ঈমান বৃদ্ধি করনের কিছু উপায়

8
Print Friendly

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না

রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-


إن الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد

অনুবাদঃ মুহাম্মাদ গাফফার | সম্পাদনাঃ আবদ্‌ আল-আহাদ


আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীনের প্রতি আমাদের ভালবাসা হবে ভয় এবং আশা মিশ্রিত। আমাদের ঈমান কোন পর্যায়ের তা ভেবে হতাশ হওয়া যাবেনা। সর্বদায় আমাদের ঈমান উন্নয়নের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

f/5.6 Experiment in running through five different f-stops (f/4.

গত সপ্তাহে আমরা দুর্বল ঈমানের কিছু লক্ষন তুলে ধরেছিলাম। আজকের প্রবন্ধের বিষয়বস্তু হল কিভাবে আমরা আমাদের ঈমানকে সুদৃঢ় করতে পারি। চলুন জেনে নিই, কিভাবে আমাদের ঈমানের উন্নয়ন সম্ভব।

মান সুদৃঢ় রাখার কিছু উপায়

[] অর্থ বুঝে কুর’আন তেলাওয়াত করুন। তেলাওয়াত করার সময় প্রতিটি আয়াতের মর্মার্থ উপলব্ধি করে সেগুলো নিয়ে চিন্তা ভাবনা করুন। দেখবেন হৃদয়ে আপনি এক অকৃত্রিম প্রশান্তি বোধ করবেন। হৃদয়ের কোমলতা বাড়বে। কুর’আন তেলাওয়াতের সময় মনে মনে কল্পনা করুন আপনি বিশ্ব জাহানের প্রতিপালক আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীনের সাথে কথা বলছেন। মনের ভিতর এমন ধরনের অনুভুতি সৃষ্টি করতে পারলে কুর’আন তেলাওয়াতের সর্বোত্তম সুফল অর্জন করা সম্ভব হবে। কুর’আন আল-কারীমে আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীন বিভিন্ন ধরনের মানুষের কথা বলেছেন। নিজেকে মিলিয়ে দেখুন আপনি কোন শ্রেনীর মানুষ।

 [] আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীনের মহত্ত্বকে উপলব্ধি করার চেষ্টা করুন। বিশ্বচরাচরে যা কিছু আছে সবকিছুই তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন। আমরা চোখ খুলে যা কিছু দেখি সমস্ত কিছুর মাঝেই রয়েছে তাঁর নিদর্শন যা প্রতিনিয়ত তাঁরই মহীমা ও শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করে চলেছে; তাঁর হুকুম ছাড়া কোন কিছুই ঘটে না; তিনি সর্বদ্রষ্টা; কোন কিছুই তাঁর দৃষ্টি সীমার বাইরে নয়। গহীন অন্ধকার রাতে কালো পাথরের উপর কালো পিঁপড়াটিও নয়।

 [] জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করুন। অন্তত প্রত্যাহিক জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গলো সম্পর্কে আপনার জ্ঞান থাকা লাগবে। যেমনঃ সঠিক আকীদাহ, তাওহীদ, শিরকসম্পর্কে।  সঠিক পদ্ধতিতে উত্তমরূপে নামায পড়া ও ওজু করতে জানা। আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীনের গুণবাচক নামগুলোর অর্থসহ সেগুলোর তাৎপর্য জানুন। কারণ আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীনকে তারাই বেশী ভয় করতে পারে যারা জ্ঞানী, যারা তাঁর সম্পর্কে জানে। এই জন্য আপনি এই বইটি পড়তে পারেন।

 [] দ্বীনের আলোচনা হয় এমন বৈঠকে যোগদিন। কারণ আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীন সম্পর্কে আলোচনা হয় এমন অনুষ্ঠানে ফেরেশতারাও সমবেত হয়ে থাকেন। আমাদের ওয়েবসাইট থেকে লেকচার ডাউনলোড করে শুনতে পারেন এই লিংক থেকে।

 [] বেশী বেশী সৎকর্ম করুন। একটি সৎকর্ম অন্যান্য সৎকর্মসমূহের দুয়ার খুলে দেয়। বেশী বেশী দান সাদাকাহ্‌ করুন। এমনটি করলে আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীন আপনার জীবনের চলার পথকে সহজ করে দেবেন। ফলে আপনি আরো বেশী সৎকর্ম সম্পাদনের জন্য উৎসাহ বোধ করবেন। সৎকর্ম সম্পাদন আপনার জন্য সহজ হয়ে উঠবে। সৎকর্ম সম্পাদনের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঝে মাঝে অনেক ভাল কাজ করার চেয়ে অল্প অল্প করে প্রতিদিন কিছু না কিছু ভাল কাজ করা আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীনের কাছে বেশী পছন্দনীয়।

 [] আপনার জীবনের চূড়ান্ত পরিণতি তথা মৃত্যু হতে পারে অত্যন্ত মর্মান্তিক। কাজেই প্রতিটি মুহূর্তে মৃত্যুকে ভয় করে পৃথিবীতে বেঁচে থাকুন। পার্থিব খেল-তামাশা থেকে বেঁচে থাকার জন্য বেশী বেশী মৃত্যুকে স্মরণ করুন।

 [] আমাদের পরকালীন জীবনে বিভিন্ন ধাপ রয়েছে। পরকালীন জীবনের শুরু হয় মৃত্যু দিয়ে। এরপর কবরের জীবন, হাশরের ময়দানে বিচার, বিচার শেষে হয় জান্নাত না হয় জাহান্নাম। এছাড়াও রয়েছে পুলসিরাত। বিষয়গুলো নিয়ে ভাবুন। এমন পরকালীন ভাবনা আপনার ইহকালীন জীবনকে পরিশুদ্ধতা দান করবে। ফলে আপনার ঈমান সুদৃঢ় হবে।

 [৮] প্রতিনিয়তই আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীনের সাহায্য প্রার্থনা করুন। বোঝার চেষ্টা করুন আমাদের অস্তিত্বের জন্য, আমাদের স্বার্থেই আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীনকে আমাদের প্রয়োজন। ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করা থেকে বিরত থাকুন। বিনয়ী জীবন যাপন করুন। জড়বাদী এই পৃথিবীর মোহে অন্ধ হয়ে যাওয়া থেকে বেঁচে থাকুন।

 [] আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীনের দেয়া জীবন বিধান পালনের মাধ্যমে প্রমান করুন আপনি আপনার স্রষ্টাকে ভালবাসেন। তাঁর কাছে প্রার্থনার ক্ষেত্রে সর্বদায় আশাবাদী হউন। আশা করুন, আপনি যা চান তিনি তাই কবুল করবেন। তবে যে কোন সময় অপরাধ বা ভুল হয়ে যেতে পারে এই ভয়ে সদা সতর্ক ও ভীত থাকতে হবে। আত্ম-সমালোচনা করুন। সারাদিন কি করলেন তা পর্যালোচনা করে রাতে ঘুমানোর আগে কিছু সময় ব্যয় করুন।

 [১০] উপলব্ধি করার চেষ্টা করুন, আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীনের বিধান অমান্য করে আমারা যে পাপ  করি তার পরিণতি কি। আমাদের মন্দকর্মগুলো ঈমানকে দুর্বল করে দেয়। পক্ষান্তরে, সৎকর্মসমূহ আমাদের ঈমানকে সুদৃঢ় করে তোলে। এই বিশ্ব চরাচরে কোন কিছুই আল্লাহ্‌ রাব্বুল ‘আলামীনের ইচ্ছা ছাড়া সংঘটিত হয়না। আর আমাদের উপর যে বিপদ-আপদ আসে তা আমাদের নিজের হাতের কামাই ছাড়া কিছুই নয়। আমরা তাঁর অবাধ্য হয়ে নানান পাপে লিপ্ত হই যে পাপ আমাদের সকল দুর্দশার কারণ।

 পরিশেষে, আল্লাহ্‌ রাব্বুল ইজ্জাত ওয়াল জালাল এর কাছে আমাদের এই প্রার্থনা, আমরা যেন ততক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে না পড়ি যতক্ষণ না আমরা তাঁর প্রিয় বান্দাহ্‌দের দলভুক্ত হতে পেরেছি। আল্লাহ্‌ আমাদের সকলের ঈমানকে আরো বাড়িয়ে দিন এবং আমাদেরকে তাঁর মনোনীত একমাত্র দ্বীন ইসলামকে মেনে চলার তাওফীক্‌ দিন।আমীন।


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

পাঠকের মন্তব্য

Loading Facebook Comments ...

8 মন্তব্য

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here