QuranerAlo.com - কুরআনের আলো ইসলামিক ওয়েবসাইট » অন্যান্য http://www.quraneralo.com ইসলামিক রিসোর্সেস - আকিদা, কুরআন, হাদিস, ইসলামী প্রবন্ধ, ইসলামী বই, ইসলামী ওয়াজ | Bangla/Bengali Islamic Website | Bangla Islamic Articles, Bangla Islamic Books, Bangla Islamic Waz Fri, 18 Apr 2014 04:17:25 +0000 en-US hourly 1 http://wordpress.org/?v=3.8.3 রামাদ্বানে সময়ের সদ্বব্যবহারের অপরিহার্যতা পর্ব – ২ http://www.quraneralo.com/time-management-in-ramadan/ http://www.quraneralo.com/time-management-in-ramadan/#comments Fri, 19 Jul 2013 03:29:08 +0000 http://www.quraneralo.com/?p=4569 stopwatch

রামাদ্বানের মাঝেই অন্তর্নিহিত সময় ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি

অনুবাদঃ হামিদা মুবাশ্বেরা

পর্ব ১ | পর্ব ২

সময় ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নিয়ম,পদ্ধতি, আয়োজন এবং কৌশলের আধিক্য থাকলেও শ্রেষ্ঠ উপায়টা সাধারণত হয় সহজতমটা। সকল কাজগুলোর একটা শিডিউল/অনুসূচি বানানো আসলে সময়ের সদ্বব্যবহার করার সবচেয়ে কার্যকরী উপায়। এজন্যই স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস এবং অসংখ্য প্রতিষ্ঠানসমূহ এটা করে থাকে।যখন আপনাকে একটি নির্ধারিত প্রোগ্রাম অনুসরণ করতে হয়, তখন কাজগুলো হয়ে যায়। সমস্যাটা হচ্ছে আমাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার চরম ঘাটতি রয়েছে যার কারণে পড়া বা কাজের মত করে আমাদের ব্যক্তিগত জীবনটাকেও আমরা একটা কার্যক্রমের মত করে সাজাতে পারি না। আল্লাহ রামাদ্বানের মাঝে এমন একটি শিডিউল সৃষ্টি করেছেন যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এমন শৃঙ্খলা আনয়ন করে যাতে অনেক কাজ করে ফেলা যায়।

রামাদ্বান শিডিউলঃ

রামাদ্বানে  দৈনন্দিন যে কাজগুলো করা বাঞ্ছনীয়, তার অভ্যাস আমাদের একটা কাঠামো দেয় যার আলোকে আমরা আমাদের দিনের পরিকল্পনা করতে পারি। নিচে আমি একটা ধারণা দিচ্ছি যে কিভাবে আমরা এই সময়গুলো কাজে লাগাতে পারি-

কোন ধর্মীয় দিক নির্দেশনা দেয়া এই প্রবন্ধের উদ্দেশ্য নয়। ইবাদাতের ব্যাপারে যে পরামর্শ দিচ্ছি তা আমার সীমিত জ্ঞান ও ব্যক্তিগত অভ্যাসের উপর ভিত্তি করে দেয়া। বিস্তারিত বা ব্যাখ্যা এবং সবচেয়ে প্রশংসনীয় ইবাদাত কার্যের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট জ্ঞানের জন্য যোগ্য এবং বিশ্বস্ত স্কলারদের সাথে আলোচনা করার অনুরোধ করছি।

সেহরিঃ

প্রথমেই, রোযা শুরু করার আগে কিছু খাওয়ার (যা অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ) জন্য আমাদের অধিকাংশকে অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশ আগে ঘুম থেকে উঠতে হয়। যদি আগে থেকেই অভ্যাস না থেকে থাকে, তাহলে এটা আমাদের সুযোগ দেয় তাহাজ্জুদ পড়ার, যার সওয়াব অফুরন্ত।

ফজরের সালাতঃ

ছেলেদের জন্য, অধিকাংশ মসজিদই তাদের জামাতের সময় এমনভাবে সমন্বয় করে যাতে  ফজরের সালাত জামাতে আদায়ের জন্য তাদের সেহরির পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে না হয়। সাধারণত নামাযের মাঝে ৩০ মিনিটের একটা বিরতি থাকে যেটা জিকির বা কুরআন তিলাওয়াতে নিমগ্ন হওয়ার জন্য আদর্শ। আপনার স্থানীয় মসজিদের নামাযের সময় খেয়াল করুন; জামাতের সময় বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন হয় এবং হয়ত বা বিকল্প কোনো মসজিদের ফজরের জামাতের সময় আপনার শিডিউলের জন্য বেশি উপযুক্ত হবে। মহিলারা যারা বাসায় নামায পড়ছেন, তাদের  যেহেতু জেগে থাকতেই হয়, সেহেতু ফজরের পরে ১০-৩০ মিনিট একনিষ্ঠ ইবাদাতে কাটাতে পারেন।

সূর্যোদয়ঃ

আরেকটা খুব প্রশংসনীয় সুন্নাত হল ফজরের পর থেকে সূর্যোদয়ের মোটামুটি ২০ মিনিট পর পর্যন্ত বসে বসে জিকির করা এবং তারপর ইশরাকের সালাত পড়া। কারো যদি পড়া বা কাজে যাওয়ার তাড়া না থাকে, তাহলে ( কারো কারো জন্য এবারের রোযা গ্রীষ্মের ছুটির মাঝে পড়ছে) তাহলে আপনার উচিৎ এটাকে একটা দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করা।তবে যদি সকালে কাজের জন্য যেতে হয়, তাহলে এটা খুব কঠিনও হতে পারে। যেমন ধরুন, যুক্তরাজ্যের লেসিস্টারে রাত ২.৩০টার দিকে সেহরির এবং তাহাজ্জুদের জন্য উঠতে হয়, ৩০-৪০ মিনিটের জন্য ইবাদাত করে ফযর পড়তে হয় ৩টায় তারপর জেগে থাকতে হয় সকাল ৬টা পর্যন্ত।

তাই ফজর এবং ইশরাকের সালাত বিষয়ক ইস্যুর কোনো সহজ সমাধান নেই। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে নামাযের সময় বিভিন্ন হয়, তাই আপনাকে এমন একটি ঘুমের শিডিউল বের করে নিতে হবে যাতে আপনি জেগে থাকতে পারেন। ব্যক্তিগতভাবে, স্কলারদের সাথে আলোচনার পর আমি তাহাজ্জুদ এবং ফজরের সামায জামাতে পড়াকে অগ্রাধিকার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তারপর ঘুমাই এবং কাজের জন্য স্বাভাবিক সময়ে উঠি (৮টা-৯টার দিকে), তারপর সালাতুত দুহা পড়ি। এই সালাত সওয়াবের দিক থেকে ইশরাকের মতই এবং এভাবে আমার ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।

মাগরিব এবং ইফতারঃ

ইফতার এবং মাগরিবের ঠিক আগের মূহুর্ত ইবাদাতের জন্য খুবই আকাঙ্ক্ষিত, বিশেষ করে দুআ। এই সময়ে মসজিদ্গুলোতে একটা দারুণ দৃশ্য দেখা যায়, আর তা হল লাইন ধরে স্থানীয়দের আকুল তিলাওয়াত, জিকির এবং দুআতে নিমগ্ন থাকা। এই সময়টাতে ব্যক্তিগত কিছু বা জরুরী কাজের জন্য সময় দেয়াটা অনাকাঙ্ক্ষিত যেহেতু এর উপর কিছুটা হলেও আপনার নিয়ন্ত্রণ বিদ্যমান। অতিথি বা আমন্ত্রণকারী কর্তৃক ইশার জামাত এবং তারাবীহ পড়া থেকে বিরত রাখার প্ররোচনা আপনাকে প্রতিহত করতে হবে।আসলে আমাদের যে তারাবীহ নামায আছে, সেটাই আমাদের একটা আদর্শ সময় কাঠামো দেয়।

তারাবীহঃ

যদিও বাধ্যতামূলক নয়, তারপরও মসজিদে জামাতে তারাবীহ পড়ার বহু উপকারিতা আছে- তার মাঝে উল্লেখযোগ্য হল পুরো কুরআনের তিলাওয়াতটা নামাযে শুনতে পারা আর একতাবদ্ধতার অনুভূতি উদ্রেককারী এক চমৎকার পরিবেশ ।বোনদের উচিৎ স্থানীয় সুবিধা অনুসন্ধান করা যেহেতু অধিকাংশ শহরই তাদেরকেও অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়।

ই’তিকাফঃ

রোযার শেষ দশ দিন মসজিদে শুধুমাত্র ইবাদাতের জন্য উৎসর্গ করা আল্লাহ্‌র কাছাকাছি যাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ সময় বের করার ক্ষেত্রে এক অদ্বিতীয় পদ্ধতি।যেহেতু এটা হাজ্জের মত যাতে লম্বা সময়ের প্রতিশ্রুতি দিতে হয়, তাই আমাদের অনেকের জন্য এটা জীবনের মাত্র অল্প কয়েকবারই করা সম্ভব। কিন্তু ব্যাপারটি এমন হবার প্রয়োজন নেই।বছরের পর বছর ধরে আমি দেখেছি কিভাবে বন্ধুরা অগ্রবর্তী হয়ে তাদের কাজ এবং ছুটির সময়ের মাঝে সমন্বয় করেছে যেন তারা বাৎসরিকভাবে এই অসাধারণ ইবাদাতে লিপ্ত হতে পারে। আপনি যদি করতে চান, ব্যবস্থা তাহলে একটা  হবেই। এবং একবার যদি আপনি এর উপকারিতার স্বাদ পান, তবে বারবার এটার অভিজ্ঞতা নিতে চাইবেন। সময় ব্যবস্থাপনার উপর পুরো অধ্যায়টাই কথা বলে প্রতিবন্ধকতা নিয়ে- ফোন কল, ই-মেইল, অযাচিত অতিথি, পোস্ট ইত্যাদি। আর ই’তিকাফের নিয়মটাই হচ্ছে এমন যাতে এই প্রতিবন্ধকতাগুলো অপসৃত হয়।আজকের আধুনিক যুগ, যা নিয়ত প্রতিবন্ধকতা আবহে পরিবেষ্টিত,সেই সময়ে এই বিশৃংখল ছুটে চলা থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর স্মরণে নিমগ্ন হবার এক  অবিশ্বাস্য পদ্ধতি এই দশ দিনের ই’তিকাফ।

]]>
http://www.quraneralo.com/time-management-in-ramadan/feed/ 0
পবিত্র মদীনা মুনাওওয়ারার নাম, ফযিলত ও এখানে অবস্থানের আদবসমূহ http://www.quraneralo.com/virtues-of-madinah/ http://www.quraneralo.com/virtues-of-madinah/#comments Tue, 02 Jul 2013 04:40:17 +0000 http://www.quraneralo.com/?p=4538 LE1W52JX
লেখক: মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী | সম্পাদক: আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

পবিত্র মদীনা মুনাওওয়ারাকে বলা হয় দ্বিতীয় হারাম। মুসলিম হৃদয়ে এ নগরীটির প্রতি রয়েছে অপরিসীম শ্রদ্ধা, ভালবাসা ও মর্যাদা। কেননা এটি ছিল প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিজরতভূমি। তিনি তাঁর জীবনের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ শেষ দশ বছর এ নগরীতেই কাটিয়েছেন। অহীর বৃহত্তর অংশ এখানেই তাঁর উপর অবতীর্ণ হয়। এ নগরীকে কেন্দ্র করেই তিনি আল্লাহর সাহায্যে ইসলামকে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন। বস্তুত আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ নগরীকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করে অনেক ফযিলত, মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য দিয়ে একে অভিষিক্ত করেছেন।

 

পবিত্র মদীনা মুনাওওয়ারার নাম

মদীনাকে অনেকগুলো নামে অভিহিত করা হয়েছে, যা তার ফযিলত ও মর্যাদার প্রমাণ বহন করছে। কেননা একই জিনিসের অনেক নাম সে জিনিসের মর্যাদা ও গুরুত্বের প্রমাণবাহী। ঐতিহাসিকগণ এ নগরীর বহু নাম উল্লেখ করেছেন। ‘আল্লামা সামহুদী’ এর ৯৪টি নাম উল্লেখ করেছেন।

তন্মধ্যে ‘মদীনা’ নামটি সর্বাধিক প্রসিদ্ধ, যা আল-কুরআনে চার বার এসেছ। [সূরা আত্-তাওবাহ: ১০১, ১২০, সূরা আল আহযাব: ৬০, সূরা আল-মুনাফেকুন: ৮] আর হাদীসে এ নামটি অসংখ্যবার এসেছে।

মদীনার আরেকটি নাম ‘ত্বাবাহ’। ইমাম মুসলিম জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى سَمَّى الْمَدِينَةَ طَابَة»

‘‘আল্লাহ তা’য়ালা এ মদীনাকে ‘ত্বাবাহ’ নামে নামকরণ করেছেন।’’ [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৪২৩]

এ শহরের অন্যতম আরেকটি নাম হল ‘ত্বাইবাহ’ বা ‘ত্বাইয়েবাহ’। ইমাম মুসলিমের আরেকটি বর্ণনা এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«هَذِهِ طَيْبَةُ هَذِهِ طَيْبَةُ هَذِهِ طَيْبَة»

‘‘এ নগরী হল ত্বাইবাহ, ত্বাইবাহ, ত্বাইবাহ’’। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৫৭৩]

ত্বাবাহ ও ত্বাইবাহ কিংবা ত্বাইয়েবাহ শব্দগুলোর অর্থ হল পবিত্র বা উত্তম।

আরো যে সব নামে মদীনাকে অভিহিত করা হয় তম্মধ্যে রয়েছে ‘আদ-দার’, ‘আল-হাবীবা’, ‘দারুল হিজরাহ’, ‘দারুল ফাতহ’ ইত্যাদি।

আর জাহেলী যুগে মদীনার নাম ছিল ‘ইয়াসরিব’। কিন্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ নামে এ শহরটিকে অভিহিত করতে অপছন্দ করেছেন। ইমাম বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«أُمِرْتُ بِقَرْيَةٍ تَأْكُلُ الْقُرَى يَقُولُونَ يَثْرِبُ وَهْيَ الْمَدِينَة»

‘‘আমাকে এমন এক জনপদে হিজরত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে যা অন্য সব জনপদকে গ্রাস করবে। লোকজন একে ইয়াসরিব বলে। অথচ এটি হল মদীনা’’। [সহীহ বুখারী - ১৮৭১ ও সহীহ মুসলিম-৩৪১৯]

মদীনার ফযিলত ও মর্যাদা

1.      রাসূলের প্রিয় নগরী:এ নগরী যাতে অন্য সকলেরও প্রিয় হয়, সেজন্য তিনি আল্লাহর কাছে দো‘আ করেছিলেন,

«اللَّهُمَّ حَبِّبْ إِلَيْنَا الْمَدِينَةَ كَحُبِّنَا مَكَّةَ ، أَوْ أَشَد»

‘‘হে আল্লাহ! তুমি মদীনাকে আমাদের কাছে প্রিয় করে দাও, যেমনি ভাবে প্রিয় করেছ মক্কাকে, বরং তার চেয়েও বেশী প্রিয় কর।’’ [সহীহ বুখারী: ১৮৮৯, সহীহ মুসলিম: ৩৪০৮]

2.      রাসূলের শেষ জীবনের স্থায়ী নিবাস:এ নগরীতেই তিনি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়টুকু অতিবাহিত করেছেন। হেদায়াতের আলো নিয়ে এর আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়িয়েছেন মানুষকে সত্যের দিশা দেয়ার জন্য। এর প্রতিটি ধুলিকণা সাক্ষ্য দিবে যে, তিনি মানুষকে এক আল্লাহর দিকে ডেকেছেন, একমাত্র সত্যধর্ম ইসলামের দিকে ডেকেছেন, ইহ ও পরকালীন মুক্তির দিকে ডেকেছেন।

3.      এ নগরীর সবকিছুতে বরকত দেয়ার জন্য দোআ:নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কাছে মদীনার সবকিছুতে বরকত দেয়ার জন্য নিম্নবর্ণিত দো‘আটি করেন:

«اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِى ثَمَرِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِى مَدِينَتِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِى صَاعِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِى مُدِّنَا اللَّهُمَّ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ عَبْدُكَ وَخَلِيلُكَ وَنَبِيُّكَ وَإِنِّى عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ وَإِنَّهُ دَعَاكَ لِمَكَّةَ وَإِنِّى أَدْعُوكَ لِلْمَدِينَةِ بِمِثْلِ مَا دَعَاكَ لِمَكَّةَ وَمِثْلِهِ مَعَه»

‘‘হে আল্লাহ! তুমি আমাদের ফল-ফলাদিতে বরকত দাও। আমাদের এ মদীনায় বরকত দাও। আমাদের আহার্য্য, শস্য ও খাদ্য-দ্রব্যে বরকত দাও। হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই ইবরাহীম তোমার বান্দা, তোমার বন্ধু ও তোমার নবী। আর আমিও তোমার বান্দা ও তোমার নবী। তিনি মক্কা নগরীর বরকতের জন্য তোমার কাছে দো‘আ করেছিলেন। মক্কার জন্য যে পরিমাণ দো‘আ তিনি তোমার কাছে করেছিলেন, মদীনার জন্য সে পরিমাণ এবং তদনুরূপ আরেকগুণ বরকতের দো‘আ আমি তোমার কাছে করছি।’’ [সহীহ মুসলিম: ৩৪০০]

অন্য বর্ণনায় এরকম দো‘আ এসেছে,

«اللَّهُمَّ اجْعَلْ بِالْمَدِينَةِ ضِعْفَىْ مَا بِمَكَّةَ مِنَ الْبَرَكَة»

‘‘হে আল্লাহ! মক্কায় যতটুকু বরকত রয়েছে, মদীনায় তার দ্বিগুণ বরকত দাও।’’ [সহীহ মুসলিম - ৩৩৯২]

4.      মদীনাকে ‘হারাম’ বলে ঘোষণা:হারাম শব্দের একটি অর্থ হচ্ছে নিষিদ্ধ এবং আরেকটি পবিত্র। দু’টো অর্থই এ নগরীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

«الْمَدِينَةُ حَرَمٌ مَا بَيْنَ عَيْرٍ إِلَى ثَوْر»

‘‘মদীনার ‌‘আইর ও সওর পর্বতের মাঝখানের স্থানটুকু হারাম’’। [সহীহ মুসলিম: ৩৩৯৩]

«إِنَّ إِبْرَاهِيمَ حَرَّمَ مَكَّةَ وَإِنِّى حَرَّمْتُ الْمَدِينَةَ مَا بَيْنَ لاَبَتَيْهَا لاَ يُقْطَعُ عِضَاهُهَا وَلاَ يُصَادُ صَيْدُهَا»

‘‘ইবরাহীম আলাইহিস সালাম মক্কাকে ‘হারাম’ বলে ঘোষণা করেছিলেন, আর আমি মদীনাকে তথা এর প্রস্তরময় দু’ভূমির মাঝখানের অংশকে ‘হারাম’ বলে ঘোষণা করছি- এর বৃক্ষসমূহ কাটা যাবে না এবং এর প্রাণী শিকার করা যাবে না।’’ [সহীহ মুসলিম - ৩৩৮৩]

ফেরেশতাদের প্রহরায় মদীনাকে মহামারী ও দাজ্জাল থেকে সংরক্ষণের ব্যবস্থা:

আল্লাহ তা’আলা মদীনার প্রবেশদ্বারসমূহে ফেরেশতাদের মধ্য থেকে প্রহরী নিযুক্ত করেছেন, যারা এতে মহামারী ও দাজ্জালের প্রবেশকে প্রতিহত করবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«عَلَى أَنْقَابِ الْمَدِينَةِ مَلاَئِكَةٌ لاَ يَدْخُلُهَا الطَّاعُونُ ، وَلاَ الدَّجَّالُ».

‘‘মদীনার পথে-প্রান্তরে রয়েছে (প্রহরী) ফেরেশতাগণ, (তাই) এখানে মহামারী ও দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না।’’ [সহীহ বুখারী - ১৮৮০, ৫৭৩১ ও সহীহ মুসলিম - ৩৩৩৭]

6.      মদীনায় বসবাসের আলাদা গুরুত্ব ও মর্যাদা রয়েছে:মদীনায় বসবাসের প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উৎসাহ দিয়েছেন। এমনকি এখানে বসবাসের ফলে দুঃখ-কষ্টে নিপতিত হলেও ধৈর্যধারণ করতে বলেছেন এবং মদীনা ছেড়ে যেতে অনুৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেন,

«يَأْتِى عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يَدْعُو الرَّجُلُ ابْنَ عَمِّهِ وَقَرِيبَهُ هَلُمَّ إِلَى الرَّخَاءِ هَلُمَّ إِلَى الرَّخَاءِ وَالْمَدِينَةُ خَيْرٌ لَهُمْ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ وَالَّذِى نَفْسِى بِيَدِهِ لاَ يَخْرُجُ مِنْهُمْ أَحَدٌ رَغْبَةً عَنْهَا إِلاَّ أَخْلَفَ اللَّهُ فِيهَا خَيْرًا مِنْهُ أَلاَ إِنَّ الْمَدِينَةَ كَالْكِيرِ تُخْرِجُ الْخَبِيثَ. لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَنْفِىَ الْمَدِينَةُ شِرَارَهَا كَمَا يَنْفِى الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ».

‘‘মানুষের কাছে এমন এক সময় আসবে, মদীনায় বসবাসরত ব্যক্তি তার চাচাত ভাই ও আত্মীয়কে বলবে চল স্বচ্ছলতার দিকে, চল স্বচ্ছলতার দিকে। অথচ মদীনাই তাদের জন্য উত্তম, যদি তারা জানত। যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ করে বলছি, মদীনার প্রতি বিরাগভাজন হয়ে যে ব্যক্তিই এখান থেকে বের হয়ে যায়, আল্লাহ তদস্থলে তার চেয়ে উত্তম ব্যক্তি স্থলাভিষিক্ত করে দেন। সাবধান, মদীনা (কামারের) হাঁপরের ন্যায় নিকৃষ্ট ব্যক্তিকে বের করে দেবে। হাঁপর যেভাবে লোহার ময়লা বের করে দেয়, তেমনি, মদীনা ও তার মন্দ ব্যক্তিদের বের না করা পর্যন্ত ক্বিয়ামত হবেনা।’’ [সহীহ মুসলিম - ৩৪১৮]

হিজরী ৬৩ সালে মদীনায় লুট-পাটের যে ফিতনা হয়েছিল সে সময়ে আবু সাঈদ নামক জনৈক ব্যক্তি সাহাবী আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এসে মদীনা থেকে চলে যাওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ চাইলো। আর অভিযোগ করল যে, মদীনায় পণ্যের দাম বেশী ও তার পরিবার বড়। মদীনার কষ্ট, বিপদ ও সমস্যায় তার পক্ষে ধৈর্যধারণ করা সম্ভব নয় বলে সে জানাল। তখন আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘‘তোমার ধ্বংস হোক! তোমাকে আমি (কি করে) সে আদেশ করব? অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছি,

«لاَ يَصْبِرُ أَحَدٌ عَلَى لأْوَائِهَا فَيَمُوتَ إِلاَّ كُنْتُ لَهُ شَفِيعًا أَوْ شَهِيدًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِذَا كَانَ مُسْلِمًا».

‘যে ব্যক্তি মদীনার কষ্টে ধৈর্যধারণ করে তথায় মৃত্যুবরণ করবে, ক্বিয়ামতের দিন আমি তার জন্য শাফায়াত করব অথবা তার পক্ষে সাক্ষ্য দেব, যদি সে মুসলিম হয়।’’ [সহীহ মুসলিম - ৩৪০৫]

7.      মদীনার দু:খ-কষ্ট ও বালা-মুসিবতে ধৈর্যধারণের মর্যাদা:রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«لاَ يَصْبِرُ أَحَدٌ عَلَى لأْوَائِهَا فَيَمُوتَ إِلاَّ كُنْتُ لَهُ شَفِيعًا أَوْ شَهِيدًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِذَا كَانَ مُسْلِمًا».

‘‘যে ব্যক্তি মদীনার কষ্ট ও বালা-মুসিবতে ধৈর্যধারণ করবে, ক্বিয়ামতের দিন আমি তার পক্ষে সাক্ষ্য দেব কিংবা তার জন্য শাফায়াত করব।’’ [সহীহ মুসলিম - ৩৪০৫]

8.      মদীনায় মৃত্যু হওয়ার মর্যাদা:রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«مَنْ اسْتَطَاعَ أَنْ يَمُوتَ بِالمَدِينَةِ فَلْيَمُتْ بِهَا ، فَإِنِّي أَشْفَعُ لِمَنْ يَمُوتُ بِهَا».

‘‘যে ব্যক্তি মদীনায় মৃত্যুবরণ করতে সক্ষম, সে যেন তা করে। কেননা যে তথায় মৃত্যুবরণ করবে, আমি তার জন্য শাফায়াত করব।’’ [সহীহ সূত্রে ইমাম আহমাদ: ৫৮১৮]

9.      মদীনা ঈমানের স্থান:মদীনা দারুল ঈমান বা ঈমানের গৃহ। তাইতো এখান থেকেই ঈমানের আলো সারা বিশ্বে বিচ্ছুরিত হয়েছিল। পরিশেষে মানুষ যখন ঈমান হতে বিচ্যুত হতে থাকবে, তখন ঈমান তার গৃহে তথা মদীনার দিকে ফিরে আসবে, যেভাবে সাপ তার গর্তের দিকে ফিরে আসে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

«إِنَّ الإِيمَانَ لَيَأْرِزُ إِلَى الْمَدِينَةِ كَمَا تَأْرِزُ الْحَيَّةُ إِلَى جُحْرِهَا».

 “ঈমান মদীনার দিকে ফিরে আসবে, যেভাবে সাপ তার গর্তের দিকে ফিরে আসে’’। [সহীহ বুখারী - ১৮৭৬ ও মুসলিম - ৩৭২]

10.  মদীনায় ইলম শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেয়ার মর্যাদা:মদীনা ছিল প্রথম বিদ্যালয় যা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উম্মতের এমন এক প্রজন্মের তারবিয়াতের জন্য প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, ইতিহাসে যাদের আর কোন জুড়ি মেলে না। তাইতো এখান থেকে বের হয়েছে অসংখ্য সৎ ও বিজ্ঞ আলেম, যারা স্বীয় ইলম ও তারবিয়াতের মাধ্যমে জগতকে আলোকিত করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«يَضْرِبُونَ أَكْبَادَ الإِبِلِ يَطْلُبُونَ الْعِلْمَ فَلاَ يَجِدُونَ عَالِمًا أَعْلَمَ مِنْ عَالِمِ الْمَدِينَة»

‘‘মানুষ হন্যে হয়ে ইলম অনুসন্ধান করবে, তবে মদীনার আলেমের চেয়ে অধিক বিজ্ঞ কোন আলেম তারা খুঁজে পাবে না।’’ [নাসায়ী: ৪২৭৭ ও হাকেম: ৩০৭ সহীহ সূত্রে]

তিনি আরো বলেন,

«مَنْ جَاءَ مَسْجِدَنَا هَذَا يَتَعَلَّمُ خَيْرًا أَوْ يُعَلِّمُهُ فَهُوَ كَالْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللهِ»

‘‘যে ব্যক্তি আমার মসজিদে শুধু এই জন্যেই আসে যে, সে কোন কল্যাণের দীক্ষা নেবে কিংবা অন্যদের শিক্ষা দেবে, সে আল্লাহর পথে জিহাদকারীর সমতূল্য।’’[হাকিম: ৩০৯, বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী]

11.  মদীনায় রয়েছে পবিত্র মাসজিদে নববী: স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে তৈরী এ মাসজিদের অসংখ্য ফযিলত রয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«صَلاَةٌ فِي مَسْجِدِي هَذَا خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ صَلاَةٍ فِيمَا سِوَاهُ إِلاَّ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ».

‘‘আমার এ মাসজিদে নামায আদায় (মক্কার) মাসজিদুল হারাম ছাড়া অন্য যে কোন মাসজিদে নামায আদায় অপেক্ষা এক হাজার গুণ উত্তম।’’ [সহীহ বুখারী: ১১৯০ ও সহীহ মুসলিম: ৩৪৪০]

মাসজিদে নববী হচ্ছে সেই তিন মাসজিদের একটি, যার উদ্দেশ্যে দূর-দূরান্ত হতে সওয়াবের উদ্দেশ্যে সফর করা বৈধ। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«لاَ تُشَدُّ الرِّحَالُ إِلاَّ إِلَى ثَلاَثَةِ مَسَاجِدَ مَسْجِدِى هَذَا وَمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَمَسْجِدِ الأَقْصَى».

‘‘তিনটি মাসজিদ ছাড়া আর কোথাও (সাওয়াবের নিয়তে) সফর করা জায়েয নেই। এগুলো হল: (মক্কার) মাসজিদুল হারাম, আমার এই মাসজিদ এবং মাসজিদুল আকসা।’’ [সহীহ বুখারী: ১১৮৯ ও সহীহ মুসলিম: ৩৪৫০]

আর এ মাসজিদ নববীতে ‘রাওদাতুম মিন রিয়াদুল জান্নাহ’ রয়েছে যার সম্পর্কে স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

«مَا بَيْنَ مِنْبَرِى وَبَيْتِى رَوْضَةٌ مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ».

‘‘আমার মিম্বর ও ঘরের মাঝখানের অংশটুকু জান্নাতের বাগিচা সমূহের একটি বাগিচা।’’ [সহীহ বুখারী: ১১৯৫ ও সহীহ মুসলিম: ৩৩৫৬]

12.  মদীনায় রয়েছে মাসজিদে কুবা:এ মাসজিদে নামায পড়ার ফযিলত সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

«مَنْ تَطَهَّرَ فِي بَيْتِهِ ثُمَّ أَتَى مَسْجِدَ قُبَاءٍ ، فَصَلَّى فِيهِ صَلاَةً، كَانَ لَهُ كَأَجْرِ عُمْرَةٍ».

‘‘যে ব্যক্তি নিজ ঘরে ত্বাহারাত তথা পবিত্রতা অর্জন করে মাসজিদে কুবায় গিয়ে কোনো নামায পড়ে, তার জন্য উমরার সমান সাওয়াব অর্জিত হবে।’’ [সহীহ সূত্রে আহমাদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ]

 

মদীনায় অবস্থানের আদবসমূহ

1.      রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কুদওয়া ও আদর্শ হিসাবে সর্বান্তকরণে মেনে নেয়া:কেননা তিনিই মদীনাবাসী সবার মাঝে হেদায়াতের আলো বিতরণ করেছেন এবং তারা তাঁর হেদায়েত লাভে ধন্য হয়েছে। সুতরাং বর্তমানেও যারা মদীনায় অবস্থান করছে, স্থায়ীভাবে হোক কিংবা সাময়িক ভাবে, তাদের জন্যেও ওয়াজিব হচ্ছে তাঁকে জীবনের সর্বক্ষেত্রে অনুসরণ করা, যাতে তারা তাঁর প্রচারিত হেদায়াতের দিশা লাভে ধন্য হতে পারে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ لَّقَدۡ كَانَ لَكُمۡ فِي رَسُولِ ٱللَّهِ أُسۡوَةٌ حَسَنَةٞ لِّمَن كَانَ يَرۡجُواْ ٱللَّهَ وَٱلۡيَوۡمَ ٱلۡأٓخِرَ وَذَكَرَ ٱللَّهَ كَثِيرٗا ٢١ ﴾ [الاحزاب : ٢١]

‘‘রাসূলুল্লাহর মধ্যে তোমাদের (সে লোকদের) জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ, যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে খুব বেশী স্মরণ করে।’’ [সূরা আল-আহযাব: ২১]

2.      রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাত অনুসরণের ব্যাপারে সজাগ থাকা এবং সর্বপ্রকার বেদআ‘ত ও পাপাচার থেকে বিরত থাকা:নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

«مَنْ أَحْدَثَ فِيهَا حَدَثًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لاَ يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ صَرْفًا وَلاَ عَدْلاً».

‘‘যে ব্যক্তি মদীনায় কোন পাপ করে, অথবা পাপাচারী আশ্রয় দান করে, তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতাগণ ও  সকল মানুষের লা’নত পড়বে। ক্বিয়ামতের দিন তার কাছ থেকে আল্লাহ কোন ইবাদাত ও দান গ্রহণ করবেন না।’’ [সহীহ বুখারী: ১৮৭০ ও সহীহ মুসলিম: ৩৩৮৯]

3.      মদীনায় অবস্থানরত অপরাপর কোন ব্যক্তির উপর চড়াও না হওয়া, কারো জান-মাল ও ইজ্জতের উপর হামলা করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা এবং কারো প্রতি মন্দ ইচ্ছা পোষণ না করা:এগুলো সবস্থানেই হারাম। তবে মদীনায় শক্তভাবে নিষিদ্ধ। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

«مَنْ أَرَادَ أَهْلَ هَذِهِ الْبَلْدَةِ بِسُوءٍ - يَعْنِى الْمَدِينَةَ - أَذَابَهُ اللَّهُ كَمَا يَذُوبُ الْمِلْحُ فِى الْمَاءِ».

‘‘যে ব্যক্তি এ নগরীর অধিবাসীদের কোন ক্ষতি সাধন করতে চায়, আল্লাহ তাকে মিশিয়ে দেবেন (নিশ্চিহ্ন করে দিবেন) যেভাবে লবন পানির মধ্যে মিশে যায়’’। [সহীহ মুসলিম - ৩৪২৪]

4.      পবিত্র মদীনায় অবস্থানকালে কোন প্রকার বালা-মুসীবত ও দু:খ-কষ্টের মুখোমুখি হলে ধৈর্যধারণ করা:এ সম্পর্কে ইতোপূর্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী উল্লেখ করা হয়েছে।

  1. ইবাদত, দো‘আ, ইস্তেগফার ইত্যাদিতে বেশী বেশী সম্পৃক্ত থাকা:

বিশেষ করে মাসজিদে নববীতে নামায জামায়াত সহকারে আদায় করা, মাঝে মাঝে মাসজিদে কুবায় নামায পড়া এবং বাকী‘ কবরস্থান ও উহুদের শহীদ সাহাবাদের কবরস্থান যিয়ারত করা উত্তম।

আল্লাহ আমাদেরকে পবিত্র মদীনার ফযিলত হৃদয়ঙ্গম করে সে অনুযায়ী বেশী বেশী উত্তম কাজ করার তওফীক দান করুন।

]]>
http://www.quraneralo.com/virtues-of-madinah/feed/ 0
ধর্মীয় কাজে বাধা দানের পরিণতি http://www.quraneralo.com/destruction-of-both-life/ http://www.quraneralo.com/destruction-of-both-life/#comments Sun, 02 Jun 2013 04:53:35 +0000 http://www.quraneralo.com/?p=4478 destruction


ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম

ভূমিকা :
আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদত করার জন্য এবং পৃথিবীতে তাঁর বিধান কায়েম করার জন্য। এ লক্ষ্যে মানবতার সঠিক পথের দিশারী হিসাবে এক লক্ষ চবিবশ হাযার নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন (আহমাদ, ত্বাবারানী, মিশকাত হা/৫৭৩৭)। তাঁরা যুগে যুগে মানুষকে সত্য-সুন্দরের পথ, কল্যাণের পথ, হেদায়াতের পথ প্রদর্শন করেছেন। সে পথে মানুষকে পরিচালনার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। কিন্তু মানুষ শয়তানের প্ররোচনায় ও তার কুমন্ত্রণায় হক্বের পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। কখনোবা এ পথে মানুষ যাতে আসতে না পারে সেজন্য বাধা সৃষ্টি করেছে। ফলে ঐসব মানুষও শয়তানের ন্যায় অভিশপ্ত হয়েছে, জান্নাতের পরিবর্তে জাহান্নামের কীটে পরিণত হয়েছে। আলোচ্য নিবন্ধে হক্বের পথে, আল্লাহর পথে তথা দ্বীনের পথে বাধা দেওয়ার পরিণতি সম্পর্কে আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ।

দ্বীনী কাজে বাধা প্রদানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট :
মহান আল্লাহ আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করে জ্বিন-ফিরিশতা সবাইকে নির্দেশ দেন আদমকে সিজদা করার জন্য। সবাই নির্দেশ মেনে আদমকে সিজদা করলেও ইবলীস অহংকারবশতঃ আল্লাহর নির্দেশকে অমান্য করে অভিশপ্ত শয়তানে পরিণত হয় (বাক্বারাহ ২/৩৪)। আদমের কারণে যেহেতু ইবলীসের উচ্চ মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হয়, সেজন্য সে আদম ও তাঁর সন্তানদের প্রতি ঈষাপরায়ণ হয়ে পড়ে। সে মানুষের চিরশত্রুতে পরিণত হয়। শুরু হয় তার চতুর্মুখী ষড়যন্ত্র ও মানুষকে নানাভাবে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা। সে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে মানুষকে কুফরী করতে প্ররোচিত করে। কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় মানুষ কুফরীতে লিপ্ত হ’লে সে বলে, ‘আমি তোমার থেকে মুক্ত এবং আমি মহান আল্লাহ্কে ভয় করি’ (হাশর ৫৯/১৬)।

ইবলীসের এই ধোঁকা দান শুরু হয় প্রথম মানব আদম (আঃ)-এর সময় থেকে। আল্লাহ আদম ও হাওয়াকে সৃষ্টি করে বললেন, ‘তোমরা দু’জনে জান্নাতে বসবাস কর এবং সেখান থেকে যা খুশি খাও। তবে এই গাছটির নিকটে যেও না। তাহ’লে তোমরা সীমালংঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে’ (বাক্বারাহ ২/৩৫)। কিন্তু ইবলীস আদম ও হাওয়ার বিরুদ্ধে প্রতারণার ফাঁদ পাতলো। সে প্রথমে তাদের স্বজনে পরিণত হ’ল। নানা কথায় সুকৌশলে তাদের প্ররোচিত করতে লাগল ঐ নিষিদ্ধ গাছের ফল খাওয়ার জন্য। এক পর্যায়ে সে বলল, ‘আল্লাহ তোমাদেরকে ঐ গাছটির নিকটে যেতে নিষেধ করেছেন এজন্য যে, তোমরা তাহ’লে ফেরেশতা হয়ে যাবে কিংবা তোমরা এখানকার চিরস্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যাবে। এরপর সে শপথ করে বলল, আমি অবশ্যই তোমাদের হিতাকাংখী’। এভাবে সে আদম ও হাওয়াকে রাযী করে। তার প্রতারণার ফাঁদে জড়িয়ে পড়ে তাঁরা উভয়ে নিষিদ্ধ গাছের ফল ভক্ষণ করেন। ফলে তৎক্ষণাৎ তাদের লজ্জাস্থান প্রকাশিত হয়ে পড়ে। তাঁরা গাছের পাতা দ্বারা লজ্জা নিবারণের চেষ্টা করেন। তখন আল্লাহ তাদেরকে ডেকে বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এ গাছের নিকটবর্তী হ’তে বারণ করিনি এবং বলিনি যে, শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু’? তখন তাঁরা অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে (আ‘রাফ ৭/২০-২২)। এভাবে শয়তান প্রথম মানব-মানবী আদম ও হাওয়া (আঃ)-কে আল্লাহদ্রোহী কাজে লিপ্ত করে এবং আল্লাহর নির্দেশ পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

আদম (আঃ)-এর এক হাযার বছর পরে পৃথিবীতে আগমন করেন নূহ (আঃ)। আদম (আঃ)-এর সময় শিরক ছিল না। কিন্তু কালের বিবর্তনে মানব সমাজে শিরকের অনুপ্রবেশ ঘটে। নূহ (আঃ)-এর সম্প্রদায়ে ওয়াদ, সু‘আ, ইয়াগূছ, ইয়াউক্ব ও নাসর নামক পাঁচজন সৎকর্মশীল লোক ছিলেন। তাদের মৃত্যুর পর সে সম্প্রদায়ের লোকেরা তাদের অসীলায় পরকালে মুক্তির আশায় তাদের পূজা আরম্ভ করে। সে সময়ে শয়তান ঐ সম্প্রদায়ের লোকদের এ বলে প্ররোচনা দেয় যে, এসব সৎকর্মশীল মানুষের মূর্তি বা প্রতিকৃতি সামনে থাকলে, তাদের দেখে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগীতে অধিক আগ্রহ সৃষ্টি হবে। ফলে লোকেরা তাদের মূর্তি তৈরী করে। এরপর ঐসকল লোকদের মৃত্যুর পরে তাদের পরবর্তীরা শয়তানের ধোঁকায় পড়ে ঐ মূর্তিগুলোকে সরাসরি পূজা করতে আরম্ভ করে। এসব মূর্তির অসীলায় তারা বৃষ্টি প্রার্থনা করত (ইবনু কাছীর, সূরা নূহ দ্রঃ; বুখারী, ‘তাফসীর’ অধ্যায়, হা/৪৯২০)। এভাবে পৃথিবীতে মূর্তিপূজা শুরু হয়। শয়তানের প্ররোচনায় আল্লাহর উপাসনার স্থলে মূর্তি পূজা জায়গা দখল করে নেয়।

কওমে মূসা তথা বনী ইসরাঈল শয়তানের প্ররোচনায় গো-বৎসের পূজা আরম্ভ করেছিল। মূলতঃ তারা শয়তানের কারণে আল্লাহর দ্বীনের কাজ পরিহার করে শয়তানী কাজ শুরু করে। এ সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত বিবরণ এরূপ- আল্লাহ পাক যখন মূসা (আঃ)-কে ওয়াদা দিলেন যে, তুমি বনী ইসরাঈলকে নিয়ে তূর পাহাড়ের দক্ষিণ প্রান্তে চলে এস, আমি তোমাকে তাওরাত দান করব। যা তোমার ও তোমার সম্প্রদায়ের জন্য কর্মপন্থা নির্দেশ করবে। তখন তিনি বনী ইসরাঈলকে নিয়ে তূর পাহাড়ের দিকে রওয়ানা হয়ে গেলেন। আর তিনি হারূণ (আঃ)-এর নেতৃত্বে তার সম্প্রদায়কে পশ্চাতে আসার নির্দেশ দিয়ে নিজে সাগ্রহে আগে চলে গেলেন এবং সেখানে গিয়ে ৪০ দিন অবস্থান করলেন। তিনি ভাবলেন যে, তাঁর কওম নিশ্চয়ই তাঁর পিছে পিছে তূর পাহাড়ের সন্নিকটে এসে শিবির স্থাপন করেছে। কিন্তু তাঁর ধারণা সঠিক ছিল না।

আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে মূসা! তোমার সম্প্রদায়কে পিছনে ফেলে তুমি দ্রুত চলে এলে কেন? তিনি বললেন, তারা তো আমার পিছে পিছেই আসছে। হে প্রভু! আমি তাড়াতাড়ি তোমার কাছে এলাম, যাতে তুমি খুশী হও। আল্লাহ বললেন, ‘আমি তোমার সম্প্রদায়কে পরীক্ষা করেছি তোমার পর এবং সামেরী তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে’ (ত্বোয়াহা ২০/৮৩-৮৫)।

একথা জেনে মূসা (আঃ) আশ্চর্য হ’লেন। দুঃখে ও ক্ষোভে অস্থির হয়ে নিজ সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গেলেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘আর মূসা তার সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গেলেন ক্রুদ্ধ ও অনুতপ্ত অবস্থায়। তিনি বললেন, হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদের পালনকর্তা কি তোমাদের একটি উত্তম প্রতিশ্রুতি দেননি? তবে কি প্রতিশ্রুতির সময়কাল তোমাদের কাছে দীর্ঘ হয়েছে? না-কি তোমরা চেয়েছ যে তোমাদের উপর তোমাদের পালনকর্তার ক্রোধ নেমে আসুক, যে কারণে তোমরা আমার সাথে কৃত ওয়াদা ভঙ্গ করলে? তারা বলল, আমরা আপনার সাথে কৃত ওয়াদা স্বেচ্ছায় ভঙ্গ করিনি। কিন্তু আমাদের উপরে ফেরাঊনীদের অলংকারের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অতঃপর আমরা তা নিক্ষেপ করে দিয়েছি, এমনিভাবে সামেরীও নিক্ষেপ করেছে। অতঃপর সে তাদের জন্য বের করে আনলো একটা গো-বৎসের অবয়ব, যার মধ্যে হাম্বা হাম্বা রব ছিল। তারপর (সামেরী ও তার লোকেরা) বলল, এটা তোমাদের উপাস্য এবং মূসারও উপাস্য, যা পরে মূসা ভুলে গেছে’ (ত্বোয়াহা ২০/৮৬-৮৮)।

আসল ঘটনা এই ছিল যে, মিসর থেকে বিদায়ের দিন যাতে ফেরাঊনীরা তাদের পশ্চাদ্ধাবন না করে এবং তারা কোনরূপ সন্দেহ না করে, সেজন্য (মূসার অলক্ষ্যে) বনু ইসরাঈল প্রতিবেশী ক্বিবতীদের কাছ থেকে অলংকারাদি ধার নেয় এই বলে যে, আমরা সবাই ঈদ উৎসব পালনের জন্য যাচ্ছি। দু’একদিনের মধ্যে ফিরে এসেই তোমাদের সব অলংকার ফেরৎ দিব। কিন্তু সাগর পার হওয়ার পর যখন আর ফিরে যাওয়া হ’ল না, তখন কুটবুদ্ধি সম্পন্ন মুনাফিক সামেরী মনে মনে এক ফন্দি আটল যে, এর দ্বারা সে বনু ইসরাঈলকে পথভ্রষ্ট করবে। ফলে মূসা (আঃ) তাঁর সম্প্রদায়কে হারূণের দায়িত্বে রেখে তিনি আগেভাগে তূর পাহাড়ে চলে গেলে সামেরী সুযোগ বুঝে তার ফন্দি কাজে লাগায়। সাগর ডুবি থেকে নাজাত লাভের সময় চতুর সামেরী জিব্রীলের অবতরণ ও তাঁর ঘোড়ার প্রতি লক্ষ্য করে দেখল যে, জিব্রীলের ঘোড়ার পা যে মাটিতে পড়ছে, সে স্থানের মাটি সজীব হয়ে উঠছে ও তাতে জীবনের স্পন্দন জেগে উঠছে। তাই সবার অলক্ষ্যে এ পদচিহ্নের এক মুঠো মাটি সে তুলে সযতনে রেখে দেয়।

মূসা (আঃ) তূর পাহাড়ে চলে যাবার পর সে লোকদের বলে, তোমরা ফেরাঊনীদের যেসব অলংকারাদি নিয়ে এসেছ এবং তা ফেরত দিতে পারছ না, সেগুলি ভোগ-ব্যবহার করা তোমাদের জন্য বৈধ হবে না। তাই সেগুলি একটি গর্তে নিক্ষেপ করে জ্বালিয়ে দাও। কথাটি হারূণ (আঃ)-এরও কর্ণগোচর হয়। আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) বর্ণিত একটি হাদীছ থেকে জানা যায় যে, হারূণ (আঃ) সব অলংকার একটি গর্তে নিক্ষেপ করে জ্বালিয়ে দেবার নির্দেশ দেন, যাতে সেগুলি একটি অবয়বে পরিণত হয় এবং মূসা (আঃ)-এর ফিরে আসার পর এ সম্পর্কে করণীয় নির্ধারণ করা যায়। হারূণ (আঃ)-এর নির্দেশ মতে সবার অলংকার গর্তে নিক্ষেপ করার সময় সামেরীও হাতের মুঠি বন্ধ করে সেখানে পৌঁছল। সে হারূণ (আঃ)-কে বলল, আমার মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হৌক- এই মর্মে আপনি দো‘আ করলে আমি নিক্ষেপ করব অন্যথা করব না। হারূণ তার কপটতা বুঝতে না পেরে সরল মনে দো‘আ করলেন। আসলে তার মুঠিতে ছিল জিব্রীলের ঘোড়ার পায়ের সেই অলৌকিক মাটি। ফলে উক্ত মাটির প্রতিক্রিয়ায় হোক কিংবা হারূণের দো‘আর ফলে হোক সামেরীর উক্ত মাটি নিক্ষেপের পরপরই গলিত অলংকারাদির অবয়বটি একটি গো-বৎসের রূপ ধারণ করে হাম্বা হাম্বা রব করতে শুরু করে। মুনাফিক সামেরী ও তার সঙ্গী-সাথীরা এতে উল্লসিত হয়ে বলে উঠল, এটাই হ’ল তোমাদের উপাস্য ও মূসার উপাস্য। যা সে পরে ভুলে গেছে’ (ত্বোয়াহা ২০/৮৮)।

অপরদিকে মূসা (আঃ)-এর তূর পাহাড়ে গমনকে সে অপব্যাখ্যা করে বলল, মূসা বিভ্রান্ত হয়ে আমাদের ছেড়ে কোথাও চলে গেছে। এখন তোমরা সবাই এ গো-বৎসের পূজা কর। কিছু লোক তার অনুসরণ করল। ফলে মূসা (আঃ)-এর পিছে পিছে তূর পাহাড়ে গমনের প্রক্রিয়া পথিমধ্যেই বানচাল হয়ে যায়।

অতঃপর মূসা (আঃ) এসে সম্প্রদায়ের লোকদের কাছে সব কথা শুনলেন। হারূণ (আঃ) তাঁর বক্তব্য পেশ করলেন। সামেরীও তার কপটতার কথা অকপটে স্বীকার করল। এরপর মূসা (আঃ) আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী শাস্তি ঘোষণা করলেন। মূসা (আঃ) গো-বৎস পূজায় নেতৃত্ব দানকারী হঠকারী লোকদের মৃত্যুদন্ড দিলেন (বাক্বারাহ ২/৫৪)। এতে তাদের কিছু লোককে হত্যা করা হয়, কিছু লোক ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়।

সম্প্রদায়ের লোকদের শাস্তি দানের পর মূসা (আঃ) এবার সামেরীকে ঘটনা জিজ্ঞেস করলেন। সামেরী আনুপূর্বিক ঘটনা বর্ণনা করল। এরপর বলল, আমার মন এটা করতে প্ররোচিত করেছিল। অর্থাৎ কারো পরামর্শে নয়; বরং নিজস্ব চিন্তায় ও শয়তানী কুমন্ত্রণায় আমি একাজ করেছি। মূসা বললেন, তোমার জন্য সারা জীবন এই শাস্তিই রইল যে, তুমি বলবে, আমাকে কেউ স্পর্শ করো না এবং তোমার জন্য আখেরাতে একটা নির্দিষ্ট ওয়াদা রয়েছে, যার ব্যতিক্রম হবে না। সেটা হ’ল জাহান্নাম। এক্ষণে তুমি তোমার সেই ইলাহের প্রতি লক্ষ্য করো, যাকে তুমি সর্বদা পূজা দিয়ে ঘিরে থাকতে। আর আমরা ঐ কৃত্রিম গো-বৎসটাকে অবশ্যই জ্বালিয়ে দেব এবং অবশ্যই ওকে বিক্ষিপ্ত করে সাগরে ছিটিয়ে দেব (ত্বোয়াহা ২০/৯৫-৯৭)। এভাবে বানী ইসরাঈল শয়তানের প্ররোচনায় আল্লাহদ্রোহী কাজে লিপ্ত হয়েছিল।

কেবল পূর্ববর্তী উম্মতের ক্ষেত্রেই নয়; বরং ইসলামের সূচনালগ্ন থেকেও শয়তানের ঐ প্ররোচনা অব্যাহত আছে। বদর যুদ্ধের সময় ইবলীস সুরাকা বিন মালেক বিন জুশুম মুদলিজীর আকৃতিতে এসে মুশরিকদের যুদ্ধে অবতীর্ণ হ’তে প্ররোচিত করেছিল এবং সে মুশরিকদের সাথেই ছিল। কিন্তু যখন সে মুশরিকদের বিরুদ্ধে ফিরিশতাদের ভূমিকা প্রত্যক্ষ করল, তখন সে পিছনে ফিরে পলায়ন করতে থাকল। এ সময় হারেছ বিন হিশাম তাকে আটকিয়ে রাখার চেষ্টা করল। তখন ইবলীস তার বুকে সজোরে ঘুষি মারলে হারেছ মাটিতে পড়ে যায় এবং এই সুযোগে ইবলীস পলায়ন করে। মুশরিকরা তখন বলতে লাগল যে, সুরাকা কোথায় যাচ্ছ? তুমি কি বলনি যে, তুমি আমাদের সাহায্য করবে এবং কখনই আমাদের থেকে পৃথক হবে না? সে বলল, ‘আমি যা দেখছি, তোমরা তা দেখতে পাচ্ছ না। আমি আল্লাহ্কে ভয় করি। তিনি শাস্তি দানে কঠোর’ (আনফাল ৮/৪৮)। এরপর শয়তান পলায়ন করে সমুদ্রের ভিতরে চলে যেতে থাকে (আর-রহীকুল মাখতূম, অনুবাদ: আবদুল খালেক রহমানী ও মুয়ীনুদ্দীন আহমাদ (ঢাকা : তাওহীদ পাবলিকেশন্স, ২০০৯), পৃঃ ২৫৮)।

এভাবে শয়তানী কারসাজিতে যুগে যুগে মানুষ আল্লাহদ্রোহী কাজে লিপ্ত হয়েছে। আদ, ছামূদ, কওমে লূত্ব, আহলে মাদইয়ান প্রভৃতি গোত্র আল্লাহদ্রোহী কাজে লিপ্ত হয়েছে। ফলে আল্লাহ তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়েছেন এবং বিভিন্ন গযব দিয়ে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছেন। এ পৃথিবীতে নমরূদ, ফিরাউন, কারূণ, হামান, শাদ্দাদ, আবরাহা, আবু জাহল প্রভৃতি প্রতাপশালী মুশরিক রাজা-বাদশাহ ও নেতৃবৃন্দ আল্লাহদ্রোহী কাজ করেছে, আবার মানুষকে সে কাজে উৎসাহিত-উদ্বুদ্ধ করেছে। কখনো তাদেরকে আল্লাহবিরোধী কাজে বাধ্য করেছে। কিন্তু তাদের কারো পরিণতি শুভ হয়নি। সবাইকে আল্লাহ ধবংস করে দিয়েছেন। আর তাদের ইতিবৃত্ত পরবর্তীদের জন্য উপদেশ হিসাবে রেখে দিয়েছেন। কিন্তু মানুষ তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে না বলেই এ যুগেও সুনামি, ক্যাটরিনা, সিডর, নার্গিস, ভূমিকম্প, ভূমিধ্বস প্রভৃতি প্রাকৃতিক বিপর্যয় দিয়ে আল্লাহ পৃথিবীর মানুষকে সতর্ক-সাবধান করেন। তবে মানুষ খুব কমই উপদেশ গ্রহণ করে। বিপদ-আপদ দূর হয়ে গেলেই তারা আবার অভ্যাসবশতঃ পূর্বের কাজে ফিরে যায়। আল্লাহ তাঁর প্রিয় সৃষ্টিকে সৎপথে, তাঁর মনোনীত দ্বীনের উপর অবিচল থাকতে মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে বিভিন্ন উপদেশ দিয়েছেন। তদুপরি যারা আল্লাহর উপদেশ না মেনে তাঁর অবাধ্য হবে এবং তাঁর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে তাদের জন্য কঠিন শাস্তির ঘোষণা রয়েছে পবিত্র কুরআনে। এ পর্যায়ে বাধা দান সম্পর্কে আল্লাহ প্রদত্ত হুঁশিয়ারী ও হক্বের পথে বাধা দানের পরিণতি সম্পর্কিত আলোচনা উপস্থাপন করব ইনশাআল্লাহ।

দ্বীনের কাজে বাধা দানে আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা :
দ্বীনে হক্বের কাজ মূলতঃ আল্লাহর নির্দেশ। এ নির্দেশ বাস্তবায়নে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ছাঃ) তাকে বিভিন্নভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি দ্বীনী কাজে বাধা প্রদান করতে মহান আল্লাহ কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ বলেন, وَلاَ تَقْعُدُوْا بِكُلِّ صِرَاطٍ تُوْعِدُوْنَ وَتَصُدُّوْنَ عَنْ سَبِيْلِ اللّهِ مَنْ آمَنَ بِهِ وَتَبْغُوْنَهَا عِوَجاً وَاذْكُرُوْا إِذْ كُنْتُمْ قَلِيْلاً فَكَثَّرَكُمْ وَانْظُرُوْا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِيْنَ- ‘তোমরা পথে-ঘাটে একারণে বসে থেকো না যে, আল্লাহ বিশ্বাসীদেরকে হুমকি দিবে, আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করবে এবং তাতে বক্রতা অনুসন্ধান করবে। স্মরণ কর, যখন তোমরা সংখ্যায় অল্প ছিলে অতঃপর আল্লাহ তোমাদেরকে অধিক করেছেন এবং লক্ষ্য কর কিরূপ অশুভ পরিণতি হয়েছে অনর্থকারীদের’ (আ‘রাফ ৭/৮৬)। অন্যত্র আল্লাহ বলেন, وَلاَ تَكُوْنُوْا كَالَّذِيْنَ خَرَجُوْا مِنْ دِيَارِهِمْ بَطَراً وَرِئَاءَ النَّاسِ وَيَصُدُّوْنَ عَن سَبِيْلِ اللّهِ وَاللّهُ بِمَا يَعْمَلُوْنَ مُحِيْطٌ- ‘আর তাদের মত হয়ে যেয়ো না, যারা বেরিয়েছে নিজেদের অবস্থান থেকে গর্বিতভাবে এবং লোকদেরকে দেখানোর উদ্দেশ্যে। আর আল্লাহর পথে তারা বাধা দান করত। বস্ত্ততঃ আল্লাহর আয়ত্বে রয়েছে সে সমস্ত বিষয় যা তারা করে’ (আনফাল ৮/৪৭)।

দ্বীনের পথে বাধা সৃষ্টি করা শয়তানী কাজ :
দ্বীনের পথে বাধা, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা মূলতঃ শয়তানী কাজ। মানব সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে শয়তান এ কাজ করে আসছে। প্রথম মানব ও প্রথম নবী আদম (আঃ) থেকে অদ্যাবধি শয়তানের এ কাজ অব্যাহত আছে। শয়তানের সাথে সাথে কিছু মানুষও দ্বীনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আল্লাহ বলেন, إِنَّمَا يُرِيْدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُوْقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللّهِ وَعَنِ الصَّلاَةِ فَهَلْ أَنْتُمْ مُّنْتَهُوْنَ- ‘শয়তান তো চায় মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও ছালাত থেকে তোমাদের বিরত রাখতে। অতএব তোমরা এখনও কি নিবৃত্ত হবে’? (মায়েদাহ ৫/৯১)।

আল্লাহর পথে বাধা দান ইহুদী-নাছারাদের কাজ :
আল্লাহর দ্বীনে বাধা দেওয়া ইহুদী-নাছারাদের কাজ। তারা একদিকে নবী-রাসূলগণকে অস্বীকার করতো, অপরদিকে কেউ কেউ আল্লাহর দ্বীনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতো। মহান আল্লাহ বলেন, قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لِمَ تَصُدُّوْنَ عَنْ سَبِيْلِ اللّهِ مَنْ آمَنَ تَبْغُوْنَهَا عِوَجاً وَأَنْتُمْ شُهَدَاءَ وَمَا اللّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُوْنَ- ‘বলুন, হে কিতাবধারীগণ! কেন তোমরা আল্লাহর পথে ঈমানদারদেরকে বাধা দান কর, তোমরা তাদের দ্বীনের মধ্যে বক্রতা অনুপ্রবেশ করানোর পন্থা অনুসন্ধান কর, অথচ তোমরা এ পথের সত্যতা প্রত্যক্ষ করছ। বস্ত্ততঃ আল্লাহ তোমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অনবগত নন’ (আলে-ইমরান ৩/৯৯)।

আল্লাহর দ্বীন থেকে দূরে সরে যাওয়া মুনাফিক্বী :
মুনাফিকদের অন্যতম আচরণ হচ্ছে বাহ্যিক দিকে এক রকম অন্তরে ভিন্ন। তারা প্রকাশ্যে আল্লাহর পথে থাকার অভিনয় করলেও প্রকৃত পক্ষে দ্বীন থেকে অনেক দূরে থাকে। আল্লাহপাক বলেন, وَإِذَا قِيْلَ لَهُمْ تَعَالَوْاْ إِلَى مَا أَنْزَلَ اللّهُ وَإِلَى الرَّسُوْلِ رَأَيْتَ الْمُنَافِقِيْنَ يَصُدُّوْنَ عَنْكَ صُدُوْداً- ‘আর যখন বলা হবে, আল্লাহর নির্দেশের দিকে এসো, যা তিনি রাসূলের প্রতি নাযিল করেছেন, তখন আপনি মুনাফিকদের দেখবেন, তারা আপনার কাছ থেকেও সম্পূর্ণভাবে সরে যাচ্ছে’ (নিসা ৪/৬১)।

দ্বীনের পথে বাধা দান করলে বহু কল্যাণকর জিনিস থেকে বঞ্চিত হ’তে হয় :
ইহুদীরা আল্লাহর দ্বীনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করত। ফলে তাদের জন্য অনেক কল্যাণকর বস্ত্ত হারাম করা হয়, যা পূর্বে তাদের জন্য হালাল ছিল। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, فَبِظُلْمٍ مِّنَ الَّذِيْنَ هَادُواْ حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ طَيِّبَاتٍ أُحِلَّتْ لَهُمْ وَبِصَدِّهِمْ عَنْ سَبِيْلِ اللّهِ كَثِيْراً- ‘বস্ত্ততঃ ইহুদীদের জন্য আমি হারাম করে দিয়েছি বহু পূত-পবিত্র বস্ত্ত, যা তাদের জন্য হালাল ছিল, তাদের পাপের কারণে এবং আল্লাহর পথে অধিক পরিমাণে বাধা দানের দরুন’ (নিসা ৪/১৬০)। অনুরূপভাবে এখনও কেউ আল্লাহর দ্বীনে বাধা দিলে সেও কল্যাণকর বহু জিনিস থেকে বঞ্চিত হবে।

দ্বীনের পথে বাধা দান করলে পথভ্রষ্ট হয় :
দ্বীনের কাজে বাধা দান করা বিভ্রান্তিতে নিপতিত হওয়ার কারণ। ধর্মের কাজে যারা বাধা দেয় তারা পথভ্রষ্ট হয়, সত্য পথ থেকে বিচ্যুত হয়। মহান আল্লাহ বলেন, إِنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُواْ وَصَدُّواْ عَنْ سَبِيْلِ اللّهِ قَدْ ضَلُّواْ ضَلاَلاً بَعِيْداً- ‘যারা কুফরী অবলম্বন করেছে এবং আল্লাহর পথে বাধার সৃষ্টি করেছে, তারা সুদূর বিভ্রান্তিতে পতিত হয়েছে’ (নিসা ৪/১৬৭)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, اَلَّذِيْنَ يَسْتَحِبُّوْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا عَلَى الآخِرَةِ وَيَصُدُّوْنَ عَنْ سَبِيْلِ اللّهِ وَيَبْغُوْنَهَا عِوَجاً أُوْلَـئِكَ فِيْ ضَلاَلٍ بَعِيْدٍ- ‘যারা পরকালের চাইতে পার্থিব জীবনকে পসন্দ করে, আল্লাহর পথে বাধা দান করে এবং তাতে বক্রতা অন্বেষণ করে, তারা পথ ভুলে দূরে পড়ে আছে’ (ইবরাহীম ১৪/৩)।

আল্লাহর দ্বীনের পথে বাধা দান পাপ :
দ্বীনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা এক জঘন্যতম কাজ। এর জন্য পরকালে রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি। মহান আল্লাহ বলেন, اِتَّخَذُوْا أَيْمَانَهُمْ جُنَّةً فَصَدُّوْا عَنْ سَبِيْلِ اللَّهِ فَلَهُمْ عَذَابٌ مُّهِيْنٌ- ‘তারা তাদের শপথকে ঢাল করে রেখেছে, অতঃপর তারা আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বাধা প্রদান করে। অতএব তাদের জন্য রয়েছে অপমানজনক শাস্তি’ (মুজাদালাহ ৫৮/১৬)। আল্লাহর দ্বীনের পথে বাধা দেওয়া অত্যন্ত জঘন্য পাপ। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘সম্মানিত মাস সম্পর্কে তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে যে, তাতে যুদ্ধ করা কেমন? বলে দাও, এতে যুদ্ধ করা ভীষণ বড় পাপ। আর আল্লাহর পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা এবং কুফরী করা, মসজিদে হারামের পথে বাধা দেয়া এবং সেখানকার অধিবাসীদের বহিষ্কার করা আল্লাহর নিকট তার চেয়েও বড় পাপ। আর ধর্মের ব্যাপারে ফেতনা সৃষ্টি করা নর হত্যা অপেক্ষাও মহাপাপ। বস্ত্ততঃ তারা তো সর্বদাই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকবে, যাতে করে তোমাদেরকে দ্বীন থেকে ফিরিয়ে দিতে পারে, যদি তা সম্ভব হয়। তোমাদের মধ্যে যারা নিজের দ্বীন থেকে ফিরে দাঁড়াবে এবং কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের যাবতীয় আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে। আর তারাই হ’ল জাহান্নামী। তাতে তারা চিরকাল বসবাস করবে’ (বাক্বারাহ ২/২১৭)। এ আয়াতে দ্বীনের পথে বাধা দেওয়াকে বড় পাপ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

আল্লাহর দ্বীনের পথে বাধা দান কুফরী :
আল্লাহর দ্বীনের পথে বাধা দান করা কুফরীর নামান্তর। কেননা আল্লাহ আমাদের স্রষ্টা। এ পৃথিবীতে তাঁর বিধানই চলবে। কিন্তু কেউ যদি তাঁর বিধান কায়েমের পথে বাধা দেয় তাহ’লে সেটা হবে তাঁর কাজে বাধা দানের অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহর কাজে বাধা দেওয়া তাঁকে অস্বীকার করার শামিল। এজন্য যারা আল্লাহর পথে বাধা দেয় তাদেরকে তিনি কাফের বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, اَلَّذِيْنَ يَصُدُّوْنَ عَنْ سَبِيْلِ اللّهِ وَيَبْغُوْنَهَا عِوَجاً وَهُمْ بِاْلآخِرَةِ كَافِرُوْنَ- ‘যারা আল্লাহর পথে বাধা দিত এবং তাতে বক্রতা অন্বেষণ করত। তারা পরকালের বিষয়েও অবিশ্বাসী ছিল’ (আ‘রাফ ৭/৪৫)।

দ্বীনের পথে বাধা দান ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ :
দ্বীনের কাজে বাধা দান করা অমার্জনীয় অপরাধ। এ অপরাধ করে কেউ তওবা না করলে আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ বলেন, إِنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا وَصَدُّوْا عَنْ سَبِيْلِ اللَّهِ ثُمَّ مَاتُوْا وَهُمْ كُفَّارٌ فَلَنْ يَّغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ- ‘নিশ্চয়ই যারা কাফের এবং আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে ফিরিয়ে রাখে, অতঃপর কাফের অবস্থায় মারা যায়, আল্লাহ কখনোই তাদের ক্ষমা করবেন না’ (মুহাম্মাদ ৪৭/৩৪)।

দ্বীনের পথে বাধা দানে শাস্তি :
দ্বীনের পথে বাধা দান জঘন্য অপরাধ। এর জন্য আল্লাহ পরকালে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, وَمَا لَهُمْ أَلاَّ يُعَذِّبَهُمُ اللّهُ وَهُمْ يَصُدُّوْنَ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَمَا كَانُواْ أَوْلِيَاءَهُ إِنْ أَوْلِيَآؤُهُ إِلاَّ الْمُتَّقُوْنَ وَلَـكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لاَ يَعْلَمُوْنَ- ‘আর তাদের মধ্যে এমন কি বিষয় রয়েছে, যার ফলে আল্লাহ তাদের উপর আযাব দান করবেন না। অথচ তারা মসজিদে হারামে যেতে বাধা দান করে, অথচ তাদের সে অধিকার নেই। এর অধিকার তো তাদেরই রয়েছে যারা পরহেযগার। কিন্তু তাদের অধিকাংশই সে বিষয়ে অবহিত নয়’ (আনফাল ৮/৩৫)। আল্লাহপাক অন্যত্র বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا إِنَّ كَثِيْراً مِّنَ الْأَحْبَارِ وَالرُّهْبَانِ لَيَأْكُلُوْنَ أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ وَيَصُدُّوْنَ عَنْ سَبِيْلِ اللّهِ وَالَّذِيْنَ يَكْنِزُوْنَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلاَ يُنْفِقُوْنَهَا فِيْ سَبِيْلِ اللّهِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيْمٍ- ‘হে ঈমানদারগণ! পন্ডিত ও সংসারবিরাগীদের অনেকে লোকদের মালামাল অন্যায়ভাবে ভোগ করে চলেছে এবং আল্লাহর পথ থেকে লোকদের নিবৃত রেখেছে। আর যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য জমা করে রাখে এবং তা ব্যয় করে না আল্লাহর পথে, তাদের কঠোর আযাবের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন’ (তওবা ৯/৩৪)। তিনি আরো বলেন, اَلَّذِيْنَ كَفَرُواْ وَصَدُّواْ عَنْ سَبِيْلِ اللّهِ زِدْنَاهُمْ عَذَاباً فَوْقَ الْعَذَابِ بِمَا كَانُواْ يُفْسِدُوْنَ- ‘যারা কাফের হয়েছে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করেছে, আমি তাদেরকে আযাবের পর আযাব বাড়িয়ে দেব। কারণ তারা অশান্তি সৃষ্টি করত’ (নাহল ১৬/৮৮)। অন্যত্র তিনি বলেন, وَلاَ تَتَّخِذُوْا أَيْمَانَكُمْ دَخَلاً بَيْنَكُمْ فَتَزِلَّ قَدَمٌ بَعْدَ ثُبُوْتِهَا وَتَذُوْقُوْا الْسُّوءَ بِمَا صَدَدتُّمْ عَنْ سَبِيْلِ اللّهِ وَلَكُمْ عَذَابٌ عَظِيْمٌ- ‘তোমরা স্বীয় কসম সমূহকে পারস্পরিক কলহদ্বন্দ্বের বাহানা করো না। তাহ’লে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পা ফসকে যাবে এবং তোমরা শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করবে, এ কারণে যে, তোমরা আমার পথে বাধা দান করেছ এবং তোমাদের কঠোর শাস্তি হবে’ (নাহল ১৬/৯৪)। আল্লাহ আরো বলেন, إِنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا وَيَصُدُّوْنَ عَنْ سَبِيْلِ اللَّهِ وَالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ الَّذِيْ جَعَلْنَاهُ لِلنَّاسِ سَوَاءً الْعَاكِفُ فِيْهِ وَالْبَادِ وَمَنْ يُّرِدْ فِيهِ بِإِلْحَادٍ بِظُلْمٍ نُذِقْهُ مِنْ عَذَابٍ أَلِيْمٍ- ‘যারা কুফরী করে ও আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে এবং সেই মসজিদে হারাম থেকে বাধা দেয়, যাকে আমি প্রস্ত্তত করেছি স্থানীয় ও বহিরাগত সকল মানুষের জন্যে সমভাবে এবং যে মসজিদে হারামে অন্যায়ভাবে কোন ধর্মদ্রোহী কাজ করার ইচ্ছা করে, আমি তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আস্বাদন করাব’ (হজ্জ ২২/২৫)।

দ্বীনের পথে বাধা দানকারী ব্যর্থ ও পরাজিত হবে :
দ্বীনের পথে বাধা দানকারীরা যতই কৌশল অবলম্বন করুক, তারা যতই প্রভাবশালী হোক, এক সময় ব্যর্থতার গ্লানি তাদের বরণ করতে হবে। পরাজয়ের মালা তাদের গলায় পরতেই হবে। এটা মহান আল্লাহর ঘোষণা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, اَلَّذِيْنَ كَفَرُوْا وَصَدُّوْا عَنْ سَبِيْلِ اللَّهِ أَضَلَّ أَعْمَالَهُمْ- ‘যারা কুফরী করে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে, আল্লাহ তাদের সকল কর্ম ব্যর্থ করে দেন’ (মুহাম্মাদ ৪৭/১)। অন্যত্র তিনি বলেন, إِنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا وَصَدُّوْا عَنْ سَبِيْلِ اللَّهِ وَشَاقُّوا الرَّسُوْلَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ الهُدَى لَنْ يَّضُرُّوا اللَّهَ شَيْئاً وَسَيُحْبِطُ أَعْمَالَهُمْ- ‘নিশ্চয়ই যারা কাফের এবং আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে ফিরিয়ে রাখে এবং নিজেদের জন্য সৎ পথ ব্যক্ত হওয়ার পর রাসূলের বিরোধিতা করে, তারা আল্লাহর কোনই ক্ষতি করতে পারবে না এবং তিনি ব্যর্থ করে দিবেন তাদের কর্মসমূহকে’ (মুহাম্মাদ ৪৭/৩২)।

দ্বীনের কাজে বাধা দানে সম্পদ ব্যয় আফসোসের কারণ হবে :
পৃথিবীর পূর্ববর্তী উম্মতের ন্যায় বর্তমানেও এমন অনেক লোক আছে, যারা ব্যক্তিস্বার্থে দলীয় স্বার্থে কিংবা নিজেদের বশবর্তী হয়ে দ্বীনের কাজে বাধা দানের জন্য অকাতরে অর্থ ব্যয় করে থাকে। প্রকৃতপক্ষে দ্বীনের কাজে বাধা দানের জন্য তাদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। উপরন্তু এজন্য তাদের ব্যয়িত অর্থের জন্যও তারা আফসোস করবে। এ সম্পর্কে আল্লাহ আরো বলেন, إِنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُواْ يُنْفِقُوْنَ أَمْوَالَهُمْ لِيَصُدُّواْ عَنْ سَبِيْلِ اللّهِ فَسَيُنْفِقُوْنَهَا ثُمَّ تَكُوْنُ عَلَيْهِمْ حَسْرَةً ثُمَّ يُغْلَبُوْنَ وَالَّذِيْنَ كَفَرُواْ إِلَى جَهَنَّمَ يُحْشَرُوْنَ- ‘নিঃসন্দেহে যেসব লোক কাফের, তারা ব্যয় করে নিজেদের ধন-সম্পদ, যাতে করে বাধা দান করতে পারে আল্লাহর পথে। বস্ত্ততঃ এখন তারা আরো ব্যয় করবে। তারপর তাই তাদের জন্য আক্ষেপের কারণ হবে এবং শেষ পর্যন্ত তারা হেরে যাবে। আর যারা কাফের, তাদেরকে জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে’ (আনফাল ৮/৩৬)।

পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, পৃথিবীতে ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থে কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাছিলের পথে বাধা মনে করে যারা আল্লাহর দ্বীনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে, তারা সাময়িকভাবে সফল হ’লেও মূলতঃ ব্যর্থতা তাদেরকে বরণ করতেই হবে। তারা ইহকালে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ক্ষমার অযোগ্য এ পাপাচারের কারণে পরকালেও তারা মুক্তি পাবে না; বরং জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। এজন্য এখন থেকে সাবধান হওয়া আবশ্যক যে, আমাদের কোন কথা বা কাজে কিংবা কোন আচরণে দ্বীনের প্রচার-প্রসারে যেন বিঘ্ন না ঘটে। পাশাপাশি হক্বের প্রচার-প্রসারে আমাদেরকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে দ্বীনে হক্বের সেবায় আত্মনিয়োগ করার তাওফীক্ব দান করুন- আমীন!

]]>
http://www.quraneralo.com/destruction-of-both-life/feed/ 0
জেদ্দায় অবস্থিত কিং আব্দুল আযীয বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ বছর মেয়াদী আরবী স্কলারশিপ প্রোগ্রাম http://www.quraneralo.com/scholarship/ http://www.quraneralo.com/scholarship/#comments Wed, 24 Apr 2013 03:00:19 +0000 http://www.quraneralo.com/?p=4412 scholarship

●|● ২ বছর মেয়াদী আরবী স্কলারশিপ প্রোগ্রাম। শুধুমাত্র ১৭-২৫ বছর বয়সী ছেলেদের জন্য ●|●

আলহামদুলিল্লাহ্‌, জেদ্দায় অবস্থিত কিং আব্দুল আযীয বিশ্ববিদ্যালয় ২ বছর মেদায়ী আরবী স্কলারশিপ প্রোগ্রামের জন্য আবেদনপত্র গ্রহণ করছে।
প্রোগ্রামটি শুরু হবে এই বছরের (২০১৩) সেপ্টেম্বর মাসে, ইনশাআল্লাহ্‌।

প্রোগ্রামটি সম্পূর্ণ ফ্রী! সাথে রয়েছে থাকা এবং তিনবেলা খাবারের সুব্যবস্থা। আরও রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মাসিক ভাতা!
আবেদন করার জন্য আপানকে যা করতে হবে :

১. প্রথমেই আপনাকে অনলাইন আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে। এজন্য এই লিঙ্কে যায় : http://ali.kau.edu.sa/Pages-text12.aspx

২. এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের পিডিএফ (PDF) ই-মেইল করতে হবে এই ঠিকানায় : ali@kau.edu.sa

প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা পেতে এই লিঙ্কে যান : http://ali.kau.edu.sa/Pages-text10.aspx । পেইজের নীচের অংশে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা দেওয়া আছে।

আবেদন ফর্ম পূরণের শেষ তারিখ : বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০১৩।

(প্রোগ্রামটি শুধুমাত্র ১৭-২৫ বছর বয়সী পুরুষদের জন্য। আপনার বয়সসীমা ১৭-২৫ বছরের মধ্যে না হলে, আপনার আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।)

আপনি বিবাহিত হলেও আবেদন করতে পারেন। সেক্ষেত্রে নিজেকেই থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। জেদ্দায় পৌঁছে স্ত্রীর জন্য ভিসা আবেদন করতে পারবেন।

]]>
http://www.quraneralo.com/scholarship/feed/ 10
পুণ্যভূমি মক্কা : মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য http://www.quraneralo.com/makka/ http://www.quraneralo.com/makka/#comments Mon, 22 Apr 2013 04:35:04 +0000 http://www.quraneralo.com/?p=4317 লেখক: আলী হাসান তৈয়ব | সম্পাদক: মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী

Makka-02

আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী মুসলিম মাত্রেই মক্কা শব্দটির সঙ্গে পরিচিত। মক্কা শব্দটি উচ্চারিত হতেই তিনি হৃদয়ে এক গভীর ভালোবাসা অনুভব করেন। তার অন্তরে এ নগরীকে দুচোখ জুড়ে দেখার এবং এখানে অবস্থিত আল্লাহর মহাপবিত্র ঘর কা‘বা যিয়ারতের একান্ত আকাঙ্ক্ষা লালন করেন। আর যারা হজ বা উমরা করতে চান, তাদেরকে অবশ্যই এ পবিত্র ভূমিতে গমন করতে হয়। তাই এ সম্মানিত শহর সম্পর্কে জানা প্রতিটি মুসলিমের একান্ত কর্তব্য। নিম্নে তাই পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এ মহান নগরীর কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হল :

ক. কুরআন কারীমে পবিত্র মক্কা নগরীর কয়েকটি নাম উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন, ১- মক্কা {আল-ফাতহ : ২৪}; ২- বাক্কা {সূরা আলে ইমরান, আয়াত : ৯৬}; ৩- উম্মুল কুরা (প্রধান শহর) {সূরা আশ-শূরা, আয়াত : ৭}; ৪- আল-বালাদুল আমীন (নিরাপদ শহর) {সূরা আত-তীন, আয়াত : ৩}। বস্তুত কোনো কিছুর নাম বেশি হওয়া তার মর্যাদা ও মাহাত্ম্যেরই পরিচায়ক।

খ. আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে ওহীর মাধ্যমে হারাম শরীফের সীমানা নির্ধারিত হয়েছে। জিবরীল আলাইহিস সালাম কা‘বা ঘরের নির্মাতা ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে হারামের সীমানা দেখিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর দেখানো মতে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তা নির্ধারণ করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে হারামের সীমানা সংস্কার করা হয়। [আল-ইসাবা : ১/১৮৩]

ইমাম নববী রহ. বলেন, হারামের সীমানা সম্পর্কে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ এর সঙ্গে অনেক বিধি-বিধানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। [তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত : ৩/৮২]

গ. মক্কা নগরীতে আল্লাহ তা‘আলার অনেক নিদর্শন রয়েছে : যেমন, আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে এ মর্মে বলেন,

﴿ فِيهِ ءَايَٰتُۢ بَيِّنَٰتٞ مَّقَامُ إِبۡرَٰهِيمَۖ ﴾ [ال عمران: ٩٧]

‘তাতে (মক্কা নগরীতে) রয়েছে অনেক সুস্পষ্ট নিদর্শন যেমন মাকামে ইবরাহীম।’ [সূরা আলে-ইমরান, আয়াত : ৯৭]

কাতাদা ও মুজাহিদ রহ. বলেন, ‘প্রকাশ্য নিদর্শনগুলোর একটি হলো মাকামে ইবরাহীম।’ [তাফসীরে তাবারী : ৪/৮]

মূলত মক্কা নগরীর একাধিক নাম, এর সীমারেখা সুনির্ধারিত থাকা, এর প্রাথমিক পর্যায় ও নির্মাণের সূচনা এবং একে হারাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ নগরীর সম্মান ও উঁচু মর্যাদার কথা ফুটে ওঠে। তাই দেখা যায় ইতিহাসের পরম্পরায় সবসময়ই পৃথিবীর বুকে মানুষ পবিত্র মক্কার আলাদা মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য মেনে নিয়ে এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছে।

মক্কার অতুলনীয় মর্যাদা :

১. আল্লাহ তা‘আলা মক্কা নগরীকে হারাম (সম্মানিত) ঘোষণা করেছেন :

আল্লাহ তা‘আলা যে দিন যমীন ও আসমান সৃষ্টি করেছেন সেদিন থেকেই মক্কা ভূমিকে সম্মানিত করেছেন। পবিত্র কুরআনে  ইরশাদ হয়েছে,

﴿ إِنَّمَآ أُمِرۡتُ أَنۡ أَعۡبُدَ رَبَّ هَٰذِهِ ٱلۡبَلۡدَةِ ٱلَّذِي حَرَّمَهَا ﴾ [النمل: ٩١]

‘আমিতো আদিষ্ট হয়েছি এ নগরীর মালিকের ইবাদাত করতে যিনি একে সম্মানিত করেছেন।’ [সূরা আন-নামল, আয়াত : ৯১]

একই কথার প্রতিধ্বনি শোনা যায় আল্লাহর প্রিয় রাসূলের মুখেও। ঐতিহাসিক মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«إِنَّ هَذَا الْبَلَدَ حَرَّمَهُ اللهُ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ فَهُوَ حَرَامٌ بِحُرْمَةِ اللهِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ. »

‘এ শহরটিকে আল্লাহ যমীন ও আসমান সৃষ্টির দিন থেকেই হারাম অর্থাৎ সম্মানিত করেছেন। আল্লাহ কর্তৃক সম্মানিত এ শহরটি কিয়ামত পর্যন্ত সম্মানিত থাকবে। [মুসলিম : ১৩৫৩]

আল্লাহর খলীল ইবরাহীম আলাইহিস্ সালাম মক্কাকে হারাম হওয়ার ঘোষণা দেন। আল্লাহর নির্দেশে তিনি আল্লাহর ঘর কা‘বা নির্মাণ করেন এবং একে পবিত্র ঘোষণা করেন। অতপর মানুষের উদ্দেশে তিনি হজের ঘোষণা দেন এবং মক্কা নগরীর জন্য দু‘আ করেন। আবদুল্লাহ ইবন যায়েদ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«إِنَّ إِبْرَاهِيمَ حَرَّمَ مَكَّةَ وَدَعَا لَهَا. »

‘নিশ্চয় ইবরাহীম মক্কাকে হারাম ঘোষণা করেন এবং শহরটির জন্য দু‘আ করেন।’ [বুখারী : ১৮৮৩; মুসলিম : ১৩৮৩]

২. আল্লাহ মক্কা নগরীর কসম খেয়ে তাকে সম্মানিত করেছেন :

আল্লাহ কর্তৃক কোনো কিছুর কসম খাওয়া তার সম্মানের প্রমাণ বহন করে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ এই মক্কার কসম খেয়েছেন। মক্কা নগরীর কসম খেয়ে আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,

﴿ وَٱلتِّينِ وَٱلزَّيۡتُونِ ١ وَطُورِ سِينِينَ ٢ وَهَٰذَا ٱلۡبَلَدِ ٱلۡأَمِينِ ٣ ﴾ [التين: ١،  ٣]

‘কসম তীন ও যাইতূনের। কসম সিনাই পর্বতের। এবং কসম এ নিরাপদ শহরের।’ [সূরা আত-তীন, আয়াত : ১-৩]

আয়াতে ‘এই নিরাপদ শহর’ বলে মক্কা নগরী বুঝানো হয়েছে। আরেক আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ لَآ أُقۡسِمُ بِهَٰذَا ٱلۡبَلَدِ ١ وَأَنتَ حِلُّۢ بِهَٰذَا ٱلۡبَلَدِ ٢ ﴾ [البلد: ١،  ٢]

‘আমি কসম করছি এ শহরের। আর আপনি এ শহরের অধিবাসী।’ [সূরা আল-বালাদ, আয়াত : ১-২]

৩. মক্কা ও এর অধিবাসীর জন্য ইবরাহীম আলাইহিস সালাম দু‘আ করেছেন :

মক্কা নগরী শুধু মর্যাদাবান তাই নয়, এর নগরীতে যারা বাস করবেন তাদের জন্য আল্লাহর নবী ইবরাহীম আলাইহিস সালাম বহু আগে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দু‘আও করেছেন। যার ফলে মক্কা হলো বিশ্বের সবচে নিরাপদ ও শান্তির স্থান। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,

﴿ وَإِذۡ قَالَ إِبۡرَٰهِيمُ رَبِّ ٱجۡعَلۡ هَٰذَا ٱلۡبَلَدَ ءَامِنٗا وَٱجۡنُبۡنِي وَبَنِيَّ أَن نَّعۡبُدَ ٱلۡأَصۡنَامَ ٣٥ ﴾ [ابراهيم: ٣٥]

‘আর (স্মরণ করুন) যখন ইবরাহীম বলেছিলেন, হে আমার রব, এ শহরকে নিরাপদ করুন এবং আমাকে ও আমার পুত্রগণকে মূর্তি পূজা হতে দূরে রাখুন।’ [সূরা ইবরাহীম, আয়াত : ৩৫]

৪. মক্কা রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয়তম শহর :

মক্কা ছিল আমাদের প্রিয় নবীর প্রিয় শহর। আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হিজরতের সময় রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা শরীফের উদ্দেশে বলেন,

« مَا أَطْيَبَكِ مِنْ بَلَدٍ وَمَا أَحَبَّكِ إِلَيَّ وَلَوْلاَ أَنَّ قَوْمَك أَخْرَجُونِي مِنْكِ مَا سَكَنْتُ غَيْرَكِ. »

‘কতই না পবিত্র শহর তুমি, আমার কাছে কতই না প্রিয় তুমি! যদি তোমার কওম আমাকে তোমার থেকে বের করে না দিত, তাহলে তুমি ছাড়া অন্য কোনো শহরে আমি বসবাস করতাম না।’ [আল-মু‘জামুল কাবীর : ১০৪৭৭]

৫. দাজ্জাল এ নগরীতে প্রবেশ করতে পারবে না :

কিয়ামতের পূর্বলগ্নে পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে দাজ্জাল সদম্ভ বিচরণ করবে। কেবল মক্কা ও মদীনায় সে প্রবেশ করতে পারবে না। আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«لَيْسَ مِنْ بَلَدٍ إِلَّا سَيَطَؤُهُ الدَّجَّالُ، إِلَّا مَكَّةَ، وَالمَدِينَةَ، لَيْسَ لَهُ مِنْ نِقَابِهَا نَقْبٌ، إِلَّا عَلَيْهِ المَلاَئِكَةُ صَافِّينَ يَحْرُسُونَهَا، ثُمَّ تَرْجُفُ المَدِينَةُ بِأَهْلِهَا ثَلاَثَ رَجَفَاتٍ، فَيُخْرِجُ اللَّهُ كُلَّ كَافِرٍ وَمُنَافِقٍ. »

‘এমন কোনো ভূখণ্ড নেই যা দাজ্জালের পদভারে মথিত হবে না। তবে মক্কা ও মদীনায় সে প্রবেশ করতে পারবে না। সেখানকার প্রতিটি গলিতে ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে পাহারায় নিয়োজিত থাকবে। এরপর মদীনা তার অধিবাসীসহ তিনটি ঝাঁকুনি দেবে। যার ফলে আল্লাহ (মদীনা থেকে) সকল কাফির ও মুনাফিককে বের করে দেবেন।’ [বুখারী : ১৮৮১; মুসলিম : ২৯৪৩]

৬. ঈমানের প্রত্যাবর্তন :

কিয়ামতের আগে মানুষের ঈমানের জগতে চরম বিপর্যয় ঘটবে। মানুষ ঈমান থেকে যোজন দূরে চলে যাবে। দুনিয়া থেকে ঈমান ও ঈমানদার উধাও হয়ে যাবে। তখন ঈমান আর ঈমানদারদের পাওয়া যাবে মক্কা ও মদীনায় তথা মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববীতে। আবদুল্লাহ ইব্ন উমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«إِنَّ الإِسْلاَمَ بَدَأَ غَرِيبًا وَسَيَعُودُ غَرِيبًا كَمَا بَدَأَ وَهُوَ يَأْرِزُ بَيْنَ الْمَسْجِدَيْنِ كَمَا تَأْرِزُ الْحَيَّةُ فِى جُحْرِهَا. »

‘ইসলামের সূচনা হয়েছিল অপরিচিত হিসেবে এবং সূচনা কালের মতই আবার তা অপরিচিত অবস্থার দিকে ফিরে যাবে। আর তা পুনরায় দু’টি মসজিদে ফিরে আসবে, যেমন সাপ নিজ গর্তে ফিরে আসে।’ [মুসলিম : ১৪৩; সহীহুত-তারগীব ওয়াত-তারহীব : ১১৭৩]

ইমাম নববী রহ. বলেন, ‘দু’টি মসজিদ দ্বারা মক্কা ও মদীনার মসজিদকে বুঝানো হয়েছে।’ [মুসলিম : ৩৯০]

৭. মসজিদুল হারামে সালাত আদায়ের ছাওয়াব :  

মক্কায় অবস্থিত মসজিদে হারামে সালাত আদায়ের মাধ্যমে অকল্পনীয় নেকী লাভ করা যায়, যা অন্য কোথায় হাসিল করা যায় না। জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«صَلاَةٌ فِى مَسْجِدِى هَذَا أَفْضَلُ مِنْ أَلْفِ صَلاَةٍ فِيمَا سِوَاهُ إِلاَّ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ وَصَلاَةٌ فِى الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ أَفْضَلُ مِنْ مِائَةِ أَلْفِ صَلاَةٍ فِيمَا سِوَاهُ. »

‘আমার মসজিদে একবার সালাত আদায় মসজিদে হারাম ছাড়া অন্যান্য মসজিদে হাজারবার সালাত আদায়ের চেয়ে বেশি উত্তম। তবে মসজিদুল হারামে একবার সালাত আদায় অন্যান্য মসজিদের তুলনায় এক লক্ষ গুণ বেশি।’ [মুসনাদে আহমাদ : ১৫২৭২; ইব্ন মাজা : ১৪০৬; সহীহ ইব্ন খুযাইমা : ১১৫৫]

মসজিদে হারাম বলতে কেউ কেউ শুধু কা‘বার চতুষ্পার্শ্বস্থ সালাত আদায় করার স্থান বা মসজিদকে বুঝেছেন; কিন্তু অধিকাংশ শরীয়তবিদের মতে, হারামের সীমারেখাভুক্ত পূর্ণ এলাকা মসজিদে হারামের আওতাভুক্ত। প্রসিদ্ধ তাবেঈ ‘আতা ইব্ন আবী রাবাহ আল-মক্কী রহ. যিনি মসজিদে হারামের ইমাম ছিলেন। তাঁকে একবার রাবী‘ ইব্ন সুবাইহ রহ. প্রশ্ন করলেন, ‘হে আবূ মুহাম্মাদ! মসজিদে হারাম সম্পর্কে যে ফযীলত বর্ণিত হয়েছে এটা কি কেবল মসজিদের জন্য না সম্পূর্ণ হারাম এলাকার জন্য?’ জবাবে আতা‘ রহ. বললেন, এর দ্বারা সম্পূর্ণ হারাম এলাকাই বুঝানো হয়েছে। কারণ, হারাম এলাকার সবটাই মসজিদ বলে গণ্য করা হয়।’ [মুসনাদুত তায়ালিসী : ১৪৬৪]

অধিকাংশ আলেম এ মতটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। [আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যা লিল- ইমাম ইব্ন তাইমিয়া : পৃ. ১১৩; ইবনুল কায়্যিম, যাদুল মা‘আদ : ৩/৩০৩-৩০৪; মাজমূ‘ ফাতাওয়া ইব্ন বায : ৪/১৪০]

সুতরাং পবিত্র মক্কা নগরীর হারাম এলাকার যেখানেই সালাত আদায় করা হবে, সেখানেই এক সালাতে এক লক্ষ সালাতের ছাওয়াব পাওয়া যাবে।

৮. মসজিদে হারামের উদ্দেশে সফর করার গুরুত্ব :

আল্লাহর যমীনে ইবাদাতের উদ্দেশে কোনো জায়গা সফরের অনুমতি নেই কেবল তিনটি জায়গা ছাড়া। হ্যাঁ, সফর যে কোনো জায়গায়ই করা যেতে পারে, কিন্তু তা হবে ইবাদাত জ্ঞানে নয়; তাঁর সৃষ্টিদর্শন ও পরিচয় বা সৃষ্টিকুশলতা অবলোকনের অভিপ্রায়ে। সেই তিনটি জায়গার একটি হলো এই মক্কার মসজিদ তথা মসজিদে হারাম। আবূ হুরায়রা রাদিআল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

«لَا تُشَدُّ الرِّحَالُ إِلَّا إِلَى ثَلَاثَةِ مَسَاجِدَ مَسْجِدِي هَذَا وَالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَالْمَسْجِدِ الْأَقْصَى»

‘(ইবাদাত মনে করে) কোথায় সফর করা যাবে কেবল তিনটি মসজিদ ছাড়া। আমার এই (মদীনার) মসজিদ, মসজিদে হারাম এবং মসজিদে আকসা (ফিলিস্তিনের বাইতুল মুকাদ্দাসের মসজিদ)।’ [বুখারী : ১১৮৯; মুসলিম : ১৩৯৭]

অতএব আমাদের কর্তব্য হবে একজন মুসলিম হিসেবে হৃদয়ে মক্কার প্রতি গভীর ভালোবাসা লালন করা এবং যথাসাধ্য মক্কা ও মদীনার মসজিদে সালাত আদায় করে ছাওয়াব হাসিলে সচেষ্ট হওয়া। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর হাবীবের এ প্রিয় শহর এবং তাঁর সম্মানিত ঘর দর্শন ও যিয়ারতের তাওফীক দান করুন। আমীন।

]]>
http://www.quraneralo.com/makka/feed/ 3
কিছু প্রশ্ন? উত্তর আছে আপনার কাছে? http://www.quraneralo.com/some-questions/ http://www.quraneralo.com/some-questions/#comments Sun, 21 Apr 2013 05:46:43 +0000 http://www.quraneralo.com/?p=4272 লিখেছেনঃ সাইফ

l

নিজেকে করার কিছু প্রশ্ন , যদি পারেন তো জবাব দিন , না পারলে আল্লাহর দিকে ফিরে আসুনঃ

১/ আপনি শুধু জুমআ'র নামাজই পড়েন কেন? আপনাকে কি আল্লাহ্‌ শুধু জুমার দিনেই আলো, বাতাস, পানি খাবার দিয়ে থাকেন? শনিবার দেন না? রবি, সোম, মঙ্গল সব দিনই তো দেন, সবদিন পরিপূর্ণ আল্লাহর নেয়মত ভোগ করেন, কিন্তু আল্লাহ্‌কে শুধু একদিনই স্মরণ করেন। এবার বলুন আপনি কি ঠিক পথে আছেন? এটা কি স্পষ্টত অপরাধ নয়? জবাব দিন , না হলে ফিরে আসুন।

২/ আপনি কি মনে করেন ইসলাম শুধু মসজিদ , মাদ্রাসায় , ইমাম, আলেমদের মধ্যে সীমাবদ্ধ? সবার জন্য জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই কি ইসলাম নয়? তাহলে আমাদের প্রিয় নবীর জীবনের প্রতিটি অংশই কেন ইসলাম জড়িত, কিংবা সাহাবীরা/৪ খলিফা কেনইবা ইসলামিক জীবন যাপন করেছেন? এবার নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি কি নিজেকেই ধোঁকা দিচ্ছেন না? জবাব দিন, না হলে ফিরে আসুন।

৩/ আপনি জানেন নামাজ পড়া ফরজ, আপনি এও জানেন নামাজ না পড়লে জাহান্নামে  যেতে হবে, আপনার এটাও জানা আছে যে জাহান্নাম অত্যন্ত ভয়াবহ, দুনিয়ার কোন শাস্তিই জাহান্নামের ধারে কাছেও নেই, তবু কেন আপনি পড়ছেন না? আপনি কি জেনে বুঝে নিকৃষ্ট জায়গায় , ভয়াবহ শাস্তির জায়গায় ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে নিয়ে যাচ্ছেন না? কেউ যদি জেনে বুঝে শাস্তি পেতে চায়, অথচ সে ইচ্ছা করলে শাস্তির বদলে চির সুখের স্থান পেতে পারে তাকে আপনি কি বলবেন ? চরম দুর্ভাগা বলবেন না? জবাব দিন , না হলে ফিরে আসুন।

৪/ আপনি তো জানেন জান্নাতে আরাম আয়েশের অভাব নেই। ইচ্ছা মত ভাল ভাল খাবার, পরমা সুন্দরী জান্নাতি হুর, যা যা ইছে করে সব পাওয়া যাবে জান্নাতে গেলে। দুনিয়ায় মানুষ কদিন বাঁচে? ৮০/১০০ বছর?আর আখিরাতের জীবন তো অনন্ত অসীম। আপনি এই ৮০-১০০ বছর আরামে কাটিয়ে দিতে চান আর অনন্ত জীবন ছেড়ে দিতে চান? এর থেকে বোকামি আর কি হতে পারে?

৫/ আপনি সবই মানেন সবই বোঝেন, কিন্তু অলসতা কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে  পালন করেন না, কি করে আশা করেন জান্নাত পাওয়ার। অনেকে বলেন ভাই আমি তো জাহান্নামী, তাদেরকে বলতে ইচ্ছে করে ভাই জাহান্নামকে আপনি কি মনে করেন? সাধারন জেলখানা ? তাহলে শুনুন

নু’মান ইবনে বাশীর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ

“কেয়ামতের দিন জাহান্নামীদের মধ্যে সবচাইতে লঘু শাস্তি প্রাপ্ত ব্যক্তির শাস্তি হবে এই যে, তার দুই পায়ের তালুর নিচে আগুনের দু’টি অংগার রাখা হবে এবং তাতে তার মস্তিষ্ক সিদ্ধ হতে থাকবে। সে মনে করবে, তার চাইতে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি আর কেউ হয়নি। অথচ সে-ই জাহান্নামীদের মধ্যে সবচাইতে হালকা শাস্তিপ্রাপ্ত।”

[ বুখারী: ৬৫৬২ , মুসলিম: ২১৩ ]

জবাব দিন , নাহলে ফিরে আসুন। যারা ফিরে আসবে এই মুহূর্ত থেকে তাদের জন্য আল্লাহ্‌ সুসংবাদ দিয়েছেন,

“আর যারা খারাপ কাজ করে, তারপরে তওবা করে নেয় এবং ঈমান নিয়ে আসে, তবে নিশ্চয়ই তোমার রব এরপরও ক্ষমাশীল,পরম দয়ালু।” [ সূরা আ'রাফ ১৫৩]

“তারা কি দেখে না,তারা প্রতি বছর একবার কিংবা দুবার বিপদগ্রস্ত হয়?  এরপরও তারা  তওবা করে না এবং উপদেশ গ্রহণ করে না।” [ সূরা তাওবা ১২৬]

“সুতরাং তারা কি আল্লাহর নিকট তওবা করবে না? এবং তার নিকট ক্ষমা চাইবে না? আর আল্লাহ  ক্ষমাশীল,পরম দয়ালু।” [সূরা মায়েদা ৭৪]

যারা ভাবে এখন পাপ করি পরে সময়মত তওবা করে নেব, তাদের সাধারণতঃ কোনদিনই তওবা করার সৌভাগ্য পাবে না।

আল্লাহ্‌ বলেন,

"আর এমন লোকদের জন্য কোন ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে, এমন কি যখন তাদের কারো মাথার উপর মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন বলতে থাকেঃ আমি এখন তওবা করছি। আর তওবা নেই তাদের জন্য, যারা কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।" [সূরা নিসা ১৮]

তাই আমার ভাই ও বোনেরা ফিরে আসুন , এখনই, এখনই এবং এখনই। তওবা করে ফিরে আসুন। আল্লাহর কাছে নিজেকে আত্মসমর্পণ করুন।

 

]]>
http://www.quraneralo.com/some-questions/feed/ 2
ইন্টারনেটে ইসলাম বিরোধী লেখা/মন্তব্য অভিযোগের জন্যে ই-মেইল http://www.quraneralo.com/report-against-anti-islamic-activities/ http://www.quraneralo.com/report-against-anti-islamic-activities/#comments Sun, 31 Mar 2013 10:38:20 +0000 http://www.quraneralo.com/?p=4039 284696-security-troubleshooting-techniques (1)বাংলাদেশের নাস্তিক ব্লগারদের ফেইসবুক ও ব্লগে ইসলাম বিরোধী লেখা/মন্তব্য বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে ই-মেইল ঠিকানা খুলেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি।

রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে এ সংক্রান্ত কমিটির এক বৈঠকে এই ই-মেইল ঠিকানা (complainmoha@gmail.com) জানানো হয়।

এ ই-মেইল ঠিকানায় যে কেউ এ অভিযোগ পাঠাতে পারবেন।

রোববার সকাল ১১টায় ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেমদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে এ কমিটি। ফেইসবুক ও ব্লগে আপত্তিকর মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপায় নির্ধারণ করতে এ সভা আয়োজন করা হয়েছে।

ফেইসবুক ও ব্লগে ইসলাম ও হযরত মুহম্মদ (সা.) কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যকারীদের সনাক্ত ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গত ১৩ মার্চ নয় সদস্যের কমিটি করে সরকার। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), আইন ও বিচার বিভাগ, তথ্য মন্ত্রণালয়, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক এবং পুলিশের (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) অতিরিক্ত ডিআইজিকে রাখা হয়েছে।

কমিটির সদস্য আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব আবু আহমেদ জমাদার বলেন, “প্রচলিত আইন অনুযায়ী দোষী প্রমাণিত হলে আপত্তিকর মন্তব্যকারীদের এক কোটি টাকা জরিমানা এবং ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।” প্রয়োজনে আপত্তিকর মন্তব্যকারী ব্লগার ও ফেইজবুক ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে সরকার সন্ত্রাস বিরোধী আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনেও বিচার করতে পারে বলে জানান আবু আহমেদ জমাদার।

আসুন সবাই একসাথে আমরা নাস্তিক ব্লগারদের মুখোশ উন্মোচন করি। শেয়ার করে জানিয়ে দিন সবাইকে। 

]]>
http://www.quraneralo.com/report-against-anti-islamic-activities/feed/ 21
হে নাস্তিক…..! http://www.quraneralo.com/ha-nastik/ http://www.quraneralo.com/ha-nastik/#comments Tue, 19 Feb 2013 13:31:39 +0000 http://www.quraneralo.com/?p=3674 লিখেছেনঃ মেরিনার       ওয়েব সম্পাদনাঃ মোঃ মাহমুদ ইবন গাফফার

18

হে নাস্তিক! আমি তো তোমার কাছে, ঈশ্বর প্রমাণ করতে চাই নি!!

তবে কেন তুমি গায়ে পড়ে আমার সাথে, ঝগড়া কর, তর্ক জুড়ে দাও?

মানব জীবন কেমন হবার কথা - আমি কি তোমার কাছে জানতে চেয়েছি?

তবে কেন তুমি তোমার জীবনের, অর্থহীনতা দিয়ে, আমার জীবনকে অর্থবহ করে তুলতে চাও?

তুমি থাকোনা তোমার "অর্থহীন প্যাঁচাল” নিয়ে - কষ্ট করে চয়ন করা দুর্বোধ্য শব্দে, ইনিয়ে বিনিয়ে নারীর

দেহ সৌষ্ঠবের বর্ণনা, অথবা, যৌনতার শরীরী প্রকাশ বা প্রেম ভিক্ষা নিয়ে ৷

হে বস্তুবাদী "কমরেড”! তুমি, তোমার অধুনা-লুপ্ত, ঈশ্বরবিহীন ধর্মের জাবর কাটতে চাও?

তা বেশ তো, আমি কি তোমায় বারণ করেছি?

তুমি তোমার ধর্মের - মৃত হাড়গোড় হয়ে যাওয়া - পয়গাম্বরদের গুণগান গাইতে চাও? দেং, কিম, চে,

লেনিন, স্ট্যালিন কিংবা মাও?

তা কর না, আমার তাতে তো কোন ক্ষতি হবার নয় ৷ আমি তো দেখেছি কিভাবে নিজ ধর্মে বিশ্বাস হারিয়ে

-এদেশী কমরেডরা হালুয়া রুটির উচ্ছিষ্টের ভাগ পেতে, স্বৈরাচারের সাথে হামাগুড়ির প্রতিযোগিতায়

প্রাণাতিপাত করে, ক্ষমতার ডাস্টবিনে পৌঁছাতে - অকপটে কোলাকুলি করে বিশ্ব বেহায়ার সাথে! 

তবে কি তুমি সেই বরফ শীতল অন্ধকারের, নিঃসঙ্গ সম্ভাবনাকে ভয় পাও?

আমাকেও করে নিতে চাও তোমার সাথী- জাহান্নামের অতল গহ্বরে!

তুমি কি তবে সৃষ্টির গূঢ় রহস্য জেনে গেছো? জেনেছো: মহাবিশ্বের সবকিছু কেবলই মরে যাচ্ছে?

তোমার "গুরুদেব” যেমন বুঝেছিলেন, সকলই: "আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী” !

(বেশ আগে, এই ব্লগে বা অন্যত্রও প্রকাশিত। আজ এক self proclaimed নাস্তিকের একটা কবিতা দেখে ইচ্ছা হলো পোস্টটা আবার প্রকাশ করি।)

]]>
http://www.quraneralo.com/ha-nastik/feed/ 1
ইসলামে প্রতিবন্ধীদের সমাদর http://www.quraneralo.com/islam-for-disabled-people/ http://www.quraneralo.com/islam-for-disabled-people/#comments Sun, 27 Jan 2013 05:59:57 +0000 http://www.quraneralo.com/?p=3915 লিখেছেনঃ আব্দুর রাকীব (মাদানী), দাঈ, দাওয়াহ সেন্টার, আল্ খাফজী  

ওয়েব সম্পাদনাঃ মোঃ মাহমুদ ইবনে গাফফার

128

আল্ হামদুলিল্লাহ, ওয়াস্ স্বালাতু ওয়াস্ সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আম্মা বাদঃ-

এতে কোন দ্বীমত নেই যে, প্রতিবন্ধীগণ মানব সমাজের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। ধারণা করা যায়, যখন থেকে মানব জাতি বিস্তার লাভ শুরু করেছে, ঠিক তখন থেকে কোন না কোনরূপে প্রতিবন্ধীও অস্তিত্বে এসেছে। তাই তাদের উপেক্ষা করা হলে সমাজের একাংশকে উপেক্ষা করা হবে। যার ফলে সমাজ ও জাতির সার্বিক উন্নয়ন ও সমন্নোতিতে ব্যাঘাত ঘটবে, যা সুসভ্য ও আদর্শ সমাজে অশোভনীয়।

মহান আল্লাহর মনোনিত ধর্ম ইসলামে রয়েছে তাদের উদ্দেশ্যে কিছু সুন্দর বিধান। রয়েছে তাদের মর্যাদা ও অধিকার, যা আমরা অনেকে জানিনা । আমরা এই প্রবন্ধে তারই কিছুটা আলোচনা করার প্রচেষ্টা করবো  ইন্ শাআল্লাহ।

 

প্রতিবন্ধী কাকে বলে ? 

আভিধানিক অর্থে প্রতিবন্ধী হচ্ছে, দৈহিক শক্তির একান্ত অভাব বা অঙ্গহানি হেতু যাহারা আশৈশব বাধাপ্রাপ্ত, মূকবধির, অন্ধ, খঞ্জ ইত্যাদি। [ সংসদ বাংলা অভিধান/৩৮২] 

পারিভাষিক অর্থে প্রতিবন্ধীতা হচ্ছে, দেহের কোন অংশ বা তন্ত্র আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে, ক্ষনস্থায়ী বা চিরস্থায়ীভাবে তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলা। [উইকিপিডিয়া, বাংলা]

 

অস্বাভাবিক সৃষ্টির রহস্যঃ  মহান আল্লাহ সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা। তিনি ভাল-মন্দেরও সৃষ্টিকর্তা। কিন্তু তাঁর সৃষ্টিকুলের মধ্যে কিছু সৃষ্টিকে আমরা অনেক সময় অস্বাভাবিক ও বিকৃত দেখতে পাই। অনেকে এর দোষটা স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাকে দেয়; অথচ তিনি পুত-পবিত্র দোষমুক্ত, আবার অনেকে সেই সৃষ্টিকেই দোষারোপ করে। এর পিছনে তাঁর উদ্দেশ্য ও রহস্য মহান । সেটা এক মাত্র তিনিই জানেন। তবে কিছু কারণ অনুমান করা যেতে পারে যেমনঃ

[১]- যেন বান্দা তাঁর একচ্ছত্র ক্ষমতা সম্পর্কে জানতে পারে যে, তিনি সব বিষয়ে ক্ষমতাবান। তিনি যেমন স্বাভাবিক সুন্দর সৃষ্টি করতে সক্ষম, তেমন তিনি এর ব্যতিক্রমও করতে সক্ষম।

[২]- আল্লাহ যাকে এই আপদ থেকে নিরাপদে রেখেছেন সে যেন নিজের প্রতি আল্লাহর দয়া ও অনুকম্পাকে স্মরণ করে, অতঃপর তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। কারণ আল্লাহ চাইলে তার ক্ষেত্রেও সেইরকম করতে পারতেন।

[৩]-  প্রতিবন্ধীকে আল্লাহ তাআলা এই বিপদের বিনিময়ে তাঁর সন্তুষ্টি, দয়া, ক্ষমা এবং জান্নাত দিতে চান। নবী (সাঃ) বলেনঃ

‘‘আমি যার দুই প্রিয়কে (দুই চোখকে) নিয়ে নিই, অতঃপর সে ধৈর্য ধরে ও নেকীর আশা করে, তাহলে আমি তার জন্য এর বিনিময়ে জান্নাত ছাড়া অন্য কিছুতে সন্তুষ্ট হই না।’’  [সহীহ তিরমিযী, নং ১৯৫৯]

 

 প্রতিবন্ধীর প্রতি শারয়ী কর্তব্যঃ

[১]- যেন সে ধৈর্যধারণ করে এবং সন্তুষ্ট থাকে কারণ এটি ভাগ্যর লেখা,যা ঈমানের অঙ্গ। মহান আল্লাহ বলেনঃ

( ما أصابَ مِنْ مصيبة في الأرضِ ولا في أنفُسكُم إلا في كتابٍ مِن قبل أن نبرأها إنَّ ذلك على الله يسير لكي لا تأسوا على ما فاتكم و لا تفرحوا بما آتاكم والله لا يحب كا مختال فخور ) الحديد

অর্থঃ ( পৃথিবীতে এবং ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর কোন বিপদ আসে না; কিন্তু তা জগৎ সৃষ্টির পূর্বেই কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। নিশ্চয় এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ। এটা এ জন্যে, যাতে তোমরা যা হারাও তাতে দুঃক্ষিত না হও এবং তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তাতে উল্লসিত না হও। আল্লাহ উদ্ধত ও অহংকারীকে পছন্দ করেন না।)   [ হাদীদ/২২-২৩]

 

[২]- যেন সে বিশ্বাস রাখে যে, আল্লাহ যখন কোন মুমিনকে পরীক্ষায় ফেলেন, তখন তিনি তাকে ভালবাসেন এবং অন্যান্যদের থেকে তাকে বেশি অগ্রাধিকার দেন। তাই তিনি নবীগণকে সবচেয়ে বেশি বিপদাপদের মাধ্যমে পরীক্ষা করেছিলেন। নবী (সাঃ) বলেনঃ

" أشدّ الناس بلاءاً الأنبياء ، ثم الأمثل فالأمثل ، يبتلي الرجل على حسب دينه إن كان دينه صلبا اشتد بلاؤه ، و إن كان في دينه رقة ، ابتلي على قدر دينه ، فما يبرح البلاء بالعبد حتى يتركه يمشي على الأرض ما عليه خطيئة " [ رواه الترمذي و ابن ماجه و صححه الألباني ]

“ নবীগণ সব চেয়ে বেশি পরীক্ষিত হন, অতঃপর তাদের থেকে যারা নিম্ম স্তরের। মানুষকে তার দ্বীন অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া হয়, যদি তার দ্বীনী অবস্থা প্রবল হয়, তাহলে তার বিপদও কঠিন হয়। আর যদি তার দ্বীন দুর্বল হয়, তাহলে তার পরীক্ষা সে অনুপাতে হয়। বিপদ বান্দার পিছু ছাড়েনা পরিশেষে তার অবস্থা এমন হয় যে, সে পাপ মুক্ত হয়ে যমীনে চলা-ফেরা করে। [সহীহ তিরমিযী নং১৪৩,ইবনু মাজাহ]

 

[৩]- প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যেন মনে রাখে যে, দয়াবান আল্লাহ মুমিনকে তার প্রত্যেক বিপদের বদলা দেন, যদিও সেই বিপদ নগণ্য হয়, এমনকি কাঁটা বিধলেও। নবী (সাঃ) বলেনঃ

‘‘মুসলিম ব্যক্তিকে কষ্ট, ক্লান্তি, দুঃখ, চিন্তা, আঘাত, দুশ্চিন্তা গ্রাস করলে এমন কি কাঁটা বিধলেও আল্লাহ তাআলা সেটা তার পাপের কাফ্ফারা করে দেন’’।   [ বুখারী, মুসলিম]

 

[৪]- মুমিন প্রতিবন্ধী যেন তার নির্দিষ্ট প্রতিবন্ধীতাকে ভুলে গিয়ে শরীরের বাকি অঙ্গগুলোকে কাজে লাগায়। কারণ কোন এক অঙ্গের অচলতা জীবনের শেষ নয়। তাছাড়া দেখা গেছে, যার পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের কোন একটি অচল তার বাকি ইন্দ্রিয় বা অঙ্গগুলো বেশি কিংবা দ্বীগুণ সচল।

 

প্রতিবন্ধীদের জন্য আমাদের করণীয়ঃ

[১]- নিজের সুস্থতা ও আরোগ্যতার কারণে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং প্রতিবন্ধী ভাইদের জন্য দুআ করা।

 

[২]- যথাসম্ভব প্রতিবন্ধীদের সাহায্য-সহযোগিতা করা। সেটা অন্ধ ব্যক্তিকে রাস্তা চলায় সাহায্য করা হোক কিংবা তাদের জীবন-যাপনের ক্ষেত্রে সাহায্য করা হোক কিংবা তাদের শিক্ষাদানে সহযোগিতা হোক। সুস্থদের সামান্য সাহায্যে তাদের জীবন-যাপন সহজ হতে পারে, তাদের মুখে ফুটতে পারে হাসি এবং তারা দাঁড়াতে পারে সমাজের সবার সাথে এক লাইনে।

 মনে রাখা দরকার, প্রতিবন্ধীর দেখাশোনা করা তার উপর জরূরী, যে তার অভিভাবক। আর সমষ্টিগত ভাবে সকল মুসলিমের জন্য ফরযে কিফায়া। অর্থাৎ সমাজের কিছু লোক তাদের দেখা-শোনা করলে বাকি লোকেরা গুনাহগার হবে না।

 

[৩]- বিশেষ করে তাদের এমন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া যার ফলে তারা নিজের প্রয়োজনীয় কাজ নিজে করতে পারে এবং নিজে রোজগার করে স্বয়ং সম্পন্ন হতে পারে।

 

ইসলামে প্রতিবন্ধীর মর্যাদাঃ

[১]- সবাই সমান, আর তাক্বওয়াই হচ্ছে মানুষ মর্যাদার মান-দন্ডঃ ইসলামে মানব মর্যাদার মাপ-কাঠি রং, বর্ণ, ভাষা, সৌান্দর্য্যতা, সুস্থতা, ইত্যদি নয়। বরং মান-দন্ড হচ্ছে তাক্বওয়া তথা আল্লাহ ভিরুতা। যে যত বেশি মুত্তাকী আল্লাহ তাকে তত বেশি ভাল বাসেন। এই মাপ-কাঠির মাধ্যমে ইসলাম প্রতিবন্ধী ও অপ্রতিবন্ধীর মাঝে ভেদাভেদ দূরীভূত করেছে এবং উভয়কে সমমর্যাদা দান করেছে। আল্লাহ বলেনঃ

( ياأيها الناسُ إنا خلقناكم من ذكرٍ و أنثى و جعلناكم شعوباً وّ قبائل لتعارفوا ، إن أكرمكم عند الله أتقاكم ) الحجرات

অর্থঃ ( হে মানুষ ! আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী হতে, পরে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদা সম্পন্ন যে অধিক মুত্তাকী।)   [হুজুরাত/১৩]

 

নবী (সাঃ) বলেনঃ

‘‘আল্লাহ তাআলা তোমাদের শরীর ও আকৃতির দিকে দেখেন না বরং তোমাদের অন্তরের দিকে দেখেন।’’   [মুসলিম]

 

[২]- নর-নারী যেন এক অপরের উপহাস না করেঃ প্রতিবন্ধীর সমস্যা প্রতিবন্ধীই বেশি জানে কিন্তু যখন কোন সুস্থ ব্যক্তি তাকে উপহাস করে তখন সে দারুণ ভাবে মর্মাহত হয়। তাই ইসলাম সুস্থ হলেও এক অপরের উপহাস করা নিষেধ করেছে। আল্লাহ বলেনঃ ( হে মুমিনগণ! কোন পুরুষ যেন অপর কোন পুরুষকে উপহাস না করে; কেননা, যাকে উপহাস করা হয় সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে এবং কোন নারী অপর কোন নারীকেও যেন উপহাস না করে; কেননা যাকে উপহাস করা হয় সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে।)   [হুজুরাত/১১]

 

[৩]- সামাজিক স্বীকৃতিঃ প্রাচীন যুগে অনেকে প্রতিবন্ধীদের উপেক্ষা করতো, তাদের সামাজিক মান-মর্যাদা দেওয়া হত না। এমনকি এখনও কিছু সমাজে তা দেখা যায়। যার ফলে বর্তমানে আন্তর্জাতিক আইন তৈরি করে তাদের অধিকার দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সাঃ) ১৪শত বছর পূর্বে বারংবার তাঁর অনুপস্থিতির সময় মদীনার মসজিদের ইমামতির দায়িত্ব এক প্রতিবন্ধী  সাহাবীকে অর্পন করে তাদের সমাজের সর্ব্বোচ্চ সম্মানে অধিষ্ঠিত করার নজীর তৈরি করেন। তিনি সেই প্রতিবন্ধী সাহাবীকে আযান দেওয়ার কাজেওে নিযুক্ত করেছিলেন। সেই সম্মানীয় প্রতিবন্ধী সাহাবী হচ্ছেন আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতূম।    [দেখুন, বুখারী, অধ্যায়ঃ মাগাযী, অনুচ্ছেদ, বদরের যুদ্ধ এবং অহুদের যুদ্ধ]

 

[৪]- শরীয়তের বিধান বাস্তবায়নে ছাড় প্রদানঃ ফিক্হ মূলনীতির একটি প্রসিদ্ধ মূলনীতি হচ্ছে, ‘‘লা তাকলীফা ইল্লা বিমাক্বদূরিন্ আলাইহ্ ’’।

অর্থাৎ শারয়ী আদেশ জরূরী নয় কিন্তু ক্ষমতাবানের প্রতি। এই ফিক্হী মূলনীতিটির  ব্যখ্যা হচ্ছে, প্রত্যেক ফরয বিধান যা মহান আল্লাহ মানুষের প্রতি ধার্য করেছেন, যদি মানুষ তা পালনে সক্ষম হয়, তাহলে তার প্রতি তা পালন করা আবশ্যিক হবে, সে প্রতিবন্ধী হোক বা অপ্রতিবন্ধী। আর যদি সম্পূর্ণরূপে সে তা বাস্তবায়ন করতে অক্ষম হয়, তাহলে তা থেকে সে মুক্তি পাবে। আর যদি কিছুটা করতে সক্ষম হয় এবং কিছুটা করতে অক্ষম হয়, তাহলে যেই পরিমাণ করতে সক্ষম হবে, সেই পরিমাণ তাকে পালন করতে হবে এবং যেই পরিমাণ করতে অক্ষম হবে, সেই পরিমাণ থেকে সে ছাড় পেয়ে যাবে। এর প্রমাণে আল্লাহর বাণী, তিনি বলেনঃ

(আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না )    [ বাক্বারাহ/২৮৬] 

 

এবং নবী (সাঃ) বলেনঃ

‘‘যখন আমি তোমাদেরকে কোন আদেশ করি, তখন তা বাস্তবায়ন কর যতখানি সাধ্য রাখ’’।    [বুখারী, মুসলিম]

 

ইসলামের এই মনোরম বিধানে প্রতিবন্ধীদের জন্য রয়েছে সহজতা ও সহনশীলতা। তাই এমন প্রতিবন্ধী, যে ইসলামের বিধান পালনে একে বারে অক্ষম যেমন পাগল ও জ্ঞানশূন্য ব্যক্তি, তার উপর ইসলাম কোন বিধান জরূরী করে না। আর আংশিক প্রতিবন্ধী যে কিছুটা করতে সক্ষম তার প্রতি অতটুকুই পালনের আদেশ দেয়। যেমন যদি কারো অর্ধ হাত কাটা থাকে তাহলে যতটুকু অংশ বাকি আছে অযুর সময় ততটুকু ধৌত করতে আদেশ দেয়। অনুরূপ প্রতিবন্ধকতার কারণে নামাযে দাঁড়াতে না পারলে বসে আদায় করার আদেশ দেয়। এইভাবে অন্যান্য অবস্থা।

 

প্রতিবন্ধী  প্রশিক্ষণে  আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণঃ

প্রতিবন্ধী শিক্ষা-প্রশিক্ষণে বর্তমান যুগে বিভিন্ন ধরনের উপকরণ আবিষ্কৃত হয়েছে, যেমন স্পষ্ট হস্তলিপি, সাঙ্কেতিক ভাষা, হুইল চেয়্যার, চলন্ত চেয়্যার, কম্পিউটার প্রোগ্রাম ইত্যাদি। এই রকম যাবতীয় উপকারি উপকরণ ব্যবহার বৈধ। আমাদের এ সবের মাধ্যমে তাদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত। কিন্তু শরীয়ত অবৈধ করেছে এমন উপকরণ গ্রহণ করা যাবে না।

 

প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণে পাশ্চাত্য থিউরি হতে সাবধানঃ

প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণে পাশ্চাত্য থিউরি হচ্ছে, ‘দুনিয়ার এ জীবনই শেষ জীবন’ ।

অন্য ভাষায় ‘জিন্দেগী না মিলেগী দোবারা’।

অর্থাৎ পৃথিবীর জীবনটাই শেষ জীবন এর পরে কোন জীবন নেই। তাই এটাকে উপভোগ করো, যতখানি পার, যে ভাবে পার। ধর্ম, সমাজ এবং প্রচলিত রিতি-নীতি যেন দুনিয়া উপভোগ করা থেকে বাধা না হয়। তারা যেমন এই থিউরিকে সাধারণের জন্য করে নিয়েছে তেমন প্রতিবন্ধীদের জন্যও করেছে। তাই তারা মনে করে, যদি কোন প্রতিবন্ধী মদ পান করে আনন্দ পায়, তাহলে সে তা পান করুক। যদি কেউ গান ও মিউজিকের মাধ্যমে মজা পায়, তাহলে সে সেটাই গ্রহণ করুক। যদি কেউ ফিল্ম , নাচ-গান এমনকি মানবতা লজ্জা পায় এমন ফিল্মও পছন্দকারী হয়, তাহলে সে নিজে তা করুক কিংবা উপভোগ করুক,আপত্তি থাকবে না।

 

     প্রিয় পাঠক! আমরা মুসলিম। আমাদের জীবন-যাপনের সুন্দর নিয়ম আছে, যা ইসলাম আমাদের প্রদান করেছে। কিন্তু যাদের কোন ধর্ম নেই, নেই আদর্শ বরং নিজেরাই তৈরি করে নিজের জীবনাদর্শ, তারাই উপরের থিউরির আবিষ্কারক, যা আমাদের জন্য কখনও গ্রহনীয় নয় বরং নিন্দনীয়। কারণ মহান আল্লাহ এসব থেকে আমাদের নিষেধ করেছেন।

 

ছিটেফোঁটাঃ

  • বলা হয়েছে, বর্তমান পৃথিবীর মানব সম্প্রদায়ের প্রায় ১০% লোক প্রতিবন্ধীর সমস্যায় পীড়িত।
  • প্রাচিন যুগে রোম সম্প্রদায়, যারা যোদ্ধা হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছিল, তারা বধিরকে আইনানুযায়ী বোকা ও হাবলা বলে আখ্যায়িত করে তাদের থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছিল।
  • মিসরের ফেরাউন রাজা সম্প্রদায় প্রতিবন্ধী শিশুদের হত্যা করতো।
  • বিশিষ্ট দার্শনিক আরাসতু (এরিস্টল) বধির প্রতিবন্ধী সম্বন্ধে মন্তব্য করেন যে, তাদের শিক্ষা দেওয়া অসম্ভব।
  • দার্শনিক আফ্লাতূন তাদের শহর থেকে বের করে দেওয়ার মত প্রকাশ করে, কারণ তাদের দ্বারা শহর নির্মাণের কাজ অসম্ভব।
  • বানু উমাইয়্যা রাজত্বে বাদশাহ উমার বিন আব্দুল আযীয প্রথম প্রতিবন্ধী শুমারীর আদেশ প্রদান করেন।
  • খলিফা ওলীদ বিন আব্দুল মালিক সর্ব প্রথম কুষ্ঠরোগের হাসপাতাল নির্মাণ করেন।
  • ইমাম আবু হানীফা (রাহেঃ) কাযী থাকাকালীন বায়তুল মাল থেকে প্রতিবন্ধীদের খরচ দেওয়ার আইন জারী করেন।
  • খলীফা মামুন বাগদাদ সহ অন্যান্য বড় শহরগুলিতে অন্ধালয় এবং দুর্বল অপারগ মহিলালয় নির্মাণ করেন।
  • সুলতান কালাউন প্রতিবন্ধীদের জন্য বেমারিস্তান নির্মাণ করেন।
  • বিশিষ্ট তফসীরবিদ রাযী ‘দারাজাতু ফুক্দানিস্ সাম’ ( শ্রবন শক্তি বিলুপ্ততার স্তর) নামক বই লেখেন।
  • অন্ধ প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার উদ্দেশ্যে স্পষ্ট হস্তলিপি ব্রাইলের বহু পূর্বে মুসলিমগণ আবিষ্কার করেন।
  • আবান্ বিন উসমান একজন প্রতিবন্ধী ‘ফকীহ’ ছিলেন।
  • মুহাম্মদ বিন সিরীন শ্রবন প্রতিবন্ধতার পরেও একজন বিশিষ্ট স্বপ্নের তা’বীরবিদ ও হাদীস বর্ণনাকারী ছিলেন।
  • বিগত সউদী গ্রান্ড মুফতী সামাহাতুশ্ শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায অন্ধ ছিলেন।
  • সউদী আরবের বর্তমান গ্রান্ড মুফতীও অন্ধ প্রতিবন্ধী।
  • বর্তমানে মদীনার মুহাদ্দিস এবং মসজিদে নববীতে হাদীসের দারস প্রদানকারী শাইখ আব্দুল মুহসিন আল্ আব্বাদ এক জন অন্ধ প্রতিবন্ধী। (তিনি লেখকের সম্মানীয় শিক্ষক) 

 

[তথ্যসূত্র, ‘মাজাল্লাতুল্ হিকমাহ’ সপ্তম সংখ্যা এবং বিভিন্ন আরবী ওয়েব সাইট]

]]>
http://www.quraneralo.com/islam-for-disabled-people/feed/ 2
একটি আকর্ষণীয় ইসলামীক ক্যালেন্ডার সংগ্রহ করুন http://www.quraneralo.com/one-message-islamic-calender/ http://www.quraneralo.com/one-message-islamic-calender/#comments Wed, 16 Jan 2013 05:39:51 +0000 http://www.quraneralo.com/?p=3885 আল্লাহর জন্য রয়েছে সব উত্তম নাম, সেই নাম ধরেই তাঁকে ডাকো” [৭/১৮০]

213

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, "আল্লাহর রয়েছে ৯৯ টি নাম একশত হতে এক কম। যে ব্যক্তি সেই নাম গুলোকে আন্তস্থ করবে সেগুলোর বিশ্বাস স্থাপন করবে, সেগুলোর অর্থ নিয়ে ভাববে, এবং সেই গুলোর দ্বারা আল্লাহর কাছে চাইবে, এবং এই গুলোর উপর আনিত বিশ্বাসের ভিত্তিতে আমল করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" (Sahih Muslim 035 : 6475)

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা আল্লাহর কত গুলো নাম জানি? এই গুলোর মধ্য হতে কত গুলো দিয়ে আমরা আল্লাহর কাছে চাই? কতগুলোর অর্থ আমরা জানি বা কত গুলোর অর্থই বা আমরা বুঝি?

TheOnemessage এর ক্যালেন্ডার  লক্ষ্য হল আল্লাহর ১২ টি সুন্দর নামের দারা আপনাদের অনুপ্রানিত করা। আলহামদুলিল্লাহ TheOnemessage ২০১৩ সালে ক্যালেন্ডার প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছে। যার ১২ মাসের প্রতিটি পেজ আল্লাহর ১ টি সুন্দরতম নামের অর্থ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা সহ দেয়া যা কুরাআন ও সুন্নাহ থেকে দলিল সহ উপস্থাপন করা হয়েছে। আল্লাহ সম্পর্কে আপনি যত জানবেন তাঁকে তত বেশি ভালবাসবেন এবং তাঁর আদেশ নিষেধের আনুগত্য করা তত সহজ হয়ে যাবে এবং আপনি দুনিয়া ও আখিরাতে সুখী হবেন।

This calendar will open dawah opportunities for you, as a gift to others and also as an attractive ornament on your wall that will familiarise people with Allah's amazing names and attributes, in sha Allah!

এই ক্যালেন্ডার এর মূল্য মাত্র ২৫০ টাকা।

আর আপনার এই ২৫০ টাকা বিনিয়োগ বৃথা যাবে না ইনশাহআল্লাহ। কারন এই ক্যালেন্ডার থেকে অর্জিত পুরো অর্থ TheOnemessage এর পরবর্তী প্রোজেক্টে ব্যবহার করা হবে। এটি আপনাদের জন্য একটি নেক আমল অর্জনের মাধ্যম হয়ে থাকবে। TheOnemessage এর পরবর্তী প্রোজেক্ট থেকে যতজন ইসলাম এর জ্ঞান অর্জন করবে এবং তার সম পরিমান নেকি আপনার আমলনামায় যোগ হবে। TheOnemessage এর এই ছোট প্রোজেক্ট যাতে সফল হয় এই জন্য সকলের নিকট দুয়া কামনা করছি।

Calender Samplehttp://on.fb.me/S0InhJ

কি ভাবে সংগ্রহ করবেন? 

এই লিংকে ক্লিক করে অর্ডার করুন এই আকর্ষণীয় ইসলামিক ক্যালেন্ডারটি। - http://bit.ly/S0HoOv

Website: http://www.theonemessage.com/
FaceBook: www.facebook.com/the1message

]]>
http://www.quraneralo.com/one-message-islamic-calender/feed/ 4