<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>QuranerAlo.com - কুরআনের আলো ইসলামিক ওয়েবসাইট &#187; উৎসাহ উদ্দিপনা মূলক গল্প</title>
	<atom:link href="http://www.quraneralo.com/category/topic/inspiring-stories/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://www.quraneralo.com</link>
	<description>ইসলামিক রিসোর্সেস - আকিদা, কুরআন, হাদিস, ইসলামী প্রবন্ধ,  ইসলামী বই, ইসলামী ওয়াজ   &#124; Bangla/Bengali Islamic Website &#124; Bangla Islamic Articles, Bangla Islamic Books, Bangla Islamic Waz</description>
	<lastBuildDate>Tue, 18 Jun 2013 03:05:47 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
	<generator>http://wordpress.org/?v=3.5.1</generator>
		<item>
		<title>সমস্ত মুসলমানদেরকে যদি হত্যা করা হয়, তবুও বিজয় ইসলামেরই হবে</title>
		<link>http://www.quraneralo.com/story-of-a-believing-boy/</link>
		<comments>http://www.quraneralo.com/story-of-a-believing-boy/#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 05 May 2013 21:12:35 +0000</pubDate>
		<dc:creator>QuranerAlo.com Editor</dc:creator>
				<category><![CDATA[সাম্প্রতিক বিষয়াদি]]></category>
		<category><![CDATA[উৎসাহ উদ্দিপনা মূলক গল্প]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.quraneralo.com/?p=3973</guid>
		<description><![CDATA[সংকলন ও সম্পাদনাঃ  شادمان سكب ঈমানদার যুবক ও আছহাবুল উখদূদের কাহিনী হযরত সুহায়েব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে জে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ বহুকাল পূর্বে একজন রাজা ছিলেন। সেই রাজার ছিল একজন যাদুকর। ঐ যাদুকর বৃদ্ধ হ’লে একদিন সে রাজাকে বলল, ‘আমি তো বৃদ্ধ হয়ে গেছি এবং আমার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে। সুতরাং আমার নিকট একটি ছেলে পাঠান, যাকে [...]]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: center;"><strong>সংকলন ও সম্পাদনাঃ</strong>  <strong><a href="http://ishadman.com" target="_blank">شادمان سكب</a></strong></p>
<p style="text-align: center;"><img class="aligncenter size-full wp-image-3974" alt="8504655484_efc8d2c5d6" src="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2013/03/8504655484_efc8d2c5d6.jpg" width="500" height="293" /></p>
<h3 style="text-align: center;"><span style="color: #800000;">ঈমানদার যুবক ও আছহাবুল উখদূদের কাহিনী</span></h3>
<p>হযরত সুহায়েব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে জে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ বহুকাল পূর্বে একজন রাজা ছিলেন। সেই রাজার ছিল একজন যাদুকর। ঐ যাদুকর বৃদ্ধ হ’লে একদিন সে রাজাকে বলল, ‘আমি তো বৃদ্ধ হয়ে গেছি এবং আমার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে। সুতরাং আমার নিকট একটি ছেলে পাঠান, যাকে আমি ভালভাবে যাদুবিদ্যা শিক্ষা দিব’। বাদশাহ তার নিকট একটি বালককে পাঠিয়ে দিলেন। তিনি তাকে যাদুবিদ্যা শিক্ষা দিতে লাগলেন। বালকটি যাদুকরের নিকট যে পথ দিয়ে যাতায়াত করত, সে পথে ছিল এক সন্ন্যাসীর আস্তানা। সন্ন্যাসী ঐখানে বসে কখনো ইবাদাত করতেন, আবার কখনো লোকদের নিকট ওয়াজ-নসিহাত করতেন।  বালকটিও পথের পাসে দাঁড়িয়ে তার ওয়াজ নসীহত শুনত।  ফলে যাদুকরের নিকট পৌছাতে বালকটির দেরী হ’ত বলে যাদুকর তাকে প্রহার করত। বালকটি সন্ন্যাসীর নিকট এ কথা জানালে তিনি বালককে শিখিয়ে দেন যে, তুমি যদি যাদুকর কে ভয় কর তাহ’লে বলবে, বাড়ীর লোকজন আমাকে পাঠাতে বিলম্ব করেছে এবং বাড়ীর লোকজনকে ভয় পেলে বলবে, যাদুকরই আমাকে ছুটি দিতে বিলম্ব করেছে।</p>
<p>বালকটি এভাবে একদিকে যাদু বিদ্যা অন্যদিকে ধর্মীয় বিদ্যা শিক্ষা  করতে লাগলো। একদিন পথে সে দেখল, একটি বৃহদাকার প্রাণী মানুষের চলাচলের পথ রোধ করে বসে আছে। বালকটি ভাবল, আজ পরীক্ষা করে দেখব যে আল্লাহর কাছে যাদুকরের ধর্ম শ্রেষ্ঠ, না সন্ন্যাসীর ধর্ম শ্রেষ্ঠ ? অতঃপর সে একটি পাথর নিয়ে বলল, ‘<span style="color: #ff6600;">হে আল্লাহ্‌! যাদুকরের কার্যকলাপ অপেক্ষা সন্ন্যাসীর কার্যকলাপ যদি তোমার নিকট অধিকতর প্রিয় হয়, তবে এই প্রাণীটিকে এই পাথরের আঘাতে মেরে ফেল। যেন লোকজন যাতায়াত করতে পারে’</span>। এই বলে প্রাণীটিকে লক্ষ্য করে সে পাথরটি ছুঁড়ে মারল এবং প্রাণীটি মারা গেল ও লোক চলাচল শুরু হ'ল। এরপর বালকটি সন্ন্যাসীর নিকট গিয়ে তাকে ঘটনাটি জানালে তিনি তাকে বললেন, ‘বৎস! তুমি এখনই আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হয়ে উঠেছ। তোমার প্রকৃত স্বরূপ আমি বুঝতে পারছি। শীঘ্রই তোমাকে পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে। যদি তুমি পরীক্ষার সম্মুখীন হও তাহ’লে যেন আমার কথা প্রকাশ করে দিও না’।</p>
<p>তারপ বালকটির দো‘আয় জন্মান্ধ ব্যক্তি দৃষ্টি শক্তি ফিরে পেতে লাগলো , কুষ্ঠ ব্যাধিগ্রস্ত ব্যক্তি নিরাময় হ’তে লাগল এবং লোকজন অন্যান্য রোগ হ’তেও আরোগ্য লাভ করতে লাগল।</p>
<p>এদিকে রাজার একজন সহচর অন্ধ হয়েছিল। সে বহু উপঢৌকনসহ বালকটির নিকট গিয়ে বলল, ‘তুমি যদি আমাকে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দাও, তাহ’লে এ সবই তোমার’। বালকটি বলল, ‘আমিতো কাউকে আরোগ্য করতে পারি না । বরং রোগ ভাল করেন আল্লাহ্‌। অতএব আপনি যদি আল্লাহ্‌ প্রতি ঈমান আনেন, তাহ’লে আমি আপনার রোগ মুক্তির জন্য আল্লাহ্‌ নিকটে দো‘আ করতে পারি। তাতে তিনি হয়ত আপনাকে আরোগ্য দান করতে পারেন’। ফলে লোকটি আল্লাহ্‌ প্রতি ঈমান আনল। আল্লাহ্‌ তাকে আরোগ্য দান করলেন।</p>
<p>পূর্বের ন্যায় তিনি রাজার নিকটে গিয়ে বসলে রাজা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কে তোমাকে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিল’? সে বলল, ‘আমার রব’। রাজা বললেন, আমি ছাড়া তোমার রব আছে কি’? সে বলল, ‘আমার ও আপনার উভয়ের রব আল্লাহ্‌’। এতে রাজা তাকে ধরে তার উপর নির্যাতন চালাতে থাকে। অবশেষে সে বালকটির নাম প্রকাশ করে দিল। অতঃপর বালকটিকে রাজদরবারে আনা হ’ল। রাজা তাকে বললেন, ‘বৎস! আমি জানতে পারলাম যে, তুমি তোমার যাদুর গুণে জন্মান্ধ ও কুষ্ঠব্যাধিগ্রস্ত লোকদের রোগ নিরাময় করছ এবং অন্যান্য কঠিন রোগও নিরাময় করে চলেছ। বালকটি বলল, আমি কাউকে রোগ মুক্ত করি না। রোগ মুক্ত করেন আল্লাহ্‌’। তখন রাজা তাকে পাকড়াও করে তার উপর উৎপীড়ন চালাতে থাকেন। এক পর্যায়ে সে সন্ন্যাসীর কথা প্রকাশ করে দিল। তখন সন্ন্যাসীকে ধরে আনা হ’ল এবং তাঁকে বলা হ’ল, তুমি তোমার ধর্ম পরিত্যাগ কর। কিন্তু সে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করল। তখন রাজার আদেশক্রমে করাত নিয়ে আসা হ’লে তিনি তা তার মাথার মাঝখানে বসালেন এবং তাঁর মাথা ও শরীর চিরে দ্বিখণ্ডিত করে ফেললেন। তারপর রাজার সহচরকে আনা হ’ল এবং তাকেও তার ধর্ম ত্যাগ করতে বলা হ’ল। কিন্তু সেও অস্বীকৃতি জানালে তাকেও করাত দিয়ে চিরে দ্বিখণ্ডিত করা হ’ল।</p>
<p>তারপর বালকটিকে হাযির করে তার ধর্ম পরিত্যাগ করতে বলা হ’ল। বালকটিও নিজ ধর্ম পরিত্যাগ করতে অস্বীকার করল। তখন রাজা তাকে তার লোকজনের নিকট দিয়ে বললেন, ‘তোমরা একে অমুক পাহাড়ে নিয়ে যাও এবং তাকে সঙ্গে করে পাহাড়ে আরোহণ করতে থাক। যখন তোমরা পাহাড়ের উচ্চশৃঙ্গে পৌঁছবে, তখন তাকে তার ধর্ম পরিত্যাগ করতে বলবে। সে যদি অস্বীকার করে, তাহ’লে তোমরা তাকে সেখান থেকে নীচে ছুঁড়ে ফেলে দিবে’। তারা বালকটিকে নিয়ে পাহাড়ের উপরে উঠলে বালকটি দো‘আ করল, ‘<span style="color: #ff6600;">হে আল্লাহ্‌! তোমার যেভাবে ইচ্ছা হয়, সেভাবে তুমি আমাকে এদের কাছ থেকে রক্ষা কর’</span>। তৎক্ষণাৎ পাহাড়টি কম্পিত হয়ে উঠল এবং তারা নীচে পড়ে মারা গেল। আর বালকটি (সুস্থ দেহে) রাজার নিকট এসে উপস্থিত হ’ল। রাজা তখন তাকে বললেন, ‘তোমার সঙ্গীদের কি হ’ল’? তখন সে বলল, আল্লাহ্‌ই আমাকে তাদের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন।</p>
<p>তারপর রাজা তাকে তার একদল লোকের নিকট সোপর্দ করে আদেশ দিলেন, ‘একে একটি বড় নৌকায় উঠিয়ে নদীর মাঝখানে নিয়ে যাও। যদি সে নিজ ধর্ম পরিত্যাগ করে, তো ভাল। নচেৎ তাকে নদীতে নিক্ষেপ কর’। তারা বালকটিকে নিয়ে মাঝ নদীতে পৌঁছলে বালকটি পূর্বের ন্যায় দো‘আ করল, ‘<span style="color: #ff6600;">হে আল্লাহ্‌! তোমার যেভাবে ইচ্ছা হয়, সেভাবে তুমি আমাকে এদের হাত থেকে রক্ষা কর</span>’। এতে নৌকা ভীষণভাবে কাত হয়ে পড়ল। ফলে রাজার লোকজন নদীতে ডুবে মারা গেল। আর বালকটি (সুস্ত দেহে) রাজার নিকটে আসলে রাজা তাকে বললেন, তোমার সঙ্গীদের কি অবস্থা? সে বলল, আল্লাহ্‌ই আমাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। এরপর সে রাজাকে বলল, ‘আপনি যতই চেষ্টা করুন না কেন আমাকে কোনভাবেই হত্যা করতে পারবেন না। যতক্ষণ না আমি যা বলব, আপনি তা করবেন। রাজা বললেন, ‘সেটা কি’? বালকটি বলল, ‘আপনি একটি বিস্তীর্ণ মাঠে সকল লোককে হাযির করুন এবং সেই মাঠে খেজুরের একটি গুঁড়ি পুঁতে তার উপরিভাগে আমাকে বেঁধে রাখুন। তারপর আমার তূণীর হ’তে একটি তীর নিয়ে ধনুকে সংযোজিত করুন। তারপর <strong> (بسم الله الرحمن الرحيم ) "</strong>বালকটির রব আল্লাহ্‌ নামে" বলে আমার দিকে তীরটি নিক্ষেপ করুন।</p>
<p>আপনি যদি এ পন্থা অবলম্বন করেন, তবেই আমাকে হত্যা করতে পারবেন। বালকের কথামত এক বিস্তীর্ণ মাঠে রাজা সকল লোককে সমবেত করলেন এবং বালকটিকে একটি খেজুর গাছের গুঁড়ির উপরে বাঁধলেন। তারপর রাজা বালকটির তূণীর হ’তে একটি তীর নিয়ে ধনুকের মধ্যভাগে সংযোজিত করলেন। তারপর বলে বালকটির দিকে তীর নিক্ষেপ করলেন। তীরটি বালকের চোখ ও কানের মধ্যভাগে বিদ্ধ হ’ল। বালকটি এক হাতে তীর-বিদ্ধ স্থানটি চেপে ধরল। অতঃপর সে মারা গেল।</p>
<p>এ দৃশ্য দেখে উপস্থিত জনগণ বলে উঠল, ‘<span style="color: #ff6600;">আমরা বালকটির রবের প্রতি ঈমান আনলাম। আমরা বালকটির রবের প্রতি ঈমান আনলাম। আমরা বালকটির রবের প্রতি ঈমান আনলাম’</span>। তারপর রাজার লোকজন তাঁর নিকট গিয়ে বলল, <span style="color: #ff6600;">‘আপনি যা আশঙ্কা করছিলেন তাই শেষ পর্যন্ত ঘটে গেল। সব লোক বালকটির রবের প্রতি ঈমান আনল’।</span> তখন রাজা রাস্তা গুলির চৌমাথায় প্রকাণ্ড গর্ত খনন করার নির্দেশ দিলেন। তার কথা মতো গর্ত খনন করে তাতে আগুন প্রজ্বলিত করা হ’ল। <strong><span style="color: #ff6600;">তারপর রাজা হুকুম দিলেন, ‘যে ব্যক্তি বালকের ধর্ম পরিত্যাগ করবে না, তাকে ঐ আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করে পুড়িয়ে মার। অথবা তাকে বলবে, তুমি এই আগুনে ঝাঁপ দাও। রাজার লোকেরা তার হুকম পালন করতে লাগল।</span></strong> ইতিমধ্যে একজন রমণীকে তার শিশুসন্তান সহ উপস্থিত করা হ’ল। রমণীটি আগুনে ঝাঁপ দিতে ইতস্ততঃ করতে থাকলে শিশুটি বলে উঠল, ‘মা ছবর অবলম্বন করে আগুনে প্রবেশ করুন। কেননা আপনি হক পথে আছেন’।</p>
<p><strong><span style="color: #008000;">পবিত্র কুরআনের সূরা বুরূজে এ ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে,</span> ‘<span style="color: #993300;">ধ্বংস হয়েছিল গর্ত ওয়ালারা- ইন্ধন পূর্ণ যে গর্তে ছিল অগ্নি, যখন তারা তার পাশে উপবিষ্ট ছিল এবং তারা মুমিনদের সাথে যা করছিল তা প্রত্যক্ষ করছিল। তারা তাদেরকে নির্যাতন করেছিল শুধু একারণে যে, তারা বিশ্বাস করত পরাক্রমশালী ও প্রশংসা আল্লাহর’</span> (বুরূজ ৪-৮)</strong>।</p>
<p>[ছহীহ মুসলিম হা/৩০০৫ ‘যুহদ ও রক্বাক্ব’ অধ্যায়, অনুচেছদ-১৭, ছুহাইব বিন সিনান আর-রূমী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, আহমাদ হা/২৩৯৭৬]।</p>
<p><strong>বিস্তারিত পড়ুনঃ</strong> <a href="http://www.quraneralo.com/tafsir" target="_blank">তাফসীর ইবনে কাসির, ১৮ খণ্ড, পৃষ্ঠা ১০৫-১২২।  </a></p>
<h2><span style="color: #993300;">শিক্ষা :</span></h2>
<p><span style="color: #ff0000;"><strong>১.</strong></span> প্রত্যেকটি আদম সন্তান স্বভাবধর্ম ইসলামের উপর জন্মগ্রহণ করে।<br />
<span style="color: #ff0000;"><strong>২.</strong></span> মুমিন বান্দা সর্বদা আল্লাহ্‌কে স্মরণ করবে ও কায়মনোবাক্যে তাঁর নিকট দো‘আ করবে।<br />
<span style="color: #ff0000;"><strong>৩.</strong></span> রোগমুক্তির মালিক একমাত্র আল্লাহ্‌; কোন পীর-ফকীর বা সাধু-সন্ন্যাসী নয়।<br />
<span style="color: #ff0000;"><strong>৪.</strong></span> আল্লাহ্‌ পথের নির্ভীক সৈনিকেরা বাতিলের সামনে কখনো মাথা নত করে না।<br />
<span style="color: #ff0000;"><strong>৫.</strong></span> মুমিন দুনিয়াবি জীবনে পদে পদে পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। এর মাধ্যমে<br />
আল্লাহ্‌ তার ঈমানের মজবুতি পরখ করেন।<br />
<span style="color: #ff0000;"><strong>৬.</strong></span> হক্বের বিজয় অবশ্যম্ভাবী।<br />
<span style="color: #ff0000;"><strong>৭.</strong></span> সুরা আল-বুরুজে আল্লাহ এমন একটা জাতির কথা বর্ণনা করেছেন, ঈমান আনার কারণে যাদেরকে আগুনের গর্তে পুড়িয়ে মারা হয়েছিলো। একটা মুসলিম উম্মাহর সবগুলো মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হলো অথচ আল্লাহ এই ঘটনাকে "এটাই হলো সুস্পষ্ট বিজয়" বলেছেন।</p>
<p>এ শত্রুতা এবং শাস্তির কারণ শুধু এটাই ছিল জে, তারা পরাক্রমশালী ও প্রশংসনীয় আল্লাহ্‌র প্রতি ঈমান এনেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ্‌ তা'আলাই সর্বশক্তিমান। তাঁর আশ্রয়ে আশ্রিত লোকেরা কখনো ধ্বংস হয় মা, ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। যদি তিনি কখনো নিজের বিশেষ বান্দাদেরকে কাফিরদের দ্বারা কষ্টও দিয়ে থাকেন, সেটাও বিশেষ কল্যাণ ও মঙ্গলের জন্য এবং তার রহস্য কারো জানা না থাকতেও পারে। কিন্তু সেটা একটা প্রছন্ন ও বিশেষ অন্তর্নিহিত রহমত ও ফজিলতের ব্যাপার বৈ কিছু নয়।</p>
<p><span style="color: #800000;"><strong>আমাদের দুনিয়ার জীবনের বিবেচনায় অবাক হওয়ার মতো কথা, কিন্তু মুসলিমদের চূড়ান্ত বিজয় হলো জান্নাত। সমস্ত মুসলিমদেরকেও যদি হত্যা করা হয় বা আগুনে পুড়িয়ে মারা হয় তবু সেই বিজয়ের সামান্যতম ক্ষতি হবেনা। কিন্তু কথা হচ্ছে আমরা যেনো আমাদের ইসলামকে ধরে রাখতে পারি, আমাদের কাছে মৃত্যু চলে আসা পর্যন্ত। </strong></span></p>
<p>আল্লাহ আমাদের সকলকেই ঈমানের সহিত মৃত্যুবরণ করার মহাসোওভাগ্য দান করুন। আমিন।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.quraneralo.com/story-of-a-believing-boy/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>7</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আবূ নাজীহ (রা:)-এর ইসলাম গ্রহণ</title>
		<link>http://www.quraneralo.com/story-of-abu-nazih/</link>
		<comments>http://www.quraneralo.com/story-of-abu-nazih/#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 30 Apr 2013 04:10:55 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Mohammad Gaffer</dc:creator>
				<category><![CDATA[হাদিসের গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[উৎসাহ উদ্দিপনা মূলক গল্প]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.quraneralo.com/?p=4093</guid>
		<description><![CDATA[ওয়েব সম্পাদনাঃ মোঃ মাহমুদ ইবনে গাফফার আবূ নাজীহ আমর ইবনু আবাসাহ আস-সুলামী (রা:) বলেন, জাহেলী যুগ আমি ধারণা করতাম যে, লোকেরা পথভ্রষ্টতার উপর রয়েছে এবং এরা কোন ধর্মেই নেই। আর ওরা প্রতিমা পূজা করছে। অতঃপর আমি এক ব্যক্তির ব্যাপারে শুনলাম যে, তিনি মক্কায় অনেক আশ্চর্য খবর বলছেন। সুতরাং আমি আমার সওয়ারীর উপর বসে তাঁর কাছে এসে [...]]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: center;"><span style="color: #008000;"><b>ওয়েব সম্পাদনাঃ </b>মোঃ মাহমুদ ইবনে গাফফার</span></p>
<p style="text-align: center;"><a href="http://farm4.staticflickr.com/3137/2498270867_83e633b8a3.jpg"><img class="aligncenter" alt="" src="http://farm4.staticflickr.com/3137/2498270867_83e633b8a3.jpg" width="400" height="300" /></a></p>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: #993366;">আবূ নাজীহ আমর ইবনু আবাসাহ আস-সুলামী (রা:) বলেন, জাহেলী যুগ আমি ধারণা করতাম যে, লোকেরা পথভ্রষ্টতার উপর রয়েছে এবং এরা কোন ধর্মেই নেই। আর ওরা প্রতিমা পূজা করছে। অতঃপর আমি এক ব্যক্তির ব্যাপারে শুনলাম যে, তিনি মক্কায় অনেক আশ্চর্য খবর বলছেন। সুতরাং আমি আমার সওয়ারীর উপর বসে তাঁর কাছে এসে দেখলাম যে, তিনি আল্লাহ্‌র রাসূল (সাঃ)। </span></p>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: #008000;"><span style="color: #000000;">তিনি গোপনে (ইসলাম প্রচার করছেন), আর তাঁর সম্প্রদায় (মুশরিকরা) তাঁর প্রতি দুর্ব্যবহার করছে। সুতরাং আমি বিচক্ষণতার সাথে কাজ করলাম। আমি মক্কায় তাঁর কাছে পরামর্শ করলাম। অতঃপর আমি তাঁকে বললাম, আপনি কে?</span> </span></p>
<blockquote><p><span style="color: #008000;">তিনি বললেন, ‘আমি নবী’।</span></p></blockquote>
<p><span style="color: #008000;"><span style="color: #000000;">আমি বললাম, নবী কি?</span> </span></p>
<blockquote><p><span style="color: #008000;">তিনি বললেন, ‘মহান আল্লাহ্‌ আমাকে প্রেরণ করেছেন। </span></p></blockquote>
<p><span style="color: #000000;">আমি বললাম, তিনি কি দিয়ে প্রেরণ করেছেন? </span></p>
<blockquote><p><span style="color: #008000;">তিনি বললেন, ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখা,মূর্তি ভেঙ্গে ফেলা, আল্লাহ্‌কে একক উপাস্য মানা এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করার নির্দেশ দিয়ে।</span></p></blockquote>
<p><span style="color: #000000;"> আমি বললাম, এ কাজে আপনার সঙ্গে কে আছে? </span></p>
<blockquote><p><span style="color: #008000;">তিনি বললেন, ‘একজন স্বাধীন এবং একজন কৃতদাস। তিনি বলেন, তার প্রতি যারা ঈমান এনেছিল তার মধ্যে তখন তাঁর সঙ্গে আবূ বকর ও বেলাল (রা:) ছিলেন। </span></p></blockquote>
<p><span style="color: #000000;">আমি বললাম, ‘আমিও আপনার অনুগত। </span></p>
<blockquote><p><span style="color: #008000;">তিনি বললেন, ‘তুমি এখন এ কাজ কোন অবস্থাতেই করতে পারবে না। তুমি কি আমার অবস্থা ও লোকদের অবস্থা দেখতে পাচ্ছ না? অতএব তুমি (এখন) বাড়ি ফিরে যাও। অতঃপর যখন তুমি আমার জয়ী ও শক্তিশালী হওয়ার সংবাদ পাবে, তখন আমার কাছে এস। </span></p></blockquote>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: #000000;">সুতরাং আমি আমার পরিবার-পরিজনের নিকট চলে গেলাম এবং রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মদীনায় চলে এলেন। আর আমি পরিবারের সদস্যদের সাথেই ছিলাম। অতঃপর আমি খবরাখবর নিতে আরম্ভ করলাম এবং যখন তিনি মদীনায়  আগমন  করলেন,  তখন  আমি  (তাঁর  ব্যাপারে)  লোকদেরকে জিজ্ঞেস করতে লাগলাম। অবশেষে আমার নিকট মদীনার কিছু লোক এলো। </span></p>
<p style="text-align: justify;">
<p style="text-align: justify;"><span style="color: #000000;">আমি বললাম, ঐ লোকটার অবস্থা কি, যিনি (মক্কা ত্যাগ করে) মদীনায় এসেছেন?</span></p>
<blockquote><p><span style="color: #008000;">তারা বলল, লোকেরা তাঁর দিকে দ্রুত ধাবমান। তাঁর সম্প্রদায় তাঁকে হত্যা করার ইচ্ছা করেছিল; কিন্তু তারা তা করতে সক্ষম হয়নি।</span></p></blockquote>
<p><span style="color: #000000;"> অতঃপর আমি মদীনায় এসে তাঁর খিদমতে হাযির হলাম। তারপর আমি বললাম, ‘হে আল্লাহ্‌র রাসূল (সাঃ)! আপনি কি আমাকে চিনতে পেরেছেন? </span></p>
<blockquote><p><span style="color: #008000;">তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, তুমি তো ঐ ব্যক্তি, যে মক্কায় আমার সাথে সাক্ষাৎ করেছিলে। </span></p></blockquote>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: #000000;">আমি  বললাম,  হ্যাঁ। হে  আল্লাহ্‌র   রাসূল  (সাঃ)!  আল্লাহ্‌ তাআলা আপনাকে যা শিক্ষা দিয়েছেন এবং যা আমার অজানা, তা আমাকে বলুন? আমাকে ছালাত সম্পর্কে বলুন। </span></p>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #008000;">তিনি বললেন, তুমি ফজরের ছালাত পড়। তারপর সূর্য এক বল্লম পরিমাণ উঁচু হওয়া পর্যন্ত বিরত থাক। <span style="color: #ff0000;">কারণ তা শয়তানের  দু’শিং-এর মধ্যভাগে উদিত হয় (অর্থাৎ এ সময় শয়তানরা ছড়িয়ে পড়ে) এবং সে সময় কাফেররা তাকে সিজদা করে।</span> পুনরায় তুমি ছালাত আদায় কর। কেননা ছালাতে ফেরেশতা সাক্ষী ও উপস্থিত হন, যতক্ষণ না ছায়া বল্লমের সমান হয়ে যায়। অতঃপর ছালাত থেকে বিরত হও। <span style="color: #ff0000;">কেননা তখন জাহান্নামের আগুন উস্কানো হয়।</span> অতঃপর যখন ছায়া বাড়তে আরম্ভ করে, তখন ছালাত আদায় কর। কেননা এ ছালাতে ফেরেশতা সাক্ষী ও উপস্থিত হন। পরিশেষে তুমি আছরের ছালাত আদায় কর। অতঃপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত ছালাত আদায় করা থেকে বিরত থাক। <span style="color: #ff0000;">কেননা সূর্য শয়তানের দু’শিং-এর মধ্যে অস্ত যায় (অর্থাৎ এ সময় শয়তানরা ছড়িয়ে পড়ে) এবং তখন কাফেররা তাকে সিজদা করে। </span></span></p>
<p><span style="color: #000000;">পুনরায় আমি বললাম, ‘হে আল্লাহ্‌র নবী (সাঃ)! আপনি আমাকে ওযূ সম্পর্কে বলুন? </span></p>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #008000;">তিনি বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে কেউ পানি নিয়ে (হাত ধোয়ার পর) কুলি করবে এবং নাকে পানি নিয়ে ঝেড়ে পরিষ্কার করবে, তার চেহারা, তার মুখ এবং নাকের গুনাহসমূহ ঝরে যায়। অতঃপর সে যখন আল্লাহ্‌র আদেশ অনুযায়ী তার চেহারা ধৌত করে, তখন তার চেহারার পাপরাশি তার দাড়ির শেষ প্রান্তের পানির সাথে ঝরে যায়। তারপর সে যখন তার হাত দু’খানি কনুই পর্যন্ত ধৌত করে, তখন তার হাতের পাপরাশি তার আঙ্গুলের পানির সাথে ঝরে যায়। অতঃপর সে যখন তার মাথা মাসাহ করে, তখন তার মাথার পাপরাশি চুলের ডগার পানির সাথে ঝরে যায়। তারপর সে যখন তার পা দু’খানি গিট পর্যন্ত ধৌত করে, তখন তার  পায়ের  পাপরাশি  তার আঙ্গুলের পানির সাথে  ঝরে  যায়। অতঃপর সে যদি দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করে, আল্লাহ্‌র প্রশংসা ও তাঁর মাহাত্ম্য বর্ণনা করে, যার তিনি যোগ্য এবং অন্তরকে আল্লাহ্‌ তাআলার জন্য খালি করে, তাহলে সে ঐ দিনের মত নিষ্পাপ হয়ে বেরিয়ে আসে, যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিল। </span></p>
<p><span style="color: #000000;">তারপর আমর ইবনু আবাসাহ (রা:) এ হাদীছটি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর ছাহাবী আবূ উমামা (রা:)-এর নিকট বর্ণনা করলেন। </span></p>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #008000;">আবূ উমামাহ (রা:) তাঁকে বললেন, ‘হে আমর ইবনু আবাসাহ! তুমি যা বলছ, তা চিন্তা করে বল!  একবার ওযূ করলেই কি এই ব্যক্তিকে এতটা মর্যাদা দেওয়া হবে? আমর বললেন, হে আবূ উমামাহ! আমার বয়স ঢের হয়েছে, আমার হাড় দুর্বল হয়ে গেছে এবং আমার মৃত্যুও নিকটবর্তী। (ফলে এ অবস্থায়) আল্লাহ্‌ তাআলা অথবা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর প্রতি মিথ্যারোপ করার কি প্রয়োজন আছে? <span style="color: #000080;">যদি আমি এটি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট থেকে একবার, দুবার, তিনবার এমনকি সাতবার পর্যন্ত না শুনতাম, তাহলে কখনোই তা বর্ণনা করতাম না। কিন্তু আমি তার নিকট এর চেয়েও অধিকবার শুনেছি’ </span><span style="text-decoration: underline; color: #800000;">(মুসলিম হা/৮৩২, ‘মুসাফিরের ছালাত’অধ্যায়)।</span></span></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<h3><span style="color: #800080;"><strong><span style="text-decoration: underline;"><span style="text-decoration: underline;">শিক্ষা:</span></span></strong></span></h3>
<p><span style="color: #800080;"><strong>১.</strong> দ্বীনী বিষয় জানার জন্য আগ্রহ থাকতে হবে।</span></p>
<p><span style="color: #800080;"><strong>২.</strong> পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত আউয়াল ওয়াক্তে আদায় করতে হবে।</span></p>
<p><span style="color: #800080;"><strong>৩.</strong> ওযূর মাধ্যমে বান্দা তার পাপরাশি মোচন করে নিতে পারে।</span></p>
<p><span style="color: #000000;"><b><span style="text-decoration: underline;"> </span></b></span></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.quraneralo.com/story-of-abu-nazih/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>1</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>শায়খ আলবানী (রহ:)-এর বৈচিত্র্যময় জীবনের কিছু স্মৃতি</title>
		<link>http://www.quraneralo.com/memories-of-sheikh-albani/</link>
		<comments>http://www.quraneralo.com/memories-of-sheikh-albani/#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 29 Apr 2013 04:35:48 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Concerned</dc:creator>
				<category><![CDATA[উৎসাহ উদ্দিপনা মূলক গল্প]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.quraneralo.com/?p=4427</guid>
		<description><![CDATA[সংকলনে : আহমাদ আব্দুল্লাহ নাজীব পিতার সাথে বিরোধ  শায়খ আলবানী কট্টর হানাফী পরিবেশে বেড়ে উঠেছিলেন। তাঁর পিতা ছিলেন আলবেনীয় ও সার্বীয় আলেমদের মধ্যে হানাফী ফিকহ সম্পর্কে সবচেয়ে বিজ্ঞ এবং নির্ভরযোগ্য আলেম। তাঁর নিকটে সবাই ফৎওয়া নিতে আসত। কিন্তু শায়খ আলবানী শুরু থেকেই ছিলেন ভিন্ন মানসিকতার। বিশেষতঃ কুরআন-হাদীছের গভীরভাবে অধ্যয়ন করার পর তাঁর নিকটে সমকালীন বিভ্রান্তি [...]]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: center;"><em><span style="font-size: 13px; line-height: 19px;"><img class="aligncenter size-medium wp-image-4428" alt="scrolls" src="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2013/04/scrolls-442x251.jpg" width="442" height="251" /><strong></strong></span></em></p>
<p style="text-align: center;"><em><span style="font-size: 13px; line-height: 19px;"><strong>সংকলনে :</strong> আহমাদ আব্দুল্লাহ নাজীব</span></em></p>
<h3><span style="color: #800000;">পিতার সাথে বিরোধ </span></h3>
<p style="text-align: justify;">শায়খ আলবানী কট্টর হানাফী পরিবেশে বেড়ে উঠেছিলেন। তাঁর পিতা ছিলেন আলবেনীয় ও সার্বীয় আলেমদের মধ্যে হানাফী ফিকহ সম্পর্কে সবচেয়ে বিজ্ঞ এবং নির্ভরযোগ্য আলেম। তাঁর নিকটে সবাই ফৎওয়া নিতে আসত। কিন্তু শায়খ আলবানী শুরু থেকেই ছিলেন ভিন্ন মানসিকতার। বিশেষতঃ কুরআন-হাদীছের গভীরভাবে অধ্যয়ন করার পর তাঁর নিকটে সমকালীন বিভ্রান্তি ও ভুল-ত্রুটিসমূহ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। খুঁজে পান কুরআন-হাদীছের সাথে বহু মাসআলা-মাসায়েলের যোজন যোজন দূরের ব্যবধান। বিভিন্ন মসজিদে তখন হানাফী এবং শাফেঈদের দু’টি করে জামা‘আত হ’ত। হানাফী জামা‘আতের পর শাফেঈদের জামা‘আত হ’ত। কিন্তু সময়ের আবর্তনে সিরিয়ায় একজন শাফেঈ শাসক ক্ষমতাসীন হন এবং তিনি হানাফীদের পূর্বে শাফেঈদের ছালাত আদায় করার নির্দেশ জারী করেন। এমতাবস্থায় শায়খ আলবানী দ্বিতীয় জামা‘আতে ছালাত আদায়ের কোন দলীল না পেয়ে শাফেঈদের সাথে আউয়াল ওয়াক্তে ছালাত আদায় করা শুরু করলেন। একদিন হানাফীদের ইমাম শায়খ বুরহানী হজ্জের সফরে গমনের কারণে শায়খ আলবানীর পিতাকে ইমামতির দায়িত্ব দিয়ে গেলেন। পরিস্থিতি এমন হ’ল যে, শায়খ আলবানী প্রথম জামা‘আতে ছালাত আদায় করছেন, আর তাঁর পিতা দ্বিতীয় জামা‘আতে ইমামতি করছেন। পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে পড়ল, যেদিন তাঁর পিতা তার ব্যক্তিগত সফরে যাওয়ার কারণে উপলক্ষে আলবানীকে দ্বিতীয় জামা‘আতে ইমামতি করার নির্দেশ দিলেন। স্পষ্টভাষী আলবানী স্বীয় পিতাকে বললেন, এ বিষয়ে আপনি আমার মতামত জানেন যে, আমি প্রথম জামা‘আতে ছালাত আদায় করি। এমতাবস্থায় স্বীয় মত বিরোধী কাজ করা আমার জন্য খুবই কঠিন। স্বাভাবিকভাবেই বিরোধ তীব্রতর হ’ল। অতঃপর একদিন পিতা তাকে গৃহকোণে ডেকে বললেন, তাহ’লে এটাই কি সত্য যে, তুমি তোমার মাযহাব পরিত্যাগ করেছ? ক্রোধান্বিত পিতার কণ্ঠ ঊঁচু হ’তে লাগল। একপর্যায়ে বললেন, হয় তোমাকে একমত হ’তে হবে, অন্যথায় পৃথক হ’তে হবে। শায়খ আলবানী পিতার নিকট থেকে তিনদিন সময় চেয়ে নিলেন। অবশেষে মাত্র ২৫ সিরীয় লিরা হাতে নিয়ে পিতৃগৃহ থেকে বিদায় নিলেন পরবর্তীকালের বিশ্ববিশ্রুত এই মুহাদ্দিছ। তখন তাঁর বয়স সবেমাত্র কুড়ি অতিক্রম করেছিল। সেই বয়সেই তিনি <strong>الروض النضير في ترتيب</strong> <strong>وتخريج معجم الطبراني الصغير</strong> নামক একটি তাখরীজ গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। যদিও তা অদ্যাবধি প্রকাশিত হয়নি (ছালেহ আল-মুনাজ্জিদ, আহদাছুন মুছীরাহ মিন হায়াতিল ইমাম আলবানী)।</p>
<h3><span style="color: #800000;">পেশাজীবী আলবানী </span></h3>
<p style="text-align: justify;">শায়খ আলবানীর পিতা জীবিকা নির্বাহের জন্য ঘড়ি মেরামত করতেন। আলবানী পিতার দোকানে কাজ করেই একাজে দক্ষতা অর্জন করেন। তিনি বলতেন, ঘড়ি মেরামতের কাজই আমাকে সূক্ষ্মতা শিখিয়েছে। পিতার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হবার পর পড়াশুনার পাশাপাশি কর্মজীবনের শুরুতে দু’বছর কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন। অতঃপর কাজটি কষ্টসাধ্য হওয়ায় তিনি পুরাতন গৃহ সংস্কারের পেশা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি আবার ঘড়ি মেরামতের পেশায় ফিরে গেলেন। তাঁর নিজস্ব ঘড়ির দোকান ছিল। তিনি বলতেন, আল্লাহ্র অশেষ রহমত যে, তিনি আমাকে প্রথম যৌবনেই ঘড়ি মেরামতের কাজ শেখার তাওফীক্ব দান করেছিলেন। এটা এমন একটি স্বাধীন পেশা, যা ইলমে হাদীছে বুৎপত্তি অর্জনে আমার জন্য বাধা হ’ত না। আমি মঙ্গলবার ও শুক্রবার ব্যতীত প্রতিদিন মাত্র তিন ঘণ্টা এর পিছনে ব্যয় করি। এই পরিমাণ কাজ করাই আমার ও আমার পরিবারের প্রয়োজনীয় জীবিকা অর্জনের জন্য যথেষ্ট ছিল। অর্থাৎ এর বেশী আর প্রয়োজন নেই। কেননা রাসূল (ছাঃ) এ দো‘আই করতেন যে, হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদের পরিবারের জন্য এমন রিযিক দান কর যা পরিমিত। অর্থাৎ প্রয়োজনের কম নয় বা বেশীও নয় (ছালেহ আল-মুনাজ্জিদ, আহদাছুন মুছীরাহ মিন হায়াতিল ইমাম আলবানী)।</p>
<h3><span style="color: #800000;">দারিদ্রক্লিষ্ট আলবানী </span></h3>
<p style="text-align: justify;">প্রথম জীবনে শায়খ আলবানীকে চরম দারিদ্রের মুকাবিলা করতে হয়েছিল। শায়খ মাশহূর হাসান বলেন, শায়খ আলবানী আমাকে সিলসিলা যঈফাহ ছাপাখানায় যাওয়ার পূর্বে এর সম্পাদনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আমি তাঁর নিকট থেকে পঞ্চম খন্ডের পান্ডুলিপি গ্রহণ করে যখন ব্যাগ থেকে বের করলাম, দেখলাম তিনি পঞ্চম খন্ডটি চিনি, চাল প্রভৃতির প্যাকেটসহ মানুষের ফেলে দেয়া লাল রঙের পরিত্যক্ত কাগজে লিখেছেন! অবস্থা দেখে আমি নিজেকে সামলাতে না পেরে কেঁদে ফেললাম। শায়খ আমার ক্রন্দনের কারণ জিজ্ঞেস করলেন। কিন্তু আমি কথা বলতে পারছিলাম না। আমার অবস্থা বুঝতে পেরে বললেন, দেখ আমার কাছে তখন ভাল কাগজ ক্রয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ছিল না (ইসতামে‘ ইলাইহে মিন কালামিশ শায়খ আবী ওবায়দা, অডিও রেকর্ড থেকে সংগৃহীত)।</p>
<p style="text-align: justify;">তার আরেক ছাত্র আবু মু‘আবিয়া বৈরূতীর ভাষায় তিনি দারিদ্রের কারণে কাগজ ক্রয় করতে না পেরে রাস্তায় পড়ে থাকা কাগজ কুড়িয়ে নিতেন এবং তাতেই তাঁর অমূল্য লেখনীর প্রকাশ ঘটাতেন। একদিন তিনি তাকে বলেছিলেন, ‘সস্তা হওয়ার কারণে আমি পরিত্যক্ত কাগজ কেজি দরে ক্রয় করতাম’ (শায়বানী, হায়াতুল আলবানী ১/৪৩)।</p>
<h3><span style="color: #800000;">বইয়ের পোকা আলবানী </span></h3>
<p style="text-align: justify;">তিনি হাদীছের মুদ্রিত গ্রন্থাবলী ও দুর্লভ পান্ডুলিপি অধ্যয়নের জন্য দামেশকের সুপ্রাচীন যাহেরিয়া লাইব্রেরীতে প্রত্যেক দিন ৬/৮ ঘণ্টা নিয়মিত পড়াশুনা করতেন। কখনো কখনো ১২ ঘণ্টা অবধি চলত নিরবচ্ছিন্ন গবেষণা। অনেক সময় লাইব্রেরীর সিঁড়িতে দাঁড়িয়েই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অধ্যয়নে কেটে যেত। কর্তৃপক্ষ তাঁর পড়ার জন্য লাইব্রেরীর একটি কক্ষ বরাদ্দ করেন এবং সার্বক্ষণিক উপকৃত হওয়ার জন্য লাইব্রেরীর একটি চাবি তাঁকে প্রদান করেন। তিনি ইবনু আবিদ দুনয়ার ‘যাম্মুল মালাহী’ গ্রন্থের পান্ডুলিপির বিনষ্ট হয়ে যাওয়া একটি পৃষ্ঠা উদ্ধারের জন্য উক্ত লাইব্রেরীর প্রায় ১০ হাযার পান্ডুলিপি অধ্যয়ন করেন (মুহাম্মাদ বাইয়ূমী, ইমাম আলবানী হায়াতুহু দাওয়াতুহু ওয়া জুহূদুহু ফী খিদমাতিস সুন্নাহ ২৩-২৫ পৃঃ)।</p>
<h3><span style="color: #800000;">জহূরী জহর চেনে </span></h3>
<p style="text-align: justify;">হজ্জের মওসুম। শায়খ আলবানী হজ্জে গিয়েছেন। এদিকে মিশকাতের প্রসিদ্ধ আরবী ভাষ্য ‘মির‘আতুল মাফাতীহ’-এর লেখক স্বনামধন্য সালাফী বিদ্বান ভারতগুরু শায়খ ওবায়দুল্লাহ মুবারকপুরীও হজ্জে গিয়েছেন। ইন্ডিয়ার আহলেহাদীছ নেতা শায়খ মুখতার আহমাদ নাদভী মিনাতে শায়খ আলবানীর তাঁবুতে আল্লামা মুবারকপুরীকে নিয়ে গেলেন। কেবল নামটি বলার অপেক্ষা। আর যাবেন কোথায়! শায়খ আলবানী বুকে জড়িয়ে ধরলেন তাঁকে। যেন কতদিনের স্বপ্ন আজ স্বার্থক হ’ল। শায়খ মুখতার বলেন, ইসলামী দুনিয়ার দুই শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিছের সেই মহামিলন দৃশ্য দেখে উপস্থিত সকলের সেদিন আনন্দে চোখে পানি এসে গিয়েছিল।</p>
<h3><span style="color: #800000;">বিনয়-নম্রতার মূর্ত প্রতীক </span></h3>
<p style="text-align: justify;">(১) শায়খ আলবানীর প্রিয় ছাত্র শায়খ আলী হালাবী বলেন, একদিন আমি শায়খকে জিজ্ঞেস করলাম যে, আপনার মৃত্যুর পর আমরা ইলমে হাদীছে কার উপর নির্ভর করব? তিনি বললেন, তোমরা নিজেদের উপরেই নির্ভরশীল হও। আমি কামনা করি তোমরা আলবানীর চেয়েও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করবে।</p>
<p style="text-align: justify;">(২) মিসরীয় আলেম শায়খ আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনী তাঁর উস্তাদের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি ভুলতে পারি না সেদিনের কথা যেদিন আমি উস্তাদ আলবানীকে আমার তাখরীজকৃত ইমাম আবুদাঊদ রচিত <strong>البعث</strong> নামক বইটি উপহার দিলাম। তিনি যখন বইয়ের কভারে <strong>خرج أحاديثه الشيخ الحويني السلفي</strong> লেখা দেখলেন, তখন বিস্মিত হয়ে <strong>الشيخ</strong> শব্দের দিকে ইশারা করে বললেন, এটা কেন? আমি ওযর পেশ করে বললাম, শায়খ! এটা আমার কাজ নয় বরং প্রকাশকের ভুল। কিন্তু তিনি আমার ওযর গ্রহণ করলেন না। আললাহর কসম! আমি মোটেও কষ্ট পাইনি। বরং এরপর থেকে আমি তাঁকে ভিন্ন মাত্রায় শ্রদ্ধা করতে লাগলাম এবং আমার হৃদয়ে তিনি যেন একটি বিশেষ স্থানে আসীন হ’লেন। কারণ হাদীছ শাস্ত্রের অবিসংবাদিত ইমাম হিসাবে যাঁর খ্যাতি বিশ্বজোড়া, তিনি যে নিজেই স্বীয় গ্রন্থে কেবল নাম ব্যতীত কিছুই লিখতেন না! (আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনী, বাযালুল ইহসান বিতাকরীবি সুনান নাসাঈ)।</p>
<p style="text-align: justify;">(৩) শায়খ আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনী বলেন, একদিন আমরা কয়েকজন তাঁর বাড়িতে গেলে তিনি নিজেই দরজা খুললেন এবং সহাস্যবদনে আমাদেরকে অভ্যর্থনা জানালেন। আমরা সবাই তাঁর বাড়ীর বাগানে গিয়ে বসলাম। অতঃপর তিনি আমাদেরকে তাঁর সাথে নাশতা করতে বাধ্য করলেন। তিনি নিজে হাতে খাবার এনে আমাদের খাওয়াচ্ছিলেন। আমি উঠে তাঁকে সাহায্য করতে চাইলাম। কিন্তু তিনি ধমক দিয়ে আমাকে বসিয়ে দিলেন। আমি বিব্রতভাবে বললাম, শায়খ! আমি বসে থাকব আর আপনি আমার খেদমত করবেন, এটা তো আমার জন্য খুবই অভদ্রতার পরিচয়। উত্তরে শায়খ আলবানী মনের রাখার মত যে কথাটি বললেন, ‘দেখ, <strong>الامتثال هو الأدب، بل</strong> <strong>هو خير من الأدب</strong> ‘রাসূল (ছাঃ)-এর অনুসরণ করাই হ’ল ভদ্রতা। বরং ভদ্রতার চাইতেও উত্তম’ (বাদরুত তামাম ফী তারজামাতিশ শায়খ আল-ইমাম)।</p>
<h3><span style="color: #800000;">নিজের দোষ-ত্রুটি শিকারে দ্ব্যর্থহীন </span></h3>
<p style="text-align: justify;">একদিন জনৈক ছাত্র শায়খ আলবানীর একটি ভুল ধরিয়ে দিলে তিনি তার জন্য দো‘আ করে বললেন, এর জন্য আল্লাহ তোমাকে উত্তম জাযা দান করুন এবং আমাদের পারস্পরিক মহববতকে এমন মহববতে পরিণত করুন, যা পরস্পরকে উপদেশ প্রদান এবং আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম হয়। কেননা অনেক মানুষ অপরকে বলে থাকে যে, আমি তোমাকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসি। কিন্তু যখনই ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় সে কোন দোষ-ক্রটি করে ফেলে, তখন তাকে দূরে ঠেলে দেয় ও তার মর্যাদাহানি করে। এটা কখনোই ‘আল্লাহ্র জন্য ভালোবাসা’র নিদর্শন নয়। বরং যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরস্পরকে উপদেশ দেওয়া হবে তখনই তা প্রকৃত ভ্রাতৃত্ব বলে গণ্য হবে। সুতরাং যখন তুমি আমার কোন ভুল-ক্রটি দেখবে, তখন অবশ্যই আমাকে সংশোধন করে দিবে (সিলসিলাতুল হুদা ওয়ান নূর, আলবানীর বক্তব্যের অডিও রেকর্ড ৮২/৩:৭)। তিনি বলতেন, <strong>السَّعيد من وُعظ بغيره</strong> সৌভাগ্যবান সেই যে অন্যের দ্বারা উপদেশ/পরামর্শ প্রাপ্ত হয়।</p>
<h3><span style="color: #800000;">তিন মনীষীর মহামিলন </span></h3>
<p style="text-align: justify;">শায়খ আলবানী জীবনের শেষ হজব্রত পালনকালে মিনায় অবস্থান করছেন। সেখানে তিনিসহ আরো রয়েছেন শায়খ বিন বায এবং শায়খ উছায়মীন। তাদের উপস্থিতিতে বিরাট মজলিসে প্রশ্নোত্তর বৈঠক শুরু হ’ল। সভাপতি হিসাবে শায়খ বিন বায প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য হাদীছ সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর শায়খ আলবানীকে, ফিক্বহী প্রশ্নের উত্তর শায়খ উছায়মীনকে এবং আক্বীদাগত প্রশ্নের উত্তর প্রদানের দায়িত্ব নিজেই নিলেন। অতঃপর যোহরের সময় হ’ল। শায়খ বিন বায শায়খ আলবানীকে বললেন, হে আবু আব্দুর রহমান! আজ আপনি ছালাতে আমাদের ইমামতি করবেন, আপনি আমাদের ইমাম। শায়খ আলবানী অস্বীকৃতি জানিয়ে বললেন, না না শায়খ, বরং আপনাকেই ইমামতি করতে হবে, আপনি আমাদের শায়খ। শায়খ বিন বায বললেন, আমরা কুরআনের ক্ষেত্রে সকলেই সমান হ’তে পারি। কিন্তু রাসূল (ছাঃ)-এর হাদীছের ক্ষেত্রে আপনি আমাদের মাঝে সর্বাধিক অবগত। সুতরাং আপনিই ইমামতি করুন। অবশেষে শায়খ আলবানী ইমামতির জন্য এগিয়ে গেলেন এবং বললেন, হে শায়খ! আমি কি রাসূল (ছাঃ)-এর ন্যায় ছালাত আদায় করব, না সংক্ষিপ্তভাবে আদায় করব? শায়খ বিন বায বললেন, রাসূল (ছাঃ)-এর অনুরূপ ছালাত আদায় করুন এবং আমাদেরকে শিখিয়ে দিন কিভাবে রাসূল (ছাঃ) ছালাত আদায় করতেন।</p>
<h3><span style="color: #800000;">গাড়িচালক আলবানী </span></h3>
<p style="text-align: justify;">শায়খ আলবানী একদিন নিজের গাড়ি চালাচ্ছিলেন। জনৈক ছাত্র তাঁর গাড়িতে উঠলো। শায়খ আলবানী তখন দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। ছাত্রটি ভয় পেয়ে তাঁকে বলল, শায়খ! গাড়ির গতি ধীর করুন। শায়খ বিন বায বলেছেন, জোরে গাড়ি চালানো নিজেকে ধ্বংসে নিপতিত করার শামিল। উত্তরে শায়খ আলবানী বললেন, এই ফৎওয়া গাড়ি চালনায় অদক্ষদের জন্য, আমার জন্য নয়। ছাত্রটি বলল, আমি কি আপনার এই কথাটি শায়খ বিন বাযকে শোনাবো? তিনি বললেন, হ্যা, তাঁকে বল। পরে ছাত্রটি একথা শায়খ বিন বাযকে জানালে তিনি হাসতে লাগলেন এবং বললেন, তাঁকে বল এই ফৎওয়া তাদের জন্য যাদের এ্যাকসিডেন্ট করে রক্তপণ দেয়ার অভিজ্ঞতা হয়নি (সঊদী আরবে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিকে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। তাই যাদের একবার এরূপ অভিজ্ঞতা হয়েছে, তারা এমনিতেই সাবধানে গাড়ি চালায়) (তরজমাতুস সাদহান লিশ শায়খ বিন বায)।</p>
<h3><span style="color: #800000;">খেলাধুলায় আলবানী </span></h3>
<p style="text-align: justify;">শায়খ আব্দুল্লাহ বিন ছালেহ (মৃত্যু ১৪৩২হিঃ) বলেন, মদীনায় অনেক বিখ্যাত আলেম-ওলামার সাথে আমার বন্ধুত্ব ছিল। তাঁদের মধ্যে শায়খ আলবানী ছিলেন আমার সবচেয়ে অন্তরঙ্গ বন্ধু। আমরা একত্রে বহুবার সফর করেছি। তিনি একাধারে আমার উস্তাদ এবং বন্ধু ছিলেন। যে বিষয়েই তাঁর সাথে কথা বলা হোক না কেন, তিনি হাদীছ দিয়ে কথা বলতেন এবং সনদের শুদ্ধাশুদ্ধি উল্লেখ করতেন। কুরআন থেকে তিনি এমনভাবে দলীল দিতেন যেন কুরআন তাঁর চোখের সামনে ভাসছে। একবার মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের নিয়ে আমরা মাঠে নামলাম। ছাত্ররা ফুটবল খেলছিল। শায়খ আলবানীও নিজের পোষাক পরিহিত অবস্থাতেই মাঝে মাঝে তাদের সাথে খেলছিলেন। আমি বললাম, আপনি করছেন কি? আপনি ফুটবল খেলছেন, অথচ আপনি আলবানী! উত্তরে তিনি বললেন, <strong>أتقوى بها على الطاعة وهي لا تلهيني عن ذكر ربي</strong> ‘এর দ্বারা আমি আল্লাহ্র আনুগত্যে শক্তি অর্জন করছি। আর এটি আমাকে আমার প্রভুর স্মরণ থেকে উদাসীন করছে না।’</p>
<h3><span style="color: #800000;">সৃজনশীল কারিগর </span></h3>
<p style="text-align: justify;">শায়খ আলবানী ইলমে হাদীছে অসামান্য অবদান রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নির্মাণেও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। যেমন-</p>
<p style="text-align: justify;"><strong>(১)</strong> অধ্যাপক মাহমূদ রেযা বলেন, একবার শায়খ আলবানী আমাকে তাঁর গৃহের ছাদে নিয়ে গিয়ে স্বীয় উদ্ভাবিত একটি যন্ত্র দেখালেন, যা সূর্যের কিরণে বিশেষ প্রক্রিয়ায় গরম হ’ত। সালফার, আলকাতরা ইত্যাদি পদার্থের মিশ্রণে নির্মিত এই জটিল বৈজ্ঞানিক যন্ত্রটি শীতকালে তাঁর ঘরের উষ্ণতা ধরে রাখত (মুহাম্মাদ রেযা মুরাদ, মাসিক আদ-দাওয়াহ, ১৮১৮ সংখ্যা, শা‘বান ১৪২০ হিঃ)।</p>
<p style="text-align: justify;"><strong>(২)</strong> তিনি সূর্যের সাথে সম্পর্কযুক্ত ছালাতের সঠিক সময় নির্ণয়কারী একটি ঘড়ি নির্মাণ করেন। তবে তাঁর বাড়িতে ভ্রমণকারীরা সবচেয়ে বিস্মিত হ’ত তাঁর স্বনির্মিত লিফটটি দেখে, যার মাধ্যমে তিনি উপর তলায় উঠতেন। স্থুল স্বাস্থ্যের কারণে উপরে পায়ে হেঁটে উঠতে তাঁর কষ্ট হ’ত। তাঁর এই লিফটটির সাথে একটি ডায়নামা সদৃশ যন্ত্র যুক্ত করা ছিল। সুইচ টিপ দিলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে উঠা-নামা করত। এছাড়া তিনি বই-পত্র রাখার জন্য একটি ঘূর্ণায়মান র‌্যাক তৈরী করেছিলেন, যেখানে তিনি নিত্যপ্রয়োজনীয় বইসমূহ রাখতেন। বিশেষতঃ জারাহ-তা‘দীল এবং রিজাল শাস্ত্রের বইগুলো তিনি এই র‌্যাকে রাখতেন। তিনি চিকিৎসাবিদ্যাতেও পারদর্শী ছিলেন। এমনকি স্বীয় সন্তান মুহাম্মাদের প্রসবকার্যে তিনি একাই স্ত্রীকে সাহায্য করেছিলেন (ইছাম হাদী, আলবানী কামা ‘আরাফতুহু ১০৪ পৃঃ)।</p>
<p style="text-align: justify;"><strong>(৩)</strong> বৈদ্যুতিক কাজসহ গাড়ি মেরামতেও তাঁর দক্ষতা ছিল আশ্চর্য ধরনের। একাধিক দাওয়াতী সফরে গাড়ি নষ্ট হয়ে গেলে তাঁকে নিজেই তা মেরামত করতে দেখা গেছে। তাঁর ছাত্র শায়খ আদনান স্বীয় অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, একবার তিনি শায়খ আলবানীর সাথে রেডিও কিনতে গিয়েছিলেন। আলবানী দোকানীকে রেডিও সম্পর্কে দক্ষ বিশেষজ্ঞের মত প্রশ্নবাণে জর্জরিত করতে লাগলেন। যেমন, রেডিও তরঙ্গ কয়টি? কয়টি ব্যাটারী প্রয়োজন হয়? পাওয়ার কত? কোন দেশে তৈরী ইত্যাদি। তিনি শায়খকে বললেন, এগুলিতো রেডিওর খুব সূক্ষ্ম বিষয়, আপনি বোঝেন কিভাবে? আলবানী বললেন, তুমি কি মনে করেছ, আমাদেরকে কেবল ইলমে হাদীছের ক্ষেত্রেই সূক্ষ্মতা অবলম্বন করতে হবে? না, বরং সর্বক্ষেত্রেই এ নীতি প্রযোজ্য। আমরা কেবল দ্বীনের ক্ষেত্রেই তাক্বলীদকে অস্বীকার করি না। বরং যে কোন বিষয়েই অন্যের তাক্বলীদকে অস্বীকার করি।</p>
<p style="text-align: justify;"><strong>(৪)</strong> অনুরূপভাবে ইয়ারমূক বিশ্ববিদ্যালয়ের উছূলে ফিক্বহ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. ফারূক সামেরাঈ স্মৃতিচারণ করে বলেন, শায়খ আলবানীর সাথে আমার পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। তিনি বাড়িতে হাঁস-মুরগী, কবুতর ইত্যাদি পালন করতেন। একবার তিনি সপরিবারে ওমরা করতে যাবেন। দুই সপ্তাহ বাড়ি খালি থাকবে। কিন্তু এসব প্রাণীর খাদ্য-পানীয়ের সংস্থান কিভাবে হবে? তিনি চিন্তায় পড়ে গেলেন। তারপর যথারীতি নিজের সৃজনশীলতা দিয়ে তিনি একটি চমৎকার যন্ত্র বানিয়ে ফেললেন, যা প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্যশস্য এবং পানীয় প্রত্যেক খাঁচায় ঢেলে দেবে। এভাবে পরিকল্পিত উপায়ে সবকিছু ঠিকঠাক চলতে লাগল। সফর থেকে ফিরে এসে দেখলেন সব পশু-পাখি সুন্দরভাবে খেয়ে-দেয়ে বেঁচে আছে। কোন সমস্যা হয়নি। তিনি যেমনটি চেয়েছিলেন, তেমনটিই হয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify;"><strong>(৫)</strong> ড. আব্দুল আযীয সাদহান লিখেছেন, শায়খ আলবানীর বাসায় অনেক পাখি ছিল। পাখিদের বাসা ছিল তাঁর বারান্দা থেকে প্রায় ২০ মিটার দূরে। তাই প্রতিদিন পাখির খাবার ব্যবস্থা করতে তিনি বারান্দা থেকে একটি পাইপ লাগিয়ে দেন। যার অপর মুখটি ছিল পাখির বাসা পর্যন্ত দীর্ঘ। তিনি প্রতিদিন ঐ পাইপটি পাখিদের খাবার দিয়ে ভরে রাখতেন। ফলে অপর মুখ থেকে পাখিরা যখনই কিছু খাবার খেত, তখনই পাইপের মুখে বাকি খাবার অল্প অল্প করে নেমে আসত। ফলে বার বার খাবার দেয়ার পরিশ্রম করতে হত না। এভাবে তাঁর সবকিছুতেই ছিল সৃষ্টিশীলতার ছাপ (ইমাম আলবানী দুরূস ওয়া মাওয়াকেফ ওয়া ইবার ১১১ পৃঃ)।</p>
<h3><span style="color: #800000;">প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব </span></h3>
<p style="text-align: justify;">একদিন শায়খ সাম‘আনী শায়খ আলবানীকে তাবলীগ জামা‘আত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি চমৎকার এক উদাহরণ পেশ করে বললেন, এই জামা‘আতের মত ইখলাছপূর্ণ এবং আমলসমৃদ্ধ কোন জামা‘আত আজ পর্যন্ত আমার নযরে পড়েনি। কিন্তু তাদের অবস্থা হ’ল ঐ অতি উৎসাহী কুর্দী ব্যক্তির মত, যে ইসলাম প্রচারের জন্য বের হয়েছে। অতঃপর সামনে একজন ইহুদীকে পেয়ে খঞ্জর উঁচিয়ে বলল, তোমার জন্য ধ্বংস, তুমি ইসলাম গ্রহণ কর। সে আত্মসমর্পণ করে বলল, ঠিক আছে ইসলাম গ্রহণ করব। এখন বল, কি বলে আমি ইসলাম গ্রহণ করব? কিংকর্তব্যবিমূঢ় কুর্দী তখন বলল, হায় হায় এটা তো আমার জানা নেই! (অর্থাৎ তারা দ্বীনের তাবলীগ করে বটে; কিন্তু দ্বীন সম্পর্কে তাদের সঠিক জ্ঞান নেই)।</p>
<h3><span style="color: #800000;">প্রচারবিমুখতা </span></h3>
<p style="text-align: justify;">১৯৮৪ সালে সঊদী আরব সফরকালে তাঁর এক সঊদী সাথী তাঁকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালেন এবং এটাও বললেন, আপনার আগমনে সেখানে ত্রিশ লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি হবে ইনশাআল্লাহ। একথা শুনে আলবানী বেঁকে বসলেন এবং বারংবার নিবেদন সত্ত্বেও কোনক্রমে রাযী হলেন না। বাসায় ফিরে আসলে তার এক সাথী দাওয়াত কবুল না করার কারণ জিজ্ঞেস করলে উত্তরে তিনি বললেন, <strong>إني أخشي علي نفسي الفةنة</strong> আমি আমার উপর ফিতনার আশংকা করছি (অর্থাৎ এতে আমার মধ্যে আত্মগর্বের সৃষ্টি হতে পারে)।</p>
<p style="text-align: justify;">একবার তিনি গাড়িতে বসেছিলেন। হঠাৎ এক ব্যক্তি তাকে চিনতে পেরে ছুটে এসে বলল, আপনিই কি শায়খ আলবানী? একথা শুনে আলবানী কেঁদে ফেললেন। পরে তাঁকে কাঁদার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন,<strong> ينبغي للمرء أن يجاهد نفسه وأن لا يغتربإشارة الناس إليه</strong> ‘প্রত্যেক মানুষেরই উচিৎ আত্মপরিশুদ্ধির জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করা এবং তার প্রতি মানুষের আগ্রহ ও কৌতুহলের কারণে আত্মপ্রবঞ্চিত না হওয়া (ড. আব্দুল আযীয সাদহান, ইমাম আলবানী দুরূস মাওয়াকেফ ওয়া ইবার ১২৬ পৃঃ)।</p>
<p>আধুনিক যুগের ইলমে হাদীছের এই শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্বের বৈচিত্র্যময় কর্মকান্ড সত্যিই বিস্ময়কর বৈকি!</p>
<h3><span style="color: #800000;">কারাজীবনে আলবানী </span></h3>
<p style="text-align: justify;">শায়খ আলবানীকে বিনা অপরাধে সন্দেহের বশে কয়েকজন আলেমের সাথে কারান্তরীণ হতে হয়েছিল। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাঈল যুদ্ধের প্রেক্ষিতে ১৯৬৯ সালে তিনি সিরিয়ার বিখ্যাত কেল‘আ কারাগারে কয়েকমাসের জন্য বন্দী ছিলেন। এই কারাগারেই একসময় বন্দী জীবন কাটিয়েছিলেন শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তায়মিয়াহ (১২৬৩-১৩২৮ইং)।</p>
<p style="text-align: justify;">আলবানী বাইরের ন্যায় কারাভ্যন্তরেও দ্বীনের দাওয়াত দেন এবং তাকলীদ থেকে মুক্ত হয়ে বিশুদ্ধ ঈমান ও আমলের প্রতি সকলকে দাওয়াত দেন। তিনি ইবনে তায়মিয়া (রহঃ)-এর পরে সর্বপ্রথম কেল‘আ কারাগারে একত্রে জুম‘আর ছালাত চালু করেন। মুক্তির কিছুদিন পরই তিনি পুনরায় গ্রেফতার হন এবং প্রায় আট মাস কারাবাস করেন। এসময় তিনি মুনযেরী কর্তৃক সংকলিত মুখতাছার ছহীহ মুসলিমের তাহকীক সম্পন্ন করেন।</p>
<p style="text-align: justify;">Courtesy: মাসিক আত- তাহরীক</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.quraneralo.com/memories-of-sheikh-albani/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>1</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>হাদিসের গল্প &#8211; ছুমামাহর প্রতি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর উত্তম আচরণের অনুপম নিদর্শন</title>
		<link>http://www.quraneralo.com/stories-from-hadith-1/</link>
		<comments>http://www.quraneralo.com/stories-from-hadith-1/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 18 Apr 2013 05:47:56 +0000</pubDate>
		<dc:creator>QuranerAlo Editor</dc:creator>
				<category><![CDATA[হাদিসের গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[উৎসাহ উদ্দিপনা মূলক গল্প]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.quraneralo.com/?p=4184</guid>
		<description><![CDATA[সংকলন ও প্রকাশনায় : কুরআনের আলো টিম আবু  হুরায়রা  (রা:)  হ’তে  বর্ণিত  তিনি  বলেন,  একবার  রাসূল  (সাঃ) নাজদের দিকে কিছু অশ্বারোহী (সৈন্য) পাঠালেন। তারা বনী হানীফা গোত্রের জনৈক ব্যক্তিকে ধরে আনল। তার নাম ছুমামাহ বিন উছাল।সে ইয়ামামাবাসীদের সরদার। তারা তাকে মসজিদে নববীর একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রাখল। রাসূল (সাঃ) তার কাছে আসলেন এবং তাকে জিজ্ঞেস করলেন, [...]]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: center;"><b>সংকলন ও প্রকাশনায় :</b> কুরআনের আলো টিম</p>
<p style="text-align: justify;"><img class="aligncenter size-full wp-image-4193" alt="5878688104_43b15e67ea" src="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2013/04/5878688104_43b15e67ea.jpg" width="500" height="333" /></p>
<p style="text-align: justify;">আবু  হুরায়রা  (রা:)  হ’তে  বর্ণিত  তিনি  বলেন,  একবার  রাসূল  (সাঃ) নাজদের দিকে কিছু অশ্বারোহী (সৈন্য) পাঠালেন। তারা বনী হানীফা গোত্রের জনৈক ব্যক্তিকে ধরে আনল। তার নাম ছুমামাহ বিন উছাল।সে ইয়ামামাবাসীদের সরদার। তারা তাকে মসজিদে নববীর একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রাখল।</p>
<p style="text-align: justify;">রাসূল (সাঃ) তার কাছে আসলেন এবং তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ওহে ছুমামাহ! তুমি কি মনে করছ’? সে বলল, ‘হে মুহাম্মাদ! আমার ধারণা ভালই। যদি আপনি আমাকে হত্যা করেন, তাহ’লে অবশ্যই আপনি একজন খুনীকে হত্যা করবেন। আর  যদি আপনি অনুগ্রহ করেন, তাহ’লে একজন কৃতজ্ঞ ব্যক্তির উপরই অনুগ্রহ করবেন। আর যদি আপনি মাল চান, তাহ’লে যা ইচ্ছা চাইতে পারেন, তা আদায় করা হবে’। তার কথা শুনে রাসূল (সাঃ) তাকে (সেদিনের মত তার নিজের অবস্থার উপর) ছেড়ে দিলেন।</p>
<p style="text-align: justify;">অতঃপর পরের দিন নবী করীম (সাঃ) তাকে পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, ‘ওহে ছুমামাহ! তোমার কি মনে হচ্ছে’? সে জবাবে বলল, ‘তাই মনে হচ্ছে, যা আমি আপনাকে পূর্বেই বলেছি। যদি আপনি আমার প্রতি মেহেরবানী করেন, তাহ’লে একজন কৃতজ্ঞ ব্যক্তির উপর মেহেরবানী করবেন। আর যদি আপনি হত্যা করেন, তাহ’লে একজন খুনী লোককে হত্যা করবেন। আর যদি মাল-সম্পদ চান, তাহ’লে যা ইচ্ছা চাইতে পারেন, তা দেয়া হবে’।</p>
<p style="text-align: justify;">রাসূল (সাঃ) আজও তাকে (নিজের অবস্থার উপর) ছেড়ে দিলেন। এভাবে রাসূল (সাঃ) তৃতীয় দিনে  তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ওহে ছুমামাহ! তোমার কি মনে হচ্ছে’? জওয়াবে সে বলল, ‘আমার তাই মনে হচ্ছে, যা আমি পূর্বেই আপনাকে বলেছি।যদি আপনি আমার   প্রতি অনুকম্পা প্রদর্শন করেন, তাহ’লে একজন কৃতজ্ঞ  ব্যক্তির উপরই অনুকম্পা করবেন। আর যদি আপনি  আমাকে হত্যা করেন, তাহ’লে একজন খুনীকে হত্যা করবেন। আর যদি আপনি মাল-সম্পদ চান, তাহ’লে যতটা ইচ্ছা চাইতে পারেন, তা দেয়া হবে’।</p>
<p style="text-align: justify;">অতঃপর রাসূল (সাঃ) বললেন, ‘তোমরা ছুমামাহকে ছেড়ে দাও’! (তাকে ছেড়ে দেওয়া হ’ল)।</p>
<p style="text-align: justify;">অতঃপর সে মসজিদের নিকটবর্তী একটি খেজুর বাগানে গিয়ে গোসল করল। অতঃপর মসজিদে প্রবেশ করে বলে উঠল:</p>
<p style="text-align: justify;">‘<strong>আশহাদু আললা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আনণা মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু</strong>’।</p>
<p style="text-align: justify;">‘হে মুহাম্মাদ! আল্লাহ্‌ কসম! পৃথিবীর বুকে আপনার চেহারা অপেক্ষা আর কারও চেহারা আমার নিকট অধিক ঘৃণ্য ছিল না। কিন্তু এখন আপনার চেহারা আমার কাছে সবচেয়ে বেশী প্রিয় হয়ে গেছে।আল্লাহ্‌ কসম! (ইতিপূর্বে) আপনার দ্বীন অপেক্ষা অধিক অপ্রিয় দ্বীন আমার কাছে আর কোনটিই ছিল না। কিন্তু এখন আপনার দ্বীনই আমার কাছে সর্বাপেক্ষা প্রিয় হয়ে গেছে। আল্লাহ্‌ কসম! (এর আগে) আপনার শহরের চেয়ে অধিক ঘৃণ্য শহর আর কোনটিই আমার কাছে ছিল না।কিন্তু এখন আপনার শহরটিই আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় হয়ে গেছে।আপনার অশ্বারোহীরা আমাকে এমন অবস্থায় ধরে এনেছে, যখন আমি ওমরাহ করার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিলাম। এখন আপনি আমাকে কি করতে হুকুম দিচ্ছেন?</p>
<p style="text-align: justify;">রাসূল (সাঃ) তাকে সুসংবাদ শুনালেন এবং ওমরাহ পালনের আদেশ করলেন।এরপর যখন তিনি মক্কায় পৌছলেন, তখন জনৈক ব্যক্তি তাকে বলল, তুমি না কি বেদ্বীন হয়ে গেছ? তিনি জওয়াবে বললেন, ‘তা হবে কেন; বরং আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছি।আর আল্লাহ্‌ কসম! রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর অনুমতি ছাড়া তোমাদের কাছে ইয়ামামা হ’তে আর একটি গমের দানাও আসবে না’</p>
<p style="text-align: justify;">(বুখারী হা/৪৬২, মুসলিম হা/১৭৬৪, আলবানী, মিশকাত হা/৩৯৬৪, ‘জিহাদ’অধ্যায়, ‘যুদ্ধবন্দীদের বিধান’অনুচেছদ) ।</p>
<p style="text-align: justify;"> <span style="color: #993300;"><strong>শিক্ষা:</strong></span></p>
<p style="text-align: justify;">উত্তম আচরণ ও ক্ষমার মাধ্যমে মানুষের হৃদয় জয় করা যায়। এজন্যই বলা হয়, ক্ষমাই উত্তম প্রতিশোধ। মহান আল্লাহ্‌ বলেন, ‘<span style="color: #800000;"><strong>মন্দকে ভাল দ্বারা মোকাবেলা কর, ফলে তোমার সাথে যার শত্রুতা আছে, সে অন্তরঙ্গ বন্ধুতে পরিণত হবে</strong></span>’ (হা-মীম সাজদাহ ৩৪) ।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.quraneralo.com/stories-from-hadith-1/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>2</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>একজন মহিলা ও তার জুতার গল্প</title>
		<link>http://www.quraneralo.com/story-of-a-barefooted-lady/</link>
		<comments>http://www.quraneralo.com/story-of-a-barefooted-lady/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 14 Mar 2013 04:00:05 +0000</pubDate>
		<dc:creator>QuranerAlo.com Editor</dc:creator>
				<category><![CDATA[উৎসাহ উদ্দিপনা মূলক গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[গল্প]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.quraneralo.com/?p=2753</guid>
		<description><![CDATA[লিখেছেনঃ রিহাব রামাদান অনুবাদ ও প্রকাশনায়ঃ কুরআনের আলো ওয়েবসাইট &#124; English Version মহিলাটি নিঃশব্দে ট্রেনে উঠে পড়ল; যদি তার চোখে চোখ না পড়ে যেত, আমি বুঝতেও পারতাম না যে তার চোখ ছলছল করছিল। যেকোনো মুহূর্তে সেই অশ্রু যেন ঝরে পড়বে। আমি তার পায়ের দিকে তাকালাম, দেখলাম খালি পা, এক জোড়া জুতা তার হাতে। কোলে কম্বলে [...]]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: center;"><strong>লিখেছেনঃ</strong> রিহাব রামাদান</p>
<p style="text-align: center;"><strong>অনুবাদ ও প্রকাশনায়ঃ</strong> কুরআনের আলো ওয়েবসাইট | <a href="http://www.suhaibwebb.com/personaldvlpt/character/slippers-for-sale/" target="_blank">English Version</a></p>
<p style="text-align: center;"><img class="aligncenter size-full wp-image-4106" alt="8" src="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2013/03/8.jpg" width="240" height="160" /></p>
<p>মহিলাটি নিঃশব্দে ট্রেনে উঠে পড়ল; যদি তার চোখে চোখ না পড়ে যেত, আমি বুঝতেও পারতাম না যে তার চোখ ছলছল করছিল। যেকোনো মুহূর্তে সেই অশ্রু যেন ঝরে পড়বে। আমি তার পায়ের দিকে তাকালাম, দেখলাম খালি পা, এক জোড়া জুতা তার হাতে। কোলে কম্বলে মোড়ানো একটি ছোট শিশু; শিশুটি কোন শব্দ করছেনা। মহিলাটি যাত্রীদের কাছে এসে নিচুস্বরে কি যেন বলছিল, কিন্তু তার কথা ফেরিওয়ালার কণ্ঠ ঢেকে দিচ্ছিল। মহিলাটি ট্রেনের এক পাশে আমার কাছাকাছি আসলো। তার পুরনো ব্যবহৃত ক্ষয়ে যাওয়া জুতা জোড়ার দিকে লজ্জিতভাবে তাকিয়ে আস্তে বলল, ‘কারও কি এটা লাগবে? কেউ কি আমার কাছ থেকে জুতা তা কিনবেন?’ সবাই বিব্রতভাবে না করে দিল, কেউ বুঝে পেল না কেনই বা কেউ ব্যাবহার করা, পুরনো, ক্ষয় হয়ে যাওয়া জুতা কিনবে। অন্য একজন মহিলা ব্যাগ থেকে কিছু টাকা বের করে তাকে দান করতে চাইল। কিন্তু মহিলাটি এমন কিছু গ্রহন করতে অস্বীকার করল; তার ঘুমন্ত শিশুর হাতের মধ্যে দেওয়ার পরও সে তা ফিরিয়ে দিল। সে তখন জুবুথুবু হয়ে পরাজিতের মত ট্রেনের দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>মহিলাটি তার মুখ এমনভাবে নীচু করে রাখল যেন অন্য যাত্রীরা তার চোখ থেকে গড়িয়ে পরা অশ্রু দেখতে না পায়। তখন একজন মহিলা তার কাছে এগিয়ে গিয়ে আস্তে করে বলল, ‘আমি তোমার কাছ থেকে জুতা জোড়াটা কিনব।’ তখন জুতা হাতে সেই মহিলাটি আশান্বিত হয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘কিনবেন, তাইতো? আপনি কিনে নেবেন? দান না তো, আমি কিন্তু ভিক্ষা চাচ্ছি না।’ অন্য মহিলাটি তখন হেসে মাথা ঝাকাল, তারপর বড় একটি নোট তার হাতে গুজে দিয়ে জুতা জোড়া হাতে নিয়ে চলে গেল।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এইমাত্র ঘটে যাওয়া ঘটনাটি দেখে সঙ্গে সঙ্গে আমার মাথায় কুরআনের একটি আয়াত ঘুরতে লাগলোঃ</p>
<p>“<span style="color: #800000;">যারা আল্লাহর পথে অবরুদ্ধ রয়েছে বলে ভূপৃষ্ঠে গমনাগমনে অপারগ সেই সব দরিদ্রদের জন্য ব্যায় কর; (ভিক্ষা হতে) নিবৃত থাকার কারণে অজ্ঞ লোকেরা তাদেরকে অবস্থাপন্ন মনে করে, তুমি তাদেরকে তাদের লক্ষণের দ্বারা চিনতে পার, তারা লোকের নিকট ব্যাকুলভাবে যাচ্ঞা (ভিক্ষা করে না) করে না এবং তোমরা শুদ্ধ সম্পদ হতে যা ব্যায় কর বস্তুতঃ সে সমস্ত বিষয় আল্লাহ সম্যকরূপে অবগত।</span>” [সূরা বাকারাঃ ২৭৩]</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আমি জানিনা এই মহিলার ঘটনা কি, টাকাটা তার কেন দরকার, অথবা টাকাটা দিয়ে সে কি করবে; আমি যা জানি তা হল তার চোখে যন্ত্রণার চিহ্ন, তার কাধে যেন অনেক ভারী বোঝার ভার। এই আয়াতটি আমি আগে বহুবার পড়েছি, এই আয়াত নিয়ে বহু আলোচনা শুনেছি, কিন্তু কখনও এই আয়াতের ওজন বুঝিনি; আজ বুঝলাম যখন আমার চোখের সামনে আয়াতটিকে এভাবে জলজ্যান্ত ঘটে যেতে দেখলাম।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আবারও আমার মাথায় নানান কথা ঘুরতে থাকল, এবার হাদিসের কথা। আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, একজন লোক এসে রাসুল (সাঃ) কে জিজ্ঞেস করল, <span style="color: #800000;">আমি কি আমার উট বেঁধে রাখব আর তারপর আল্লাহর উপর তাওাক্কুল রাখব, নাকি উটকে খোলা ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর উপর তাওাক্কুল রাখব? উত্তরে রাসুল (সাঃ) বললেন, ‘তাকে বেঁধে রাখ, এবং সেই সাথে আল্লাহর উপর তাওাক্কুল রাখো।’</span> [তিরমিযী]</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>মহিলাটির জন্য হাল ছেড়ে দেওয়াই সহজ ছিল, যদি সে এইটা ভাবত যে তার কাছে বিক্রি করার মতও কিছু নেই, কাজেই এমন কোন উপায় নেই যাতে সে কিছু টাকা পেতে পারে। তা সত্ত্বেও সে এই হাদিসটি বাস্তবায়িত করে দেখাল। তার কাছে যাই অকিঞ্চিৎকর ছিল তাই সম্বল করল, যেটা আসলে ট্রেনের যাত্রীদের কাছে মুল্যহীন ছিল। সে আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা রাখল, এবং এমন মুল্য পেল যা সে দর কষাকষি করে কখনই পেতে পারত না। যেমন, আল্লাহ সুবহানা ওয়াতা’আলা বলেনঃ</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>“<span style="color: #800000;">...যে আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহ তার পথ সহজ করে দিবেন। আর তাকে তার ধারনাতীত  উৎস হতে দান করবেন রিজিক; যে ব্যাক্তি আল্লাহর উপর নির্ভর করে তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, আল্লাহ তার ইচ্ছা পুরন করবেনই, আল্লাহ সবকিছুর জন্য স্থির করেছেন নির্দিষ্ট মাত্রা।</span>” [সূরা তালাকঃ ২-৩]</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>ট্রেনের মধ্যে নিজস্ব ব্যাক্তিগত সমস্যা সমাধানে ব্যাস্ত এক অচেনা মহিলা আমাকে কয়েক মুহূর্তের মধ্যে কত গভীর শিক্ষা দিয়ে গেল। সেই মহিলার হাতে খুব সামান্য কিছুই ছিল, কিন্তু আমি এটা বলতে পারি, তার অন্তর পরিপূর্ণ ছিল। তার কাছ থেকেই আমারা বুঝতে পারি, সব কিছু দেওয়ার ক্ষমতা শুধুমাত্র আল্লাহর- তিনি তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী দেন, আমাদের আশা অনুযায়ী নয়। আমরা যদিও ভাবি, কোন পরিস্থিতিতে আমাদের হয়তো তেমন কিছুই করার নেই, আমাদের আবার ভেবে দেখা উচিত। কারণ আল্লাহ আমাদের সেই সামান্য পুঁজিই আমাদের আশাতীত হারে বহুগুনে বাড়িয়ে দিতে পারেন। এবং সবশেষে আমরা সেই সব অভাবী মানুষ সম্পর্কে চিন্তা করব যাদের কথা আল্লাহ বলেছেন, তাদের অন্তরের সেই ব্যাখ্যাতীত সৌন্দর্যের কথা ভাবব যেমন এই মহিলাটি দেখিয়েছেন।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.quraneralo.com/story-of-a-barefooted-lady/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>6</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>এক বাস ড্রাইভার</title>
		<link>http://www.quraneralo.com/story-of-a-bus-driver/</link>
		<comments>http://www.quraneralo.com/story-of-a-bus-driver/#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 03 Mar 2013 06:00:07 +0000</pubDate>
		<dc:creator>QuranerAlo.com Editor</dc:creator>
				<category><![CDATA[আখলাক | ব্যক্তিত্ব]]></category>
		<category><![CDATA[উৎসাহ উদ্দিপনা মূলক গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে এবং দৈনন্দিন চলাফেরা]]></category>
		<category><![CDATA[মিথ্যারোপ]]></category>
		<category><![CDATA[হঠকারীতার পরিচয়]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.quraneralo.com/?p=2681</guid>
		<description><![CDATA[বাংলা অনুবাদঃ জহিরুল কাইয়ুম ।  ওয়েব সম্পাদনাঃ মোঃ মাহমুদ -ই- গাফফার &#124; English Version চমৎকার একটি দিন। ড্রাইভার স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে রাস্তা ধরে চলেছেন গন্তব্যের পানে। প্রথম কয়েকটি স্টপেজ ভালমতই পার হয়ে গেল। কেউ নামলো কেউ আবার উঠল। সবকিছুই ঠিকঠাক যাচ্ছিল। &#160; তারপর হল কি! পরবর্তী স্টপেজে ছয় ফুট আট ইঞ্চি লম্বা, সুঠাম [...]]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<div style="text-align: -webkit-center;"><strong>বাংলা অনুবাদঃ </strong>জহিরুল কাইয়ুম <strong>।  </strong><strong>ওয়েব</strong><strong> </strong><strong>সম্পাদনাঃ</strong><strong> </strong><strong>মোঃ</strong><strong> </strong><strong>মাহমুদ -</strong><strong>ই- </strong><strong>গাফফার | <a href="http://blog.iloveallaah.com/2012/01/bus-driver/" target="_blank">English Version</a></strong></div>
<p><img class="alignright size-full wp-image-2689" title="bus_driver_blues__by_mibella_amore-300x202" alt="" src="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/01/bus_driver_blues__by_mibella_amore-300x202.jpg" width="300" height="202" />চমৎকার একটি দিন। ড্রাইভার স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে রাস্তা ধরে চলেছেন গন্তব্যের পানে। প্রথম কয়েকটি স্টপেজ ভালমতই পার হয়ে গেল। কেউ নামলো কেউ আবার উঠল। সবকিছুই ঠিকঠাক যাচ্ছিল।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>তারপর হল কি! পরবর্তী স্টপেজে ছয় ফুট আট ইঞ্চি লম্বা, সুঠাম দেহী এক কুস্তিগীর উঠল গাড়ীতে। গাড়ীতে উঠে ড্রাইভারের দিয়ে কড়া নজরে তাকিয়ে বলল,  <span style="color: #008000;"><strong>“</strong><strong>পালোয়ান কখনো ভাড়া দেয় না</strong><strong>।</strong><strong>”</strong></span> তারপর গিয়ে বসল গাড়ির পেছনের এক সিটে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এ ফাঁকে বাস ড্রাইভারের দৈহিক বর্ণনাটাও দিয়ে রাখি। ড্রাইভার প্রায় পাঁচ ফুট তিন ইঞ্চি লম্বা,হালকা পাতলা গড়ন, আচার আচরণে মোটামুটি নম্র টাইপের। পালোয়ানের আচরণ ড্রাইভারের ভাল না লাগলেও পালোয়ানের সাথে ড্রাইভার কোন তর্ক-বিতর্কে জড়াতে যায়নি।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>পরের দিনও ঐ একই ঘটনা-সেই পালোয়ান আবার গাড়িতে উঠল এবং গতদিনের মত ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সিটে বসে পড়ল। পরের দিনও ঐ একই কাহিনী। তারপরের দিনও তাই।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>পালোয়ান বাসভাড়া না দিয়ে প্রতিদিন সুবিধা নিচ্ছে। বিষয়টি রীতিমত বাস ড্রাইভারের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে উঠল। এমনকি তার ঘুম হারাম হওয়ার জোগাড়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ড্রাইভার এবার অন্য পন্থা অবলম্বনের মনস্থির করল। সিদ্ধান্ত নিল পালোয়ানকে সায়েস্তা করার জন্যে বডি বিল্ডিং করবে। কারাতে,জুডো যা আছে  প্রয়োজনে সব শিখবে। পরিকল্পনা মাফিক এক প্রশিক্ষন কেন্দ্রে ভর্তিও হল।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>সময়টা গ্রীষ্মের শেষের দিক। প্রশিক্ষন নিয়ে ড্রাইভার নিজেই এবার পালোয়ান হয়ে উঠেছে। নিজের শক্তি-সামর্থ্যের ব্যাপারে সে এখন সন্তুষ্ট।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>পরের এক সোমবার পালোয়ান বাসে উঠে পূর্বের ভঙ্গিমায় বলল,<strong> </strong><span style="color: #008000;"><strong>“</strong><strong>পালোয়ান কখনো ভাড়া দেয় না</strong><strong>।</strong><strong>”</strong></span>  আর অমনি ড্রাইভার লাফিয়ে উঠে গলা ফাটিয়ে বলে উঠল, <span style="color: #008000;"><strong>“</strong><strong>কেন ভাড়া </strong><strong>দিস না</strong><strong>?</strong><strong>??!!!</strong><strong>”</strong></span></p>
<p><strong> </strong></p>
<p>হতভম্ব হয়ে পালোয়ান এবার জবাব দিল, <span style="color: #008000;"><strong>“</strong><strong>আমার </strong><strong>বিনামুল্যে বাস ভ্রমনের পাস আছে।</strong><strong>”</strong></span></p>
<p><strong> </strong></p>
<h3><span style="color: #993366;"><span style="color: #333399;"><strong>গল্পের </strong><strong>নৈতিক শিক্ষা</strong></span></span><strong></strong></h3>
<p>গল্পের নৈতিক শিক্ষা একেবারে পরিষ্কার যা আমাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে এবং দৈনন্দিন চলাফেরায় অবহেলা করে আমরা এড়িয়ে যাই।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><span style="color: #993366;"><strong>ঘটনা থেকে জানা গেল যে পুরো ঘটনা না জেনে হঠকারীতার পরিচয় দিয়ে কোন বিষয়ে উপসংহারে পৌঁছা মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়।</strong></span></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>একজন মুসলিম তার অপর মুসলিম ভাই সম্পর্কে উত্তম ধারণা পোষণ করবে এবং তাকে  সন্দেহের সুবিধা দেবে (কোন কারণে সন্দেহ করতে হলে তাকে ভাল জেনে পরবর্তী অনুসন্ধানে অগ্রসর হবে)। সম্ভব হলে তাকে তার অবস্থান বা পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেবে যেন সন্দেহের কোন কারণ থাকলে তা পরিষ্কার হয়ে যায়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<blockquote><p>“অনুমান করা থেকে বেঁচে থাকো। কারণ অনুমান হলো সবচেয়ে বড় মিথ্যা। আর বেঁচে থাকো অন্যের দোষ খোঁজা থেকে, এবং অন্যের উপর গোয়েন্দাগিরি করা থেকে, বেঁচে থাকো (মন্দ কাজে) প্রতিযোগিতা করা থেকে, বেঁচে থাক অপরের হিংসা করা থেকে, অপরকে ঘৃণা করা থেকে এবং একে অপরকে পরিহার করা থেকে; এমনভাবে থাকো যেন তোমরা পরস্পর ভাই এবং আল্লাহ্‌র দাস”।  [আল-বুখারী; খণ্ড ৮, অধ্যায় ৭৩, হাদীস নং ৯২]</p></blockquote>
<p>অন্যের কথাকে সর্বোত্তম উপায়ে ব্যাখ্যা করাটা হলো মু’মিনদের অন্যতম গুণ। ‘উমার (রা) বলেন,</p>
<blockquote><p>“তোমার বিশ্বাসী ভাইয়ের কোনো কথাকে খারাপ অর্থে গ্রহণ করো না, যতক্ষণ পর্যন্ত তা ভালো অর্থে নেওয়ার সুযোগ থাকে।”</p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong><span style="color: #339966;">একইভাবে ইসলামিক বিশেষজ্ঞগণের মত হল, যদি কাউকে সন্দেহ করার কোন কারণ থাকেও, তবুও মানুষের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় সন্দেহকে প্রশ্রয় দেয়া উচিত নয়।</span></strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>পরিশেষে,কোন ব্যক্তিকে মূল্যায়ন করার সময় উক্ত ব্যক্তির চারিত্রিক সকল দিক বিবেচনা করা এবং হঠকারীতা পরিহার করা উচিৎ। কারো উপর মিথ্যারোপ করা থেকে বেঁচে থাকার জন্য তার ব্যাপারে পুরো বিষয়টা পরিষ্কারভাবে জেনে নেয়া উচিত।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.quraneralo.com/story-of-a-bus-driver/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>4</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>করুন কিংবা না করুন!!</title>
		<link>http://www.quraneralo.com/do-it-or-not/</link>
		<comments>http://www.quraneralo.com/do-it-or-not/#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 24 Feb 2013 05:06:42 +0000</pubDate>
		<dc:creator>shabab</dc:creator>
				<category><![CDATA[বিষয়]]></category>
		<category><![CDATA[উৎসাহ উদ্দিপনা মূলক গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[না করুন]]></category>
		<category><![CDATA[করুন]]></category>
		<category><![CDATA[do it or not]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.quraneralo.com/?p=3337</guid>
		<description><![CDATA[অনুবাদ: আব্দুর রাকীব (মাদানী) &#124; সম্পাদনা: আব্দুল্লাহিল হাদী &#160; বিসমিল্লাহির রাহ্‌মানির রাহীম। আমি এবং আপনি .. তিনি এবং সে .. অমুক এবং তমুক .. আমরা প্রত্যেকে এই জীবনে কিছু না কিছু করি …. হতে পারে আপনি এখন রুজি-রোজগারের তল্লাশে ব্যস্ত আছেন। কিংবা খাওয়ার টেবিলে রুচিসম্পন্ন খাদ্য ভক্ষণ করছেন। কিংবা নরম বিছানায় মধুর ঘুমে আচ্ছন্ন আছেন। কিংবা [...]]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p dir="LTR" align="center"><span style="color: #003300;"><strong>অনুবাদ:</strong> আব্দুর রাকীব (মাদানী) | <strong>সম্পাদনা:</strong> আব্দুল্লাহিল হাদী</span></p>
<p dir="LTR" style="text-align: center;" align="center"><a href="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/05/last-chance.jpg"><img class="aligncenter  wp-image-3344" title="last chance" alt="" src="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/05/last-chance.jpg" width="462" height="309" /></a></p>
<p>&nbsp;</p>
<p><span style="color: #993300;">বিসমিল্লাহির রাহ্‌মানির রাহীম।</span></p>
<p dir="LTR">আমি এবং আপনি .. তিনি এবং সে .. অমুক এবং তমুক .. আমরা প্রত্যেকে এই জীবনে কিছু না কিছু করি …. হতে পারে আপনি এখন রুজি-রোজগারের তল্লাশে ব্যস্ত আছেন। কিংবা খাওয়ার টেবিলে রুচিসম্পন্ন খাদ্য ভক্ষণ করছেন। কিংবা নরম বিছানায় মধুর ঘুমে আচ্ছন্ন আছেন। কিংবা সুস্বাস্থের উদ্দেশ্যে ব্যায়াম করছেন। কিংবা সমুদ্র সৈকতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগের মাধ্যমে সাপ্তাহিক ছুটি কাটাচ্ছেন। কিংবা কোন মসজিদে নামায আদায় করছেন। কিংবা কুরআনের কিছু অংশ পড়ছেন। কিংবা আল্লাহর যিক্‌র করছেন। এর বিপরীতও হতে পারে!</p>
<p dir="LTR">হতে পারে প্রেম ভালবাসার হৈচৈ পূর্ণ গান শুনছেন ! কিংবা টেলিভিশনে অর্ধ নগ্ন নর্তকীদের দেখছেন ! কিংবা অন্য কিছু মন্দ কাজ করছেন .. হতে পারে ! যাই হোক না কেন , এসব কাজ আপনি করতে পারেন নাও করতে পারেন, অনুশীলন করতে পারেন আবার প্রত্যাখ্যানও করতে পারেন। <span style="color: #ff0000;">আপনি, কেবল আপনিই শুরু এবং শেষ সিদ্ধান্তের মালিক।</span></p>
<p dir="LTR">তাই আপনি সানন্দে কাজে যেতে পারেন কিংবা নাও যেতে পারেন! খেতে পারেন কিংবা নাও খেতে পারেন ! অনুরূপ আপনার পুরো ইচ্ছাধীনে যে, আপনি নামায পড়তে পারেন আবার নাও পড়তে পারেন ! আল্লাহকে স্মরণ করতে পারেন আবার নাও করতে পারেন ! নিকৃষ্ট কাজসমূহ করতে পারেন আবার নাও করতে পারেন ! বর্ণিত প্রত্যেক বিষয়ের মালিক আপনি , আপনি এসব ব্যাপারে <span style="color: #800080;"><strong>স্বাধীন</strong></span> । আপনি এসব কাজ করতেও পারেন নাও পারেন।</p>
<p dir="LTR"><span style="color: #993366;">কিন্তু .. শুধু একটি কাজ এমন আছে , যা হবেই হবে। এ বিষয়টি কিন্তু আগের চেয়ে ভিন্ন .. এটি করা এবং না করার স্বাধীনতা আপনার নেই ! বরং অবশ্যই এটা ঘটবে, আপনি তাতে সন্তুষ্ট থাকুন কিংবা অসন্তুষ্ট , চান বা না চান ! সেই অটল সত্যটি হচ্ছে যে, আপনাকে মরতে হবে !!</span></p>
<p dir="LTR">অত:পর অবশ্যই আপনাকে এক নতুন বাসস্থান এবং ভিন্ন জীবনে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আপনার সেই নতুন বাসস্থানটি একটি সংকীর্ণ গর্ত ছাড়া কিছুই হবে না যা, কেবল আপনার দেহটাকে কোনরূপে সেখানে রাখা সম্ভব হবে । তাছাড়া জানালা বিহীন, আলো বিহীন, এই স্থানটি কতই না অন্ধকার হবে! শুধু এতটুকুই নয় বরং উপর থেকে আপনার আপন লোক-জন , আত্মীয়-স্বজনরা নিষ্ঠুরের মত মাটি চাপিয়ে দিবে । আর অজানা অচেনা লোকের মত আপনাকে সেখানে একা ফেলে রেখে নিজ নিজ বাড়ী ফিরবে। যেন আপনি তাদের কেউই নন। আপনি আর্তনাদ ও চিৎকার করে যদি তাদের ডাকতেও থাকেন, তারা শুনতে পাবে না। আপনি শত চেষ্টা করলেও কাফনে জোড়ানো শরীরটাকে খুলে উঠে বসতে পারবেন না।<span style="color: #008000;"> সেই ঘরে প্রচণ্ড গরমে ফ্যান বা এসির ব্যবস্থা থাকবে না ! এমনকি বাইরের একটু বাতাসও প্রবেশ করতে পারবে না। আর না দারুণ ঠাণ্ডার দিনে লেপ-কাঁথার ব্যবস্থা থাকবে! <em>আপনার আশে পাশে হবে বিশ্রী কদাকার পোকা-মাকড় যারা আপনার কাফনকে কুরে কুরে খেয়ে আপনার নরম গোশত-মাংস আঁচড়ে আঁচড়ে খাবে।</em></span></p>
<p dir="LTR">এসবের পরেও আপনি জানেন না যে, আপনার সেই নতুন জীবনটা কেমন হবে? আপনি সৌভাগ্যবান হবেন না দুর্ভাগ্যবান! এটা আপনার সৎকাজের উপর নির্ভর করবে যা আপনি এর পূর্বের জীবনে করে ছিলেন। <span style="color: #ff0000;">অবশ্যই এটা ভয়ংকর ব্যাপার।</span></p>
<p dir="LTR"><span style="color: #800000;">তবে যেহেতু আপনি <strong>এই কথাগুলো পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন</strong> তার মানে আপনার হাতে নেক আমল করার এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ আছে। তাই আসুন সুযোগ কাজে লাগাই। কারণ এই জীবন তো কয় দিনের মাত্র। তার পর হয়ত: লোকেরা বলবে: অমুক মারা গেছে .. দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে .. ( আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুক ).. দু-চার দিন হয়ত লোকেরা আপনার মৃত্যুতে আফসোস করবে। তার পর ভুলে যাবে।</span></p>
<p dir="LTR">তাই আসুন, এমন কাজ করি যা আল্লাহ পছন্দ করেন। যেন আপনার নতুন গৃহের জীবনটা সৌভাগ্যের হয়। আল্লাহর কসম! কারণ সেটাই আসল জীবন। যদি সৌভাগ্যবান হন তবে চিরকাল সৌভাগ্যবান থাকবেন। আর সতর্ক থাকুন যেন দুর্ভাগ্যবানদের মধ্যে গণ্য না হন। কারণ সেটি সর্বনাশা !</p>
<p dir="LTR">নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:</p>
<blockquote>
<p dir="LTR"><span style="color: #3366ff;"><em>মৃত ব্যক্তিকে যখন কবর দেওয়া হয়, তখন কাল বর্ণ ও নীল বর্ণ দুইজন ফেরেশতা আসে। একজনের নাম মুনকার অপর জনের নাম নাকীর। তারা মৃত ব্যক্তিকে কে জিজ্ঞেসকরবে : এই লোকটির সম্পর্কে (পৃথিবীতে) তুমি কি বলেছিলে? সে বলবে: ইনি আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। দুই ফেরেশতা বলবে : আমরা জানি যা তুমি বলেছিলে। অত:পর তার কবর দৈর্ঘ্য প্রস্থে ৭০ গজ সম্প্রসারিত করে তা আলোয় আলোকিত করে দেওয়া হবে। তার পর বলা হবে : ঘুমিয়ে পড়। সে বলবে: আমার পরিবারের কাছে গিয়ে তাদের এ খবর দিতে চাই। ফেরেশতা বলবে: বাসর ঘরের সদ্য বিবাহিত বরের মত ঘুমাও যাকে তার একান্ত আপন জনই ঘুম থেকে জাগাবে। সে এই অবস্থাতেই থাকবে যতক্ষণ আল্লাহ তাকে পুনরুত্থান না করেন। আর যদি মৃত ব্যক্তি মুনাফেক হয় তাহলে সে বলবে: লোকেরা যা বলত আমিও তাই বলতাম আসলে কি তা জানি না। ফেরেশতা বলবে : আমরা জানতাম যা তুমি বলতে। অত:পর মাটিকে আদেশ করা হবে : জোড়া লেগে যাও। মাটি মিলে যাবে। যার কারণে মৃতের পাঁজরের হাড় চাপে এদিক ওদিক হয়ে যাবে। এই ভাবে তার শাস্তি হতে থাকবে যতক্ষণ আল্লাহ তাঁকে পুনরায় না ওঠান। </em></span></p>
<p dir="LTR"><span style="color: #3366ff;"><em>[ হাদীস হাসান, সহীহুল জামে নং ৭২৪]</em></span></p>
</blockquote>
<p dir="LTR" align="center">
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.quraneralo.com/do-it-or-not/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>8</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আমার মা (একটি সরল গল্প)</title>
		<link>http://www.quraneralo.com/amar-ma/</link>
		<comments>http://www.quraneralo.com/amar-ma/#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 03 Feb 2013 05:40:04 +0000</pubDate>
		<dc:creator>QuranerAlo.com Editor</dc:creator>
				<category><![CDATA[উৎসাহ উদ্দিপনা মূলক গল্প]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.quraneralo.com/?p=1920</guid>
		<description><![CDATA[আমার মা। মাকে আমি ভালোবাসি। আমার জন্য কত কষ্টই না তুমি করেছ মা। মনে পড়ে এক রাতের ঘটনা। তখন আমি ক্লাস থ্রি কি ফোরে পড়ি। আমার কি জ্বরটাই না হল সে রাতে। সারাটা রাত আমি জ্বরে কাতরাচ্ছিলাম। ঘরে জ্বরের ঔষধ ছিল না। দোকান পাটও অত রাতে বন্ধ হয়ে গেছে। মা আমার মাথা ধুইয়ে দিলেন। সারাটা [...]]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p>আমার মা। মাকে আমি ভালোবাসি। আমার জন্য কত কষ্টই না তুমি করেছ মা। মনে পড়ে এক রাতের ঘটনা। তখন আমি ক্লাস থ্রি কি ফোরে পড়ি। আমার কি জ্বরটাই না হল সে রাতে। সারাটা রাত আমি জ্বরে কাতরাচ্ছিলাম। ঘরে জ্বরের ঔষধ ছিল না। দোকান পাটও অত রাতে বন্ধ হয়ে গেছে। মা আমার মাথা ধুইয়ে দিলেন। সারাটা রাত আমার সাথে জেগে রইলেন। সারাদিন পরিশ্রমের পর যে কোন ব্যাক্তিরই ঘুমে চোখ জড়িয়ে আসার কথা। অথচ মায়ের চোখ থেকে ঘুম যে ছুটে কোথায় গেল। কি যেন একটা উৎকন্ঠা মায়ের মুখকে এতটুকু করে দিয়েছিল। এমন কত রাত যে মা আমার না ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিয়েছেন তার কি হিসেব আছে। আমি যখন কোলে ছিলাম । যে বয়সের স্মৃতি আমার একটুও মনে নেই। কতবার যে ক্ষুধায় কেদে উঠেছি। মা আমার ঠিকই বুঝে যেতেন। সেই মাকে আমি কিই বা দিতে পেড়েছি।</p>
<p><img class="aligncenter size-full wp-image-4125" alt="24" src="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2013/02/24.jpg" width="240" height="240" /></p>
<p>এই বেশীদিন আগের ঘটনা নয়। এক রাতে হঠাৎ জেগে দেখি মা আমার জায়নামাজে বসে আল্লাহর কাছে দুহাত তুলে কাঁদছেন। একজন মা তার সন্তান ও পরিবার ছাড়া কার জন্যই বা দোয়া করতে পারে। ভেবে আমার চোখেও জল এসে গিয়েছিল।</p>
<p>মা আমাকে মাঝে মাঝে বকা দেন। আমি যখন পড়ায়ে ফাকি দেই বা যখন একটু বেশী দুষ্টুমি করি। সহসা কিছুটা মন খারাপ হয় কিন্তু আমি জানি মা আমার ভালর জন্যই তিনি বকেন। আমাকে পড়তে বলেন সে তো আমার ভবিষ্যতের জন্যই। নি:স্বার্থ মা আমার।</p>
<p>আমার বাবা ছোটখাটো মুদি দোকানে চাকরি করেন। বাবা যা আয় করেন তা দিয়ে আমাদের সংসার কোন রকম চলে । কিন্তু মা-বাবা কখনই আমাদের কখনই তা বুঝতে দেন না। জানি কিভাবে মা এতকিছু সামলান। মা সবসময়ই আমাদের খাবার নিশ্চিত করে তারপর খেতেন। মাকে দেখে মনে হত তিনি আমাদের মতই ভাল খাচ্ছেন। কিন্তু তিনি কি কিছু লুকাচ্ছেন। একদিন বাবা একটি ছোট মাছ এনেছিল। মা মাছটি বেশ মজা করে রেধেছিলেন। কিন্তু সেদিন কোন কারণে মাছের টুকরো কম পড়েছিল। কিন্তু মা আমাদের সেটা বুঝতেই দেননি। দেখি, লুকিয়ে তিনি শুধু আলু ভর্তা দিয়ে ভাত খাচ্ছেন। মা তুমি এত ভাল কেন? কেন তুমি আমাদের জন্য এত কষ্ট কর?</p>
<p>গত কয়েক মাস ধরে মা হঠাৎ শুকিয়ে যাচ্ছিলেন। প্রথমদিকে আমরা লক্ষ্যই করিনি। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে দেখছি মার মুখ শুকিয়ে যাচ্ছে। তিনি কিছু খেতে পারছেন না। যাই খাচ্ছেন বমি করে ফেলে দিচ্ছেন। বাবাকে বললাম । বাবা মাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। ডাক্তার মাকে দেখে বলেছে গ্রামে তার চিকিৎসা হবে না। মাকে ঢাকায় নিয়ে যেতে হবে। বাবা মাকে ঢাকায় নিয়ে গেছেন। আমাকে আর আমার ছোট বোনকে ফুফুর কাছে রেখে গেছেন। হে পরওয়াদিগার তুমি মাকে ভাল করে দাও।</p>
<p>আজ আমাদের ওয়ার্ডে এডমিশন। সকাল থেকেই ডিউটি করছি। আজকে মহিলা ওয়ার্ডে ডিউটি। এখন বাজে দুপুর বারোটা। মানিকগঞ্জ থেকে একটি রোগী এসেছে। রোগীটির ক্যাকেক্সিয়া। সে রক্তশূণ্য। কয়েকদিন ধরে বমি ও ক্ষুধামন্দার হিস্ট্রি দিচ্ছে। পেট ফুলে আছে। কতগুলো প্রশ্ন করে জানা গেল গত কয়েক মাসে তার বেশ ওজন কমেছে। অবশ্য রোগীকে দেখেই তা বুঝা যাচ্ছে। আমরা টিবি সাসপেক্ট করলাম। রোগীকে ভর্তি দিলাম।</p>
<p>রোগীর হাসবেন্ডটা বেশ ভালো। সে তার স্ত্রীর পাশে নিয়মিত থাকছে। আমরা যে পরীক্ষানীরিক্ষা করতে বলছি করিয়ে আনছে। অবশ্য গরীব হওয়ায় কিছু পরীক্ষানীরিক্ষা ফ্রি করে দিতে হয়েছে। ওয়ার্ডে নতুন ইন্টার্ণরা এসেছে। একজন ইন্টার্ণ রোগীটির পেটে জমে যাওয়া পানি বেড় করে দিয়েছে। এতে রোগীটির নাকি বেশ ভাল লাগছে। কিন্তু এভাবে তো বেশী পানি বের করাও যাবে না। পানি বের করে আমরা পরীক্ষা করতে বাইরে পাঠিয়েছি। হাসপাতালের রিপো্র্ট ভালো না। তাই বাইরে পাঠাতে হল। রিপোর্টে টিবি ধরা পড়েনি। তাহলে কি ম্যালিগন্যান্সি? ক্লিনিক্যালী কোন ম্যাস তো পাওয়া যাচ্ছে না।</p>
<p>সিটি স্ক্যান করতে হবে। তিন হাজার টাকা লাগবে। কিন্তুর রোগীর লোকেরা জোগাড় করতে পারছে না। এদিকে রোগীর অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। স্যারকে বলে সিটি স্ক্যানটা ফ্রি করে, রোগীর হাজবেন্ডকে দিয়ে ডেট আনতে পাঠালাম। সে এসে বলল মেশিন নাকি নষ্ট ঠিক করতে সময় লাগবে। তাহলে? এখন তো বাইরে থেকে স্ক্যান করিয়ে আনতে হবে। আবার রোগ ধরা ছাড়া সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাও দেয়া যাচ্ছে না। রোগীর লোককে বলা হয়েছে যে করেই হোক টাকা জোগাড় করতে। কিন্তু সে টাকা জোগাড় করতে পারছে না।</p>
<p>প্রতিদিনের মত আজকে সকালেও ফলো আপ দিচ্ছি। কি ব্যাপার রোগীর এ অবস্থা কেন? তার চোখ বড় হয়ে আছে। মুখের এক কোণা দিয়ে রক্ত পড়ছে। সে একদমই কথা বলতে পারছে না। আমি নাড়ি দেখলাম। পালস্ খুবই ফিইবল। স্যালাইন বাড়িয়ে দিলাম। কিন্তু যেখানেই স্যালাইন দি্চ্ছি ফুলে যাচ্ছে। ভেইনগুলো কলাপস করে যাচ্ছে।</p>
<p>“সিস্টার আসুনতো এর একটি ক্যানুলা করতে হবে।খুবই জরুরী”।</p>
<p>দুজনে মিলে পায়ে হাতে চেষ্টা করলাম ক্যানুলা করতে পারলাম না। এর সেন্ট্রাল ভেনাস ক্যাথেটার করতে হবে। এনেসথেসিওলোজীতে খবর পাঠিয়েছি। একজন ইন্টার্ণ গেছে। সে ক্যাথেটারের প্রয়োজনীয় জিনিসের লিস্ট নিয়ে এসেছে। রোগীর লোককে কিছু টাকা দিয়ে আমরা ক্যাথেটার আনতে পাঠাবো। এর মধ্যে রোগীকে ট্রলিতে করে ওটিতে পাঠাতে হবে।</p>
<p>ওয়ার্ডবয় ট্রলি জোগাড় করল। রোগী খুব ধীরে বুক টান করে প্রশ্বাস নিচ্ছে। এটা ভাল লক্ষণ নয়। মৃত্যুর আগ মুহুর্তে মানুষ সাধারণত এরকম প্রশ্বাস নেয়। তাকে ধরে ট্রলিতে উঠালাম। দ্রুত ওটিতে নেয়া দরকার।</p>
<p>“কি ব্যাপার আপনারা জিনিসপত্র এনেছেন। এতক্ষণ লাগছে কেন?”</p>
<p>“স্যার আর ওটিতে নিতে হইব না। থাক.... স্যার আপনারা অনেক কষ্ট করছেন”।</p>
<p>ট্রলিতে উঠানোর পরপরই মহিলাটি বড় একটি নি:শ্বাসের মাধ্যমে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করলেন। আমরা রোগটি পুরোপুরি ধরার আগেই রোগী ইহজীবন সাঙ্গ করল। আমরা কিছু করতে পারলাম না।</p>
<p>স্যারের রাউন্ড চলছে। রোগীর স্বামী দেখি আমাকে ডাকছে।</p>
<p>“কি গাড়ি যোগাড় করতে পেরেছেন?”</p>
<p>“স্যার গাড়ি যোগাড় হইছে, তয় স্যার আর পাঁচশোটা টাকা দিতে পারবেন? আমার কাছে এই পাঁচশ ছাড়া আর নাই। গাড়ির জন্য একহাজার লাগবো। আর পাঁচশোটা টাকা দিলে তিথির মা’র লাশটা বাড়ি লইয়া যাইতে পারতাম”।</p>
<p>সিএ কে বলে ফান্ড থেকে টাকাটা যোগাড় করে দিলাম। লোকটা অনেক কষ্টে নিজের চোখের পানি ধরে রাখছিল। দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেল। চোখে পানি চলে আসল। দ্রুত সরে গিয়ে নিজেকে সামলালাম।</p>
<p>অনেকদিন হল মা ঢাকায় গেছে। নিশ্চয়ই মা পুরো সুস্থ হয়েই ঢাকা থেকে ফিরবে। মাকে দেখে কতই না ভাল লাগবে। এবার মা আসলে মায়ের সব কথা শুনবো । আর কখনও দুষ্টুমি করব না। মনযোগ দিয়ে পড়াশোনা করব। মা তুমি দেখ এবার আমি প্রথম হবই । আমি বড় হয়ে মা তোমার জন্য রোজ রোজ মাছ নিয়ে আসব। তোমাকে কোন কষ্টই করতে দিব না। তুমিই যতই বল আমি তোমাকে আর দু:খী দেখতে চাই না।</p>
<p>দুরের রাস্তায় একটা মাইক্রো দেখা যাচ্ছে। তাহলে কি মা চলে এসেছে? একি বাবার মুখ এরকম শুকনো কেন? কি হয়েছে? বাবা, মা কোথায়? গাড়ীর জানালার ভিতর দিয়ে দেখি, সাদা কাফনের কাপড় পড়ে প্রিয় মা আমার চিরনিদ্রায় শুয়ে আছে</p>
<p>সমাপ্ত</p>
<p>লিখেছেনঃ <a href="http://sonarbangladesh.com/blog/abdullahdmc/5153" target="_blank">আবদুল্লাহ সাঈদ খান</a></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.quraneralo.com/amar-ma/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>12</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আল্লাহর শপথ আমি নামাজ পড়তাম</title>
		<link>http://www.quraneralo.com/by-allah-i-would-performed-my-salah/</link>
		<comments>http://www.quraneralo.com/by-allah-i-would-performed-my-salah/#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 19 Jan 2013 05:00:13 +0000</pubDate>
		<dc:creator>QuranerAlo.com Editor</dc:creator>
				<category><![CDATA[ইবাদত]]></category>
		<category><![CDATA[উৎসাহ উদ্দিপনা মূলক গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[নেয়ামত]]></category>
		<category><![CDATA[সত্য ঘটনা]]></category>
		<category><![CDATA[সময়]]></category>
		<category><![CDATA[সুস্থতা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.quraneralo.com/?p=3007</guid>
		<description><![CDATA[রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, দুটি নিয়ামত এমন আছে, যে দুটোতে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। তা হল সুস্থতা আর অবসর। (সহীহ বুখারী ৫৯৭০, ইফা) এটি একটি সচিত্র সত্যি ঘটনা যা আপনার জীবন, আপনার চিন্তা ধারা ও জীবনের উদ্দেশ্য বদলে দিতে পারে। ঘটনাটি বাহরাইনের ইব্রাহিম নাসের নামের এক যুবকের। সে জন্মগতভাবেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত, শুধু তার আঙ্গুল ও মাথা নাড়াতে সক্ষম। [...]]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p>রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,</p>
<blockquote>
<p style="text-align: center;"><strong><span style="color: #3366ff;"><em>দুটি নিয়ামত এমন আছে, যে দুটোতে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। তা হল সুস্থতা আর অবসর। (সহীহ বুখারী ৫৯৭০, ইফা)</em></span></strong></p>
</blockquote>
<p>এটি একটি সচিত্র সত্যি ঘটনা যা আপনার জীবন, আপনার চিন্তা ধারা ও জীবনের উদ্দেশ্য বদলে দিতে পারে।</p>
<p>ঘটনাটি বাহরাইনের ইব্রাহিম নাসের নামের এক যুবকের। সে জন্মগতভাবেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত, শুধু তার আঙ্গুল ও মাথা নাড়াতে সক্ষম। এমনকি তার নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের জন্যও তাকে যন্ত্রপাতির সাহায্য নিতে হয়।</p>
<p>এই যুবকটির একটি আকাঙ্ক্ষা ছিল একদিন শেইখ নাবীল আল আওদির সাথে দেখা করার। এইজন্য ইব্রাহীমের বাবা শেইখের সাথে ফোনে আলাপ করলেন ইব্রাহীমের সাথে তার সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা যায় কিনা।</p>
<p><a href="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/04/22032_1327186134256_1068990951_31011251_4665814_n.jpg"><img class="aligncenter size-medium wp-image-3008" title="22032_1327186134256_1068990951_31011251_4665814_n" alt="" src="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/04/22032_1327186134256_1068990951_31011251_4665814_n-442x248.jpg" width="442" height="248" /></a></p>
<p>ইনি শেইখ নাবীল। ইব্রাহীম শেইখ নাবীলকে তার ঘরের দরজা খুলে ঢুকতে দেখে কি ভীষণ খুশী হয়ে গেল! আমরা তার আনন্দের বহিঃপ্রকাশ তার চেহারাতেই দেখতে পাবো কারণ সে কথা বলে বোঝাতেও অক্ষম।</p>
<p style="text-align: left;"><a href="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/04/23500_345739237418_90347287418_5344947_332800_n.jpg"><img class="aligncenter size-medium wp-image-3009" title="23500_345739237418_90347287418_5344947_332800_n" alt="" src="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/04/23500_345739237418_90347287418_5344947_332800_n-442x290.jpg" width="442" height="290" /></a>শেইখ নাবীল ইব্রাহীমের ঘরে ঢোকার মুহূর্ত।</p>
<p><a href="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/04/23500_345741122418_90347287418_5344969_123156_n.jpg"><img class="aligncenter size-medium wp-image-3010" title="23500_345741122418_90347287418_5344969_123156_n" alt="" src="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/04/23500_345741122418_90347287418_5344969_123156_n-442x290.jpg" width="442" height="290" /></a>আর এটি হল শেইখ নাবিলকে দেখে ইব্রাহীমের অভিব্যক্তি।</p>
<p>লক্ষ্য করুন ইব্রাহীমের গলায় শ্বাস নেওয়ার যন্ত্রটি। সে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতেও অক্ষম।</p>
<p><a href="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/04/23500_345745142418_90347287418_5345058_3374648_n.jpg"><img class="aligncenter size-medium wp-image-3011" title="23500_345745142418_90347287418_5345058_3374648_n" alt="" src="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/04/23500_345745142418_90347287418_5345058_3374648_n-442x290.jpg" width="442" height="290" /></a>শেইখ নাবীল ইব্রাহীমের কপালে চুমু খাচ্ছেন</p>
<p><a href="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/04/23500_345745832418_90347287418_5345116_4801427_n.jpg"><img class="aligncenter size-medium wp-image-3012" title="23500_345745832418_90347287418_5345116_4801427_n" alt="" src="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/04/23500_345745832418_90347287418_5345116_4801427_n-442x290.jpg" width="442" height="290" /></a>ইব্রাহীম তার বাবা, চাচা ও শেইখ নাবীলের সাথে।</p>
<p>এভাবে শেইখ নাবীল আর ইব্রাহীম আলাপ করলেন ইন্টারনেটে ইসলামের দাওয়াত এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টার ব্যপারে। তারা কিছু ঘটনাও আলোচনা করলেন।</p>
<p><a href="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/04/23500_345746222418_90347287418_5345147_2166992_n.jpg"><img class="aligncenter size-medium wp-image-3013" title="23500_345746222418_90347287418_5345147_2166992_n" alt="" src="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/04/23500_345746222418_90347287418_5345147_2166992_n-442x248.jpg" width="442" height="248" /></a></p>
<p>এবং তাদের আলাপচারিতার মাঝে শেইখ নাবীল ইব্রাহীমকে একটি প্রশ্ন করলেন। যে প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ইব্রাহীম কেঁদে ফেললেন, তার গাল বেয়ে অশ্রুধারা গড়িয়ে পড়ল।</p>
<p><a href="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/04/23500_345746582418_90347287418_5345180_7218874_n.jpg"><img class="aligncenter size-medium wp-image-3014" title="23500_345746582418_90347287418_5345180_7218874_n" alt="" src="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/04/23500_345746582418_90347287418_5345180_7218874_n-442x290.jpg" width="442" height="290" /></a>ইব্রাহীম না কেঁদে পারলেন না যখন তার কিছু বেদনাদায়ক স্মৃতি মনে পড়ল।</p>
<p><a href="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/04/23500_345746852418_90347287418_5345184_8369968_n.jpg"><img class="aligncenter size-medium wp-image-3015" title="23500_345746852418_90347287418_5345184_8369968_n" alt="" src="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/04/23500_345746852418_90347287418_5345184_8369968_n-442x290.jpg" width="442" height="290" /></a>শেইখ নাবীল ইব্রাহীমের চোখের পানি মুছে দিচ্ছেন।</p>
<p><a href="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/04/23500_345747097418_90347287418_5345186_8135576_n.jpg"><img class="aligncenter size-medium wp-image-3016" title="23500_345747097418_90347287418_5345186_8135576_n" alt="" src="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/04/23500_345747097418_90347287418_5345186_8135576_n-442x290.jpg" width="442" height="290" /></a></p>
<p><strong><span style="color: #008080;">আপনি কি জানেন কি ছিল সেই প্রশ্ন যা ইব্রাহীমকে কাঁদিয়ে দিল?</span></strong></p>
<p>শেইখ জিজ্ঞেস করেছিলেনঃ <strong>আচ্ছা ইব্রাহীম, আল্লাহ যদি তোমাকে সুস্থ করতেন...তাহলে তুমি কি করতে?</strong></p>
<p>আর তখন ইব্রাহীম এমনভাবে কাঁদলেন যা শেইখ, ইব্রাহীমের বাবা, তার চাচা এবং ঘরের প্রত্যেককে কাঁদিয়ে দিল...এমন কি ক্যামেরাম্যানকেও।</p>
<p>তার উত্তর ছিলঃ <span style="color: #800080;"><strong>আল্লাহর শপথ, আমি তাহলে আনন্দের সাথে মসজিদে যেয়ে আমার নামাজ পড়তাম। আমি আমার সুস্বাস্থ্যের নেয়ামত এমন প্রতিটি কাজে ব্যবহার করতাম যা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে পারে।</strong></span></p>
<p>প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে কর্মশক্তি ও সুস্বাস্থ্যের নেয়ামত দিয়ে রহমত করেছেন।</p>
<p>কিন্তু আমরা মসজিদে যেয়ে নামাজ পড়ি না !!! অথচ আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কম্পিউটার অথবা টিভির সামনে বসে সময় কাটিয়ে দেই।</p>
<blockquote>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #008000;"><strong>“এতে উপদেশ রয়েছে তার জন্য যার আছে অন্তঃকরণ অথবা যে শ্রবণ করে একাগ্রচিত্তে।” (সূরা ক্বাফঃ ৩৭)</strong></span></p>
</blockquote>
<p>আল্লাহ যেন আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করেন আর সেই পথে আমাদের দৃঢ় রাখেন। আমীন।</p>
<p><a title="By Allah i would performed my salah" href="http://blog.iloveallaah.com/?p=153">ENGLISH VERSION</a></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.quraneralo.com/by-allah-i-would-performed-my-salah/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>15</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>স্বামীর পরশে বদলে গেল স্ত্রীর জীবন</title>
		<link>http://www.quraneralo.com/story-of-a-husband-and-wife/</link>
		<comments>http://www.quraneralo.com/story-of-a-husband-and-wife/#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 16 Dec 2012 04:00:11 +0000</pubDate>
		<dc:creator>QuranerAlo.com Editor</dc:creator>
				<category><![CDATA[উৎসাহ উদ্দিপনা মূলক গল্প]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.quraneralo.com/?p=2238</guid>
		<description><![CDATA[নাম তার আব্দুল ওয়াহ্হাব। আমেরিকান এক মুসলমান। কয়েকদিন পূর্বে বিয়ে করেছেন। স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঘরে তুলেছেন এক ষোড়শী যুবতীকে। যুবতীর নাম রাইহানা। যুবতী বেশ সুন্দরী। অনিন্দ্য সুন্দরী। ওর বাইরের রূপটা যে কোনো পুরুষকে মুগ্ধ করলেও ভিতরটা তার ঘোর অন্ধকারে ঢাকা। কারণ ইসলামের আলো এখনো তার অন্তর জগতে প্রবেশ করেনি। কালেমায়ে শাহদাত পড়ে মুসলমান হয়নি। ধর্মে [...]]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p>নাম তার আব্দুল ওয়াহ্হাব। আমেরিকান এক মুসলমান। কয়েকদিন পূর্বে বিয়ে করেছেন। স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঘরে তুলেছেন এক ষোড়শী যুবতীকে। যুবতীর নাম রাইহানা। যুবতী বেশ সুন্দরী। অনিন্দ্য সুন্দরী। ওর বাইরের রূপটা যে কোনো পুরুষকে মুগ্ধ করলেও ভিতরটা তার ঘোর অন্ধকারে ঢাকা। কারণ ইসলামের আলো এখনো তার অন্তর জগতে প্রবেশ করেনি। কালেমায়ে শাহদাত পড়ে মুসলমান হয়নি। ধর্মে ছিল সে খৃস্টান। আর এ অবস্থায়ই নববধূ হয়ে চলে আসে জনাব আব্দুল ওয়াহ্হাবের স্ত্রী হয়ে।</p>
<p><img class="alignnone size-full wp-image-2242" title="3991375387_b7f4975b5c" src="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2011/09/3991375387_b7f4975b5c.jpg" alt="" width="500" height="342" /></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>রাইহানা ইসলাম গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত আব্দুল ওয়াহ্হাব সাহেবকে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়েছে। মোকাবেলা করতে হয়েছে মারাত্মক পরিস্থিতির। পাঠকবৃন্দ! চলুন, জনাব আব্দুল ওয়াহ্হাব সাহেবের মুখ থেকেই তাদের কাহিনীটা হৃদয়ঙ্গম করি। সেই সাথে নিজেরা শিক্ষা গ্রহণ করে তদানুযায়ী নিজেদের জীবনকে ঢেলে সাজাতে চেষ্টা করি।</p>
<p>জনাব আব্দুল ওয়াহ্হাব সাহেব বলেন, রাইহানাকে বিয়ে করার সময় আমি ছিলাম নামে মুসলমান। ইসলামী বিধি-বিধান পালনের কোনো গুরুত্ব আমার মধ্যে ছিল না। তাই সেগুলো রীতিমত পালনও করতাম না। এমনকি কোনো খৃস্টান মেয়ের সাথে কোনো মুসলমান ছেলের বিয়ে সহীহ হয় না একথাটিও আমার জানা ছিল না। রাইহানার অবস্থাও ছিল আমার মতো। সেও তার ধর্মের প্রতি আন্তরিক ছিল না। বরং বলা যায়, ধর্ম কিংবা ধর্মীয় বিধি-বিধান পালনের ব্যাপারে তার কোনো মনোযোগই ছিল না। আমি অবশ্য মাঝে মধ্যে মসজিদে যেতাম। নামাজ পড়তাম। কিন্তু সে কখনো চার্চে যেতো না।</p>
<p>কিছুদিন পর আমাদের একটা সন্তান হলো। তখন আমি সন্তানের ভবিষ্যত চিন্তায় বিভোর হলাম। ভাবলাম, আমি ও আমার স্ত্রী যদি একই ধর্মের অনুসারী না হতে পারি, তবে সন্তান বড় হয়ে কোন্ ধর্মের অনুসারী হবে। তাই আমি রাইহানাকে মসজিদে যাওয়ার দাওয়াত দিলাম। কিন্তু আমার দাওয়াত সে স্পষ্ট ভাষায় কেবল অস্বীকারই করল না, উল্টো চার্চে যেতে শুরু করল। এমনকি এটি একটি অলিখিত নিয়মই হয়ে গেল যে, তাকে আমি যখনই মসজিদে যাওয়ার কথা বলি তখনই সে চার্চে ছুটে যায়।</p>
<p>এবার আমার বোধদোয় হলো। আমি ভাবলাম, আমি মুসলমান, আমার স্ত্রী খৃস্টান। হায়, এ আমাদের কেমন জিন্দেগী? মুসলমানের ঘরে খৃস্টান বউ! তাছাড়া এতদিন তো অবস্থাটা এমন ছিল যে, সে চার্চে যেত না। কিন্তু এখন? এখন তো সে চার্চেও যায়!</p>
<p>আমি বিষয়টি নিয়ে খুব ফিকির করলাম। তাকে মুসলমান বানানোর জন্য কী কৌশল অবলম্বন করা যায়, এ নিয়ে গভীর চিন্তায় মগ্ন হলাম। অবশেষে তাকে এই প্রস্তাব দিলাম যে, চলো এক রবিবারে আমরা উভয়ে চার্চে যাবো, আর আরেক রবিবারে যাব মসজিদে। সে খানিকটা চিন্তা করে আমার প্রস্তাবে রাজী হয়ে গেল। এই প্রস্তাব দ্বারা আমার উদ্দেশ্য ছিল, আমি চাছিলাম যে কোনোভাবে ইসলামের পরিচয় তার সামনে প্রকাশিত হোক। সে ইসলামের কাছে আসুক।</p>
<p>আমি যখন আমার স্ত্রীকে মুসলমান বানানোর ফিকির করছিলাম তখন আমার মাঝেও  আত্ম সচেতনতা  সৃষ্টি হলো। আমি মনে মনে নিজকে ধিক্কার দিয়ে বললাম, আমি কেমন ঈমানদার যে, মুসলমান হয়েও ইসলামী বিধি-বিধান ঠিকমত পালন করি না? ইসলামের রঙে রঙিন হই না? তাছাড়া আমি নিজে ইসলাম পালন না করে, আরেকজনকে ইসলামের দাওয়াত দিলে তা কতটুকুই বা কার্যকর হবে? না, আমাকে আর এভাবে চললে হবে না। আমাকে পুরোপুরি মুসলমান হতে হবে। আমলদার হতে হবে। ইসলামের যাবতীয় বিধান একশ ভাগ পালন করতে হবে। তখন হয়তো আমার স্ত্রীকে আর ইসলাম গ্রহণের জন্য পীড়াপীড়ি করতে হবে না। কারণ সে যখন তার স্বামীর মধ্যে ইসলামের অপরূপ সৌন্দর্য অবলোকন করবে, অতি সহজে তখন ইসলামের প্রকৃতরূপ তার সামনে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠবে। ফলে তখন সে নিজেই ইসলামের প্রতি আগ্রহী হবে এবং আল্লাহ চাহেত ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয়ও নিবে।</p>
<p>যে কথা সে কাজ। সেদিন থেকে আমি আমার জীবন বদলাতে শুরু করলাম। আলেম-উলামাদের সান্নিধ্যে যেতে লাগলাম। একান্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করতে লাগলাম, ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান। প্রত্যেক কথা ও কাজে অনুসরণ করতে লাগলাম, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিটি সুন্নত। ঘরে বাইরে সকল ক্ষেত্রে ইসলামী অনুশাসন মেনে চলতে লাগলাম। মোট কথা ইসলামী আচার-আচরণে রাঙিয়ে তুললাম আমার জীবনের প্রতিটি অঙ্গন।</p>
<p>আমি যখন ধর্মের প্রতিটি বিধান একান্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়লাম, তখন আমি মনের মধ্যে এমন এক প্রশান্তি অনুভব করলাম, যা কেবল অনুভব করা যায়, অন্যকে বলে বুঝানো যায় না। আর সে প্রশান্তি ছুঁয়ে গেল রাইহানার কোমল হৃদয়কেও। দেখা গেল, কিছুদিনের মধ্যেই সে ইসলামী আচার-আচরণ ও সভ্যতার সাথে পরিচিত হয়ে ওঠে। দুর্বল হয়ে পড়ে ইসলামের প্রতি। তাছাড়া ঘরে ইসলামী পরিবেশ, আর মসজিদ থেকে ইসলাম সম্পর্কে মূল্যবান আলোচনা শ্রবন এ দুই বস্তু ইসলামের প্রতি তার দুর্বলতা ও আগ্রহকে বহুমাত্রায় বাড়িয়ে তুলে। ফলে বেশিদিন আমাকে অপো করতে হয়নি। ইসলামের সৌন্দর্যে বিমুগ্ধ হয়ে একদিন সে কালিমায়ে শাহাদত পড়ে মুসলমান যায়। আলহামদুলিল্লাহ।</p>
<p>আরো খুশি ও শুকরিয়ার ব্যাপার হলো, ইসলাম গ্রহণের পর রাইহানা আশ্চর্য রকমভাবে বদলে যায়। মুসলমান হয়ে ইসলামকে সে গ্রহণ করে প্রাণখুলে, পরিপূর্ণ বিশ্বাস ও ভালোবাসার সাথে। সে তার জীবনের প্রতিটি কাজকে ইসলামের রঙে রঙিন করে তুলতে প্রয়াসী হয়ে ওঠে। পর্দা করতে শুরু করে। তাও আবার অসম্পূর্ণ পর্দা নয়। অর্থাৎ মুখ কিংবা চোখ বের করা ‘ফ্যাশনী পর্দা’ নয়। রাইহানা প্রায়ই বলে, মুসলমানের ঘরে জন্ম হওয়া সত্ত্বেও মুসলিম নারীরা কেন পর্দা করে না? আর করলেও কেন পুরোপুরি করে না? কেন তারা ইসলামী কায়দায় মাথা ঢাকে না?। কেন তারা শরীরটা ঢেকে সৌন্দর্যের উৎস ‘মুখখানা’ খোলা রাখে? তাদের কি কোনো অনুভূতি নেই? তারা কি বুঝে না যে, মুখ কিংবা চোখ খোলা রেখে পর্দা করলে পর্দার বিধান সম্পূর্ণরূপে পালিত হয় না? তবে কি তারা আল্লাহকে ভয় করে না? তাদের কি চিন্তা নেই যে, উত্তমরূপে পর্দার বিধান পালন না করলে মৃত্যুর পর কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে তাদেরকে? এমনকি দুনিয়াতেও সম্মুখীন হতে পারে নানাবিধ পেরেশানীর? তাছাড়া ইসলামী পোষাক তো নারীর ব্যক্তিত্ব বাড়িয়ে তোলে। তার মর্যাদাকে বিকশিত করে। আহা! ওরা না বুঝেই অন্যদের রঙ চড়াতে চাচ্ছে নিজেদের গায়ে!</p>
<p>ইসলামের প্রতি রাইহানার বিশ্বাস ছিল পরম শাণিত। ইসলাম গ্রহণের পর ইসলামী শিক্ষার প্রতি তার ঝোঁক অতিমাত্রায় বেড়ে যায়। সে এখন অন্য ধর্মের কোনো বই-পুস্তক পড়ে না। বরং ইসলাম ধর্ম বিষয়ক বই-পুস্তক এনে দেওয়ার জন্য আমাকে সে বারবার অনুরোধ জানাতে থাকে। আমিও সানন্দে দেশের বিভিন্ন নামকরা লাইব্রেরীগুলো খোঁজে ইসলামের বিভিন্ন দিক নিয়ে নামকরা লেখকদের লেখা বই-পুস্তক কিনে ওর হাতে তুলে দেই। এসব বই হাতে পেয়ে রাইহানা যেমন আনন্দিত হয়, তেমনি দারুণ পুলকিত হই আমিও। কারণ, আমি তো এমনটিই চাচ্ছিলাম। বড় কথা হলো, ইসলাম সম্পর্কে রাইহানা যা-ই জানতো, যা-ই শিখতো তার উপরই সে আমল শুরু করে দিত। আর আমাকে উদ্দেশ্য করে বলতো আপনার প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ। আপনার পরশ পেয়েই আমি এ পর্যন্ত পৌঁছতে পেরেছি। আল্লাহ পাক আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।</p>
<p>সন্তানের ব্যাপারে রাইহানার বক্তব্য ছিল অসম্ভব স্বচ্ছ। সে তার সন্তানকে ইসলামী স্কুলেই  পড়াবে এ যেন তার কঠিন প্রতিজ্ঞা। তার কথা হলো ইসলামী শিক্ষা ছাড়া কেউ পরিপূর্ণ মুসলমান হতে পারে না। সে প্রায়ই বলত, পার্থিব শিায় কোনো ঘাটতি থাকলে সেটা পরবর্তিকালে পুষিয়ে নেওয়া যায় কিন্তু ধর্মীয় শিায় কোনো ঘাটতি থাকলে সেটা আর পুষিয়ে নেওয়া যায় না।</p>
<p>প্রিয় পাঠক-পাঠিকা! আব্দুল ওয়াহ্হাব সাহেব ও রাইহানার দাম্পত্য জীবন আজ পরম আনন্দের, পরম সুখের। ইসলামের স্নিগ্ধ ছোঁয়ায় তারা লাভ করে অপূর্ব প্রশান্তি। ইসলাম ধর্ম জানা ও মানার মধ্যে যে এত শান্তি আছে, এত সুখ আছে তা যদি তারা আরো আগে জানতো, আরো আগে বুঝতো, তবে শান্তি-সুখের এই সুন্দরতম জীবনকে আরো আগেই তারা গ্রহণ করত।</p>
<p>হে আল্লাহ! ওরা যে কথাটি বুঝতে পেরেছিল, দাম্পত্য জীবনের কয়েকটি বসন্ত পেরিয়ে যাওয়ার পর সে কথাটি আমাদেরকে বুঝার এবং সে অনুপাতে জীবন যাপন করার তাওফীক দাও আজই এখন থেকেই। আমীন।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.quraneralo.com/story-of-a-husband-and-wife/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>38</slash:comments>
		</item>
	</channel>
</rss>

<!-- Performance optimized by W3 Total Cache. Learn more: http://www.w3-edge.com/wordpress-plugins/

Page Caching using disk: enhanced
Database Caching 27/36 queries in 0.143 seconds using disk: basic
Object Caching 914/1106 objects using disk: basic

 Served from: www.quraneralo.com @ 2013-06-19 16:10:32 by W3 Total Cache -->