QuranerAlo.com - কুরআনের আলো ইসলামিক ওয়েবসাইট » অন্যান্য http://www.quraneralo.com ইসলামিক রিসোর্সেস - আকিদা, কুরআন, হাদিস, ইসলামী প্রবন্ধ, ইসলামী বই, ইসলামী ওয়াজ | Bangla/Bengali Islamic Website | Bangla Islamic Articles, Bangla Islamic Books, Bangla Islamic Waz Sat, 18 May 2013 03:30:53 +0000 en-US hourly 1 http://wordpress.org/?v=3.5.1 জেদ্দায় অবস্থিত কিং আব্দুল আযীয বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ বছর মেয়াদী আরবী স্কলারশিপ প্রোগ্রাম http://www.quraneralo.com/scholarship/ http://www.quraneralo.com/scholarship/#comments Wed, 24 Apr 2013 03:00:19 +0000 QuranerAlo Editor http://www.quraneralo.com/?p=4412 scholarship

●|● ২ বছর মেয়াদী আরবী স্কলারশিপ প্রোগ্রাম। শুধুমাত্র ১৭-২৫ বছর বয়সী ছেলেদের জন্য ●|●

আলহামদুলিল্লাহ্‌, জেদ্দায় অবস্থিত কিং আব্দুল আযীয বিশ্ববিদ্যালয় ২ বছর মেদায়ী আরবী স্কলারশিপ প্রোগ্রামের জন্য আবেদনপত্র গ্রহণ করছে।
প্রোগ্রামটি শুরু হবে এই বছরের (২০১৩) সেপ্টেম্বর মাসে, ইনশাআল্লাহ্‌।

প্রোগ্রামটি সম্পূর্ণ ফ্রী! সাথে রয়েছে থাকা এবং তিনবেলা খাবারের সুব্যবস্থা। আরও রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মাসিক ভাতা!
আবেদন করার জন্য আপানকে যা করতে হবে :

১. প্রথমেই আপনাকে অনলাইন আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে। এজন্য এই লিঙ্কে যায় : http://ali.kau.edu.sa/Pages-text12.aspx

২. এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের পিডিএফ (PDF) ই-মেইল করতে হবে এই ঠিকানায় : ali@kau.edu.sa

প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা পেতে এই লিঙ্কে যান : http://ali.kau.edu.sa/Pages-text10.aspx । পেইজের নীচের অংশে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা দেওয়া আছে।

আবেদন ফর্ম পূরণের শেষ তারিখ : বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০১৩।

(প্রোগ্রামটি শুধুমাত্র ১৭-২৫ বছর বয়সী পুরুষদের জন্য। আপনার বয়সসীমা ১৭-২৫ বছরের মধ্যে না হলে, আপনার আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।)

আপনি বিবাহিত হলেও আবেদন করতে পারেন। সেক্ষেত্রে নিজেকেই থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। জেদ্দায় পৌঁছে স্ত্রীর জন্য ভিসা আবেদন করতে পারবেন।

]]>
http://www.quraneralo.com/scholarship/feed/ 10
পুণ্যভূমি মক্কা : মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য http://www.quraneralo.com/makka/ http://www.quraneralo.com/makka/#comments Mon, 22 Apr 2013 04:35:04 +0000 QuranerAlo Editor http://www.quraneralo.com/?p=4317 লেখক: আলী হাসান তৈয়ব | সম্পাদক: মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী

Makka-02

আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী মুসলিম মাত্রেই মক্কা শব্দটির সঙ্গে পরিচিত। মক্কা শব্দটি উচ্চারিত হতেই তিনি হৃদয়ে এক গভীর ভালোবাসা অনুভব করেন। তার অন্তরে এ নগরীকে দুচোখ জুড়ে দেখার এবং এখানে অবস্থিত আল্লাহর মহাপবিত্র ঘর কা‘বা যিয়ারতের একান্ত আকাঙ্ক্ষা লালন করেন। আর যারা হজ বা উমরা করতে চান, তাদেরকে অবশ্যই এ পবিত্র ভূমিতে গমন করতে হয়। তাই এ সম্মানিত শহর সম্পর্কে জানা প্রতিটি মুসলিমের একান্ত কর্তব্য। নিম্নে তাই পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এ মহান নগরীর কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হল :

ক. কুরআন কারীমে পবিত্র মক্কা নগরীর কয়েকটি নাম উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন, ১- মক্কা {আল-ফাতহ : ২৪}; ২- বাক্কা {সূরা আলে ইমরান, আয়াত : ৯৬}; ৩- উম্মুল কুরা (প্রধান শহর) {সূরা আশ-শূরা, আয়াত : ৭}; ৪- আল-বালাদুল আমীন (নিরাপদ শহর) {সূরা আত-তীন, আয়াত : ৩}। বস্তুত কোনো কিছুর নাম বেশি হওয়া তার মর্যাদা ও মাহাত্ম্যেরই পরিচায়ক।

খ. আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে ওহীর মাধ্যমে হারাম শরীফের সীমানা নির্ধারিত হয়েছে। জিবরীল আলাইহিস সালাম কা‘বা ঘরের নির্মাতা ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে হারামের সীমানা দেখিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর দেখানো মতে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তা নির্ধারণ করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে হারামের সীমানা সংস্কার করা হয়। [আল-ইসাবা : ১/১৮৩]

ইমাম নববী রহ. বলেন, হারামের সীমানা সম্পর্কে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ এর সঙ্গে অনেক বিধি-বিধানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। [তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত : ৩/৮২]

গ. মক্কা নগরীতে আল্লাহ তা‘আলার অনেক নিদর্শন রয়েছে : যেমন, আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে এ মর্মে বলেন,

﴿ فِيهِ ءَايَٰتُۢ بَيِّنَٰتٞ مَّقَامُ إِبۡرَٰهِيمَۖ ﴾ [ال عمران: ٩٧]

‘তাতে (মক্কা নগরীতে) রয়েছে অনেক সুস্পষ্ট নিদর্শন যেমন মাকামে ইবরাহীম।’ [সূরা আলে-ইমরান, আয়াত : ৯৭]

কাতাদা ও মুজাহিদ রহ. বলেন, ‘প্রকাশ্য নিদর্শনগুলোর একটি হলো মাকামে ইবরাহীম।’ [তাফসীরে তাবারী : ৪/৮]

মূলত মক্কা নগরীর একাধিক নাম, এর সীমারেখা সুনির্ধারিত থাকা, এর প্রাথমিক পর্যায় ও নির্মাণের সূচনা এবং একে হারাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ নগরীর সম্মান ও উঁচু মর্যাদার কথা ফুটে ওঠে। তাই দেখা যায় ইতিহাসের পরম্পরায় সবসময়ই পৃথিবীর বুকে মানুষ পবিত্র মক্কার আলাদা মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য মেনে নিয়ে এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছে।

মক্কার অতুলনীয় মর্যাদা :

১. আল্লাহ তা‘আলা মক্কা নগরীকে হারাম (সম্মানিত) ঘোষণা করেছেন :

আল্লাহ তা‘আলা যে দিন যমীন ও আসমান সৃষ্টি করেছেন সেদিন থেকেই মক্কা ভূমিকে সম্মানিত করেছেন। পবিত্র কুরআনে  ইরশাদ হয়েছে,

﴿ إِنَّمَآ أُمِرۡتُ أَنۡ أَعۡبُدَ رَبَّ هَٰذِهِ ٱلۡبَلۡدَةِ ٱلَّذِي حَرَّمَهَا ﴾ [النمل: ٩١]

‘আমিতো আদিষ্ট হয়েছি এ নগরীর মালিকের ইবাদাত করতে যিনি একে সম্মানিত করেছেন।’ [সূরা আন-নামল, আয়াত : ৯১]

একই কথার প্রতিধ্বনি শোনা যায় আল্লাহর প্রিয় রাসূলের মুখেও। ঐতিহাসিক মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«إِنَّ هَذَا الْبَلَدَ حَرَّمَهُ اللهُ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ فَهُوَ حَرَامٌ بِحُرْمَةِ اللهِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ. »

‘এ শহরটিকে আল্লাহ যমীন ও আসমান সৃষ্টির দিন থেকেই হারাম অর্থাৎ সম্মানিত করেছেন। আল্লাহ কর্তৃক সম্মানিত এ শহরটি কিয়ামত পর্যন্ত সম্মানিত থাকবে। [মুসলিম : ১৩৫৩]

আল্লাহর খলীল ইবরাহীম আলাইহিস্ সালাম মক্কাকে হারাম হওয়ার ঘোষণা দেন। আল্লাহর নির্দেশে তিনি আল্লাহর ঘর কা‘বা নির্মাণ করেন এবং একে পবিত্র ঘোষণা করেন। অতপর মানুষের উদ্দেশে তিনি হজের ঘোষণা দেন এবং মক্কা নগরীর জন্য দু‘আ করেন। আবদুল্লাহ ইবন যায়েদ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«إِنَّ إِبْرَاهِيمَ حَرَّمَ مَكَّةَ وَدَعَا لَهَا. »

‘নিশ্চয় ইবরাহীম মক্কাকে হারাম ঘোষণা করেন এবং শহরটির জন্য দু‘আ করেন।’ [বুখারী : ১৮৮৩; মুসলিম : ১৩৮৩]

২. আল্লাহ মক্কা নগরীর কসম খেয়ে তাকে সম্মানিত করেছেন :

আল্লাহ কর্তৃক কোনো কিছুর কসম খাওয়া তার সম্মানের প্রমাণ বহন করে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ এই মক্কার কসম খেয়েছেন। মক্কা নগরীর কসম খেয়ে আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,

﴿ وَٱلتِّينِ وَٱلزَّيۡتُونِ ١ وَطُورِ سِينِينَ ٢ وَهَٰذَا ٱلۡبَلَدِ ٱلۡأَمِينِ ٣ ﴾ [التين: ١،  ٣]

‘কসম তীন ও যাইতূনের। কসম সিনাই পর্বতের। এবং কসম এ নিরাপদ শহরের।’ [সূরা আত-তীন, আয়াত : ১-৩]

আয়াতে ‘এই নিরাপদ শহর’ বলে মক্কা নগরী বুঝানো হয়েছে। আরেক আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ لَآ أُقۡسِمُ بِهَٰذَا ٱلۡبَلَدِ ١ وَأَنتَ حِلُّۢ بِهَٰذَا ٱلۡبَلَدِ ٢ ﴾ [البلد: ١،  ٢]

‘আমি কসম করছি এ শহরের। আর আপনি এ শহরের অধিবাসী।’ [সূরা আল-বালাদ, আয়াত : ১-২]

৩. মক্কা ও এর অধিবাসীর জন্য ইবরাহীম আলাইহিস সালাম দু‘আ করেছেন :

মক্কা নগরী শুধু মর্যাদাবান তাই নয়, এর নগরীতে যারা বাস করবেন তাদের জন্য আল্লাহর নবী ইবরাহীম আলাইহিস সালাম বহু আগে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দু‘আও করেছেন। যার ফলে মক্কা হলো বিশ্বের সবচে নিরাপদ ও শান্তির স্থান। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,

﴿ وَإِذۡ قَالَ إِبۡرَٰهِيمُ رَبِّ ٱجۡعَلۡ هَٰذَا ٱلۡبَلَدَ ءَامِنٗا وَٱجۡنُبۡنِي وَبَنِيَّ أَن نَّعۡبُدَ ٱلۡأَصۡنَامَ ٣٥ ﴾ [ابراهيم: ٣٥]

‘আর (স্মরণ করুন) যখন ইবরাহীম বলেছিলেন, হে আমার রব, এ শহরকে নিরাপদ করুন এবং আমাকে ও আমার পুত্রগণকে মূর্তি পূজা হতে দূরে রাখুন।’ [সূরা ইবরাহীম, আয়াত : ৩৫]

৪. মক্কা রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয়তম শহর :

মক্কা ছিল আমাদের প্রিয় নবীর প্রিয় শহর। আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হিজরতের সময় রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা শরীফের উদ্দেশে বলেন,

« مَا أَطْيَبَكِ مِنْ بَلَدٍ وَمَا أَحَبَّكِ إِلَيَّ وَلَوْلاَ أَنَّ قَوْمَك أَخْرَجُونِي مِنْكِ مَا سَكَنْتُ غَيْرَكِ. »

‘কতই না পবিত্র শহর তুমি, আমার কাছে কতই না প্রিয় তুমি! যদি তোমার কওম আমাকে তোমার থেকে বের করে না দিত, তাহলে তুমি ছাড়া অন্য কোনো শহরে আমি বসবাস করতাম না।’ [আল-মু‘জামুল কাবীর : ১০৪৭৭]

৫. দাজ্জাল এ নগরীতে প্রবেশ করতে পারবে না :

কিয়ামতের পূর্বলগ্নে পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে দাজ্জাল সদম্ভ বিচরণ করবে। কেবল মক্কা ও মদীনায় সে প্রবেশ করতে পারবে না। আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«لَيْسَ مِنْ بَلَدٍ إِلَّا سَيَطَؤُهُ الدَّجَّالُ، إِلَّا مَكَّةَ، وَالمَدِينَةَ، لَيْسَ لَهُ مِنْ نِقَابِهَا نَقْبٌ، إِلَّا عَلَيْهِ المَلاَئِكَةُ صَافِّينَ يَحْرُسُونَهَا، ثُمَّ تَرْجُفُ المَدِينَةُ بِأَهْلِهَا ثَلاَثَ رَجَفَاتٍ، فَيُخْرِجُ اللَّهُ كُلَّ كَافِرٍ وَمُنَافِقٍ. »

‘এমন কোনো ভূখণ্ড নেই যা দাজ্জালের পদভারে মথিত হবে না। তবে মক্কা ও মদীনায় সে প্রবেশ করতে পারবে না। সেখানকার প্রতিটি গলিতে ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে পাহারায় নিয়োজিত থাকবে। এরপর মদীনা তার অধিবাসীসহ তিনটি ঝাঁকুনি দেবে। যার ফলে আল্লাহ (মদীনা থেকে) সকল কাফির ও মুনাফিককে বের করে দেবেন।’ [বুখারী : ১৮৮১; মুসলিম : ২৯৪৩]

৬. ঈমানের প্রত্যাবর্তন :

কিয়ামতের আগে মানুষের ঈমানের জগতে চরম বিপর্যয় ঘটবে। মানুষ ঈমান থেকে যোজন দূরে চলে যাবে। দুনিয়া থেকে ঈমান ও ঈমানদার উধাও হয়ে যাবে। তখন ঈমান আর ঈমানদারদের পাওয়া যাবে মক্কা ও মদীনায় তথা মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববীতে। আবদুল্লাহ ইব্ন উমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«إِنَّ الإِسْلاَمَ بَدَأَ غَرِيبًا وَسَيَعُودُ غَرِيبًا كَمَا بَدَأَ وَهُوَ يَأْرِزُ بَيْنَ الْمَسْجِدَيْنِ كَمَا تَأْرِزُ الْحَيَّةُ فِى جُحْرِهَا. »

‘ইসলামের সূচনা হয়েছিল অপরিচিত হিসেবে এবং সূচনা কালের মতই আবার তা অপরিচিত অবস্থার দিকে ফিরে যাবে। আর তা পুনরায় দু’টি মসজিদে ফিরে আসবে, যেমন সাপ নিজ গর্তে ফিরে আসে।’ [মুসলিম : ১৪৩; সহীহুত-তারগীব ওয়াত-তারহীব : ১১৭৩]

ইমাম নববী রহ. বলেন, ‘দু’টি মসজিদ দ্বারা মক্কা ও মদীনার মসজিদকে বুঝানো হয়েছে।’ [মুসলিম : ৩৯০]

৭. মসজিদুল হারামে সালাত আদায়ের ছাওয়াব :  

মক্কায় অবস্থিত মসজিদে হারামে সালাত আদায়ের মাধ্যমে অকল্পনীয় নেকী লাভ করা যায়, যা অন্য কোথায় হাসিল করা যায় না। জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«صَلاَةٌ فِى مَسْجِدِى هَذَا أَفْضَلُ مِنْ أَلْفِ صَلاَةٍ فِيمَا سِوَاهُ إِلاَّ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ وَصَلاَةٌ فِى الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ أَفْضَلُ مِنْ مِائَةِ أَلْفِ صَلاَةٍ فِيمَا سِوَاهُ. »

‘আমার মসজিদে একবার সালাত আদায় মসজিদে হারাম ছাড়া অন্যান্য মসজিদে হাজারবার সালাত আদায়ের চেয়ে বেশি উত্তম। তবে মসজিদুল হারামে একবার সালাত আদায় অন্যান্য মসজিদের তুলনায় এক লক্ষ গুণ বেশি।’ [মুসনাদে আহমাদ : ১৫২৭২; ইব্ন মাজা : ১৪০৬; সহীহ ইব্ন খুযাইমা : ১১৫৫]

মসজিদে হারাম বলতে কেউ কেউ শুধু কা‘বার চতুষ্পার্শ্বস্থ সালাত আদায় করার স্থান বা মসজিদকে বুঝেছেন; কিন্তু অধিকাংশ শরীয়তবিদের মতে, হারামের সীমারেখাভুক্ত পূর্ণ এলাকা মসজিদে হারামের আওতাভুক্ত। প্রসিদ্ধ তাবেঈ ‘আতা ইব্ন আবী রাবাহ আল-মক্কী রহ. যিনি মসজিদে হারামের ইমাম ছিলেন। তাঁকে একবার রাবী‘ ইব্ন সুবাইহ রহ. প্রশ্ন করলেন, ‘হে আবূ মুহাম্মাদ! মসজিদে হারাম সম্পর্কে যে ফযীলত বর্ণিত হয়েছে এটা কি কেবল মসজিদের জন্য না সম্পূর্ণ হারাম এলাকার জন্য?’ জবাবে আতা‘ রহ. বললেন, এর দ্বারা সম্পূর্ণ হারাম এলাকাই বুঝানো হয়েছে। কারণ, হারাম এলাকার সবটাই মসজিদ বলে গণ্য করা হয়।’ [মুসনাদুত তায়ালিসী : ১৪৬৪]

অধিকাংশ আলেম এ মতটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। [আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যা লিল- ইমাম ইব্ন তাইমিয়া : পৃ. ১১৩; ইবনুল কায়্যিম, যাদুল মা‘আদ : ৩/৩০৩-৩০৪; মাজমূ‘ ফাতাওয়া ইব্ন বায : ৪/১৪০]

সুতরাং পবিত্র মক্কা নগরীর হারাম এলাকার যেখানেই সালাত আদায় করা হবে, সেখানেই এক সালাতে এক লক্ষ সালাতের ছাওয়াব পাওয়া যাবে।

৮. মসজিদে হারামের উদ্দেশে সফর করার গুরুত্ব :

আল্লাহর যমীনে ইবাদাতের উদ্দেশে কোনো জায়গা সফরের অনুমতি নেই কেবল তিনটি জায়গা ছাড়া। হ্যাঁ, সফর যে কোনো জায়গায়ই করা যেতে পারে, কিন্তু তা হবে ইবাদাত জ্ঞানে নয়; তাঁর সৃষ্টিদর্শন ও পরিচয় বা সৃষ্টিকুশলতা অবলোকনের অভিপ্রায়ে। সেই তিনটি জায়গার একটি হলো এই মক্কার মসজিদ তথা মসজিদে হারাম। আবূ হুরায়রা রাদিআল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

«لَا تُشَدُّ الرِّحَالُ إِلَّا إِلَى ثَلَاثَةِ مَسَاجِدَ مَسْجِدِي هَذَا وَالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَالْمَسْجِدِ الْأَقْصَى»

‘(ইবাদাত মনে করে) কোথায় সফর করা যাবে কেবল তিনটি মসজিদ ছাড়া। আমার এই (মদীনার) মসজিদ, মসজিদে হারাম এবং মসজিদে আকসা (ফিলিস্তিনের বাইতুল মুকাদ্দাসের মসজিদ)।’ [বুখারী : ১১৮৯; মুসলিম : ১৩৯৭]

অতএব আমাদের কর্তব্য হবে একজন মুসলিম হিসেবে হৃদয়ে মক্কার প্রতি গভীর ভালোবাসা লালন করা এবং যথাসাধ্য মক্কা ও মদীনার মসজিদে সালাত আদায় করে ছাওয়াব হাসিলে সচেষ্ট হওয়া। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর হাবীবের এ প্রিয় শহর এবং তাঁর সম্মানিত ঘর দর্শন ও যিয়ারতের তাওফীক দান করুন। আমীন।

]]>
http://www.quraneralo.com/makka/feed/ 3
কিছু প্রশ্ন? উত্তর আছে আপনার কাছে? http://www.quraneralo.com/some-questions/ http://www.quraneralo.com/some-questions/#comments Sun, 21 Apr 2013 05:46:43 +0000 QuranerAlo Editor http://www.quraneralo.com/?p=4272 লিখেছেনঃ সাইফ

l

নিজেকে করার কিছু প্রশ্ন , যদি পারেন তো জবাব দিন , না পারলে আল্লাহর দিকে ফিরে আসুনঃ

১/ আপনি শুধু জুমআ'র নামাজই পড়েন কেন? আপনাকে কি আল্লাহ্‌ শুধু জুমার দিনেই আলো, বাতাস, পানি খাবার দিয়ে থাকেন? শনিবার দেন না? রবি, সোম, মঙ্গল সব দিনই তো দেন, সবদিন পরিপূর্ণ আল্লাহর নেয়মত ভোগ করেন, কিন্তু আল্লাহ্‌কে শুধু একদিনই স্মরণ করেন। এবার বলুন আপনি কি ঠিক পথে আছেন? এটা কি স্পষ্টত অপরাধ নয়? জবাব দিন , না হলে ফিরে আসুন।

২/ আপনি কি মনে করেন ইসলাম শুধু মসজিদ , মাদ্রাসায় , ইমাম, আলেমদের মধ্যে সীমাবদ্ধ? সবার জন্য জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই কি ইসলাম নয়? তাহলে আমাদের প্রিয় নবীর জীবনের প্রতিটি অংশই কেন ইসলাম জড়িত, কিংবা সাহাবীরা/৪ খলিফা কেনইবা ইসলামিক জীবন যাপন করেছেন? এবার নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি কি নিজেকেই ধোঁকা দিচ্ছেন না? জবাব দিন, না হলে ফিরে আসুন।

৩/ আপনি জানেন নামাজ পড়া ফরজ, আপনি এও জানেন নামাজ না পড়লে জাহান্নামে  যেতে হবে, আপনার এটাও জানা আছে যে জাহান্নাম অত্যন্ত ভয়াবহ, দুনিয়ার কোন শাস্তিই জাহান্নামের ধারে কাছেও নেই, তবু কেন আপনি পড়ছেন না? আপনি কি জেনে বুঝে নিকৃষ্ট জায়গায় , ভয়াবহ শাস্তির জায়গায় ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে নিয়ে যাচ্ছেন না? কেউ যদি জেনে বুঝে শাস্তি পেতে চায়, অথচ সে ইচ্ছা করলে শাস্তির বদলে চির সুখের স্থান পেতে পারে তাকে আপনি কি বলবেন ? চরম দুর্ভাগা বলবেন না? জবাব দিন , না হলে ফিরে আসুন।

৪/ আপনি তো জানেন জান্নাতে আরাম আয়েশের অভাব নেই। ইচ্ছা মত ভাল ভাল খাবার, পরমা সুন্দরী জান্নাতি হুর, যা যা ইছে করে সব পাওয়া যাবে জান্নাতে গেলে। দুনিয়ায় মানুষ কদিন বাঁচে? ৮০/১০০ বছর?আর আখিরাতের জীবন তো অনন্ত অসীম। আপনি এই ৮০-১০০ বছর আরামে কাটিয়ে দিতে চান আর অনন্ত জীবন ছেড়ে দিতে চান? এর থেকে বোকামি আর কি হতে পারে?

৫/ আপনি সবই মানেন সবই বোঝেন, কিন্তু অলসতা কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে  পালন করেন না, কি করে আশা করেন জান্নাত পাওয়ার। অনেকে বলেন ভাই আমি তো জাহান্নামী, তাদেরকে বলতে ইচ্ছে করে ভাই জাহান্নামকে আপনি কি মনে করেন? সাধারন জেলখানা ? তাহলে শুনুন

নু’মান ইবনে বাশীর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ

“কেয়ামতের দিন জাহান্নামীদের মধ্যে সবচাইতে লঘু শাস্তি প্রাপ্ত ব্যক্তির শাস্তি হবে এই যে, তার দুই পায়ের তালুর নিচে আগুনের দু’টি অংগার রাখা হবে এবং তাতে তার মস্তিষ্ক সিদ্ধ হতে থাকবে। সে মনে করবে, তার চাইতে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি আর কেউ হয়নি। অথচ সে-ই জাহান্নামীদের মধ্যে সবচাইতে হালকা শাস্তিপ্রাপ্ত।”

[ বুখারী: ৬৫৬২ , মুসলিম: ২১৩ ]

জবাব দিন , নাহলে ফিরে আসুন। যারা ফিরে আসবে এই মুহূর্ত থেকে তাদের জন্য আল্লাহ্‌ সুসংবাদ দিয়েছেন,

“আর যারা খারাপ কাজ করে, তারপরে তওবা করে নেয় এবং ঈমান নিয়ে আসে, তবে নিশ্চয়ই তোমার রব এরপরও ক্ষমাশীল,পরম দয়ালু।” [ সূরা আ'রাফ ১৫৩]

“তারা কি দেখে না,তারা প্রতি বছর একবার কিংবা দুবার বিপদগ্রস্ত হয়?  এরপরও তারা  তওবা করে না এবং উপদেশ গ্রহণ করে না।” [ সূরা তাওবা ১২৬]

“সুতরাং তারা কি আল্লাহর নিকট তওবা করবে না? এবং তার নিকট ক্ষমা চাইবে না? আর আল্লাহ  ক্ষমাশীল,পরম দয়ালু।” [সূরা মায়েদা ৭৪]

যারা ভাবে এখন পাপ করি পরে সময়মত তওবা করে নেব, তাদের সাধারণতঃ কোনদিনই তওবা করার সৌভাগ্য পাবে না।

আল্লাহ্‌ বলেন,

"আর এমন লোকদের জন্য কোন ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে, এমন কি যখন তাদের কারো মাথার উপর মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন বলতে থাকেঃ আমি এখন তওবা করছি। আর তওবা নেই তাদের জন্য, যারা কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।" [সূরা নিসা ১৮]

তাই আমার ভাই ও বোনেরা ফিরে আসুন , এখনই, এখনই এবং এখনই। তওবা করে ফিরে আসুন। আল্লাহর কাছে নিজেকে আত্মসমর্পণ করুন।

 

]]>
http://www.quraneralo.com/some-questions/feed/ 2
ইন্টারনেটে ইসলাম বিরোধী লেখা/মন্তব্য অভিযোগের জন্যে ই-মেইল http://www.quraneralo.com/report-against-anti-islamic-activities/ http://www.quraneralo.com/report-against-anti-islamic-activities/#comments Sun, 31 Mar 2013 10:38:20 +0000 QuranerAlo.com Editor http://www.quraneralo.com/?p=4039 284696-security-troubleshooting-techniques (1)বাংলাদেশের নাস্তিক ব্লগারদের ফেইসবুক ও ব্লগে ইসলাম বিরোধী লেখা/মন্তব্য বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে ই-মেইল ঠিকানা খুলেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি।

রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে এ সংক্রান্ত কমিটির এক বৈঠকে এই ই-মেইল ঠিকানা (complainmoha@gmail.com) জানানো হয়।

এ ই-মেইল ঠিকানায় যে কেউ এ অভিযোগ পাঠাতে পারবেন।

রোববার সকাল ১১টায় ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেমদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে এ কমিটি। ফেইসবুক ও ব্লগে আপত্তিকর মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপায় নির্ধারণ করতে এ সভা আয়োজন করা হয়েছে।

ফেইসবুক ও ব্লগে ইসলাম ও হযরত মুহম্মদ (সা.) কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যকারীদের সনাক্ত ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গত ১৩ মার্চ নয় সদস্যের কমিটি করে সরকার। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), আইন ও বিচার বিভাগ, তথ্য মন্ত্রণালয়, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক এবং পুলিশের (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) অতিরিক্ত ডিআইজিকে রাখা হয়েছে।

কমিটির সদস্য আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব আবু আহমেদ জমাদার বলেন, “প্রচলিত আইন অনুযায়ী দোষী প্রমাণিত হলে আপত্তিকর মন্তব্যকারীদের এক কোটি টাকা জরিমানা এবং ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।” প্রয়োজনে আপত্তিকর মন্তব্যকারী ব্লগার ও ফেইজবুক ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে সরকার সন্ত্রাস বিরোধী আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনেও বিচার করতে পারে বলে জানান আবু আহমেদ জমাদার।

আসুন সবাই একসাথে আমরা নাস্তিক ব্লগারদের মুখোশ উন্মোচন করি। শেয়ার করে জানিয়ে দিন সবাইকে। 

]]>
http://www.quraneralo.com/report-against-anti-islamic-activities/feed/ 21
হে নাস্তিক…..! http://www.quraneralo.com/ha-nastik/ http://www.quraneralo.com/ha-nastik/#comments Tue, 19 Feb 2013 13:31:39 +0000 QuranerAlo Editor http://www.quraneralo.com/?p=3674 লিখেছেনঃ মেরিনার       ওয়েব সম্পাদনাঃ মোঃ মাহমুদ ইবন গাফফার

18

হে নাস্তিক! আমি তো তোমার কাছে, ঈশ্বর প্রমাণ করতে চাই নি!!

তবে কেন তুমি গায়ে পড়ে আমার সাথে, ঝগড়া কর, তর্ক জুড়ে দাও?

মানব জীবন কেমন হবার কথা - আমি কি তোমার কাছে জানতে চেয়েছি?

তবে কেন তুমি তোমার জীবনের, অর্থহীনতা দিয়ে, আমার জীবনকে অর্থবহ করে তুলতে চাও?

তুমি থাকোনা তোমার "অর্থহীন প্যাঁচাল” নিয়ে - কষ্ট করে চয়ন করা দুর্বোধ্য শব্দে, ইনিয়ে বিনিয়ে নারীর

দেহ সৌষ্ঠবের বর্ণনা, অথবা, যৌনতার শরীরী প্রকাশ বা প্রেম ভিক্ষা নিয়ে ৷

হে বস্তুবাদী "কমরেড”! তুমি, তোমার অধুনা-লুপ্ত, ঈশ্বরবিহীন ধর্মের জাবর কাটতে চাও?

তা বেশ তো, আমি কি তোমায় বারণ করেছি?

তুমি তোমার ধর্মের - মৃত হাড়গোড় হয়ে যাওয়া - পয়গাম্বরদের গুণগান গাইতে চাও? দেং, কিম, চে,

লেনিন, স্ট্যালিন কিংবা মাও?

তা কর না, আমার তাতে তো কোন ক্ষতি হবার নয় ৷ আমি তো দেখেছি কিভাবে নিজ ধর্মে বিশ্বাস হারিয়ে

-এদেশী কমরেডরা হালুয়া রুটির উচ্ছিষ্টের ভাগ পেতে, স্বৈরাচারের সাথে হামাগুড়ির প্রতিযোগিতায়

প্রাণাতিপাত করে, ক্ষমতার ডাস্টবিনে পৌঁছাতে - অকপটে কোলাকুলি করে বিশ্ব বেহায়ার সাথে! 

তবে কি তুমি সেই বরফ শীতল অন্ধকারের, নিঃসঙ্গ সম্ভাবনাকে ভয় পাও?

আমাকেও করে নিতে চাও তোমার সাথী- জাহান্নামের অতল গহ্বরে!

তুমি কি তবে সৃষ্টির গূঢ় রহস্য জেনে গেছো? জেনেছো: মহাবিশ্বের সবকিছু কেবলই মরে যাচ্ছে?

তোমার "গুরুদেব” যেমন বুঝেছিলেন, সকলই: "আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী” !

(বেশ আগে, এই ব্লগে বা অন্যত্রও প্রকাশিত। আজ এক self proclaimed নাস্তিকের একটা কবিতা দেখে ইচ্ছা হলো পোস্টটা আবার প্রকাশ করি।)

]]>
http://www.quraneralo.com/ha-nastik/feed/ 1
ইসলামে প্রতিবন্ধীদের সমাদর http://www.quraneralo.com/islam-for-disabled-people/ http://www.quraneralo.com/islam-for-disabled-people/#comments Sun, 27 Jan 2013 05:59:57 +0000 QuranerAlo Editor http://www.quraneralo.com/?p=3915 লিখেছেনঃ আব্দুর রাকীব (মাদানী), দাঈ, দাওয়াহ সেন্টার, আল্ খাফজী  

ওয়েব সম্পাদনাঃ মোঃ মাহমুদ ইবনে গাফফার

128

আল্ হামদুলিল্লাহ, ওয়াস্ স্বালাতু ওয়াস্ সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আম্মা বাদঃ-

এতে কোন দ্বীমত নেই যে, প্রতিবন্ধীগণ মানব সমাজের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। ধারণা করা যায়, যখন থেকে মানব জাতি বিস্তার লাভ শুরু করেছে, ঠিক তখন থেকে কোন না কোনরূপে প্রতিবন্ধীও অস্তিত্বে এসেছে। তাই তাদের উপেক্ষা করা হলে সমাজের একাংশকে উপেক্ষা করা হবে। যার ফলে সমাজ ও জাতির সার্বিক উন্নয়ন ও সমন্নোতিতে ব্যাঘাত ঘটবে, যা সুসভ্য ও আদর্শ সমাজে অশোভনীয়।

মহান আল্লাহর মনোনিত ধর্ম ইসলামে রয়েছে তাদের উদ্দেশ্যে কিছু সুন্দর বিধান। রয়েছে তাদের মর্যাদা ও অধিকার, যা আমরা অনেকে জানিনা । আমরা এই প্রবন্ধে তারই কিছুটা আলোচনা করার প্রচেষ্টা করবো  ইন্ শাআল্লাহ।

 

প্রতিবন্ধী কাকে বলে ? 

আভিধানিক অর্থে প্রতিবন্ধী হচ্ছে, দৈহিক শক্তির একান্ত অভাব বা অঙ্গহানি হেতু যাহারা আশৈশব বাধাপ্রাপ্ত, মূকবধির, অন্ধ, খঞ্জ ইত্যাদি। [ সংসদ বাংলা অভিধান/৩৮২] 

পারিভাষিক অর্থে প্রতিবন্ধীতা হচ্ছে, দেহের কোন অংশ বা তন্ত্র আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে, ক্ষনস্থায়ী বা চিরস্থায়ীভাবে তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলা। [উইকিপিডিয়া, বাংলা]

 

অস্বাভাবিক সৃষ্টির রহস্যঃ  মহান আল্লাহ সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা। তিনি ভাল-মন্দেরও সৃষ্টিকর্তা। কিন্তু তাঁর সৃষ্টিকুলের মধ্যে কিছু সৃষ্টিকে আমরা অনেক সময় অস্বাভাবিক ও বিকৃত দেখতে পাই। অনেকে এর দোষটা স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাকে দেয়; অথচ তিনি পুত-পবিত্র দোষমুক্ত, আবার অনেকে সেই সৃষ্টিকেই দোষারোপ করে। এর পিছনে তাঁর উদ্দেশ্য ও রহস্য মহান । সেটা এক মাত্র তিনিই জানেন। তবে কিছু কারণ অনুমান করা যেতে পারে যেমনঃ

[১]- যেন বান্দা তাঁর একচ্ছত্র ক্ষমতা সম্পর্কে জানতে পারে যে, তিনি সব বিষয়ে ক্ষমতাবান। তিনি যেমন স্বাভাবিক সুন্দর সৃষ্টি করতে সক্ষম, তেমন তিনি এর ব্যতিক্রমও করতে সক্ষম।

[২]- আল্লাহ যাকে এই আপদ থেকে নিরাপদে রেখেছেন সে যেন নিজের প্রতি আল্লাহর দয়া ও অনুকম্পাকে স্মরণ করে, অতঃপর তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। কারণ আল্লাহ চাইলে তার ক্ষেত্রেও সেইরকম করতে পারতেন।

[৩]-  প্রতিবন্ধীকে আল্লাহ তাআলা এই বিপদের বিনিময়ে তাঁর সন্তুষ্টি, দয়া, ক্ষমা এবং জান্নাত দিতে চান। নবী (সাঃ) বলেনঃ

‘‘আমি যার দুই প্রিয়কে (দুই চোখকে) নিয়ে নিই, অতঃপর সে ধৈর্য ধরে ও নেকীর আশা করে, তাহলে আমি তার জন্য এর বিনিময়ে জান্নাত ছাড়া অন্য কিছুতে সন্তুষ্ট হই না।’’  [সহীহ তিরমিযী, নং ১৯৫৯]

 

 প্রতিবন্ধীর প্রতি শারয়ী কর্তব্যঃ

[১]- যেন সে ধৈর্যধারণ করে এবং সন্তুষ্ট থাকে কারণ এটি ভাগ্যর লেখা,যা ঈমানের অঙ্গ। মহান আল্লাহ বলেনঃ

( ما أصابَ مِنْ مصيبة في الأرضِ ولا في أنفُسكُم إلا في كتابٍ مِن قبل أن نبرأها إنَّ ذلك على الله يسير لكي لا تأسوا على ما فاتكم و لا تفرحوا بما آتاكم والله لا يحب كا مختال فخور ) الحديد

অর্থঃ ( পৃথিবীতে এবং ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর কোন বিপদ আসে না; কিন্তু তা জগৎ সৃষ্টির পূর্বেই কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। নিশ্চয় এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ। এটা এ জন্যে, যাতে তোমরা যা হারাও তাতে দুঃক্ষিত না হও এবং তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তাতে উল্লসিত না হও। আল্লাহ উদ্ধত ও অহংকারীকে পছন্দ করেন না।)   [ হাদীদ/২২-২৩]

 

[২]- যেন সে বিশ্বাস রাখে যে, আল্লাহ যখন কোন মুমিনকে পরীক্ষায় ফেলেন, তখন তিনি তাকে ভালবাসেন এবং অন্যান্যদের থেকে তাকে বেশি অগ্রাধিকার দেন। তাই তিনি নবীগণকে সবচেয়ে বেশি বিপদাপদের মাধ্যমে পরীক্ষা করেছিলেন। নবী (সাঃ) বলেনঃ

" أشدّ الناس بلاءاً الأنبياء ، ثم الأمثل فالأمثل ، يبتلي الرجل على حسب دينه إن كان دينه صلبا اشتد بلاؤه ، و إن كان في دينه رقة ، ابتلي على قدر دينه ، فما يبرح البلاء بالعبد حتى يتركه يمشي على الأرض ما عليه خطيئة " [ رواه الترمذي و ابن ماجه و صححه الألباني ]

“ নবীগণ সব চেয়ে বেশি পরীক্ষিত হন, অতঃপর তাদের থেকে যারা নিম্ম স্তরের। মানুষকে তার দ্বীন অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া হয়, যদি তার দ্বীনী অবস্থা প্রবল হয়, তাহলে তার বিপদও কঠিন হয়। আর যদি তার দ্বীন দুর্বল হয়, তাহলে তার পরীক্ষা সে অনুপাতে হয়। বিপদ বান্দার পিছু ছাড়েনা পরিশেষে তার অবস্থা এমন হয় যে, সে পাপ মুক্ত হয়ে যমীনে চলা-ফেরা করে। [সহীহ তিরমিযী নং১৪৩,ইবনু মাজাহ]

 

[৩]- প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যেন মনে রাখে যে, দয়াবান আল্লাহ মুমিনকে তার প্রত্যেক বিপদের বদলা দেন, যদিও সেই বিপদ নগণ্য হয়, এমনকি কাঁটা বিধলেও। নবী (সাঃ) বলেনঃ

‘‘মুসলিম ব্যক্তিকে কষ্ট, ক্লান্তি, দুঃখ, চিন্তা, আঘাত, দুশ্চিন্তা গ্রাস করলে এমন কি কাঁটা বিধলেও আল্লাহ তাআলা সেটা তার পাপের কাফ্ফারা করে দেন’’।   [ বুখারী, মুসলিম]

 

[৪]- মুমিন প্রতিবন্ধী যেন তার নির্দিষ্ট প্রতিবন্ধীতাকে ভুলে গিয়ে শরীরের বাকি অঙ্গগুলোকে কাজে লাগায়। কারণ কোন এক অঙ্গের অচলতা জীবনের শেষ নয়। তাছাড়া দেখা গেছে, যার পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের কোন একটি অচল তার বাকি ইন্দ্রিয় বা অঙ্গগুলো বেশি কিংবা দ্বীগুণ সচল।

 

প্রতিবন্ধীদের জন্য আমাদের করণীয়ঃ

[১]- নিজের সুস্থতা ও আরোগ্যতার কারণে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং প্রতিবন্ধী ভাইদের জন্য দুআ করা।

 

[২]- যথাসম্ভব প্রতিবন্ধীদের সাহায্য-সহযোগিতা করা। সেটা অন্ধ ব্যক্তিকে রাস্তা চলায় সাহায্য করা হোক কিংবা তাদের জীবন-যাপনের ক্ষেত্রে সাহায্য করা হোক কিংবা তাদের শিক্ষাদানে সহযোগিতা হোক। সুস্থদের সামান্য সাহায্যে তাদের জীবন-যাপন সহজ হতে পারে, তাদের মুখে ফুটতে পারে হাসি এবং তারা দাঁড়াতে পারে সমাজের সবার সাথে এক লাইনে।

 মনে রাখা দরকার, প্রতিবন্ধীর দেখাশোনা করা তার উপর জরূরী, যে তার অভিভাবক। আর সমষ্টিগত ভাবে সকল মুসলিমের জন্য ফরযে কিফায়া। অর্থাৎ সমাজের কিছু লোক তাদের দেখা-শোনা করলে বাকি লোকেরা গুনাহগার হবে না।

 

[৩]- বিশেষ করে তাদের এমন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া যার ফলে তারা নিজের প্রয়োজনীয় কাজ নিজে করতে পারে এবং নিজে রোজগার করে স্বয়ং সম্পন্ন হতে পারে।

 

ইসলামে প্রতিবন্ধীর মর্যাদাঃ

[১]- সবাই সমান, আর তাক্বওয়াই হচ্ছে মানুষ মর্যাদার মান-দন্ডঃ ইসলামে মানব মর্যাদার মাপ-কাঠি রং, বর্ণ, ভাষা, সৌান্দর্য্যতা, সুস্থতা, ইত্যদি নয়। বরং মান-দন্ড হচ্ছে তাক্বওয়া তথা আল্লাহ ভিরুতা। যে যত বেশি মুত্তাকী আল্লাহ তাকে তত বেশি ভাল বাসেন। এই মাপ-কাঠির মাধ্যমে ইসলাম প্রতিবন্ধী ও অপ্রতিবন্ধীর মাঝে ভেদাভেদ দূরীভূত করেছে এবং উভয়কে সমমর্যাদা দান করেছে। আল্লাহ বলেনঃ

( ياأيها الناسُ إنا خلقناكم من ذكرٍ و أنثى و جعلناكم شعوباً وّ قبائل لتعارفوا ، إن أكرمكم عند الله أتقاكم ) الحجرات

অর্থঃ ( হে মানুষ ! আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী হতে, পরে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদা সম্পন্ন যে অধিক মুত্তাকী।)   [হুজুরাত/১৩]

 

নবী (সাঃ) বলেনঃ

‘‘আল্লাহ তাআলা তোমাদের শরীর ও আকৃতির দিকে দেখেন না বরং তোমাদের অন্তরের দিকে দেখেন।’’   [মুসলিম]

 

[২]- নর-নারী যেন এক অপরের উপহাস না করেঃ প্রতিবন্ধীর সমস্যা প্রতিবন্ধীই বেশি জানে কিন্তু যখন কোন সুস্থ ব্যক্তি তাকে উপহাস করে তখন সে দারুণ ভাবে মর্মাহত হয়। তাই ইসলাম সুস্থ হলেও এক অপরের উপহাস করা নিষেধ করেছে। আল্লাহ বলেনঃ ( হে মুমিনগণ! কোন পুরুষ যেন অপর কোন পুরুষকে উপহাস না করে; কেননা, যাকে উপহাস করা হয় সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে এবং কোন নারী অপর কোন নারীকেও যেন উপহাস না করে; কেননা যাকে উপহাস করা হয় সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে।)   [হুজুরাত/১১]

 

[৩]- সামাজিক স্বীকৃতিঃ প্রাচীন যুগে অনেকে প্রতিবন্ধীদের উপেক্ষা করতো, তাদের সামাজিক মান-মর্যাদা দেওয়া হত না। এমনকি এখনও কিছু সমাজে তা দেখা যায়। যার ফলে বর্তমানে আন্তর্জাতিক আইন তৈরি করে তাদের অধিকার দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সাঃ) ১৪শত বছর পূর্বে বারংবার তাঁর অনুপস্থিতির সময় মদীনার মসজিদের ইমামতির দায়িত্ব এক প্রতিবন্ধী  সাহাবীকে অর্পন করে তাদের সমাজের সর্ব্বোচ্চ সম্মানে অধিষ্ঠিত করার নজীর তৈরি করেন। তিনি সেই প্রতিবন্ধী সাহাবীকে আযান দেওয়ার কাজেওে নিযুক্ত করেছিলেন। সেই সম্মানীয় প্রতিবন্ধী সাহাবী হচ্ছেন আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতূম।    [দেখুন, বুখারী, অধ্যায়ঃ মাগাযী, অনুচ্ছেদ, বদরের যুদ্ধ এবং অহুদের যুদ্ধ]

 

[৪]- শরীয়তের বিধান বাস্তবায়নে ছাড় প্রদানঃ ফিক্হ মূলনীতির একটি প্রসিদ্ধ মূলনীতি হচ্ছে, ‘‘লা তাকলীফা ইল্লা বিমাক্বদূরিন্ আলাইহ্ ’’।

অর্থাৎ শারয়ী আদেশ জরূরী নয় কিন্তু ক্ষমতাবানের প্রতি। এই ফিক্হী মূলনীতিটির  ব্যখ্যা হচ্ছে, প্রত্যেক ফরয বিধান যা মহান আল্লাহ মানুষের প্রতি ধার্য করেছেন, যদি মানুষ তা পালনে সক্ষম হয়, তাহলে তার প্রতি তা পালন করা আবশ্যিক হবে, সে প্রতিবন্ধী হোক বা অপ্রতিবন্ধী। আর যদি সম্পূর্ণরূপে সে তা বাস্তবায়ন করতে অক্ষম হয়, তাহলে তা থেকে সে মুক্তি পাবে। আর যদি কিছুটা করতে সক্ষম হয় এবং কিছুটা করতে অক্ষম হয়, তাহলে যেই পরিমাণ করতে সক্ষম হবে, সেই পরিমাণ তাকে পালন করতে হবে এবং যেই পরিমাণ করতে অক্ষম হবে, সেই পরিমাণ থেকে সে ছাড় পেয়ে যাবে। এর প্রমাণে আল্লাহর বাণী, তিনি বলেনঃ

(আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না )    [ বাক্বারাহ/২৮৬] 

 

এবং নবী (সাঃ) বলেনঃ

‘‘যখন আমি তোমাদেরকে কোন আদেশ করি, তখন তা বাস্তবায়ন কর যতখানি সাধ্য রাখ’’।    [বুখারী, মুসলিম]

 

ইসলামের এই মনোরম বিধানে প্রতিবন্ধীদের জন্য রয়েছে সহজতা ও সহনশীলতা। তাই এমন প্রতিবন্ধী, যে ইসলামের বিধান পালনে একে বারে অক্ষম যেমন পাগল ও জ্ঞানশূন্য ব্যক্তি, তার উপর ইসলাম কোন বিধান জরূরী করে না। আর আংশিক প্রতিবন্ধী যে কিছুটা করতে সক্ষম তার প্রতি অতটুকুই পালনের আদেশ দেয়। যেমন যদি কারো অর্ধ হাত কাটা থাকে তাহলে যতটুকু অংশ বাকি আছে অযুর সময় ততটুকু ধৌত করতে আদেশ দেয়। অনুরূপ প্রতিবন্ধকতার কারণে নামাযে দাঁড়াতে না পারলে বসে আদায় করার আদেশ দেয়। এইভাবে অন্যান্য অবস্থা।

 

প্রতিবন্ধী  প্রশিক্ষণে  আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণঃ

প্রতিবন্ধী শিক্ষা-প্রশিক্ষণে বর্তমান যুগে বিভিন্ন ধরনের উপকরণ আবিষ্কৃত হয়েছে, যেমন স্পষ্ট হস্তলিপি, সাঙ্কেতিক ভাষা, হুইল চেয়্যার, চলন্ত চেয়্যার, কম্পিউটার প্রোগ্রাম ইত্যাদি। এই রকম যাবতীয় উপকারি উপকরণ ব্যবহার বৈধ। আমাদের এ সবের মাধ্যমে তাদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত। কিন্তু শরীয়ত অবৈধ করেছে এমন উপকরণ গ্রহণ করা যাবে না।

 

প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণে পাশ্চাত্য থিউরি হতে সাবধানঃ

প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণে পাশ্চাত্য থিউরি হচ্ছে, ‘দুনিয়ার এ জীবনই শেষ জীবন’ ।

অন্য ভাষায় ‘জিন্দেগী না মিলেগী দোবারা’।

অর্থাৎ পৃথিবীর জীবনটাই শেষ জীবন এর পরে কোন জীবন নেই। তাই এটাকে উপভোগ করো, যতখানি পার, যে ভাবে পার। ধর্ম, সমাজ এবং প্রচলিত রিতি-নীতি যেন দুনিয়া উপভোগ করা থেকে বাধা না হয়। তারা যেমন এই থিউরিকে সাধারণের জন্য করে নিয়েছে তেমন প্রতিবন্ধীদের জন্যও করেছে। তাই তারা মনে করে, যদি কোন প্রতিবন্ধী মদ পান করে আনন্দ পায়, তাহলে সে তা পান করুক। যদি কেউ গান ও মিউজিকের মাধ্যমে মজা পায়, তাহলে সে সেটাই গ্রহণ করুক। যদি কেউ ফিল্ম , নাচ-গান এমনকি মানবতা লজ্জা পায় এমন ফিল্মও পছন্দকারী হয়, তাহলে সে নিজে তা করুক কিংবা উপভোগ করুক,আপত্তি থাকবে না।

 

     প্রিয় পাঠক! আমরা মুসলিম। আমাদের জীবন-যাপনের সুন্দর নিয়ম আছে, যা ইসলাম আমাদের প্রদান করেছে। কিন্তু যাদের কোন ধর্ম নেই, নেই আদর্শ বরং নিজেরাই তৈরি করে নিজের জীবনাদর্শ, তারাই উপরের থিউরির আবিষ্কারক, যা আমাদের জন্য কখনও গ্রহনীয় নয় বরং নিন্দনীয়। কারণ মহান আল্লাহ এসব থেকে আমাদের নিষেধ করেছেন।

 

ছিটেফোঁটাঃ

  • বলা হয়েছে, বর্তমান পৃথিবীর মানব সম্প্রদায়ের প্রায় ১০% লোক প্রতিবন্ধীর সমস্যায় পীড়িত।
  • প্রাচিন যুগে রোম সম্প্রদায়, যারা যোদ্ধা হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছিল, তারা বধিরকে আইনানুযায়ী বোকা ও হাবলা বলে আখ্যায়িত করে তাদের থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছিল।
  • মিসরের ফেরাউন রাজা সম্প্রদায় প্রতিবন্ধী শিশুদের হত্যা করতো।
  • বিশিষ্ট দার্শনিক আরাসতু (এরিস্টল) বধির প্রতিবন্ধী সম্বন্ধে মন্তব্য করেন যে, তাদের শিক্ষা দেওয়া অসম্ভব।
  • দার্শনিক আফ্লাতূন তাদের শহর থেকে বের করে দেওয়ার মত প্রকাশ করে, কারণ তাদের দ্বারা শহর নির্মাণের কাজ অসম্ভব।
  • বানু উমাইয়্যা রাজত্বে বাদশাহ উমার বিন আব্দুল আযীয প্রথম প্রতিবন্ধী শুমারীর আদেশ প্রদান করেন।
  • খলিফা ওলীদ বিন আব্দুল মালিক সর্ব প্রথম কুষ্ঠরোগের হাসপাতাল নির্মাণ করেন।
  • ইমাম আবু হানীফা (রাহেঃ) কাযী থাকাকালীন বায়তুল মাল থেকে প্রতিবন্ধীদের খরচ দেওয়ার আইন জারী করেন।
  • খলীফা মামুন বাগদাদ সহ অন্যান্য বড় শহরগুলিতে অন্ধালয় এবং দুর্বল অপারগ মহিলালয় নির্মাণ করেন।
  • সুলতান কালাউন প্রতিবন্ধীদের জন্য বেমারিস্তান নির্মাণ করেন।
  • বিশিষ্ট তফসীরবিদ রাযী ‘দারাজাতু ফুক্দানিস্ সাম’ ( শ্রবন শক্তি বিলুপ্ততার স্তর) নামক বই লেখেন।
  • অন্ধ প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার উদ্দেশ্যে স্পষ্ট হস্তলিপি ব্রাইলের বহু পূর্বে মুসলিমগণ আবিষ্কার করেন।
  • আবান্ বিন উসমান একজন প্রতিবন্ধী ‘ফকীহ’ ছিলেন।
  • মুহাম্মদ বিন সিরীন শ্রবন প্রতিবন্ধতার পরেও একজন বিশিষ্ট স্বপ্নের তা’বীরবিদ ও হাদীস বর্ণনাকারী ছিলেন।
  • বিগত সউদী গ্রান্ড মুফতী সামাহাতুশ্ শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায অন্ধ ছিলেন।
  • সউদী আরবের বর্তমান গ্রান্ড মুফতীও অন্ধ প্রতিবন্ধী।
  • বর্তমানে মদীনার মুহাদ্দিস এবং মসজিদে নববীতে হাদীসের দারস প্রদানকারী শাইখ আব্দুল মুহসিন আল্ আব্বাদ এক জন অন্ধ প্রতিবন্ধী। (তিনি লেখকের সম্মানীয় শিক্ষক) 

 

[তথ্যসূত্র, ‘মাজাল্লাতুল্ হিকমাহ’ সপ্তম সংখ্যা এবং বিভিন্ন আরবী ওয়েব সাইট]

]]>
http://www.quraneralo.com/islam-for-disabled-people/feed/ 2
একটি আকর্ষণীয় ইসলামীক ক্যালেন্ডার সংগ্রহ করুন http://www.quraneralo.com/one-message-islamic-calender/ http://www.quraneralo.com/one-message-islamic-calender/#comments Wed, 16 Jan 2013 05:39:51 +0000 QuranerAlo.com Editor http://www.quraneralo.com/?p=3885 আল্লাহর জন্য রয়েছে সব উত্তম নাম, সেই নাম ধরেই তাঁকে ডাকো” [৭/১৮০]

213

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, "আল্লাহর রয়েছে ৯৯ টি নাম একশত হতে এক কম। যে ব্যক্তি সেই নাম গুলোকে আন্তস্থ করবে সেগুলোর বিশ্বাস স্থাপন করবে, সেগুলোর অর্থ নিয়ে ভাববে, এবং সেই গুলোর দ্বারা আল্লাহর কাছে চাইবে, এবং এই গুলোর উপর আনিত বিশ্বাসের ভিত্তিতে আমল করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" (Sahih Muslim 035 : 6475)

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা আল্লাহর কত গুলো নাম জানি? এই গুলোর মধ্য হতে কত গুলো দিয়ে আমরা আল্লাহর কাছে চাই? কতগুলোর অর্থ আমরা জানি বা কত গুলোর অর্থই বা আমরা বুঝি?

TheOnemessage এর ক্যালেন্ডার  লক্ষ্য হল আল্লাহর ১২ টি সুন্দর নামের দারা আপনাদের অনুপ্রানিত করা। আলহামদুলিল্লাহ TheOnemessage ২০১৩ সালে ক্যালেন্ডার প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছে। যার ১২ মাসের প্রতিটি পেজ আল্লাহর ১ টি সুন্দরতম নামের অর্থ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা সহ দেয়া যা কুরাআন ও সুন্নাহ থেকে দলিল সহ উপস্থাপন করা হয়েছে। আল্লাহ সম্পর্কে আপনি যত জানবেন তাঁকে তত বেশি ভালবাসবেন এবং তাঁর আদেশ নিষেধের আনুগত্য করা তত সহজ হয়ে যাবে এবং আপনি দুনিয়া ও আখিরাতে সুখী হবেন।

This calendar will open dawah opportunities for you, as a gift to others and also as an attractive ornament on your wall that will familiarise people with Allah's amazing names and attributes, in sha Allah!

এই ক্যালেন্ডার এর মূল্য মাত্র ২৫০ টাকা।

আর আপনার এই ২৫০ টাকা বিনিয়োগ বৃথা যাবে না ইনশাহআল্লাহ। কারন এই ক্যালেন্ডার থেকে অর্জিত পুরো অর্থ TheOnemessage এর পরবর্তী প্রোজেক্টে ব্যবহার করা হবে। এটি আপনাদের জন্য একটি নেক আমল অর্জনের মাধ্যম হয়ে থাকবে। TheOnemessage এর পরবর্তী প্রোজেক্ট থেকে যতজন ইসলাম এর জ্ঞান অর্জন করবে এবং তার সম পরিমান নেকি আপনার আমলনামায় যোগ হবে। TheOnemessage এর এই ছোট প্রোজেক্ট যাতে সফল হয় এই জন্য সকলের নিকট দুয়া কামনা করছি।

Calender Samplehttp://on.fb.me/S0InhJ

কি ভাবে সংগ্রহ করবেন? 

এই লিংকে ক্লিক করে অর্ডার করুন এই আকর্ষণীয় ইসলামিক ক্যালেন্ডারটি। - http://bit.ly/S0HoOv

Website: http://www.theonemessage.com/
FaceBook: www.facebook.com/the1message

]]>
http://www.quraneralo.com/one-message-islamic-calender/feed/ 3
আল্লাহ কেন সকল মানুষকে মুসলিম হতে বাধ্য করেন নি? http://www.quraneralo.com/why-allah-dont-force-all-to-became-muslim/ http://www.quraneralo.com/why-allah-dont-force-all-to-became-muslim/#comments Mon, 03 Dec 2012 05:52:39 +0000 QuranerAlo Editor http://www.quraneralo.com/?p=2334 লেখকঃ    মুহাম্মাদ ইসহাক খান

এ বিষয়টি নিয়ে অনেকের মাঝেই কিছুটা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেক মুসলিম ভাইকেও অনেক সময় বলতে শোনা যায়, ‘তাহলে আল্লাহ কি চাইলে সবাইকে মুসলিম বানাতে পারতেন না?’ আমরাও তখন অজ্ঞতার কারণে সাথে সাথে বলি, ‘আসলেই তো!’ সুতরাং আল্লাহই যেহেতু মানুষকে বিভিন্ন ধর্ম গ্রহণের কিংবা ভিন্ন মত অবলম্বনের অনুমতি বা সুযোগ দিয়েছেন তাহলে আমরা কেনো তাদেরকে ইসলামের কথা বলতে যাবো? এক্ষেত্রে অনেকে একধাপ এগিয়ে সুরায়ে কাফিরুনের মূল অংশ গুলো বাদ দিয়ে কেবলমাত্র বিচ্ছিন্নভাবে শেষ আয়াতটি উল্লেখ করে পান্ডিত্য ঝাড়েন। বলেন দেখেন আল্লাহই সূরায়ে কাফিরুনে বলেছেন, ‘তোমার ধর্ম তোমার, আমার ধর্ম আমার।’ এই কথা বলে তারা মারাত্মক দু’টি অন্যায় করেন। এক, পুরো সূরার মূলভাবকে গোপন করে বিচ্ছিন্নভাবে কেবলমাত্র শেষের আয়াতটিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা। আর শেষের আয়াতে মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ‘দীন’ শব্দের স্থলে ‘ধর্ম’  শব্দ বসিয়ে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে চান। অথচ  সূরায়ে কাফিরুনের পুরোটা পড়লে তাদের অসৎ উদ্দেশ্য নষ্ট হতে বাধ্য। এ নিয়ে বিস্তারিত অন্য সময় আলোচনা করা যাবে। এ ব্যাপারে আজ শুধু পুরো সূরাটি উল্লেখ করে দিচ্ছি।

“হে নবী আপনি বলুন, হে কাফির সম্প্রদায়। তোমরা যার ইবাদাত কর আমি তার ইবাদাত করি না। এবং আমি যার ইবাদাত করি তোমরা তার ইবাদাতকারী নও। আর তোমরা যার ইবাদত করছ আমি তার ‘ইবাদাতকারী হব না। আর আমি যার ইবাদাত করি তোমরা তার ইবাদাতকারী হবে না। তোমাদের জন্য তোমাদের দীন আর আমার জন্য আমার দীন।” (সূরা কাফিরুন ১০৯, আয়াত ০৬)

এবার আসল কথায় আসা যাক। কাউকে কোনো কাজে বাধ্য না করা আর তাকে অন্যায় করতে সুযোগ দেয়া এক কথা নয়।একমাত্র জিন ও মানুষ ছাড়া এই মহাবিশ্বের আসমান, যমীন, পাহাড়, সাগর, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র, নিহাড়িকাপুঞ্জসহ সকল সৃষ্টি প্রকৃতিগতভাবেই মহান আল্লাহর পুরোপুরি অনুগত। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ
বলেন,

أَفَغَيْرَ دِينِ اللَّهِ يَبْغُونَ وَلَهُ أَسْلَمَ مَنْ فِي
السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَإِلَيْهِ يُرْجَعُونَ.

অর্থ:  “তারা কি আল্লাহ্র দ্বীনের পরিবর্তে অন্য দ্বীন তালাশ করছে? অথচ আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে স্বেচ্ছায় হোক বা অনিচছায় হোক, সব সৃষ্টি একমাত্র আল্লাহরই অনুগত হয়ে মুসলিম হয়ে গেছে এবং তাঁর দিকেই সবাই ফিরে যাবে। (সূরা আল ইমরান : আয়াত ৮৩)

এই সকল সৃষ্টির কোনো একটি সামান্যতমও ব্যতিক্রম করে না। মহান আল্লাহর নির্দেশনার বাইরে যায় না। প্রত্যেকটি সৃষ্টি তার জন্য মহান আল্লাহ কর্তৃক বেঁধে দেয়া নির্ধারিত নিয়ম ও বিধান অনুযায়ী চলে। নির্দিষ্ট দায়িত্ব যথাযথভাবে আদায় করে। ইরশাদ হয়েছে,

وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَهَا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ

الْعَلِيمِ. وَالْقَمَرَ قَدَّرْنَاهُ مَنَازِلَ حَتَّى عَادَ كَالْعُرْجُونِ

الْقَدِيمِ. لا الشَّمْسُ يَنْبَغِي لَهَا أَنْ تُدْرِكَ الْقَمَرَ وَلا اللَّيْلُ

سَابِقُ النَّهَارِ وَكُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ.

অর্থ: “সূর্য তার নিজ কক্ষপথে ঘুর্ণয় করে। এটা তার জন্য মহান পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর পক্ষ থেকে সুনির্ধারিত। আর চন্দ্রের জন্য আমি কিছু পথ নির্দিষ্ট করে দিয়েছি সুতরায় সে সেই পথে ঘুরে ঘুরে (মাসের শেষ সময়ে) একেবারে ক্ষীনকায় হয়ে যায়। সুর্যের ক্ষমতা নেই চন্দ্রকে ধরার আর রাতও দিবসের আগে চলে যেতে পারবে না। মূলত: প্রত্যেকটি সৃষ্টিই তার নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করে।” (সূরা ইয়াসীন, আয়াত ৩৮-৪০)

এই সকল সৃষ্টি পরিপূর্ণভাবে একমাত্র আল্লাহর অনুগত। তারা আল্লাহর দাসত্ব মেনে নিয়েছে শর্তহীনভাবে। ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত কোনভাবেই তাদের ক্ষমতা নেই আল্লাহর বিধানে বাইরে যাবার। তারা সর্বদা আল্লাহর আনুগত্য করে এবং প্রশংসা করে। ইরশাদ হয়েছে,

وَلِلَّهِ يَسْجُدُ مَنْ فِي
السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهً.

অর্থ: “আল্লাহকে সেজদা করে যা কিছু নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে আছে ইচছায় অথবা অনিচছায়।” (সূরা রা’দ ১৩, আয়াত ১৫)

আরো ইরশাদ হচ্ছে,

أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يَسْجُدُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ
وَمَنْ فِي الْأَرْضِ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ وَالنُّجُومُ وَالْجِبَالُ
وَالشَّجَرُ وَالدَّوَابُّ وَكَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ.

অর্থ: “তোমরা কি লক্ষ্য করনি যে, বস্তুত ঃ আল্লাহই এক সত্তা যাকে সেজদা করে সকলেই, যারা আছে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে এবং সেজদা করে সূর্য, চন্দ্র, তারকারাজি, পাহাড়, পর্বত, বৃক্ষরাজি, চতুষ্পদ জন্তু ও বহুসংখ্যক মানুষ। (সূরা হজ্জ ২২, আয়াত ১৮)

উপরোক্ত আলোচনার দ্বারা এটা পরিস্কার হয়ে গেলো যে, মহান আল্লাহ চাইলে পৃথিবীর অন্যান্য সৃষ্টির মতো মানুষ ও জিন সম্প্রদায়কেও প্রকৃতিগতভাবেই তার অনুগত ও বাধ্য করতে পারতেন। মহান আল্লাহ ইচ্ছা করলে পৃথিবীর সব মানুষকে মুসলিম হতে বাধ্য করতে পারতেন। তিনি চাইলে সকল মুসলমানকেও তার সকল নিয়মাবলী যথাসময়ে এবং যথাযথভাবে পালন করতে বাধ্য করতে পারতেন। কিন্তু তিনি এটি করেন নি।কিন্তু কেনো এটা করা হয় নি? বিচক্ষণদের জন্য এটিই হচ্ছে তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ ব্যাপারে স্বয়ং আল্লাহ নিজেই বলেন,

وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا
بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ
بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَلا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ عَمَّا جَاءَكَ مِنَ الْحَقِّ
لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ
لَجَعَلَكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلَكِنْ لِيَبْلُوَكُمْ فِي مَا آَتَاكُمْ
فَاسْتَبِقُوا الْخَيْرَاتِ إِلَى اللَّهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعًا فَيُنَبِّئُكُمْ
بِمَا كُنْتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ (৪৮)

অর্থঃ “সুতরাং আপনি তাদের মধ্যে ফয়সালা করুন আল্লাহ যা নাযিল করেছে তদনুসারে এবং আপনার কাছে যে সত্য এসেছে তা ছেড়ে তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করবেন না। আমি তোমাদের প্রত্যেকের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছি নির্দিষ্ট শরীয়ত ও নির্দিষ্ট পন্থা। আর যদি আল্লাহ্ চাইতেন, তবে অবশ্যই তিনি তোমাদের সাইকে এক জাতি করে দিতেন। কিন্তু তিনি তোমাদের পরীক্ষা করতে চান যা তিনি তোমাদের দিয়েছেন তাঁর মাধ্যমে। অতএব নেক কাজের প্রতি ধাবিত হও। তোমাদের সবাইকে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তারপর তিনি তোমাদের অবহিত করবেন সে বিষয়ে যাতে তোমরা মতভেদ করতে।” (সূরা মায়িদাহ ০৫: ৪৮)

মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা এই সমগ্র মহাবিশ্বকে সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি সুন্দরতমভাবে সৃষ্টি করেছেন মানুষ। অনেক আদর ও মমতায় তিনি তৈরী করেছেন আমাদেরকে। তিনি ইরশাদ করছেন,

لَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ فِي أَحْسَنِ تَقْوِيمٍ (৪)

অর্থ: “অবশ্যই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম গঠনে।” (সূরা তীন ৯৫, আয়াত ০৪)

এই পৃথিবী ও তার সকল সম্পদরাজি এবং তার মধ্যকার সকল উপায় উপকরণ মহান আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন একমাত্র মানুষের জন্য। এই মানুষের জন্যই তিনি সৃষ্টি করেছেন চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র। মানুষের সেবায় তিনি নিয়োজিত করেছেন সকল মাখলুকাতকে। সকল মাখলুকাত ও সৃষ্টির মাঝে তিনি মানুষকে এভাবে করেছেন সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোচ্চ সম্মানিত। ইরশাদ করেন,

وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آَدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي
الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى
كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا (৭০)

অর্থ: “আর আমি তো আদম সন্তানদের সম্মানিত করেছি এবং আমি তাদেরকে স্থলে ও সমুদ্রে বাহন দিয়েছি এবং তাদেরকে দিয়েছি উত্তম রিয্ক। আর আমি মানুষকে আমার অনেক সৃষ্টির উপর অনেক মর্যাদা দিয়েছি।” (সূরা ইসরা ১৭, আয়াত ৭০)

এবার চিন্তা করুন। এতো সম্মানিত মানুষকে যদি মহান আল্লাহ বাধ্য করেন, তাহলে কি তার সম্মান থাকে? কোনো অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিকে অনেক সম্মান দিয়ে এনে তারপর যদি তাকে বলা হয় যে, আপনি ঠিক ১০ মিনিট দাঁড়িয়ে কথা বলবেন। এক মিনিট কম-বেশি করতে পারবেন না। এই এই কথা বলতে হবে। এর বাইরে কিছু বলতে পারবেন না।…

এভাবে বিভিন্ন ব্যাপারে যদি তাকে প্রকৃতিগতভাবেই বাধ্য করা হয় তাহলে প্রধান অতিথির সম্মান কি আর বাকি থাকে? প্রধান অতিথির সামনে বা সম্মানিত ব্যক্তিদের সামনে মূলনীতি পেশ করা যায়। এলাকার কে কেমন, কার সাথে কেমন ব্যবহার করা উত্তম-মন্দ তা তাকে জানানো যায়। কিন্তু তাকে নির্দিষ্ট কোনো কাজের ক্ষেত্রে বাধ্য করা যায় না।

একইভাবে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলাও তার এই বিশাল সৃষ্টির মধ্যে মানুষকে প্রধান অতিথি করে পাঠিয়েছেন। এই মহাবিশ্বের সকল সৃষ্টির উপর মানুষকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। এরপর মানুষকে তার দেয়া পথে ও পদ্ধতি অনুসারে চলতে বলেছেন। কিন্তু প্রকৃতিগতভাবে তাদেরকে বাধ্য করেন নি। এটাই মানুষের জন্য পরীক্ষা। কারা তার রবের এতো নিয়ামত পেয়ে কৃতজ্ঞ হয় আর কারা অকৃতজ্ঞ হয় -এখন এটিই দেখার বিষয়। মানবজাতির মধ্যে যারা এই বিশ্ব ও মহাবিশ্বের এতো নিয়ামত পেয়ে তার প্রতিপালক ও স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ ও শ্রদ্ধাশীল হবে তাদের জন্য পরকালে রয়েছে অফুরন্ত নিয়ামত। আর অকৃতজ্ঞদের জন্য আযাব।

تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ
وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ
فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ (১৩) وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ
وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُهِينٌ (১৪)

অর্থ: “এগুলো আল্লাহর সীমারেখা। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে আল্লাহ তাকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতসমূহে, যার তলদেশে প্রবাহিত রয়েছে নহরসমূহ। সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আর এটা মহা সফলতা। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করে এবং তাঁর সীমারেখা লঙ্ঘন করে আল্লাহ তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন। সেখানে সে স্থায়ী হবে। আর তার জন্যই রয়েছে অপমানজনক আযাব।” (সূরা নিসা, আয়াত ১৩-১৪)

মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে বোঝার এবং সঠিক পথ বেছে নেয়ার তাওফীক দিন।

আমীন।

]]>
http://www.quraneralo.com/why-allah-dont-force-all-to-became-muslim/feed/ 5
ঈদ মুবারক http://www.quraneralo.com/eid-mubarak/ http://www.quraneralo.com/eid-mubarak/#comments Fri, 26 Oct 2012 18:15:03 +0000 QuranerAlo Editor http://www.quraneralo.com/?p=2362

কুরআনের আলো ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে সকল লেখক, পাঠক, ভিজিটর ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জানাচ্ছি অকৃত্রিম ঈদের শুভেচ্ছা: ঈদ মোবারক। 

]]>
http://www.quraneralo.com/eid-mubarak/feed/ 6
স্বেচ্ছা সেবক পোস্ট এডিটর/সম্পাদক প্রয়োজন http://www.quraneralo.com/post-editor/ http://www.quraneralo.com/post-editor/#comments Mon, 08 Oct 2012 08:57:58 +0000 QuranerAlo.com Editor http://www.quraneralo.com/?p=3696 যারা ইসলাম নিয়ে কাজ করার চিন্তা ভাবনা করছেন, কিন্তু সুযোগ পাচ্ছেন না, তাদের জন্য কুরানের আলো একটি  সহজ কাজের রাস্তা খুলে দিয়েছে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে অশেষ শুকরিয়া যে আমরা আমাদের সংগ্রহে যে সমস্ত ইংরেজি ও আরবি আর্টিকেল ও মূল্যবান ইসলামিক বই আছে সেগুলো বাংলায় অনুবাদের কাজ করছি। এইজন্যে আমরা কিছু দক্ষ ও ইসলামি দাওয়াতে নিবেদিতপ্রাণ "পোস্ট এডিটর/ সম্পাদক " নিয়োগ করতে যাচ্ছি।

দাওয়াত, আদেশ-নিষেধ, দীন প্রতিষ্ঠা বা নসিহতের এই দায়িত্বই উম্মতে মুহাম্মদির অন্যতম দায়িত্ব ও বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ্‌ বলছেন "আর যেন তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল হয়, যারা কল্যাণের প্রতি আহবান করবে, ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর তারাই সফলকাম।" (সূরা আলে ইমরান: ১০৪)

দায়িত্বঃ

  1. বিভিন্ন ইংরেজি আর্টিকেলের বাংলা অনুবাদ মিলিয়ে দেখতে হবে। অনুবাদের ভাষা যথেষ্ট সরল ও সাবলীল কিনা তা যাচাই করতে হবে। শাব্দিক অনুবাদের পরিবর্তে সঠিক ভাবানুবাদ হয়েছে কিনা দেখতে হবে। বানান ও ব্যাকরণের শুদ্ধতা পরখ করতে হবে।
  2. আপনাকে বাছাইকৃ্ত বই অথবা আরটিকেলটির লিঙ্ক পাঠিয়ে দেবো এবং আপনাকে নির্ধারিত সময়ের ভেতর সেইটির অনুবাদ পরীক্ষা করে আমাদের কাছে পাঠাতে হবে। অনুবাদে কোন রেফারেন্স বিহীন হাদিস থাকলে তার রেফারেন্স খুঁজে দিতে হবে।
  3. আনুবাদ চেক করা হয়ে গেলে কুরআনের আলো ওয়েব সাইটে তা প্রয়জনীয় এডিটিং সহ সাবমিট করতে হবে।
  4. আপনাকে সবসময় দায়িত্ব প্রাপ্ত এডমিনের সাথে আলোচনা করে তার নির্দেশমতো আপনার কাজগুলো সম্পন্ন করতে হবে।

যোগ্যতাঃ

  1. যেহেতু ইসলামী দাওয়াতের কাজে একজন দায়ীকে পরিপূর্ণভাবে নিবেদিত হতে হয় তাই অবশ্যই আপনাকে উচ্চমানের ঈমান, তাকওয়া ও ইসলামের প্রতি দায়িত্ববোধ সম্পন্ন হতে হবে।
  2. কুরআন,হাদীস ও ইসলামের মূলবিষয়গুলোর উপর যথেষ্ট পড়াশোনা ও জ্ঞান থাকতে হবে।
  3. যেহেতু আপনাকে ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ যাচাই করতে হবে তাই অবশ্যই বাংলা ও ইংরেজি দুইটি ভাষাতেই ভালরকম দখল থাকতে হবে।
  4. সপ্তাহে কম্পক্ষে ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টা সময় দিতে হবে।

কিছু দিক নির্দেশনাঃ

  1. প্রথমে আমাদের ওয়েবসাইটের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে আপনার গভীরভাবে হৃদয়ঙ্গম করতে হবে।
  2. শাব্দিক অনুবাদে অধিকাংশ সময় রচনার মূল অর্থ, চেতনা ও উদ্দেশ্য হারিয়ে যায়। তাই অবশ্যই অনুবাদকে একটি শিল্প হিসেবে গ্রহন করে রচনার মূল চেতনা ও অনুভূতিকে অপরিবর্তনীয় রেখে অনুবাদ পর্যবেক্ষণ করার যোগ্যতা থাকতে হবে।

  3. আমরা মানুষের ঘুমন্ত আত্নাকে জাগানোর চেষ্টা করছি। তাই অনুবাদের ভাষা ঝরঝরে, প্রাঞ্জল ও বজ্রের মতো শক্তিশালী কিনা যা মানুষের অনুভূতিকে নাড়া দিয়ে যেতে সক্ষম তা যাচাই করতে হবে।
  4. অনুবাদ শুধু মাত্র বাক্য থেকে বাক্য অনুবাদ নয়। প্রয়োজনে পুরো বিষয়টি আপনার মনের মত করে সাজান। আপনার নিজের কিছু সেখানে সংযোগ করতে পারেন কিংবা অন্যান্য সাইট থেকে রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন।
  5. যেহেতু আপনাকে প্রবন্ধের ভেতরে থাকা কুরআনের আয়াত ও হাদীসের অনুবাদ মিলিয়ে দেখতে হতে পারে তাই নির্ভরযোগ্য কুরআনের অনুবাদ ও হাদীসগ্রন্থগুলো ব্যবহার করতে হবে।
  6. ওই বিষয়টি বুঝবেনা এমন কাউকে বুঝাতে চাচ্ছেন- এই বিষয়টি মনে রেখে সহজ ভাবে লেখা হয়েছে কিনা দেখুন। কাউকে পড়িয়ে দেখতে পারেন সে বুঝতে পারছে কিনা। না বুঝতে পারলে বুঝবেন আরো ভালভাবে সহজভাবে লিখার প্রয়োজন রয়েছে।

আপনি যদি আগ্রহি হন আমাদের সাথে পোস্ট এডিটর হিসাবে কাজ করার জন্য, তাহলে editor@quraneralo.com এড্রেসে আপনার  C.V সহ ইমেইল করুন।

http://www.quraneralo.com/work-with-us-on-quraneralo-website/

]]>
http://www.quraneralo.com/post-editor/feed/ 1