সৎ ও চরিত্রবান যুবসমাজ গড়ে তুলতে পিতা-মাতার ভূমিকা
প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না
বিশ্বজগৎ একটি নিয়ম ও নীতির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এই নিয়ম-নীতির সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তাআলা। সূর্যও চন্দ্র আপন গতিতে নিজ নিজ কক্ষপথে চলে। যখনই এর ব্যত্যয় ঘটবে, পৃথিবী ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে।
মানুষ তার জীবনের উন্নতি সাধন করত চাইলে, সকল প্রকার কাজ-কর্মে আল্লাহ তাআলার নির্দেশগুলো অবশ্যই সঠিকভাবে মেনে চলতে হবে, তা না হয় নিজে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে এবং জাতিও ধ্বংসের দিকে ধাবিত হবে। তাই আল্লাহর নির্দেশ:
يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
'হে মানুষ, স্বীয় প্রতিপালকের ইবাদত কর, যিনি তোমাদের এবং তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে সৃষ্টি করেছেন,সম্ভবত: তোমরা মুত্তকী হতে পার। (সূরা বাকারা-২১)
অর্থাৎ তোমারা সকল প্রকার পাপকার্য হতে বিরত থাকতে সক্ষমতা লাভ করতে পারবে। ইবাদতের অর্থ হচ্ছে, মহান আল্লাহর আনুগত্য স্বীকার করা এবং যাবতীয় অন্যায় কাজ ও অপকর্ম থেকে বিরত থাকা। যে সব কাজ ও কর্মে শয়তানের পথ অনুসরণ করা হয় তা থেকে বেঁচে থাকা এবং যেসব অপকর্ম মানসিক বিকৃতি ঘটিয়ে মদপান, জুয়া খেলা ও নেশার দ্রব্য পানে এবং মাদকাশক্তিতে উৎসাহিত করে, তা পরিত্যাগ করা। এর ব্যত্যয়ে মানব জাতির জীবনীশক্তি ধ্বংস হয় এবং তারা শয়তানের পথে অধিকতর অগ্রসর হয়।
পৃথিবীর মানুষ উন্নতির দিকে যাচ্ছে এবং চারিত্রিক গুণে গুণান্বিত হয়ে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে যাচ্ছে। আর আমাদের দেশের সোনার মানুষ, ভবিষ্যতের আশা-আকাঙ্খার ফসল এবং জাতির ভবিষ্যত কর্ণধার,পরিচালনায় নেতৃত্বদানকারী গৌরবোজ্জ্বল সন্তানেরা, ধনী-নির্ধন সকল অভিভাবকের আদরের দুলাল-দুলালী, তরুণ-তরুণী, শিক্ষিত-অশিক্ষিত যুবক-যুবতী সম্প্রদায় নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে মাদকদ্রব্য সেবন করছে। যা তাদের জীবনী শক্তি নি:শেষ করে দিচ্ছে।
এদের প্রত্যেকের পিতা-মাতার আশা-ভরসা এবং ভবিষ্যৎ চিন্তা, ওরা মানুষ হয়ে দেশ ও জাতির সেবা করবে এবং মাতা-পিতার মুখ উজ্জ্বল করবে ও নিজের জীবনে শান্তির পায়রা উড়াবে। এইসব উজ্জ্বল নক্ষত্র সন্তানরা শুধু শুধু নিজের জীবনেই ধ্বংস করছে না বরং দেশের সার্বিক কল্যাণের বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। কেননা, এরা সরকারের কোন আইন মানছে না এবং সমাজের নিয়েম কানুনের তোয়াক্কা করছে না, এরা মাতা-পিতার শুধু অবাধ্যই নয় বরং জমি-বাড়ি বিক্রি করে তাদের মাদকাসক্তির চাহিদা পূরণ করতে পিতা-মাতা বাধ্য হচ্ছে অন্যথায় জীবন বিসর্জন দিতে হচেছ।
নিজের জীবন অথবা মাতা-পিতার জীবন দিতে হচ্ছে এর অনেক প্রমাণ বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোর প্রথম পৃষ্ঠার শিরোনামই যথেষ্ট। এর জন্য শুধু সোনার টুকরো সন্তানগণই দায়ী নয়। মাতা-পিতা, অভিভাবক ও সমাজের সকল স্তরের লোকই এর জন্য দায়ী। এদের প্রতি শুধু শাসনই নয় বরং সোহাগেরও প্রয়োজন ছিল এবং আছে। সকলেরই দায়িত্ব আছে, সেই দায়িত্বে যাদের অবহেলা আছে তারাও দায়ী হবে। এমনকি স্বয়ং সরকারও। দেশের জাতীয় সম্পদ ধ্বংস হলে এর জন্য সর্বস্তরের মানুষেই দায়ী হবে। এ সম্পর্কে রাসূল সা. বলেন-
كُلُّكُمْ رَاعٍ وَمَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ فَالْإِمَامُ رَاعٍ وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ وَالرَّجُلُ فِي أَهْلِهِ رَاعٍ وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ وَالْمَرْأَةُ فِي بَيْتِ زَوْجِهَا رَاعِيَةٌ وَهِيَ مَسْئُولَةٌ عَنْ رَعِيَّتِهَا وَالْخَادِمُ فِي مَالِ سَيِّدِهِ رَاعٍ وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ فَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ . صحيح البخاري - (ج 8 / ص 253)
"সাবধান! তোমরা প্রত্যকেরই নিজ দায়িত্ব সম্বন্ধে জিজ্ঞাসার সম্মুখীন হতে হবে। সুতরাং নেতা, যিনি জনগণের তত্ত্বাবধায়ক, তিনি স্বীয় অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন। প্রত্যেক পুরুষ নিজ পরিবারের লোকদের তত্ত্বাবধায়ক এবং নিজের অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। আর প্রত্যেক মহিলা তার স্বামীর পরিবারের লোকদের ও তার সন্তানের তত্ত্বাবধায়ক এবং তিনি তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন। কোন ব্যক্তির কর্মচারী স্বীয় মনিবের সম্পদের তত্ত্বাবধায়ক এবং সে সেই সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। প্রত্যেকেই নিজের অধীনস্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।" [বুখারী, মুসলিম।]
অতএব, মানবচরিত্র ও মানুষের আত্মা ও দেহের সর্বনাশকারী জীবনীশক্তি ধ্বংসকারী মাদকদ্রব্যের প্রচার- প্রসার, সংগ্রহকারী, সেবনকারী ও বিক্রয়করীদের প্রতিরোধে দেশের সকল স্তরের সম্পৃক্ততা লোকের সাহায্য-সহায়তা ও সরকারের প্রশাসনের বিশেষ নজরদারীর প্রয়োজন। তা না হলে এই মরণ ব্যাধি হতে দেশ ও জাতির মহামূল্যবান জীবনগুলো কোনো মতেই রক্ষা পাবে না। এই ব্যাধিতে যারা আক্রান্ত তাদরে প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে এবং অভিভাবকদের সচেতন হয়ে তাদের গতিবিধির প্রতি কঠোরভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। অভিভাবকদের প্রতি আল্লাহ তাআলার নির্দেশ হচ্ছে যে,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا
"হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের এবং পরিবারবর্গকে আগুন হতে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর।" [সূরা তাহরীম, ০৬ ]
সমাপ্ত
*রিপোর্ট করুন





Subscribe(RSS)
I'LIKE TO TRANSLATE ISLAMIC BOOKS FROM ENGLISH TO BENGALI OR VICE-VERSA.I'V ALREADY TRANSLATED A BOOK,AUTHORED BYR.K. RAO, ON MD.[SAW] life from KOLKATA -BASED pUblishER. I REQEST TO THIS BLOG TO PROVIDE such opportunIty.A.S.M. SALAHUDDIN, ASSTT. TEACHER-IN-POL.SC.khagragarh.p.o.raJBATI,DT.BURDWAN-4 MOB.9093458965
nice post visit waj dorshon http://unityofmuslimummah.wordpress.com/visit-waj/
thanks.
vi,dhakar ekta private versity ace jekhane meyera islamic labas pore cls a jete pare na........amader ki ei onnay er biroddhe kisu e korar ni?????????????