কুর’আন কিভাবে পড়বো ও বুঝবো – ৩

4
Print Friendly

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না

রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

[মূল লেখা: Jamaal al-Din M. Zarabozo-র]



 

এই সিরিজের আলোচ্য বিষয়াবলী

পবিত্র কুর’আনে আল্লাহ্ বলেন:

يَا أَهْلَ الْكِتَابِ قَدْ جَاءَكُمْ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ كَثِيرًا مِمَّا كُنْتُمْ تُخْفُونَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ (15) يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلَامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ

“হে আহলে কিতাব! তোমাদের কাছে আমাদের রাসূল এসেছেন, তোমরা কিতাবের যা কিছু লুকিয়ে রাখতে তা প্রকাশ করতে এবং যা কিছু অপ্রয়োজনীয় তা বাদ দিতে। আল্লাহর কাছ থেকে তোমাদের কাছে এক (নতুন) আলো এবং হেদায়েত দানকারী গ্রন্থ এসেছে। যা দিয়ে আল্লাহ্ তাদের সকলকে পথ নিদের্শনা দেন, যারা শান্তি ও নিরাপত্তার পথে তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে এবং তাদের, তাঁর ইচ্ছামত অন্ধকার থেকে সেই আলোতে বের করে নিয়ে এসে সেই পথে পরিচালিত করেন – যা সরল।” (সূরা মায়িদা, ৫:১৫-১৬)

الر كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِ رَبِّهِمْ إِلَى صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ
“আলিফ-লাম-রা, একখানি কিতাব, যা আমরা তোমার কাছে নাযিল করেছি, যাতে তুমি মানবজাতিকে তাদের প্রতিপালকের নির্দেশক্রমে অন্ধকার থেকে আলোতে বের করে নিয়ে আসতে পারো – তাঁর পথে যিনি পরাক্রমশালী, সকল প্রশংসার দাবীদার।”
(সূরা ইব্রাহিম, ১৪:১)

আল্লাহ্ আরো বলেন,

إِنَّ هَذَا الْقُرْآَنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ وَيُبَشِّرُ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا كَبِيرًا
“নিশ্চয়ই এই কুর’আন যা সবচেয়ে সঠিক তার দিকেই পরিচালিত করে……”
(সূরা ইসরা, ১৭:৯)

কুর’আনের এই বাণীগুলো পড়ে যখন কোন অবিশ্বাসী কাফির বা সন্দেহবাদী আজকের পৃথিবীর মুসলিমদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নৈতিক অবস্থার দিকে তাকিয়ে দেখবে, তখন সে প্রশ্ন করতে পারে :কুর’আনের এই কথাগুলো কি বাস্তবিকই সত্যি? যারা কুর’আনের এই কথাগুলোকে বিশ্বাস করে বলে ও জীবনে প্রয়োগ করে বলে দাবী করে, তাদের জীবনে এসবের প্রভাব ও প্রতিফলন কোথায়? কেউ কি মুসলিমদের সত্যি আলোর জগতে বসবাস করতে দেখে, নাকি স্বভাবতই তাদের এক অন্ধকার জগতের বাসিন্দা বলে মনে হয়?

স্পষ্টতই, কুর’আনে লিপিবদ্ধ আল্লাহর এই কথাগুলো সত্য। এ কথাগুলোর ব্যাপারে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। আসলে কেউ যখন কুর’আনের ইতিহাস পড়ে দেখবেন এবং অতীতে যারা কুর’আন বিশ্বাস করেছিলেন, তাদের উপর কুর’আনের কি প্রভাব পড়েছিল সে সম্বন্ধে জ্ঞানলাভ করবেন – তখন যে কেউ অনুধাবন করবেন যে, কুর’আনের উপরোক্ত আয়াতগুলোতে বর্ণিত কথাগুলো তাঁদের জীবনে বাস্তবায়িত হয়েছিল।

এটা অত্যন্ত দুঃখজনক এক বাস্তবতা যে, মুসলিমরা দিকনির্দেশনা সম্বলিত এই মহান কিতাবখানির অধিকারী হলেও, বর্তমানে তাদের জীবনে এর শিক্ষার আশীর্বাদ বা দিকনির্দেশনার কোন প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায় না। এই বাস্তবতা কারো কারো কাছে বিস্ময়কর মনে হতে পারে। মুসলিমরা বর্তমানে যে অবস্থায় পতিত হয়েছে – কি করে সেই পরিণতিতে তারা পৌঁছতে পারে – কারো জন্য তা অনুধাবন করা কষ্টকর হতে পারে। মুসলিমরা কিভাবে কুর’আনকে গ্রহণ করছে এবং আত্মস্থ করছে – এর মাঝেই সম্ভবত এই প্রশ্নের উত্তর রয়েছে। সম্ভবত, কুর’আনের প্রতি তাদের আচরণে কোথাও কোন সমস্যা রয়েছে। এ থেকে এমন একটা অবস্থার উদ্ভব হয় যে, কোন একটা বিষয়ে কুর’আনে দিকনির্দেশনা রয়েছে ঠিকই, কিন্তু মানবতার উপর তার যে প্রভাব প্রতিফলিত হবার কথা ছিল – তা হচ্ছে না।

আমাদের এই প্রচেষ্টায় আমরা তাই, আজকের দিনের অনেক মুসলিম কুর’আনের সাথে কি ধরনের আচরণ করছেন – সেদিকে আলোকপাত করব। তারপর আমরা চেষ্টা করবো, সঠিক আচরণটা কি – তা ভেবে দেখতে। সবশেষে পবিত্র কুর’আনকে সঠিক ভাবে বোঝার ও ব্যাখ্যা করার পন্থা কি হতে পারে, তা নিয়েও আমরা আলোচনা করব ইনশা’আল্লাহ্!

কুর’আন তার অনুসারীদের জন্য কি ধরনের জীবনযাত্রা প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং বাস্তবে আজকের মুসলিমদের জীবনযাত্রার শোচনীয় অবস্থার মাঝে যে দুস্তর ব্যবধান, তার কারণসমূহ বুঝবার এই প্রচেষ্টায় আমরা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে আলোচনা করবো ইনশা’আল্লাহ্:

১. আলোচ্য বিষয়াবলী
২. কুর’আনের বৈশিষ্ট্য এবং এর প্রতি আমাদের কর্তব্য
৩. কুর’আনিক প্রজন্ম
৪. কুর’আনের প্রতি সমকালীন মুসলিমদের আচরণ
৫. কুর’আনের মুখ্য উদ্দেশ্য
৬. কুর’আনের নিকটবর্তী হবার পন্থা ও করণীয়
৭. কুর’আন ব্যাখ্যার (তাফসীরের) সঠিক পন্থা
৮. কুর’আনের কাছে প্রত্যাবর্তনের আবশ্যকতা
৯. উপসংহার বা শেষ কথা।

আমরা আশা করছি যে, আমাদের এই প্রচেষ্টায় সংযোজিত বা আলোচিত বিষয়াবলী বিচার-বিশ্লেষণের পরে, কুর’আন বোঝার ব্যাপারে আমাদের দুর্বলতা ও দীনতা অনেকাংশেই দূর হবে ইনশা’আল্লাহ্। আমাদের এই প্রচেষ্টার মূলে রয়েছে এই অপূর্ব সুন্দর ও অলৌকিক কুর’আন থেকে বাংলাভাষী মুসলিমরা যাতে যথাসম্ভব বেশি উপকৃত হতে পারেন, সে ব্যাপারে তাদের সহায়তা করা। যেভাবে কুর’আনের নিকটবর্তী হওয়া উচিত, সেভাবে কুর’আনের কাছে যেতে পারলেই তাদের উপর কুর’আনের সেই কাঙ্খিত প্রভাব অনুভূত ও প্রতিফলিত হবে। তখন, কুর’আন মুসলিমদের আল্লাহর আরো কাছাকাছি নিয়ে যাবে, এবং ইসলাম সম্বন্ধে তাদের জ্ঞানকে আরো পরিপূর্ণ করে দেবে। তারা তখন এই পৃথিবীতে তাদের সত্যিকার ভূমিকা ও প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে পারবেন। সবশেষে আমরা আশা করবো, কুর’আনের সঠিক জ্ঞান আখিরাতে তাদের জান্নাতের পথে নিয়ে যাবে – কুর’আনের সঠিক জ্ঞান ও প্রয়োগ আখিরাতে তাদের পক্ষে এক প্রমাণ ও মধ্যস্থতাকারী স্বরূপ কাজ করবে – আর আল্লাহ্ তাদের উপর সন্তুষ্ট থাকবেন, ইনশা’আল্লাহ্!।

(চলবে ……ইনশা’আল্লাহ!)

মুলঃ মেরিনার


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

পাঠকের মন্তব্য

Loading Facebook Comments ...

4 মন্তব্য

  1. Assalamu alaikum warahmatullah!
    Attention-! Mr. Writer and this web site management. Yesterday I’m already post a comment about mis translation. After you correct that, also you today upload same mis translation with quran. I don’t what is it. It is your missing or moskora (funny). Maybe you don’t know more about quran; otherwise how to published miss translate with quranik word. Yesterday I’m inform you Almighty Allah is alone in whol world; but again you do that. are you crazy? Never mind; If you don’t have original translate transcript or don’t know arabic correct meaning no need publishing your public way. Please just I’ll request you never miss translate any quranik word. Allah will give you more knowledge. Thanks

  2. Walaykum Assalaam Read this – Why does the Quran use “WE” and “HE” in Quran when referring to God (Allah)?

    This is a good question and one that Bible readers have also asked about. The term “We” in the Bible and in the Quran is the royal “We” – as an example when the king says, “We decree the following declaration, etc.” or, “We are not amused.” It does not indicate plural; rather it displays the highest position in the language. English, Persian, Hebrew, Arabic and many languages provide for the usage of “We” for the royal figure. It is helpful to note the same dignity is given to the person being spoken to in English. We say to someone, “You ARE my friend.” Yet the person is only one person standing there. Why did we say “ARE” instead of “IS”? The noun “you” is singular and should therefore be associated with a singular verb for the state of being, yet we say, “are.” The same is true for the speaker when referring to himself or herself. We say, “I am” and this is also in the royal plural, instead of saying, “I is.”When Allah uses the term “HE” in Quran it is similar to the above answer. The word “He” is used when referring to Allah out of respect, dignity and high status. It would be totally inappropriate to use the word “it” and would not convey the proper understanding of Allah being who Allah is; Alive, Compassionate, Forgiving, Patient, Loving, etc. It is not correct to associate the word “He” with gender, as this would be comparing Allah to the creation, something totally against the teaching of Quran.By Sheikh Yusuf Estes.. I hope brother you have got your answer…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here