কবর ওয়ালা মসজিদে সলাত/নামাজ পরার হুকুম কি?


প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না

রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

7014842_sello_de_peligro

আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমীন (রাহ.)

প্রশ্নঃ কোন মসিজদে কবর থাকলে সেখানে নামায আদায় করার হুকুম কি?

উত্তরঃ কবর সংশ্লিষ্ট মসজিদে নামায আদায় করা দু’ভাগে বিভক্তঃ

প্রথম প্রকারঃ প্রথমে কবর ছিল। পরবর্তীতে তাকে কেন্দ্র করে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ওয়াজিব হচ্ছে এই মসজিদ পরিত্যাগ করা; বরং মসজিদ ভেঙ্গে ফেলা। যদি না করা হয় তবে মুসলিম শাসকের উপর আবশ্যক হচ্ছে উক্ত মসজিদ ধ্বংস করে ফেলা।

দ্বিতীয় প্রকারঃ প্রথমে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। পরে সেখানে কোন মৃতকে দাফন করা হয়েছে। তখন ওয়াজিব হচ্ছে, কবর খনন করে মৃত ব্যক্তি বা তার হাড়-হাড্ডি সেখান থেকে উত্তোলন করে, মুসলমানদের গোরস্থানে দাফন করা। এই মসজিদে শর্ত সাপেক্ষে ছালাত আদায় করা জায়েয। আর তা হচ্ছে, কবর যেন মসজিদের সম্মুখভাগে না হয়। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবরের দিকে ছালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।

কেউ প্রশ্ন করতে পারে, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কবর তো মসজিদের মধ্যে? এর জবাব কি?

এর জবাব হচ্ছে, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর মৃত্যুর পূর্বেই মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। একথা সবার জানা যে, তাঁকে মসজিদের মধ্যে দাফন করা হয়নি; বরং মসজিদ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা স্থান, তাঁর নিজ গৃহে তাঁকে দাফন করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে ৮৮ হিঃ সনে খলীফা ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিক তার অধিনস্থ মদীনার আমীর ওমর বিন আবদুল আযীযকে পত্র মারফত নির্দেশ প্রদান করেন, মসজিদে নববী ভেঙ্গে পূণঃনির্মাণ করার সময় যেন উম্মুল মু’মেনীন তথা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর স্ত্রীদের গৃহগুলোকে মসজিদের আওতার মধ্যে নিয়ে আসা হয়। তখন ওমর বিন আবদুল আযীয মদীনার নেতৃস্থানীয় লোক এবং ফিক্বাহবিদদেরকে একত্রিত করে তাঁদের সামনে খলীফার পত্র পড়ে শোনান। বিষয়টি তাদের কাছে খুবই কঠিন মনে হয়। তাঁরা বললেন, কবর ও গৃহগুলোকে বর্তমান অবস্থাতেই রেখে দেয়া উচিত। উপদেশ গ্রহণ করার জন্য এটাই সর্বাধিক সঠিক উপায়। বর্ণিত আছে যে, সাঈদ বিন মুসাইয়্যেব আয়েশা (রাঃ)এর গৃহ তথা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কবর শরীফকে মসজিদের মধ্যে শামিল করার ব্যাপারে দৃঢ়ভাবে বাধা প্রদান করেন। কেননা তিনি আশংকা করছিলেন যে, এই কবরকে মসজিদে রূপান্তরিত করা হতে পারে। যা হাদীছের ভাষায় নিষিদ্ধ। বিষয়টি ওমর লিখে পাঠালেন খলীফা ওয়ালিদের কাছে। কিন্তু ওয়ালিদ তার নির্দেশই বাস্তবায়ন করার আদেশে অটল রইলেন। ফলে বাধ্য হয়ে ওমর খলীফার নির্দেশ মোতাবেক কবরকে মসজিদের মধ্যে শামিল করে ফেললেন।

অতএব আপনি দেখলেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কবর মূলতঃ মসজিদের মধ্যে দেয়া হয়নি। আর কবরের উপর মসজিদও বানানো হয়নি। সুতরাং যারা মসজিদে দাফন করা বা কবরের উপর মসজিদ তৈরীর বৈধতার পক্ষে কথা বলে তাদের কোন দলীল নেই। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হয়েছে তিনি বলেন:

لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ

    “ইহুদী ও খৃষ্টানদের প্রতি আল্লাহর লা’নত (অভিসম্পাত), তারা তাদের নবীদের কবর সমূহকে মসজিদে রূপান্তরিত করেছে।”

রাসূলুল্লাহ্ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুমূর্ষু অবস্থায় ইহুদী খৃষ্টানদের কার্যকলাপ থেকে কঠিনভাবে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে উপরোক্ত বাণী পেশ করেন। উম্মে সালামা (রাঃ) হাবশায় হিজরত করে খৃষ্টানদের গীর্জা বা উপাসনালয়ে স্থাপিত বহু মূর্তী দেখেছিলেন। বিষয়টি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বলেন:

أُولَئِكَ قَوْمٌ إِذَا مَاتَ فِيهِمُ الْعَبْدُ الصَّالِحُ أَوِ الرَّجُلُ الصَّالِحُ بَنَوْا عَلَى قَبْرِهِ مَسْجِدًا وَصَوَّرُوا فِيهِ تِلْكَ الصُّوَرَ أُولَئِكَ شِرَارُ الْخَلْقِ عِنْدَ اللَّهِ

    “ওরা এমন জাতি, তাদের মধ্যে কোন নেক বান্দা বা সৎলোক মৃত্যু বরণ করলে তার কবরের উপর তারা মসজিদ তৈরী করত এবং ঐ মূর্তিগুলো স্থাপন করত। ওরা আল্লাহর কাছে সৃষ্টির মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট।”

আবদুল্লাহ্ বিন মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বলেন,

    “সর্বাধিক নিকৃষ্ট লোক হচ্ছে তারা, যাদের জীবদ্দশায় ক্বিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। আর যারা কবর সমূহকে মসজিদে রূপান্তরিত করেছে।” ইমাম আহমাদ উত্তম সনদে হাদীছটি বর্ণনা করেন।

অতএব মু’মিন কখনই ইহুদী-খৃষ্টানদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে সন্তুষ্ট হবে না এবং সৃষ্টি কুলের মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট হবে না।


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

আরও পড়তে পারেন

কিছু প্রশ্ন? উত্তর আছে আপনার কাছে?

Download article as PDF প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার …

কার্যকর অধ্যনের ৫টি ফলপ্রসূ বৈশিষ্ট্য

Download article as PDF প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার …

পাঠকের মন্তব্য

Loading Facebook Comments ...

Comments

  1. একজন
    আহলে
    কুরান
    (যারা
    বলে
    কুরান
    মানব
    কিন্তু
    হাদীস
    মানব
    না)
    আমাকে
    বলল
    “আপনারা
    বুখারী,
    মুসলিম,
    মুয়াত্তা
    এগুলো
    কই
    পাইলেন?
    হাদীস
    মানবেন
    ভাল
    কথা,
    কিন্তু
    বুখারী,
    মুসনাদে
    আহমাদ
    কেন
    মানেন।” আমি
    বললাম
    “আরে
    হাদীস
    তো
    এই
    বুখারী,
    মুসলিম,
    মুয়াত্তা
    কিতাবের
    মধ্যেই
    বিদ্যমান”। সে
    অস্বীকার
    করল। বলল
    আপনারা
    বুখারীকে
    মানেন
    কিন্তু
    হাদীস
    মানেন
    না। আমি
    বললাম
    “আপনি
    কি
    বলতে
    পারেন
    বুখারী,
    মুসলিম,
    মুয়াত্তা
    এই
    সব
    হাদীসের
    সংকলনগুলো
    যে
    হাদীসের
    কিতাব
    নয়
    সেটা
    কি

    সময়
    বা
    তার
    পরে
    আপনাদের
    “মাসুদী
    ফিরক্বা”
    তৈরি
    হওয়ার
    আগে
    কেউ
    কি
    দাবি
    করেছে?
    লোকটি
    বলল,
    “না”। আমি
    বললাম,
    “এটা
    প্রমাণিত
    যে,
    আপনারা
    একটা
    স্পষ্ট
    ফিরক্বা। মুসলমানরা
    তাহলে
    এতদিন
    ঘুমিয়ে
    ছিল,
    কেউ
    টের
    পেল
    না
    বা
    বলল
    না
    যে
    বুখারী,
    মুসলিম,
    মুয়াত্তা
    এগুলো
    হাদীসের
    কিতাব
    নয়।”
    একজন
    আহলে
    হাদীস (যারা বলে
    হাদীস
    মানব কিন্তু
    মাযহাব
    মানব না)
    আমাকে
    বলল
    “আপনারা
    হানাফী,
    শাফেয়ী, মালেকী ও হাম্বলী মাযহাব এগুলো কই
    পাইলেন?
    সুন্নাহ
    মানবেন
    ভাল
    কথা,
    কিন্তু
    হানাফী,
    শাফেয়ী, মালেকি, হাম্বলী মাযহাব কেন মানেন।” আমি
    বললাম
    “আরে
    সুন্নাহ
    তো
    এই
    হানাফী,
    শাফেয়ী, মালেকি, হাম্বলী মাযহাবের মূলনীতি অনুযায়ী স্ব স্ব কিতাবের
    মধ্যেই
    বিদ্যমান”। সে
    অস্বীকার
    করল। বলল
    আপনারা
    ইমাম আবু হানাফীকে মানেন
    কিন্তু
    নবীর
    সুন্নাত মানেন
    না। আমি
    বললাম
    “আপনি
    কি
    বলতে
    পারেন
    হানাফী,
    শাফেয়ী, মালেকি, হাম্বলী মাযহাব মানার দ্বারা যে সুন্নাত মানা যায় না কিংবা মাযহাব
    মানা ভূল সেটা কি ঐ
    সময়
    বা
    তার
    পরে
    আপনাদের
    “আহলে
    হদস ফিরক্বা” তৈরি হওয়ার
    আগে
    কেউ
    কি
    দাবি
    করেছে?
    লোকটি
    বলল,
    “না”। আমি
    বললাম,
    “এটা
    প্রমাণিত
    যে,
    আপনারা
    একটা
    স্পষ্ট
    ফিরক্বা। মুসলমানরা
    তাহলে
    এতদিন
    ঘুমিয়ে
    ছিল,
    কেউটের পেল
    না
    বা
    বলল
    না
    যে
    হানাফী,
    শাফেয়ী, মালেকি, হাম্বলী মাযহাবগুলো ভুল।”

  2. ShohelShahriarAlam

    এই বিষয়ে হাদিস গ্রন্থের নাম র হাদিস নম্বর বললে উপকৃত হতাম,

আপনার মন্তব্য লিখুন