদ দৈর্ঘ্যে ২৫ সেন্টিমিটার ও প্রস্থে ১৭ সেন্টিমিটার। শুরুতে হাজরে আসওয়াদ একটুকরো ছিল, কারামিতা সম্প্রদায় ৩১৯ হিজরীতে পাথরটি উঠিয়ে নিজেদের অঞ্চলে নিয়ে যায়। সেসময় পাথরটি ভেঙে ৮ টুকরায় পরিণত হয়। এ টুকরোগুলোর সবচেয়ে বড়োটি খেজুরের মতো। টুকরোগুলো বর্তমানে অন্য আরেকটি পাথরে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে যার চার পাশে দেয়া হয়েছে রুপার বর্ডার। রুপার বর্ডারবিশিষ্ট পাথরটি চুম্বন নয় বরং তাতে স্থাপিত হাজরে আসওয়াদের টুকরোগুলো চুম্বন বা স্পর্শ করতে পারলেই কেবল হাজরে আসওয়াদ চুম্বন-স্পর্শ করা হয়েছে বলে ধরা হবে।</p>
<p>হাজরে আসওয়াদ জান্নাত থেকে নেমে-আসা একটি পাথর (নাসায়ি: ৫/২২৬, আলাবানি এ হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন: সহিহু সুনানিন নাসায়ি:২৭৪৮) যার রং শুরুতে—এক হাদিস অনুযায়ী—দুধের বা বরফের চেয়েও সাদা ছিল। পরে আদম-সন্তানের পাপ তাকে কালো করে দেয় (তিরমিযি: হজ অধ্যায়-৮৭৭, ইবনু খুজায়মা: ৪/২৮২)।</p>
<p>হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করলে গুনাহ মাফ হয় (নাসায়ি:৫/২২১; আলাবানি এ হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন, নং ২৭৩২)। হাজরে আসওয়াদের একটি জিহ্বা ও দুটি ঠোঁট রয়েছে, যে ব্যক্তি তাকে চুম্বন-স্পর্শ করল, তার পক্ষে সে কিয়ামতের দিন সাক্ষী দেবে (আহমদ:১/২৬৬; আলবানি এ হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন; দ্রঃ সহিহ ইবনে মাযাহ, নং ২৩৮১)। তবে হাজরে আসওয়াদ কেবলই একটি পাথর যা কারও কল্যাণ বা অকল্যাণ কোনোটাই করতে পারে না(সহীহ বুখারীঃ ৩/১৫০২ ইঃফাঃ)।</p>
<h3><span style="color: #993300;">রুকনে ইয়ামানি</span></h3>
<p>কাবা শরীফের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ। তাওয়াফের সময় এ কোণকে সুযোগ পেলে স্পর্শ করতে হয়। চুম্বন করা নিষেধ। হাদিসে এসেছে, ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে দুই রুকনে ইয়ামানি ব্যতীত অন্য কোনো জায়গায় স্পর্শ করতে দেখিনি।(সহীহ বুখারীঃ ৩/১৫১৩)</p>
<h3><span style="color: #993300;">মুলতাযাম</span></h3>
<p>হাজরে আসওয়াদ থেকে কাবা শরীফের দরজা পর্যন্ত জায়গাটুকুকে মুলতাযাম বলে (আল মুসান্নাফ লি আব্দির রাজ্জাক: ৫/৭৩)। মুলতাযাম শব্দের আক্ষরিক অর্থ এঁটে থাকার জায়গা। সাহাবায়ে কেরাম মক্কায় এসে মুলতাযামে যেতেন ও দু’হাতের তালু, দু’হাত, ও চেহারা ও বক্ষ রেখে দোয়া করতেন। বিদায়ি তাওয়াফের পূর্বে বা পরে অথবা অন্য যে কোনো সময় মুলতাযামে গিয়ে দোয়া করা যায়। ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ (রহ.) বলেন—</p>
<p>إن أحب أن يأتي الملتزم وهو ما بين الحجر الأسود والباب فيضع عليه صدره ووجهه وذراعيه وكفيه ويدعو، ويسأل الله تعالى حاجته، فعل ذلك وله أن يفعل قبل طواف الوداع ، فإن هذا الالتزام لا فرق بين أن يكون حال الوداع وغيره ، والصحابة كانوا يفعلون ذلك حين يدخلون مكة</p>
<p>যদি মুলতাযামে আসার ইচ্ছা করে মুলতাযাম হল হাজরে আসওয়াদ ও দরজার মধ্যবর্তী স্থানÑ অতঃপর সেখানে তার বক্ষ, চেহারা, দুই বাহু ও দুই হাত রাখে ও দোয়া করে, আল্লাহর কাছে তার প্রয়োজনগুলো সওয়াল করে তবে এরূপ করার অনুমতি আছে। বিদায়ি তাওয়াফের পূর্বেও এরূপ করতে পারবে। মুলতাযাম ধরার ক্ষেত্রে বিদায়ি অবস্থা ও অন্যান্য অবস্থার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আর সাহাবগণ যখন মক্কায় প্রবেশ করতেন তখন এরূপ করতেন (শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার মজমূউল ফতুওয়া: ২৬/১৪২)। তবে বর্তমান যুগে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড়ে মুলতাযামে ফিরে যাওয়া খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তাই সুযোগ পেলে যাবেন অন্যথায় যাওয়ার দরকার নেই। কেননা মুলতাযামে যাওয়া তাওয়াফের অংশ নয়।</p>
<h3><span style="color: #993300;">মাকামে ইব্রাহীম</span></h3>
<p>মাকাম শব্দের আভিধানিক অর্থ, দণ্ডায়মান ব্যক্তির পা রাখার জায়গা। আর মাকামে ইব্রাহীম বলতে সেই পাথরকে বুঝায় যেটা কাবা শরীফ নির্মাণের সময় ইসমাইল নিয়ে এসেছিলেন যাতে পিতা ইব্রাহীম এর ওপর দাঁড়িয়ে কাবা ঘর নির্মাণ করতে পারেন। ইসমাইল (আঃ) পাথর এনে দিতেন, এবং ইব্রাহীম (আঃ) তাঁর পবিত্র হাতে তা কাবার দেয়ালে রাখতেন। ঊর্ধ্বে উঠার প্রয়োজন হলে পাথরটি অলৌকিকভাবে ওপরের দিকে উঠে যেত (ড. মুহাম্মদ ইলয়াস আব্দুল গনী : তারিখু মক্কা কাদিমান ওয়া হাদিসান, পৃ: ৭১)। তাফসীরে তাবারিতে সূরা আলে ইমরানের ৯৭ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় এসেছে—</p>
<p align="center">يه علامات بينات من قدرة الله ، وآثار خليله ابراهيم ،منهن أثر قدم خليله ابراهيم في الحجر الذي قام عليه .</p>
<p> বায়তুল্লায় আল্লাহর কুদরতের পরিষ্কার নিদর্শন রয়েছে এবং খলিলুল্লাহ ইব্রাহীম (আঃ) এর নিদর্শনাবলী রয়েছে, যার মধ্যে একটি হল তাঁর খলিল ইব্রাহীম (আঃ) এর পদচিহ্ন ওই পাথরে যার ওপর তিনি দাঁড়িয়েছিলেন (তাফসীরে তাবারি : ৪/১১)।</p>
<p>ইব্রাহীম (আঃ) এর পদচিহ্নের একটি ১০ সেন্টিমিটার গভীর, ও অন্যটি ৯ সেন্টিমিটার। লম্বায় প্রতিটি পা ২২ সেন্টিমিটার ও প্রস্থে ১১ সেন্টিমিটার।</p>
<p>বর্তমানে এক মিলিয়ন রিয়েল ব্যয় করে মাকামের বক্সটি নির্মাণ করা হয়েছে। পিতল ও ১০ মিলি মিটার পুরো গ্লাস দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে এটি। ভেতরের জালে সোনা চড়ানো। হাজরে আসওয়াদ থেকে মাকামে ইব্রাহীমের দূরত্ব হল ১৪.৫ মিটার (ড. মুহাম্মদ ইলয়াস আব্দুল গনী : প্রাগুক্ত , পৃ ৭৫-৭৬)।</p>
<p>তাওয়াফ শেষে মাকামে ইব্রাহীমের পেছনে দু’রাকাত সালাত আদায় করতে হয়। জায়গা না পেলে অন্য কোথাও আদায় করলে সালাত হয়ে যায়।</p>
<h3> <span style="color: #993300;">মাতাফ</span></h3>
<p>কাবা শরীফের চার পাশে উন্মুক্ত জায়গাকে মাতাফ বলে। মাতাফ শব্দের অর্থ, তাওয়াফ করার জায়গা। মাতাফ সর্বপ্রথম পাকা করেন আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের, কাবার চার পাশে প্রায় ৫ মিটারের মত। কালক্রমে মাতাফ সম্প্রসারিত করা হয়। বর্তমানে শীতল মারবেল পাথর দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে মাতাফ যা প্রচণ্ড রোদের তাপেও শীতলতা হারায় না, ফলে হজকারীগণ আরামের সাথে পা রেখে তাওয়াফ সম্পন্ন করতে পারেন।</p>
<h3><span style="color: #993300;"> সাফা</span></h3>
<p>কাবা শরীফ থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে, ১৩০ মিটার দূরে, সাফা পাহাড় অবস্থিত। সাফা একটি ছোট পাহাড় যার উপর বর্তমানে গম্বুজ নির্মাণ করা হয়েছে এবং এ পাহাড়ের একাংশ এখনও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। আর বাকি অংশ পাকা করে দেয়া হয়েছে। সমতল থেকে উঁচুতে এই পাকা অংশের ওপরে এলে সাফায় উঠেছেন বলে ধরে নেয়া হবে। সাফা পাহাড়ের নির্দিষ্ট জায়গা থেকে এখনও পবিত্র কাবা দেখতে পারা যায়।</p>
<h3><span style="color: #993300;"> মারওয়া</span></h3>
<p>শক্ত সাদা পাথরের ছোট্ট একটি পাহাড়। পবিত্র কাবা থেকে ৩০০ মিটার দূরে পূর্ব- উত্তর দিকে অবস্থিত। বর্তমানে মারওয়া থেকে কাবা শরীফ দেখা যায় না। মারওয়ার সামান্য অংশ খোলা রাখা হয়েছে। বাকি অংশ পাকা করে ঢেকে দেয়া হয়েছে।</p>
<h3><span style="color: #993300;">মাস’আ</span></h3>
<p>সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী স্থানকে মাস’আ বলা হয়। মাস’আ দীর্ঘে ৩৯৪.৫ মিটার ও প্রস্থে ২০ মিটার। মাসআ’র গ্রাউন্ড ফ্লোর ও প্রথম তলা সুন্দরভাবে সাজানো। গ্রাউন্ড ফ্লোরে ভিড় হলে প্রথম তলায় গিয়েও সাঈ করতে পারেন। প্রয়োজন হলে ছাদে গিয়েও সাঈ করা যাবে তবে খেয়াল রাখতে হবে আপনার সাঈ যেন মাসআ’র মধ্যেই হয়। মাসআ থেকে বাইরে দূরে কোথাও সাঈ করলে সাঈ হয় না।</p>
<h3><span style="color: #993300;">মসজিদুল হারাম</span></h3>
<p>কাবা শরীফ, ও তার চার পাশের মাতাফ, মাতাফের ওপারে বিল্ডিং, বিল্ডিঙের ওপারে মারবেল পাথর বিছানো উন্মুক্ত চত্বর এ সবগুলো মিলে বর্তমান মসজিদুল হারাম গঠিত। কারও কারও মতে পুরা হারাম অঞ্চল মসজিদুল হারাম হিসেবে বিবেচিত। পবিত্র কুরআনের এক আয়াতে এসেছে,</p>
<h4 align="center"><span style="color: #008000;"><strong>لَتَدْخُلُنَّ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ</strong><strong></strong></span></h4>
<p align="center"><span style="color: #008000;"><strong>তোমরা অবশ্যই মসজিদুল হারামে প্রবেশ করবে (সূরা আলফাত্হ: ২৭) </strong></span><strong></strong></p>
<p> অর্থাৎ হারাম অঞ্চলে প্রবেশ করবে। সূরা ইসরায় মসজিদুল হারামের কথা উল্লেখ হয়েছে। এরশাদ হয়েছে—</p>
<p align="center"> <span style="color: #008000;"><strong>سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ </strong><strong></strong></span></p>
<p align="center"><span style="color: #008000;"><strong>পবিত্র সেই সত্তা যিনি তাঁর বান্দাকে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় রাতের বেলায় নিয়ে গেলেন</strong><strong>, </strong><strong>যার চার পাশ আমি করেছি বরকতময়  (সূরা আল ইসরা:১) </strong></span><strong></strong></p>
<p> ইতিহাসবিদদের মতানুসারে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে উম্মে হানীর ঘরের এখান থেকে ইসরা ও মেরাজের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আর তৎকালে কাবা শরীফের চারপাশে সামান্য এলাকা জুড়ে ছিল মসজিদুল হারাম, উম্মে হানীর ঘর মসজিদুল হারাম থেকে ছিল দূরে। তা সত্ত্বেও ওই জায়গাকে মসজিদুল হারাম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.quraneralo.com/history-of-hajj/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
	</channel>
</rss>

<!-- Performance optimized by W3 Total Cache. Learn more: http://www.w3-edge.com/wordpress-plugins/

Page Caching using disk: enhanced
Database Caching 18/30 queries in 0.965 seconds using disk: basic
Object Caching 839/1028 objects using disk: basic

 Served from: www.quraneralo.com @ 2013-05-21 22:14:25 by W3 Total Cache -->