<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>QuranerAlo.com - কুরআনের আলো ইসলামিক ওয়েবসাইট</title>
	<atom:link href="http://www.quraneralo.com/feed" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://www.quraneralo.com</link>
	<description>ইসলামিক রিসোর্সেস - আকিদা, কুরআন, হাদিস, ইসলামী প্রবন্ধ,  ইসলামী বই, ইসলামী ওয়াজ   &#124; Bangla/Bengali Islamic Website &#124; Bangla Islamic Articles, Bangla Islamic Books, Bangla Islamic Waz</description>
	<lastBuildDate>Wed, 22 Feb 2012 08:14:35 +0000</lastBuildDate>
	<language>en</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
	<generator>http://wordpress.org/?v=3.3.1</generator>
		<item>
		<title>মুসলমানদের ১৫ টি প্রশংসনীয় চারিত্রিক গুণাবলী</title>
		<link>http://www.quraneralo.com/15-good-character-of-a-muslim/</link>
		<comments>http://www.quraneralo.com/15-good-character-of-a-muslim/#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 22 Feb 2012 08:13:42 +0000</pubDate>
		<dc:creator>QuranerAlo.com Editor</dc:creator>
				<category><![CDATA[আখলাক | ব্যক্তিত্ব]]></category>
		<category><![CDATA[বোনদের জন্য]]></category>
		<category><![CDATA[ভাইদের জন্য]]></category>
		<category><![CDATA[রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসব]]></category>
		<category><![CDATA[ঈমান ও আক্বীদাহ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.quraneralo.com/?p=2845</guid>
		<description><![CDATA[লেখক : আদেল বিন আলী আশ-শিদ্দী / আহমদ আল-মাযইয়াদ      অনুবাদ : সাইফুল্লাহ আহমাদ  &#124; ওয়েব সম্পাদনাঃ মোঃ মাহমুদ -ই- গাফফার ইসলামী শরীয়ত হচ্ছে একটি পরিপূর্ণ জীবন পদ্ধতি যা সকল দিক থেকে সার্বিকভাবে মুসলমানের ব্যক্তিগত জীবনকে গঠন করার ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছে এসব দিকের মধ্যে গুনাবলি শিষ্টাচার ও চরিত্রের দিকটি অন্যতম। ইসলাম এদিকে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ [...]<h3>Related Posts</h3>

No related posts were found, so here's a consolation prize: <a href="http://www.quraneralo.com/ashabe-rasul-er-jibon-kotha/" rel="bookmark">বই: আসহাবে রাসুলের জীবনকথা [প্রথম খন্ড] &#8211; Free Download</a>.
]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[
			<!--Facebook Like and Send button by darkomitrovic.com-->
			<div id="fb-root"></div>
			<script>
			<!--
			  window.fbAsyncInit = function() {
				FB.init({appId: "224955984185367", status: true, cookie: true, xfbml: true});
			  };
			  (function() {
				var e = document.createElement("script"); e.async = true;
				e.src = document.location.protocol +
				  "//connect.facebook.net/en_US/all.js";
				document.getElementById("fb-root").appendChild(e);
			  }());
			-->
			</script>
			<fb:like href="http://www.quraneralo.com/15-good-character-of-a-muslim/" send="true" layout="standard" width="450" show_faces="false" colorscheme="light" action="like" font="tahoma"></fb:like>
			<!--Facebook Like and Send button by darkomitrovic.com-->
			<div style="text-align: -webkit-center;"><strong>লেখক :</strong> আদেল বিন আলী আশ-শিদ্দী / আহমদ আল-মাযইয়াদ  <strong>   </strong></div>
<p style="text-align: center;"><strong>অনুবাদ :</strong> সাইফুল্লাহ আহমাদ <strong> |</strong> <strong>ওয়েব সম্পাদনাঃ</strong> মোঃ মাহমুদ -ই- গাফফার</p>
<p style="text-align: center;"><a href="http://farm4.staticflickr.com/3256/2370076726_ce9a781307.jpg"><img class="aligncenter" src="http://farm4.staticflickr.com/3256/2370076726_ce9a781307.jpg" alt="" width="500" height="334" /></a></p>
<p>ইসলামী শরীয়ত হচ্ছে একটি পরিপূর্ণ জীবন পদ্ধতি যা সকল দিক থেকে সার্বিকভাবে মুসলমানের ব্যক্তিগত জীবনকে গঠন করার ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছে এসব দিকের মধ্যে গুনাবলি শিষ্টাচার ও চরিত্রের দিকটি অন্যতম। ইসলাম এদিকে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছে। তাইতো আকীদা ও আখলাকের মাঝে সম্পর্ক স্থাপন করে দিয়েছে, যেমন <strong>নবী কারীম</strong> <strong>সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন</strong><strong>,</strong> <strong></strong></p>
<blockquote><p><span style="color: #008000;"><strong><span style="color: #008080;">“মুমিনদের মধ্যে পরিপূর্ণ ঈমানদার হচ্ছে সে ব্যক্তি, যে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী।”</span> [আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিযি ]</strong></span></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p>সুতরাং উত্তম চরিত্র হচ্ছে ঈমানের প্রমাণবাহী ও প্রতিফলন। চরিত্র ব্যতীত ঈমান প্রতিফলিত হয় না বরং নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁকে প্রেরণের অন্যতম মহান উদ্দেশ্য হচ্ছে চরিত্রের উত্তম দিকসমূহ পরিপূর্ণ করে দেয়া। <strong>রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন</strong><strong>,</strong></p>
<blockquote><p><span style="color: #008000;"><span style="color: #008080;"><strong> </strong><strong>“</strong><strong>আমি তো কেবল চরিত্রের উত্তম দিকসমূহ পরিপূর্ণ করে দিতে প্রেরিত হয়েছি।</strong><strong>”</strong></span><strong>  ইমাম আহমাদ ও ইমাম বুখারী আদাবুল মুফরাদে বর্ণনা করেছেন।</strong></span></p>
<p>&nbsp;</p></blockquote>
<p>এ কারণেই আল্লাহ তাআলা উত্তম ও সুন্দরতম চরিত্রের মাধ্যমে তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রশংসা করেছেন। <strong>আল্লাহ তাআলা বলেন</strong><strong>,</strong></p>
<blockquote><p><span style="color: #008080;"><strong> “নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রে অধিষ্ঠিত।”<span style="color: #008000;"> [সূরা আল, কালাম : ৪]</span></strong></span></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p><span style="color: #ff0000;">কোথায় এ চরিত্র বর্তমান বস্তুবাদী মতবাদ ও মানবতাবাদী মানুষের মনগড়া চিন্তা চেতনায় ?</span><br />
যেখানে চরিত্রের দিককে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করা হয়েছে, তা শুধু সুবিদাবাদী নীতিমালা ও বস্তুবাদী স্বার্থের উপর প্রতিষ্ঠিত। যদিও তা অন্যদের উপর জুলুম বা নির্যাতনের মাধ্যমে হয়। অন্য সব জাতির সম্পদ লুন্ঠন ও মানুষের সম্মান হানীর মাধ্যমে অর্জিত হয়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>একজন মুসলমানের উপর তার আচার-আচরণে আল্লাহর সাথে, <strong><span style="color: #008000;">নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে,</span></strong> অন্য মানুষের সাথে, এমনকি নিজের সাথে কি ধরনের আচরণ করা উচিত ইসলাম তার এক অভিনব চকমপ্রদ চিত্র অংকন করে দিয়েছে। যখনই একজন মুসলমান বাস্তবে ও তার লেনদেনে ইসলামী চরিত্রের অনুসরণ করে তখনই সে অভিষ্ট পরিপূর্ণতার অতি নিকটে পৌঁছে যায়, যা তাকে আরো বেশি আল্লাহর নৈকট্য লাভ ও উচ্চ মর্যাদার সোপানে উন্নীত হতে সহযোগিতা করে। পক্ষান্তরে, যখনই একজন মুসলমান ইসলামের চরিত্র ও শিষ্টাচার হতে দূরে সরে যায় সে বাস্তবে ইসলামের প্রকৃত প্রাণ চাঞ্চল্য, নিয়ম-নীতির ভিত্তি হতে দূরে সরে যায়। সে যান্ত্রিক মানুষের মত হয়ে যায়, যার কোন অনুভূতি এবং আত্মা নেই।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>ইসলামে ইবাদতসমূহ চরিত্রের সাথে কঠোরভাবে সংযুক্ত। যে কোন ইবাদত একটি উত্তম চরিত্রের প্রতিফলন ঘটায় না তার কোন মূল্য নেই। আল্লাহর সামনে নামায আদায়ের ক্ষেত্রে দেখা যায় নামায একজন মানুষকে অশ্লীল অপছন্দ কাজসমূহ হতে রক্ষা করে, আত্মশুদ্ধি ও আত্মার উন্নতি সাধনে এর প্রভাব রয়েছে। <strong>আল্লাহ তাআলা বলেন</strong><strong>,</strong><strong></strong></p>
<blockquote><p><strong><span style="color: #008000;"><span style="color: #008080;"> “নিশ্চয়ই নামায অশ্লীল, অপছন্দনীয় কাজ হতে নিষেধ করে।”</span> [ সূরা আল-আনকাবুত :৪৫ ]</span></strong></p>
<p>&nbsp;</p></blockquote>
<p>অনুরূপভাবে রোযা তাক্কওয়ার দিকে নিয়ে যায়। আর তাক্বওয়া হচ্ছে মহান চরিত্রের অন্যতম, যেমন- <strong>আল্লাহ তাআলা বলেন</strong><strong>,</strong><strong> </strong></p>
<blockquote><p><span style="color: #008080;"><strong>“</strong><strong>হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে যেমনি ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর যাতে তোমরা তাক্বওয়া লাভ করতে পার।</strong><strong>”</strong><span style="color: #008000;"><strong> [ </strong><strong>সূরা আল বাকারা : ১৮৩ ]</strong></span></span><strong></strong></p></blockquote>
<p><strong> </strong></p>
<ul>
<li><span style="color: #ff0000;"><strong>রোযাঃ  </strong></span>অনুরূপভাবে শিষ্টাচার, ধীরস্থিরতা, প্রশান্তি, ক্ষমা, মুর্খদের থেকে বিমুখতা ইত্যাদির প্রতিফলন ঘটায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, “তোমাদের কারো রোযার দিন যদি হয়, তাহলে সে যেন অশ্লীল কথাবার্তা না বলে, হৈ চৈ না করে অস্থিরতা না দেখায়। যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সাথে লড়াই করে সে যেন বলে দেয় আমি রোযাদার। বুখারী ও মুসলিম</li>
</ul>
<p>&nbsp;</p>
<ul>
<li><span style="color: #ff0000;"><strong>যাকাতঃ  </strong></span>অনুরূপভাবে অন্তরকে পবিত্র করে, আত্মাকে পরিমার্জিত করে এবং তাকে কৃপণতা, লোভ ও অহংকারের ব্যধি হতে মুক্ত করে। আল্লাহ তাআলা বলেন,“তাদের সম্পদ হতে আপনি সাদকাহ গ্রহণ করুন যার মাধ্যমে আপনি তাদেরকে পবিত্র ও পরিমার্জিত করবেন।” [সূরা তাওবাহ ১০৩ আয়াত ]</li>
</ul>
<p>&nbsp;</p>
<ul>
<li><span style="color: #ff0000;"><strong>হজ্জঃ </strong></span>আর <span style="color: #000000;">হজ্জ</span> হচ্ছে একটি বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণশালা আত্মশুদ্ধি এবং হিংসা বিদ্ধেষ ও পঙ্কিলতা থেকে আত্মাকে পরিশুদ্ধি ও পরিমার্জনের জন্য। আল্লাহ তাআলা বলেন, “যে এ মাস গুলোতে নিজের উপর হজ্জ ফরয করে নিল সে যেন অশ্লীলতা, পাপাচার ও ঝগড়া বিবাদ হজ্জের মধ্যে না করে।” [সূরা আল বাকারাহ : ১৯৭ ]</li>
</ul>
<p><strong>রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন,</strong></p>
<blockquote><p><span style="color: #008000;"><strong><span style="color: #008080;">“যে ব্যক্তি অশ্লীল কথা-বার্তা ও পাপ কর্ম না করে হজ্জ পালন করল, সে তার পাপ রাশি হতে তার মা যেদিন জন্ম দিয়েছে সে দিনের মত নিষ্পাপ হয়ে ফিরে এল।</span>” [বুখারী ও মুসলিম]</strong></span></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<h3><strong><span style="color: #800080;">ইসলামী চরিত্রের মৌলিক বিষয়সমূহ</span></strong></h3>
<h3><strong><span style="color: #800080;">১ <span style="text-decoration: underline;">সত্যবাদিতা</span><span style="text-decoration: underline;">:</span></span> </strong></h3>
<p>আল্লাহ তাআলা এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের যে সকল ইসলামী চরিত্রের নির্দেশ দিয়েছেন, তার অন্যতম হচ্ছে সত্যবাদিতার চরিত্র<strong>। আল্লাহ তাআলা বলেন,</strong></p>
<blockquote><p><span style="color: #008000;"><strong><span style="color: #008080;">“হে ঈমানদারগণ আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমরা সত্যবাদীদের সাথী হও।</span>” সূরা আত-তাওবাহ : ১১৯</strong></span></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন,</strong></p>
<blockquote><p><strong></strong> <span style="color: #008080;"><strong>“তোমরা সততা অবলম্বন গ্রহণ কর, কেননা সত্যবাদিতা পুণ্যের পথ দেখায় আর পূণ্য জান্নাতের পথ দেখায়, একজন লোক সর্বদা সত্য বলতে থাকে এবং সত্যবাদিতার প্রতি অনুরাগী হয়, ফলে আল্লাহর নিকট সে সত্যবাদী হিসাবে লিপিবদ্ধ হয়ে যায়।<span style="color: #008000;">” মুসলিম</span></strong></span></p>
<p>&nbsp;</p></blockquote>
<h3><strong><span style="color: #800080;">২ <span style="text-decoration: underline;">আমানতদারিতা </span><span style="text-decoration: underline;">:</span></span> </strong></h3>
<p>মুসলমানদের সে সব ইসলামী চরিত্র অবলম্বনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে তার একটি হচ্ছে আমানতসমূহ তার অধিকারীদের নিকট আদায় করে দেয়া। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ</p>
<blockquote><p><span style="color: #008080;"><strong>“নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন আমানতসমূহ তার হকদারদের নিকট আদায় করে দিতে।” <span style="color: #008000;">সূরা আন নিসা : ৫৮</span></strong></span></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p>রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সম্প্রদায়ের নিকট আল আমীন উপাধি লাভ করেছিলেন, তারা তাঁর নিকট তাদের সম্পদ আমানত রাখত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তার অনুসারীদের মুশরিকরা কঠোর ভাবে নির্যাতন শুরু করার পর যখন আল্লাহ তাকে মক্কা হতে মদীনা হিজরত করার অনুমতি দিলেন তিনি আমানতের মালসমূহ তার অধিকারীদের নিকট ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা না করে হিজরত করেননি। অথচ যারা আমানত রেখেছিল তারা সকলেই ছিল কাফের। কিন্তু ইসলাম তো আমানত তার অধিকারীদের নিকট ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছে যদিও তার অধিকারীরা কাফের হয়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h3><span style="color: #800080;"><strong>৩ <span style="text-decoration: underline;">অঙ্গীকার পূর্ণ করা</span><span style="text-decoration: underline;">:</span> </strong></span></h3>
<p>ইসলামী মহান চরিত্রের অন্যতম হচ্ছে অঙ্গীকার পূর্ণ করা।<strong> আল্লাহ তাআলা বলেন :</strong></p>
<blockquote><p><span style="color: #008000;"><strong><span style="color: #008080;">“আর অঙ্গীকার পূর্ণ কর, কেননা অঙ্গীকার সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হবে।</span>” সূরা ইসরা : ৩৪</strong></span></p>
<p>&nbsp;</p></blockquote>
<p><span style="color: #ff0000;">আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিশ্রতি ভঙ্গকরা মুনাফিকের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে গণ্য করেছেন।</span></p>
<p>&nbsp;</p>
<h3><span style="color: #800080;"><strong>৪ <span style="text-decoration: underline;">বিনয় </span><span style="text-decoration: underline;">:</span> </strong></span></h3>
<p>ইসলামী চরিত্রের আরেকটি হচ্ছে একজন মুসলমান তার অপর মুসলিম ভাইদের সাথে বিনয়ী আচরণ করবে। সে ধনী হোক বা গরীব। <strong>আল্লাহ তাআলা বলেনঃ</strong></p>
<blockquote><p><span style="color: #008000;"><strong><span style="color: #008080;">“তুমি তোমার পার্শ্বদেশ মুমিনদের জন্য অবনত করে দাও।”</span> সূরা আল হিজর : ৮৮</strong></span></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন,</strong></p>
<blockquote><p><span style="color: #008000;"><strong><span style="color: #008080;">“আল্লাহ তাআলা আমার নিকট ওহী করেছেন যে, ‘তোমরা বিনয়ী হও যাতে একজন অপরজনের উপর অহংকার না করে। একজন অপর জনের উপর সীমালংঘন না করে।”</span> -মুসলিম।</strong></span></p>
<p>&nbsp;</p></blockquote>
<h3><span style="color: #800080;"><strong>৫ <span style="text-decoration: underline;">মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহার</span><span style="text-decoration: underline;">:</span> </strong></span></h3>
<p>মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহার উত্তম চরিত্রের অন্যতম। আর এটা তাদের অধিকার মহান হওয়ার কারণে, যে অধিকার স্থান হল আল্লাহর হকের পরে।<strong>আল্লাহ তাআলা বলেনঃ</strong></p>
<blockquote><p><span style="color: #008080;"><strong>‘আর আল্লাহর ইবাদত কর, তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না, এবং মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহার কর।” <span style="color: #008000;">[সূরা আন-নিসা : ৩৫ আয়াত]</span></strong></span></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p>আল্লাহ তাআলা তাদের আনুগত্য, তাদের প্রতি দয়া ও বিনয় এবং তাদের জন্য দু’আ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। <strong>আল্লাহ তাআলা বলেন :</strong></p>
<blockquote><p><strong><span style="color: #008080;">“তাদের উভয়ের জন্য দয়ার সাথে বিনয়ের ডানা নত করে দাও এবং বল, হে আমার রব! তাদের প্রতি দয়া কর যেভাবে শৈশবে আমাকে তারা লালন-পালন করেছেন।” <span style="color: #008000;">[ সূরা আল ইসরা : ২৪ ]</span></span></strong></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করল,</strong></p>
<blockquote><p><span style="color: #008080;"><strong>‘হে আল্লাহর রাসূল! আমার উত্তম আচরণ পাওয়ার সবচেয়ে বেশী অধিকারী ব্যক্তি কে ? তিনি বললেন, ‘তোমার মা।’ অত:পর জিজ্ঞেস করল তারপর কে? তিনি উত্তর দিলেন, ‘তোমার মা।’ অতঃপর জিজ্ঞেস করল তার পর কে? তিনি উত্তর দিলেন, ‘তোমার মা।’ অতঃপর জিজ্ঞেস করল তার পর কে? উত্তর দিলেন, ‘তোমার পিতা।’ <span style="color: #008000;">[বুখারী ও মুসলিম]</span></strong></span></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p><span style="color: #ff0000;">মাতা-পিতার প্রতি এ সদ্ব্যবহার ও দয়া অনুগ্রহ অতিরিক্ত বা পূর্ণতা দানকারী বিষয় নয় বরং তা হচ্ছে সকল মানুষের ঐক্যমতের ভিত্তিতে ফরযে আইন।</span></p>
<p>&nbsp;</p>
<h3><span style="color: #800080;"><strong>৬ <span style="text-decoration: underline;">আত্মীয়তার সর্ম্পক বজায় রাখা </span><span style="text-decoration: underline;">:</span></strong></span></h3>
<p>আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ইসলামী চরিত্রের অন্যতম। আর তারা হচ্ছে নিকটাত্মীয়গণ যেমন, চাচা, মামা, ফুফা, খালা, ভাই, বোন প্রমূখ।</p>
<p>আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ওয়াজিব, আর তা ছিন্ন করা জান্নাত হতে বঞ্চিত ও অভিশাপের কারণ। <strong>আল্লাহ তাআলা বলেনঃ</strong></p>
<blockquote><p><span style="color: #008000;"><strong><span style="color: #008080;">“ যদি তোমরা ক্ষমতা পাও, তাহলে কি তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করবে? তারা তো ঐ সব লোক যাদের প্রতি আল্লাহ অভিশাপ করেছেন। এতে তিনি তাদেরকে বধির করে দিয়েছেন এবং তাদের দৃষ্টি অন্ধ করে দিয়েছেন।”</span> [সূরা মুহাম্মাদ : ২২-২৩]</strong></span></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন,</strong></p>
<blockquote><p><span style="color: #008000;"><strong><span style="color: #008080;">“আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না।”</span> [বুখারী ও মুসলিম]</strong></span></p>
<p>&nbsp;</p></blockquote>
<h3><span style="color: #800080;"><strong>৭ <span style="text-decoration: underline;">প্রতিবেশীর প্রতি সুন্দরতম ব্যবহার</span><span style="text-decoration: underline;">:</span></strong></span></h3>
<p>প্রতিবেশীর প্রতি সুন্দরতম ব্যবহার হচ্ছে ইসলামী চরিত্রের অন্যতম। প্রতিবেশী হচ্ছে সে সব লোক যারা আপনার বাড়ীর আশে পাশে বসবাস করে। যে আপনার সবচেয়ে নিকটবর্তী সে সুন্দর ব্যবহার ও অনুগ্রহের সবচেয়ে বেশী হকদার। <strong>আল্লাহ তাআলা বলেন,</strong></p>
<blockquote><p><span style="color: #008080;"><strong>“আর মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহার কর, নিকটাত্মীয়, এতিম, মিসকীন নিকটতম প্রতিবেশী ও দূরবর্তী প্রতিবেশীর প্রতিও।” <span style="color: #008000;">[সূরা আন-নিসা : ৩৬]</span></strong></span></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p>এতে আল্লাহ নিকটতম ও দূরবর্তী প্রতিবেশীর প্রতি সদ্ব্যবহার করতে ওসিয়ত করেছেন। <strong>রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেনঃ</strong></p>
<blockquote><p><span style="color: #008080;"><strong>‘জিবরীল আমাকে প্রতিবেশীর ব্যাপারে ওসিয়ত করতেছিল এমনকি আমি ধারণা করেনিলাম যে, প্রতিবেশীকে উত্তরাধিকার বানিয়ে দেয়া হবে।’ <span style="color: #008000;">[বুখারী ও মুসলিম]</span></strong></span></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p>অর্থাৎ আমি মনে করেছিলাম যে ওয়ারিশদের সাথে প্রতিবেশীর জন্য মিরাসের একটি অংশ নির্ধারিত করে দেবে। <strong>রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু যর রা. কে লক্ষ্য করে বলেন,</strong></p>
<blockquote><p><strong><span style="color: #008080;">‘হে আবু যর! যখন তুমি তরকারী পাক কর তখন পানি বেশি করে দাও, আর তোমার প্রতিবেশীদের অঙ্গীকার পূরণ কর।” <span style="color: #008000;">[ মুসলিম]</span></span></strong></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p><span style="color: #ff0000;">প্রতিবেশীর পার্শ্বাবস্থানের হক রয়েছে যদিও সে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের প্রতি অবিশ্বাসী বা কাফের হয়।</span></p>
<p>&nbsp;</p>
<h3><span style="color: #800080;"><strong>৮ </strong></span><span style="text-decoration: underline;"><span style="color: #800080; text-decoration: underline;"><strong>মেহমানের আতিথেয়তা:</strong></span></span></h3>
<p>ইসলামী চরিত্রের আরেকটি হচ্ছে মেহমানের আতিথেয়তা।<strong> রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী,</strong></p>
<blockquote><p><span style="color: #008000;"><strong><span style="color: #008080;"> “যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাস করে সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে।”</span></strong><strong> [</strong><strong>বুখারী ও মুসলিম]</strong></span></p>
<p>&nbsp;</p></blockquote>
<h3><span style="color: #800080;"><strong>৯ <span style="text-decoration: underline;">সাধারণভাবে দান ও বদান্যতা:</span></strong></span></h3>
<p>ইসলামী চরিত্রের অন্যতম দিক হচ্ছে দান ও বদান্যতা। আল্লাহ তাআলা ইনসাফ, বদান্যতা ও দান কারীদের প্রশংসা করেছেন। <strong>আল্লাহ তাআলা বলেনঃ</strong></p>
<blockquote><p><span style="color: #008000;"><strong><span style="color: #008080;">“যারা আল্লাহর রাস্তায় নিজেদের সম্পদ ব্যয় করে অতঃপর যা খরচ করেছে তা থেকে কারো প্রতি অনুগ্রহ ও কষ্ট দেয়ার উদ্দেশ্য করে না, তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের নিকট প্রতিদান রয়েছে। তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুশ্চিন্তাও করবে না।”</span>   [সূরা আল বাকারাহ : ২৬২]</strong></span></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p><span style="color: #000000;"><strong>রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন,</strong></span></p>
<p><span style="color: #008000;"> <strong><span style="color: #008080;">‘যার নিকট অতিরিক্ত বাহন থাকে সে যেন যার বাহন নেই তাকে তা ব্যবহার করতে দেয়। যার নিকট অতিরিক্ত পাথেয় বা রসদ রয়েছে সে যেন যার রসদ নেই তাকে তা দিয়ে সাহায্য করে।”</span>  [মুসলিম]</strong></span></p>
<p>&nbsp;</p>
<h3><strong><span style="color: #800080;">১০ <span style="text-decoration: underline;"><span style="text-decoration: underline;">ধৈর্য্য ও সহিষ্ণুতা:</span></span></span></strong></h3>
<p>ধৈর্য্য ও সহিষ্ণুতা হচ্ছে ইসলামী চরিত্রের অন্যতম বিষয়। অনুরূপভাবে মানুষদের ক্ষমা করা, দুর্ব্যবহারকারীকে ছেড়ে দেয়া ওজর পেশকারীর ওজর গ্রহণ করা বা মেনে নেয়াও অন্যতম। <strong>আল্লাহ তাআলা বলেন :</strong></p>
<blockquote><p><strong><span style="color: #008080;">“আর যে ধৈর্য্য ধারণ করল এবং ক্ষমা করল, নিশ্চয়ই এটা কাজের দৃঢ়তার অন্তর্ভূক্ত।”   <span style="color: #008000;">[সূরা আশ শুরা : ৪৩]</span></span></strong></p>
<p>&nbsp;</p></blockquote>
<p><strong>রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,</strong></p>
<blockquote><p><span style="color: #008000;"><strong><span style="color: #008080;">‘তারা যেন ক্ষমা করে দেয় এবং উদারতা দেখায়, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দেয়া কি তোমরা পছন্দ কর না?’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “দান খয়রাতে সম্পদ কমে যায় না। আল্লাহ পাক ক্ষমার দ্বারা বান্দার মার্যাদাই বৃদ্ধি করে দেন। যে আল্লাহর জন্য বিনয় প্রকাশ করে আল্লাহ তার সম্মানই বৃদ্ধি করে দেন।” [মুসলিম ] তিনি আরো বলেন, “দয়া কর, তোমাদের প্রতি দয়া করা হবে। ক্ষমা করে দাও তোমাদেরও ক্ষমা করে দেয়া হবে।”</span>   [আহমাদ]</strong></span></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p></blockquote>
<h3><span style="color: #800000;"><strong><span style="text-decoration: underline;">১। ১  মানুষের মাঝে সমঝোতা ও সংশোধন:</span></strong></span></h3>
<p>ইসলামী চরিত্রের আরেকটি হচ্ছে মানুষের মাঝে সমঝোতা ও সংশোধন করে দেয়া, এটা একটি মহান চরিত্র যা ভালবাসা সৌহার্দ প্রসার ও মানুষের পারষ্পারিক সহযোগিতার প্রাণের দিকে নিয়ে যায়।<strong>আল্লাহ তাআলা বলেন:</strong></p>
<blockquote><p><span style="color: #008080;"><strong>“তাদের অধিকাংশ শলাপরামর্শের মধ্যে কল্যাণ নেই। কেবল মাত্র সে ব্যক্তি ব্যতীত যে সাদকাহ, সৎকর্ম ও মানুষের মাঝে সংশোধনের ব্যাপারে নির্দেশ দেয়। যে আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে এসব করে অচিরেই আমরা তাকে মহা প্রতিদান প্রদান করব।” <span style="color: #008000;">[সূরা আন নিসা : ১১৪]</span></strong></span></p>
<p>&nbsp;</p></blockquote>
<h3><span style="color: #800000;"><strong><span style="text-decoration: underline;">১।২  লজ্জা:</span></strong></span></h3>
<p>ইসলামী চরিত্রের অন্যতম আরেকটি চরিত্র হচ্ছে লজ্জা। এটা এমন একটি চরিত্র যা পরিপূর্ণতা ও মর্যাদাপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের দিকে আহবান করে। অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা হতে বারণ করে। লজ্জা আল্লাহর পক্ষ হতে হয়ে থাকে। ফলে মুসলমান লজ্জা করে যে, আল্লাহ তাকে পাপাচারে লিপ্ত দেখবে। অনুরূপভাবে মানুষের থেকে এবং নিজের থেকেও সে লজ্জা করে। লজ্জা অন্তরে ঈমান থাকার প্রমাণ বহন করে। <strong>নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন,</strong></p>
<blockquote><p><span style="color: #008000;"><strong><span style="color: #008080;">‘লজ্জা ঈমানের বিশেষ অংশ।’</span> [বুখারী ও মুসলিম]</strong></span></p>
<p><span style="color: #008000;"><strong><span style="color: #008080;">রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন, “লজ্জা কল্যাণ ছাড়া আর কিছুই নিয়ে আসে না।”</span> [বুখারী ও মুসলিম]</strong></span></p>
<p>&nbsp;</p></blockquote>
<h3><span style="color: #800000;"><strong><span style="text-decoration: underline;">১।৩  দয়া ও করুণা:</span></strong></span></h3>
<p>ইসলামী চরিত্রের আরেকটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র হচ্ছে দয়া বা করুণা। এ চরিত্রটি অনেক মানুষের অন্তর হতে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। ফলে তাদের অন্তর পাথরের মত অথবা এর চেয়েও শক্ত হয়ে গেছে। আর প্রকৃত মু’মিন হচ্ছে দয়াময়, পরোপকারী, গভীর অনুভূতি সম্পন্ন উজ্জল অনুগ্রহের অধিকারী। <strong>আল্লাহ তাআলা বলেনঃ</strong></p>
<blockquote><p><span style="color: #008080;"><strong>“অত:পর সে তাদের অন্তর্ভূক্ত হয় যারা ঈমান এনেছে পরস্পর পরস্পরকে ধৈর্য্য ও করুণার উপদেশ দিয়েছে। তারা হচ্ছে দক্ষিণ পন্থার অনুসারী।”  <span style="color: #008000;">[সূরা আল-বালাদ : ১৭- ১৮]</span></strong></span></p>
<p>&nbsp;</p></blockquote>
<p><strong>রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন,</strong></p>
<blockquote><p><span style="color: #008080;"><strong>“মুমিনদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য, করুণা, অনুকম্পার উপমা হচ্ছে একটি শরীরের মত। যখন তার একটি অঙ্গ অসুস্থ হয় গোটা শরীর নিদ্রাহীনতা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়।” <span style="color: #008000;"> [মুসলিম]</span></strong></span></p>
<p>&nbsp;</p></blockquote>
<h3><span style="color: #800000;"><strong><span style="text-decoration: underline;">১।৪  ইনসাফ বা ন্যায়পরায়ণতা:</span></strong></span></h3>
<p>ন্যায় পরায়ণতা ইসলামী চরিত্রের আরেকটি অংশ। এ চরিত্র আত্মার প্রশান্তি সৃষ্টি করে। সমাজে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন প্রকার অপরাধ বিমোচনের দিকে নিয়ে যায়। <strong>আল্লাহ তাআলা বলেন:</strong></p>
<blockquote><p><strong><span style="color: #008000;"><span style="color: #008080;">“নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা ইহসান ও নিকটাত্মীয়দের দান করতে নির্দেশ দেন।” </span>  [সূরা আল নাহাল : ৯০]</span></strong></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>আল্লাহ তাআলা বলেন :</strong></p>
<blockquote><p><strong><span style="color: #008000;"><span style="color: #008080;">“ইনসাফ কর, এটা তাক্বওয়ার অতীব নিকটবর্তী।” </span>  [সূরা আল মায়িদা : ৮]</span></strong></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন,</strong></p>
<blockquote><p><span style="color: #008080;"><strong>“ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিরা আল্লাহর নিকট নূরের মিম্বরের উপর বসবে। তারা হল সে সব লোক, যারা বিচার ফয়সালার ক্ষেত্রে, পরিবার-পরিজনের ক্ষেত্রে এবং যে দায়িত্বই পেয়েছে তাতে ইনসাফ করে।”</strong></span></p>
<p>&nbsp;</p></blockquote>
<h3><span style="color: #800000;"><strong><span style="text-decoration: underline;">১।৫  চারিত্রিক পবিত্রতা:</span></strong></span></h3>
<p>ইসলামী চরিত্রের অন্যতম বিষয় হচ্ছে চারিত্রিক পবিত্রতা। এ চরিত্র মানুষের সম্মান সংরক্ষণ এবং বংশে সংমিশ্রন না হওয়ার দিকে পৌঁছে দেয়। <strong>আল্লাহ তাআলা বলেন :</strong></p>
<blockquote><p><strong><span style="color: #008080;">“যাদের বিবাহের সামর্থ নেই, তারা যেন চারিত্রিক পবিত্রতা গ্রহণ করে। যতক্ষণ না আল্লাহ তার অনুগ্রহে তাকে সম্পদশালী করেন।” <span style="color: #008000;">[ সুরা আন নূর-৩৩ ]</span></span></strong></p>
<p>&nbsp;</p></blockquote>
<p><strong>রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেছেন,</strong></p>
<blockquote><p><span style="color: #008080;"><strong>“তোমরা আমার জন্য ছয়টি বিষয়ের জিম্মাদার হও। তাহলে আমি তোমাদের জন্য জান্নাতের জিম্মাদার হব। যখন তোমাদের কেউ কথা বলে সে যেন মিথ্যা না বলে। যখন তার কাছে আমানত রাখা হয় তখন যেন খেয়ানত না করে। যখন প্রতিশ্র“তি দেয় তা যেন ভঙ্গ না করে। তোমরা তোমাদের দৃষ্টি অবনত কর। তোমাদের হস্তদ্বয় সংযত কর। তোমাদের লজ্জাস্থান হেজাফত কর।”<span style="color: #008000;"> [ হাদীসটি তাবারানী বর্ণনা করেছেন এবং হাদীসটিকে ‘হাসান’ বলেছেন ]</span></strong></span></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p>ইসলামের এ সব চরিত্রে এমন কিছু নেই যা ঘৃণা করা যায়। বরং এসব এমন সম্মান যোগ্য মহৎ চারিত্রাবলী যা প্রত্যেক নিষ্কলুষ স্বভাবের অধিকারীর সমর্থন লাভ করে। মুসলমানগণ যদি এ মহৎ চরিত্র ধারণ করত তাহলে সর্বস্থান থেকে তাদের নিকট মানুষ আগমন করত এবং দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে তারা প্রবেশ করত যেভাবে প্রথম যুগের মুসলমানদের লেন-দেন ও চরিত্রের কারণে সে সময়ের মানুষ ইসলামে প্রবেশ করেছিল।</p>
<p><strong>                                                                                                                                    সমাপ্ত</strong></p>
<p style="text-align: left;"><span style="color: #993300;"><strong>ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাবওয়াহ, রিয়াদ</strong></span></p>
<p>&nbsp;</p>
<h3>Related Posts</h3>
<p>No related posts were found, so here's a consolation prize: <a href="http://www.quraneralo.com/khushu-10/" rel="bookmark">কিভাবে নামাজের মাধূর্য আস্বাদন করা যায়? পর্ব ১০</a>.</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.quraneralo.com/15-good-character-of-a-muslim/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>1</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>মাতৃভাষাঃ আল্লাহ তাআলার সৃষ্টির অন্যতম নিদর্শন</title>
		<link>http://www.quraneralo.com/language/</link>
		<comments>http://www.quraneralo.com/language/#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 21 Feb 2012 06:13:54 +0000</pubDate>
		<dc:creator>QuranerAlo.com Editor</dc:creator>
				<category><![CDATA[সাম্প্রতিক বিষয়াদি]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামে মাতৃভাষা]]></category>
		<category><![CDATA[international mother language day]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.quraneralo.com/?p=2840</guid>
		<description><![CDATA[সঙ্কলন এবং সম্পাদনাঃ কুরআনের আলো ওয়েবসাইট মহান আল্লাহর প্রিয় ও সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হচ্ছে মানব জাতি। এই শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি বা আশরাফুল মাখলুকাত তাদের মনের ভাব, হৃদয়ের আকুতি, অন্তরের ব্যাকুলতা ভাষার মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকে। এই ভাষা আল্লাহর দান। মানুষের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত এই ভাষা এক অমূল্য ও অতি বড় নেয়ামত। মহান আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন জাতিকে বিভিন্ন [...]<h3>Related Posts</h3>

No related posts were found, so here's a consolation prize: <a href="http://www.quraneralo.com/book-islamic-noitikota/" rel="bookmark">Book: ইসলামী নৈতিকতা</a>.
]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[
			<!--Facebook Like and Send button by darkomitrovic.com-->
			<div id="fb-root"></div>
			<script>
			<!--
			  window.fbAsyncInit = function() {
				FB.init({appId: "224955984185367", status: true, cookie: true, xfbml: true});
			  };
			  (function() {
				var e = document.createElement("script"); e.async = true;
				e.src = document.location.protocol +
				  "//connect.facebook.net/en_US/all.js";
				document.getElementById("fb-root").appendChild(e);
			  }());
			-->
			</script>
			<fb:like href="http://www.quraneralo.com/language/" send="true" layout="standard" width="450" show_faces="false" colorscheme="light" action="like" font="tahoma"></fb:like>
			<!--Facebook Like and Send button by darkomitrovic.com-->
			<p><a href="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/02/3241889036_40e79031dc_m.jpg"><img class="alignright size-full wp-image-2841" title="3241889036_40e79031dc_m" src="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/02/3241889036_40e79031dc_m.jpg" alt="" width="240" height="175" /></a></p>
<p><strong>সঙ্কলন এবং সম্পাদনাঃ</strong> কুরআনের আলো ওয়েবসাইট</p>
<p>মহান আল্লাহর প্রিয় ও সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হচ্ছে মানব জাতি। এই শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি বা আশরাফুল মাখলুকাত তাদের মনের ভাব, হৃদয়ের আকুতি, অন্তরের ব্যাকুলতা ভাষার মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকে। এই ভাষা আল্লাহর দান। মানুষের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত এই ভাষা এক অমূল্য ও অতি বড় নেয়ামত। মহান আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন জাতিকে বিভিন্ন ভাষা দান করেছেন, প্রত্যেকেই যার যার ভাষাতে খুবই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।  আল্লাহ মানুষকে স্বাধীন বাকশক্তি বা কথা বলার ক্ষমতা দান করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘<span style="color: #800000;">দয়াময় আল্লাহ শিক্ষা দিয়েছেন কোরআন, সৃজন করেছেন মানুষ, তাকে শিখিয়েছেন বর্ণনা</span>’ (সূরা আর-রহমান, আয়াত ১-৪)। অর্থাত্ আল্লাহ মানুষকে তার মনের ভাব প্রকাশ করতে শিখিয়েছেন।</p>
<p>আল্লাহ তা‘আলার নেয়ামতের অফুরন্ত ভাণ্ডার ঘিরে রেখেছে সৃষ্টিকুলকে। তার কোনো নেয়ামতই গুরুত্বের দিক থেকে কম নয়। তবে কিছু কিছু নেয়ামত প্রয়োজন ও অপরিহার্যতার বিচারে একটু বেশিই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। মানুষের মনের ভাব প্রকাশের জন্য স্রষ্টা তাদের যে ভাষার নেয়ামত দান করেছেন সেটাও এর অন্তর্ভূক্ত।</p>
<p>আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “<span style="color: #800000;">আকাশমালা ও যমীনের সৃষ্টি, তোমাদের পারস্পরিক ভাষা ও বর্ণ বৈচিত্র (নিসন্দেহে) তাঁর (কুদরতের) নিদর্শনসমূহের মাঝে (এক একটি বড়ো নিদর্শন); অবশ্যই জ্ঞানবান মানুষদের জন্যে এতে অনেক নিদর্শন রয়েছে</span>”। (সূরা আর রোমঃ ২২)</p>
<p><strong>আয়াতটির তাফসীরঃ "</strong><span style="color: #008000;">আল্লাহ্‌র অস্তিত্বের নিদর্শন সকল সৃষ্টিব্যপী পরিব্যপ্ত। বিশ্ব চরাচরে সকল কিছুই তারই জ্ঞান, প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা ও শিল্প নৈপুন্যের স্বাক্ষর। এই আয়াতে দুইটি বিশেষ উদাহরণকে তুলে ধরা হয়েছে আল্লাহ্‌র নিদর্শনকে উপস্থাপনার জন্য। মানুষের ভাষার বিভিন্নতা ও রং এর বৈচিত্রতার প্রতি এখানে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। ভৌগলিক বিভিন্নতার জন্য দেশে দেশে ভাষা, সংস্কৃতি, জীবন ধারা, প্রভৃতির কতই না পার্থক্য। এসব বিভিন্নতা সৃষ্টি হয়েছে স্রষ্টার ইচ্ছা অনুযায়ী। সুতারাং কেউ যেনো মনে না করে যে ,কোনও ব্যাপারে তারাই শ্রেষ্ঠ। আবার আকাশ, পৃথিবী ও ভূমন্ডলে কত না রং এর বৈচিত্র ছড়ানো। নীল আকাশে সূর্যদয় ও সূর্যাস্তে মেঘের রং এর খেলা থেকে শুরু করে বৃক্ষ তরুলতা, ফুল, ফল, ফসল, প্রাণী মানুষের মাঝে সর্বত্রই রংএর বৈচিত্র। সকল মানুষের আদি পিতা মাতা আদম ও হাওয়া সত্বেও যুগের পরিক্রমায় এই একক পিতা-মাতার পরবর্তী বংশধরেরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে - ফলে পৃথিবীর ভৌগলিক অবস্থানের বিভিন্নতার কারণে তারা বিভিন্ন গাত্রবর্ণ ও ভাষার অধিকারী হয়। কিন্তু উপলব্ধি করার বিষয় হচ্ছে, জাতিতে-জাতিতে, গোত্রে-গোত্রে, ভাষাতে-ভাষাতে যত বিভিন্নতাই থাকুক না কেন তাদের মূল ঐতিহ্য একই রয়ে গেছে। তাদের আবেগ ও অনুভূতি একই ধারাতে প্রবাহিত - সুখ ও দুঃখের সংজ্ঞা এক, সুখ ও শান্তির উপলব্ধি অভিন্ন। কারণ সকলেই তারা এক আল্লাহ্‌র বান্দা। এ কথাই কবি বলেছে, " জগত জুড়িয়া আছে এক জাতি, সে জাতির নাম মানুষ জাতি।"</span></p>
<p><span style="color: #008000;">পৃথিবীর বিবর্তনের ধারায় পুরানো ভাষার অবলুপ্তি ঘটে। আবার নূতন ভাষার সৃষ্টি হয় - নূতন শব্দে সমৃদ্ধ হয়ে নূতন প্রকাশ ভঙ্গীতে, নূতন আঙ্গিকে বিকশিত হয়। পৃথিবী সর্বদা পরিবর্তনশীল , এই-ই আল্লাহ্‌র নিয়ম। যারা জ্ঞানী অর্থাৎ অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন তারা আল্লাহ্‌র এ সকল নিদর্শনকে আত্মার মাঝে উপলব্ধিতে সক্ষম। আবার এ সকল নিদর্শন উপলব্ধির মাধ্যমে আত্মার মাঝে জ্ঞানের বা অন্তর্দৃষ্টি বা দিব্যজ্ঞানের উদ্ভব ঘটে।</span>"  [ উৎস : মাওলানা আবদুল্লাহ্‌ ইউসুফ আলীর ইংরেজী তাফসীর অনুসরনে অনুবাদ]</p>
<p>সুলায়মান (আঃ) পাখী, পিপড়াদের ভাষা বুঝতে পারতেন। <span style="color: #800000;">এই ভাষা বুঝতে পেরে সুলায়মান (আঃ) কিন্তু গর্ব করেননি, অহংকার করেন নি কিংবা অন্যদের বলে বেড়াননি আমি যা জানি তোমরা তা জান না!</span> তিনি পাখী, পিপড়াদের ভাষা বুঝতে পেরে আল্লাহ তাআলার কৃতজ্ঞতা আদায় করেছেন, আল্লাহর নিকট দোয়া করেছেন, আল্লাহ যেন তাকে সৎকর্মশীলদের দলে অন্তর্ভুক্ত করে নেন।</p>
<p>“<span style="color: #800000;">তখন একটি স্ত্রী পিপড়া বললো, হে পিপীলিকার দল, তোমরা (দ্রুত) নিজ নিজ গর্তে ঢুকে পড়ো, (দেখো) এমন যেন না হয় সুলায়মান ও তার বাহিনী নিজেদের অজান্তে তোমাদের পায়ের নীচে পিষে ফেলবে। তার কথা শুনে সুলায়মান একটু মৃদু হাসি হাসলো এবং বললো, হে আমার মালিক, তুমি আমাকে তাওফীক দাও যাতে করে আমাকে ও আমার পিতামাতাকে তুমি যেসব নিয়ামত দান করেছ, আমি যেন (বিনয়ের সাথে) তার কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পারি, আমি যেন এমন সব নেক কাজ করতে পারি যা তুমি পছন্দ করো, (অতপর) তুমি তোমার অনুগ্রহ দিয়ে আমাকে তোমার নেককার মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করে নাও</span>”। (সূরা আন নামলঃ ১৮-১৯)</p>
<p>একটু লক্ষ্য করুন, দেখুন কি চমৎকার শিক্ষা রয়েছে আমাদের জন্যে। সুলায়ামান (আঃ) পিপড়াদের ভাষা বুঝতে পেরে আল্লাহর সন্তুষ্টি সহকারে তৃপ্তির হাঁসি হাঁসলেন এরপর কি চমৎকার দোয়া করলেন আল্লাহ তাআলার নিকট। সুলায়ামন (আঃ) বললেন, হে আমার মালিক, তুমি আমাকের তাওফীক দাও যাতে করে আমাকে ও আমার পিতামাতাকে তুমি যেসব নিয়ামত দান করেছ, আমি যেন (বিনয়ের সাথে) তার কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পারি অর্থাৎ আল্লাহর নিয়ামত পেয়ে আল্লাহর নিকট কৃতজ্ঞতা আদায় করার তাওফীক চাইলেন।</p>
<p>এরপর কৃতজ্ঞতা কিভাবে আদায় করবেন তারও চমৎকার বর্ণনা দিলেন, আমি যেন এমন সব নেক কাজ করতে পারি যা তুমি পছন্দ করো অর্থাৎ ঐসকল কাজ যা করতে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন, যেসকল কাজ করলে আল্লাহ তাআলা সন্তুষ্ট হন। এরপর নেককাজ গুলো যেন আল্লাহর অনুগ্রহ প্রাপ্ত নেক বান্দাহদের মতো হয়, আল্লাহ যেন সেই নেক মানুষদের অন্তর্ভূক্ত করে নেন আর তাই তিনি বললেন, (অতপর) তুমি তোমার অনুগ্রহ দিয়ে আমাকে তোমার নেককার মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করে নাও। আলহামদুলিল্লাহ, কি সুন্দর শিক্ষণীয়, চমৎকার একটি দৃষ্টান্ত।</p>
<p>আমরা আমাদের মায়ের ভাষা বাংলায় কথা বলি, এটা আল্লাহ তাআলার একটা অশেষ নিয়ামত আমাদের জন্যে। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করা। আর এই কৃতজ্ঞতা আদায় করতে যেয়ে আমাদের আল্লাহর পছন্দীয় কাজ করতে হবে এবং অপঞ্ছন্দনিয় সব কাজ থেকে দূরে থাকতে হবে।</p>
<h3>Related Posts</h3>
<p>No related posts were found, so here's a consolation prize: <a href="http://www.quraneralo.com/laylatul-qadr/" rel="bookmark">লাইলাতুল কদর ও কিছু প্রশ্ন</a>.</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.quraneralo.com/language/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>2</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>কবর যিয়ারতের বিধান</title>
		<link>http://www.quraneralo.com/visiting-grave/</link>
		<comments>http://www.quraneralo.com/visiting-grave/#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 19 Feb 2012 19:42:28 +0000</pubDate>
		<dc:creator>QuranerAlo.com Editor</dc:creator>
				<category><![CDATA[ইবাদত]]></category>
		<category><![CDATA[দোয়া]]></category>
		<category><![CDATA[মৃত]]></category>
		<category><![CDATA[যিয়ারত]]></category>
		<category><![CDATA[কবর]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.quraneralo.com/?p=2837</guid>
		<description><![CDATA[লেখকঃ শায়খ আব্দুল আযীয ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইব্‌ন বায রাহিমাহুল্লাহ অনুবাদঃ শিহাবউদ্দিন হোসাইন প্রশ্ন ১ - কবর দৃষ্টিগোচর হলে বা কবরের দেয়াল অতিক্রম করলে কবরবাসীদেরকে সালাম করতে হবে কি? উত্তর – পথিক হলেও সালাম দেয়া উত্তম, এরূপ ব্যক্তির যিয়ারতের নিয়ত করে নেয়া উত্তম। প্রশ্ন ২ - যিয়ারতকারীর নির্দিষ্ট কবরের পাশে গিয়ে যিয়ারত করার হুকুম কি? উত্তর [...]<h3>Related Posts</h3>

No related posts were found, so here's a consolation prize: <a href="http://www.quraneralo.com/how-to-end-ramadan/" rel="bookmark">রমজানকে বিদায় জানানো</a>.
]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[
			<!--Facebook Like and Send button by darkomitrovic.com-->
			<div id="fb-root"></div>
			<script>
			<!--
			  window.fbAsyncInit = function() {
				FB.init({appId: "224955984185367", status: true, cookie: true, xfbml: true});
			  };
			  (function() {
				var e = document.createElement("script"); e.async = true;
				e.src = document.location.protocol +
				  "//connect.facebook.net/en_US/all.js";
				document.getElementById("fb-root").appendChild(e);
			  }());
			-->
			</script>
			<fb:like href="http://www.quraneralo.com/visiting-grave/" send="true" layout="standard" width="450" show_faces="false" colorscheme="light" action="like" font="tahoma"></fb:like>
			<!--Facebook Like and Send button by darkomitrovic.com-->
			<p align="center"><span style="color: #800080;"><strong>লেখকঃ</strong> <strong>শায়খ আব্দুল আযীয ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইব্‌ন বায রাহিমাহুল্লাহ</strong></span></p>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #800080;">অনুবাদঃ শিহাবউদ্দিন হোসাইন</span></p>
<h5><span style="color: #800000;"><a href="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/02/4181830357_2dc18f431f.jpg"><img class="aligncenter size-medium wp-image-2839" title="4181830357_2dc18f431f" src="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/02/4181830357_2dc18f431f-442x331.jpg" alt="" width="442" height="331" /></a>প্রশ্ন ১ - কবর দৃষ্টিগোচর হলে বা কবরের দেয়াল অতিক্রম করলে কবরবাসীদেরকে সালাম করতে হবে কি?</span></h5>
<p><strong>উত্তর –</strong> পথিক হলেও সালাম দেয়া উত্তম, এরূপ ব্যক্তির যিয়ারতের নিয়ত করে নেয়া উত্তম।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ২ - যিয়ারতকারীর নির্দিষ্ট কবরের পাশে গিয়ে যিয়ারত করার হুকুম কি?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> গোরস্থানের প্রথম কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দো‘আ করাই যথেষ্ট, তবুও যদি নির্দিষ্ট কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দো‘আ ও সালাম করতে চায় করতে পারবে।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ৩ – মৃত ব্যক্তি যিয়ারতকারীকে চিনতে পারে?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> কতিপয় হাদিসে এসেছে যে, যিয়ারতকারী যদি এমন হয় যে দুনিয়াতে তার সাথে পরিচয় ছিল তাহলে আল্লাহ যিয়ারতকারীর সালামের উত্তর দেয়ার জন্য তার রুহ ফিরিয়ে দেন । কিন্তু এ হাদিসের সনদে কিছু ত্রুটি রয়েছে। অবশ্য আল্লামা ইবনে আব্দুল বার রাহিমাহুল্লাহ হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ৪ - উম্মে আতিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত,</span></h5>
<h5 dir="RTL" align="center"><span style="color: #3366ff;">«نهينا عن اتباع الجنائز ولم يعزم علينا»</span></h5>
<h5><em><span style="color: #3366ff;">“আমাদেরকে জানাযার সাথে চলতে নিষেধ করা হয়েছে, কিন্তু কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি”।</span></em> <span style="color: #800000;">হাদিসটির ব্যাখ্যা কি?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> আবস্থা দৃষ্টে প্রতিয়মান হচ্ছে যে, বর্ণনাকারীর  মতে নিষেধটি কঠোর নয়, তবে আমাদের জেনে রাখা উচিত যে প্রত্যেক নিষেধ হারাম। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।</p>
<blockquote>
<p dir="RTL" align="center"><span style="color: #3366ff;"><em>«ما نهيتكم عنه فاجتنبوه وما أمرتكم به فأتوا منه ما استطعتم» (متفق عليه)</em></span></p>
<p><span style="color: #3366ff;"><em>“আমি যার থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করি, তোমরা তা পরিত্যাগ কর, আর আমি তোমাদেরকে যার আদেশ দেই, তোমরা তা সাধ্যানুসারে পালন কর”। (বুখারি ৩৯১)</em></span></p></blockquote>
<p>এ হাদিস দ্বারা প্রতিয়মান হয় যে, মহিলাদের জানাযার সাথে কবর পর্যন্ত যাওয়া হারাম, তবে পুরুষদের ন্যায় তারা জানাযায় অংশ গ্রহণ করতে পারবে।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ৫ - একটি হাদিসে আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তিকে কবরের উপর জুতা নিয়ে হাটতে দেখে বললেন, হে জুতা ওয়ালা! তোমার জুতাদ্বয় খুলে নাও। এ হাদিসের উপর কি আমল করা যাবে? জুতা নিয়ে কেউ কবরের উপর হাটা-চলা করতে চাইলে তাকে কি নিষেধ করা হবে?</span></h5>
<p><strong>উত্তর –</strong> হ্যাঁ, বর্ণিত হাদিসের উপর আমল করা যাবে, সুতরাং কোন অবস্থাতেই কবরের উপর জুতা নিয়ে হাটা-চলা করা জায়েয হবে না। হ্যাঁ, বিশেষ প্রয়োজনে যেমন কবরের উপর যদি কাঁটাদার গাছ থাকে বা মাটি অত্যন্ত গরম হয়, যে কারণে খালিপায়ে চলা অসম্ভব হয়, এমতাবস্থায় জুতা নিয়ে কবরের উপর হাঁটা যেতে পারে, এরূপ কোন বিশেষ প্রয়োজন না হলে তাকে অবশ্যই নিষেধ করা হবে, যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। তাকে শরি‘আতের হুকুম জানিয়ে দেবে।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ৬ - গোরস্থানে প্রবেশকালে জুতা খুলার বিধান কি?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> কবরের উপর দিয়ে হেঁটে গেলে জুতা অবশ্যই খুলতে হবে, আর যদি কবরের উপর দিয়ে না হেটে গোরস্থানের প্রথম কবরের পাশে দাঁড়িয়ে সালাম দেয়, তা হলে জুতা খুলতে হবে না।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ৭ – জনৈক মহিলাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কবরের পাশে ক্রন্দরত আবস্থায় দেখে বলেছিলেন,</span></h5>
<h5 dir="RTL" align="center"><span style="color: #3366ff;">«اتقي الله واصبري»</span></h5>
<h5><span style="color: #800000;"><em><span style="color: #3366ff;">“আল্লাহকে ভয়কর ও ধৈর্যধারণ কর”। (বুখারি ও মুসলিম)</span></em> এ হাদিস কি মহিলাদের কবর যিয়ারত বৈধ প্রমাণ করে না?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> সম্ভবত উল্লিখিত ঘটনাটি নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্য কবর যিয়ারত বৈধ থাকাকালিন সময়ের ঘটনা। আর মহিলাদের জন্য কবর যিয়ারত নিষিদ্ধকারী হাদিস এ হাদিসের জন্যে নাসেখ বা এ হাদিসকে রহিতকারী।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ৮ - কিছু কিছু শহরে অনেক মানুষ কববের উপর ঘর তৈরি করে সেখানে বসবাস করে। এটা কতটুকু শরিয়ত সম্মত?</span></h5>
<p><strong>উত্তর –</strong> এটা নেহায়েত গর্হিত ও নিন্দনীয় কাজ, এ কাজের দ্বারা কবরবাসীদের অপমান করা হয়, তাই তাদেরকে এ কাজ হতে বারণ করা এবং শরি‘আতের বিধান সম্পর্কে অবহিত করা জরুরী। তারা এসব কবরের উপর যেসব সালাত আদায় করেছে, তা সব বাতিল ও বৃথা। এ অবস্থায় কবরের উপর বসাও অত্যন্ত গর্হিত কাজ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম বলেছেন,</p>
<blockquote>
<p dir="RTL" align="center"><span style="color: #3366ff;"><em>« لا تصلوا إلى القبور ولا تجلسوا عليها » (رواه مسلم)</em></span></p>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #3366ff;"><em>“কবরের দিকে মুখ করে নামাজ পড়বে না এবং কবরের উপর বসবে না”। (মুসলিম ২১২২)</em></span></p>
</blockquote>
<p>রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়াসাল্লম আরো বলেছেন,</p>
<blockquote>
<p dir="RTL" align="center"><span style="color: #3366ff;"><em>«لعن الله اليهود والنصارى اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد» (رواه البخاري)</em></span></p>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #3366ff;"><em>“আল্লাহ ইয়াহূদী ও নাসারাদের উপর লানত করেছেন, কারণ তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে”। (মুসলিম ১০৭৯)</em></span></p>
</blockquote>
<p>এ হাদিস সম্পর্কে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বাণী দ্বারা তাদেরকে তাদের গর্হিত কাজের জন্য সতর্ক করেছেন।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ৯ - জনৈক ব্যক্তির কবরের উপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হল, আর ঐ ব্রিজের উপর দিয়ে একটি যাত্রিবাহী গাড়ি যাওয়ার সময় বিরত দিল, যাত্রীদের মাঝে একজন মহিলাও রয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে গাড়িটির যাত্রা বিরতির কারণে সে মহিলা কি কবর যিয়ারতকারীদের অন্তর্ভূক্ত হবে, সে মহিলা কি কবরবাসীদের সালাম করবে?</span></h5>
<p><strong>উত্তর –</strong> না, মহিলা কবর যিয়ারতকারীদের অন্তর্ভূক্ত হবে না, ব্রিজ কেন কবরের পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেও কবর যিয়ারতকারী বলে গণ্য হবে না। মহিলা যদি পথচারী হয়, তবুও তার পক্ষে কবরবাসীদের সালাম না করা উত্তম।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ১০ - একটি হাদিস প্রচলিত আছে,</span></h5>
<h5 dir="RTL" align="center"><span style="color: #ff0000;">« اذا مررتم بقبر كافر فبشروه بالنار »</span></h5>
<h5><span style="color: #800000;"><span style="color: #ff0000;">“যখন তোমরা কোন কাফেরের কবরের পাশ দিয়ে যাও, তখন তাকে জাহান্নামের সুসংবাদ দাও”।</span> এ হাদিসটি কতটুকু শুদ্ধ?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> আমার জানা মতে এ হাদিসের বিশুদ্ধ কোন সনদ নেই।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ১১- মহিলারা কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কবরবাসীদের সালাম দেবে কি?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> আমার জানা মতে কবরবাসীদেরকে মহিলাদের সালাম না-করা উচিৎ। কারণ সালাম বিনিময় কবর যিয়ারতের রাস্তা উম্মুক্ত করবে, দ্বিতীয়ত সালাম দেয়া কবর জিয়ারতের অন্তর্ভুক্ত। তাই মহিলাদের উপর ওয়াজি হচ্ছে সালাম বর্জন করা, তারা যিয়ারত ব্যতীত মৃতদের জন্য শুধু দো‘আ করবে।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ১২ - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর জিয়ারতের নিয়ম কি?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর জিয়ারতের সুন্নত তরিকা এই যে, কবরের দিকে মুখ করে সালাম দেবে, অতঃপর তাঁর দু’সাথী আবু-বকর ও ওমরকে সালাম দেবে, অতঃপর ইচ্ছা করলে অন্য জায়গায় গিয়ে কিবলামুখী হয়ে নিজের জন্য দো‘আ করবে।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ১৩ - মহিলাগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর যিয়ারত করতে পারবে কি?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> মহিলাদের জন্য কবর যিয়ারত করা নিষেধ, যেসব হাদিসে মহিলাদের কবর যিয়ারত থেকে বারণ করা হয়েছে, সেখানে রাসূলের কবরও অন্তর্ভুক্ত, তাই তাদের জন্য জরুরী হচ্ছে রাসূলের কবর যিয়ারত না-করা। মহিলাদের জন্য রাসূলের কবর যিয়ারত বৈধ না অবৈধ এ সম্পর্কে ওলামায়ে কেরাম দু’ভাগে বিভক্ত, তাই সুন্নতের অনুসরণ ও মতানৈক্য থেকে বাঁচার জন্য মহিলাদের জন্য যে কোন কবর যিয়ারত ছেড়ে দেয়াই শ্রেয়। তা ছাড়া মহিলাদের জন্য কবর যিয়ারত নিষেধ সংক্রান্ত হাদিসে রাসূলের কবরকে বাদ দেয়া হয়নি। এমতাবস্থায় হাদিসের ব্যাপকতার উপর আমল করাই ওয়াজিব, যতক্ষণ না এর বিপরীত কোন সহিহ হাদিস পাওয়া যায়।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ১৪ - মসজিদে প্রবেশকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর যিয়ারত করতে পারবে কি?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> মসজিদে প্রবেশকালে রাসূলকে শুধু সালাম করবে, শুধু কবর জিয়াতর উদ্দেশ্যে যাবে না, তবে মাঝে-সাজে যেতে পারে।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ১৫ - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা কি জায়েয?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> মসজিদে নববি জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা জায়েয। তাই মসজিদে নববির যিয়ারত মূল উদ্দেশ্য করে সফর করবে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয় হিসেবে নবীর কবর যিয়ারত করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,</p>
<blockquote>
<p dir="RTL" align="center"><em><span style="color: #3366ff;">«لاتشد الرحال إلا إلى ثلاثة مساجد: المسجد الحرام ومسجدي هذا والمسجد الاقصى» (رواه البخاري)</span></em></p>
<p style="text-align: center;"><em><span style="color: #3366ff;">“তিন মসজিদ ব্যতীত অন্য কোথাও সফর করা যাবে নাঃ মাসজিদে হারাম, আমার এ মসজিদ ও মসজিদে আকসা”। (বুখারি ২৮১)</span></em></p>
</blockquote>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ১৬ - কবর জিয়ারতের জন্য জুমার দিনকে নির্দিষ্ট করা কেমন?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> এর কোন ভিত্তি নেই। যিয়ারতকারী সুযোগ বুঝে যখন ইচ্ছা যিয়ারত করবে। জিয়ারতের জন্য কোন দিন বা রাতকে নির্ধারিত করা বিদ‘আত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,</p>
<blockquote>
<h5 dir="RTL" align="center"><em><span style="color: #3366ff;">«من احدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد» (متفق عليه)</span></em></h5>
<h5 style="text-align: center;"><em><span style="color: #3366ff;">“আমাদের এ দ্বীনে যে কেউ নতুন কিছু আবিষ্কার করল, তা পরিত্যক্ত”। (বুখারি ৮৬১)</span></em></h5>
</blockquote>
<p>রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন,</p>
<p dir="RTL" align="center"><span style="color: #3366ff;">«من عمل عملا ليس عيه أمرنا فهو رد» (رواه مسلم)</span></p>
<p><em><span style="color: #3366ff;">“যে এমন কোন কাজ করল যা আমাদের আদর্শ নয়, তা পরিত্যক্ত”</span></em>।হাদিসটি ইমাম মুসলিম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার সূত্রে বর্ণনা করেছেন।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ১৭ - মহিলাদের জন্য কবর যিয়ারত নিষেধ হওয়া সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে কিভাবে কবর জিয়ারতের দো‘আ শিক্ষা দিয়েছেন?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> কবর যিয়ারত প্রথমে সবার জন্য নিষেধ ছিল, অতঃপর সবার জন্য জায়েয হয়, অতঃপর শুধু মহিলাদের জন্য নিষেধ হয়। এ ব্যাখ্যার পরিপেক্ষিতে বলা যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আহাকে কবর জিয়ারতের আদব তখন শিক্ষা দিয়েছিলেন যখন তা সবার জন্য জায়েয ছিল।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ১৮ - কবরের পাশে দো‘আ কি দু’হাত তুলে করতে হবে?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> কবরের পাশে দু’হাত তুলে দো‘আ করা জায়েয আছে, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর যিয়ারত করে কবরবাসীদের জন্য দু’হাত তুলে দো‘আ করেছেন। (মুসলিম)</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ১৯ - কবরের পাশে সম্মিলিত দোয়ার কি হুকুম?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> কাউকে দো‘আ করতে দেখে শ্রোতাদের আমিন আমিন বলায় কোন বাঁধা নেই। তবে পরিকল্পিতভাবে সম্মিলিত দো‘আ করা যাবে না। অকস্মাৎ কাউকে দো‘আ করতে দেখে তার সাথে সাথে আমিন আমিন বলা যাবে, কারণ এটাকে সম্মিলিত দো‘আ বলা হয় না।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ২০ - গোরস্থানের প্রথমাংশে সালাম দিলে সমস্ত কবরবাসীর জন্য সালাম বিবেচ্য হবে?</span></h5>
<p><strong>উত্তর –</strong> এ সালামই যথেষ্ট, সে ইনশাল্লাহ জিয়ারতের সাওয়াব পেয়ে যাবে। যদি গোরস্থান অনেক বড় হয় আর সে ঘুরে ঘুরে সব দিক দিয়ে সালাম বিনিময় করতে চায় তাও করতে পারবে।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ২১ - অমুসলিমের কবর যিয়ারত করা কি জায়েয?</span></h5>
<p><strong>উত্তর –</strong> শিক্ষা গ্রহণের জন্য হলে অমুসলিমের কবর যিয়ারত করা জায়েয। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মায়ের কবর যিয়ারত করে তাঁর জন্যে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনার অনুমতি চেয়ে ছিলেন, কিন্তু তাঁকে এ বিষয়ে অনুমতি দেয়া হয়নি। শুধু জিয়ারতের অনুমতি দেয়া হয়েছে।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ২২ - দু’ঈদের দিনকে কবর জিয়ারতের জন্য নির্দিষ্ট করার কোন ভিত্তি আছে কি?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> আমার জানামতে এর কোন ভিত্তি নেই, যিয়ারতকারীর যখন সুযোগ হবে তখন সে যিয়ারত করবে, এটাই সুন্নত।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ২৩ - মৃতের জন্য দো‘আ করার সময় কবর মুখী হয়ে দো‘আ করা কি নিষেধ?</span></h5>
<p><strong>উত্তর –</strong> না, নিষেধ নয়, মৃতের জন্য দো‘আ করার সময় কেবলামুখী ও কবরমুখী উভয় বৈধ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তির দাফন শেষে বললেন,</p>
<blockquote>
<p style="text-align: center;" dir="RTL" align="center"><span style="color: #3366ff;"><em>«استغفروا لأخيكم واسألوا له التثبيت فإنه الآن يسأل» (رواه أبوداود)</em></span></p>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #3366ff;"><em>“তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রর্থনা কর এবং তার ইস্তেকামাতের দো‘আ কর, কেননা তাকে এখন প্রশ্ন করা হবে”।</em></span></p>
</blockquote>
<p>এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলেননি যে, কিবলামুখী হয়ে দো‘আ কর।</p>
<p>সুতরাং কিবলামুখী হয়ে দো‘আ করুক আর কবরমুখী হয়ে দো‘আ করুক উভয়ই জায়েয। রাসূলের সাহাবিগণ কবরের চতুর্পাশে দাঁড়িয়ে মৃতের জন্য দো‘আ করতেন।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ২৪- দু’হাত তুলে মৃতের জন্য দো‘আ করা কি জায়েয?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> কিছু কিছু হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কবর যিয়ারত করে দো‘আ করতেন তখন দু’হাত তুলেই দো‘আ করতেন। যেমন ইমাম মুসলিম রাহিমাহুল্লাহ উম্মুল মুমিনিন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর যিয়ারত করে তাদের জন্য দো‘আ করার সময় দু’হাত তুলেছেন।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ২৫ - আমাদের এখানে কিছু সৎকর্মী যুবক বাস করে, তারা নিজেদের সাথে কতক গাফেল লোকদেরকে কবর জিয়ারতের জন্য নিয়ে যেতে চায়, হয়ত তাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় সঞ্চার হবে। এ ব্যাপারে আপনাদের মত কি?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> এটা একটি মহৎ কাজ, এতে কোন বাঁধা নেই। এটা ভাল কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করার অন্তর্ভূক্ত। আল্লাহ তাদেরকে উত্তম বিনিময় দান করুন।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ২৬ - কবরের উপর কোন চিহ্ন স্থাপন করার হুকুম কি?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> লিখা বা নাম্বারিং করা ব্যতীত শুধু পরিচয়ের জন্য কবরের উপর চিহ্ন স্থাপন করা যেতে পারে। বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের উপর কিছু লিখতে নিষেধ করেছেন, আর নাম্বারিং করাও লিখার অন্তর্ভূক্ত। তবে কবরস্থ লোকের পরিচয়ের জন্য শুধু পাথর ইত্যাদি রাখা যাবে, কালো বা হলুদ রঙের পাথরও রাখা যাবে। বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবি উসমান ইবন মাজউন রাদিয়াল্লাহু আনহুর কবরের উপর চিহ্ন স্থাপন করেছিলেন।</p>
<h3>Related Posts</h3>
<p>No related posts were found, so here's a consolation prize: <a href="http://www.quraneralo.com/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ac/" rel="bookmark">বিয়ের প্রস্তাব : করণীয় ও বর্জনীয়</a>.</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.quraneralo.com/visiting-grave/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>3</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>সালাতুল জানাযা ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা</title>
		<link>http://www.quraneralo.com/ahkamul_janaza/</link>
		<comments>http://www.quraneralo.com/ahkamul_janaza/#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 19 Feb 2012 05:39:24 +0000</pubDate>
		<dc:creator>QuranerAlo.com Editor</dc:creator>
				<category><![CDATA[সালাত / নামায শিক্ষা]]></category>
		<category><![CDATA[দাফন]]></category>
		<category><![CDATA[নামাজ]]></category>
		<category><![CDATA[মসজিদ]]></category>
		<category><![CDATA[মৃত]]></category>
		<category><![CDATA[জানাযা]]></category>
		<category><![CDATA[কবর]]></category>
		<category><![CDATA[funeral]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.quraneralo.com/?p=2831</guid>
		<description><![CDATA[লেখকঃ শায়খ আব্দুল আযীয ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইব্‌ন বায রাহিমাহুল্লাহ অনুবাদঃ শিহাবউদ্দিন হোসাইন প্রশ্ন -১ দাফনের পর সালাতে জানাযার হুকুম কি? তা কি একমাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ? উত্তর - দাফনের পর জানাযা পড়া সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দাফনের পর জানাযার সালাত পড়েছেন। যে ব্যক্তি জামাতের সহিত সালাত পাড়েনি সে দাফনের পর পড়বে। যে একবার পড়েছে সে ইচ্ছা করলে [...]<h3>Related Posts</h3>

No related posts were found, so here's a consolation prize: <a href="http://www.quraneralo.com/%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%aa/" rel="bookmark">কিভাবে নামাজের মাধূর্য আস্বাদন করা যায়?পর্ব ৪</a>.
]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[
			<!--Facebook Like and Send button by darkomitrovic.com-->
			<div id="fb-root"></div>
			<script>
			<!--
			  window.fbAsyncInit = function() {
				FB.init({appId: "224955984185367", status: true, cookie: true, xfbml: true});
			  };
			  (function() {
				var e = document.createElement("script"); e.async = true;
				e.src = document.location.protocol +
				  "//connect.facebook.net/en_US/all.js";
				document.getElementById("fb-root").appendChild(e);
			  }());
			-->
			</script>
			<fb:like href="http://www.quraneralo.com/ahkamul_janaza/" send="true" layout="standard" width="450" show_faces="false" colorscheme="light" action="like" font="tahoma"></fb:like>
			<!--Facebook Like and Send button by darkomitrovic.com-->
			<p style="text-align: center;" align="center"><span style="color: #800080;"><strong>লেখকঃ</strong> <strong>শায়খ আব্দুল আযীয ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইব্‌ন বায রাহিমাহুল্লাহ</strong></span></p>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #800080;">অনুবাদঃ শিহাবউদ্দিন হোসাইন</span></p>
<p><a href="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/02/Janaza.jpg"><img class="aligncenter size-full wp-image-2835" title="Janaza" src="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/02/Janaza.jpg" alt="" width="504" height="302" /></a></p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন -১ দাফনের পর সালাতে জানাযার হুকুম কি? তা কি একমাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> দাফনের পর জানাযা পড়া সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দাফনের পর জানাযার সালাত পড়েছেন। যে ব্যক্তি জামাতের সহিত সালাত পাড়েনি সে দাফনের পর পড়বে। যে একবার পড়েছে সে ইচ্ছা করলে অন্যান্য মুসল্লিদের সাথে একাধিকবার পড়তে পারবে, এতে কোন সমস্যা নেই। আলেমদের প্রসিদ্ধ মতানুসারে দাফনের একমাস পর পর্যন্ত জানাযার সালাত পড়া যায়।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ২- জানাযায় অংশগ্রহণকারীর যদি আংশিক সালাত ছুটে যায় তাহলে তা আদায় করতে হবে কি?</span></h5>
<p><strong>উত্তর –</strong> হ্যাঁ, ছুটে যাওয়া অংশ সাথে সাথে আদায় করে নিবে। যদি ইমামকে তৃতীয় তাকবীরে পায় তাহলে সে তাকবির বলে সূরা ফাতিহা পড়বে, ইমাম যখন চতুর্থ তাকবীর বলবে তখন সে দ্বিতীয় তাকবীর বলে রাসূলের উপর দরুদ পড়বে, ইমাম যখন সালাম ফিরাবে তখন সে তৃতীয় তাকবীর বলে দু’আ পড়বে অতঃপর চতুর্থ তাকবির দিয়ে সালাম ফিরাবে।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ৩- ছুটে যাওয়া আংশিক সালাত আদায়ের আগেই যদি লাশ তুলে নেয়া হয় তাহলে অবশিষ্ট সালাত কিভাবে আদায় করবে?</span></h5>
<p><strong>উত্তর –</strong> সাথে সাথে তাকবিরে তাহরিমা বলে সূরা ফাতিহা পড়বে, অতঃপর ইমামের সাথে তাকবির বলবে ও রাসূলের (সাঃ) উপর দরুদ পড়বে। অতঃপর ইমাম সালাম ফিরালে সে তাকবির দিয়ে দো‘আ করবে, যার অর্থ: “হে আল্লাহ, তুমি এ মৃতকে ক্ষমা কর", অতঃপর তাকবির বলে সালাম ফিরাবে। ইমামের সাথে দু’তাকবির পেলে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করবে।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ৪- জানাযার সালাতে ইমামের ডানপাশে কাতার বন্ধি জায়েয কি না?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> প্রয়োজনে ইমামের ডান ও বাম দিকে কাতার বন্ধি করা যেতে পারে, তবে ইমামের পিছনে কাতার বন্ধি করাই সুন্নত, কিন্তু জায়গার সঙ্কীর্ণতার কারণে ইমামের ডান ও বামে কাতার হতে পারবে।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ৫- মুনাফেকের উপর জানাযার নামাজ পড়া যাবে কি?</span></h5>
<p style="text-align: left;"><strong>উত্তর –</strong> যার নেফাক সুস্পষ্ট, তার উপর জানাযার সালাত পড়া যাবে না। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেনঃ</p>
<blockquote>
<p style="text-align: center;" dir="RTL"><span style="color: #008000;"><strong>﴿وَلَا تُصَلِّ عَلَىٰٓ أَحَدٖ مِّنۡهُم مَّاتَ أَبَدٗا ٨٤﴾ [التوبة: 84]</strong></span></p>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #008000;"><strong>“আর তাদের মধ্যে যে মারা গিয়েছে, তার উপর তুমি জানাযা পড়বে না”। (সূরা আত-তাওবাহ: ৮৪)</strong></span></p>
</blockquote>
<p>আর যদি নেফাকির বিষয়টি অস্পষ্ট বা অপবাদমুলক হয়, তাহলে তার উপর জানাযা পড়া যাবে, কারণ মৃতের উপর জানাযা পড়া অকাট্য দলীলের কারণে ওয়াজিব, যা কোন সন্দেহের দ্বারা রহিত হবে না।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ৬- লাশ দাফনের একমাস পর কবরের উপর জানাযা পড়া যাবে?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> এ প্রসঙ্গে আলেমদের মতানৈক্য রয়েছে, তাই উত্তম হল একমাসের পর না পড়া। অধিকাংশ বর্ণনা মতে দেখা যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একমাস পর্যন্ত কবরের উপর জানাযা পড়েছেন, একমাসের বেশী সময় অতিবাহিত হওয়ার পর নামাজ পড়ছেন বলে কোন প্রমাণ নেই। তাছাড়া প্রকৃতপক্ষে জনাযা তো দাফনের পূর্বে পরে নয়।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ৭- জানাযার স্থানে পৌঁছতে অক্ষম ব্যক্তি গোসল খানায় জানাযা পড়তে পারবে?</span></h5>
<p><strong>উত্তর –</strong> হ্যাঁ, পড়তে পারবে যদি গোসলখানা পাক হয়।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ৮- মৃতব্যক্তিকে সালাত পর্যন্ত কোন কক্ষে রাখতে কোন অসুবিধা আছে কি?</span></h5>
<p><strong>উত্তর –</strong> না, তাতে কোন অসুবিধা নেই।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ৯-এ হাদিসটি কতটুকু শুদ্ধ যেখানে বলা হয় যে,</span></h5>
<blockquote>
<p style="text-align: center;" dir="RTL"><span style="color: #ff0000;"><em>«إنَّ الشَّيَاطِيْنَ تَلْعَبُ بِالْمَيِّتِ»</em></span></p>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #ff0000;"><em>“শয়তান মৃতব্যক্তিকে নিয়ে খেলা করে”।</em></span></p>
</blockquote>
<h4></h4>
<p><strong>উত্তর - এটি একটি বিভ্রান্তিকর কাথা, আমাদের জানামতে ইসলামি শরি‘আতে এর কোন ভিত্তি নেই।</strong></p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ১০- যারা কবরের উপর নির্মিত মসজিদে নামায পড়া বৈধ মনে করে, তারা তাদের সপক্ষে দলিল পেশ করে যে, <span style="color: #993300;"><em>মসজিদে নববিও তো কবরের উপর, সেখানে কিভাবে সালাত শুদ্ধ হচ্ছে?</em></span></span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> রাসূলের কবর মসজিদে নয় বরং রাসূলের কবর তাঁর ঘরের ভিতর। যারা ধারণা করে যে মসজিদে নববি রাসূলের কবরের উপর তাদের ধারণা ভুল।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ১১- জানাযার নামাজে ইমামতির জন্য মসজিদের স্থায়ী ইমাম অধিক হকদার, না মৃতের ওয়ারিসগণ?</span></h5>
<p><strong>উত্তর –</strong> জানাযা যদি মসজিদে হয়, তাহলে মসজিদের ইমামই জানাযা পড়াবে।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ১২- আমরা জানি যে দাফনের পর প্রায় একমাস পর্যন্ত মৃতের উপর নামাজ পড়া যায়। তাহলে প্রশ্ন জাগে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে তাঁর শেষ জীবনে “জান্নাতুল বাকি”তে (মসজিদের নববির পাশে অবস্থিত গোরস্তান) দাফন কৃত সাহাবাদের উপর জানাযা পড়েছেন এবং তাদেরকে সম্বোধন করে কথা বলেছেন?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> তাদের উপর জানাযা পড়েছেন, এর অর্থ হচ্ছে তাদের জন্যে দু’আ করেছেন, আর মৃতদের জন্যে দো‘আ যে কোন সময় হতে পারে।</p>
<h5><span style="color: #ff0000;">প্রশ্ন ১৩- যে মসজিদে কবর বিদ্যমান, সেখানে কি সালাত পড়া যাবে?</span></h5>
<p><span style="color: #ff0000;"><strong><span style="color: #000000;">উত্তর</span></strong> – না, যে মসজিদে কবর রয়েছে সেখানে সালাত পড়া যাবে না। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াহূদী ও খৃস্টানদেরকে এ জন্যে অভিশাপ করেছেন যে, তারা তাদের নবীগণের কবরকে মসজিদে পরিণত করেছিল।</span></p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ১৪- যদি অবস্থা এমন হয় যে পুরা শহরে একটি মাত্র মসজিদ, আর তাতে রয়েছে কবর এমতাবস্থায় মুসলিমগণ কি ঐ মসজিদে নামায পড়বে?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> মুসলিম কখনো সে মসজিদে সালাত পড়বে না। যদি কবরহীন অন্য কোন মসজিদ পাওয়া যায় তা হলে ঐ মসজিদে পড়বে অন্যথায ঘরেই সালাত পড়বে। কোন মসজিদে কবর থাকলে দেখতে হবে যে, মসজিদ আগে নির্মাণ হয়েছে না কবর আগে তৈরি হয়েছে, যদি মসজিদ আগে হয়ে থাকে তাহলে কর্তৃপক্ষের উপর ওয়াজিব হচ্ছে কবর খনন করে সেখান হতে অবশিষ্ট হাড্ডি মাংশ উত্তলন করে সাধারণ জনগনের জন্যে ব্যাবহারিত কবরস্থানে স্থানান্তর করা। আর যদি কবর পূর্ব হতে থাকে আর মসজিদ পরে নির্মাণ হয়। তাহলে সেখান থেকে মসজিদ ভেঙ্গে অন্য জায়গায় নির্মাণ করবে, যেখানে কোন কবর নেই।</p>
<p>কারণ আম্বিয়ায়ে কেরামের কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ করার কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াহূদী ও খৃস্টানদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন (মুসলিমঃ কিতাবুস সালাতঃ ১০৭৯)। মুমিন জননী উম্মে সালমা ও উম্মে হাবীবাহ যখন সংবাদ দিলেন যে, হাবশায় তাঁরা এমন একটি গির্জা দেখেছেন যেখানে প্রতিমার ছবি নির্মিত। এতদশ্রবণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: #3366ff;"><em>“তাদের মাঝে কোন সৎকর্মশীল লোক মারা গেলে তারা তাদের কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ করত এবং সেখানে তাদের প্রতিমা স্থাপন করত। তারা আল্লাহর নিকট এ ভূ-পৃষ্ঠের মধ্যে নিকৃষ্টতম প্রাণী”(মুসলিম ১০৭৬)</em></span></p>
</blockquote>
<p>এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, কোন ব্যক্তি কবরের উপর নির্মিত মসজিদে সালাত পড়লে তা বাতিল বলে গণ্য, এ সালাত পুনরায় পড়তে হবে।</p>
<h5><span style="color: #800000;"><strong>প্রশ্ন ১৫- জানাযার নিয়ম কি ?</strong></span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> জানাযার নিয়ম এই যে, প্রথমে তাকবির বলে ইমাম সাহেব আউযুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়ে সূরা-ফাতিহা পড়বে। সূরা ফাতিহার সাথে সূরায়ে ইখলাস বা সূরায়ে ‘আসরের ন্যায় কোরআনের কোন ছোট সূরা বা কিছু আয়াত মিলিয়ে নেয়া মুস্তাহাব। সাহাবি আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে সূরা মিলিয়ে জানাযা পড়তেন। অতঃপর দ্বিতীয় তাকবির দিয়ে রাসূলের (সাঃ) উপর দরুদ পড়বে, যেমন অন্যান্য নামাযের শেষ বৈঠকে পড়া হয়। অতঃপর তৃতীয় তাকবির দিয়ে মৃতের জন্যে দু’আ করবে, দু’আর সময় নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে শব্দের আভিধানিক পরিবর্তন প্রয়োগ করবে, একাধিক জানাযা হলে বহুবচনের সর্বনাম ব্যবহার করবে। অতঃপর চতুর্থ তাকবির বলবে এবং ক্ষণকাল চুপ থেকে ডান দিকে এক সালাম ফিরিয়ে জানাযা শেষ করবে।</p>
<p>আর ছানা ইচ্ছা করলে পড়তেও পারে, আবার ইচ্ছা করলে ছেড়েও দিতে পারে। তবে তা পরিত্যাগ করাই উত্তম হবে। কেননা, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, <span style="color: #3366ff;"><em>“তোমরা জানাযা নিয়ে তাড়াতাড়ি করবে।” ( মুসলিম ২০৬১)</em></span></p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ১৬- যে ব্যক্তি জানাযা ও দাফনে অংশগ্রহণ করবে সে কি দু’কিরাত নেকি পাবে?</span></h5>
<p style="text-align: left;"><strong>উত্তর –</strong> হ্যাঁ, সে দু’কিরাত নেকি পাবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ</p>
<blockquote>
<p style="text-align: center;" dir="RTL"><span style="color: #3366ff;"><em>ولقوله صلى الله عليه وسلم «من شهد الجنازة حتى يصلى عليها فله قيراط ومن شهدها حتى تدفن فله قيراطان» قيل يارسول الله: وما القيراطان ؟ قال: «مثل الجبلين العظيمين»</em></span></p>
<p><span style="color: #3366ff;"><em>“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, যে ব্যক্তি জানাযায় অংশগ্রণ করত নামাজ পর্যন্ত অপেক্ষা করবে সে এক কিরাত নেকি পাবে, আর যে জানাযায় অংশগ্রহণ করে দাফন পর্যন্ত অপেক্ষা করবে সে দু’কিরাত নেকি পাবে”। জিজ্ঞসা করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! দু’কিরাত বলতে কি বুঝায়? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “দুইটি বড় পাহাড় সমপরিমাণ”। (বুখারি ৪৫; মুসলিম ২০৬৮, ২০৬৫, ২০৬৭, ২০৬৯)</em></span></p></blockquote>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ১৭- ইসলামে বিশেষ অবদান রেখেছেন এমন ব্যক্তির জানাযা একদিন বা ততোধিক বিলম্ব করা যাবে?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> বিলম্ব করাতে যদি কল্যাণ থাকে তাহলে করা যাবে। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যু হয়েছে সোমবার অথচ তাঁর দাফন হয়েছে বুধবার রাতে। তাই ইসলামের সেবায় নিবেদিত এমন ব্যক্তির দাফন বিলম্বে যদি কোন কল্যাণ থাকে, যেমন তার আত্মীয় স্বজনের আগমন ইত্যাদি, তাহলে বিলম্ব করা যেতে পারে।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ১৮- কোন মৃতের উপর একাধিক বার জানাযা পড়ার হুকুম কি?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> বিশেষ কারণে একাধিক বার জানাযা পড়া যেতে পারে, যেমন জানাযা শেষে কিছু লোক উপস্থিত হলো, তাহলে এরা মৃতের উপর দাফনের পূর্বে বা পরে জানাযা পড়তে পারবে। এমনিভাবে যে একবার সবার সাথে জানাযা পড়েছে সে আগত লোকদের সাথে লাশ দাফনের পরে ও পুনরায় জানাযা পড়তে পারবে। কারণ এতে সালাত আদায়কারী ও মৃত ব্যক্তি উভয়ের জন্য কল্যাণ রয়েছে।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ১৯- মায়ের গর্ভে মৃত সন্তানের জানাযা পড়া যাবে কি?</span></h5>
<p><strong>উত্তর –</strong> পাঁচ মাস বা ততোধিক সময় গর্ভে অবস্থান করে যদি কোন সন্তান মৃত ভূমিষ্ঠ হয়, তাহলে তাকে গোসল দেবে, তার জানাযা পড়বে ও তাকে মুসলিমদের গোরস্থানে দাফন করবে।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ২০- আত্মহত্যাকারীর জানাযা পড়া যাবে কি?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> যেহেতু আহলে সূন্নত ওয়াল জামায়াতের মতানুসারে আত্মহত্যার কারণে কেউ মুসলিমদের গন্ডি হতে বেরিয়ে যায় না, তাই অন্যান্য অপরাধীদের ন্যায় তার উপরও কিছু সংখ্যক লোক জানাযা পড়ে নিবে।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ২১- নিষিদ্ধ সময়ে জানাযার নামাজা পড়ার বিধান কি?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> নিষিদ্ধ সময়ে জানাযা পড়া যাবে না, তবে নিষিদ্ধ সময়টি যদি লম্বা হয়, যেমন ফজরের সালাতের পর হতে সূর্য উঠা পর্যন্ত এবং আসরের সালাতের পর হতে সুর্যাস্ত পর্যন্ত, বিশেষ প্রয়োজনে এ দু’সময়ে জানাযা পড়া ও লাশ দাফন করা যাবে। আর যদি নিষিদ্ধ সময়টি স্বল্প হয় তাহলে জানাযা ও দাফন কিছুই করা যাবে না। আর সল্প সময় বলতে বুঝায় ঠিক বেলা উঠার পূর্ব মুহূর্ত এবং ঠিক দ্বিপ্রহর ও সুর্যাস্তের সময়। সাহাবি উকবা ইবন আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify;" dir="RTL"><span style="color: #800080;">«ثلاث ساعات كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ينهانا أن نصلي فيهن و أن نقبر فيهن موتانا: حين تطلع الشمس بازغة حتى ترفع وحين يقوم قائم الظهيرة حتى تزول وحين تضيّف الشمس للغروب».</span></p>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: #800080;">“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন সময়ে আমাদেরকে জানাযা পড়তে ও তাতে আমাদের মৃতদেরকে দাফন করতে নিষেধ করেছেন, সুর্যোদয়ের সময় যতক্ষণ না তা পরিপূর্ণরূপে উদয় হয়, ঠিক দ্বিপ্রহরের সময় যতক্ষণ না সূর্য পশ্চিম দিকে হেলে যায়  এবং ঠিক সূর্যাস্তের সময়। [মুসলিম]</span></p>
</blockquote>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ২২- বিদ’আতির জানাযায় অংশ গ্রহণ না করার বিধান কি?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> বিদ’আতির বিদ‘আত যদি বিত’আতিকে কুফর পর্যন্ত নিয়ে যায়, যেমন খারেযি, মুতাযিলা ও জাহমিয়া প্রমূখ পথভ্রষ্ট সম্প্রদায়ের বিদ‘আত। তাহলে এরূপ বিদ’আতির জানাযায় অংশ গ্রহণ করা কারো পক্ষেই জায়েয নয়।</p>
<p>আর যদি তার বিদ‘আত এ পর্যায়ের না হয়, তবুও আলেমদের উচিত বিত’আতের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করে তার জানাযা পরিত্যাগ করা।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ২৩- আলেমদের ন্যায় জনসাধারণ কি বিদ’আতির জানাযা পরিত্যাগ করবে না ?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> প্রতিটি মুসলিমের জানাযা পড়া ওয়াজিব, যদিও সে বিদ’আতি হয়। সুতরাং বিদ‘আত যদি কুফরের পর্যায়ের না হয়, তাহলে এরূপ বিদ’আতির জানাযা মুষ্টিমেয় কিছু লোক পড়ে নেবে। আর যদি বিদ‘আত কুফরের পর্যায়ের হয়, যেমন খারেযি, রাফেযি, মুতাযিলা ও জাহমিয়া প্রমূখদের বিদ‘আত, যারা বিপদে-আপদে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু ও রাসূলের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের শরণাপন্ন হয়, তাদেরকে আহ্বান করে, তাহলে এরূপ বিদ‘আতিদের জানাযায় অংশগ্রহণ করা কাহারো জন্যই জায়েয নেয়। আল্লাহ তাআলা মুনাফেক ও তাদের ন্যায় অন্যান্য কাফেরদের প্রসঙ্গে বলেছেনঃ</p>
<blockquote>
<p style="text-align: center;" dir="RTL"><span style="color: #008000;"><strong>﴿وَلَا تُصَلِّ عَلَىٰٓ أَحَدٖ مِّنۡهُم مَّاتَ أَبَدٗا وَلَا تَقُمۡ عَلَىٰ قَبۡرِهِۦٓۖ إِنَّهُمۡ كَفَرُواْ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَمَاتُواْ وَهُمۡ فَٰسِقُونَ ٨٤﴾ [التوبة: 84]</strong></span></p>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: #008000;"><strong>“আর তাদের মধ্যে যে মারা গিয়েছে, তার উপর তুমি জানাযা পড়বে না এবং তার কবরের উপর দাঁড়াবে না। নিশ্চয় তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অস্বীকার করেছে এবং তারা ফাসিক অবস্থায় মারা গিয়েছে”। (সূরা আত-তাওবাহ: ৮৪)</strong></span></p>
</blockquote>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ২৪- জানাযায় অধিক সংখ্যক লোকের অংশ গ্রহণে কি বিশেষ কোন ফজিলত আছে?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> সাহাবি আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ</p>
<blockquote>
<p style="text-align: center;" dir="RTL"><span style="color: #3366ff;"><em>«ما من رجل مسلم يموت فيقوم على جنازته أربعون رجلا لايشركون بالله شيئاً إلا شفعهم الله فيه»</em></span></p>
<p><span style="color: #3366ff;"><em>“যদি কোন মুসলিম মৃত্যুবরণ করে, আর তার জানাযায় চল্লিশ জন লোক এমন উপস্থিত হয়, যারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করে না, আল্লাহ মৃত ব্যক্তির ব্যাপারে তাদের সুপারিশ কবুল করবেন”। (মুসলিম ২০৭২)</em></span></p></blockquote>
<p>তাই আলেমগণ বলেছেন, যে মসজিদে মুসল্লি বেশী হয়, জানাযার জন্য ঐ মসজিদ অন্বেষণ করা মুস্তাহাব, মুসল্লি যত বেশী হবে ততই মৃতের জন্যে কল্যাণ হবে, কারণ এতে সে অধিক মানুষের দু’আ পাবে।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ২৫- জানাযার সালাতে ইমামের দাঁড়ানোর নিয়ম কি?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> সুন্নত হচ্ছে ইমাম পুরুষদের মাথা বরাবর আর মহিলাদের মাঝা বরাবর দাঁড়াবে। জানাযা একাধিক লোকের হলে প্রথমে সালাবক পুরুষদের লাশ, অতঃপর নাবালেক ছেলেদের লাশ, অতঃপর সাবালক নারীদের লাশ, অতঃপর নাবালেক মেয়েদের লাশ রাখবে। একই সাথে সবার উপর নামাজ পড়ার জন্য প্রথমে পুরুষদের লাশ লাখবে, অতঃপর তাদের মাথা বরাবর বাচ্ছাদের মাথা রাখাবে, অতঃপর তাদের মাথা বরাবর নারী ও মেয়েদের কোমর রাখবে।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ২৬- জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পড়ার হুকুম কি?</span></h5>
<p><strong>উত্তর –</strong> জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পড়া ওয়াজিব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ</p>
<blockquote>
<p style="text-align: center;" dir="RTL"><span style="color: #3366ff;"><em>« صلوا كما رأيتموني أصلي »</em></span></p>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #3366ff;"><em>“তোমরা আমাকে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখ, সেভাবেই সালাত আদায় কর”। (বুখারি)</em></span></p>
</blockquote>
<p>রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ</p>
<blockquote>
<p style="text-align: center;" dir="RTL"><span style="color: #3366ff;"><em>« لا صلاة لمن لم يقرأ بفاتحة الكتاب »</em></span></p>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #3366ff;"><em>“ঐ ব্যক্তির কোন সালাত হয়নি, যে সূরা ফাতিহা পাঠ করে নি”। (বুখারি ৭২৩)</em></span></p>
</blockquote>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ২৭- চতুর্থ তাকবির শেষে কিছু পড়ার বিধান আছে কি?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> চতুর্থ তাকবির শেষে কিছু পড়ার প্রমাণ নেই, তবে চতুর্থ তাকবির শেষে একটু চুপ থেকে অতঃপর সালাম ফিরাবে।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ২৮- ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মৃতলোকের জানাযায় অতিরিক্ত তাকবির বলা যাবে কি?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> প্রচলিত নিয়ম তথা চার তাকবিরের উপর সীমাবদ্ধ থাকাই উত্তম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শেষ জীবনে জানাযার পদ্ধতি এরূপই ছিল। হাবশার বাদশা নাজ্জাশী অত্যন্ত সম্মানী মানুষ হওয়া সত্বেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযায় চারের অধিক তাকবির বলেননি।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ২৯- জানাযার নামাজে রাসূলের উপর দরূদ পড়ার হুকুম কি?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> ওলামায়ে কেরামের প্রসিদ্ধ উক্তি অনুযায়ী জানাযার সালাতে রাসূলের উপর দরূদ পড়া ওয়াজিব। মুসল্লিরা জানাযায় কখনো রাসূলের উপর দরূদ পরিত্যাগ করবে না।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ৩০- জানাযায় সূরা-ফাতিহা পড়ার বিধান কি?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> সূরা ফাতিহা পড়া উত্তম, সাহাবি ইব্‌ন ইব্বাস রাদিআল্লাহ আনহু সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাযায় সূরা ফাতেহা পড়তেন।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ৩১- জানাযার প্রতি তাকবিরে হাত উঠানো কি সুন্নত ?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> জানাযার প্রতি তাকবিরে হাত উঠানো সুন্নত। বর্ণিত আছে যে, সাহাবি আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ওমর ও আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস প্রতি তাকবিরে হাত উঠাতেন। (দারা কুতনি)</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ৩২- জনৈক ব্যক্তি জানাযা পড়তে মসজিদে প্রবেশ করল, কিন্তু তখনো সে ফরজ সালাত পড়েনি, এমতাবস্থায় সে কি প্রথমে ফরজ নামাজ পড়বে, না অন্যান্য লোকদের সাথে জানাযায় অংশগ্রহণ করবে। যদি ইতিমধ্যে লাশ তুলে নেয়া হয় তাহলে সে জানাযার নামাজ পড়বে কি না?</span></h5>
<p><strong>উত্তর</strong> -এমতাবস্থায় সে প্রথমে জানাযার নামাজ আদায় করবে অতঃপর ফরজ নামাজ পড়বে, কারণ তখন যদি সে জানাযা না পড়ে পরবর্তীতে পড়তে পারবে না, পক্ষান্তরে ফরজ নামাজ তো পরেও পড়া যাচ্ছে। লাশ তুলে নেয়ার হলে দাফনের পর জানাযা পড়বে।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ৩৩- আমাদেরে কর্মক্ষেত্রে দেখা যায় যে, কোন সহকর্মী মারা গেলে বিজ্ঞাপন বিতরণ করা হয়, যাতে জানাযার সময় ও দাফনের স্থানের উল্লেখ থাকে, এ ব্যাপারে শরি‘আতের হুকুম কি?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> যদি এরূপ বলা হয় যে অমুক মসজিদে অমুকের জানাযা হবে ইত্যাদি, তাহলে আমার জানা মতে দোষের কিছু নেই, যেমন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজ্জাশির ব্যাপারে বলেছিলেন।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ৩৪- গায়েবানা জানাযার বিধান কি?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> প্রসিদ্ধ মতানুসারে এটা নাজ্জাশীর জন্যে নির্দিষ্ট ছিল। তবে কতিপয় আলেম বলেছেন যে, মৃত ব্যক্তি যদি বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের অধিকারী হয়, যেমন বড় আলেম, বড় দায়ি, ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে যার বিশেষ অবদান রয়েছে, এরূপ ব্যক্তির ক্ষেত্রে গায়েবানা জানাযা পড়া যেতে পারে। কিন্তু আমাদের জানা মতে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক নাজ্জাশি ছাড়া অন্য কারো উপর গায়েবানা জানাযা পড়েননি, অথচ তাঁর নিকট মক্কাতুল মুক্কারামাহসহ বিভিন্ন স্থান হতে অনেক সাহাবিদের মৃত্যুর সংবাদ এসে ছিল। বাস্তবতার নিরিখে এটাই সত্য মনে হচ্ছে যে, গায়েবানা জানাযা নাজ্জাশির জন্যেই নির্দিষ্ট ছিল, তথাপিও যদি কেউ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের অধিকারী যেমন আলেম ও সরকারী কর্মকর্তা প্রমূখদের উপর পড়তে চায়, তাহলে পড়ার অবকাশ রয়েছে।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ৩৫- জানাযায় অধিক কাতার মুস্তাহাব, তাই প্রথম কাতারে জায়গা রেখে দ্বিতীয় কাতার করা যাবে কি?</span></h5>
<p><strong>উত্তর</strong> - ফরজ নামাজের কাতারের ন্যায় জানাযার নামাজের কাতার হবে। তাই আগে প্রথম কাতার পূর্ণ করবে অতঃপর দ্বিতীয় কাতার। এক্ষেত্রে সাহাবি মালেক ইব্‌ন হুবাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত হাদিসের উপর আমল করা যাবে না, কারণ তার বর্ণিত হাদিসটি বিশুদ্ধ হাদিসের বিপরীত, যার দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, প্রথম কাতার পূরণ করা ওয়াজীব।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ৩৬- জানাযার নামাজ কি মাঠে পড়া উত্তম না মসজিদে?</span></h5>
<p>উত্তর - সম্ভব হলে মাঠে পড়াই উত্তম। তবে মসজিদে পড়াও জায়েয আছে, যেমন মুমিন জননী আয়শা রাদিয়াল্লাহু আনহা সূত্রে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বয়জা নামীয় ব্যক্তির দু’পুত্রের জানাযা মসজিদেই পড়েছেন। (মুসলিম)</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ৩৭- জানাযায় সূরা ফাতিহা পড়া সুন্নত, এ ব্যাপারে লোকজনকে অবগত করার জন্যে মাঝে মধ্যে তা স্বশব্দে পড়া কেমন?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> কখনো কখনো সূরা ফাতিহা স্বশব্দে পড়তে সমস্যা নেই, যদি সূরা ফাতিহার সাথে অন্য কোন ছোট একটি সূরা বা কিছু আয়াত মিলিয়ে নেয়া হয় তাহলে আরও ভাল। সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সূত্রে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাযার নামাজে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলিয়ে নিতেন। তবে যদি শুধু সূরা ফাতিহা পড়ে তাও যথেষ্ট।</p>
<h5><span style="color: #800000;">প্রশ্ন ৩৮-গায়েবানা জানাযার পদ্ধতি কি?</span></h5>
<p><strong>উত্তর -</strong> লাশ উপস্থিত থাক আর না থাক জানাযার পদ্ধতি একই।</p>
<h3>Related Posts</h3>
<p>No related posts were found, so here's a consolation prize: <a href="http://www.quraneralo.com/%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0/" rel="bookmark">সুন্নাহর ব্যাপারে স্কলারদের মতামত</a>.</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.quraneralo.com/ahkamul_janaza/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>5</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>প্রচণ্ড রাগ হলে কি করবেন?</title>
		<link>http://www.quraneralo.com/when-tempers-hits-the-boiling-point/</link>
		<comments>http://www.quraneralo.com/when-tempers-hits-the-boiling-point/#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 18 Feb 2012 07:20:56 +0000</pubDate>
		<dc:creator>QuranerAlo.com Editor</dc:creator>
				<category><![CDATA[আখলাক | ব্যক্তিত্ব]]></category>
		<category><![CDATA[রাগ]]></category>
		<category><![CDATA[আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি]]></category>
		<category><![CDATA[ক্ষমা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.quraneralo.com/?p=2829</guid>
		<description><![CDATA[মূল প্রবন্ধঃ ডঃ হাসান শামসি বাশা্‌  অনুবাদঃ   মোঃ মুনিমুল হক  &#124;  ওয়েব সম্পাদনাঃ   মোঃ মাহমুদ -ই- গাফফার   আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আত্মসংযম বা রাগ নিয়ন্ত্রণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা গুন। এটা আমাদের ক্রোধ বা রাগের নানারকম শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি থেকে বাঁচিয়ে রাখে। আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন, একদিন রসূলাল্লাহ(সঃ) এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বললেন,“হে আল্লাহ্‌র রসূল, আপনি আমাকে [...]<h3>Related Posts</h3>

No related posts were found, so here's a consolation prize: <a href="http://www.quraneralo.com/common-mistakes-made-during-ramadan/" rel="bookmark">সাধারণ ভুল যেগুলো রমজানের সময় আমরা করে থাকি</a>.
]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[
			<!--Facebook Like and Send button by darkomitrovic.com-->
			<div id="fb-root"></div>
			<script>
			<!--
			  window.fbAsyncInit = function() {
				FB.init({appId: "224955984185367", status: true, cookie: true, xfbml: true});
			  };
			  (function() {
				var e = document.createElement("script"); e.async = true;
				e.src = document.location.protocol +
				  "//connect.facebook.net/en_US/all.js";
				document.getElementById("fb-root").appendChild(e);
			  }());
			-->
			</script>
			<fb:like href="http://www.quraneralo.com/when-tempers-hits-the-boiling-point/" send="true" layout="standard" width="450" show_faces="false" colorscheme="light" action="like" font="tahoma"></fb:like>
			<!--Facebook Like and Send button by darkomitrovic.com-->
			<div style="text-align: -webkit-center;">
<div><strong><span style="color: #800000;">মূল প্রবন্ধঃ</span> ডঃ হাসান শামসি বাশা্‌ </strong></div>
<div><strong> অনুবাদঃ   মোঃ মুনিমুল হক  </strong><strong>|  </strong><strong>ওয়েব</strong><strong> </strong><strong>সম্পাদনাঃ</strong><strong>   </strong><strong>মোঃ</strong><strong> </strong><strong>মাহমুদ</strong><strong> -</strong><strong>ই</strong><strong>- </strong><strong>গাফফার</strong><strong>  </strong></div>
</div>
<p style="text-align: center;"><strong></strong><strong><a href="http://farm3.staticflickr.com/2669/3682903862_d32bbced6e.jpg"><img class="aligncenter" src="http://farm3.staticflickr.com/2669/3682903862_d32bbced6e.jpg" alt="" width="500" height="375" /></a></strong>আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আত্মসংযম বা রাগ নিয়ন্ত্রণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা গুন। এটা আমাদের ক্রোধ বা রাগের নানারকম শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি থেকে বাঁচিয়ে রাখে।</p>
<blockquote><p><span style="color: #3366ff;"><em>আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন, একদিন রসূলাল্লাহ(সঃ) এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বললেন,“<strong>হে আল্লাহ্‌র রসূল, আপনি আমাকে কিছু অসিয়ত করুন।” উত্তরে নবী করিম(সঃ) বললেন, “তুমি রাগান্বিত হইয়ো না” সে ব্যাক্তি একথাটি কয়েকবার বলল। তিনি (প্রত্যেকবারই একই কথা) বললেন, “তুমি রাগান্বিত হইয়ো না”</strong> [সহীহ বুখারী ৫৬৮৬ ইফা]</em></span></p></blockquote>
<p>নবী করিম(সঃ) আরও বলেন,</p>
<blockquote><p><span style="color: #3366ff;"><em>“<strong>সে প্রকৃত বীর নয়, যে কাউকে কুস্তীতে হারিয়ে দেয়। বরং সেই প্রকৃত বাহাদুর, যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।</strong>” [সহীহ বুখারী ৫৬৮৪ ইফা]</em></span></p></blockquote>
<p>নবী করিম(সঃ) এই উপদেশটি দিয়েছিলেন কারণ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন কেউ রাগান্বিত হয়ে পড়লে তা তার এবং তার আশেপাশের লোকজনের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে কতটা ক্ষতিকর ও বিপদজনক। কিন্তু তিনি এটাও জানতেন যে রাগের মুহূর্তে এই উপদেশটা মেনে চলা এত সহজ নয়, তাই তিনি রাগ নিয়ন্ত্রণের উপায়ও শিখিয়ে দিয়েছেন আমাদেরকে। তাকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, “হে আল্লাহ্‌র রসূল(সঃ), তাহলে (রাগের) চিকিৎসা কি?” উত্তরে নবী করিম(সঃ) বললেন,</p>
<blockquote><p><em><span style="color: #3366ff;">“<strong>কেউ যদি দাঁড়ানো অবস্থায় রাগান্বিত হয়ে পড়ে তার উচিত সাথে সাথে বসে পড়া, আর রাগ না কমা পর্যন্ত ওই অবস্থায় থাকা। অন্যথায় তার উচিত শুয়ে পড়া।</strong>” [আবু দাউদ ৪৭৬৪]</span></em></p></blockquote>
<p>নবী করিম(সঃ) কেন এই উপদেশ দিয়েছেন আমাদের তা সঠিকভাবে বুঝতে হলে আমাদের জানতে হবে আমাদের শরীর ও মনের উপর রাগের ক্ষতিকর প্রভাবগুলো কি কি, আর বসে বা শুয়ে পড়ার সাথে রাগের সম্পর্কটাই বা কি। কেউ যখন রাগান্বিত হয়ে পড়ে তখন তার কিডনির উপরে অবস্থিত অ্যাড্রেনালিন গ্রন্থি থেকে অ্যাড্রেনালিন নামক একপ্রকার হরমোন নিঃসরণ শুরু হয়। রাগ, ভয়, রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে যাওয়া বা এজাতীয় যেকোনো শারীরিক বা মানসিক চাপের কারণে এই হরমোনের নিঃসরণ ঘটতে পারে। আর এই অ্যাড্রেনালিন গ্রন্থি থেকে নরঅ্যাড্রেনালিন নামক আরও  একপ্রকার হরমোন নিঃসরণ ঘটে, যদিও কিনা এই হরমোনের প্রধান উৎস হল হৃদপিণ্ডে সিম্পেথেটিক স্নায়ুর প্রান্তভাগে। তবে এই দুই প্রকার হরমোনই পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এবং আর এদের নিঃসরণও ঘটে একই সাথে।</p>
<p>রাগের ফলে আমাদের শরীরে এই দুইপ্রকারের হরমোনই অধিক পরিমাণে নিঃসরিত হতে থাকে। এরমধ্যে একটা হরমোন যেহেতু হৃদপিণ্ড থেকে নিঃসরিত হয়, তাই রাগান্বিত অবস্থায় আমাদের হৃদপিণ্ড অধিকতর সক্রিয় হয়ে পড়ে, ফলে হৃদকম্পন হয়ে উঠে আরও দ্রুত ও অনিয়মিত। শারীরিক বা মানসিক চাপের ফলে হৃদপিণ্ডের এই তীব্র পরিবর্তন আমরা অনেকেই প্রায় সময় অনুভব করতে পারি। তাছাড়াও আমদের রেগে যাবার ফলে হৃদপিণ্ডের অতি-সক্রিয়তার কারণে অতিরিক্ত অক্সিজেনের জোগান দেওয়ার জন্য হৃদপেশীর সংকোচনও বেড়ে যায় কয়েক গুন; ফলে ধমনীতে চাপ পড়ে। আর তাই রাগান্বিত অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তির স্বাস্থ্যঝুকি অনেকগুণ বেড়ে যায়। আর যাদের ধমনীর প্রশস্ততা কম তাদের হার্ট অ্যাটাকের (Cardiac Arrest) সম্ভাবনাও বেড়ে যায় কয়েকগুণ, কেননা তাদের সংকুচিত ধমনী দিয়ে হঠাৎ অধিক বেগে রক্ত সঞ্চালনের ফলে ধমনীতে সৃষ্ট অতিরিক্ত চাপের কারণে তা ছিঁড়ে যেতে পারে যেকোনো সময়। শরীরে এই দুই হরমোনের পরিমাণ বেড়ে যাবার ফলে আমাদের রক্তচাপও বৃদ্ধি পায় অনেক, যা ব্লাড প্রেসারের (অধিক বা কম রক্তচাপের) সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য খুবই বিপদজনক ও ক্ষতিকর। তাছাড়া ডায়াবেটিক রোগীদের সাধারণত রাগ নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেওয়া হয় কেননা রাগ বা মানসিক চাপের ফলে সৃষ্ট অতিরিক্ত অ্যাড্রেনালিন আমাদের রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, যা একজন ডায়াবেটিক রোগীর জন্য খুবই বিপদজনক।</p>
<p>এছাড়াও কিছু কিছু ক্ষেত্রে রাগ বা ক্রোধ আমদের পুরো শরীরেই নানারকম মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি করে। আর একারণেই হয়তো নবী করিম(সঃ) বারবার রাগ সংবরণের উপদেশ দিয়েছেন আমাদের। এর গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে তিনি পরপর তিনবার বলে উঠেন, “রাগান্বিত হইয়ো না।”</p>
<p>এবার দেখা যাক রাগ নিয়ন্ত্রণের জন্য রসূল(সঃ) যে উপায় বলে দিয়েছেন আমাদের তা কতটা বিজ্ঞানসম্মত? চিকিৎসাশাস্ত্রের বিখ্যাত লেখক হ্যারিসন বলেন, “এটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে, পাঁচ মিনিট শান্তভাবে দাড়িয়ে থাকাকালীন একজন ব্যক্তির রক্তে নরঅ্যাড্রেনালিনের পরিমাণ দুই থেকে তিনগুণ বেড়ে যেতে পারে। দাড়িয়ে থাকার কারণে অ্যাড্রেনালিনও সামান্য পরিমাণে বেড়ে যায়। কিন্তু বিভিন্ন রকমের মানসিক চাপ রক্তে অ্যাড্রেনালিনের মাত্রা খুব বাড়িয়ে দিতে পারে।”</p>
<p>সহজ কথায় বলতে হয়, শান্তভাবে পাঁচ মিনিট দাড়িয়ে থাকলেই মানুষের রক্তে নরঅ্যাড্রেনালিনের পরিমাণ দ্বিগুণ বেড়ে যায়, সাথে সাথে অ্যাড্রেনালিনও সামান্য পরিমাণে বেড়ে যায়। এখানে মনে রাখা উচিত যে অ্যাড্রেনালিন নামক হরমোনটি প্রধানত রাগ বা মানসিক চাপের কারণে বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। তাই সুস্পষ্টভাবে এটা প্রতীয়মান হয় যে দাঁড়ানো অবস্থায় রেগে গেলে এই হরমোনের অতিরিক্ত নিঃসরণ আমাদের শরীরের উপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে। এর থেকেই বুঝা যায় আজ থেকে পনেরোশ বছর আগে যখন বর্তমানের তুলনায় চিকিৎসাবিজ্ঞানে মানুষের জ্ঞান বা অগ্রগতি ছিল যৎসামান্য তখন রসূল(সঃ) এর দিয়ে যাওয়া এই উপদেশ বানীর গুরুত্ব কতটুকু। “কেউ যদি দাঁড়ানো অবস্থায় রাগান্বিত হয়ে পড়ে তার উচিত সাথে সাথে বসে পড়া আর রাগ না কমা পর্যন্ত ওই অবস্থায় থাকা। অন্যথায় তার উচিত শুয়ে পড়া।”- এটাই হল সর্বকালের সর্বাধুনিক ডাক্তারি পরামর্শ!</p>
<p>রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখার এতসব দুনিয়াবি উপকারিতার পাশাপাশি যারা নিজেদের রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখে, তাদেরকে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনের সূরা আল-ইমারানে পরকালে ক্ষমা ও জান্নাতের অধিবাসী করবার ওয়াদা করছেনঃ</p>
<blockquote><p><strong>“যারা নিজেদের রাগকে সংবরণ করে আর মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করে, বস্তুতঃ আল্লাহ সৎকর্মশীলদিগকেই ভালবাসেন।” [সূরা আল ইমরান, ৩:১৩৪]</strong></p></blockquote>
<p>তাছাড়া পূর্বেইতো বলেছি রসূল(সঃ)তাকেই প্রকৃত বীর বলেছেন যে নিজের ক্রোধ সংবরণ করতে পারে।</p>
<p><a href="http://blog.iloveallaah.com/2010/09/when-tempers-hit-boiling-point/"><strong>ENGLISH VERSION</strong></a></p>
<p><strong>উৎসঃ</strong> আল-জূমা ম্যাগাজিন, ভলিউম ১২- ইস্যু ৪- রবিউস সানী ১৪২১ হিজরি</p>
<h3>Related Posts</h3>
<p>No related posts were found, so here's a consolation prize: <a href="http://www.quraneralo.com/10-sicknesses-of-the-heart/" rel="bookmark">মৃত অন্তর এবং অন্ত:সার শূন্য দোয়া</a>.</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.quraneralo.com/when-tempers-hits-the-boiling-point/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>3</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>ব্যবসা-বাণিজ্যে সততা</title>
		<link>http://www.quraneralo.com/honesty-in-business/</link>
		<comments>http://www.quraneralo.com/honesty-in-business/#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 14 Feb 2012 18:26:05 +0000</pubDate>
		<dc:creator>QuranerAlo.com Editor</dc:creator>
				<category><![CDATA[ভাইদের জন্য]]></category>
		<category><![CDATA[আখলাক | ব্যক্তিত্ব]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামী অর্থনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[বাণিজ্য]]></category>
		<category><![CDATA[ব্যবসা]]></category>
		<category><![CDATA[ব্যবসা-বাণিজ্যে সততা]]></category>
		<category><![CDATA[Business]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.quraneralo.com/?p=2791</guid>
		<description><![CDATA[লেখকঃ ড. মুহাম্মাদ আজিবার রহমান &#124; ওয়েব সম্পাদনাঃ শাবাব শাহরিয়ার খান জীবিকা নির্বাহের প্রয়োজনে মানুষকে উপার্জনের নানাবিধ পথ বেছে নিতে হয়। ইসলামের দিকনির্দেশনা হ’ল হালাল পথে জীবিকা উপার্জন করা। হারাম পথে উপার্জিত অর্থ-সম্পদ ভোগ করে ইবাদত-বন্দেগী করলে তা আল্লাহ্র নিকট গৃহীত হবে না। কারণ ইবাদত কবুলের আবশ্যিক পূর্বশর্ত হ’ল হালাল উপার্জন। [১] ক্বিয়ামতের ময়দানে বনু আদমকে [...]<h3>Related Posts</h3>

No related posts were found, so here's a consolation prize: <a href="http://www.quraneralo.com/eid/" rel="bookmark">ঈদঃ তাৎপর্য, করনীয় ও বর্জনীয়</a>.
]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[
			<!--Facebook Like and Send button by darkomitrovic.com-->
			<div id="fb-root"></div>
			<script>
			<!--
			  window.fbAsyncInit = function() {
				FB.init({appId: "224955984185367", status: true, cookie: true, xfbml: true});
			  };
			  (function() {
				var e = document.createElement("script"); e.async = true;
				e.src = document.location.protocol +
				  "//connect.facebook.net/en_US/all.js";
				document.getElementById("fb-root").appendChild(e);
			  }());
			-->
			</script>
			<fb:like href="http://www.quraneralo.com/honesty-in-business/" send="true" layout="standard" width="450" show_faces="false" colorscheme="light" action="like" font="tahoma"></fb:like>
			<!--Facebook Like and Send button by darkomitrovic.com-->
			<p style="text-align: center;" align="right"><span style="color: #003300;"><strong>লেখকঃ</strong> ড. মুহাম্মাদ আজিবার রহমান | <strong>ওয়েব সম্পাদনাঃ</strong> শাবাব শাহরিয়ার খান</span></p>
<p style="text-align: center;" align="right"><img src="http://farm2.staticflickr.com/1377/560679180_92cae0e01b.jpg" alt="" /></p>
<p>জীবিকা নির্বাহের প্রয়োজনে মানুষকে উপার্জনের নানাবিধ পথ বেছে নিতে হয়। ইসলামের দিকনির্দেশনা হ’ল হালাল পথে জীবিকা উপার্জন করা। হারাম পথে উপার্জিত অর্থ-সম্পদ ভোগ করে ইবাদত-বন্দেগী করলে তা আল্লাহ্র নিকট গৃহীত হবে না। কারণ ইবাদত কবুলের আবশ্যিক পূর্বশর্ত হ’ল হালাল উপার্জন। <strong>[১]</strong> ক্বিয়ামতের ময়দানে বনু আদমকে পাঁচটি প্রশ্ন করা হবে এবং এর যথাযথ উত্তর না দেওয়া পর্যন্ত কোন মানুষ সামান্য পরিমাণ সামনে অগ্রসর হ’তে পারবে না। তান্মধ্যে একটি হ’ল ‘সে কোন পথে অর্থ উপার্জন করেছে’। <strong>[২]</strong> বুঝা গেল, অর্থ-সম্পদ হালাল পথে উপার্জন করতে হবে, অন্যথা ক্বিয়ামতের ভয়াবহ দিনে মুক্তির কোন পথ খোলা থাকবে না। আর হালাল পথে অর্থ-সম্পদ উপার্জনের একটি অন্যতম মাধ্যম হ’ল সততার সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য করা। রাসূলুল­াহ (ছাঃ)-কে সর্বোত্তম উপার্জন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হ’লে তিনি বলেন,</p>
<blockquote>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #3366ff;"><strong> أَطْيَبُ الْكَسْبِ عَمَلُ الرَّجُلِ بِيَدِهِ، وَ كُلُّ بَيْعٍ مَبْرُوْرٍ </strong></span></p>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #3366ff;"><em>‘নিজ হাতে কাজ করা এবং হালাল পথে ব্যবসা করে যে উপার্জন করা হয় তা-ই সর্বোত্তম’।</em></span> <strong>[৩]</strong></p>
</blockquote>
<p><strong></strong>ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহের গুরুত্ব ইসলামে অনস্বীকার্য। সততা ও ন্যায়-নিষ্ঠার সাথে বৈধ পথে ব্যবসা-বাণিজ্য করে জীবিকা নির্বাহ করতে ইসলাম বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছে। মহান আল্লাহ বলেন,</p>
<blockquote><p><span style="color: #008000;"> <strong>يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا لَا تَأْكُلُوْا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلاَّ أَنْ تَكُوْنَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ </strong></span></p>
<p><span style="color: #008000;"><em><strong>‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না। কেবলমাত্র তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা করা হয় তা বৈধ’ </strong>(নিসা ২৯)</em></span></p></blockquote>
<p>আল্ল­াহ আরো বলেন,</p>
<blockquote>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #008000;"><strong> فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانْتَشِرُوْا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوْا مِنْ فَضْلِ اللهِ </strong></span></p>
<p><span style="color: #008000;"><strong><em>‘যখন ছালাত শেষ হয়ে যাবে তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহ্র অনুগ্রহ (জীবিকা) তালাশ কর’ </em></strong><em>(জুম‘আ ১০)</em></span></p></blockquote>
<p>সুতরাং জীবিকা উপার্জনের উত্তম পেশা হিসাবে ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। উল্লিখিত আয়াতে ছালাতের ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের পরই ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।<br />
সততার সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য করলে পরকালীন জীবন কল্যাণময় হবে মর্মে হাদীছে বর্ণিত হয়েছে। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,</p>
<blockquote>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #3366ff;"><strong>التَّاجِرُ الصَّدُوْقُ الْأَمِيْنُ مَعَ النَّبِيِّيْنَ والصِّدِّقِيْنَ وَ الشُّهَدَاءِ،</strong></span></p>
<p style="text-align: center;"><em><span style="color: #3366ff;">‘সত্যবাদী আমানতদার ব্যবসায়ী ক্বিয়ামতের দিন নবী, ছিদ্দীক্ব এবং শহীদগণের সাথে থাকবে’</span>।</em> <strong>[৪]</strong></p>
</blockquote>
<p>ব্যবসা-বাণিজ্য জীবিকা উপার্জনের সর্বোত্তম পেশা হওয়ায় মহানবী (ছাঃ), খুলাফায়ে রাশেদীনসহ অধিকাংশ ছাহাবী এর মাধ্যমেই জীবিকা নির্বাহ করতেন। কুরআনের বাণী এবং মহানবী (ছাঃ)-এর হাদীছ দ্বারা উৎসাহিত হয়ে ছাহাবীগণ জীবন-জীবিকার সন্ধানে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েন। এমনকি ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বপ্রথম ঐ সকল ব্যবসায়ী ছাহাবীর মাধ্যমেই অবিমিশ্র-নির্ভেজাল ইসলামের আগমন ঘটে। মুসলমানদের ঐতিহ্যবাহী পেশা ব্যবসা-বাণিজ্য। সুতরাং ব্যবসা-বাণিজ্যে সততা, ন্যায়-নিষ্ঠা, বিশ্বস্ততা, আমানতদারী ইত্যাদির উপস্থিতি অতীব যরূরী।</p>
<p>সততার সাথে হালাল উপার্জনের মাধ্যম হিসাবে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতি উৎসাহিত করে মহান আল্লাহ বলেন,</p>
<blockquote>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #008000;"><strong> وَأَحَلَّ اللهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا،</strong></span></p>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #008000;"><em><strong> ‘আল্ল­াহ ব্যবসাকে হালাল এবং সূদকে হারাম করেছেন’</strong> (বাক্বারাহ ২৭৫)</em></span></p>
</blockquote>
<p>এ আয়াত থেকে বুঝা যায়, ইসলাম উপার্জনের পেশা হিসাবে হালাল পথে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে যেমন উৎসাহ দিয়েছে, তেমনি অবৈধ পথে অর্থ-সম্পদ উপার্জন করতেও নিষেধ করেছে। মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে অবৈধ উপায়ে সম্পদ উপার্জন করে সাময়িকভাবে লাভবান হওয়া গেলেও এর শেষ পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। কাজেই অন্যায়, যুলুম, ধোঁকাবাজি, প্রতারণা, মুনাফাখোরী, কালোবাজারী, মওজুদদারী ইত্যাদি অবৈধ ও ইসলাম বিরোধী কার্যাবলী পরিহার করে সততার সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে হবে। রাসূলুল­াহ (ছাঃ) বললেন,</p>
<blockquote>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #3366ff;"><strong> إِنَّ التُّجَّارَ يُبْعَثُوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فُجَّارًا إِلاَّ مَنِ اتَّقَى اللهَ وَبَرَّ وَصَدَقَ </strong></span></p>
<p><span style="color: #3366ff;"><em>‘ক্বিয়ামতের দিন ব্যবসায়ীরা মহা অপরাধী হিসাবে উত্থিত হবে। তবে যারা আল্ল­াহকে ভয় করবে, নেকভাবে সততা ও ন্যায়নিষ্ঠার সাথে ব্যবসা করবে তারা ব্যতীত’</em></span>। <strong>[৫]</strong></p></blockquote>
<p><strong></strong> ক্বিয়ামতের ময়দানে কঠিন শাস্তি হ’তে মুক্তি পেতে হ’লে আল্ল­াহভীতি সহকারে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে হবে। কাউকে সামান্যতম ঠকানোর মানসিকতা অন্তরে পোষণ করা যাবে না। তাছাড়া মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি মওজুদ করে রেখে পণ্যমূল্য বাড়িয়ে মুনাফা লাভের প্রবণতা থেকেও বেঁচে থাকতে হবে। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,</p>
<blockquote>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #3366ff;"><strong> مَنِ احْتَكَرَ فَهُوَ خَاطِئٌ</strong> </span></p>
<p style="text-align: center;"><em><span style="color: #3366ff;">‘যে মওজুদদারী করে সে পাপী’</span>।</em> <strong>[৬]</strong></p>
</blockquote>
<p>ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করলে ব্যবসায়ী এবং ক্রেতা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ব্যবসায়ীদেরকে মিথ্যা পরিহার করার জন্য বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। বিশিষ্ট ছাহাবী ওয়াসিলা ইবনুল আকওয়া (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্ল­াহ (ছাঃ) আমাদের কাছে আসতেন এবং বলতেন,</p>
<blockquote>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #3366ff;"><strong> يَا مَعْشَرَ التُّجَّارِ إِيَّاكُمْ وَالْكَذِبَ</strong></span></p>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #3366ff;"><strong></strong><em> ‘হে বণিক দল! তোমরা মিথ্যা কথা ও মিথ্যা কারবার থেকে অবশ্যই দূরে থাকবে’।</em></span> <strong>[৭]</strong></p>
</blockquote>
<p><strong></strong>পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের সময় সকল ব্যবসায়ীকে মিথ্যা কসম বর্জন করতে হবে। কারণ তা ইসলামে নিষিদ্ধ। আবু কাতাদা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,</p>
<blockquote>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #3366ff;"><strong>إِيَّاكُمْ وَكَثْرَةَ الْحَلِفِ فِى الْبَيْعِ فَإِنَّهُ يُنَفِّقُ ثُمَّ يَمْحَقُ</strong></span></p>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #3366ff;"><strong></strong><em> ‘ব্যবসার মধ্যে অধিক কসম খাওয়া হ’তে বিরত থেকো। এর দ্বারা মাল বেশী বিক্রি হয়, কিন্তু বরকত বিনষ্ট হয়ে যায়’</em>।</span> <strong>[৮]</strong></p>
</blockquote>
<p><strong></strong> রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আরো বলেন,</p>
<blockquote>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #3366ff;"><em>‘অধিক কসম খাওয়ার প্রবণতা ব্যবসায়ের কাটতি বাড়ায়, কিন্তু বরকত দূর করে দেয়’</em></span>। <strong>[৯]</strong></p>
</blockquote>
<p><strong></strong> মিথ্যা কসমকারী ব্যবসায়ীদের কঠোর পরিণতি সম্পর্কে অন্য আরেকটি হাদীছে সাবধান বাণী উচ্চারিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,</p>
<blockquote><p><span style="color: #3366ff;"><strong> ثَلاَثَةٌ لاَ يُكَلِّمُهُمُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلاَ يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ وَلاَ يُزَكِّيْهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيْمٌ، قَالَ أَبُوْ ذَرٍّ خَابُوْا وَخَسِرُوْا مَنْ هُمْ يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ الْمُسْبِلُ وَالْمَنَّانُ وَالْمُنَفِّقُ سِلْعَتَهُ بِالْحَلِفِ الْكَاذِبِ</strong></span></p>
<p><span style="color: #3366ff;"><strong></strong><em> ‘তিন শ্রেণীর লোকের সাথে আল্ল­াহ কিবয়ামতের দিন কথা বলবেন না ও তাদের প্রতি দৃষ্টি দিবেন না এবং তাদেরকে পবিত্রও  করবেন না।  তাদের  জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।</em></span></p>
<p><span style="color: #3366ff;"><em> আবূ যার বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! কারা নিরাশ ও ক্ষতিগ্রস্ত?</em></span></p>
<p><span style="color: #3366ff;"><em> তিনি বললেন, টাখনুর নীচে কাপড় পরিধানকারী, উপকার করে খোটা প্রদানকারী এবং ঐ ব্যবসায়ী যে মিথ্যা শপথ করে তার পণ্য বিক্রি করে’</em></span>। <strong>[১০]</strong></p></blockquote>
<p><strong></strong> মিথ্যা কসমকারী ব্যবসায়ী এতই ঘৃণিত যে, ক্বিয়ামতের দিন আল্ল­াহ তার দিকে ফিরেও তাকাবেন না। প্রখ্যাত ছাহাবী আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন,</p>
<blockquote><p><em><span style="color: #003366;">জনৈক বেদুঈন একটি ছাগী নিয়ে যাচ্ছিল। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কি ছাগীটি তিন দিরহামে বিক্রি করবে? লোকটি বলল, আল্লাহ্র কসম! বিক্রি করব না। কিন্তু সে পরে সেই মূল্যেই ছাগীটি বিক্রি করে দিল। আমি এ বিষয়টি রাসূলুল্লাহ্র (ছাঃ)-এর কাছে এসে উল্লে­খ করলাম। তিনি আমার কথাগুলো শুনে বললেন,</span></em></p>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #3366ff;"><strong>بَاعَ آخِرَتَهُ بِدُنْيَاهُ </strong></span></p>
<p style="text-align: center;"><em><span style="color: #3366ff;">‘লোকটি  দুনিয়ার বিনিময়ে তার পরকালকে বিক্রি করে দিয়েছে’</span>।</em> <strong>[১১]</strong></p>
</blockquote>
<p><strong></strong>ব্যবসা-বাণিজ্যের ন্যায় একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ধোঁকা ও প্রতারণা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। দ্রব্যের কোন দোষ-ত্রুটি থাকলে ক্রেতার সম্মুখে তা প্রকাশ করতে হবে। সেক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই লাভবান হবে এবং তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত হবে। কোন প্রকার গোপনীয়তার আশ্রয় গ্রহণ করা যাবে না।  রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) পণ্যে ভেজাল দিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে দ্রব্যের মূল্য বাড়িয়ে দিতে নিষেধ করেছেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত,</p>
<blockquote><p><span style="color: #3366ff;"><strong>أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ عَلَى صُبْرَةِ طَعَامٍ فَأَدْخَلَ يَدَهُ فِيْهَا فَنَالَتْ أَصَابِعُهُ بَلَلاً فَقَالَ مَا هَذَا يَا صَاحِبَ الطَّعَامِ، قَالَ أَصَابَتْهُ السَّمَاءُ يَا رَسُوْلَ اللهِ، قَالَ أَفَلاَ جَعَلْتَهُ فَوْقَ الطَّعَامِ كَىْ يَرَاهُ النَّاسُ مَنْ غَشَّ فَلَيْسَ مِنِّىْ</strong></span></p>
<p><strong></strong><span style="color: #3366ff;"><em> ‘একদা নবী করীম (ছাঃ) কোন এক খাদ্যস্তূপের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি খাদ্যস্তূপে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে দেখলেন তার হাত ভিজে গেছে। তিনি বললেন, হে খাদ্যের মালিক! ব্যাপার কি? উত্তরে খাদ্যের মালিক বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ)! বৃষ্টিতে উহা ভিজে গেছে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাকে বললেন, ‘তাহ’লে ভেজা অংশটা শস্যের উপরে রাখলে না কেন? যাতে ক্রেতারা তা দেখে ক্রয় করতে পারে। নিশ্চয়ই যে প্রতারণা করে সে আমার উম্মত নয়’।</em></span> <strong>[১২]</strong></p></blockquote>
<p><strong></strong> রাসূলুল্ল­াহ (ছাঃ) আরো বলেন,</p>
<blockquote><p><span style="color: #003366;"><strong>اَلْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا أَوْ قَالَ حَتَّى يَتَفَرَّقَا فَإِنْ صَدَقَا وَبَيَّنَا بُوْرِكَ لَهُمَا فِي بَيْعِهِمَا وَإِنْ كَتَمَا وَكَذَبَا مُحِقَتْ بَرَكَةُ بَيْعِهِمَا</strong></span></p>
<p><em><span style="color: #003366;"> ‘ক্রেতা বিক্রেতা যতক্ষণ বিচ্ছিন্ন হয়ে না যায়, ততক্ষণ তাদের চুক্তি ভঙ্গ করার ঐচ্ছিকতা থাকবে। যদি তারা উভয়েই সততা অবলম্বন করে ও পণ্যের দোষ-ত্রুটি প্রকাশ করে, তাহ’লে তাদের পারস্পরিক এ ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত হবে। আর যদি তারা মিথ্যার আশ্রয় নেয় এবং পণ্যের দোষ গোপন করে তাহ’লে তাদের এ ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত শেষ হয়ে যাবে’</span>।</em> <strong>[১৩]</strong></p></blockquote>
<p><strong></strong>প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে দ্রব্যের মূল্য বাড়িয়ে দেওয়া যাবে না। ক্রয়ের ইচ্ছা না থাকলে কেবলমাত্র আসল ক্রেতাকে প্রতারিত করার উদ্দেশ্যে পণ্যের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী করে দেওয়া ইসলামে মারাত্মক অপরাধ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,</p>
<blockquote>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #003366;"><strong> لاَ تَنَاجَشُوْا </strong></span></p>
<p><span style="color: #003366;"> ‘তোমরা ক্রেতাকে ধোঁকা দেওয়ার লক্ষ্যে ক্রেতার মূল্যের উপর মূল্য বৃদ্ধি করে ক্রেতাকে ধোঁকা দিয়ো না’</span>। <strong>[১৪]</strong></p></blockquote>
<p><strong></strong> কারণ তা ধোঁকাবাজির অন্তর্ভুক্ত, যা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। প্রতারণা ও ধোঁকাবাজি যত সামান্যই হোক ক্রয়-বিক্রয়ের সময় তা বর্জন করা উচিত। ব্যবসা-বাণিজ্যের ন্যায় একটি মহৎ পেশায় নিয়োজিত লোকদের বৈশিষ্ট্য তেমন হওয়াই বাঞ্ছনীয়। এ ব্যাপারে হাসান বিন ছালিহর ক্রীতদাসী বিক্রয়ের ঘটনাটি একটি অনন্য উদাহরণ।</p>
<blockquote><p><span style="color: #993366;"><em>হাসান বিন ছালিহ একটি ক্রীতদাসী বিক্রয় করলেন। ক্রেতাকে বললেন, মেয়েটি একবার থুথুর সাথে রক্ত ফেলেছিল। তা ছিল মাত্র একবারের ঘটনা। কিন্তু তা সত্ত্বেও তার ঈমানী হৃদয় তা উল্লে­খ না করে চুপ থাকতে পারল না, যদিও তাতে মূল্য কম হওয়ার আশংকা ছিল।</em></span> <strong>[১৫]</strong></p></blockquote>
<p>সুতরাং ক্রেতা বিক্রেতা উভয়কে ধোঁকাবাজি ও প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। তাহ’লে ইহ-পরকালে কল্যাণ ও মুক্তিলাভ সম্ভব হবে।<br />
ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ওযন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নেওয়ার সময় বেশী নেওয়া এবং দেওয়ার সময় কম দেওয়া ইসলামে মারাত্মক অপরাধ। এ ধরনের ব্যবসায়ীদের ধ্বংস অনিবার্য। মহান আল্লাহ বলেন,</p>
<blockquote><p><span style="color: #008000;"><strong>وَيْلٌ لِلْمُطَفِّفِيْنَ، اَلَّذِيْنَ إِذَا اكْتَالُوْا عَلَى النَّاسِ يَسْتَوْفُوْنَ، وَإِذَا كَالُوْهُمْ أَوْ وَزَنُوْهُمْ يُخْسِرُوْنَ، أَلاَ يَظُنُّ أُولَئِكَ أَنَّهُمْ مَبْعُوْثُوْنَ، لِيَوْمٍ عَظِيْمٍ، يَوْمَ يَقُوْمُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعَالَمِيْنَ</strong></span></p>
<p><span style="color: #008000;"><em><strong>‘যারা ওযনে কম দেয় তাদের জন্য ধ্বংস। তারা যখন লোকদের কাছ থেকে কিছু মেপে নেয়, তখন পুরাপুরি নেয়। আর যখন তাদের মেপে বা ওযন করে দেয় তখন কম করে দেয়। তারা কি ভেবে দেখে না যে, তারা সেই কঠিন দিনে পুনরুত্থিত হবে, যেদিন সকল মানুষ স্বীয় প্রতিপালকের সম্মুখে দন্ডায়মান হবে’ </strong>(মুতাফ্ফিফীন ১-৫)</em></span></p></blockquote>
<p><em></em> আল্ল­াহ অনত্র বলেন,</p>
<blockquote>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #008000;"><strong> وَأَقِيْمُوا الْوَزْنَ بِالْقِسْطِ وَلاَ تُخْسِرُوا الْمِيْزَانَ</strong></span></p>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #008000;"><em><strong> ‘তোমরা ন্যায্য ওযন কায়েম কর এবং ওযনে কম দিয়ো না’ </strong>(আর-রহমান ৯)</em></span></p>
</blockquote>
<p><em></em> বুঝা গেল যে, ব্যবসা-বাণিজ্যে ওযনে কম-বেশী করা গুরুতর অপরাধ। এতে এক শ্রেণীর মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর এক শ্রেণীর মানুষ সাময়িকভাবে লাভবান হয়, যা ইসলামে কাম্য নয়।<br />
পরিশেষে বলা যায়, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীকে সততা, ন্যায়-নিষ্ঠা ও বিশ্বস্ততার সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে হবে, অবৈধ উপার্জন ও লোভ-লালসাকে সংবরণ করতে হবে। আর এটাই ইসলামের দাবী। মহান আল্লাহ আমাদেরকে সততার সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য করে ইহকালে আর্থিক স্বচ্ছলতা অর্জন ও পরকালে মুক্তি লাভের তাওফীক দান করুন। <strong>আমীন!!</strong></p>
<div>
<div id="ftn1"> <strong>১</strong><em><strong>.</strong> মুসলিম; মিশকাত হা/২৭৬০ ‘ক্রয়-বিক্রয়’ অধ্যায়।</em></div>
<div id="ftn2"> <strong>২</strong><em><strong>.</strong> তিরমিযী, হা/২৪১৬, হাদীছ ছহীহ।</em></div>
<div id="ftn3"> <strong>৩</strong><em><strong>.</strong> আহমাদ, মিশকাত হা/২৭৮৩; সিলসিলা ছহীহাহ হা/৬০৭।</em></div>
<div id="ftn4"> <strong>৪</strong><em><strong>.</strong> তিরমিযী, হা/১২০৯; হাদীছ ছহীহ, ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১৭৮২।</em></div>
<div id="ftn5"> <strong>৫</strong><em><strong>.</strong>  তিরমিযী, হা/১২১০; ইবনু মাজাহ হা/২১৪৬; সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৪৫৮।</em></div>
<div id="ftn6"> <strong>৬</strong><em><strong>.</strong> মুসলিম হা/৪২০৬।</em></div>
<div id="ftn7"> <strong>৭</strong><em><strong>.</strong> ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১৭৯৩।</em></div>
<div id="ftn8"> <strong>৮</strong><em><strong>.</strong> মুসলিম, মিশকাত হা/১৬০৭, ২৭৯৩।</em></div>
<div id="ftn9"> <strong>৯</strong><em><strong>.</strong> মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২৭৯৪।</em></div>
<div id="div"> <strong>১০</strong><em><strong>.</strong> মুসলিম, হা/১০৫; মিশকাত হা/২৭৯৫।</em></div>
<div id="ftn11"> <strong>১১</strong><em><strong>.</strong> সিলসিলা ছহীহাহ হা/৩৬৪।</em></div>
<div id="ftn12"> <strong>১২</strong><em><strong>.</strong> মুসলিম; মিশকাত হা/২৮৬০।</em></div>
<div id="ftn13"> <strong>১৩</strong><em><strong>.</strong> বুখারী, হা/২০৭৯; মুসলিম হা/১৫৩২।</em></div>
<div id="ftn14"> <strong>১৪</strong><em><strong>.</strong> বুখারী, মুসলিম, রিয়াযুছ ছালেহীন, হা/১৫৮১।</em></div>
<div id="ftn15"> <strong>১৫</strong><em><strong>.</strong> ইসলামে হালাল হারামের বিধান, পৃঃ ৩৪০।</em></div>
</div>
<h3>Related Posts</h3>
<p>No related posts were found, so here's a consolation prize: <a href="http://www.quraneralo.com/earthquake-emergency-measures/" rel="bookmark">ভূমিকম্পের করণীয় &#8211; সবাইকে জানতে সাহায্য করুন</a>.</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.quraneralo.com/honesty-in-business/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>2</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আমার স্ত্রী সবসময় রেগে থাকে</title>
		<link>http://www.quraneralo.com/my-wife-is-always-angry/</link>
		<comments>http://www.quraneralo.com/my-wife-is-always-angry/#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 13 Feb 2012 18:20:48 +0000</pubDate>
		<dc:creator>QuranerAlo.com Editor</dc:creator>
				<category><![CDATA[পরিবার ও সমাজ]]></category>
		<category><![CDATA[ভাইদের জন্য]]></category>
		<category><![CDATA[ভালবাসা]]></category>
		<category><![CDATA[রাগ]]></category>
		<category><![CDATA[স্ত্রী]]></category>
		<category><![CDATA[স্বামী]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.quraneralo.com/?p=2789</guid>
		<description><![CDATA[অনুবাদকঃ মোছ্‌তানছের বিল্লাহ্‌ &#124; সম্পাদনা ও প্রকাশনায়ঃ কুরানের আলো ওয়েবসাইট &#124;  ENGLISH VERSION প্রশ্নঃ আমরা এক নবদম্পতি আর আমার ধারনা আমার স্ত্রী সবসময় রেগে থাকে। যখন আমরা বিয়ের জন্য পরিকল্পনা করেছিলাম, তখন তার মেজাজ মর্জি আমার মনে হতো তার বিবাহ পূর্ববর্তী অজানা আশংকার অথবা দুঃশ্চিন্তার বহিঃপ্রকাশ। যাইহোক তার সেই অবস্থা বিবাহের পরেও বিদ্যমান এবং নতুন [...]<h3>Related Posts</h3>

No related posts were found, so here's a consolation prize: <a href="http://www.quraneralo.com/challenge-of-the-quran/" rel="bookmark">কোরআনের চ্যালেঞ্জ</a>.
]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[
			<!--Facebook Like and Send button by darkomitrovic.com-->
			<div id="fb-root"></div>
			<script>
			<!--
			  window.fbAsyncInit = function() {
				FB.init({appId: "224955984185367", status: true, cookie: true, xfbml: true});
			  };
			  (function() {
				var e = document.createElement("script"); e.async = true;
				e.src = document.location.protocol +
				  "//connect.facebook.net/en_US/all.js";
				document.getElementById("fb-root").appendChild(e);
			  }());
			-->
			</script>
			<fb:like href="http://www.quraneralo.com/my-wife-is-always-angry/" send="true" layout="standard" width="450" show_faces="false" colorscheme="light" action="like" font="tahoma"></fb:like>
			<!--Facebook Like and Send button by darkomitrovic.com-->
			<p style="text-align: center;"><strong>অনুবাদকঃ</strong> মোছ্‌তানছের বিল্লাহ্‌ | <strong>সম্পাদনা ও প্রকাশনায়ঃ</strong> কুরানের আলো ওয়েবসাইট |</p>
<p style="text-align: center;"> <a title="My Wife Is Always Angry" href="http://www.suhaibwebb.com/relationships/marriage-family/spouse/my-wife-is-always-angry/" target="_blank">ENGLISH VERSION</a></p>
<p style="text-align: justify;"><strong>প্রশ্নঃ</strong> <span style="color: #800080;">আমরা এক নবদম্পতি আর আমার ধারনা আমার স্ত্রী সবসময় রেগে থাকে। যখন আমরা বিয়ের জন্য পরিকল্পনা করেছিলাম, তখন তার মেজাজ মর্জি আমার মনে হতো তার বিবাহ পূর্ববর্তী অজানা আশংকার অথবা দুঃশ্চিন্তার বহিঃপ্রকাশ। যাইহোক তার সেই অবস্থা বিবাহের পরেও বিদ্যমান এবং নতুন মাত্রায় রাগের প্রকাশ আরম্ভ হলো। আমি যতই ক্ষুদ্র কাজ করি বা সামান্যই বলি, যেটা আমার দৃষ্টিতে খুবই যুক্তিপূর্ণ ও নির্দোষ, সেটা তাকে রাগম্বিত করে তুলে, ফলশ্রুতিতে সে আমার সাথে কথা বলা থেকে বিরত থাকে। উদাহরনস্বরূপ, ধরুন সে আমাকে ফোনে কল করলো, আমি কাজে ব্যস্ত আছি আর ফোন রিসিভ্‌ করতে ক্ষানিক দেরি হল, সে রেগে যায়। যদি আমি তার সাথে যথেষ্ট সময় অতিবাহিত করতে না পারি, তাহলেও সে রেগে যায়। খাবার শেষে আমি যদি সাথে সাথে থালা-বাসন ধুয়ে না রাখি, তাহলেও রেগে যায়। আমি তাকে বুঝানোর চেষ্টা করেছি যে আমি তাকে উপেক্ষা করিনা বা তাকে হেয় করিনা অথবা তার প্রতি আমার কোন হতাশাও নেই, কিন্তু ফলাফল শুন্য। এবং সে এটাও স্বীকার করে না যে, সে যখন এমন রাগান্বিত আচরণ করছে, আমিও তার মত রেগে যাচ্ছি না। আমি আমার পরিবার ও বন্ধুমহলেও এ ব্যাপারে আলোচনা করেছি পরামর্শের জন্য। প্রত্যেকেই আমাকে পরামর্শ দিলো আমি যেন সেই রাগের সময় গুলোতে তাকে রাগ কমে যাওয়ার সময় ও সুযোগ দেই। আমি আমার স্ত্রীকে অনেক ভালবাসি এবং তাকে আমি সুখি দেখতে চাই; কিন্তু আমি বুঝে পাচ্ছিনা কিভাবে আমাদের সম্পর্কের উন্নতি ঘটাবো। আমাকে পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করুন।</span></p>
<p style="text-align: center;"><a href="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/02/red_by_lokimuje-d1i7dol.jpg"><img class="alignright  wp-image-2790" title="red_by_lokimuje-d1i7dol" src="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/02/red_by_lokimuje-d1i7dol-442x662.jpg" alt="" width="309" height="463" /></a></p>
<p style="text-align: justify;"><strong>উত্তরঃ</strong> আপনাদের দু’জনেরই পরস্পরের সাথে ভাবগত ভাষা প্রকাশের যথেষ্ট অভাব আছে অন্যকথায় মানসিক যোগাযোগ প্রাপ্তি হয়ে উঠেনি। যেকোন রকমের রাগের বহিঃপ্রকাশ বৈবাহিক জীবনে অত্যন্ত ক্ষতিকর। এরকম প্রতিটি রাগের বহিঃপ্রকাশ পরস্পরের মধ্যকার আবেগ গুলিকে এক এক করে ধ্বংস করে, যার ফলে এক পর্যায়ে দূরত্ব, একাকীত্ব, অপমানবোধ ও হতাশা  বৃদ্ধি পায়। হতে পারে আপনার স্ত্রী মানসিকভাবে আপনাকে আরো কাছে পেতে চায়, আর তা না পেলে সে নিজেকে আপনার তরফ থেকে ‘প্রত্যাখ্যাত’ মনে করে। এই প্রত্যাখ্যাত হওয়ার অনুভূতিটাকেই সে রাগের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।  অর্থাৎ সে যখন তার অনুভূতি প্রকাশ করতে বার বার ব্যার্থ হয় তখন সে আপনা থেকেই রেগে যায়, হতে পারে নিজের উপরই রেগে থাকে কিন্তু ক্ষোভ প্রকাশ পায় আপানার উপর। আর এই ধরনের ব্যাপারগুলি সদ্য বিবাহিত দম্পতিদের বেলায় খুব সাধারন যারা নিজেরা সঠিকভাবে পরস্পরের মানসিক, শারীরিক, পারিবারিক ও সামাজিক চাহিদাগুলো সম্পর্কে সাম্যকভাবে অবহিত নয়। প্রাকৃতিকভাবে একজন পুরুষ ভাবে শারিরীকভাবে কাছে যেতে পারাটাই হচ্ছে সম্পর্কন্নোয়নের সোপান আর একজন নারী ভাবে মানসিক নৈকট্য লাভের মাধ্যমেই সম্পর্কন্নোয়নের করতে। খুব সম্ভবত, আপনার স্ত্রী আপনার নিকট থেকে মানসিকভাবে নৈকট্য ও নিরাপত্তা লাভ করতে চাচ্ছেন। তার রেগে যাওয়ার ব্যাপারটি হচ্ছে একটা অপরিপক্ক পন্থা যার মাধ্যমে সে নিজের মানসিক চাহিদাকে ও হতাশাগুলোকে প্রকাশ করতে চাচ্ছে, কিন্তু পারছে না। পারস্পরিক সহযোগিতা ও আত্নোন্নয়নের মাধ্যমে এই প্রকাশ করার ক্ষমতাকে সাবলীল ও সৌন্দর্য্যমন্ডিত করতে হবে।</p>
<p style="text-align: justify;">আপনার স্ত্রী যদি সারাক্ষন এমন রেগেই থাকে, তাহলে এমন পরিস্থিতি সবসময় বোঝা ও তা সামলানো আপনার জন্য কষ্টকর; আর এ থেকে আপনার মনে অসহায়ত্ব তৈরি হয় ও বৈবাহিক জীবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তার উদ্রেক করে। যখন সে রেগে যায় তখন আপনি হয়ত চান যে ঘোল পেকে যাওয়া ব্যাপারটা তাকে বুঝিয়ে বলবেন অথবা আপনি আত্নপক্ষ সমর্থনের জন্য নানা রকম বৈধ যুক্তির অবতারনা করবেন; কিন্তু এর কোন উপায়েই আসলে নৈকট্য ও আন্তরিকতা পাওয়া যায় না। বরং সে যখন রেগে যায়, সেই মুহূর্তগুলোকে তার সাথে নতুনভাবে যোগসূত্র তৈরি করার একটি সুযোগ হিসেবে দেখুন। সে যখন রেগে যায়, সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের কিছু করুন, তিনি কি বলতে চাচ্ছেন অথচ বলতে পারছেন না, তা সত্যি সত্যি মনোযোগ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করুন।</p>
<p style="text-align: justify;">উদাহরণস্বরূপ, আপনি সারাদিন কর্মব্যাস্ততার পরে বাসায় ফিরলেন, ক্লান্তি আর অবসাদ নিয়ে। আপনার স্ত্রী এই মুহুর্তে আপনাকে দেখাতে লাগলো যে, তিনি আপনার জন্য আপনার পছন্দের খাবারটি রান্না করেছেন। আপনি অনেক ক্লান্ত আর তাই নির্লিপ্তভাবে বল্লেন যে আপনি একটু ফ্রেশ হয়ে তারপর খাবার খেতে চলে আসবেন। আপনি অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই ভাল মন নিয়েই বল্লেন কিন্তু আপনার স্ত্রী রাগে ফেটে পড়লেন আর আপনি হলেন কিংকর্তব্যবিমূঢ়!</p>
<p style="text-align: justify;">এখন এখানে আপনি একটু বুদ্ধির ব্যবহার করুন, কিছুইনা আসলে আপনার লক্ষ্য হচ্ছে আপনার স্ত্রীর মনের কথাটা তার নিজের মুখ দিয়ে বের করে আনা। আপনি তার কাছে যান, তার হাত দুটো ধরেন, তার চোখে চোখ রাখুন আর নিচের কথোপকথোনের অবতারনা করুন।</p>
<p style="text-align: justify;"><strong>স্বামীঃ</strong> <span style="color: #800080;"><em>“প্রিয়া,</em><em> আমি</em><em> তোমাকে ভালবাসি</em><em>,</em><em> তুমি কষ্ট করে আমার প্রিয় খাবার তৈরি করেছো, আমার অনেক ভালো লাগছে</em><em>।</em><em> আচ্ছা, তোমাকে কিছুটা </em><em>হতাশ</em><em> দেখাচ্ছে, কেন? </em><em>তোমার কি হয়েছে</em><em> আমাকে বল</em><em>।</em><em>”</em></span></p>
<p style="text-align: justify;">তিনি উত্তরে যাই বলুন না কেন, আপনি প্রস্তুত থাকুন ধৈর্য্য সহকারে শোনার জন্য। কারন তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে তাকে বুঝতে পারাই আপনার জন্য চ্যালেঞ্জ। মনে রাখবেন আত্নপক্ষ সমর্থনে কোন কৈফিয়ত দেওয়া, কোন কিছুর ব্যাখ্যা বা তাকে কোণঠাসা করার জন্য আক্রমানাত্নক কথা বলা অথবা রাগতভাবে তাকে পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়ার আর কোন দরকার নেই। এখন শুধু দরকার তার সাথে “আই কন্টাক্ট” বজায় রাখা বা চোখে চোখ রাখা এবং তিনি যা বলেন তার পিছনের প্রকৃত অনুভূতি উপলদ্ধি করা।</p>
<p style="text-align: justify;"><strong>স্ত্রীঃ</strong> <span style="color: #800080;"><em>“তুমি আমার কোন কিছুতেই</em><em> প্রশংসা</em><em> করো না আমি তোমার জন্য যত ভালো কিছুই করিনা কেন</em><em>।</em><em> আমি চেষ্টা করি তোমার জন্য দারুন কিছু করার অথচ তুমি গুরুত্ব</em><em>ই</em><em> দাওনা</em><em>।</em><em>”</em></span></p>
<p style="text-align: justify;"><strong>স্বামীঃ</strong> <span style="color: #800080;"><em>“ঠিক আছে, আমি দেখছি তুমি এ বিষয়ে নিয়ে হতাশ, এ ব্যাপারে তুমি আরো কিছু বল</em><em>।</em><em>”</em></span></p>
<p style="text-align: justify;"><strong>স্ত্রীঃ</strong> <span style="color: #800080;"><em>“আমি রেগে যাই যখন আমি তোমার জন্য দারুন কিছু তৈরি করি আর তুমি তাতে </em><em>প্রশংসা</em><em> কর না</em><em>।</em><em> তখন আমার মনে হয় আমি </em><em>আত কখনও</em><em> তোমার জন্যে কিছুই রান্না করবো না</em><em>।</em><em>”</em></span></p>
<p style="text-align: justify;"><strong>স্বামীঃ</strong> <span style="color: #800080;"><em>“হম্‌, আমি বুঝতে পারছি যে তুমি মনে করো যে তোমাকে উপযুক্ত প্রসংশা করা হচ্ছে না</em><em>।</em><em> </em><em>তুমি</em><em>ও</em><em> দিন শেষে ক্লান্ত হয়ে যাও আর </em><em>চাও যে </em><em>আমি যখন ঘরে ফিরি তখন কিছুটা সময়</em><em> আমরা  একসাথে</em><em> </em><em>কাটাবো?</em><em> এরকম কিছু কি?”</em></span></p>
<p style="text-align: justify;"><strong>স্ত্রীঃ</strong> <span style="color: #800080;"><em>“হম, অনেকটা এরকমই</em><em>।</em><em>”</em></span></p>
<p style="text-align: justify;"><strong>স্বামীঃ</strong> <span style="color: #800080;"><em>“প্রিয়তমা, </em><em>এখন আমি বুঝতে পেরেছি</em><em>।</em><em> </em><em>তোমার এসব কাজের জন্য তোমার প্রশংসা আমি মনে মনে করে থাকি কিন্তু আমি তা প্রকাশ করতে না পারার জন্য দুঃখিত</em><em>।</em><em> আর সারাদিন ধরে আমি</em><em>ও</em><em> </em><em>মনে মনে অপেক্ষায়</em><em> থাকি যে কখন আমি তোমাকে দেখতে পাবো</em><em>।</em><em>”</em></span></p>
<p style="text-align: justify;"><strong>স্ত্রীঃ</strong> <span style="color: #800080;"><em>“সত্যি</em><em>ই</em><em> তুমি তাই ভাব? আমি আসলে সত্যি খুব দুঃখিত দ্রুত রেগে যাওয়ার জন্যে, আমি শুধু চাই, দিন শেষে একটা দারুন রাতের খাবার তৈরি করবো আর কিছুটা সময় কাটাবো তোমার সাথে, </em><em>আর সারাদিনের দূরে থাকার অভাববোধটা কাটাবো</em><em>।</em><em>”</em></span></p>
<p style="text-align: justify;"><strong>স্বামীঃ</strong> <span style="color: #800080;"><em>“তুমি যা অনুভব কর তা আমাকে বলার জন্য ধন্যবাদ</em><em>।</em><em> তোমার খোলামেলা কথার জন্য তোমার প্রসংশা করতে হয়</em><em>।</em><em> আচ্ছা আমি দ্রুত কাপড় বদলিয়ে, ফ্রেশ হয়ে খেতে আসি? আর খাবার টেবিলে বসে সারাদিন আমরা দু</em><em>’</em><em>জনে কে কি করেছি সেসব বিষয়ে কথা হবে কেমন?”</em></span></p>
<p style="text-align: justify;">কিছু সাধারন উক্তির সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে আপনি একটি বৈবাহিক সম্পর্ককে পূর্ণতার দিকে বয়ে নিয়ে যেতে পারেন। কারন যখন আপনার স্ত্রী বুঝবেন যে আপনি তার অনুভূতিগুলো বুঝতে পারছেন বা বুঝার চেষ্টা করছেন তখন দেখবেন আপনা থেকে আপনার স্ত্রী আপনার মন মানসিকতার সাথে মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে, আর এটাই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক একটা রসায়ন। কেননা এভাবেই বৈবাহিক জীবনে পরস্পরের মানসিক যোগাযোগ স্থাপিত হয়ে থাকে। সম্পর্কের উন্নয়নের খাতিরে হলেও স্বামীর হিকমত ও ধৈর্যের সাথে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা উচিৎ।  আল্লাহ বলেনঃ</p>
<blockquote>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #008000;"><strong>ভাল আর মন্দ কখনই সমান হতে পারে</strong><strong> </strong><strong>না</strong><strong>; </strong><strong>তুমি ভাল (কাজ) দ্বারা মন্দ (কাজ) প্রতিহত করো</strong><strong>, </strong><strong>তাহলেই (তুমি দেখতে</strong><strong> </strong><strong>পাবে) তোমার এবং যার সাথে তোমার শত্রুতা ছিল</strong><strong>, </strong><strong>তার মাঝে এমন (অবস্থা সৃষ্টি)</strong><strong> </strong><strong>হয়ে যাবে</strong><strong>, </strong><strong>যেন সে (তোমার) অন্তরঙ্গ বন্ধু</strong><strong>।</strong><strong>’ </strong>(সুরা হা-মীম-আস সাজদাঃ ৩৪)</span></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify;">আপনার স্ত্রী মানুষ হিসেবে মন্দ নন, কিন্তু তার অনুভুতির প্রকাশটি এক্ষেত্রে হয়তো ভাল মত হচ্ছে না। আপনার পরিণত প্রতিক্রিয়া তার অপরিনত রাগকে ইনশাল্লাহ ভালোর দিকেই পরিবর্তিত করবে।  রাগের পিঠে রেগে উত্তর দেওয়াই মানুষের স্বাভাবিক অভ্যাস। এই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াতে সবচেয়ে বেশী খুশী হয় শয়তান। ইবলিস তার বাহিনীর সেই শয়তানদের উপর সবচেয়ে বেশী খুশী হয়ে কাছে টেনে নেয় যারা স্বামী স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাতে সক্ষম হয়। কাজেই অধৈর্য হয়ে নেতিবাচক কিছু করে ফেলে শয়তানের বিনোদনের খোরাক হয়ে জেন না যান সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখবেন।</p>
<p style="text-align: justify;">কিছু ক্ষেত্রে ব্যাতিক্রম থাকতে পারে। কেননা, এই ধরনের সম্পর্কগুলোর উন্নয়ন মাঝে মাঝে কারো কারো ক্ষত্রে অনেক সময় জটিল হয়, আর একারনে প্রয়োজনে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া যেতে পারে। যিনি পরামর্শদাতা তিনি আপনাকে শিক্ষা দিতে পারবেন কি করে এসব ব্যাপারে পরস্পরের মাঝে ভাব বিনিময় করতে হয়। যদি একটি দম্পত্তি ক্রমাগত মানসিকভাবে অসুখী হতে থাকে, তাহলে তা এক পর্যায়ে নানামুখী সমস্যার জন্ম দিতে থাকে। এধরনের খারাপ অবস্থায় যাওয়ার পূর্বেই একজন দক্ষ পরামর্শকের পরামর্শের ভিত্তিতে (তিনি একজন মানসিক ডাক্তার হতে পারেন) স্বামী বা স্ত্রীর কাউকে হয়ত ঔষধ গ্রহণ করতে হতে পারে যেন কিছু ব্যাপারের নিয়ন্ত্রনে (যেমন হতাশা, ক্রোধ ইত্যাদি) ঔষধ সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে আর এর মাধ্যমে পুনরায় সম্পর্ক উন্নোয়নের আলো দেখানো যেতে পারে। সাংসারিক যেকোন মানসিক আঘাত ও রেগে যাওয়ার মত বিষয়গুলি ঠিক-ঠাক করে ফেলা সম্ভব, কিন্তু এর জন্য স্বামী বা স্ত্রী অথবা উভয়কেই ভাব বিনিময়ের কিছু প্রাকৃতিক কথোপকথনের ব্যাবহার ও আচরনের চর্চা করে নিতে হয় যাতে করে উভয়ের মাঝে সুষ্ঠভাবে মানসিক যোগাযোগ গড়ে উঠতে পারে। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, সবচেয়ে বড় নিরাময়কারী হচ্ছেন সর্বশক্তিমান আল্লাহ। তাই আল্লাহর কাছে দোয়া চাইতে হবে সবার আগে। কুরআনে এই জন্য আল্লাহ আমাদেরকে কে এই দোয়া শিখিয়েছেন-</p>
<blockquote>
<p style="text-align: center;"><strong><span style="color: #008000;">وَالَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا</span></strong></p>
<p style="text-align: center;"><strong><span style="color: #008000;">এবং যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানের পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে চোখের শীতলতা দান কর এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্যে আদর্শস্বরূপ কর। [সূরা ফুরকানঃ ৭৪]<br />
</span></strong></p>
</blockquote>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: #008000;"><span style="color: #000000;">আল্লাহ প্রতিটি সংসারকে যেন হেফাজত করেন। আমীন</span></span><strong><span style="color: #008000;"><br />
</span></strong></p>
<h3>Related Posts</h3>
<p>No related posts were found, so here's a consolation prize: <a href="http://www.quraneralo.com/understand-and-read-quran-6/" rel="bookmark">কুর&#8217;আন কিভাবে পড়বো ও বুঝবো &#8211; ৬</a>.</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.quraneralo.com/my-wife-is-always-angry/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>1</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>ভ্যালেন্টাইন দিবসের প্রতিচ্ছবি</title>
		<link>http://www.quraneralo.com/reflections-on-valentines-day/</link>
		<comments>http://www.quraneralo.com/reflections-on-valentines-day/#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 13 Feb 2012 06:52:39 +0000</pubDate>
		<dc:creator>QuranerAlo.com Editor</dc:creator>
				<category><![CDATA[সাম্প্রতিক বিষয়াদি]]></category>
		<category><![CDATA[valentines day]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.quraneralo.com/?p=2786</guid>
		<description><![CDATA[লিখেছেনঃ মরিয়ম আনোয়ার &#124;  অনুবাদকঃ মোছতানছের বিল্লাহ্‌। ভ্যালেন্টাইন দিবসকে সামনে রেখে চারিদিকে যেন উজ্জল লাল ও গোলাপি রং এর মেলা চলছে। কাপড়ের বিপনি বিতান গুলোতে দেখা যায় দামী ও ভারিক্কি লাল কাপড়ের সমারোহ, ফুলের দোকানে লাল গোলাপের দাম তাই চড়া, উপহারের বিভিন্ন দোকানে সুন্দর সুন্দর টেডি বিয়ারগুলির গায়ে গোলাপি কিংবা লাল রংয়ের সুদৃশ্য হার্টের প্রতিকৃতি [...]<h3>Related Posts</h3>

No related posts were found, so here's a consolation prize: <a href="http://www.quraneralo.com/roja/" rel="bookmark">বই &#8211; রোযার সত্তরটি মাসয়ালা – মাসায়েল</a>.
]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[
			<!--Facebook Like and Send button by darkomitrovic.com-->
			<div id="fb-root"></div>
			<script>
			<!--
			  window.fbAsyncInit = function() {
				FB.init({appId: "224955984185367", status: true, cookie: true, xfbml: true});
			  };
			  (function() {
				var e = document.createElement("script"); e.async = true;
				e.src = document.location.protocol +
				  "//connect.facebook.net/en_US/all.js";
				document.getElementById("fb-root").appendChild(e);
			  }());
			-->
			</script>
			<fb:like href="http://www.quraneralo.com/reflections-on-valentines-day/" send="true" layout="standard" width="450" show_faces="false" colorscheme="light" action="like" font="tahoma"></fb:like>
			<!--Facebook Like and Send button by darkomitrovic.com-->
			<p style="text-align: center;"><strong>লিখেছেনঃ</strong> মরিয়ম আনোয়ার |  <strong>অনুবাদকঃ</strong> মোছতানছের বিল্লাহ্‌।</p>
<p><a href="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/02/13902a_Be-My-Valentine-Petit-Fours-276x300.jpg"><img class="alignright size-full wp-image-2787" title="13902a_Be-My-Valentine-Petit-Fours-276x300" src="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/02/13902a_Be-My-Valentine-Petit-Fours-276x300.jpg" alt="" width="276" height="300" /></a></p>
<p style="text-align: left;">ভ্যালেন্টাইন দিবসকে সামনে রেখে চারিদিকে যেন উজ্জল লাল ও গোলাপি রং এর মেলা চলছে। কাপড়ের বিপনি বিতান গুলোতে দেখা যায় দামী ও ভারিক্কি লাল কাপড়ের সমারোহ, ফুলের দোকানে লাল গোলাপের দাম তাই চড়া, উপহারের বিভিন্ন দোকানে সুন্দর সুন্দর টেডি বিয়ারগুলির গায়ে গোলাপি কিংবা লাল রংয়ের সুদৃশ্য হার্টের প্রতিকৃতি দিয়ে সাজানো। অলংকার ও ঘড়ি গুলোকে উপস্থাপন করা হয়েছে ভালোবাসা নিয়ে কোন লিখনী বা মনরঞ্জক কোন উক্তি দিয়ে। এমনকি মিষ্টির দোকানেও দেখা যাচ্ছে হার্টের আকৃতি সম্বলিত কেক বা চকোলেট এর ব্যাবস্থা করতে, তাতে আবার অনুরোধ বা অর্ডারের ভিত্তিতে চকমকে গোলাপি কাভারে সাজানোর ব্যাবস্থাও আছে।</p>
<p><em>দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, এ দিবসটি শুধু পাশ্চাত্যের দেশগুলোতেই নয় বরং প্রায় সবকটি মুসলিম দেশেই পালন করা হচ্ছে!</em><em></em></p>
<p>অভিবাবকদের চোখের আড়ালে তরুনদলের অনেকেই তাদের বিপরীত লিঙ্গের কারও সাথে দিনটিকে উদ্‌যাপন করবে বলে নানা রকম পূর্ব পরিকল্পনায় মত্ত থাকে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবার দল বেঁধে একাজ করার পরিকল্পনা আঁটে! আবার কেউ কেউ এ দিনটিতে একটু ভিন্নতা এনে নিজ ভাই বা বোন বা বাবা-মাকেও অভিবাদন জানায় বা শুভ কামনা বিনিময় করে থাকে।</p>
<p>এই দিনটির পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে তাদের অনেককে বিশেষ পোশাক কিনতে দেখা যায়। টি-শার্ট, জুতা, অলংকার, নানা রকম আকর্ষনীয় পোশাকের বাহার, উঁচো হাই হিলের সাথে ম্যাচ করে লাল নেইল পলিস আরো কত কি! ওহ, লাল রংয়ের চকচকে হার্টের ছোট্ট একটি প্রতিকৃতি সংগ্রহ করতেও তারা ভুলে না।</p>
<p>সুবহানআল্লাহ্‌, চারিদিকে এসব ব্যাপার অবলোকন করে; মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) এর সময়ের একটি ঘটনা স্মরণ করা যেতে পারে।</p>
<p><span style="color: #800000;">একজন যুবক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) এর নিকট আসলো এবং বল্লো, “ও আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)! আমি আপনাকে আমার নিজের প্রানের, পরিবারের এবং সন্তানদের থেকেও বেশী ভালবাসি। যখন আমি ঘরে থাকি আর মাঝে মাঝে যখন আপনার কথা মনে পড়ে তখন আপনার নিকট এসে আপনাকে না দেখা পর্যন্ত আমার অন্তর শান্তি পায় নাহ। যখন আমি আমার ও আপনার মৃত্যু পরবর্তী জীবন সম্পর্কে ভাবি তখন আমার এই ধারনা হয় যে, আপনি জান্নাতে থাকবেন নবীদের সাথে আর আমার তাই ভয় হয়, আমি যদি জান্নাতে প্রবেশ করি তাহলে হয়ত আপনাকে দেখতে পাবো নাহ।”</span></p>
<p>নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) প্রতিউত্তর করলেন না, নিরব থাকলেন। কিন্তু মহান আল্লাহ্‌ ঐ যুবককে উদ্দেশ্য করে একটি আয়াত নাজিল করেন।</p>
<p>“<span style="color: #800000;"><strong>আর যে কেউ আল্লাহ ও রাসূলের অনুগত হয়, তবে তারা ঐ ব্যক্তিদের সংগী হবে যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন; অর্থাৎ নবীগণ, সত্য সাধকগণ, শহীদ্গণ ও সৎকর্মশীলগণ এবং এরাই সর্বোত্তম সঙ্গী</strong></span>”। সূরা আন-নিসা, আয়াতঃ ৬৯।</p>
<p>সুবহানাল্লাহ, সেই যুবক কতইনা সৌভাগ্যবান যে স্বয়ং আল্লাহ সাত আসমানের উপর থেকে তার প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) এর মাধ্যমে!! সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) এর প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করেছিলো, সে তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) ভালবেসেছিলো আল্লাহ এর সন্তুষ্টি ও করুনা প্রাপ্তির আশায় যাতে করে সে পরকালে জান্নাত লাভ করতে পারে আর মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) এর সান্নিধ্য পরকালেও যেন লাভ করতে পারে। তার চিন্তা চেতনার অধিকাংশই পরকালের প্রাপ্তির কথা বিরাজ করছিলো!</p>
<p>কিন্তু আজ আমাদের কি হয়েছে? আমরা অবিশ্বাসীদের রীতি-নীতি আর সংস্কার রপ্ত করার পিছনে মত্ত হয়ে পড়েছি!! মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) কে ভালবেসে তাঁর সুন্নাহ এর অনুসরন করার কথা আমাদের চিন্তা চেতনা থেকে কি করে লোপ পেয়ে গেলো! আমরা মুসলমানরা আজ আল্লাহ এর আদেশ এর প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করছি আর মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) এর সুন্নাহকে হাত থেকে ছেড়ে দিয়েছি। এভাবে চলতে থাকলে শেষ নিঃশ্বাস এর সাথে সাথে সব কিছুই ব্যার্থ পর্যবসিত হবে তাতে কোন সন্দেহ নাই। আল্লাহ এর বিভিন্ন সতর্কতা মূলক আভাস সম্পর্কে ও বিভিন্ন রকম নিদর্শন সম্পর্কে পড়ছি, জানছি ও প্রত্যক্ষ করছি, অথচ তা থেকে আমরা শিক্ষা গ্রহণ করছি না, অথবা সেসব আলামত গুলিকে সম্পূর্ণ রূপে উপেক্ষা করছি। কয়েক বছর পূর্বে গাজা উপত্তকায় ইহুদী কর্তীক মুসলমান গণ-হত্যার ঘটনা এবং ইসরায়লের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের উপর অমানবিক অত্যাচার নিপীড়ন, সারা বিশ্বের সকল জীবিত মুসলিমদের জন্য যেন ছিলো একটা চপেটাঘাতের মতন। যেন আল্লাহ আমাদেরকে ধারাবাহিকভাবে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যেন আমরা আমাদের শিকড়ে ফিরে যেতে পারি। কিন্তু স্বল্প সময়ের মধ্যে আমরা সকল সতর্কতার বানীই ভুলে যাই।</p>
<p>দুঃখজনকভাবে, আর ক’দিন পরেই গোলাপী ও লাল টেডি বিয়ারগুলিই হবে আমাদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু, তাদেরই রীতি-নীতি ও সংস্কৃতির পদাঙ্ক অনুসরন করার মাধ্যমে যারা মানবতা বিরোধী ও বিশ্বের অপর প্রান্তে আমাদের মুসলমান ভাইদের হত্যাকারী। এই দুঃখজনক চিত্র বুঝা বড় দায়, কি করে আমরা এর পরেও তাদেরকে অনুসরনের মাধ্যমে আনন্দ পেতে পারি?</p>
<p>আল্লাহর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) বলেন, <strong>“যে অনুকরন করে (অন্য ধর্মালম্বীদের) সে তাদেরই একজন।”</strong> (আহমাদ, ২/৫০; আবু দাঊদ, নাম্বারঃ ৪০২১) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) আরো বলেন, <strong>“তোমরা অবশ্যই তাদেরকে অনুকরন করবে যারা তোমাদের পূর্বেই এসিছিলো (ধীরে ধীরে, ধাপে ধাপে) এমনকি যদি তারা একটা টিকটিকির গর্তেও প্রবেশ করতো, তাহলেও তোমরা তাদেরকে অনুকরন করতে।”</strong> তখন সাহাবারা বল্লেন, “ও রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম), আপনি কি ইহুদী ও খৃষ্টানদের কথা বলছেন?” তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) উত্তরে বল্লেন, <strong>“তবে আর কার কথা বলছি?” </strong>(আল বুখারী)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এটাই কি ঘটছে না আজকের দিনে? আমরা শুধু অন্ধের মত তাদের অনুকরনই করছি না বরং এর জন্য গর্বও করে থাকি। আমাদের ঘুম থেকে উঠে যাওয়ার সময় এখনই। আমাদের অবশ্যই পূর্ণরূপে, হৃদয় দিয়ে আল্লাহ এর ইচ্ছার কাছে আত্নসমর্পন করতে হবে ও তাঁর আদেশ নিষেধ মান্য করতে হবে। আল্লাহর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) এর সুন্নাহ, সাহাবাদের ও সততার সাধকদের অনুসরন করা আমাদের এখন একান্ত দরকার। কেবল এবং কেবল মাত্র তখনই আমরা সত্যিকার সাফল্য, আনন্দ ও শান্তি লাভ করতে পারবো।<br />
<strong>“যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) এর আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে ও তাঁর অবাধ্যতা হতে সাবধান থাকে তারাই সফলকাম।”</strong> সূরা নূর, আয়াত ৫২।</p>
<p>মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) বলেন, <strong>“একজন ব্যাক্তি দুনিয়ার পরের জীবনে তাদের সাথেই অবস্থান করবে যাদের সে দুনিয়াতে ভালবাসে।”</strong> (আল-বুখারী)</p>
<p>আল্লাহ যেন আমাদের হৃদয়ে তাদের জন্য ভালবাসা সৃষ্টি করে দেন যারা পরকালে হবেন জান্নাতী। আমীন।</p>
<p><a href="http://www.saudigazette.com.sa/index.cfm?method=home.regcon&amp;contentID=2010021263128" target="_blank">প্রকাশিতঃ </a>সৌদী গ্যাজেট, ফেব্রুয়ারী, ২০১০</p>
<p>Related Article:</p>
<h3><a href="http://www.quraneralo.com/valentine-day-part-1/" target="_blank">পর্ব ১</a> | <a href="http://www.quraneralo.com/valentine-day-part-2/" target="_blank">পর্ব 2</a> | <a href="http://www.quraneralo.com/valentine-day-part-3/">পর্ব ৩</a></h3>
<h3>Related Posts</h3>
<p>No related posts were found, so here's a consolation prize: <a href="http://www.quraneralo.com/ittebaye_sunnater_masael/" rel="bookmark">বই &#8211; ইত্তিবায়ে সুন্নাতের মাসায়েল</a>.</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.quraneralo.com/reflections-on-valentines-day/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>2</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আয়েশা রাদিআল্লাহু ‘আনহার ফজিলত</title>
		<link>http://www.quraneralo.com/ayesha-ra/</link>
		<comments>http://www.quraneralo.com/ayesha-ra/#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 12 Feb 2012 07:36:10 +0000</pubDate>
		<dc:creator>QuranerAlo.com Editor</dc:creator>
				<category><![CDATA[বোনদের জন্য]]></category>
		<category><![CDATA[আয়েশা রাদিআল্লাহু ‘আনহা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.quraneralo.com/?p=2731</guid>
		<description><![CDATA[বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম লিখেছেনঃ সানাউল্লাহ নজির আহমদ   ।    ওয়েব সম্পাদনাঃ মোঃ মাহমুদ -ই- গাফফার ভূমিকা : উম্মুল মুমেনিন আয়েশা রাদিআল্লাহু ‘আনহার মর্যাদা বলার অপেক্ষা রাখে না, ইসলাম ধর্মে তিনি এক অপরিহার্য ব্যক্তিত্ব, তার সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসের বাণী উল্লেখ করাই যথেষ্ট। বিশেষ করে যার ব্যাপারে কুরআন নাযিল হয়েছে, যার বিষয়টি কিয়ামত পর্যন্ত তিলাওয়াত করা হবে, [...]<h3>Related Posts</h3>
<ol>
		<li><a href="http://www.quraneralo.com/%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%97-%e0%a6%93-%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be/" rel="bookmark">পর্দা:  নারীর দুর্গ ও রক্ষাকারী ঢাল</a><!-- (9.4)--></li>
		<li><a href="http://www.quraneralo.com/taqwa/" rel="bookmark">তাকওয়ার উপকারিতা</a><!-- (11)--></li>
		<li><a href="http://www.quraneralo.com/%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a4-%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%a5%e0%a7%87/" rel="bookmark">নারীর জান্নাত যে পথে</a><!-- (14.9)--></li>
	</ol>

]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[
			<!--Facebook Like and Send button by darkomitrovic.com-->
			<div id="fb-root"></div>
			<script>
			<!--
			  window.fbAsyncInit = function() {
				FB.init({appId: "224955984185367", status: true, cookie: true, xfbml: true});
			  };
			  (function() {
				var e = document.createElement("script"); e.async = true;
				e.src = document.location.protocol +
				  "//connect.facebook.net/en_US/all.js";
				document.getElementById("fb-root").appendChild(e);
			  }());
			-->
			</script>
			<fb:like href="http://www.quraneralo.com/ayesha-ra/" send="true" layout="standard" width="450" show_faces="false" colorscheme="light" action="like" font="tahoma"></fb:like>
			<!--Facebook Like and Send button by darkomitrovic.com-->
			<p style="text-align: center;" align="center"><span style="color: #003366;"><strong>বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম</strong></span></p>
<p style="text-align: center;"><strong>লিখেছেনঃ সানাউল্লাহ নজির আহমদ   ।    ওয়েব</strong><strong> </strong><strong>সম্পাদনাঃ</strong><strong> </strong><strong>মোঃ</strong><strong> </strong><strong>মাহমুদ</strong><strong> -</strong><strong>ই</strong><strong>- </strong><strong>গাফফার</strong></p>
<h3><img class="aligncenter" src="http://farm8.staticflickr.com/7145/6572035905_4dae73c3c2.jpg" alt="" width="500" height="309" /></h3>
<h3><span style="color: #800000;"><strong>ভূমিকা :</strong></span></h3>
<p><span style="color: #993300;"><strong><span style="color: #800080;">উম্মুল মুমেনিন আয়েশা রাদিআল্লাহু ‘আনহার মর্যাদা বলার অপেক্ষা রাখে না, ইসলাম ধর্মে তিনি এক অপরিহার্য ব্যক্তিত্ব, তার সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসের বাণী উল্লেখ করাই যথেষ্ট</span>।</strong></span> বিশেষ করে যার ব্যাপারে কুরআন নাযিল হয়েছে, যার বিষয়টি কিয়ামত পর্যন্ত তিলাওয়াত করা হবে, তার বিষয়ে নতুন কিছু লেখার সাধ্য আমাদের লিখনির নেই। কারণ, আল্লাহর ফয়সালার পর কোন ফয়সালা নেই, আল্লাহর বাণীর পর কোন বাণী নেই। তবুও হতভাগা কিছু লোক তার ব্যাপারে অপবাদ আর কুৎসা রটনা করে নিজেদের আখেরাত বরবাদ করছে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h3><span style="color: #800000;"><strong>জন্ম :</strong></span></h3>
<p><span style="color: #003366;"><strong>সিদ্দিকা বিনতে সিদ্দিক, উম্মে আব্দুল্লাহ আয়েশা বিনতে আবু বকর ইব্ন আবু কুহাফা ইব্ন উসমান।  মাতা : উম্মে রুমান ব্নিতে আমের ইব্ন ‘উআইমির আল-কিনানি। নবুওতের চতুর্থ অথবা পঞ্চম বছর ইসলামের মধ্যে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন ফর্শা ও খুব সুন্দর, এ জন্য তাকে হুমায়রা বলা হতো।</strong></span></p>
<p>&nbsp;</p>
<h3><span style="color: #800000;"><strong>বিয়ে ও হিজরত :</strong></span></h3>
<p>রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে যখন তার পিতা মদিনায় হিজরত করেন, তখন পিতা আবু বকর আব্দুল্লাহ ইব্ন উরাইকিতকে তাকে নিয়ে আসার জন্য দুইটি অথবা তিনটি উটসহ প্রেরণ করেন, অতঃপর তিনি বোন আসমা, মা উম্মে রুমান ও ভাইসহ তার সাথে মদিনায় হিজরত করেন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong><span style="color: #800080;">হিজরতের কয়েক মাস আগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে বিয়ের আক্দ সম্পন্ন করেন যখন তার ছয় বছর। হিজরতের দ্বিতীয় বছর তাকে উঠিয়ে নেন যখন তার নয় বছর। বিয়ের পূর্বে তার আকৃতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বপ্নে দেখানো হয়েছে।</span></strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<blockquote><p><span style="color: #008000;"><strong>জিবরিল আলাইহিস সালাম তার কাছে এসে আয়েশার ছবি পেশ করে বলেন :</strong></span></p>
<p dir="RTL" align="center"><span style="color: #008000;"><strong>"هذه زوجتك في الدنيا والآخرة" رواه الترمذي وأصله في الصحيحين .</strong></span></p>
<p><span style="color: #008000;"><strong>“এ হচ্ছে তোমার দুনিয়া ও আখেরাতের স্ত্রী”।</strong></span></p>
<p><span style="color: #008000;"><strong> তিরমিযি হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, তবে বুখারি ও মুসলিমে এর মূল বিষয় উল্লেখ রয়েছে।</strong></span></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p><span style="color: #800080;">তাকে ব্যতীত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কুমারী নারী বিয়ে করেননি। এটা তার এক বিরল সম্মান, যা অন্য কোন স্ত্রীর ছিল না। এ কারণে তিনি জীবন ভর গর্ব করেছেন।</span></p>
<p>&nbsp;</p>
<blockquote><p><strong><span style="color: #008000;">তিনি একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেন :</span></strong></p>
<p dir="RTL"><strong><span style="color: #008000;">" يا رسول الله ، أرأيت لو نزلتَ وادياً وفيه شجرةٌ قد أُكِل منها ، ووجدتَ شجراً لم يُؤكل منها ، في أيها كنت ترتع بعيرك ؟ " قال : ( في التي لم يرتع منها ) ، وهي تعني أنه لم يتزوج بكراً غيرها ، رواه البخاري ،</span></strong></p>
<p><strong><span style="color: #008000;">“হে আল্লাহর রাসূল, আপনি যদি কোন উপত্যকায় অবতরণ করেন, যাতে রয়েছে অনেক গাছ, যা থেকে উট খেয়েছে, আর একটি গাছ দেখেন যা কোন পশু ভক্ষণ করেনি, আপনার উট আপনি কোথায় চরাবেন, বলুন? তিনি বললেন: “যে গাছে কোন পশু মুখ দেয়নি”।</span></strong></p>
<p><strong><span style="color: #008000;"> এর দ্বারা তার উদ্দেশ্য ছিল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ব্যতীত কোন কুমারী নারী বিয়ে করেননি। (বুখারি)</span></strong></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<blockquote><p><span style="color: #008000;"><strong>তিনি আরো বলেন : </strong></span></p>
<p dir="RTL"><span style="color: #008000;"><strong>لقد</strong><strong> </strong><strong>أعطيت</strong><strong> </strong><strong>تسعاً</strong><strong> </strong><strong>ما</strong><strong> </strong><strong>أعطيتها</strong><strong> </strong><strong>امرأة</strong><strong> </strong><strong>إلا</strong><strong> </strong><strong>مريم</strong><strong> </strong><strong>بنت</strong><strong> </strong><strong>عمران،</strong><strong> </strong><strong>لقد</strong><strong> </strong><strong>نزل</strong><strong> </strong><strong>جبريل</strong><strong> </strong><strong>بصورتي</strong><strong> </strong><strong>في</strong><strong> </strong><strong>راحته</strong><strong> </strong><strong>حتى</strong><strong> </strong><strong>أمر</strong><strong> </strong><strong>رسول</strong><strong> </strong><strong>الله</strong><strong> </strong><strong>صلى</strong><strong> </strong><strong>الله</strong><strong> </strong><strong>عليه</strong><strong> </strong><strong>وسلم</strong><strong> </strong><strong>أن</strong><strong> </strong><strong>يتزوجني،</strong><strong> </strong><strong>ولقد</strong><strong> </strong><strong>تزوجني</strong><strong> </strong><strong>بكراً</strong><strong> </strong><strong>وما</strong><strong> </strong><strong>تزوج</strong><strong> </strong><strong>بكراً</strong><strong> </strong><strong>غيري،</strong><strong> </strong><strong>ولقد</strong><strong> </strong><strong>قبض</strong><strong> </strong><strong>ورأسه</strong><strong> </strong><strong>لفي</strong><strong> </strong><strong>حجري،</strong><strong> </strong><strong>ولقد</strong><strong> </strong><strong>قبرته</strong><strong> </strong><strong>في</strong><strong> </strong><strong>بيتي،</strong><strong> </strong><strong>ولقد</strong><strong> </strong><strong>حفت</strong><strong> </strong><strong>الملائكة</strong><strong> </strong><strong>بيتي،</strong><strong> </strong><strong>وإن</strong><strong> </strong><strong>كان</strong><strong> </strong><strong>الوحي</strong><strong> </strong><strong>لينزل</strong><strong> </strong><strong>عليه</strong><strong> </strong><strong>وهو</strong><strong> </strong><strong>في</strong><strong> </strong><strong>أهله</strong><strong> </strong><strong>فيتفرقون</strong><strong> </strong><strong>عنه</strong><strong> </strong><strong>وإن</strong><strong> </strong><strong>كان</strong><strong> </strong><strong>لينزل</strong><strong> </strong><strong>عليه</strong><strong> </strong><strong>وإني</strong><strong> </strong><strong>لمعه</strong><strong> </strong><strong>في</strong><strong> </strong><strong>لحافه،</strong><strong> </strong><strong>وإني</strong><strong> </strong><strong>لابنة</strong><strong> </strong><strong>خليفته</strong><strong> </strong><strong>وصديقه،</strong><strong> </strong><strong>ولقد</strong><strong> </strong><strong>نزل</strong><strong> </strong><strong>عذري</strong><strong> </strong><strong>من</strong><strong> </strong><strong>السماء،</strong><strong> </strong><strong>ولقد</strong><strong> </strong><strong>خلقت</strong><strong> </strong><strong>طيبة</strong><strong> </strong><strong>وعند</strong><strong> </strong><strong>طيب،</strong><strong> </strong><strong>ولقد</strong><strong> </strong><strong>وعدت</strong><strong> </strong><strong>مغفرة</strong><strong> </strong><strong>ورزقاً</strong><strong> </strong><strong>كريماً</strong><strong>. </strong><strong>رواه</strong><strong> </strong><strong>أبو</strong><strong> </strong><strong>يعلى</strong></span></p>
</blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p><span style="color: #008000;"><span style="color: #800000;"><strong>“আমাকে নয়টি বৈশিষ্ট দেয়া হয়েছে, যা মারইয়াম বিনতে ইমরান ব্যতীত কোন নারীকে দেয়া হয়নি</strong><strong>। </strong></span></span></p>
<ol>
<li><span style="color: #008000;"><strong>আমার ছবি নিয়ে জিবরিল অবতরণ করেন</strong><strong>, </strong><strong>অতঃপর আমাকে বিয়ে করার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নির্দেশ দেন</strong><strong>।</strong></span></li>
<li><span style="color: #008000;"><strong>তিনি শুধু আমাকেই কুমারী বিয়ে করেছেন, আমি ব্যতীত তিনি কোন কুমারী বিয়ে করেননি</strong><strong>।</strong></span></li>
<li><span style="color: #008000;"><strong>যখন তার রূহ কব্জা করা হয়, তখন তার মাথা আমার কোলে ছিল</strong><strong>। </strong></span></li>
<li><span style="color: #008000;"><strong>তাকে আমার ঘরেই কবর দিয়েছে</strong><strong>।</strong></span></li>
<li><span style="color: #008000;"><strong>ফেরেশতারা আমার ঘর ঘিরে রেখেছিল</strong><strong>।</strong></span></li>
<li><span style="color: #008000;"><strong>ফেরেশতারা যদি তার কাছে অহী নিয়ে আসত, আর তিনি তার স্ত্রীর সাথে থাকতেন তারা দূরে সরে যেত, যদিও ফেরেশতারা তখনও তার নিকট আসত, যখন আমি তার সাথে তার লেপের ভেতর থাকতাম</strong><strong>।</strong></span></li>
<li><span style="color: #008000;"><strong>আমি তার খলীফা ও একনিষ্ঠ বন্ধুর মেয়ে</strong><strong>।</strong></span></li>
<li><span style="color: #008000;"><strong>আমার পবিত্রতা আসমান থেকে নাযিল হয়েছে</strong><strong>।</strong></span></li>
<li><span style="color: #008000;"><strong>আমি পবিত্র অবস্থায় পবিত্র ব্যক্তির নিকট জন্ম গ্রহণ করেছি</strong><strong>। </strong><strong><span style="color: #008000;">আমাকে আল্লাহর মাগফেরাত ও সম্মানিত</span> রিযকের ওয়াদা করা হয়েছে</strong><strong>”</strong><strong>। {</strong><strong>আবু ইয়ালা</strong><strong>}</strong></span></li>
</ol>
<p>&nbsp;</p>
<h3><span style="color: #800000;"><strong>রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহব্বত :</strong></span></h3>
<p><span style="color: #800080;">রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্তরে আয়েশা রাদিআল্লাহ আনহার যে মহত্ব ও মর্যাদা ছিল, তা অন্য কোন স্ত্রীর জন্য ছিল না।</span> তার প্রতি এ মহব্বত তিনি কারো থেকে গোপন পর্যন্ত করতে পারেননি, তিনি তাকে এমন ভালবাসতেন যে, আয়েশা যেখান থেকে পানি পান করত, তিনিও সেখান থেকে পানি পান করতেন, আয়েশা যেখান থেকে খেত, তিনিও সেখান থেকে খেতেন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<blockquote><p><strong><span style="color: #008000;">অষ্টম হিজরিতে ইসলাম গ্রহণকারী আমর ইব্নুল আস রাদিআল্লাহু আনহু তাকে জিজ্ঞাসা করেন :</span></strong></p>
<p dir="RTL" align="center"><strong><span style="color: #008000;">" أي الناس أحب إليك يا رسول الله ؟ " ، قال : (عائشة) قال : فمن الرجال ؟ قال : (أبوها) متفق عليه.</span></strong></p>
<p><strong><span style="color: #008000;">“হে আল্লাহর রাসূল, আপনার নিকট সবচেয়ে প্রিয় কে ?” </span></strong></p>
<p><strong><span style="color: #008000;">তিনি বললেন :   “আয়েশা”।</span></strong></p>
<p><strong><span style="color: #008000;">সে বলল : পুরুষদের থেকে ?            তিনি বললেন :   “তার পিতা”। {বুখারি ও মুসলিম}</span></strong></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p><span style="color: #003366;">রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে খেলা-ধুলা, হাসি-ঠাট্টা ইত্যাদিতে অংশ গ্রহণ করতেন। কোন এক সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতায়ও অংশ নেন।</span></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আয়েশা রাদিআল্লাহ আনহা আরো বর্ণনা করেন, যার দ্বারা তার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্নেহ, মমতা ও আদর-সোহাগের প্রকাশ পায়,</p>
<blockquote><p><span style="color: #008000;"><strong>তিনি বলেন :</strong></span></p>
<p dir="RTL"><span style="color: #008000;"><strong>( والله لقد رأيت رسول الله - صلى الله عليه وسلم - يقوم على باب حجرتي ، والحبشة يلعبون بالحراب ، ورسول الله - صلى الله عليه وسلم - يسترني بردائه لأنظر إلى لعبهم من بين أذنه وعاتقه ، ثم يقوم من أجلي حتى أكون أنا التي أنصرف ) رواه أحمد .</strong></span></p>
<p><span style="color: #008000;"><strong>“আল্লাহর শপথ, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, তিনি আমার ঘরের দরজায় দাঁড়াতেন, হাবশিরা যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে খেলা-ধুলা করত, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তার চাদর দিয়ে ঢেকে নিতেন, যেন আমি তাদের খেলা উপভোগ করি তার কাঁধ ও কানের মধ্য দিয়ে। অতঃপর তিনি আমার জন্য দাঁড়িয়ে থাকতেন, যতক্ষণ না আমিই প্রস্থান করতাম”। {আহমদ}</strong></span></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p><span style="color: #993300;">যেহেতু প্রসিদ্ধ ছিল আয়েশাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অন্য  স্ত্রীদের তুলনায় বেশী প্রিয়, তাই সবাই অপেক্ষা করত আয়েশার ঘরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবে আসবেন, সে দিন তারা তাকে হাদিয়া ও উপহার সামগ্রী পেশ করত।<strong> {সহিহ বুখারি ও মুসলিমে অনুরূপ বর্ণনা এসেছে।}</strong></span></p>
<p>&nbsp;</p>
<p><span style="color: #993366;">তার প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহব্বতের আরেকটি আলামত হচ্ছে, মৃত্যু শয্যায় তিনি আয়েশার নিকট থাকার জন্য অন্যান্য স্ত্রীদের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছেন, যেন আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা তাকে সেবা শুশ্রূষা প্রদান করেন।</span></p>
<p>&nbsp;</p>
<p><span style="color: #808000;">আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহার আরো একটি প্রসিদ্ধি ছিল যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে আত্মসম্মান বোধ করতেন, রাসূলের প্রতি যা তার অকৃত্রিম ও সত্যিকার মহব্বতের প্রমাণ ছিল।</span></p>
<p>&nbsp;</p>
<blockquote><p><strong><span style="color: #008000;">তিনি তা এভাবে ব্যক্ত করেন :</span></strong></p>
<p dir="RTL" align="center"><strong><span style="color: #008000;">" وما لي لا يغار مثلي على مثلك ؟ " رواه مسلم .</span></strong></p>
<p><strong><span style="color: #008000;">“কেন আমার মত একজন নারী, আপনার মত একজন পুরুষকে নিয়ে কেন আত্মসম্মান বোধ করবে না ?” {মুসলিম}</span></strong></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ঘরে অবস্থান করছিলেন, রাসূলের অপর স্ত্রী খানাসহ একটি পাত্র তার নিকট প্রেরণ করেন, আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা পাত্রটি হাতে নিয়ে ভেঙ্গে ফেলেন। <strong>রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খানা জমা করতে করতে বলতে ছিলেন :</strong></p>
<blockquote>
<p dir="RTL" align="center"><strong><span style="color: #008000;">( غارت أمكم ) رواه البخاري .</span></strong></p>
<p align="center"><strong><span style="color: #008000;">“তোমাদের মা ঈর্ষা ও আত্মসম্মানে এসে গেছে”। {বুখারি}</span></strong></p>
</blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p><span style="color: #993300;">রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই কোন নারীকে বিয়ে করতেন, আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা তাকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন, যদি কোন বিশেষত্ব বা বৈশিষ্টের কারণে সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুকুল্য লাভ করে থাকে, তাহলে তিনিও তা অর্জন করার জন্য প্রতিযোগিতা করবেন। এ ঈর্ষা ও আত্মসম্মানের বিরাট একটি অংশ লাভ করেছেন খাদিজা রাদিআল্লাহু আনহা, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে খুব স্মরণ করতেন।</span></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>কোন এক রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতুল বাকিতে (কবরস্থানে) গমন করেন, আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা ধারণা করেন, তিনি হয়তো কোন স্ত্রীর ঘরে যাবেন, তাকে ঈর্ষায় পেয়ে বসল, তিনি তার পিছনে রওয়ানা দিলেন গন্তব্য জানার জন্য, অতঃপর <strong>রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তিরষ্কার করে বলেন :</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<blockquote>
<p dir="RTL" align="center"><strong><span style="color: #008000;">( أظننت أن يحيف الله عليك ورسوله ؟ ) رواه مسلم .</span></strong></p>
<p align="center"><strong><span style="color: #008000;">“তুমি কি ধারণা করেছ যে, তোমার উপর আল্লাহ ও তার রাসূল অন্যায় আচরণ করবে ?” {মুসলিম}</span></strong></p>
</blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<h2><span style="color: #800000;"><strong>ফজিলত :</strong></span></h2>
<p>তার ফজিলত সম্পর্কে আলোচনা শেষ হবে না, শেষ হবারও নয়, তিনি ছিলেন সিয়াম পালনকারী, রাত জাগরণকারী মহিষী নারী, তিনি অনেক ভাল কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন, প্রচুর দান-সদকা করেছেন। তার অধিক দান-সদকার কারণে তার নিকট খুব কম অর্থ-সম্পদই বিদ্যমান থাকত। এক সময় তিনি একলাখ দিরহাম সদকা করেন, এক দিরহামও অবশিষ্ট রাখেননি নিজের কাছে।</p>
<p><strong>আবু মুসা রাদিআল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন :</strong></p>
<blockquote>
<p dir="RTL"><span style="color: #008000;"><strong>(كمُل من الرِّجال كثير ولم يكمل من النساء إلا مَريم بنتُ عمران ، و آسية امرأةُ فرعون ، وفضلُ عائشة على النساء كفضل الثريد على سائر الطعام) متفق عليه.</strong></span></p>
<p><span style="color: #008000;"><strong>“পুরুষদের থেকে অনেকেই পূর্ণতা লাভ করেছে, কিন্তু নারীদের থেকে কেউ পূর্ণতা লাভ করতে পারেনি, তবে মারইয়াম বিনতে ইমরান, ফিরআউনের স্ত্রী ব্যতীত, আর আয়েশার ফজিলত অন্য নারীদের উপর যেমন সারিদের (সারিদ : গোস্ত ও রুটের মিশেলে তৈরি আরবদের নিকট এক প্রকার প্রিয় খাদ্য) ফজিলত সকল খাদ্যের উপর”। {বুখারি ও মুসলিম}</strong></span></p>
<p>&nbsp;</p></blockquote>
<p>তার ফজিলতের আরো একটি উদাহরণ, <strong>রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেন :</strong></p>
<blockquote>
<p dir="RTL" align="center"><strong><span style="color: #008000;">( يا عائشة هذا جبريل يقرأ عليك السلام ، فقالت : وعليه السلام ورحمة الله ) متفق عليه .</span></strong></p>
<p><strong><span style="color: #008000;">“হে আয়েশা, এ হচ্ছে জিবরিল, তোমাকে সালাম দিচ্ছে, তিনি বলেন : ওআলাইহিস সালাম ও রাহমাতুল্লাহ”। {বুখারি ও মুসলিম}</span></strong></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p><span style="color: #800080;"> বয়স কম সত্বেও তিনি ছিলেন বুদ্ধিমতি, ধীমান ও দ্রুত আত্মস্থকারী। এ জন্যই তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অধিক ইলম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন, নারীদের মধ্যে তিনিই সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী। উম্মতে মুহাম্মাদিতে কোন নারী নেই, যিনি তার চেয়ে ইসলাম সম্পর্কে অধিক জ্ঞানের অধিকারী।</span></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>তার জ্ঞানের পরিচয় এ থেকেই পাওয়া যায় যে, <strong>আবু মুসা রাদিআল্লাহু আনহু বলেন :</strong></p>
<blockquote>
<p dir="RTL"><span style="color: #008000;"><strong>"ما أشكل علينا أصحاب محمد - صلى الله عليه وسلم - حديثٌ قط فسألنا عائشة ، إلا وجدنا عندها منه علماً " رواه الترمذي .</strong></span></p>
<p><span style="color: #008000;"><strong>“মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবি, আমাদের উপর কোন বিষয় অস্পষ্ট ও জটিল হলে, আমরা আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞাসা করতাম, তার নিকট সে বিষয়ে কোন না কোন ইলম অবশ্যই পেতাম”। {তিরমিযি}</strong></span></p>
<p>&nbsp;</p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p><span style="color: #800000;">মাসরুক রহ.-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল : আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা কি ফারায়েজ (উত্তরাধিকার বিধান) সম্পর্কে ভাল জানেন ?</span></p>
<p><strong> তিনি বলেন :</strong></p>
<blockquote>
<p dir="RTL"><span style="color: #008000;"><strong>إي والذي نفسي بيده، لقد رأيت مشيخة أصحاب محمد - صلى الله عليه وسلم - يسألونها عن الفرائض " رواه الحاكم .</strong></span></p>
<p><span style="color: #008000;"><strong>“নিশ্চয়- আল্লাহর কসম যার হাতে আমার জীবন, আমি মুহাম্মদের বড় বড় সাহাবিদের দেখেছি, ফারায়েজ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করতে”। {হাকেম}</strong></span></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>জুহরি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন :</strong></p>
<blockquote>
<p dir="RTL"><strong><span style="color: #008000;">لو ُجمع علم نساء هذه الأمة ، فيهن أزواج النبي - صلى الله عليه وسلم - ، كان علم عائشة أكثر من علمهنّ " رواه الطبراني .</span></strong></p>
<p><strong><span style="color: #008000;">“যদি এ উম্মতের সকল নারীদের একত্র করা হয়, যার শামিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যান্য স্ত্রীগণও, তবুও আয়েশার ইলম তাদের ইলমের চেয়ে অধিক হবে”। {তাবরানি}</span></strong></p>
<p>&nbsp;</p></blockquote>
<p>ইলমে ফিকাহ ও ইলমে হাদিসের পাশাপাশি কবিতা, জিকিৎসা বিজ্ঞান, আরবদের বংশ পরম্পরা বিষয়েও তিনি অধিক পাণ্ডিত্বের অধিকারী ছিলেন। এসব ইলম তিনি স্বামী ও নিজ পিতা থেকে অর্জন করেন। তার নিকট আরো ইলম ছিল আরবদের বিভিন্ন দল ও প্রতিনিধির, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আগমন করেছিল।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এ উম্মতের উপর তার বরকত অনেক, তিনি কুরআনের বেশ কিছু আয়াত নাযিলের পটভূমি ছিলেন, তার মধ্যে রয়েছে তায়াম্মুমের আয়াত। একদা তিনি বোন আসমা রাদিআল্লাহু আনহা থেকে একটি হার ঋণ নেন, পরে তার থেকে যা হারিয়ে যায়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কতক সাহাবিকে হার খুঁজে আনার জন্য প্রেরণ করেন, হার অনুসন্ধানে তাদের সালাতের সময় হয়ে যায়, তাদের নিকট পানি ছিল না, তাই তারা ওযু ব্যতীত সালাত আদায় করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে তারা অভিযোগ করেন, অতঃপর তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল হয়, তখন <strong>উসাইদ ইব্ন হুজাইর আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহাকে বলেন :</strong></p>
<blockquote>
<p dir="RTL"><strong><span style="color: #008000;">" جزاكِ الله خيراً ، فوالله ما نزل بك أمر قط إلا جعل الله لكِ منه مخرجاً ، وجعل للمسلمين فيه بركة " متفق عليه .</span></strong></p>
<p><strong><span style="color: #008000;">“আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন, তুমি যখনই কোন সমস্যায় পতিত হয়েছ, তোমার জন্য আল্লাহ তা থেকে মুক্তির পথ করে দিয়েছেন এবং মুসলিমদের জন্য তাকে বরকত রেখেছেন”। {বুখারি ও মুসলিম}</span></strong></p>
<p>&nbsp;</p></blockquote>
<p><span style="color: #ff0000;"><strong>যখন আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা মিথ্যা অপবাদের ঘটনার শিকার হোন, আল্লাহ তার পবিত্রতা ঘোষণা করে আসমান থেকে কুরআন নাযিল করেন, কিয়ামত পর্যন্ত যা তিলাওয়াত করা হবে।</strong></span></p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>আল্লাহ তা</strong><strong>‘আলা বলেন : </strong></p>
<blockquote>
<p dir="RTL"><strong><span style="color: #008000;">ﭽﭑ       ﭒ  ﭓ  ﭔ  ﭕ  ﭖﭗ  ﭘ  ﭙ  ﭚ  ﭛﭜ  ﭝ  ﭞ   ﭟ  ﭠﭡ  ﭢ    ﭣ  ﭤ  ﭥ  ﭦ  ﭧ   ﭨﭩ  ﭪ  ﭫ   ﭬ    ﭭ  ﭮ     ﭯ  ﭰ  ﭱ  ﭲ  ﭳ   ﭴ  ﭵ  ﭶ   ﭷ  ﭸ  ﭹ  ﭺ  ﭻ  ﭼ    ﭽ  ﭾ  ﭼ النور: ١١ - ١٢</span></strong></p>
<p><strong><span style="color: #008000;">“নিশ্চয় যারা এ অপবাদ<span style="color: #008000;">[1]</span> রটনা করেছে, তারা তোমাদেরই একটি দল। এটাকে তোমরা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর মনে করো না, বরং এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। তাদের থেকে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য রয়েছে, যতটুকু পাপ সে অর্জন করেছে। আর তাদের থেকে যে ব্যক্তি এ ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে, তার জন্য রয়েছে মহাআযাব। যখন তোমরা এটা শুনলে, তখন কেন মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা তাদরে নিজেদের সম্পর্কে ভাল ধারণা পোষণ করল না এবং বলল না যে, ‘এটা তো সুস্পষ্ট অপবাদ?”। {সূরা নূর : ১১-১২}</span></strong></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p>অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিসতাহ ইব্ন আসাসাহ, হাস্সান ইব্ন সাবেত ও হামনাহ বিনতে জাহশকে অপবাদের শাস্তি প্রদানের নির্দেশ প্রদান করেন, এরা অশ্লীলতার অপপ্রচার করেছিল, ফলে তাদেরকে শাস্তি প্রদান করা হয়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা সাতান্ন হিজরিতে মুত্যু বরণ করেন, তখন তার বয়স হয়েছিল তেষট্টির চেয়ে কিছু বেশী। তার সালাতে জানা পড়ান আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু। অতঃপর জান্নাতুল বাকিতে তাকে দাফন করা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশে তার ঘরে তাকে দাফন করা হয়নি। কারণ, তিনি নিজের উপর প্রাধান্য দিয়ে ওমর ইব্ন খাত্তাব রাদিআল্লাহু আনহুকে সে জায়গাটি প্রদান করেন। আল্লাহ তাদের উপর ও সকল উম্মাহুতুল মুমিনদের উপর সন্তুষ্ট, তারাও তার উপর সন্তুষ্ট।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h3><span style="color: #800000;"><strong>উম্মুল মুমেনিন আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহার সম্পর্কে আরো কিছু হাদিস ফজিলত :</strong></span></h3>
<p><span style="color: #ff0000;"><strong>এক.      </strong></span>আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : <strong>রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :</strong></p>
<blockquote>
<p dir="RTL"><strong><span style="color: #008000;">اُرِيتُك في المنام ثلاث ليال جاءني بك المَلَك في سَرَقَةٍ من حرير فيقول هذه امرأتك، فأكشف عن وجهك فإذا أنت هي فأقول إن يَكُ هذا من عند الله يُمْضه. (رواه مسلم في صحيحه كتاب فضائل الصحابة رضي الله تعالى عنهم – فضائل عائشة أم المؤمنين رضي الله تعالى عنها، المجلد الثامن، الجزء الخامس عشر، صفحة : (202) دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة الثانية : 1392هـ - 1972 م).</span></strong></p>
<p><strong><span style="color: #008000;">“আমাকে তিন দিন স্বপ্নে দেখানো হয়েছে তোমাকে, রেশমের একটি পাত্রে তোমাকে নিয়ে এসে মালাক বলে এ হচ্ছে তোমার স্ত্রী, আমি তার চেহারা খুলে দেখি তুমিই সে নারী। অতঃপর আমি বলি, এটা যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, তবে অবশ্যই তা বাস্তবায়ন হবে”। {মুসলিম- অষ্টম খণ্ড, পনেরতম অংশ, পৃষ্ঠা : (২০২) দারু ইহইয়াউত তুরাসিল আরাবি, বইরুত, দ্বিতীয় মুদ্রণ, হি.১৩৯২, ই.১৯৭২}</span></strong></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p><span style="color: #003366;">ইমাম নববি রহিমাহুল্লাহ বলেন : سَرَقَة সীন ও রা-তে ফাত্হ (জবর) বিশিষ্ট سَرَقَة শব্দের অর্থ রেশমের সাদা টুকরো। আর إن يك من عند الله يمضه অর্থ : এটা যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, তাহলে অবশ্যই তিনি তা সত্যে রূপ দেবেন ও বাস্তবায়ন করবেন।</span></p>
<p><strong> </strong></p>
<p><span style="color: #ff0000;"><strong>দুই.</strong></span><strong>     </strong>আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, <strong>তিনি বলেন :</strong></p>
<blockquote><p>&nbsp;</p>
<p dir="RTL"><strong><span style="color: #008000;">قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: إني لأعلم إذا كنت عني راضية وإذا كنت علي غضبى قالت فقلت: ومن أين تعرف ذلك قال: أما إذا كنت عني راضية فإنك تقولين لا ورب محمد وإذا كنت غضبى قلت لا ورب إبراهيم قالت قلت: أجل والله يا رسول الله ما أهجر إلا اسمك. (رواه مسلم في صحيحه كتاب فضائل الصحابة رضي الله تعالى عنهم – فضائل عائشة أم المؤمنين رضي الله تعالى عنها، المجلد الثامن، الجزء الخامس عشر، صفحة 203 دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة الثانية 1392 هـ - 1972 م).</span></strong></p>
<p><strong><span style="color: #008000;">“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেন : তুমি কখন আমার উপর সন্তুষ্ট থাক আর কখন গোস্বা কর আমি তা বুঝতে পারি। তিনি বলেন, আমি বললাম : কিভাবে আপনি তা বুঝেন ? তিনি বললেন : তুমি যখন আমার উপর সন্তুষ্ট থাক, তখন বল, এমন নয়- মুহাম্মদের রবের কসম, আর যখন আমার উপর গোস্বা কর, তখন বল, এমন নয়- ইবরাহিমের রবের কসম। তিনি বলেন, আমি বললাম : অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল, তবে আমি শুধু আপনার নামটাই ত্যাগ করি”। {মুসলিম, অষ্টম খণ্ড, পনেরতম অংশ, পৃষ্ঠা : (২০৩) দারু ইহইয়াউত তুরাসিল আরাবি, বইরুত, দ্বিতীয় মুদ্রণ, হি.১৩৯২, ই.১৯৭২}</span></strong></p>
<p>&nbsp;</p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p><span style="color: #ff0000;"><strong>তিন.    </strong></span> <strong>আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত :</strong></p>
<blockquote>
<p dir="RTL"><span style="color: #008000;"><strong> أنها كانت تلعب بالبنات عند رسول الله صلى الله عليه وسلم قالت: وكانت تأتيني صواحبي فكن يَنْقَمِعْنَ من رسول الله صلى الله عليه وسلم قالت فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يُسَرِِّبُهُن إلي. (رواه مسلم في صحيحه كتاب فضائل الصحابة رضي الله تعالى عنهم – فضائل عائشة أم المؤمنين رضي الله تعالى عنها، المجلد الثامن، الجزء الخامس عشر، صفحة 204 دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة الثانية 1392 ه - 1972م).</strong></span></p>
<p><span style="color: #008000;"><strong>তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট খেলনা দিয়ে খেলতেন। তিনি বলেন, আমার বান্ধবীরা আমার কাছে আসত, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (-কে দেখে তার) থেকে আড়ালে চলে যেত, তিনি তাদেরকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন”। {মুসলিম, অষ্টম খণ্ড, পনেরতম অংশ, পৃষ্ঠা : (২০৪) দারু ইহইয়াউত তুরাসিল আরাবি, বইরুত, দ্বিতীয় মুদ্রণ, হি.১৩৯২, ই.১৯৭২}</strong></span></p>
<p>&nbsp;</p></blockquote>
<p><span style="color: #003366;">البنات অর্থ : ছোট পুতুল, যা দিয়ে মেয়েরা খেলাধুলা করে। ইমাম নববি তার ব্যাখ্যায় বলেন : কাযি ‘আয়ায বলেছেন এ হাদিসে পুতুল দ্বারা খেলার বৈধতা রয়েছে, যেসব পুতুলের আকৃতি নিষিদ্ধ।</span></p>
<p>&nbsp;</p>
<p><span style="color: #003366;">فكن يَنْقَمِعْنَ من رسول الله صلى الله عليه وسلم অর্থ : ইমাম নববি এর ব্যাখ্যায় বলেন : তারা লজ্জা ও ভয়ে আড়ালে চলে যেতেন, কখনো ঘর বা অন্য কোথাও প্রবেশ করত- এ অর্থই অধিক সঠিক।</span></p>
<p>&nbsp;</p>
<p><span style="color: #003366;">يُسَرِِّبُهُن إلي অর্থ : ইমাম নববি এর ব্যাখ্যায় বলেন : তাদেরকে তিনি আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন, এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দয়া ও দাম্পত্য জীবনের একটি সুন্দর আচরণ।</span></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><span style="color: #ff0000;"><strong>চার.</strong> </span>    <strong>আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত :</strong></p>
<blockquote>
<p dir="RTL"><strong><span style="color: #008000;">أن الناس كانوا يَتَحَرَّوْن بهداياهم يوم عائشة يبتغون بذلك مرضاة رسول الله صلى الله عليه وسلم. (رواه مسلم في صحيحه كتاب فضائل الصحابة رضي الله تعالى عنهم – فضائل عائشة أم المؤمنين رضي الله تعالى عنها، المجلد الثامن، الجزء الخامس عشر، صفحة 205 دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة الثانية 1392 ه - 1972م).</span></strong></p>
<p><strong><span style="color: #008000;">“মানুষ তাদের হাদিয়া পেশ করার জন্য আয়েশার পালার অপেক্ষায় থাকত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সন্তুষ্টি অর্জন করার জন্য”। {মুসলিম, অষ্টম খণ্ড, পনেরতম অংশ, পৃষ্ঠা : (২০৫) দারু ইহইয়াউত তুরাসিল আরাবি, বইরুত, দ্বিতীয় মুদ্রণ, হি.১৩৯২, ই.১৯৭২}</span></strong></p>
<p>&nbsp;</p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p><span style="color: #ff0000;"><strong>পাঁচ.   </strong></span> হিশাম তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, লোকেরা তাদের হাদিয়া পেশ করার জন্য আয়েশার দিনের অপেক্ষা করত। <strong>আয়েশা (রা) বলেন :</strong></p>
<blockquote>
<p dir="RTL"><span style="color: #008000;"><strong>فَاجْتَمَعَ صَوَاحِبِي إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ، فَقُلْنَ: يَا أُمَّ سَلَمَةَ وَاللَّهِ إِنَّ النَّاسَ يَتَحَرَّوْنَ بِهَدَايَاهُمْ يَوْمَ عَائِشَةَ وَإِنَّا نُرِيدُ الْخَيْرَ كَمَا تُرِيدُهُ عَائِشَةُ فَمُرِي رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَأْمُرَ النَّاسَ أَنْ يُهْدُوا إِلَيْهِ حَيْثُ مَا كَانَ أَوْ حَيْثُ مَا دَارَ، قَالَتْ: فَذَكَرَتْ ذَلِكَ أُمُّ سَلَمَةَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ: فَأَعْرَضَ عَنِّي، فَلَمَّا عَادَ إِلَيَّ ذَكَرْتُ لَهُ ذَاكَ فَأَعْرَضَ عَنِّي، فَلَمَّا كَانَ فِي الثَّالِثَةِ ذَكَرْتُ لَهُ، فَقَالَ: " يَا أُمَّ سَلَمَةَ لَا تُؤْذِينِي فِي عَائِشَةَ فَإِنَّهُ وَاللَّهِ مَا نَزَلَ عَلَيَّ الْوَحْيُ وَأَنَا فِي لِحَافِ امْرَأَةٍ مِنْكُنَّ غَيْرِهَا " (رواه البخاري : 3515)</strong></span></p>
<p><span style="color: #008000;"><strong>আমার সতিনরা উম্মে সালামার নিকট একত্র হয়, তারা বলে : হে উম্মে সালামা, লোকেরা তাদের হাদিয়ার জন্য আয়েশার পালার অপেক্ষা করে, আয়েশা যেমন কল্যাণের আশা করে আমরাও তেমন আশা করি, তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বল, তিনি মানুষদের বলে দেবে, তিনি যেখানে থাকেন অথবা যে ঘরেই থাকেন, তারা যেন তার নিকট হাদিয়া পেশ করে। তিনি বলেন : উম্মে সালামা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা বলে শোনান। উম্মে সালামা বলেন : তিনি আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। তিনি পুনরায় যখন আমার কাছে আসেন, আমি তাকে তা স্মরণ করিয়ে দেই, তিনি আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। যখন তৃতীয়বার আমি তাকে স্মরণ করিয়ে দেই, তিনি বলেন : হে উম্মে সালামা তুমি আয়েশার ব্যাপারে আমাকে কষ্ট দিয়ো না। আল্লাহর শপথ, একমাত্র সে ব্যতীত আমি তোমাদের কারো লেপে থাকাবস্থায় অহী নাযিল হয়নি”। {বুখারি : ৩৫১৫}</strong></span></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><span style="color: #ff0000;"><strong>ছয়.       </strong></span> মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুর রহমান ইব্ন হারেস ইব্ন হিশাম থেকে বর্ণিত : <strong>রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা বলেছেন :</strong></p>
<blockquote>
<p dir="RTL"><strong><span style="color: #008000;">أرسل أزواج النبي صلى الله عليه وسلم فاطمة بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاستأذنت عليه وهو مضطجع معي في مِرْطِي فأذن لها فقالت يا رسول الله إن أزواجك أرسلنني إليك يسألنك العدل في ابنة أبي قحافة، وأنا ساكتة قالت فقال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم: أي بُنية ألست تحبين ما أحب؟ فقالت: بلى قال: فأحبي هذه قالت: فقامت فاطمة حين سمعت ذلك من رسول الله صلى الله عليه وسلم فرجعت إلى أزواج النبي صلى الله عليه وسلم فأخبرتهن بالذي قالت وبالذي قال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلن لها ما نراك أغْنَيت عنا من شيء فارجعي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقولي له إن أزواجك ينشدنك العدل في ابنة أبي قحافة فقالت فاطمة والله لا أكلمه فيها أبدا قالت عائشة: فأرسل أزواج النبي صلى الله عليه وسلم زينب بنت جحش زوج النبي صلى الله عليه وسلم وهي التي كانت تُسَامِيني منهن في المنزلة عند رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم أر امرأة قط خيرا في الدين من زينب وأتقى لله و أصدق حديثا وأوصل للرحم وأعظم صدقة وأشد ابتذالا لنفسها في العمل الذي تَصَدَّق به وتَقَرَّب به إلى الله تعالى ما عدا سَوْرَةً من حِدَّةٍ كانت فيها تُسْرِعُ منها الفَيْئَة قالت: فاستأذنت على رسول الله صلى الله عليه وسلم ورسول الله صلى الله عليه وسلم مع عائشة في مرطها على الحالة التي دخلت فاطمة عليها وهو بها فأذن لها رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت يا رسول الله إن أزواجك أرسلنني إليك يسألنك العدل في ابنة أبي قحافة قالت: ثم وقعَتْ بي فاستطالت علي وأنا أرقب رسول الله صلى الله عليه وسلم وأرقب طرفه هل يأذن لي فيها قالت: فلم تبرح زينب حتى عرفت أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يكره أن أنتصر قالت: فلما وقعْتُ بها لم أنْشَبْهَا حتى أنْحَيْتُ عليها قالت: فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم وتبسم: إنها ابنة أبي بكر. (رواه مسلم في صحيحه كتاب فضائل الصحابة رضي الله تعالى عنهم – فضائل عائشة أم المؤمنين رضي الله تعالى عنها، المجلد الثامن، الجزء الخامس عشر، من صفحة : (205-207) دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة الثانية 1392 ه - 1972 م).</span></strong></p>
<p><strong><span style="color: #008000;">“রাসূলের অন্যান্য স্ত্রীগণ ফাতেমা ব্নিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রেরণ করেন, তিনি ঘরে প্রবেশ করার অনুমতি চান, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বিছানায় আমার সাথে শয়নাবস্থায় ছিলেন, তিনি তাকে অনুমতি দেন, অতঃপর সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আপনার স্ত্রীরা আমাকে আপনার কাছে প্রেরণ করেছেন, তারা আপনার কাছে ব্নিতে কুহাফার সাথে ইনসাফ চায়, আমি তখন চুপ। আয়েশা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন : হে আদরের মেয়ে, আমি যা পছন্দ করি, তুমি কি তা পছন্দ কর না ? সে বলল : অবশ্যই। তিনি বললেন : অতএব একে মহব্বত কর। আয়েশা বলেন : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ কথা শোনে ফাতেমা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যান্য স্ত্রীদের কাছে ফিরে গিয়ে তার কথা ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তর শোনাল, তারা তাকে বলল : তুমি আমাদের কোন কাজই করনি। তুমি আবার ফিরে গিয়ে বল : আপনার স্ত্রীরা আবু কুহাফার মেয়ের ব্যাপারে ইনসাফের কসম দিচ্ছে। ফাতেমা বলল : আল্লাহর কসম আমি তার ব্যাপারে কোন কথা বলব না। আয়েশা বলেন : অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীরা যয়নব বিনতে জাহশ রাসূলের স্ত্রীকে প্রেরণ করেন, তাদের তুলনায় তাকেই তারা রাসূলের নিকট আমার সমকক্ষ মনে করত, আমি যয়নাবের মত দীনদার কোন নারী দেখিনি, খুব মুত্তাকি, সত্যবাদী, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী, প্রচুর সদকাকারী, তবে কঠোর মেজাজের কারণে তার মধ্যে গোস্বার প্রবণতা বেশী ছিল, কিন্তু যখন তা প্রকাশ পেত, খুব দ্রুত তিনি গোস্বা প্রশমিত করে নিতেন। আয়েশা বলেন : সে এসে রাসূলের নিকট অনুমতি চায়, তিনি তাকে অনুমতি দেন, তখনও তিনি আয়েশার বিছানায় তার সাথে সে অবস্থায়ই ছিলেন, ফাতেমা যে অবস্থায় দেখেছিল। সে বলল হে আল্লাহর রাসূল, আপনার স্ত্রীরা আমাকে আপনার নিকট প্রেরণ করেছে, তারা আপনার নিকট বিনতে আবু কুহাফার ব্যাপারে ইনসাফ তলব করে। আয়েশা বলেন : অতঃপর সে আমাকে ভৎর্সনা আরম্ভ করে আমার উপর চটে যায়, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখতে ছিলাম, পর্যবেক্ষণ করতে ছিলাম তার চোখের পলক, তিনি আমাকে এ ব্যাপারে অনুমতি দেন কি না, যয়নব আমার উপর চটেই যেতে ছিল, অবশেষে আমি লক্ষ্য করলাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার প্রতিশোধ গ্রহণ অপছন্দ করবেন না, অতঃপর আমি যখন তাকে প্রতি উত্তর আরম্ভ করি, তাকে কোন সুযোগ দেয়নি, আমি আমার প্রতিশোধ নিয়ে নেই। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসলেন আর বললেন : নিশ্চয় এ হচ্ছে আবু বকরের মেয়ে”। {মুসলিম, অষ্টম খণ্ড, পনেরতম অংশ, পৃষ্ঠা : (২০৫-২০৭) দারু ইহইয়াউত তুরাসিল আরাবি, বইরুত, দ্বিতীয় মুদ্রণ, হি.১৩৯২, ই.১৯৭২}</span></strong></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p><span style="color: #993300;"><strong>مرطي অর্থ :  </strong>   <span style="color: #000000;">উল অথবা রেশমের কাপড়, সেলাই বিহীন প্রত্যেক কাপড়কেই এ নামে অবিহিত করা হয়।</span></span></p>
<p><span style="color: #993300;"><strong>يسألنك العدل في ابنة أبي قحافة অর্থ :  </strong>  <span style="color: #000000;">ইমাম নববি এর ব্যাখ্যায় বলেন : তারা অন্তরের মহব্বতের ব্যাপারে পীড়াপীড়ি করছিল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মাঝে কর্ম, রাত যাপন ইত্যাদিতে সমতা রক্ষা করতেন, কিন্তু অন্তরের মহব্বত হিসেবে আয়েশাকে তাদের সবার চাইতে বেশী ভালবাসতেন। সকল মুসলিম ঐক্যমত যে, অন্তরের উপর আল্লাহ তা‘আলা চাপিয়ে দেননি, এ ব্যাপারে সমতা রক্ষা করাও জরুরী নয়, কারণ এর উপর আল্লাহ ব্যতীত কারো কুদরত নেই, শুধু কর্মের ব্যাপারে ইনসাফের নির্দেশ রয়েছে।</span></span></p>
<p><span style="color: #993300;"><strong>فأحبي هذه অর্থ :</strong><span style="color: #000000;">     আয়েশাকে মহব্বত কর।</span></span></p>
<p><span style="color: #993300;"><strong>ما نراك أغْنَيت عنا অর্থ :</strong>     <span style="color: #000000;">আমরা তোমরা দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা আশা করেছিলাম, তুমি তার কিছুই করতে পারনি।</span></span></p>
<p><span style="color: #993300;"><strong>تساميني অর্থ :</strong>      <span style="color: #000000;">ইমাম নববি এর ব্যাখ্যায় বলেন : তারা তাকে সম্মান ও মর্যাদার ব্যাপারে আমার সমকক্ষ মনে করত।</span></span></p>
<p><span style="color: #993300;"><strong>ما عدا سَوْرَةً من حِدَّةٍ كانت فيها تُسْرِعُ منها الفيئة অর্থ :</strong>    <span style="color: #000000;">তিনি পরিপূর্ণ গুনের অধিকারী ছিলেন, কিন্তু তিনি কড়া মেজাজের ছিলেন, দ্রুত গোস্বা করতেন, তবে রাগান্বিত হলে সাথেই তা দমন করে নিতেন, তার উপর জেদ ধরতেন না।</span></span></p>
<p><span style="color: #993300;"><strong>ثم وقعَتْ بي فاستطالت علي অর্থ :</strong>    <span style="color: #000000;">অতঃপর সে আমার উপর আক্রমণ আরম্ভ করে, দীর্ঘক্ষণ আমাকে আক্রমণ করে।</span></span></p>
<p><span style="color: #993300;"><strong>فلما وقعْتُ بها لم أنْشَبْها حتى أنْحَيْتُ عليها অর্থ :</strong>     <span style="color: #000000;">আমি তাকে তিরষ্কার আরম্ভ করে তাকে কোন সুযোগ দেয়নি, অবশেষে আমি তার থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করি।</span></span></p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>ইমাম নববি এর ব্যাখ্যায় বলেন,</strong> এখানে এর কোন প্রমাণ নেই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশাকে অনুমতি দিয়েছেন, না তাকে চোখে ইশারা করেছেন, না অন্য কোনভাবে। আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহার কথার অর্থ হচ্ছে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চোখ পর্যবেক্ষণ করছিলাম, কিন্তু যয়নব বিরতিহীন আমাকে বলে যাচ্ছে দেখে, আমি বুঝতে পারি যে, আমি প্রতিশোধ গ্রহণ করলে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা অপছন্দ করবেন না। অতঃপর ইমাম নববি বলেন : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চোখ দিয়ে ইশারা করবেন এটা বিশ্বাস করাও বৈধ নয়, কারণ তার উপর চোখের খিয়ানত হারাম ছিল, এখানে শুধু এতটুকু বিদ্যমান যে, আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা নিজের প্রতিশোধ নিয়েছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নিষেধ করেননি।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><span style="color: #993300;"><strong>إنها ابنة أبي بكر অর্থ :  </strong>  <span style="color: #000000;">এর দ্বারা তার সমঝ ও বিতর্কে বিজয়ের দিকে ঈঙ্গিত করা হয়েছে।</span></span></p>
<p><strong> </strong></p>
<p><span style="color: #ff0000;"><strong>সাত.</strong> </span>   আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, <strong>তিনি বলেন :</strong></p>
<blockquote>
<p dir="RTL"><span style="color: #008000;"><strong>إنْ كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ليتفقد يقول أين أنا اليوم أين أنا غدا استبطاء ليوم عائشة قالت: فلما كان يومي قبضه الله بين سَحْري ونحري. (رواه مسلم في صحيحه كتاب فضائل الصحابة رضي الله تعالى عنهم – فضائل عائشة أم المؤمنين رضي الله تعالى عنها، المجلد الثامن، الجزء الخامس عشر، من صفحة : (208) دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة الثانية 1392 هـ - 1972 م).</strong></span></p>
<p><span style="color: #008000;"><strong>“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুসন্ধান করতেন, আর বলতেন আজ আমি কার ঘরে, আমি আগামি কাল কার ঘরে, যেন আয়েশার দিন খুব দেরিতে আসছে, তিনি বলেন : অতঃপর যখন আমার নাম্বার আসে, আল্লাহ তাকে আমার বুক ও গলার মাঝ থেকে কব্জা করে নেন”। {মুসলিম, অষ্টম খণ্ড, পনেরতম অংশ, পৃষ্ঠা : (২০৮) দারু ইহইয়াউত তুরাসিল আরাবি, বইরুত, দ্বিতীয় মুদ্রণ, হি.১৩৯২, ই.১৯৭২}</strong></span></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong><span style="color: #993300;">استبطاء ليوم عائشة অর্থ :</span>    </strong>আয়েশার প্রতি অধিক মহব্বতের কারণে, যেন তার সিরিয়াল আসতে খুব দেরি হচ্ছে মনে করতেন।</p>
<p><strong><span style="color: #993300;">فلما كان يومي قبضه الله অর্থ :</span></strong>   রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগ্রহ দেখে সবাই তাকে আয়েশার ঘরে থাকার অনুমতি দেন, অন্তিম সময়ে তিনি তার সেবাই গ্রহণ করেন, যখন আয়েশার পালার দিনটি আসে, আল্লাহ তার রূহ কব্জা করেন। অর্থাৎ যদি মনে করা হয়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার স্ত্রীগণ অনুমতি দেননি, প্রত্যেকের ঘরেই পালাক্রমে থেকেছেন, তবুও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর দিনটি আয়েশার পালার দিন হতো।</p>
<p><strong><span style="color: #993300;">قبضه الله بين سحري ونحري অর্থ :</span> </strong>  আল্লাহ তাকে আমার বুক ও গলার মাঝখান থেকে কব্জা করেছেন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><span style="color: #ff0000;"><strong>আট.</strong> </span>    আনাস ইব্ন মালেক রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, <strong>তিনি বলেন :</strong></p>
<blockquote>
<p dir="RTL"><strong><span style="color: #008000;">سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: فضل عائشة على النساء كفضل الثريد على سائر الطعام. (رواه مسلم في صحيحه كتاب فضائل الصحابة رضي الله تعالى عنهم – فضائل عائشة أم المؤمنين رضي الله تعالى عنها، المجلد الثامن، الجزء الخامس عشر، من صفحة : (211) دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة الثانية 1392 هـ - 1972 م).</span></strong></p>
<p><strong><span style="color: #008000;">“আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শোনেছি, তিনি বলতেন : সকল নারীদের উপর আয়েশার ফযিলত তেমনি, যেমন সারিদের ফযিলত সকল খাদ্যের উপর”। {মুসলিম, অষ্টম খণ্ড, পনেরতম অংশ, পৃষ্ঠা : (২১১) দারু ইহইয়াউত তুরাসিল আরাবি, বইরুত, দ্বিতীয় মুদ্রণ, হি.১৩৯২, ই.১৯৭২</span></strong>}</p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>হাসান ইব্ন জায়েদ ইব্ন আলী ইব্ন হুসাইন ইব্ন আলী ইব্ন আবি তালিব রাদিআল্লাহু আনহুর দরবারে এক লোক উপস্থিত ছিল, সে আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহাকে অশ্লীলতাসহ উল্লেখ করে। <strong>হাসান বললেন :</strong></p>
<blockquote>
<p dir="RTL"><strong><span style="color: #008000;">فقال الحسن يا غلام، اضرب عنقه، فقال له العلويون هذا رجل من شيعتنا، فقال معاذ الله، هذا رجل طعن على النبي،</span></strong></p>
<p><strong><span style="color: #008000;">হে যুবক, তার গর্দান উড়িয়ে দাও। আলী পন্থী লোকেরা বলল, সে তো আমাদের শী‘আ পন্থী! তিনি বললেন : মা‘আ-যাল্লাহ (আল্লাহর কাছে পানাহ চাই), সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অপবাদ দিয়েছে।</span></strong></p>
<p>&nbsp;</p></blockquote>
<p><strong>আল্লাহ তা‘আলা বলেন :</strong></p>
<blockquote>
<p dir="RTL"><strong><span style="color: #008000;">ﭽﯛ  ﯜ  ﯝ  ﯞﯟ   ﯠ  ﯡ  ﯢ  ﯣﯤ ﭼ النور: ٢٦   فإن كانت عائشة خبيثة فالنبي خبيث، فهو كافر، فاضربوا عنقه، فضرب عنقه. (الصارم المسلول)</span></strong></p>
<p><strong><span style="color: #008000;">“দুশ্চরিত্রা নারীরা দুশ্চরিত্র পুরুষদের জন্য এবং দুশ্চরিত্র পুরুষরা দুশ্চরিত্রা নারীদের জন্য। আর সচ্চরিত্রা নারীরা সচ্চরিত্র পুরুষদের জন্য এবং সচ্চরিত্র পুরুষরা সচ্চরিত্রা নারীদের জন্য”। {সূরা নূর : ২৬} অতএব আয়েশা যদি দুশ্চরিত্রা হয়, তাহলে আমাদের নবীও দুশ্চরিত্র ! সে কাফের, তার গর্দান উড়িয়ে দাও। অতঃপর তার গর্দান উড়িয়ে দেয়া হয়”। {সারিমুল মাসলুল}</span></strong></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p>আবু মুহম্মাদ ইব্ন হাযম জাহেরি নিজ সনদে হিশাম ইব্ন আম্মার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন : আমি মালেক ইব্ন আনাসকে বলতে শোনেছি, আবু বকর ও ওমরকে যে গালি দেবে, তাকে দোররা মারা হবে, আর আয়েশাকে যে গালি দেবে, তাকে হত্যা করা হবে। তাকে বলা হল : আয়েশার ব্যাপারে কেন হত্যা করা হবে ? <strong>তিনি বললেন : আল্লাহ তা‘আলা আয়েশার ব্যাপারে বলেছেন :</strong></p>
<blockquote>
<p dir="RTL"><strong><span style="color: #008000;">ﭽ ﯠ  ﯡ  ﯢ  ﯣ  ﯤ      ﯥ  ﯦ       ﯧ               ﯨ  ﯩ   ﭼ النور: ١٧</span></strong></p>
<p><strong><span style="color: #008000;">“আল্লাহ তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন যে, যদি তোমরা মুমিন হও, তাহলে আর কখনো এর পুনরাবৃত্তি করবে না”। {সূরা নূর : ১৭} অতএব যে তাকে অপবাদ দিল, সে কুরআনের বিরোধিতা করল, আর কুরআনের বিরোধিতাকারী হত্যার উপযুক্ত। আবু মুহাম্মদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন : মালেকের কথা এখানে সঠিক, তাকে গালি দেয়া পরিপূর্ণ কুফরী এবং আল্লাহকে মিথ্যারোপ করা, কারণ তিনি তার পবিত্রতার ঘোষণা দিয়েছেন। {মুহাল্লা : ১৩/৫০৪}</span></strong></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p>আবুল হাসান সাকলি বর্ণনা করেন, কাজি আবু বকর তৈয়ব বলেছেন : আল্লাহ যখন কাফেরদের আরোপ করা অপবাদগুলো উল্লেখ করেন, তখন তিনি নিজেই নিজের পবিত্রতা ঘোষণা করেন, যেমন <strong>তিনি বলেছেন :</strong></p>
<blockquote>
<p dir="RTL"><strong><span style="color: #008000;">ﭽ ﮭ  ﮮ  ﮯ  ﮰﮱ   ﯓﯔ  ﭼ يونس: ٦٨</span></strong></p>
<p><strong><span style="color: #008000;">“তারা বলে, আল্লাহ সন্তন গ্রহণ করেছেন। তিনি পবিত্র মহান”। (সূরা ইউনুস : ৬৮)</span></strong></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p>অনুরূপ মুনাফিকরা আয়েশার উপর যে অপবাদ আরোপ করেছে, তা উল্লেখ করার সময়ও তিনি পবিত্রতার ঘোষণা দেন, যেমন <strong>তিনি বলেন :</strong></p>
<blockquote>
<p dir="RTL"><strong><span style="color: #008000;">ﭽ ﮰ  ﮱ  ﯓ   ﯔ     ﯕ  ﯖ  ﯗ     ﯘ  ﯙ  ﯚ  ﯛ  ﯜ  ﯝ  ﯞ   ﯟ  ﭼ النور: ١٦</span></strong></p>
<p><strong><span style="color: #008000;">“আর তোমরা যখন এটা শুনলে, তখন তোমরা কেন বললে না যে, এ নিয়ে কথা বলা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তুমি অতি পব্রিত মহান”। (সূরা নূর : ১৬) আল্লাহ আয়েশার পবিত্রতা ঘোষণার সময় অনুরূপ নিজের প্রশংসা করেছেন, যেমন তিনি পবিত্রতা ঘোষণা করার সময় করেছেন। এর মধ্যে মালেকের কথা “আয়েশাকে গাল-মন্দকারীকে হত্যা করা হবে” এর সমর্থন রয়েছে। এর অর্থ আয়েশার অপবাদ আল্লাহর নিকট এতটাই মারাত্বক, যতটা স্বয়ং তাকে গালি দেয়া মারাত্বক, কারণ আয়েশাকে গালি দেয়া মূলত তার নবীকে গালি দেয়া। আর আল্লাহ তা‘আলা তার নবীকে গালি ও কষ্ট দেয়া, নিজের কষ্টের সাথে তুলনা করেছেন, আর আল্লাহকে কষ্ট দানকারীর শাস্তি হল হত্যা, অতএব তার নবীকে কষ্ট দানকারীর শাস্তিও হত্যা। আল্লাহ ভাল জানেন”। {কাজি ‘আয়ায প্রণিত ‘আশ-শিফা’ : ২/২৬৭-২৬৮}</span></strong></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p align="center"><span style="color: #ff6600;"><strong>সমাপ্ত</strong></span></p>
<p>&nbsp;</p>
<hr align="left" size="1" width="33%" />
<div>
<p>[1] এটি উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহার প্রতি মিথ্যা অপবাদের ঘটনা। ৬ষ্ঠ হিজরীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু মুস্তালিক যুদ্ধ থেকে ফিরার পথে একস্থানে রাত্রিযাপনের জন্য অবস্থান করেন। রাতের শেষ ভাগে আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা প্রাকৃতিক প্রয়োজনে একটু দূরে যান। কিন্তু পথে তিনি তার গলার হারটি হারিয়ে ফেলেন। তিনি তার খুঁজতে থাকেন। এদিকে কাফেলা রওনা হয়ে যায়। তিনি হাওদার ভিতরেই আছেন মনে করে কেউ তার খোঁজ করেনি, কারণ তার শারীকি গড়ন ছিল হালকা। হার খুঁজে পেয়ে তিনি এসে দেখেন যে, কাফেলা চলে গেছে। তখন তিনি ছুটাছুটি না করে সেখানেই বসে পড়েন। এ আশায় যে কাফেলার রেখে যাওয়া মালামালের সন্ধানে নিয়োজিত কোন লোক আসবেন। অবশেষে এ কাজে নিয়োজিত সাফওয়ান রাদিআল্লাহু আনহা সকাল বেলায় আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহাকে দেখতে পেলেন এবং নিজের উটে তাকে আরোহণ করিয়ে নিজে পায়ে হেটে উটের রশি টেনে সসম্মানে তাকে নিয়ে কাফেলার সাথে মিলিত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুনাফিক সর্দার আব্দুল্লাহ ইব্ন উবাই কয়েকজনকে সাথে নিয়ে আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহার ব্যাপারে মিথ্যা অপবাদ রটাতে থাকে। অবশেষে আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াতগুলো নাযিল করে আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহাকে নির্দোষ ঘোষণা করেন এবং অপবাদ রটনাকারীদের কঠোর শাস্তির কথা জানিয়ে দেন। এই ঘটনাটি ‘ইফক’ এর ঘটনা হিসেবে প্রসিদ্ধ।</p>
</div>
<h3>Related Posts</h3>
<ol>
		<li><a href="http://www.quraneralo.com/%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%97-%e0%a6%93-%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be/" rel="bookmark">পর্দা:  নারীর দুর্গ ও রক্ষাকারী ঢাল</a><!-- (9.4)--></li>
		<li><a href="http://www.quraneralo.com/taqwa/" rel="bookmark">তাকওয়ার উপকারিতা</a><!-- (11)--></li>
		<li><a href="http://www.quraneralo.com/%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a4-%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%a5%e0%a7%87/" rel="bookmark">নারীর জান্নাত যে পথে</a><!-- (14.9)--></li>
	</ol>

]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.quraneralo.com/ayesha-ra/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>সফরের বিধান</title>
		<link>http://www.quraneralo.com/travel-etiquttes/</link>
		<comments>http://www.quraneralo.com/travel-etiquttes/#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 10 Feb 2012 19:41:05 +0000</pubDate>
		<dc:creator>QuranerAlo.com Editor</dc:creator>
				<category><![CDATA[ইবাদত]]></category>
		<category><![CDATA[যাত্রা]]></category>
		<category><![CDATA[সফর]]></category>
		<category><![CDATA[আদব]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.quraneralo.com/?p=2775</guid>
		<description><![CDATA[অনুবাদ : জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের সম্পাদনা  : আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান সফর তিন প্রকার- এক - প্রশংসনীয় সফর : যে সফর আল্লাহর আদশে বা নিষেধ কার্যকর করার উদ্দেশ্যে হয়। যেমন-হজ-ওমরা পালন অথবা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ, দ্বীনের দাওয়াত, ইলমেদ্বীন শিক্ষা, আত্মীয়তার র্সম্পক বজায় রাখা অথবা দ্বীনি ভাইদরে সাথে সাক্ষাত ইত্যাদি উদ্দেশ্যে সফর করা। দুই - নিন্দনীয় [...]<h3>Related Posts</h3>

No related posts were found, so here's a consolation prize: <a href="http://www.quraneralo.com/ayesha-ra/" rel="bookmark">আয়েশা রাদিআল্লাহু ‘আনহার ফজিলত</a>.
]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[
			<!--Facebook Like and Send button by darkomitrovic.com-->
			<div id="fb-root"></div>
			<script>
			<!--
			  window.fbAsyncInit = function() {
				FB.init({appId: "224955984185367", status: true, cookie: true, xfbml: true});
			  };
			  (function() {
				var e = document.createElement("script"); e.async = true;
				e.src = document.location.protocol +
				  "//connect.facebook.net/en_US/all.js";
				document.getElementById("fb-root").appendChild(e);
			  }());
			-->
			</script>
			<fb:like href="http://www.quraneralo.com/travel-etiquttes/" send="true" layout="standard" width="450" show_faces="false" colorscheme="light" action="like" font="tahoma"></fb:like>
			<!--Facebook Like and Send button by darkomitrovic.com-->
			<p>অনুবাদ : জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের<a href="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/02/journey1.jpg"><img class="alignright size-full wp-image-2778" title="journey" src="http://www.quraneralo.com/wp-content/uploads/2012/02/journey1.jpg" alt="" width="307" height="411" /></a></p>
<p>সম্পাদনা  : আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান</p>
<h3><span style="color: #800000;">সফর তিন প্রকার-</span></h3>
<p><span style="color: #800080;"><strong>এক - প্রশংসনীয় সফর :</strong></span></p>
<p>যে সফর আল্লাহর আদশে বা নিষেধ কার্যকর করার উদ্দেশ্যে হয়। যেমন-হজ-ওমরা পালন অথবা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ, দ্বীনের দাওয়াত, ইলমেদ্বীন শিক্ষা, আত্মীয়তার র্সম্পক বজায় রাখা অথবা দ্বীনি ভাইদরে সাথে সাক্ষাত ইত্যাদি উদ্দেশ্যে সফর করা।</p>
<p><span style="color: #800080;"><strong>দুই - নিন্দনীয় সফর :</strong></span></p>
<p>এমন কোন খারাপ উদ্দেশ্যে সফর করা, যার অনুমতি ইসলামী শরীয়ত প্রদান করেনি। যেমন- কোন পীর, বুর্জুগ বা ওলীর মাযার ও কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা। অথবা হারাম বা নিষিদ্ধ ব্যবসার উদ্দেশ্যে সফর করা। যমেন- মদ বা নশো জাতীয় কোন বস্তু ক্রয়-বিক্রয় বা আমদানি-রপ্তানি ইত্যাদি উদ্দেশ্যে সফর করা। এ ছাড়াও যে কোন অসৎ কাজ, অশ্লীল বিনোদন ও ফাসাদ সৃষ্টি করা ইত্যাদি উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করা।</p>
<p><span style="color: #800080;"><strong>তিন- বৈধ সফর :</strong></span></p>
<p>দুনিয়াবী কোন বৈধ কাজের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করা। যমেন- বৈধ কোন ব্যবসা বাণিজ্য, হালাল ও রুচিশীল বিনোদন ইত্যাদি। এ ধরনরে সফর কখনো কখনো প্রশংসনীয় সফররে অর্ন্তভূক্ত হয়। যখন এর সাথে ভাল নিয়্যত এবং শরীয়ত সম্মত কোন উদ্দেশ্য জড়িত থাকে, এতে সাওয়াবও লাভ হয়। যেমন- টাকা উপার্জনের উদ্দেশ্যে নিজেকে কারো মুখাপক্ষেী না করা, মানুষরে নিকট হাত পাতা হতে বিরত থাকা এবং ছেলে-মেয়েদের জন্য হালাল খাদ্যের জোগাড়- ইত্যাদি।</p>
<h3><span style="color: #800000;">সফরের বৈশিষ্ট :</span></h3>
<p>ইসলামী শরীয়তে সফররে একাধিক বশৈষ্ট্যি আছে।</p>
<p><span style="color: #800080;"><strong>১-পবিত্রতার সাথে সম্পৃক্ত :</strong></span></p>
<p>মুসাফরিরে জন্য লাগাতার তিন দিন তিন রাত র্পযন্ত পায়ে মোজা পরধিান করে রাখা বৈধ। সালাতরে সময় পানি না পাওয়া গেলে তার জন্য তায়াম্মুম করা বৈধ। তবে বর্তমানে এ বিষয়ে নমনীয়তা প্রর্দশন করা বৈধ নয়। কারণ বর্তমানে এমন অনেক স্থান আছ, যেখানে কোন প্রকার কষ্ট করা ছাড়াই পানি পাওয়া যাবে।</p>
<p><strong><span style="color: #800080;">২-সালাতের সাথে সম্পৃক্ত:</span></strong></p>
<p>মুসাফির চার রাকাত বিশিষ্ট সালাতকে দুই রাকাতে আদায় করবে। এছাড়া যোহররে সালাত আছরের সাথে একত্রে আদায় করতে পারবে এবং মাগরিবের সালাত এশার সাথে একত্রে আদায় করবে। অনুরূপভাবে নফল সালাত, যোহর, মাগরীব ও এশার সালাতের সুন্নাত না পড়ার ও অনুমতি আছে। তবে বিতরের সালাত, ফযরের সালাতের দুই রাকাত সুন্নাত, তাহয়্যিাতুল মসজিদ, চাশতের সালাত - ইত্যাদি ও এ জাতীয় নফল সালাত আদায় করতে হবে। এছাড়া মুসাফরিরে জন্য যানবাহনরে উপর নফল সালাত আদায় করা জায়যে আছ। এতে ক্বিবলামুখী হওয়া তার জন্য জরুরী নয়। যে সকল নেক আমল সফর করার কারণে পালন করতে সক্ষম হয় না, আল্লাহ তাআলা আমল না করা সত্ত্বেও তাকে তার বিনিময়ে সাওয়াব প্রদান করবেন। যেমন-আবু মুসা আশআরী রা.-এর হাদীস, তিনি বলেন-</p>
<blockquote>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #3366ff;"><em>عن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه عن النبي صلي الله عليه وسلم أنه قال إذا مرض العبد أو سافر كتب له مثل ما كان يعمل مقيما صحيحا</em></span></p>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #3366ff;"><em>যখন কোন বান্দা অসুস্থ হয় অথবা সফরে থাকে তখন সে মুকীম বা সুস্থ থাকাকালীন যে সকল আমল করত, তার জন্য ঐ সকল আমলরে ছওয়াব লপিবিদ্ধ করা হয়। (বুখারী-২৭৭৪)</em></span></p>
</blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p><span style="color: #800080;"><strong>মুসাফিরের দুআ আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য:</strong></span></p>
<p>রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :</p>
<blockquote>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #3366ff;"><em>ثلاث دعوات مستجابات لا شك فيهن، دعوة المظلوم ودعوة الوالد ودعوة المسافر</em></span></p>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #3366ff;"><em>তিনটি দুআ আল্লাহর নিকট কবুল হওয়ার ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। নির্যাতিত ব্যাক্তির দুআ, মাতা পিতার দুআ, মুসাফিরের দুআ। (বুখারী-১৮২৮)</em></span></p>
</blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<h3><span style="color: #800000;">সফরের আদাব-শিষ্টাচার :</span></h3>
<p>সফরের পূর্বে, সফর চলাকালে এবং সফর হতে ফিরে আসার পর অনেকগুলো আদব আছে। নিম্নে তা আলোচনা করা হল।</p>
<p><span style="color: #800080;"><strong>এক - সফরের র্পূবের আদাবসমূহ :</strong></span></p>
<p>সফররে র্পূবে অনেকগুলো আদব আছে, মুসলমানের জন্য এগুলি পালন করা র্কতব্য।</p>
<p><span style="color: #ff0000;"><strong>১-</strong></span> পরামর্শ চাওয়া এবং ইস্তেখারা করা। কোন ব্যাক্তির অন্তরে সফরের বাসনা জাগ্রত হওয়া মাত্রই তার উচিত এমন একজন লোকের নিকট পরামর্শ চাওয়া যে তার হিতাকাঙ্খী এবং তার সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞাত। পরামর্শের পর যদি মনে করে এর মাঝে কল্যাণ রয়েছে, তখন সে ইস্তেখারা করবে। দুই রাকাত সালাত আদায় করবে এবং ইস্তেখারার দুআ পড়বে; অতঃপর যার প্রতি তার মন ধাবিত হয়, সে অনুপাতে আমল করবে।</p>
<p><span style="color: #ff0000;"><strong>২-</strong></span> নতুনভাবে তওবা করবে। মানুষের দেনা-পাওনা পরিশোধ করে দায় মুক্ত হবে, এবং ওছিয়তনামা লিখবে। কারণ, সফরে কোন সময় কি অঘটন ঘটে তা তো বলা যায় না।</p>
<p><span style="color: #ff0000;"><strong>৩-</strong></span> নেককার-উত্তম সঙ্গী নির্বাচন করবে যিনি আল্লাহর ইবাদত-আদেশ নিষেধ পালনে সহযোগী হবে। কারণ, সফরে মানুষ তার সঙ্গীর সাথেই সব সময় থাকে। এতে তার সঙ্গীর প্রভাব তার উপর অবশ্যই পড়ে। অসৎ সঙ্গী নির্বাচণ হতে সর্ম্পূণ বিরত থাকবে। আর মনে রাখতে হবে একা একা সফর করা মাকরূহ।</p>
<p>রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একা সফর করা হতে নিষেধ করেন, তিনি বলেন-</p>
<blockquote>
<p style="text-align: center;"><em><span style="color: #3366ff;">الراكب شيطان والراكبان شيطانان والثلاثة ركب</span></em></p>
<p style="text-align: center;"><em><span style="color: #3366ff;">একজন আরোহী শয়তান আর দুইজন আরোহী দুইটি শয়তান। তবে তিন জন আরোহী হল একটি জামাত। (তিরমিযী-১৫৯৮</span><span style="color: #3366ff;">)</span></em></p>
</blockquote>
<p>তিনি আরো বলেন</p>
<blockquote>
<p style="text-align: center;"><em><span style="color: #3366ff;">لو يعلم الناس ما في الوحدة ما أعلم ما سافر راكب بليل وحده</span></em></p>
<p style="text-align: center;"><em><span style="color: #3366ff;">একা সফর করার ক্ষতি সর্ম্পকে যদি মানুষ জানতে পারতো যা আমি জানি তাহলে কেউই রাত্রে একা সফর করত না। (বুখারী-২৭৭)</span></em></p>
</blockquote>
<p>একাকী সফর করার কারণে কখনো কখনো সে ভীত সন্ত্রস্ত হতে পারে। বিভিন্ন ধরণের চিন্তা-ভাবনা তার মাথায় চাপতে পারে। অথবা কোথাও কোন বিপদ হলে বা অসুস্থ হয়ে পড়লে তখন তার সহযোগিতা করার মত কাউকে পাওয়া যাবে না -ইত্যাদি কারণে ইসলামী শরীয়ত একা সফর করাকে নরিুৎসাহিত করে।</p>
<p><span style="color: #ff0000;"><strong>৪-</strong></span> সফরের মাঝে যে সব বিষয়ে জানা থাকা দরকার তা পূর্বেই জেনে নিবে। যেমন- কছর সালাতের বিধান, একত্রে সালাত আদায়ের বিধান, তায়াম্মুম ও মোজার উপর মাছেহ করার বিধান ইত্যাদি।</p>
<p><span style="color: #ff0000;"><strong>৫-</strong></span> মহিলাদের জন্য মুহরিম ছাড়া সফর করা বৈধ নয়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলনে :</p>
<blockquote>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: #3366ff;"><em>لا يخلون رجل بامرأة إلا ومعها ذو محرم ولا تسافر المرأة إلا مع ذي محرم فقال له رجل يا رسول الله إن امرأتي خرجت حاجة وإني اكتتبت في غزوة كذا وكذا، قال انطلق فحج مع امرأتك</em></span></p>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: #3366ff;"><em>একজন পর-পুরুষ একজন মহিলার সাথে কোন মুহরিম ছাড়া একাকী হতে পারবে না। এবং কোন মহিলা মুহরিম ছাড়া সফর করতে পারবে না। একথা বলার পর এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ ! আমার স্ত্রী হজ্বের উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন। আর আমি অমুক যুদ্ধে তালিকাভুক্ত হয়েছি। (এখন আমি কি করবো?) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি চলে যাও এবং তোমার স্ত্রীর সাথে হজ্ব কর। (মুসলমি-২২৯১)</em></span></p>
</blockquote>
<p><span style="color: #ff0000;"><strong>৬-</strong></span> যদি কোন প্রকার কষ্ট না হয় মানুষ তার সফর বৃহস্পতিবারে আরম্ভ করতে চেষ্টা করবে। কারণ, রাসুল (সাঃ) অধকিাংশ সময় বৃহস্পতিবারে সফর করতেন।</p>
<p style="text-align: justify;"> <strong><span style="color: #ff0000;">৭-</span></strong> তার পরবিার পরিজন এবং সাথী-সঙ্গীদের বিদায় দিবেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তার সাহাবীরা এরকমই করতেন। এ র্সম্পকে হাদীসে বর্ণিত আছে মুকীম মুসাফিরকে বলবে -</p>
<blockquote>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #333399;"><strong>الله دينك وأمانتك وخواتيم عملك أستودع</strong></span></p>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #333399;">‘আসতাও দি‘উল্লাহা দীনাকা ওয়া আমা-নাতাকা ওয়া খওয়াতীমা ‘আমালিকা’</span></p>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #333399;"><em>আমি তোমার দ্বীন, তোমার আমানত সমূহ এবং তোমার আমলের সমাপ্তি পর্যায়কে আল্লাহর উপর ছেড়ে দিচ্ছি।(সহীহ আত-তিরমিযী ২/১৫৫)</em></span></p>
</blockquote>
<p>আর মুসাফির মুকীমকে বলবে –</p>
<blockquote>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #333399;"><strong>أستودعك الله الذي لا تضيع ودائعه</strong></span></p>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #333399;">‘আসতাও দি‘উকুমুল্লাহাল্লাযী লা তাদী‘উ ওয়াদাই‘উহ’</span></p>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #333399;"><em>আমি তোমাদেরকে সেই আল্লাহর হেফাজতে রেখে যাচ্ছি যার হেফাজরে অবস্থানকারী কেউই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। (সহীহ ইবনে মাজাহ ২/১৩৩)</em></span></p>
</blockquote>
<h3> <span style="color: #800000;">সফর চলাকালে ও সফর থেকে ফিরে এসে করনীয় :</span></h3>
<p>এমন কিছু শিষ্টাচার আছে যেগুলো সফরের মধ্যে এবং সফর হতে ফিরে এসে পালন করা উচিত।</p>
<p><span style="color: #ff0000;"><strong>১-</strong></span>আল্লাহর যিকির দ্বারা সফর আরম্ভ করবে। আরোহণের সময়, বিশেষ করে সফরের শুরুতে হাদীসে বর্ণিত দু’আ সমুহ পড়ব। ইবনে ওমর (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) যখন সফরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁর উটকে প্রস্তুত করতেন তখন তিনবার আল্লাহু আকবর বলতনে অতঃপর তিনি বলতেন-</p>
<blockquote><p> <span style="color: #333399;"><strong>سبحان الذي سخر لنا هذا وما كنا له مقرنين وإنا إلى ربنا لمنقلبون. اللهم إنا نسألك في سفرنا هذا البر والتقوى ومن العمل ما ترضى، اللهم هون علينا سفرنا هذا واطو عنا بعده، اللهم أنت الصاحب في السفر والخليفة في الأهل، اللهم إنا نعوذ بك من وعثاء السفر وكآبة المنظر وسوء المنقلب في المال والأهل</strong></span></p>
<p><span style="color: #333399;"> ‘সুবহানাল্লাযী সাখখারালানা হাযা ওয়ামা কুন্নালাহু মুক্করিনীন, ওয়াইন্না-ইলা রব্বিনা লামুন ক্কালিবূন, আল্লাহুম্মা ইন্নানাসআলুকা ফী সাফারিনা হাযাল বিররাওয়াতাক্কওয়া, ওয়ামিনাল ‘আমালি মা তারদ্বা, আল্লাহুম্মা হাওয়্যিন ‘আলাইনা সাফারানা হাযা ওয়াতউই ‘আন্না বু’দাহু, আল্লাহুম্মা আনতাসসা-হিবু ফিস সাফারী ওয়াল খলীফাতু ফিল আহলী, আল্লাহুম্মা ‘ইন্নী আউযুবিকা মিন ওয়া’সা’ইস সাফারী, ওয়া কা-বা তিল মানযারী, ওয়া সুইলমুনক্কালাবি ফিল মা-লি ওয়াল আহলি’</span></p>
<p><span style="color: #333399;"> <em>পাক পবিত্র সেই মহান সত্তা যিনি আমাদের জন্য উহাকে বশীভূত করে দিয়েছেন যদিও আমরা উহাকে বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম না, আর আমরা অবশ্যই প্রত্যাবর্তন করব আমাদের প্রতিপালকের নিকট। হে আল্লাহ! আমাদের এই সফরে আমরা তোমার নিকট প্রার্থনা জানাই পুন্য আর তাক্ওয়ার জন্য এবং আমরা এমন আমলের সামর্থ্য তোমার কাছে চাই যা তুমি পছন্দ কর। হে আল্লাহ! আমাদের জন্য এই সফরকে সহজ সাধ্য করে দাও এবং উহার দুরত্বকে আমাদের জন্য হ্রাস করে দাও। হে আল্লাহ! তুমিই এই সফরে আমাদের সাথী, আর আমাদের (গৃহে রেখে আসা) পরিবার পরিজনের তুমি (খলীফা) রক্ষণাবেক্ষণকারী। হে আল্লাহ! আমরা তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি সফরের ক্লেশ হতে এবং অবাঞ্ছিত কষ্টদায়ক দৃশ্য দর্শন হতে এবং সফর হতে প্রত্যাবর্তনকালে সম্পদ ও পরিজনের ক্ষয়ক্ষতির অনিষ্টকর দৃশ্য দর্শন হতে। (মুসলিমঃ ২/৯৯৮)</em></span></p></blockquote>
<p><span style="color: #ff0000;"><strong>২-</strong></span>জামাতের মধ্য হতে একজনকে আমীর নিযুক্ত করবে।</p>
<p>রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,</p>
<blockquote>
<p style="text-align: center;"><em><span style="color: #3366ff;">যখন এক সাথে তিন জন সফরে বের হবে তখন একজনকে আমীর নিযুক্ত করবে। (আবু দাউদ -২২৪১)</span></em></p>
</blockquote>
<p><span style="color: #ff0000;"><strong>৩-</strong></span>যখন কোন উঁচা স্থানে আরোহন করবে তখন সুন্নাত হল আল্লাহ আকবর বলবে। আর যখন নিচের দিকে অবতরণ করবে তখন সুবহানাল্লাহ বলবে।</p>
<p>যাবের (রা.) বলেন, <span style="color: #800080;">আমরা যখন উপর দিকে আরোহন করতাম আল্লাহু আকবর (الله أكبر) বলতাম আর যখন নিচে অবতরণ করতাম সুবহানাল্লাহ (سبحان الله) বলতাম।(বুখারী-২৭৭১)</span></p>
<p><span style="color: #ff0000;"><strong>৪-</strong></span>যখন কোন ঘরে অবতরণ করবে তখন সুন্নাত হল খাওলা বিনতে হাকিমের হাদীসে উল্লেখিত দুআটি পাঠ করবে -</p>
<p style="text-align: justify;">নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,</p>
<blockquote>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #333399;"><em>যে ব্যক্তি কোন স্থানে অবতরণ করার পর এ দুআ পড়বে</em></span></p>
<p style="text-align: center;"><strong><span style="color: #333399;"><em> أعوبذ بكلمات الله التامات من شر ما خلق</em></span></strong></p>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #333399;"><em>আ‘উযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মা-তি মিন শাররি মা খালাক</em></span></p>
<p style="text-align: center;"><span style="color: #333399;"><em> কোন কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না। যতক্ষণ সে ঐ স্থান ত্যাগ না করে। (বুখারীঃ ৪৮৮১)</em></span></p>
</blockquote>
<p><span style="color: #ff0000;"><strong>৫-</strong></span>যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রয়োজন শেষে পরিবার পরিজনের নিকট ফিরে আসবে। রাসুল (সাঃ) বলেন -</p>
<blockquote>
<p style="text-align: center;"><em><span style="color: #3366ff;"> সফর আযাবরে একটি অংশ সফর একজন মানুষকে ঠিকমত খেতে দেয়না, পান করতে দেয়না এবং ঘুমাতে দেয়না। তাই যখন প্রয়োজন পুরণ হয়ে যাবে সে যেন তার পরিবার পরিজনের নিকট তাড়াতাড়ি ফির আসে। (বুখারী-১৬৭৭)</span></em></p>
</blockquote>
<p><span style="color: #ff0000;"><strong>৬-</strong></span>যখন তার নিজ শহরে ফিরে আসবে তখন শুরুতে যে দুআ পড়ছলি তা আবার পুনরায় পড়বে। তবে <span style="color: #333399;">آيبون تائبون عابدون لربنا حامدون (আ-ইবুনা তা-ইবুনা ‘আবিদুনা লিরব্বিনা হামিদূন) বাড়াবে। অর্থাৎ, আমরা (এখন সফর হতে) পপ্রত্যাবর্তন করছি তওবা করতে করতে ইবাদতরত অবস্থায় এবং আমাদের রবের প্রসংশা করতে করতে।</span></p>
<p><span style="color: #ff0000;"><strong>৭-</strong></span>সফর হতে প্রত্যার্বতন করা মাত্রই মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাকাত সালাত আদায় করবে। কাব ইবনে মালেক (রা.) ঘটনা সম্বলতি হাদীসে বর্ণিত :</p>
<blockquote><p><span style="color: #3366ff;"><em> তিনি বলেন যখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সফর হতে ফিরে আসতেন প্রথমে তিনি মসজিদি প্রবেশ করতেন। এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন। (বুখারী-৪০৬৬)</em></span></p></blockquote>
<p>সমাপ্ত</p>
<p>Related Video Lecture:<br />
<iframe width="500" height="369" src="http://www.youtube.com/embed/kghFHWXXWKg" frameborder="0" allowfullscreen></iframe></p>
<h3>Related Posts</h3>
<p>No related posts were found, so here's a consolation prize: <a href="http://www.quraneralo.com/celebrating-new-years/" rel="bookmark">নববর্ষ : আত্মপর্যালোচনার দারুণ উপলক্ষ</a>.</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.quraneralo.com/travel-etiquttes/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
	</channel>
</rss>

<!-- Performance optimized by W3 Total Cache. Learn more: http://www.w3-edge.com/wordpress-plugins/

Minified using disk: basic (Feed is rejected)
Page Caching using disk: enhanced
Database Caching using disk: basic
Object Caching 2697/2697 objects using disk: basic

Served from: www.quraneralo.com @ 2012-02-23 12:04:15 -->
