জন্ম নিয়ন্ত্রণের কুফল ও বিধান

31
Print Friendly

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না

রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

 

লেখকঃ আবু নাফিয মুহাম্মাদ লিলবর আল-বারাদী
[এম.এ (অধ্যয়নরত), মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়]

জন্ম নিয়ন্ত্রণ আন্দোলনের পটভূমি :

জন্ম নিয়ন্ত্রণ (Birth control) আন্দোলন আঠারো শতকের শেষাংশে ইউরোপে সূচনা হয়। সম্ভবত: ইংল্যান্ডের বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ ম্যালথাসই (Malthus) এর ভিত্তি রচনা করেন। এ আন্দোলনের আসল উদ্দেশ্য হ’ল বংশ বৃদ্ধি প্রতিরোধ। জনসংখ্যা বৃদ্ধির উচ্চহার দেখে মি. ম্যালথাস হিসাব করেন, পৃথিবীতে আবাদযোগ্য জমি ও অর্থনৈতিক উপায়-উপাদান সীমিত। কিন্তু বংশবৃদ্ধির সম্ভাবনা সীমাহীন। ১৭৯৮ সালে মি. ম্যালথাস রচিত An essay on population and as it effects, the future improvment of the society. (জনসংখ্যা ও সমাজের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে এর প্রভাব) নামক গ্রন্থে সর্বপ্রথম তার মতবাদ প্রচার করেন। এরপর ফ্র্যান্সিস প্ল্যাস (Francis Place) ফরাসী দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি প্রতিরোধ করার প্রতি জোর প্রচারণা চালান। কিন্তু তিনি নৈতিক উপায় বাদ দিয়ে ঔষধ ও যন্ত্রাদির সাহায্যে গর্ভনিরোধ করার প্রস্তাব দেন। আমেরিকার বিখ্যাত ডাক্তার চার্লস নোল্টন (Charles knowlton) ১৮৩৩ সালে এ প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন সূচক উক্তি করেন। তিনি তার রচিত The Fruits of philosophy নামক গ্রন্থে সর্বপ্রথম গর্ভনিরোধের চিকিৎসা শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা এবং এর উপকারের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

কিন্তু মাঝখানে ১৮৪০ সাল থেকে ১৮৭৫ সাল পর্যন্ত এ আন্দোলন বন্ধ থাকে। ইংল্যান্ডের অধিবাসীরা এর প্রতি কোনরূপ গুরুত্বারোপ ও সহযোগিতা করতে অস্বীকার জানিয়েছিলেন।

আবার ১৮৭৬ সালে নতুন করে ম্যালথাসীয় আন্দোলন (New Malthusian Movment) নামক নতুন আন্দোলন শুরু হয়। মিসেস এ্যানী বাসন্ত ও চার্লস ব্রাডার ডাঃ নোল্টনের (Fruits of philosophy) গ্রন্থটি ১৮৭৬ সালে ইংল্যান্ডে প্রকাশ করেন। ১৯৭৭ সালে ডাঃ ড্রাইসডেল (Drysdale)-এর সভাপতিত্বে একটি সমিতি গঠিত হয় ও জন্ম নিয়ন্ত্রণের প্রচার কার্য শুরু হয়ে যায়।

১৮৭৯ সালে মিসেস বাসন্ত-এর রচিত Law of population (জনসংখ্যার আইন) নামক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। ১৮৮১ সালে হল্যান্ড, বেলজিয়াম, ফ্রান্স ও জার্মানীতে এ আন্দোলন ছড়িয়ে যায় এবং ক্রমে ইউরোপ ও আমেরিকার সকল সভ্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানে স্থানে জন্মনিরোধ ক্লিনিক (Birth Control Clinics) খুলে দেয়। [1]

বর্তমানে একবিংশ শতাব্দীতে সারা বিশ্বে জন্মনিয়ন্ত্রণের নামে প্রকাশ্যে সন্তান হত্যার হিড়িক পড়ে গেছে। এমনকি দৈনিক পত্রিকাসহ সকল মিডিয়াতে ফলাও করে প্রচারণা চলছে। যেমন ‘ছেলে হোক মেয়ে হোক দু’টি সন্তানই যথেষ্ট’, দুইটি সন্তানের বেশী নয়, একটি হ’লে ভালো হয়’ ইত্যাদি। এছাড়াও কিছু স্যাটেলাইট ক্লিনিক গর্ভবর্তী মায়ের সেবার নামে গর্ভপাত ঘটানোর গ্যারেজে পরিণত হয়েছে।

জন্ম নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি :

জন্ম নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি দু’প্রকার : (১) সাময়িক ব্যবস্থা ও (২) স্থায়ী ব্যবস্থা।

(১) সাময়িক ব্যবস্থা :

(ক) আযল তথা ভিতরে বীর্যপাত না করা (With drawal)

(খ) নিরাপদ সময় মেনে চলা (Safe period) ।

(গ) কনডম ব্যবহার। (ঘ) ইনজেকশন পুশ। (ঙ) পেশীতে বড়ী ব্যবহার। (চ) মুখে পিল সেবন ইত্যাদি।

(২) স্থায়ী ব্যবস্থা :

(ক) পুরুষের অপারেশন। (খ) নারীর অপারেশন।

(ক) পুরুষের অপারেশন : পুরুষের অন্ডকোষে উৎপাদিত শুক্রকীটবাহী নালী (Vas deferens) দু’টি কেটে বিচ্ছিন্ন করা হয়। ফলে পুরুষের বীর্যপাত ঘটে, কিন্তু বীর্যে xy ক্রমোজম শুক্রকীট না থাকায় সন্তান হয় না। [2]

(খ) নারীর অপারেশন : নারীর ডিম্বাশয়ে উৎপাদিত ডিম্ববাহী নালী (Fallopian Tube কেটে বিচ্ছিন্ন করা হয়। ফলে পূর্ণ xx ক্রমোজম ডিম্ব (Matured Ovum) আর জরায়ুতে প্রবেশ করতে পারে না। [3]

নারী অথবা পুরুষে যেকোন একজন স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করলে, অপর জনকে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয় না। কারণ নারীর ডিম্ব পুরুষের শুক্রকীট দ্বারা নিষিক্ত না হ’লে সন্তানের জন্ম হয় না। [4]

জন্ম নিয়ন্ত্রণের কুফল :

জন্মনিয়ন্ত্রণের বহুবিদ কুফল রয়েছে। এ সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হ’ল-

ব্যাভিচারের প্রসার :

ব্যাভিচার সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন,

 وَلاَ تَقْرَبُواْ الزِّنَى إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَّسَاءَ سَبِيْلاً 

‘তোমরা অবৈধ যৌন সম্ভোগের নিকটবর্তী হয়ো না। এটা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ’ (ইসরা ১৭/৩২)

কিন্তু শয়তান মানুষকে দরিদ্রতার ভয় দেখিয়ে অসামাজিক, অনৈতিক কাজের প্রতি প্রলুব্ধ করে। নারী জাতি আল্লাহভীতির পাশাপাশি আরও একটি নৈতিকতা রক্ষা করতে বাধ্য হয়। তাহ’ল অবৈধ সন্তান জন্মের ফলে সামাজিক মর্যাদা বিনষ্ট হবার আশংকা। কিন্তু জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেয়ার ফলে, এ আশংকা থেকে একদম মুক্ত। যারা নৈশক্লাবে নাচ-গান করে, পতিতা বৃত্তি করে, প্রেমের নামে রঙ্গলীলায় মেতে উঠে, তারা অবৈধ সন্তান জন্মানোর আশংকা করে না। তাছাড়া কখনও হিসাব নিকাশে গড়মিল হয়ে অবৈধ সন্তান যদিও গর্ভে এসে যায়, তবে স্যাটেলাইট ক্লিনিক নামের সন্তান হত্যার গ্যারেজে গিয়ে প্রকাশ্যে গর্ভ নষ্ট করে ফেলে।

ইংল্যান্ডে প্রতি ১০০ জন নারীর মধ্যে ৮৬ জন নারী বিয়ে ছাড়াই যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে। অবৈধ সন্তান জন্মের সময় এদের শতকরা  ৪০ জন নারীর বয়স ১৮-১৯ বছর, ৩০ জন নারীর বয়স ২০ বছর এবং ২০ জন নারীর বয়স ২১ বছর। এরা তারাই যারা জন্মনিয়ন্ত্রণের যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরও এ দুর্ঘটনাবশত গর্ভবতী হয়েছিল। [5]  সেখানে প্রতি তিন জন নারীর একজন বিয়ের পূর্বে সতীত্ব সম্পদ হারিয়ে বসে। ডাঃ চেসার তার রচিত ‘সতীত্ব কি অতীতের স্মৃতি?’ গ্রন্থে এ সম্পর্কে পরিষ্কার ভাষায় বর্ণনা করেছেন’। [6]

Indian Council for Medical Research-এর ডিরেক্টর জেনারেল অবতার সিংহ পেইন্টাল বলেন, We used to think our women were chaste, But people would be horrified at the level of promise culty here.  অর্থাৎ আমাদের নারীদেরকে আমরা সতী বলে মনে করতাম। কিন্তু অবৈধ যৌনকর্ম এখানে এতবেশী বৃদ্ধি পেয়েছে যে, লোকে এতে ভীত না হয়ে পারে না। [7]

আমেরিকার বিদ্যালয় সমূহে অশ্লীল সাহিত্যের চাহিদা সর্বাপেক্ষা বেশী। যুবক-যুবতীরা এসব অধ্যয়ন করে অশালীন কাজে লিপ্ত হয়। এছাড়া হাইস্কুলের শতকরা ৪৫ জন ছাত্রী স্কুল ত্যাগ করার পূর্বে চরিত্রভ্রষ্ট হয়ে পড়ে। আর এদের যৌন তৃষ্ণা অনেক বেশী। [8] বৃটেনেও শতকরা ৮৬ জন যুবতী বিয়ের সময় কুমারী থাকে না। [9]  প্রাশ্চাত্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে তাদের শিক্ষা ব্যয়ের প্রায় অধিকাংশ খন্ডকালীন যৌনকর্মী হিসাবে অর্জন করে থাকে। মঙ্গোলয়েড দেশসমূহে যৌন সম্পর্কীয় বিধি-বিধান অত্যন্ত শিথিল। থাইল্যান্ডের ছাত্রীদের বিপুল যৌনতা লক্ষ্য করা যায়। [10]

চীনের ক্যান্টন শহরে কুমারীদের প্রেম বিষয়ে শিক্ষা দেয়ার জন্য বিদ্যালয় খোলা হয়েছে। [11]  পশ্চিমা সভ্যতার পূজারীরা সর্বজনীন অবৈধ যৌন সম্পর্কের মহামারীর পথ প্রশস্ত করেছে। [12]  চীনে যৌন স্বাধীনতার দাবী সম্বলিত পোষ্টারে যার সাথে খুশী যৌন মিলনে কুণ্ঠিত না হবার আহবান জানানো হয়। [13]  ইউরোপে যৌন স্বাধীনতার দাবীতে পুরুষের মত নারীরাও নৈতিকতা হারিয়ে উচ্ছৃংখল ও অনাচারী এবং সুযোগ পেলেই হন্যে হয়ে তৃপ্ত করত যৌনক্ষুধা। অশুভ এই প্রবণতার ফলে বৈবাহিক জীবন ও পরিবারের প্রতি চরম অনিহা সৃষ্টি হয়। [14]  অর্থ সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে আমেরিকার ৭৫ লাখ নারী পুরুষ বিবাহ ব্যতীত ‘লিভ টুগেদার’-এ। [15]

প্রাশ্চাত্যের যুবতীরা যাতে অপ্রত্যাশিতভাবে গর্ভবতী না হয়ে পড়ে, সেজন্য তাদেরকে যথেষ্ট পরিমাণে গর্ভনিরোধের দ্রব্যাদি দেয়া হয় এবং এ সকল দ্রব্য ব্যবহারের বিষয়ে তাদেরকে যথোপযুক্ত প্রশিক্ষণও প্রদান করা হয়ে থাকে। এমনকি মায়েরা কন্যাদেরকে এই সকল দ্রব্য ব্যবহারের কায়দা-কৌশল শিক্ষা দিয়ে থাকে। গর্ভনিরোধ দ্রব্যাদির ব্যবহার সম্পর্কে স্কুল-কলেজে প্রচারপত্র বের করে এবং বিশেষ কোর্সেরও প্রবর্তন করে। এর অর্থ হ’ল- সকলেই নিঃসংকোচে মেনে নিয়েছে যে, যুবক-যুবতীরা অবৈধ যৌন সম্ভোগ করবেই। [16]

প্রাশ্চাত্যে ক্রমবর্ধমান অবৈধ যৌন স্বাধীনতাই সবচাইতে ক্ষতি সাধন করেছে। নারীর দেহকে বাণিজ্যিক রূপ দেয়ার কোন প্রচেষ্টাই বাকী রাখা হয়নি। অবিবাহিত মহিলাদের গর্ভধারণের সংখ্যা বৃদ্ধি, অবৈধ সন্তান জন্ম, গর্ভপাত, তালাক, যৌন অপরাধ ও যৌন ব্যাধিই এর প্রমাণ। অপর দিকে অবৈধ যৌন সম্পর্কের ফলে কোন আইন-বিচার ও আইনী শাস্তির বিধান নেই। বরং এটাকে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ব্যাপার বলে বিবেচনা করা হয়। [17]

সম্প্রতি ভারতেও অবৈধ যৌন সম্প্রীতি ও হিন্দু-মুসলমান যুবক-যুবতীর নির্বিঘ্নে বিবাহ বন্ধন এবং জন্ম নিয়ন্ত্রণের নামে গর্ভপাত ঘটানোর হিড়িক পড়ে গেছে।

জটিল রোগের প্রাদুর্ভাব :

নারীর ব্যাভিচার দিনদিন প্রসার লাভ করে চলেছে। নারী স্বাধীনতার নামে এরা আরও বেপরোয়া হয়ে গেছে। এই অবৈধ যৌন সম্ভোগের মাধ্যমে নারী-পুরুষের মারাত্মক জটিল সব রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে।

জন্ম নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে জীবাণু নাশক ঔষধ, পিল, কনডম ইত্যাদি উপকরণ ব্যবহারের ফলে তৎক্ষণা কোন ক্ষতি হয় না। কিন্তু বেশ কিছু কাল যাবৎ এসব ব্যবহার করার ফলে মধ্যবর্তী বয়সে উপনীত হ’তে না হ’তেই নারী দেহের স্নায়ুতন্ত্রীতে বিশৃংখলা (Nervous instability) দেখা দেয়। যেমন- নিস্তেজ অবস্থা, নিরানন্দ, উদাসীনতা, রুক্ষমেজায, বিষণ্ণতা, নিদ্রাহীনতা, মস্তিষ্কের দুর্বলতা, হাত-পা অবশ, শরীরে ব্যথা, স্তনে সাইক্লিক্যাল ব্যথা, ক্যান্সার, অনিয়মিত ঋতু, সৌন্দর্য নষ্ট ইত্যাদি। [18]  নারী-পুরুষ অবৈধ যৌন মিলনে সিফিলিস, প্রমেহ, গণরিয়া, এমনকি এইডস-এর মত মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। যে সমস্ত বিবাহিতা নারীর দেহে অস্ত্রপচার করা হয়, তাদের শতকরা ৭৫ জনের মধ্যেই সিফিলিসের জীবাণু পাওয়া যায়। [19]

সিফিলিস রোগে আক্রান্ত রোগী সুচিকিৎসা গ্রহণ না করলে মারাত্মক সব রোগের সৃষ্টি হয়। এইডস রোগের ভাইরাসের নাম এইচ. আই. ভি (HIV)। এ ভাইরাস রক্তের শ্বেত কণিকা ধ্বংস করে। এ রোগ ১৯৮১ সালে প্রথম ধরা পড়ে এবং ১৯৮৩ সালে একজন ফরাসী বিজ্ঞানী এইচ. আই. ভি ভাইরাসকে এই রোগের কারণ হিসাবে দায়ী করেন। [20]  বল্গাহীন ব্যাভিচারের ফলে এই রোগ উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। ডাঃ হিরোশী নাকজিমা বলেন, জনসাধারণের মধ্যে এইডস বিস্তার লাভ করলে সমগ্র মানবজাতির বিলুপ্তি ঘটতে পারে। [21]

এছাড়া জন্ম নিরোধ পদ্ধতি ব্যবহার করার ফলে নানা প্রকার রোগ বদঅভ্যাসের প্রসার ঘটেছে। তন্মধ্যে কনডম ব্যবহার বা আযল করার জন্য নারীরা মিলনে পরিতৃপ্ত না হ’তে পেরে অবৈধ মিলনের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। স্তনে সাইক্লিক্যাল ব্যথা, স্তনচাকা বা পিন্ড, স্তন ক্যান্সারের পূর্ব লক্ষণ। জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবনে স্তনে এ ধরনের ব্যথা ও পিন্ড তৈরী হয় এবং ৭৫% নারী স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিতে থাকে। [22]  বুক ও জরায়ুর কার্সিনোমা হ’তে পারে শর্করা জাতীয় খাদ্য সহ্য হয় না, লিভার দুর্বল হয়, রক্ত জমাট বাঁধতে ব্যহত হয়, বুকের দুধ কমে যায় এবং Lactation কম হয় এবং দেহে ফ্যাট জমা হয়। [23]  এছাড়া জরায়ু ক্যান্সার ও স্থানচ্যুতি সহ আরও অনেক রোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জন্মের হার কমে যাওয়া :

আগত ও অনাগত সন্তান হত্যার ব্যাপারে মহান আল্লাহ নিষেধ করেন

 وَلاَ تَقْتُلُواْ أَوْلادَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلاَقٍ  

‘তোমরা অভাব ও দরিদ্রতার আশংকায় তোমাদের সন্তানদের হত্যা কর না’(ইসরা ১৭/৩১)

কিন্তু শয়তান আল্লাহর প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলল,

 وَلَأُضِلَّنَّهُمْ وَلَأُمَنِّيَنَّهُمْ وَلَآمُرَنَّهُمْ فَلَيُبَتِّكُنَّ آذَانَ الأَنْعَامِ وَلَآمُرَنَّهُمْ فَلَيُغَيِّرُنَّ خَلْقَ اللّهِ 

 ‘আমি অবশ্যই তাদেরকে নির্দেশ দিব। আর তারা তদনুযায়ী সৃষ্টির কাঠামোতে রদবদল করবে’ (নিসা ৪/১১৯)

এই রদবদল শব্দের অর্থ খুঁজতে গেলে বর্তমান যুগের জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অন্যতম। আর জন্মনিয়ন্ত্রণ আন্দোলনের নামে যারা সন্তান হত্যা বা অনাগত ভবিষ্যত বংশধরদের হত্যা করে চলেছে, তারা সন্তানের জন্মকেই দারিদ্রের কারণ বলে চিহ্নিত করেছে। আর সেজন্যেই ক্রমশঃ জন্মনিয়ন্ত্রণ আন্দোলন নির্লজ্জভাবে চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে করে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার জ্যামিতিক হারে হরাস পেয়েছে। ভবিষ্যৎ বংশধর উৎপাদন ব্যাহত হ’লে মানব জাতি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। যার ফলশ্রুতিতে মুনাফা অর্জনের চেয়ে ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশী সক্রিয় হবে।

জাহেলী যুগে সন্তানের আধিক্য থেকে বাঁচার জন্য লোকেরা সন্তান প্রসবের সঙ্গে সঙ্গে তাকে হত্যা করত। গর্ভ নিরোধের প্রাচীন ও আধুনিক যত ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হয়েছে, সবগুলোই মানব বংশ ধ্বংসের পক্ষে কঠিন বিপদ বিশেষ। [24]

জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে ইউরোপ তাদের জন্য ভয়াবহ বিপদ বিবেচনা করেছে। [25]  জন্মনিয়ন্ত্রণ জন্মহার হরাসের একমাত্র কারণ না হ’লেও অন্যতম প্রধান কারণ একথা নিশ্চিত। ইংল্যান্ডের রেজিষ্ট্রার জেনারেল নিজেই একথা স্বীকার করেছেন যে, জন্মহার হরাস পাওয়ার শতকরা ৭০ ভাগ জন্ম নিয়ন্ত্রণের দরুণ ঘটে থাকে। ইনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকাতে বলা হয়েছে, পাশ্চাত্য দেশসমূহের জন্ম হার হরাস প্রাপ্তির কারণ গুলোর মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণের কৃত্রিম উপকরণাদির প্রভাব অত্যধিক। জন্মনিয়ন্ত্রণ ও ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবারকে সীমিত করার প্রবণতার কারণেই জন্মহার হরাস পাচ্ছে। [26]

ফ্রান্স সর্বপ্রথম ব্যাপকভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণের উপায় ও পদ্ধতিকে পরীক্ষা করেছে। একশত বছর পর সেখানে প্রতিটি যেলায় মৃত্যুহারের চেয়ে জন্মহার কমে যেতে থাকে। আর এই জনসংখ্যার হার কমে যাওয়ার ফলে দু’টি বিশ্বযুদ্ধে ফ্রান্স এমন শোচনীয় পরাজয় বরণ করে যে, বিশ্বে তার প্রভাব প্রতিপত্তির সমাধি রচিত হয়। [27]

ফিডম্যান বলেন, সমষ্টিগতভাবে আমেরিকান শতকরা ৭০টি পরিবার জন্ম নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। আর বৃটেন ও আমেরিকার অবস্থা পর্যবেক্ষণে এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই যে, পরিবারগুলোর ক্ষুদ্র আকার প্রাপ্তির মূলে রয়েছে জন্মনিরোধের প্রচেষ্টা। [28]  যদি ম্যালথাস আজ জীবিত থাকতেন, তাহ’লে এটা নিশ্চয়ই অনুভব করতেন যে, পাশ্চাত্যের লোকেরা জন্ম নিরোধ করার ব্যাপারে প্রয়োজনের চেয়েও অনেক বেশী দূরদর্শীতার পরিচয় দিয়েছে। পাশ্চাত্যের শিল্প ও নগর সভ্যতার কারণে অন্যান্য জাতিও বিপদের সম্মুখীন।

সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় :

জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে পারিবারিক জীবনে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কের মধ্যে যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে তাতে ক্রমশঃ পারস্পরিক সদ্ভাব ও ভালবাসা হরাস এবং অবশেষে ঘৃণা ও অসন্তোষ সৃষ্টি করে। তাছাড়া নারীদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে যে বৈকল্য দেখা দেয় এবং তার মেজায দিন দিন রুক্ষ হয়ে উঠে, ফলে দাম্পত্য জীবনের সকল সুখ-শান্তি বিদায় নেয়। সন্তানই স্বামী-স্ত্রীকে চিরদিন একত্রে সংসার গঠনের  ভূমিকা রাখে। এজন্য বলা যায়, সন্তানই পরিবার গঠনের সেঁতুবন্ধন।

ইউরোপ ও আমেরিকাতে দাম্পত্য জীবন অত্যন্ত দুর্বল হয়ে যাচ্ছে এবং জন্মনিরোধ আন্দোলন প্রসারের সঙ্গে তালাকের সংখ্যাও দিন দিন দ্রুত গতিতে বেড়ে চলেছে, সেখানে এখন দাম্পত্য জীবন ও পারিবারিক জীবন চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন। [29]

সমস্ত ইউরোপের সামাজিক দৃশ্যপট বদলে যায় শিল্প বিপ্লবের অভিঘাতে। আমূল পরিবর্তন আসে গ্রামীন জীবনেও, ভেঙ্গে যায় পারিবারিক জীবনের ভিত। নারীরা কল-কারখানায় নির্বিঘ্নে কাজ করতে শুরু করে। এছাড়া প্রথম বিশ্বযুদ্ধে লাখ লাখ ইউরোপিয়ান ও আমেরিকান তরুণ নিহত হ’ল। ফলে বিধবা হ’ল অগণিত নারী। যুদ্ধ বিড়ম্বিতা নারীরা বাধ্য হয়ে পুরুষের শূন্যস্থান পূরণ করতে গিয়ে কারখানা মালিকের নিকটে শ্রম বিক্রয়ের পাশাপাশি কমনীয় দেহটাও মনোরঞ্জনের জন্য দিতে হ’ল। যৌবনের তাড়নায় ইন্দ্রিয় ক্ষুধা চরিতার্থ করার জন্য তাকে বেছে নিতে হ’ল অবাধ বিচরণের পথ। আর নারীর মনের গভীরে পেটের ক্ষুধার সঙ্গে যুক্ত হ’ল অতৃপ্ত যৌনতা এবং দামী পোশাক ও প্রসাধনীর প্রতি প্রচন্ড মোহ। [30]

জন্মনিয়ন্ত্রণের ফলে চরিত্রের ক্ষতি সাধিত হয়। এ ব্যবস্থা নারী-পুরুষের অবাধ ব্যভিচারের সনদ দিয়ে থাকে। কেননা এতে জারজ সন্তান গর্ভে ধারণ ও দুর্নাম রটনার ভয় থাকে না। এজন্য অবৈধ যৌন সম্পর্ক স্থাপনে অতি  উৎসাহী হয়ে ওঠে। Dr. Westr Marck তার বিখ্যাত গ্রন্থ Future of Marriage in Western Civilaization-এ বলেন, গর্ভনিরোধ বিদ্যা বিয়ের হার বাড়াতে পারে। কিন্তু এর ফলে বিয়ে বন্ধন ছাড়াই যৌন মিলনের পথও অত্যন্ত প্রশস্ত হয়ে যায়। [31]

জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে শিশুরাও তাদের মেধা বিকাশে বাধাগ্রস্থ হয়। যদি অন্য ছোট-বড় ভাই বোন খেলার সাথী হিসাবে থাকে, তবে তাদের সাথে একত্রে থাকা ও মেলামেশা, সাহায্য-সহযোগিতা ইত্যাদি শিক্ষণীয় গুণাবলী তার মাঝেও প্রস্ফুটিত হয়। মনস্তত্ব বিশেষজ্ঞদের মতে, একাকিত্বের ফলে শিশুদের মন-মগজের সুষ্ঠু বিকাশে বাধা সৃষ্টি হয়। এমনকি দু’টি শিশুর বয়সের পার্থক্য বেশী হ’লে নিকটস্থ ছোট শিশু না থাকার কারণে বড় শিশুটির মস্তিষ্কে (Neurosisi) অনেক ক্ষেত্রে রোগও সৃষ্টি হয়। [32]

অর্থনৈতিক ক্ষতি :

জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে নৈতিক ও সামাজিক ক্ষতির পাশাপাশি এ সমস্ত উপকরণ ব্যবহারের জন্য জাতীয় রাজস্বে বিরাট ক্ষতি সাধিত হয়। এটাকে এক ধরনের অপচয় বললেও ভুল হবে না। মহান আল্লাহ বলেন,

তোমরা) অপব্যয় কর না, নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই’ (ইসরা ১৭/২৭)

‘খাও ও পান কর, অপব্যয় কর না। নিশ্চয়ই তিনি (আল্লাহ) অপব্যয়কারীকে পসন্দ করে না’ (আ‘রাফ ৭/৩১)

বেকারত্ব বৃদ্ধির কারণ জনসংখ্যা হরাস জনিত যুক্তি দিন দিন অধিকতর জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর কারণ হ’ল- জন্মহার ধারাবাহিকভাবে (Topering) কমে যাওয়ার ফলে একদিকে পুঁজি বিনিয়োগের প্রয়োজন হরাস পায়। পক্ষান্তরে বাড়তি জনসংখ্যার কারণে পুঁজি বিনিয়োগ ব্যবস্থা উন্নত হয়। [33]  কেনসি হাসান বলেন, জনসংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়তে শুরু করলে সমাজের অর্থনৈতিক তৎপরতাও অনেক বেড়ে যায়। সে সময় সম্প্রসারণকারী শক্তিগুলি (Expansive) সংকোচনকারী শক্তিগুলির (Contractive) তুলনায় অধিকতর শক্তিশালী হয়। তখন অর্থনৈতিক তৎপরতা বিশেষভাবে বেড়ে যায়। অর্থাৎ জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে অর্থনৈতিক তৎপরতা বিশেষভাবে বৃদ্ধি পায়। আর জনসংখ্যা কমে যাওয়ার ফলে অর্থনৈতিক তৎপরতা হরাস পায়।

বাংলাদেশ অতি ছোট দেশ। এদেশের সামান্য আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যা অত্যন্ত বেশী। কিন্তু প্রতিবছর এদেশ শ্রমশক্তি বিদেশে রফতানী করে কোটি কোটি বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করছে। এই বিশাল জনসংখ্যা যদি শ্রমশক্তিতে রূপান্তরিত করা যায়, তাহ’লে এ জনসংখ্যা ক্ষতির কারণ না হয়ে আশীর্বাদের কারণ হবে। যে বৈদেশিক মুদ্রা দেশের রাজস্ব খাতে বিরাট ভূমিকা রাখছে, নিশ্চয়ই তা বেকারতব দূর করতেও বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

অন্যথা ‘পরিবার পরিকল্পনার’ নামে জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ফলে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। একদিকে জনশক্তির অপমৃত্যু, অন্যদিকে অর্থনৈতিক অবক্ষয়। এই জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয় কনডম, ইনজেকশন, বড়ি ও খাবার পিল ইত্যাদি। সরকারের পক্ষ থেকে যে খাবার পিল বিতরণ করা হয়, তা অত্যন্ত নিম্নমানের। কিন্তু বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানী যে পিল বের করেছে তা উচ্চ মূল্যে (৫০-৮০ টাকা) ক্রয় করে জনগণ ব্যবহার করছে। এতে পুঁজিবাদীরা জনগণের পকেট ফাঁকা করে চলেছে জন্মনিয়ন্ত্রণের নামে।

গ্রামাঞ্চলে একটি শিশুর জন্ম দানের জন্য এত টাকা ব্যয় করতে হয় না, যত টাকা ব্যয় করতে হয় জন্মনিরোধ উপকরণাদি ক্রয়ের জন্য। [34]

জন্মনিয়ন্ত্রণের ফলে শ্রমজীবী লোক দিন দিন কমে যাচ্ছে। যার ফলে পুঁজিবাদীরা উচ্চমূল্যে বিদেশ থেকে শ্রমিক আমদানী করে মিল-কারখানায় উৎপাদন করছে। এতে দ্রব্যমূল্য দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে জনসংখ্যা হরাস পাওয়ার ফলে পণ্যের ব্যবহারও দিন দিন কমে যাচ্ছে। ফলে উৎপাদনও কমে আসছে। অতএব জন্মনিয়ন্ত্রণ আমাদের কোন সুফল বয়ে আনেনি বরং অর্থনৈতিক ও নৈতিকতার মহা ক্ষতির কারণ হিসাবে পরিগণিত হয়েছে।

ইসলামের দৃষ্টিতে এর বিধান :

মহান আল্লাহ পৃথিবীতে প্রতিনিধি সৃষ্টি করার ইচ্ছা পোষণ করে আদি পিতা আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করেন। কিন্তু মাতা হাওয়া (আঃ)-কে সৃষ্টির কোন প্রয়োজন ছিল কি? যদি একটু চিন্তা করি, তবে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, মহান আল্লাহ আদম (আঃ)-এর একাকীত্ব দূর করতে জীবন সঙ্গিনী হিসাবে হাওয়া (আঃ)-কে শুধু সৃষ্টি করেননি। বরং আরও একটি বিশেষ কারণে তাঁকে সৃষ্টি করেছেন। তাহ’ল মহান আল্লাহ তাদের ঔরশজাত সন্তান দ্বারা সমগ্র পৃথিবী কানায় কানায় পরিপূর্ণ করে দিতে চেয়েছেন। আর সমস্ত মানব তাঁর (আল্লাহর) একত্ব ঘোষণা পূর্বক দাসত্ব করবে। এ হ’ল আদম ও হাওয়া (আঃ)-এর সৃষ্টির একান্ত উদ্দেশ্য। আমরা সেই অনাগত সন্তানদের নির্বিঘ্নে হত্যা করে চলেছি। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন,

 َوَلاَ تَقْتُلُواْ أَوْلاَدَكُم مِّنْ إمْلاَقٍ نَّحْنُ نَرْزُقُكُمْ وَإِيَّاهُمْ  

‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা কর না দারিদ্রের কারণে, আমিই তোমাদের রিযিক দান করি এবং তাদেরও আমিই রিযিক দান করব’ (আন‘আম ৬/১৫১)

আলোচ্য আয়াতে খাবারের অভাবের আশংকায় অনাগত সন্তানকে হত্যা করতে মহান আল্লাহ স্পষ্ট নিষেধ করেছেন। আবার বললেন, ‘আমি তোমাদের রিযিক দান করি এবং তাদেরও আমিই দিব’। ‘আমিই দিব’ এই প্রতিশ্রুতির ব্যাখ্যা হ’ল অনাগত সন্তানদের রিযিকের মালিক আল্লাহ। তাঁর খাদ্য ভান্ডারে খাবারের হিসাব অকল্পনীয়। আবার তিনি বললেন,

‘নিশ্চয়ই তাদের হত্যা করা মারাত্মক ভুল’ (ইসরা ১৭/৩১)

তিনি যথার্থই বলেছেন, অনাগত সন্তান হত্যা করা বিরাট ভুল। ভূপৃষ্ঠে একচতুর্থাংশ স্থল, বাকী সব সাগর, মহাসাগর। কিন্তু বর্তমানে মহাসাগরে হাওয়াইন দ্বীপপুঞ্জের মত ছোট-বড় দ্বীপ জেগে উঠেছে এবং নদী ভরাট হয়ে চর জেগে উঠেছে। এভাবে আমাদের আবাদী জমি ও বাসস্থান বাড়ছে এতে কোন সন্দেহ নেই।

মহান আল্লাহ বলেন,

‘ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি দুনিয়ার জীবনের সৌন্দর্য ও সুখ-শান্তির উপাদান ও বাহন’ (কাহাফ ১৮/৪৬)

আল্লামা আলুসী এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, ধন-সম্পদ হচ্ছে প্রাণ বাঁচানোর উপায়। আর সন্তান হচ্ছে বংশ তথা মানব প্রজাতি রক্ষার মাধ্যম। [35]

জনৈক রুশ লেখক তার Biological Tragedy of Woman গ্রন্থে বলেছেন, নারী জন্মের উদ্দেশ্যই হচ্ছে মানববংশ রক্ষা করা। [36]  যৌন প্রেরণার অন্তর্নিহিত লক্ষ্য মানববংশ বৃদ্ধির সঙ্গে দেহের প্রতিটি অঙ্গ স্ব স্ব দায়িত্ব পালনে তৎপর। নারী দেহের বৃহত্তম অংশ গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মানোর উদ্দেশ্যেই সৃষ্ট। [37]  মা হাওয়াসহ পৃথিবীর সমস্ত নারী সৃষ্টির উদ্দেশ্য মানব বংশ রক্ষা ও সন্তান উৎপাদনের মাধ্যমে পারিবারিক কাঠামোতে সন্তানের সুষ্ঠু লালন-পালন।

আযল-এর বিধান :

প্রাচীনকালে আরব সমাজে ‘আযল’ করার  যে প্রচলন ছিল। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে কোন আলোচনা খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে হাদীছে স্পষ্ট আলোচনা আছে। নিম্নে এ বিষয়ে আলোচনা করা হ’ল-

১. জাবির (রাঃ) বলেন,

كُنَّا نَعْزِلُ وَالْقُرْآنُ يَنْزِلُ

 ‘আমরা রাসূলের জীবদ্দশায় ‘আযল’ করতাম অথচ তখনও কুরআন নাযিল হচ্ছিল। [38]

  অর্থাৎ পবিত্র কুরআনে ‘আযল’ সম্পর্কে কোন নিষেধবাণী আসেনি। আর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)ও তা নিষেধ করেননি।

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَزْوَةِ بَنِي الْمُصْطَلِقِ فَأَصَبْنَا سَبْيًا مِنْ سَبْيِ الْعَرَب فاشتهينا النِّسَاء واشتدت عَلَيْنَا الْعُزْبَةُ وَأَحْبَبْنَا الْعَزْلَ فَأَرَدْنَا أَنْ نَعْزِلَ وَقُلْنَا: نَعْزِلُ وَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ أَظْهُرِنَا قَبْلَ أَنْ نَسْأَلَهُ؟ فَسَأَلْنَاهُ عَن ذَلِك فَقَالَ: مَا عَلَيْكُمْ أَلاَّ تَفْعَلُوْا مَا مِنْ نَسَمَةٍ كَائِنَةٍ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ إِلاَّ وَهِيَ كَائِنَةٌ-

২. আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন,

আমরা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সঙ্গে বনী মুস্তালিকের যুদ্ধে বের হয়ে গেলাম। সেখানে কিছু সংখ্যক আরবকে (দাসী) বন্দী করে নিলাম। তখন আমাদের মধ্যে রমণীদের প্রতি আকর্ষণ জাগে। যৌন ক্ষুধাও তীব্র হয়ে উঠে এবং এ অবস্থায় ‘আযল করাকেই আমরা ভাল মনে করলাম। তখন এ সম্পর্কে নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকটে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি জবাবে বললেন, তোমরা যদি তা কর তাতে তোমাদের ক্ষতি কি? কেননা আল্লাহ তা‘আলা ক্বিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ সৃষ্টি করবেন, তা তিনি নির্দিষ্ট করে রেখেছেন এবং তা অবশ্যই সৃষ্টি করবেন। [39]

৩. রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,

তুমি কি সৃষ্টি কর? তুমি কি রিযিক দাও? তাকে তার আসল স্থানেই রাখ, সঠিকভাবে তাকে থাকতে দাও। কেননা এ ব্যাপারে আল্লাহর চূড়ান্ত ফায়ছালা রয়েছে। [40]

ইবনে সীরীন-এর মতে, لاعليكم ان لاتفعلوا এ বাক্যে ‘আযল’ সম্পর্কে স্পষ্ট নিষেধ না থাকলেও এ যে নিষেধের একেবারে কাছাকাছি এতে কোন সন্দেহ নেই। [41]

হাসান বছরী বলেন, আল্লাহর শপথ, রাসূলের একথায় ‘আযল’ সম্পর্কে স্পষ্ট ভৎর্সনা ও হুমকি রয়েছে। [42]

  ইমাম কুরতুবী বলেছেন, ছাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর উক্ত কথা থেকে নিষেধই বুঝেছিলেন। ফলে এর অর্থ দাঁড়ায় রাসূল (ছাঃ) যেন বলেছেন, لاتعزلوا وعليكم ان لاتفعلوا তোমরা ‘আযল’ কর না, তা না করাই তোমাদের কর্তব্য। [43]

  রাগিব ইসফাহানীর মতে, ‘আযল’ করে শুক্র বিনষ্ট করা এবং তাকে তার আসল স্থানে নিক্ষেপ না করা সম্পর্কে স্পষ্ট নিষেধ। [44]

 মুয়াত্তা গ্রন্থ প্রণেতা ইমাম মালেক (রহঃ) বলেন যে, ইবনে ওমর (রাঃ) ছিলেন তাদের অন্যতম যাঁরা ‘আযল’ পসন্দ করতেন না। [45]

عزل অর্থ হ’ল, পুরুষাঙ্গ স্ত্রী অঙ্গের ভেতর থেকে বের করে নেয়া যেন শুক্র স্ত্রী অঙ্গের ভেতরে স্খলিত হওয়ার পরিবর্তে বাইরে স্খলিত হয়।[46]

আইয়ামে জাহেলিয়াতে যেসব কারণে সন্তান হত্যা করা হ’ত, বর্তমান যামানায় জন্মনিয়ন্ত্রণও ঠিক একই কারণে গ্রহণ করা হচ্ছে। কিন্তু সোনালী যুগের ‘আযল’-এর উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। সে যুগে তিনটি কারণে মুসলমানদের মধ্যে ‘আযল’-এর প্রচলন ছিল।

(এক) দাসীর গর্ভে নিজের কোন সন্তান জন্মানো তাঁরা পসন্দ করতেন না, সামাজিক হীনতার কারণে।

(দুই) দাসীর গর্ভে কারো সন্তান জন্মালে উক্ত সন্তানের মাকে হস্তান্তর করা যাবে না, অথচ স্থায়ীভাবে দাসীকে নিজের কাছে রেখে দিতেও তারা প্রস্ত্তত ছিল না।

(তিন) দুগ্ধপায়ী শিশুর মা পুনরায় গর্ভ ধারণ করার ফলে প্রথম শিশুর স্বাস্থ্যহানীর আশংকা অথবা পুনরায় সন্তান গর্ভে ধারণ করলে মায়ের স্বাস্থ্যের বিপর্যয়ের আশংকা, কিংবা সন্তান প্রসবের কষ্ট সহ্য করার অনুপযুক্ত তা চিকিৎসকের পরামর্শে যথাযোগ্য বিবেচনায় এক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

উপরোক্ত তিনটি কারণের মধ্যে প্রথম দু’টি কারণ আধুনিক যুগে বিলুপ্ত হয়েছে। শেষের তিন নম্বর কারণ ব্যতিরেকে সম্পদ সাশ্রয়ের জন্য ও নিজের আমোদ-প্রমোদের জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণ করা বৈধ নয়।

পরিশেষে বলব, জন্মনিয়ন্ত্রণ জনসংখ্যা বিস্ফোরণ সমস্যার প্রকৃত সমাধান নয়। বরং জনসংখ্যাকে দক্ষ শ্রমশক্তিতে রূপান্তর ও উৎপাদন বাড়ানো, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উপকরণাদির উন্নয়ণের মধ্যেই রয়েছে এ সমস্যার প্রকৃত সমাধান। জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণের অর্থ হচ্ছে না বুঝে পরাজয় বরণ করা। একটি কাপড় কারো শরীরে ঠিকমত ফিট না হ’লে কাপড়টি বড় করার পরিবর্তে মানুষটির শরীর কেটে ছেঁটে ছোট করার মতই জন্মনিরোধ ব্যবস্থা অন্যায় ও অস্বাভাবিক। কেননা বিজ্ঞানের যুগে আমরা মানুষের যোগ্যতা অনুযায়ী তার শ্রমশক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারি। আল্লাহ আমাদের সহায় হৌন- আমীন!!

 


[1] . ইসলামের দৃষ্টিতে জন্ম নিয়ন্ত্রণ (ঢাকা: আধুনিক প্রকাশনী, ১৯৯২), পৃঃ ১৩-১৫।
[2] . ডা. এস.এন. পান্ডে, গাইনিকলজি শিক্ষা, (কলিকাতা : আদিত্য প্রকাশনী, ১৯৭৭), পৃঃ ১২৪।
[3] . ঐ, পৃঃ ১২৫।
[4] . ঐ, পৃঃ ১৪।
[5] . Sehwarz Oswald, The Psycology of Sex (London : 1951), P. 50.
[6] . Cheser Is Chastity Outmoded, (Londen : 1960), P. 75.
[7] . নারী ৯৭ পৃঃ; হাফেয মাসঊদ আহমদ; আত-তাহরীক (বিশ্বে বিভিন্ন ধর্ম ও সমাজে নারী : একটি সমীক্ষা-) (৬ষ্ঠ বর্ষ, ৪র্থ সংখ্যা জানুয়ারী ২০০৩), পৃঃ ৪
[8] . George Lindsey, Revolt of Modern Youth P-82-83.
[9] . দৈনিক ইনকিলাব, ৬ই জুন ১৯৯৮ ইং।
[10] . মাসিক পৃথিবী (প্রশ্চাত্যে যৌন বিকৃতি, জুলাই ২০০১ইং, পৃঃ ৫২-৫৩।
[11] . জহুরী খবরের খবর, ১ খন্ড, ১১৬ পৃঃ।
[12] . মরিয়ম জামিলা, ইসলাম ও আধুনিকতা, ৯৯ পৃঃ।
[13] . খবরের খবর, ১ম খন্ড, ১১৬ পৃঃ।
[14] . সায়্যেদ কুতুব, ভ্রান্তির বেড়াজালে ইসলাম, ৯৮ পৃঃ।
[15] . দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন, ১৬ এপ্রিল ২০১১, পৃঃ ৫।
[16] . নারী, পৃঃ ৮৫; আত-তাহরীক, জানুয়ারী ২০০৩, পৃঃ ৪।
[17] . ইসলাম ও আধুনিকত, পৃঃ ২৩।
[18] . ইসলামের দৃষ্টিতে জন্ম নিয়ন্ত্রণ, পৃঃ ৬২।
[19] . Her self, Dr. Lowry, P-204.
[20] . কারেন্ট নিউজ (ডিসেম্বর সংখ্যা ২০০১), পৃঃ ১৯।
[21] . The New Straits Jimes, (Kualalampur, Malaysia, 23 june 1988), P-9.
[22] . প্রথম আলো, ২৭ অক্টোবর ২০১০, পৃঃ ৪।
[23] . গাইনিকলজি শিক্ষা, পৃঃ ১২৩।
[24] . মাওলানা আব্দুর রহিম, পরিবার ও পারিবারিক জীবন, পৃঃ ৩৩২।
[25] . ইসলামের দৃষ্টিতে জন্মনিয়ন্ত্রণ, পৃঃ ১২৮।
[26] . Report of the Royal Commission on population (1949), P-34.
[27] . ইসলামের দৃষ্টিতে জন্মনিয়ন্ত্রণ, পৃঃ ১১২।
[28] . Family Planning Sterility and Population Growth (Newyork : 1959), P-5.
[29] . ইসলামের দৃষ্টিতে জন্মনিয়ন্ত্রণ, পৃঃ ৬৮-৬৯।
[30] . ভ্রান্তির বেড়াজালে ইসলাম, পৃঃ ৯৮-১০১।
[31] . ইসলামের দৃষ্টিতে জন্মনিয়ন্ত্রণ, পৃঃ ৬৯।
[32] . David M Levy, Maternal Over Protiction- (Newyork : 1943), P-35.
[33] . ইসলামের দৃষ্টিতে জন্মনিয়ন্ত্রণ, পৃঃ ৭৩।
[34] . British Medical Journal, (London : 8 July, 1961), P-120.
[35] . পরিবার ও পারিবারিক জীবন, পৃঃ ৩৪০।
[36] . ইসলামের দৃষ্টিতে জন্ম নিয়ন্ত্রণ, পৃঃ ৫৮।
[37] . The Psychology of Sex, P-17.
[38] . মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩১৮৪।
[39] . মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩১৮৬।
[40] . সিলসিলা ছহীহাহ হা/৫৭৫; ছহীহুল জামে‘ হা/৪০৩৮।
[41] . পরিবার ও পারিবারিক জীবন, পৃঃ ৩৩৩।
[42] . ঐ।
[43] . ঐ।
[44] . ঐ, পৃঃ ৩৩৭।
[45] . ইসলামের দৃষ্টিতে জন্মনিয়ন্ত্রণ, পৃঃ ১০১-১০২।
[46] . পরিবার ও পারিবারিক জীবন, পৃঃ ৩৩২।

'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

পাঠকের মন্তব্য

Loading Facebook Comments ...

31 মন্তব্য

  1. I believe, this is a less understood idea by most of the Muslims.

    1. “Onagoto Shontan Hotta” – How to explain this statement. Jar ekhono jonmoi hoyni takey kivabe hotta kora jay??? Jodi onagoto shontaner kotha bola hoto tahole ONAGOTO shobdoti poriskar kore lekha thakar kotha. Jor kore meaning change kore etake ek dike niye jabar karon hocche bishoyta puropuri na bujha.

    2. Western people ra gorver sontan (sottikarer vruno) hotta korar cheye agey theke pill etc use korlei to valo taina? Manusher kaj to tar INTENTION er upor nirvor kore. Karo INTENTION jodi bad hoy tahole jei method e neya hok na keno seta nindoniyo.

    3. Western/Arabian sob country gulote jodi Bangladesher moto eto manush thakto tahole oder amader desher manush nite hotona. Tokhon amader desher pray 80 lacs poribarer ki hoto? Aar jesob manush bou bacca fele Arab deshe omanobetor jibon japon kore tar kotha to keu vabena. Islam e to wife ke evabe dure fele arek deshe thakata somorthito na. Islam e biye concept asche husband wife jeno sexual sin theke beche thakte pare tar jonne. Jara year er por year bideshe thaken tara onek onoitik sexual relation e joriye poren. Ete tader akhirat o nosto hoy. Keu keu hoyto bolbe jader baire pathano hoy taderke highly educated kora. Jate tara bideshe valo kaj korte pare and wife niye jete pare. Tar mane ekhane Quality’r dike nojor deya hocche. Asholei Quality is much better than Quantity. Tai amra Quantity na bariye Quality kivabe barano jay seta vebe dekhi. Common sense ki bole? Dhora jak Duijon mistri 1 month e ekti ghor shundor kore banate pare. Ekhon taderke jodi 1 month e 3 ti ghor banate deya hoy tahole tara ghor hoyto thik e banabe kintu Quality kharap hobe. 4 ti banale aro kharap. Evabe joto beshi ghor toto beshi quality kharap hobe. Shontan manush kora onek kothin baper. Amra jodi sadharon dristite on average sobar kotha cinta kore dekhi tahole bujhte parbo je sobar shontan ke shundor sikkha diye manush korar joggota same na. Keu hoyto 10 shontan kei thik moto manush korte parben. Kintu sobai seta parbenna. Tai keu jodi valo vabe 2 shontan manush korte chay seta dosher kichu na karon se jodi tar simaboddhota bujhte pare tahole sudhu sudhu shontan bariye sobar quality kharap korar jhuki nebar dorkar ki. Ekhaneo ashole INTENSION er baper ta cole ashe. Allah amader intension dekhben, amra keno kom shontan nite chai. Amader INTENSION jodi valo hoy tahole Allah niscoi seta accept korben.

    4. “ইবনে সীরীন-এর মতে, لاعليكم ان لاتفعلوا এ বাক্যে ‘আযল’ সম্পর্কে স্পষ্ট
    নিষেধ না থাকলেও এ যে নিষেধের একেবারে কাছাকাছি এতে কোন সন্দেহ নেই।” – Etai amader somossa, jesob jinish sposto kore haram bole deya ache, segulor proti amader kono matha betha nai. But jei jinish clearly nisedh nai othoco sei jinish e desh and prithibir barota bajacche take niye amra khubi cintito.

    5. At this moment this world got the max number of human being compared to the history of human. Ar ei sob manusher moddhe beshir vaag manush e poor. Tara thik moto khabar payna. A samll percentage of people are rich and have good food. Ar ei rich der khabar er babostha kortei prithibir, nodi, nala, khal, bil emonki sagoreo fish er sonkha dine dine kome jacche. Forest Ujar hosse, Green House Gas biporjoy sristi korche. Birth control kora na hole jodi duniyar population double hoto tahole obostha ki darato ta kolpona kora kothin na.

    6. Ager juge, battle, war e every year koti-koti manush mara jeto. Medical Science advanced na thakateo onek pregnant woman and child mara jeto. Ekhon to ei dhoroner death onek kome aschey. Prithibir jonosonkha berei coleche. Er effect poribesher upor koto khotikor seta vebe dekha hoyna ei dhoroner aloconay.

    7. Aar onek manush mane je onek development seta niscoi al least Muslim der bissash kora uchit na. Prithibite koti koti Muslim tarpore tader ei doordosha. Ashole Islam e Quantity er ceye Quality ke pradhanno deya hoy. Tai Bodor er mathey olpo koyekjon Quality somponno muslim Mokkar Kafir der hariye diyechilo.

    Prithibir mot jonosonkhar matro 1.2% ihudi. Othoco tarai puro prithibi control korche.

    8. So amader uchit, quantity na bariye kivabe Quality barano jay sedike dristi deya. Ekjon manusher 10 ta gordov prokitir sontan na theke 1 ti valo Islami Gyan Shomponno Shontan thaka onek valo.

    9. Rizk/Khabar nischoi Allah diben. Kono karone shontan jodi gorve cole ashe tahole takey daridrotar voye hotta na korte nishedh kora hoyeche. Karon hotta kora moha-pap. Aar totkalin arab ra tader shontan ke jibito kobor dito. Tai Allah tayala bolechen hotta na korte, emonki jodi daridrer voy thake tahole na orthat khabarer voye hotta na korte. This is very clear. Etar sathey onagoto shontan ke jorano khubi dukkhojonok baper.

    10. Allah amaderke cintar shokti o diyechen. Diyechen

  2. amar proshno delete kora holo kn? Dashider biye kora hotona? ata chilo amar proshno. Islam aer kno bapare thic dharona na thakle proshno kora jay.jotutuku ami jani.

  3. well…id and email knotai fake noy….kno bad intention o amar nei…ami kono website ke 100% trust korte parina…so its better to be on the safe side…Thank you for answering.

  4. ১। অনাগত সন্তান মানে সেই সন্তান যার ভ্রুন
    মায়ের গর্ভে থাকে এবং যে ভ্রুন আস্তে আস্তে আকৃতি লাভ করে পূর্ণাঙ্গ মানব শিশুতে
    পরিনত হয়। আর সেই ভ্রুন হত্যা করা মানে হল সেই অনাগত সন্তানকেই হত্তা করা যার কিনা পূর্ণতা প্রাপ্তির পর এই
    পৃথিবীর আলো দেখার কথা ছিল অথচ তাকে হত্যা করে ফেলা হয়েছে। এখন এই সেন্স থেকে ভাবুন, কেউ যখন জন্ম নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহন করে তা এই উদ্দেশ্য থেকে করে
    যাতে সন্তান লাভ না করে, যা তার
    কাছে আপাতত
    “অনাকাঙ্ক্ষিত!!।“ তার মানে দাঁড়াচ্ছে সন্তান আসার কথা, কিন্তু কেউ চাইছে না
    সন্তান হোক। এটা মানে অনাগত সন্তান হত্যা করা নয় ঠিকই তবে সেই সন্তান আসার
    স্বাভাবিক নিয়মকে বাধা দেওয়া। এটা হচ্ছে দয়াময় আল্লাহ্‌র সাথে সেই স্পষ্ট নাফরমানী
    যেখানে আল্লাহ্‌র ইচ্ছার স্পষ্ট বিরোধিতা করা হচ্ছে। বোধকরি এটা অনাগত সন্তান
    হত্যার চেয়ে আরও বড় পাপ।  

    ২। ওয়েস্টার্ন জনগণ সহ আমাদের জনগণ এবং
    পৃথিবীর যে জনগণই জন্মনিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা গ্রহন করে তাদের সবার উদ্দেশ্য ভিন্ন
    ভিন্ন। একজন বিবাহিতের এক্ষেত্রে একরকম উদ্দেশ্য থাকবে এবং অবিবাহিতের থাকবে
    সম্পূর্ণ ভিন্ন উদ্দেশ্য। প্রকৃতপক্ষে জন্মনিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা হল নিরাপদে ব্যভীচার
    করার  সেই লাইসেন্স যাতে কেউ ব্যাভীচারের
    পর এতটাই নিরাপদ হয়ে যায় যে সে নিজে স্বীকার না করলে তা প্রমানের আর কোন সুযোগই
    নাই। এমনকি আগে যৌন রোগের যে ভয় ছিল এখন
    তাদের সেই ভয়ও জন্ম নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থার কল্যাণে পুরোপুরি দূর হয়ে গেছে। মিডিয়া
    যেভাবে জন্ম নিয়ন্ত্রনের প্রচারণা চালায় তাতে মনে হয় তারা অবিবাহিতদের এই আশ্বাসই
    দিচ্ছে যে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক নিশ্চিন্তে চালিয়ে যান। জন্ম নিয়ন্ত্রণ
    ব্যবস্থাতো আছেই! আর বিবাহিতেরা যারা এই ব্যবস্থা গ্রহন করে তাদের উদ্দেশ্য থাকে
    একাধিক। কেউ বেশি সন্তানের ব্যয় বহন করার ক্ষমতা রাখেনা, কারো ক্ষমতা থাকলেও এক বা
    দুই সন্তান মানুষ করা সহজ ও কম কষ্টের এই চিন্তা করে। মনে হয় না কেউ দেশের
    জনসংখ্যা বেড়ে যাবে এই কারনে সন্তান লাভ থেকে বিরত থাকে। তাদের নিজেদের স্বার্থেই
    তারা এটা করে থাকে। এখন দেখুন উপরে যে দুটি কারনের কথা বললাম তার কোনটি
    গ্রহণযোগ্য। যারা বেশী সন্তানের ব্যয় বহনের ভয় পান তাদের উদ্দেশ্যেই আল্লাহ্‌র
    বানী, “রিজিকদাতা আল্লাহ্‌।” যার রিজিকে যতটুকু লেখা আছে কারো সাধ্য নাই তার থেকে
    এতোটুকু কম বেশী করা। তাহলে কি এটাই প্রতীয়মান হচ্ছে না যে আল্লাহ্‌ স্বয়ং তাঁর
    বাণী দ্বারা তাদের আশ্বাস দেওয়ার পরও তাতে তাদের আস্থা নাই নাকি তারা ভাবে যে
    তাদের রিজিকের ব্যবস্থা তারাই করছে বা তারা নিজেরাই তাদের রিজিকের মালিক হয়ে গেছে?
    সেই ব্যক্তিই সত্যিকারের ঈমাণদার যে কিনা সর্বাবস্থায়, তাঁর জীবনের যে কোন পরিণতি
    সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নেয় আর এই বলে শোকর করে যে আল্লাহ্‌ আমাকে যা দিয়েছে তাই
    আমার জন্য যথেষ্ট এবং যা আমার প্রাপ্য আমি তাই পাই না শুধু বরং দয়াময় আল্লাহ্‌ আমি
    যা পাওয়ার যোগ্যতা রাখিনা তাও আমাকে দিয়ে যাচ্ছেন। শুধু মুখে ঈমান আনার নামই ঈমান
    না, জীবনের সকল ক্ষেত্রে তাঁর প্রয়োগ ও প্রতিফলন ঘটানোই একজন প্রকৃত ঈমানদারের
    পরিচয়। আর যারা সচ্ছলতার দোহাই দিয়ে বা একাধিক সন্তান ঠিকভাবে মানুষ করা যাবে না
    এসব চিন্তা করেন তাদের মধ্যে অনেকেই দেখবেন, না বাবা পুরোপুরি বাবার দায়িত্ব পালন
    করছে, না মা পালন করছে মায়ের দায়িত্ব। মায়েরা আজ ক্যারিয়ারের দোহায় দিয়ে নিজেদের
    ঘরের বাইরে এতোটাই ব্যস্ত করে ফেলেছেন যে সন্তানের খেয়াল করা দূরে থাক, নিজেদের
    দিকে খেয়াল করা সময়ও তারা পাচ্ছেনা। অথচ আগে মায়েরা ১০/১২ জন সন্তানকেও লালন পালন
    করে মানুষের মত মানুষ করতে পেরেছে। শুধু দুনিয়াবী শিক্ষাই না তারা অনেকেই ধর্মীয়
    শিক্ষায় তাদের সন্তানকে বড় করেছে।

    ৩।
    ওয়েস্টার্ন ও মিডল ইস্ট এ আমাদের দেশের লোকজন পাঠানো হচ্ছে দেশের জনসংখ্যা কমানোর
    জন্য এ কথা কোন গবেষণার ফলাফল? যদি তাই হতো তাহলে ভারত ও চীনের সরকার তাদের
    জনসংখ্যা কমানোর জন্য তাদের দেশের মানুষকে অন্যান্য দেশে পাঠিয়ে দিতো। কিন্তু
    বাস্তবে তা তারা করেনি। করেনি এই জন্য যে তারা তাদের দেশের জনসংখ্যাকে দেশেই সঠিক
    কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে পারছে, যেটা পারেনি আমাদের দেশের সরকার। আর তাই
    প্রতি বছর  বিপুল সংখ্যক জনগণকে নাম মাত্র
    কারিগরী প্রশিক্ষণ দিয়ে বাইরে পাঠানো হচ্ছে। আপনি জেনে অবাক হবেন, মিডিল ইষ্টে খুব
    কম সংখ্যক বাংলাদেশী সম্মানজনক পেশায় নিয়োজিত। বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশীকে ওখানে
    পাঠানো হয় খুবই নিম্নশ্রেণীর পেশায় যার কারন হল ওই দেশের সরকার চায় না তাদের নিজের
    দেশের জনগন এসব অপমান জনক পেশায় কাজ করুক। তাই তাদের দৃষ্টি থাকে বাংলাদেশের মত
    দরিদ্র দেশগুলোর দিকে। আমাদের দেশের সরকার যদি পারত এই বিপুল সংখ্যক জনগণকে দেশেই
    সঠিক কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে তবে প্রতিবছর এত মানব সম্পদ বৈধ বা
    অবৈধভাবে অন্য দেশে পাচার করার কোন প্রয়োজনই হতো না। আর তখন কারো তাঁর বৌ বাচ্চা
    রেখে ভীনদেশে পাড়ি দিতে হতোনা। সমস্যার মূল না খুঁজে আগা নিয়ে যতই গবেষণা করা হোক
    না কেন সেই সমস্যার সমাধান কখনোই সম্ভব নয়।

    ষাট বা
    সত্তুরের দশকে যখন দেশের জনসংখ্যা মাত্র ৭-৮ কোটি ছিল তখন কি কেউ ভেবেছিলো এক সময়
    দেশের জনসংখ্যা ১৬-১৭ কোটি হয়ে যাবে? বস্তুত আল্লাহ্‌ই কোন জনপদের বাসস্থনের
    ব্যবস্থা করে দেন, তিনিই তাঁর বান্দাদের যার যার থাকার ঠিকানা, খাওয়া-পরা
    প্রত্যেকটি ব্যপারের প্রতিপালক, পরিচালক ও নির্ধারক।

    সেই
    সময় যখন জন্ম নিয়ন্ত্রনের ব্যবস্থা গ্রহন করা হতো না, তখনকার মায়েদের ১১-১২ জন
    সন্তান হতো, এমনকি আমার জানা মতে এক জনের ১৯ জন পর্যন্ত সন্তান হয়েছিল যাদের সবাই
    বেঁচেও ছিলো। এখনকার অনেক মা বাবাই ভেবে অবাক হয়ে যায় কিভাবে এতো সন্তান জন্ম দেয়া
    সম্ভব, কিভাবেই বা তাদের লালন-পালন, পরিচর্যা করে মানুষ করা সম্ভব? অথচ এই
    মা-বাবারাই পেরেছে এতোগুলো সন্তান লাভ করেও তাদের মানুষ করতে। এটা হল সেই দয়াময়
    আল্লাহ্‌র তাঁর সেই বান্দাদের জন্য অশেষ রহমত যারা কিনা সবসময় আল্লাহ্‌র উপর ভরসা
    করে থাকে। ঈমানদার বান্দাতো এই দুয়া আর সাহায্যই চাইবে আল্লাহ্‌র কাছে যে, হে
    আল্লাহ্‌! আমাকে তুমি ততগুলু সন্তানই দাও যতগুলু সন্তানের ভরণপোষণের সামর্থ ও
    তওফিক আমার আছে, আমি যেন তোমার দয়ায় তাদের তোমার প্রিয়-নেক বান্দা করে বড় করে
    তুলতে পারি, সেই তওফিক আমাকে দাও তুমি। তবেইতো আল্লাহ্‌ আপনাকে সেই যোগ্যতা
    দিবেন। 

     আর আজ কি দেখা যাচ্ছে? একটি বা দুটি সন্তানকেও
    তারা লালন পালন করতে হিমশিম খাচ্ছে। ভালভাবে মানুষ করা দূরে থাক যার একটি সন্তান
    আছে সেও হয়তো চলে যাচ্ছে বিপথে। সন্তানের শুধু দুনিয়াবী শিক্ষার প্রতিই মা-বাবার
    আগ্রহ। ধর্মীয় শিক্ষা হয়তো সামান্য থাকলেও তা তাদের সঠিক পথে রাখতে পারছেনা।
    মায়েরা যেভাবে সংসার বিমুখ হয়ে ক্যারিয়ারমুখী হয়ে পরেছে তাতে তাদের সন্তানদের
    সঠিকভাবে লালন-পালন করার সময়ই বা কোথায়। বস্তুতঃ একটি বা দুটি সন্তান থাকলেই শুধু
    সন্তান ভালভাবে মানুষ করা যাবে এ কথা পুরোপুরি ভ্রান্ত। আল্লাহ্‌র উপর ভরশা রেখে
    তাঁর শাস্তিকে ভয় পেয়ে যে মা বাবা সন্তান পালন করে তাঁর পক্ষে একটি কেন এগার জন
    সন্তান থাকলেও ভালভাবে মানুষ করা সম্ভব। আর যার আল্লাহভীতিই নাই, যে আল্লাহ্‌র উপর
    নির্ভর করতেই জানে না। যার এতোতটুকু ঈমানী শক্তিই নাই তাঁর পক্ষে একজন বা দু জন
    সন্তানকেও ঠিকভাবে মানুষ করা সম্ভব নয়। কারন সর্বময় ক্ষমতা সেই মহান আল্লাহ্‌র যার
    সাহায্য ছাড়া তার কোন বান্দাই কামিয়াব হতে পারবেনা না ইহকালে না পরকালে।  

    ৪।
    এতগুলো হাদিসের কথা বাদ দিয়ে শুধু ইবনে সীরীনের কথাকে ভিত্তি করে এমন মন্তব্য করা
    মোটেও একজন বুদ্ধিমান সমালোচকের পরিচয় দেয় না। বস্তুত এমন অনেক হাদিস আছে যেগুলো
    স্পষ্টভাবে নিষেধ করা না হলেও শুধু নবীজি পছন্দ করে না বলে সাহাবীরা তা পুরোপুরি
    বর্জন করে চলতো শুধু আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসুলের সর্বোচ্চ সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য।
    যেমন জাহিলিয়াতের যুগে মদ ও জুয়া খেলা হারাম ছিলনা বা এ ব্যাপারে স্পষ্ট কোন
    বিধিনিষেধ ছিলনা না। তারপরও অনেক সাহাবী ও আল্লাহ্‌র ঈমানদার বান্দা এসব থেকে
    নিজেদের বিরত রাখতো শুধু আল্লাহ্‌ ও রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের
    খাস সন্তুষ্টি পাবার আশায়। এই সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা প্রতিটি ঈমানদার
    মুসলমানের একান্ত কর্তব্য।

    ৫। যে
    বিশ্বাস করলো, জন্ম নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থাই সন্তানের আগমনকে রহিত করে দিয়েছে সে
    স্পষ্ট শিরকি করলো, এতে কোন সন্দেহ নেই। কারন একমাত্র আল্লাহ্‌ ছাড়া আর কারো
    ক্ষমতা নাই কারো জন্ম ও মৃত্যুর আগমনকে ঠেকিয়ে রাখা। এমন অনেক নজির আছে যারা বার্থ
    কন্ট্রোল করার পরও সন্তান লাভ করেছে। বার্থ কন্ট্রোলই যদি দুনিয়ার জনসংখ্যা কমনোর
    একমাত্র উপায় হতো তাহলে যখন পৃথিবীতে এটার প্রচলন ছিলনা তখনই জনসংখার বিস্ফোরণ
    ঘটার কথা। তা না হয়ে বিস্ফোরণ ঘটছে তখন যখন কিনা এমন কেউ বাদ নাই যে বার্থ
    কন্ট্রোল করে না!! এরচে হাস্যকর যুক্তি আর কি হতে পারে? 

    ৬।
    আগের যুগের কথা বলা হয়েছে। কোন যুগ? যখন নবী-রাসুলদের সময় জিহাদ হতো না তারও পরের
    যুগ? নবী(সাঃ) এর সময় যখন জিহাদ হতো তখন জিহাদে নবীজি নির্দেশ ছিলো, যতটা সম্ভব কম
    সংখ্যক মানুষ যেন নিহত হয়। ইতিহাস সাক্ষী দেয় নবিজী (সাঃ) ই হলেন একমাত্র মানুষ
    যার নেতৃত্তে পরিচালিত যুদ্ধে সবচে কম রক্তপাত হয়েছে এবং তিনি কৌশলে যুদ্ধে
    জয়লাভের দিকে বেসি নজর দিতেন। আর তাঁর পরের যুগ? এ কথা এখন কে না স্বীকার করবে,
    আগের চেয়ে এখনই বেশী যুদ্ধ হচ্ছে, এবং একেকটি যুদ্ধে হাজার হাজারই না শুধু লাখ লাখ
    মানুষের প্রাণ মুহূর্তের মধ্যে ঝরে যাচ্ছে। শুধু তাই নয় এক সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে যে
    সংখ্যক মানুষ মারা যাচ্ছে তা আগের যুগের যে কোন যুদ্ধের চেয়ে কয়েকগুণ বেশী হবে। আর
    বাহারী নামের প্রাকৃতিক দুর্যোগের যে তাণ্ডব পৃথিবীতে প্রতি বছর চলছে তার কথাতো
    বলাই বাহুল্য। আল্লাহ্‌ই প্রকৃতির প্রত্যেকটি জিনিসকে এতো সুন্দর ও সুচারুভাবে
    ভারসাম্য করে দিচ্ছেণ যাতে করে তা মানুষের জন্য বাসযোগ্য হয়। আর মানুষ ধরে নেয়
    বার্থ কন্ট্রোল করে তারা পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষা করছে!! আসলে এসব শিরকি চিন্তা ও
    যুক্তি তারাই ভাবে ও মেনে নেয়, যারা আল্লাহ্‌র সৃষ্টি রহস্য নিয়ে কখনো চিন্তাই
    করেনি।

    ৭। আজ
    পৃথিবীর ১.২ পারসেন্ত ইহুদী পৃথিবী রাজত্ব করছে এই উদাহরন টানলেন যখন তখন বলতেই হয়
    জাহিলিয়াতের যুগের অবসান ঘটিয়ে যখন আমাদের নবী(সাঃ) ইসলামের ডাক দিয়েছিলেন তখন
    তাঁর সাথে ছিল মাত্র ১০/১২ জন সাহাবী। অথচ এঁরাই ইসলামের এমন এক আলোর বার্তা নিয়ে
    অন্যান্য কাফেরদের উপর বিজয় লাভ করে ইসলামের দল ভারী করতে করতে এমন অবস্থায় নিয়ে
    গিয়েছিলেন যে অল্প কিছু কাফের ব্যাতীত ইসলামের সেই মহান ডাকে সারা না দিয়ে কেউ
    থাকতে পারেনি। প্রশ্ন জাগে কিভাবে তা সম্ভব হয়ে ছিল? এটা সম্ভব হয়েছিল এই জন্যই যে
    তাঁদের মধ্যে যে ঈমানী শক্তি ছিলো, নিজেদের এমন এক আদর্শ অবস্থায় নিয়ে (যেমন
    চরিত্রে যেমন জীবনযাপনে) তাঁরা অন্যদের কাছে নিজেদের তুলে ধরেছিল মানুষ ভাবতে
    বাধ্য হয়েছিল যে, এঁরাই হচ্ছেন আল্লাহ্‌র সেই নেগাহবান বান্দা যারা
    সন্দেহাতীতভাবেই সত্য ধর্মেরই আহবান করছে ও তাঁদেরই পথ সর্বোচ্চ মঙ্গলের পথ। অথচ
    আজ আমরা কোথায় চলে গেছি! আমরা কি পারছি নিজেদের চরিত্র, জীবনযাপন সর্বোপরী ঈমানী
    শক্তি দিয়ে অন্যের কাছে আদর্শ হতে? বরং আমরা অবলীলায় অন্য ধর্মের মুশরিকদের
    ধ্যানধারণা নিয়ে, তদের আবিষ্কৃত জিনিসে অভ্যস্ত হয়ে, তাদের দেখানো পথে অন্ধের মত
    হাঁটছি আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসুলের দেখান পথ বেমালুম ভুলে গিয়ে। এই যদি হয় মুসলমানদের
    অবস্থা তাহলে কোথায় পাবেন ইসলামের সেই মহান রাজত্ব?

    আসলে
    নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে গিয়ে অপরের উদাহারন টানা বোকাদেরই কাজ। আমরা আজ ইসলামের
    মূল শেকড়, আল্লাহ্‌ ও তাঁর নবী রাসুলদের দেখানো পথ থেকে এতোটাই দূরে সরে গেছি যে
    ভুলেই গেছি কোনটা আমাদের আসল পথ, কোন পথে গেলে আমরা আমাদের আসল গন্তব্যস্থল
    আখিরাতের পরম সুখের নিশ্চয়তা পাব। আমাদের এই দৈণ্য দূর করার জন্য আমাদের উচিত সেই
    পথের সন্ধান করা যে পথের দিশারী ছিলেন আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম
    ও তাঁর প্রিয় সাহাবীরা। আল্লাহ্‌ আমাদের সেই পথ প্রাপ্ত হওয়ার যোগ্যতা ও তওফিক
    দিন। আমীন

    আশা
    করি বাকীগুলোর জবাব উপরের লেখা থেকেই পেয়ে গেছেন। জাযাকাল্লাহ খাইর।

     

          

  5. see this link to know details about slave women in islam.
     http://www.islam.tc/cgi-bin/askimam/ask.pl?q=14421&act=view

  6. ১। অনাগত সন্তান মানে সেই সন্তান যার ভ্রুন
    মায়ের গর্ভে থাকে এবং যে ভ্রুন আস্তে আস্তে আকৃতি লাভ করে পূর্ণাঙ্গ মানব শিশুতে
    পরিনত হয়। আর সেই ভ্রুন হত্যা করা মানে হল সেই অনাগত সন্তানকেই হত্তা করা যার কিনা পূর্ণতা প্রাপ্তির পর এই
    পৃথিবীর আলো দেখার কথা ছিল অথচ তাকে হত্যা করে ফেলা হয়েছে। এখন এই সেন্স থেকে ভাবুন, কেউ যখন জন্ম নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহন করে তা এই উদ্দেশ্য থেকে করে
    যাতে সন্তান লাভ না করে, যা তার
    কাছে আপাতত
    “অনাকাঙ্ক্ষিত!!।“ তার মানে দাঁড়াচ্ছে সন্তান আসার কথা, কিন্তু কেউ চাইছে না
    সন্তান হোক। এটা মানে অনাগত সন্তান হত্যা করা নয় ঠিকই তবে সেই সন্তান আসার
    স্বাভাবিক নিয়মকে বাধা দেওয়া। এটা হচ্ছে দয়াময় আল্লাহ্‌র সাথে সেই স্পষ্ট নাফরমানী
    যেখানে আল্লাহ্‌র ইচ্ছার স্পষ্ট বিরোধিতা করা হচ্ছে। বোধকরি এটা অনাগত সন্তান
    হত্যার চেয়ে আরও বড় পাপ।  

    ২। ওয়েস্টার্ন জনগণ সহ আমাদের জনগণ এবং
    পৃথিবীর যে জনগণই জন্মনিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা গ্রহন করে তাদের সবার উদ্দেশ্য ভিন্ন
    ভিন্ন। একজন বিবাহিতের এক্ষেত্রে একরকম উদ্দেশ্য থাকবে এবং অবিবাহিতের থাকবে
    সম্পূর্ণ ভিন্ন উদ্দেশ্য। প্রকৃতপক্ষে জন্মনিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা হল নিরাপদে ব্যভীচার
    করার  সেই লাইসেন্স যাতে কেউ ব্যাভীচারের
    পর এতটাই নিরাপদ হয়ে যায় যে সে নিজে স্বীকার না করলে তা প্রমানের আর কোন সুযোগই
    নাই। এমনকি আগে যৌন রোগের যে ভয় ছিল এখন
    তাদের সেই ভয়ও জন্ম নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থার কল্যাণে পুরোপুরি দূর হয়ে গেছে। মিডিয়া
    যেভাবে জন্ম নিয়ন্ত্রনের প্রচারণা চালায় তাতে মনে হয় তারা অবিবাহিতদের এই আশ্বাসই
    দিচ্ছে যে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক নিশ্চিন্তে চালিয়ে যান। জন্ম নিয়ন্ত্রণ
    ব্যবস্থাতো আছেই! আর বিবাহিতেরা যারা এই ব্যবস্থা গ্রহন করে তাদের উদ্দেশ্য থাকে
    একাধিক। কেউ বেশি সন্তানের ব্যয় বহন করার ক্ষমতা রাখেনা, কারো ক্ষমতা থাকলেও এক বা
    দুই সন্তান মানুষ করা সহজ ও কম কষ্টের এই চিন্তা করে। মনে হয় না কেউ দেশের
    জনসংখ্যা বেড়ে যাবে এই কারনে সন্তান লাভ থেকে বিরত থাকে। তাদের নিজেদের স্বার্থেই
    তারা এটা করে থাকে। এখন দেখুন উপরে যে দুটি কারনের কথা বললাম তার কোনটি
    গ্রহণযোগ্য। যারা বেশী সন্তানের ব্যয় বহনের ভয় পান তাদের উদ্দেশ্যেই আল্লাহ্‌র
    বানী, “রিজিকদাতা আল্লাহ্‌।” যার রিজিকে যতটুকু লেখা আছে কারো সাধ্য নাই তার থেকে
    এতোটুকু কম বেশী করা। তাহলে কি এটাই প্রতীয়মান হচ্ছে না যে আল্লাহ্‌ স্বয়ং তাঁর
    বাণী দ্বারা তাদের আশ্বাস দেওয়ার পরও তাতে তাদের আস্থা নাই নাকি তারা ভাবে যে
    তাদের রিজিকের ব্যবস্থা তারাই করছে বা তারা নিজেরাই তাদের রিজিকের মালিক হয়ে গেছে?
    সেই ব্যক্তিই সত্যিকারের ঈমাণদার যে কিনা সর্বাবস্থায়, তাঁর জীবনের যে কোন পরিণতি
    সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নেয় আর এই বলে শোকর করে যে আল্লাহ্‌ আমাকে যা দিয়েছে তাই
    আমার জন্য যথেষ্ট এবং যা আমার প্রাপ্য আমি তাই পাই না শুধু বরং দয়াময় আল্লাহ্‌ আমি
    যা পাওয়ার যোগ্যতা রাখিনা তাও আমাকে দিয়ে যাচ্ছেন। শুধু মুখে ঈমান আনার নামই ঈমান
    না, জীবনের সকল ক্ষেত্রে তাঁর প্রয়োগ ও প্রতিফলন ঘটানোই একজন প্রকৃত ঈমানদারের
    পরিচয়। আর যারা সচ্ছলতার দোহাই দিয়ে বা একাধিক সন্তান ঠিকভাবে মানুষ করা যাবে না
    এসব চিন্তা করেন তাদের মধ্যে অনেকেই দেখবেন, না বাবা পুরোপুরি বাবার দায়িত্ব পালন
    করছে, না মা পালন করছে মায়ের দায়িত্ব। মায়েরা আজ ক্যারিয়ারের দোহায় দিয়ে নিজেদের
    ঘরের বাইরে এতোটাই ব্যস্ত করে ফেলেছেন যে সন্তানের খেয়াল করা দূরে থাক, নিজেদের
    দিকে খেয়াল করা সময়ও তারা পাচ্ছেনা। অথচ আগে মায়েরা ১০/১২ জন সন্তানকেও লালন পালন
    করে মানুষের মত মানুষ করতে পেরেছে। শুধু দুনিয়াবী শিক্ষাই না তারা অনেকেই ধর্মীয়
    শিক্ষায় তাদের সন্তানকে বড় করেছে।

    ৩।
    ওয়েস্টার্ন ও মিডল ইস্ট আমাদের দেশের জনসংখ্যা বেশী বলে তাদের দেশে আমাদের লোক
    নিচ্ছে, এ তথ্য কোন গবেষণার ফলাফল? যদি তাই হতো তাহলে ভারত ও চীনের জনসংখ্যাও তারা
    নিতে পারতো। কিন্তু বাস্তবে তা তারা করেনি। করেনি এই জন্য যে, চীন ও ভারত তাদের
    দেশের জনসংখ্যাকে দেশেই সঠিক কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে পারছে। নিজের দেশের
    বিপুল মানব সম্পদকে তারা নিজের দেশেই কাজে লাগিয়েছে। যার ফলে তাদের অর্থনীতির
    চাকাও দ্রুততর হচ্ছে দিন দিন। ঠিক এই কাজটিই করতে পুরোপুরি ব্যার্থ হয়েছে আমাদের
    দেশের সরকার। আর তাই প্রতি বছর  বিপুল
    সংখ্যক জনগণকে নাম মাত্র কারিগরী প্রশিক্ষণ দিয়ে বাইরে পাঠানো হচ্ছে। আপনি জেনে
    অবাক হবেন, মিডিল ইষ্টে খুব কম সংখ্যক বাংলাদেশী সম্মানজনক পেশায় নিয়োজিত। বিপুল
    সংখ্যক বাংলাদেশীকে ওখানে পাঠানো হয় খুবই নিম্নশ্রেণীর পেশায় যার কারন হল ওই দেশের
    সরকার চায় না তাদের নিজের দেশের জনগন এসব অপমানজনক পেশায় কাজ করুক। তাই তাদের
    দৃষ্টি থাকে বাংলাদেশের মত দরিদ্র দেশগুলোর দিকে। আমাদের দেশের সরকার যদি পারত এই
    বিপুল সংখ্যক জনগণকে দেশেই সঠিক কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে তবে প্রতিবছর এত
    মানব সম্পদ বৈধ বা অবৈধভাবে অন্য দেশে পাচার করার কোন প্রয়োজনই হতো না। আর তখন
    কারো তাঁর বৌ বাচ্চা রেখে ভীনদেশে পাড়ি দিতে হতোনা। সমস্যার মূল না খুঁজে আগা নিয়ে
    যতই গবেষণা করা হোক না কেন সেই সমস্যার সমাধান কখনোই সম্ভব নয়।

    ষাট বা
    সত্তুরের দশকে যখন দেশের জনসংখ্যা মাত্র ৭-৮ কোটি ছিল তখন কি কেউ ভেবেছিলো এক সময়
    দেশের জনসংখ্যা ১৬-১৭ কোটি হয়ে যাবে? বস্তুত আল্লাহ্‌ই কোন জনপদের বাসস্থনের
    ব্যবস্থা করে দেন, তিনিই তাঁর বান্দাদের যার যার থাকার ঠিকানা, খাওয়া-পরা
    প্রত্যেকটি ব্যপারের প্রতিপালক, পরিচালক ও নির্ধারক।

    সেই
    সময়ের কথা বলছি, যখন জন্ম নিয়ন্ত্রনের ব্যবস্থা গ্রহন করা হতো না, তখনকার মায়েদের
    ১১-১২ জন সন্তান হতো, এমনকি আমার জানা মতে এক জনের ১৯ জন পর্যন্ত সন্তান হয়েছিল
    যাদের সবাই বেঁচেও ছিলো। এখনকার অনেক মা বাবাই ভেবে অবাক হয়ে যায় কিভাবে এতো
    সন্তান জন্ম দেয়া সম্ভব, কিভাবেই বা তাদের লালন-পালন, পরিচর্যা করে মানুষ করা
    সম্ভব? অথচ এই মা-বাবারাই পেরেছে এতোগুলো সন্তান লাভ করেও তাদের মানুষ করতে। এটা
    হল সেই দয়াময় আল্লাহ্‌র তাঁর সেই বান্দাদের জন্য অশেষ রহমত যারা কিনা সবসময়
    আল্লাহ্‌র উপর ভরসা করে থাকে। ঈমানদার বান্দাতো এই দুয়া আর সাহায্যই চাইবে আল্লাহ্‌র
    কাছে যে, হে আল্লাহ্‌! আমাকে তুমি ততগুলু সন্তানই দাও যতগুলু সন্তানের ভরণপোষণের
    সামর্থ ও তওফিক আমার আছে, আমি যেন তোমার দয়ায় তাদের তোমার প্রিয়-নেক বান্দা করে বড়
    করে তুলতে পারি, সেই তওফিক আমাকে দাও তুমি। তবেইতো আল্লাহ্‌ আপনাকে সেই যোগ্যতা
    দিবেন। 

     আর আজ কি দেখা যাচ্ছে? একটি বা দুটি সন্তানকেও
    তারা লালন পালন করতে হিমশিম খাচ্ছে। ভালভাবে মানুষ করা দূরে থাক যার একটি সন্তান
    আছে সেও হয়তো চলে যাচ্ছে বিপথে। সন্তানের শুধু দুনিয়াবী শিক্ষার প্রতিই মা-বাবার
    আগ্রহ। ধর্মীয় শিক্ষা হয়তো সামান্য থাকলেও তা তাদের সঠিক পথে রাখতে পারছেনা।
    মায়েরা যেভাবে সংসার বিমুখ হয়ে ক্যারিয়ারমুখী হয়ে পরেছে তাতে তাদের সন্তানদের
    সঠিকভাবে লালন-পালন করার সময়ই বা কোথায়। বস্তুতঃ একটি বা দুটি সন্তান থাকলেই শুধু
    সন্তান ভালভাবে মানুষ করা যাবে এ কথা পুরোপুরি ভ্রান্ত। আল্লাহ্‌র উপর ভরসা রেখে,
    তাঁর শাস্তিকে ভয় পেয়ে যে মা বাবা সন্তান পালন করে তাঁর পক্ষে একটি কেন এগার জন
    সন্তান থাকলেও ভালভাবে মানুষ করা সম্ভব। আর যার আল্লাহভীতিই নাই, যে আল্লাহ্‌র উপর
    নির্ভর করতেই জানে না, যার এতোটুকু ঈমানী শক্তিই নাই তাঁর পক্ষে একজন বা দু জন
    সন্তানকেও ঠিকভাবে মানুষ করা সম্ভব নয়। কারন সর্বময় ক্ষমতা সেই মহান আল্লাহ্‌র যার
    সাহায্য ছাড়া তার কোন বান্দাই কামিয়াব হতে পারবেনা না ইহকালে না পরকালে।

    বারবারই
    বললেন, ইসলামে নাকি কোয়ানটিটির চেয়ে কোয়ালিটির প্রতিই বেশি গুরুত্বআরোপ করে। অথচ এ
    কথা ইসলামের কোথাও লেখা নেই। না কুর’আন, না হাদিস, না কোন নবী-রাসুল বা সাহাবী এ
    কথা বলেছে। বরং হাদিস বলে যত পারো ইসলামের দল ভারী করো। যেমন মহানবী হজরত মুহাম্মাদ
    সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমরা প্রেমময়ী অধিক সন্তানসম্ভবা নারীকে
    বিয়ে করো। কারণ আমি আমার উম্মতের সংখ্যাধিক্য নিয়ে অন্যান্য উম্মতের উপর গর্ব
    করবো।” [আবু দাউদ শরীফ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা নং- ২৯৬] এই হাদিসটিই প্রমাণ করে, ইসলামের
    দল তথা আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ) এর উম্মতের দল ভারী করার গুরুত্ব কতখানি। এ কথা ঠিক
    যে ১০ জন জালেমের পরিবর্তে এক জন আলেম জন্ম দেয়া অনেক বেশী ভালো। এখন যে জন্ম
    নিচ্ছে সে আলেম হবে না জালেম হবে তা আগে থেকেই কিভাবে বুঝবেন? আমাদের কাজ হল
    আল্লাহ্‌র কাছে সাহায্য ও দোয়া চাওয়া, তিনি যেন আমাদের যে কয়টি সন্তানই দেন না
    কেন, আমরা যেন আমাদের সন্তানদের দ্বীনদার ও আল্লাহ্‌ওলা করে বড় করে তুলতে পারি,
    সেই তওফিক যেন আল্লাহ্‌ আমাদের দেন। বস্তুত আল্লাহ্‌ তাঁর বান্দাদের উপর এমন কোন
    বোঝা চাপিয়ে দেন না, যা সহ্য করার ক্ষমতা তিনি তাঁর বান্দাদের দেন নি। তাছাড়া শুধু
    দুনিয়াবী শিক্ষায় শিক্ষিত সন্তান ইসলামের উপকারে আসা দূরে থাক, এরা না দেশের কোন
    উপকারে আসতে পারে, না মা-বাবার কোন উপকারে আসবে। মা-বাবাদের মনে রাখা উচিত, একজন
    নেক সন্তানের উসিলায় হলেও আল্লাহ্‌ পরকালের আজাব থেকে তাদের রেহাই দিতে পারে।        

    ৪।
    এতগুলো হাদিসের কথা বাদ দিয়ে শুধু ইবনে সীরীনের কথাকে ভিত্তি করে এমন মন্তব্য করা
    মোটেও একজন বুদ্ধিমান সমালোচকের পরিচয় দেয় না। বস্তুত এমন অনেক হাদিস আছে যেগুলো
    স্পষ্টভাবে নিষেধ করা না হলেও শুধু নবীজি পছন্দ করে না বলে সাহাবীরা তা পুরোপুরি
    বর্জন করে চলতো শুধু আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসুলের সর্বোচ্চ সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য।
    যেমন জাহিলিয়াতের যুগে মদ ও জুয়া খেলা হারাম ছিলনা বা এ ব্যাপারে স্পষ্ট কোন
    বিধিনিষেধ ছিলনা না। তারপরও অনেক সাহাবী ও আল্লাহ্‌র ঈমানদার বান্দা এসব থেকে
    নিজেদের বিরত রাখতো শুধু আল্লাহ্‌ ও রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের
    খাস সন্তুষ্টি পাবার আশায়। এই সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা প্রতিটি ঈমানদার
    মুসলমানের একান্ত কর্তব্য।

    ৫। যে
    বিশ্বাস করলো, জন্ম নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থাই সন্তানের আগমনকে রহিত করে দিয়েছে সে
    স্পষ্ট শিরকি করলো, এতে কোন সন্দেহ নেই। কারন একমাত্র আল্লাহ্‌ ছাড়া আর কারো
    ক্ষমতা নাই কারো জন্ম ও মৃত্যুর আগমনকে ঠেকিয়ে রাখা। এমন অনেক নজির আছে যারা বার্থ
    কন্ট্রোল করার পরও সন্তান লাভ করেছে। বার্থ কন্ট্রোলই যদি দুনিয়ার জনসংখ্যা কমানোর
    একমাত্র উপায় হতো তাহলে যখন পৃথিবীতে এটার প্রচলন ছিলনা তখনই জনসংখার বিস্ফোরণ
    ঘটার কথা। অথচ তা না হয়ে জনসংখার বিস্ফোরণ ঘটছে তখন যখন কিনা এমন কেউ বাদ নাই যে
    বার্থ কন্ট্রোল করে না!! এরচে হাস্যকর যুক্তি আর কি হতে পারে? 

    ৬।
    আগের যুগের কথা বলা হয়েছে। কোন যুগ? যখন নবী-রাসুলদের সময় জিহাদ হতো না তারও পরের
    যুগ? নবী(সাঃ) এর সময় যখন জিহাদ হতো তখন জিহাদে নবীজি নির্দেশ ছিলো, যতটা সম্ভব কম
    সংখ্যক মানুষ যেন নিহত হয়। ইতিহাস সাক্ষী দেয় নবিজী (সাঃ) ই হলেন একমাত্র মানুষ
    যার নেতৃত্তে পরিচালিত যুদ্ধে সবচে কম রক্তপাত হয়েছে এবং তিনি কৌশলে যুদ্ধে
    জয়লাভের দিকে বেসি নজর দিতেন। আর তাঁর পরের যুগ? এ কথা এখন কে না স্বীকার করবে,
    আগের চেয়ে এখনই বেশী যুদ্ধ হচ্ছে, এবং একেকটি যুদ্ধে হাজার হাজারই না শুধু লাখ লাখ
    মানুষের প্রাণ মুহূর্তের মধ্যে ঝরে যাচ্ছে। শুধু তাই নয় এক সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে যে
    সংখ্যক মানুষ মারা যাচ্ছে তা আগের যুগের যে কোন যুদ্ধের চেয়ে কয়েকগুণ বেশী হবে। আর
    বাহারী নামের প্রাকৃতিক দুর্যোগের যে তাণ্ডব পৃথিবীতে প্রতি বছর চলছে তার কথাতো
    বলাই বাহুল্য। আল্লাহ্‌ই প্রকৃতির প্রত্যেকটি জিনিসকে এতো সুন্দর ও সুচারুভাবে
    ভারসাম্য করে দিচ্ছেণ যাতে করে তা মানুষের জন্য বাসযোগ্য হয়। আর মানুষ ধরে নেয়
    বার্থ কন্ট্রোল করে তারা পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষা করছে!! আসলে এসব শিরকি চিন্তা ও
    যুক্তি তারাই ভাবে ও মেনে নেয়, যারা আল্লাহ্‌র সৃষ্টি রহস্য নিয়ে কখনো চিন্তাই
    করেনি।

    ৭। আজ
    পৃথিবীর ১.২ পারসেন্ট ইহুদী পৃথিবী রাজত্ব করছে এই উদাহরনই টানলেন যখন, তখন বলতেই
    হয়, জাহিলিয়াতের যুগের অবসান ঘটিয়ে যখন আমাদের নবী(সাঃ) ইসলামের ডাক দিয়েছিলেন তখন
    তাঁর সাথে ছিল মাত্র ১০/১২ জন সাহাবী। অথচ এঁরাই ইসলামের এমন এক আলোর বার্তা নিয়ে
    অন্যান্য কাফেরদের উপর বিজয় লাভ করে ইসলামের দল ভারী করতে করতে এমন অবস্থায় নিয়ে
    গিয়েছিলেন যে অল্প কিছু কাফের ব্যাতীত ইসলামের সেই মহান ডাকে সারা না দিয়ে কেউ
    থাকতে পারেনি। প্রশ্ন জাগে কিভাবে তা সম্ভব হয়ে ছিল? এটা সম্ভব হয়েছিল এই জন্যই য্‌
    তাঁদের মধ্যে যে ঈমানী শক্তি ছিলো, নিজেদের এমন এক আদর্শ অবস্থানে নিয়ে (যেমন
    চরিত্রে তেমন জীবনযাপনে) তাঁরা অন্যদের কাছে নিজেদের যেভাবে তুলে ধরেছিল তাতে মানুষ
    ভাবতে বাধ্য হয়েছিল যে, এঁরাই হচ্ছেন আল্লাহ্‌র সেই নেগাহবান বান্দা যারা
    সন্দেহাতীতভাবেই সত্য ধর্মেরই আহবান করছে ও তাঁদেরই পথ সর্বোচ্চ মঙ্গলের পথ। অথচ
    আজ আমরা কোথায় চলে গেছি! আমরা কি পারছি নিজেদের চরিত্র, জীবনযাপন সর্বোপরী ঈমানী
    শক্তি দিয়ে অন্যের কাছে আদর্শ হতে? বরং আমরা অবলীলায় অন্য ধর্মের মুশরিকদের
    ধ্যানধারণা নিয়ে, তদের আবিষ্কৃত জিনিসে অভ্যস্ত হয়ে, তাদের দেখানো পথে অন্ধের মত
    হাঁটছি আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসুলের দেখানো পথ বেমালুম ভুলে গিয়ে। এই যদি হয়
    মুসলমানদের অবস্থা তাহলে কোথায় পাবেন ইসলামের সেই মহান রাজত্ব?

    আসলে
    নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে গিয়ে অপরের উদাহারন টানা বোকাদেরই কাজ। আমরা আজ ইসলামের
    মূল শেকড়, আল্লাহ্‌ ও তাঁর নবী রাসুলদের দেখানো পথ থেকে এতোটাই দূরে সরে গেছি যে
    ভুলেই গেছি কোনটা আমাদের আসল পথ, কোন পথে গেলে আমরা আমাদের আসল গন্তব্যস্থল
    আখিরাতের পরম সুখের নিশ্চয়তা পাব। আমাদের এই দৈণ্য দূর করার জন্য আমাদের উচিত সেই
    পথের সন্ধান করা যে পথের দিশারী ছিলেন আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম
    ও তাঁর প্রিয় সাহাবীরা। আল্লাহ্‌ আমাদের সেই পথ প্রাপ্ত হওয়ার যোগ্যতা ও তওফিক
    দিন। আমীন

    আশা
    করি বাকীগুলোর জবাব উপরের লেখা থেকেই পেয়ে গেছেন। জাযাকাল্লাহ খাইর।

      

  7. How come prophet Muhammad PBUH had only 7 children by his 11/13 wives if they were ‘fertile’ and thier only mission was to give him more and more children?I came across many articles with reference of hadiths approving coitus as a method of contraception between married couple.Playful abortion,infanticide,pre marital sexual relationship are prohibited by the Quran but it didn’t say anything against family planning.From some hadiths in this article and related links,it seems that it’s OK to have sex with war captives and slave girls whereas Quran tells men to ‘marry’ slave girls if they are not able to marry a free woman,not to use them as sex objects without marriage.Many of today’s scholars have opined that the phrase ‘ma Malaqat Aimanukum’ referes to ‘wives’ ONLY .One can find that with a simple google search.

  8. I cant comply with this article. First I want to say that the Hadith and contents author quoted  from Quran are correct. But in present days this theory is not compatible. I think author have no idea why too much problem in Bangladesh, this is not only for political reason but also for over population. Author suggested to use human not as burden but as resource (by exporting). This is childish thought. we should look present developed world and the way they handling employment process. Now a days they need less human power because of machine dependable industrialization. Author should try to provide healthy opportunity for his children, not only give birth and depend on Allah. Of course we should depend on Allah as well as try to build a better world.

  9. I think u forget that this world will come to END. And this will happen by the wish of Allah. No matter what we make, we cant recover or develop our world from devil works. You should travel and acquire more knowledge. Please dont depend on only  Quran and Hadith. We have to cooperate with our present world, think about our land. I dont want my children suffer for basic needs, I should bring up my children giving all priorities. May Allah gives u more knowledge to think more positive. Please dont give much burden to our motherland learning only from Islamic Sharia. 

  10. ISLAMIC SHARIAH or AL-QURAN is not restricted for a fixed time or a fixed tribe, or a nation, or a fixed human kind. message of Al-quran, rules about any kind of subject guided by almighty allah n our dearest prophet muhammod(saw) are true n must applicable for past, present n future.

    u better research about ISLAM n AL-QURAN.

    MAY ALLAH GIVES U SUCH A POWER OF KNOWLEDGE. 

  11. This is only problem of our people who goes to learn Islamic sector. They dont like to accept national, social problem and think only what Allah wish, is final. Allah has given human being to use own brain and to develop knowledge. This is only reason all Muslim countries suffer for social problem. Most of the Muslim countries have high crime of child labor, female oppression, raped and other unjust. You should know that Most of the Muslim countries are in first 10 for corruption in family and society. Its not enough to pray to Allah to redeem or begging help from Him. This also our duty to build better world by understanding proper meaning of Quran, Hadith. Travel, justify and acquire knowledge to adapt with present situation is clever idea. May Allah open ur eyes.

  12. i cant support you cz we are created by Allah and i think He has given enough resources to mankind for their survival.population boom isn’t responsible for social disorder.it is caused due to the lacking of religious knowledge which we cant provide our children beside other knowledges.do u know the main reason of our independence is our population?about the social curse in muslim countries i shall say to you plz dont justify islam seeing its followers.rather than read its rules.may ALLAH show us the right way

  13. I dont know what to reply. People are religious blind and that makes me unhappy. They dont want to accept development. I know one High class Imam near my home who has 8 children and all want to be Imam in future. They have no other alternative because their father has decided it for them to follow right path. When such Mufti Imam think like this, from whom u want to learn positive. Its like Allah made human and He will provide food. This is the way Islamic student or Imam people think. Analyze only one thing. If u marry at the age of 20 and start taking children continuously, how many children u will make. Can u bring up all ur children properly. If u work as a 3rd class officer, can u able to provide basic needs of ur children? Can u pay school fees for ur children? Now if u say, government should take necessary step for this, that seems crazy. i obey all rules and regulation of Islam, but we should take care of us. We take plan, and Allah also know our plan, and between us Allah is better planner.

  14. I dont know what to reply. People are religious blind and that makes me unhappy. They dont want to accept development. I know one High class Imam near my home who has 8 children and all want to be Imam in future. They have no other alternative because their father has decided it for them to follow right path. When such Mufti Imam think like this, from whom u want to learn positive. Its like Allah made human and He will provide food. This is the way Islamic student or Imam people think. Analyze only one thing. If u marry at the age of 20 and start taking children continuously, how many children u will make. Can u bring up all ur children properly. If u work as a 3rd class officer, can u able to provide basic needs of ur children? Can u pay school fees for ur children? Now if u say, government should take necessary step for this, that seems crazy. i obey all rules and regulation of Islam, but we should take care of us. We take plan, and Allah also know our plan, and between us Allah is better planner.

  15. I know Islam religion is not like what we see in most muslim countries. But can u tell me to why they are like this. They know Islamic rules very well and that is the only reason they are corrupted. I have traveled several countries and I have seen everywhere muslim people are most aggressive and corrupted and cause more illegal activities. Even in our country where we hear 5 times Azan, pray in mosque, 80% muslim and social friendly people but after that u know the crime situation of our country. To whom u will blame. I have never seen in Germany people fight in street or using bad word to other. They are better human than us though they are not muslim. And u know only muslim foreigner are 81% in prison for their illegal work like rape, drug, smuggling, stealing. How u can teach them? I dont justify Islam to see its follower, but how will u justify Islam? 

  16. Why they are bad the only answer is they have less knowledge about Islam.. .. But why you are asking this Question here instead of finding a way how to increase their knowledge? 

  17. ভাই, আপনি বলতে চাচ্ছেন, জনসংখ্যা বেড়ে গেছে, এর জন্য ইসলাম দায়ী? 

  18. I
    have never told that population problem caused by Islam. We are
    already over populated country and we suffer a lot for this. Country
    like Norway, Australia where government offer more allowance who take
    more children is possible to follow (No birth control) policy. You
    can take as much as u can. But only Islamic knowledge is not enough
    to train all children. We have to follow social, scientific, and
    political issue also. To bring up our child as a proper citizen, we
    should teach them all sides. Only following Islamic rules and
    regulation and depending only on Allah for all matter is not actual
    solution. Allah has not forbidden us to be industrialized or being
    developed. Only following Islamic rules is not the goal of our life.
    We must accept Islam for our life, but for better life we must try to
    develop ourselves as well as our country. We should not blind to
    accept Islam.  

  19. যদি সত্যিই ইসলামকে জাস্তিফাই করতে চান, তাহলে আপনার জন্য পরামর্শ রইল, দয়া করে ইসলামের ইতিহাসের দিকে একবার চোখ বুলান। যখন ইসলামের ডাক দেয়া হয়েছিল, এই পৃথিবীর মানুষ দেখেছে আমাদের প্রিয় নবী (সাঁ) কে, তাঁর সাহাবীদেরকে, এবং আরও অনেক পরহেজগার, সত্যিকারের ধার্মিক মানুষদের যারা কিনা সেই যুগেতো বটেই এখনকার যুগের প্রত্যেকটি ধর্মপ্রান মুসলমানের আদর্শ। তাদের জিবনী পাঠ করে তারপর ভেবে দেখবেন আসল সমস্যাটা কোন জায়গায়। 

    হ্যাঁ, এটা ঠিক আমরা মুসল্মানেরা আজ পৃথিবী জুড়ে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছি যে, এখন সবাই ভাবতে বাধ্য হচ্ছে, মুসলমান বা ইসলাম মানে হল, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, বিশৃঙ্খলা ইত্যাদি। এটার প্রধান কারন হল মুসল্মানেরা আজ তাদের মূল শেকড় থেকে অনেক দূরে চলে গেছে, তারা তাদের আদর্শকে ভুলে গেছে। কুরআন ও সুন্নাহ থেকে তারা সঠিক জ্ঞান নিচ্ছে না। এখন কোন বইয়ের মলাট দেখেই যদি কেউ বইয়ের ভেতরের লেখা কেমন হবে সেটা বুঝে ফেলে তবে সেটা মূর্খতা ছাড়া আর কি হতে পারে?

    আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে জার্মানি বা আরও জেসব নন-ইসলামিক দেশ আছে তারা কেউ কখনো কোন অন্যায় বা অপরাধ করেনি। যত অপরাধ শুধু মুসল্মানেরাই করছে। এ ধরনের অবিবেচনাপ্রসূত, কাল্পনিক বিশ্লেষণ আসলে কোন বিবেকবান মানুষেরই শোভা পায় না। যদি মুসল্মানেরাই সব অপরাধ করে থাকে, তবে ইরাক, আফগানিস্তান, ইরান কারা ধ্বংসের পরিকল্পনা করেছে? জার্মানী, রাশিয়া, আমেরিকা যেভাবে দিন দিন পৃথিবী্তে যুদ্ধ বাধাচ্ছে তাতে কয়টা ইসলামী দেশ বা মুসলমান জড়িত? আর যদি শুধুই চারিত্রিক বা মানবিক গুনাবলীর কথা বলেন, তবে এটা কে না জানে, এসব জ্ঞান বা গুনাবলী অর্জনের পেছনে পরিবার, মা বাবা, সমাজ এসবের ভূমিকাই মুখ্য। আগে যেখানে ভোর হলে ঘর থেকে কুরআন তেলাওত শুনা যেত, এখন সেখানে গানের গলা শুনা যায়। আমরা ইসলাম থেকে দূরে সরতে সরতে এখন বাচ্চাকাচ্চাদের নুন্যতম ইসলামী শিক্ষা দিতেও আগ্রহ বোধ করিনা। এর দায় ইসলাম ধর্মের না বরং আমরা যারা নিজেদের ইসলাম ধর্মাওবলম্বী বা মুসলমান বলে দাবি করি, অথচ ইসলামের একটা নিয়ম বা আল্লাহ্‌র এক্তা আদেশ মানা দূরে থাক জানতেও এতটুকু আগ্রহী না, এ দায় তাদেরই।

    প্লীজ, আগে ইসলাম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান জেনে নিন, তারপর তর্ক করুন। ঢালাওভাবে কাউকে দোষারোপ করা কোন বীরের কাজ না।

  20. Its
    pleasure to discuss with u. I like to do also. I would like to reply
    all ur complains step by step.

    1.
    I have not written Non muslim people dont do distruction. I mentioned
    81% foreign muslim accused for their evil task in Germany. I think
    100-81=19% non Muslim.

    2.
    Germany did big mistake before but it was not a German guy who did
    this. It was he who was president of Germany that time and political
    leader decided to do that and solders followed them. Ordinary people
    still feel ashamed to remember that part. They begged sorry for their
    conduct not our Golam Azam or Not other Mufti of our Country or any
    political leader.

    3.
    We muslim people are liable for our own act. We make so much problem
    in our own country so that developed countries put hand to control
    our such activities. For example, what Saddam hossain did to Shia
    muslim, to opposition parties was not pardonable. He ruled over much
    and this is the first reason he came to end quickly. U should
    research about women oppression in Afganisthan. There are two muslim
    groups fighting  each other. Afgan govt says Taliban are enemy,
    Taliban says Afgan govt should leave power. To whom u will preach to
    show right path. U cant go there with Quranic verses to preach them
    and show them the truth what we learnt from our Prophets. Iran should
    open their Atom program to UN and show all project to be fair. But
    they are not so helpful to share or provide satisfactory answer to UN
    and that is the only reason USA, Europe trying to solve this prob.

    Assume,
    why so much corruption in our country. First over populated, second
    political issue, third educational factor, fourth religious
    activities. U replied that less religious activities is caused of
    our social problem. In Europe, Australia religious activities are
    less practicing matter but they believe in mankind so that they have
    less corruption and development is in high progress. Our religion
    teaches us first mankind or love to human as first priority. But
    have u seen anything in Arab countries. If u say USA, Israel or UK
    causing problem to muslim countries, why Saudi Arab/ Bahrain give
    their airport or seaport to USA and then USA conduct operation to
    attack another muslim country. Fault is ours.

    5.
    U told that to read history of our prophets. This is Allah who
    decided that this world will come to end soon and that will be for
    corruption. No matter how we try, we can do the same what our
    prophets did before. Even in the time of each prophet, muslim
    friends were like munafiq and they caused many problems.

    I
    believe in Islam and I believe without this we dont have way to go.
    But what about mankind. What muslim brother kills our own brother by
    using bomb. We kill our own family by the name of Allah. Before we
    take any attempt, we say Allah hu Akbar and kill. How will u preach
    them. Shia muslim says they are true follower, we sunni says we are
    in right path. We have problem in our own family.

    Lastly
    I feel that we should be a good human being no matter what we follow.
    Allah will decide our goal. I think u have read the book (Fatwa
    Arkanul Islam). In question 16, its written the Sun moves around the
    Earth. If u teach ur child this false information, how ur child be a
    true citizen? If u teach ur child to hate Shia muslim or Christ, how
    he will be good sense of humor or man of patience. No matter what we
    follow, we are all from Allah and He is the One who already knows our
    future. So we should not be so serious to save this world. Better we
    learn how to cultivate the seed of peace among all people and make a
    better world.

  21. Mr. Polturahman, you are very naive about global politics. The mainstream media is quite biased in raising their own thoughts and belief upon the whole mankind. You have only heard about women oppressions in Afghanistan but not how much an woman can be respected in that society.

    Read the story of Yvone Ridley, the British journalist captured by the Taliban and you will know the other side of the coin.

    God’s Blessings on you.

  22. Thanks for ur advise. My point of view is to discuss about our muslim woman who are deprive of true Islamic rules. We men ruled over them in the name of Islam. I argued with someone because he was constantly showing me Muslim are best. I wanted to prove that if muslim are the best why only muslim countries have much problem. Something is wrong among us. Since 2001 I am out my country and I have visited several countries including Asia, Arab and Europe and I have seen people from so near. No matter where Pakistan people are, they are number one to lie, adultery, stealing and other illegal activities. After them, comes Algeria, Morokko, Irak, Yemen, Turkey and Albania. I have so many record of them, I feel shy to say me a Muslim. They take the name of Allah in every second and do worst. Most of them drink alcohol, eat swine meat and Most of them play lottery. I cant believe what happen to us. And I want to say that in a muslim country like Afganistan even 10% women are oppressed by us, its also a number that down our religious view. Do u know the sexual harassment for women in job in Pakistan? Its 76%. Believe if even 5% is true, its also shame for us. Or u want to deny this ????   

  23. I  CONVEY MY COUNTLESS THHANKS TO AUTHOR. THE SUPPORTERS OF FAMILY PLANNING WILL BE CONSCIOUS OF THE MENACE OF IT.  IT IS ALSO UNSCIENTIFIC AND UNHIEGINIC. A.S.M. SALAUDDIN,TEACHER,KHAGRAGAR,RAJBATI, BURDWAN.

  24. If a Muslim do not follow his religion, he has to account for it on the day of judgement. The situation of the Muslims are like these, as we are Muslims by born but not by knowledge and understanding. We only say we are Muslims but if we really were Muslims, we couldn’t steal or lie, because hell fire is waiting for a liar and a thief.

    As per your question about woman oppression. Look at the rate of RAPE around the world. You will find these so called first world is leading in RAPING women where Sharia driven Saudi Arabia has the least number of RAPES as it executes people publicly due to adultery.

    We name a lot of Muslims nations but actually they are ruled by Kuffar. Bangladesh, pakistan, indonesia, morocco, saudi arabia, and you name it, none of these countries are ruled by Proper Islamic System. Even though KSA has sharia law, but Monarchy is not supported in Islam.

    Muslims will be suffered and defamed until they come to their roots Quran and Hadith and apply Islam in all aspects of their life from eating to governing the country.

    The question is are we ready to take the lead?

  25. বিস্তারিত উত্তরের জন্যে ধন্যবাদ। আমি আসলে জন্ম-নিয়ন্ত্রন বলতে সাধারনভাবে কনডম ব্যবহার কে বুঝিয়েছি যেটা আমরা বেশিরভাগ মুসলিমরা প্রতিনিয়ত ব্যবহার করে থাকি।

    উদ্দেশ্যগত ভাবে “কনডম ব্যবহার” এবং আজলের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। আমার কথা হচ্ছে আজল স্পষ্টভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়নি। আজল যদি হারাম হত, তবে, এই প্রশ্নে রাসুল সরাসরি বলে দিতেন আজল না করতে। আপনার কথা অনুযায়ী রাসুল (সাঃ) তা অপছন্দ করতেন। অপছন্দনীয় এবং হারাম এই দূটো কিন্তু এক না।

    যাই হোক, এই বিষয়টাতে কিছুটা মতভেদ থেকেই গেল, আপনাদের সাথে। আল্লাহ আমাকে সত্য বুঝার এবং মেনে নেয়ার তৌফীক দিন সবাইকে এই দুয়া করতে অনুরোধ করছি।

    আল্লাহ হাফিজ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here