farihatasnimজর্দানের রাজধানী আম্মানে বিশ্বের নির্বাচিত নিজ নিজ দেশে প্রথম স্থান অধিকারকারী বালিকা হাফেজাদের মধ্যে ৪৩টি দেশের হাফেজাদের পরাজিত করে উপস্থিত দর্শক ও বিচারকদের মন জয় করে প্রথম স্থান অধিকার করে বাংলাদেশের খুদে বালিকা হাফেজা ফারিহা তাসনিম

এদিকে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে সৌদি আরব এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে লিবিয়া। প্রথম স্থান অধিকারী ফারিহা তাসনিম মাত্র ছয় বছর বয়সেই নেছার আহমাদ আন নাছিরী কর্তৃক পরিচালিত মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনালে মহাগ্রন্থ আল-কোরআন হিফয করতে সক্ষম হয়।

এ প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জর্দানের ধর্মমন্ত্রী ড. মুহাম্মদ নুহ, কুটনৈতিক, রাষ্ট্রদূত, সরকারি কর্মকর্তা ও দেশ-বিদেশি রাষ্ট্রীয় মেহমান।

ধর্মমন্ত্রী ড. মুহাম্মদ নুহ বিশ্বসেরা হাফেজা ফারিহা তাসনিমকে আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেট, ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ প্রধান করেন। বিশ্বের সেরা হাফেজা ফারিহা তাসনিমের অপরিবীহ মাধূর্যের প্রসংশা করে বলেন, সৌদি আরবে আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় ৭৩টি দেশের মধ্যে একাধিক গ্রুপে বাংলাদেশ প্রথম স্থান অধিকার করার পর এবার জর্দানেও বাংলাদেশি মেয়ে হাফেজা প্রথম স্থান অধিকার করায় আমি মুগ্ধ।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন. বাংলাদেশের হাফেজ ছেলেদের সঙ্গে হাফেজা মেয়েরাও বিশ্ব কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারের গৌরব অর্জন করছে। আমি বাংলাদেশের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করছি।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ মার্চ সারা বাংলাদেশের নির্বাচিত সেরা বালিকা হাফেজাদের মধ্যে চুড়ান্ত বাছাইয়ে বায়তুল মুকাররমের ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত সভাকক্ষে সবাইকে মুদ্ধ করে প্রথম স্থান অধিকার করে ফারিহা তাসনিম, দ্বিতীয় স্থান আমেনা ও তৃতীয় স্থান রাফিয়া হাসান জিনাত।

এ তিনজনই হাফেজ নেছার আহমাদ আন নাছিরী পরিচালিত ঢাকার যাত্রাবাড়ীস্থ মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মহিলা হিফজ বিভাগের ছাত্রী। একই মাদ্রাসার পুরুষ বিভাগের ছাত্র হাফেজ মহিউদ্দিন ২০১২ আগস্টে আলজেরিয়ায় ৬০টি দেশের মধ্যে দ্বিতীয় ও ডিসেম্বরে সৌদি বিশ্ব হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় ৭৩টি দেশের মধ্যে ৩০ পারা গ্রুপে অন্ধ হাফেজ তানভির এবং ১০ পারা গ্রুপে সা’আদ সুরাইল দুজনই প্রথম স্থান অধিকার করে।

বাংলাদেশের সুনাম বয়ে আনার সঙ্গে সৌদি আরবে ৩৪ বছরের কোরআন প্রতিযোগিতার ইতিহাসে এ প্রথম কোনো দেশ প্রত্যেক গ্রুপে প্রথম স্থান লাভ করে। অত্রপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র এবং প্রিন্সিপালকে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড  (বেফাক) এবং প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মাননা অ্যাওয়ার্ড প্রধান করে।