আমাদের সমাজে প্রচলিত শিরক -১

14
Print Friendly

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না

রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

শাব্দিক অর্থে শিরক মানে অংশীদারিত্ব, কোন কিছুতে অংশীদার সাব্যস্ত করা। ইসলামের পরিভাষায় এর অর্থ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার সাথে কোন বিষয়ে কোন অংশীদার স্থির করা। তিন প্রকারের তাওহীদ (তাওহীদ আর রুবুবিয়্যাহ, তাওহীদ আল আসমা ওয়া সিফাত এবং তাওহীদ আল ইবাদাহ), শিরকও এই তিনটি বিষয়ের ক্ষেত্রে হতে পারে। শিরক হতে পারে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার রুবুবিয়্যাতের ক্ষেত্রে, তাঁর নাম ও গুণাবলীর ক্ষেত্রে কিংবা তাঁর ইবাদাতের ক্ষেত্রে।

 

শিরকের ভয়াবহ পরিণতি:

“আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করার অপরাধ অবশ্যই ক্ষমা করবেন না, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা এর চেয়ে কম (অপরাধ) ক্ষমা করে দেন।” (সূরা আন নিসা, ৪ : ৪৮)

শিরকপূর্ণ ধ্যান-ধারণা ও রীতি:

১) কোন মানুষকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার রহমত বন্টনের অধিকারী বলে মনে করা। কোন মানুষকে (পীর, ফকির, দরবেশ) কোন বিপদকে প্রতিহত করতে সক্ষম, কিংবা কোন কল্যাণ এনে দিতে সক্ষম বলে মনে করা। উল্লেখ্য যে আমাদের দেশে বাবে রহমত নামক একটি স্থান রয়েছে যেখানে মানুষ আল্লাহর রহমত লাভের আশায় গিয়ে থাকে। সেখানে আল্লাহর রহমত তো পাওয়া যাবেই না, বরং অন্য একজন ব্যক্তি আল্লাহর রহমত বন্টন করছে বলে মনে করার ফলে শিরকের মত ভয়াবহ অপরাধে অপরাধী হতে হবে।

২) কবরে শায়িত কোন ধার্মিক ব্যক্তির নিকট কোন দু’আ পেশ করা, মাজারে গিয়ে কবরবাসীর কাছে কিছু চাওয়া, কবরবাসীর উদ্দেশ্যে সাজদাহকরা, কিংবা কবরবাসী কবরে শুয়ে মানুষের জীবনের বিভিন্ন দিক, এবং ইহজগতের বিষয়াদি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন বলে মনে করা।

৩) স্রষ্টাকে সর্বত্র বিরাজমান মনে করা। সকল সৃষ্টি এবং স্রষ্টা মিলেই একই সত্তা মনে করা। প্রকৃতিকে ক্ষমতাধর মনে করা। উল্লেখ্য যে আমাদের দেশে সাহিত্যে বেশ কিছু বাক্য প্রচলিত আছে যেগুলো শিরকপূর্ণ। এগুলো মানুষের অবচেতন মনে স্থান করে নেয়, এবং মানুষ মোটেও উপলব্ধি করতে পারে না যে তার চিন্তাধারায় ধীরে ধীরে শিরকের অনুপ্রবেশ ঘটছে। যেমন: “প্রকৃতির খেয়ালীপনা” এই বাক্যাংশটি শিরকপূর্ণ একটি বাক্যাংশ। প্রথমতঃ এর দ্বারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার নিয়ন্ত্রণের বাইরে স্বাধীনভাবে কোন কিছু করার বৈশিষ্ট্য প্রকৃতির ওপর আরোপ করা হয়েছে। অথচ প্রকৃতির কোন সাহসই নেই যে সে খেয়ালীপনা করবে, কেননা তাকে সেই স্বাধীনতাই দেয়া হয় নি, বরং প্রকৃতি এবং এর উপাদানসমূহ সর্বদাই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার প্রশংসা করে এবং তাঁরই আদেশের অনুগত।

“সপ্ত আকাশ এবং পৃথিবী এবং এগুলোর মধ্যে যা কিছু আছে সমস্ত কিছু তাঁরই পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। এবং এমন কিছু নেই যা তাঁর সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে না। কিন্তু তাদের পবিত্রতা মহিমা ঘোষণা তোমরা অনুধাবন করতে পার না।…” (সূরা আল ইসরা, ১৭ : ৪৪)

এছাড়া এ ধরণের বাক্য ব্যবহার করার ফলে মানুষের মনে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার সিদ্ধান্তের প্রতি অসহিষ্ণুতা প্রকাশের প্রবণতা তৈরী হয়, যেমন আমরা প্রায়ই বলে থাকি, “আজ অসহ্য গরম পড়েছে”, “কি বিশ্রী একটা দিন” ইত্যাদি। তাই মনে হয় এধরনের বাক্য পরিহার করাই বাঞ্ছনীয়।

স্মরণ রাখতে হবে সৃষ্টি এবং স্রষ্টা ভিন্ন এবং বিচ্ছিন্ন সত্তা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাঁর জ্ঞান এবং ক্ষমতার দ্বারা মানুষের নিকটবর্তী, তবে তার মানে এই নয় যে তিনি সর্বত্র বিরাজমান। বরং তিনি সৃষ্টির উর্দ্ধে।

৪) আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার কোন আকার-আকৃতি বা রূপ কল্পনা করা কিংবা তাকে মানুষের আকৃতিতে কল্পনা করা শিরক। বরং তাঁর মহান সত্তা সম্পর্কে আমরা যে চিত্রই কল্পনা করতে সক্ষম হব, বুঝতে হবে অবশ্যই তিনি সেটা নন, অর্থাৎ আমরা একটা রূপ কল্পনায় আনতে পারলাম অর্থই হচ্ছে তিনি সেরকম হতে পারেন না।

৫) শিক্ষিত মুসলিমদের একটা ব্যাপার স্মরণ রাখা উচিৎ: তা হচ্ছে “পদার্থ এবং শক্তি” এ উভয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার “সৃষ্টি”। “শক্তির সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই”, এ মতবাদ ভুল। বরং আল্লাহ সুবহানাল্লাহু ওয়া তা’আলা অস্তিতহীনতা থেকে “শক্তি” সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি তা “ধ্বংস” করার পূর্ণ ক্ষমতা রাখেন এবং তিনি তা ধ্বংস করে দেবেন:

“(ইহ জগতের) সবকিছুই ধ্বংস হবে।” (সূরা আর রাহমান, ৫৫ : ২৬)

তবে মানুষ যেহেতু তা করতে পারেনা, সে জন্যই উপরোক্ত মতবাদের উৎপত্তি হয়েছে।

৬) ব্যক্তি বিশেষের মূর্তির প্রতি, অগ্নির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন শিরকের সমতুল্য। তেমনি কোন ব্যক্তির তৈরী মতবাদকে, বা কোন ব্যক্তির চিন্তাধারণাকে আল্লাহ প্রদত্ত বিধান ও ধ্যান-ধারণার চেয়ে উত্তম মনে করে জীবনে ধারণ করা শিরক। যেমন কেউ যদি কার্ল মার্কসের আদর্শকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার দেয়া বিধানের চেয়ে উত্তম মনে করে সেই আদর্শ বাস্তবায়ন করে, তবে তা শিরক।

৭) ভালবাসা এবং ভয়ের/শ্রদ্ধার ক্ষেত্রে মানুষ শিরকে লিপ্ত হয়। বর্তমানে এই শ্রেণীর শিরক অত্যন্ত ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। যদি কোন কিছুর/কারও প্রতি ভালবাসা কিংবা ভয় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা এবং ব্যক্তির মাঝে স্থান করে নেয়, তবে সে ঐ বস্তু/ব্যক্তির উপাসনা করল। উদাহরণস্বরূপ, অর্থ উপার্জনের কারণে কেউ যদি আল্লাহর ইবাদাত করা থেকে বিরত হয়, তবে সে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার চেয়ে অর্থকে অধিক ভালবাসে বলে বুঝতে হবে, অতএব সে ভালবাসার ক্ষেত্রে শিরক করে। আল্লাহর রাসূল (সা) বলেন:

“দিরহামের পূজারী সবর্দাই দুর্দশাগ্রস্ত।” (সহীহ্‌ আল বুখারী)

তাওহীদের দাবী এই যে আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলাকে সবচেয়ে বেশী ভালবাসব। আর তাঁকে ভালবাসার অর্থ হচ্ছে তাঁর ইচ্ছার কাছে সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন:

“বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, আমাকে অনুসরণ কর, আল্লাহও তোমাদেরকে ভালবাসবেন।” (সূরা আলে ইমরান, ৩ : ৩১)

আল্লাহর রাসূল (সা:) বলেন:

“তোমাদের কেউই প্রকৃত মু’মিন হতে পারবে না যতক্ষণ না আমি তার সন্তান, তার পিতা এবং সমগ্র মানবজাতি থেকে তার নিকট অধিক প্রিয় হই।” (সহীহ্‌ আল বুখারী এবং সহীহ্‌ আল মুসলিম)

রাসূল (সা) কে পূর্ণরূপে ভালবাসার অর্থ হচ্ছে সম্পূর্ণরূপে তাঁর আনুগত্য করা:

“যে কেউই রাসূলের আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল।” (সূরা আন নিসা, ৪ : ৮০)

এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায় যে আমাদের দেশে মানুষ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্যের উপর নিম্নোক্ত বিষয়সমূহের/ব্যক্তিবর্গের আনুগত্যকে স্থান দিয়ে থাকে:

ক) পিতা-মাতা (যদিও পিতা-মাতার আনুগত্য করা ফরয, তবে তাঁরা যদি আল্লাহর আদেশের বিপরীতে কোন আদেশ করেন, তবে তাওহীদের দাবী হচ্ছে তাঁদের বিরুদ্ধাচরণ করে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার আদেশের ওপর অটল থাকা। তাঁদের প্রতি ভালবাসা বা ভয়ের কারণে কেউ যদি আল্লাহর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করতে থাকে, তবে তা ভালবাসা ও ভয়ের ক্ষেত্রে শিরকের পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।)

খ) সামাজিক প্রথা এবং প্রচলিত নিয়ম কানুন, যেমন আমাদের সমাজে প্রচলিত অসংখ্য প্রথা রয়েছে, যেগুলো সম্পূর্ণরূপে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার বিধানের পরিপন্থী , কিন্তু মানুষ শ্রদ্ধা কিংবা ভয়ের কারণে সে সকল প্রথা মেনে চলে।

গ) আদর্শ, মতবাদ, মতবাদের প্রবক্তা কিংবা নেতা। যদি কেউ আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুলের সুন্নাহ থেকে প্রতিষ্ঠিত কোন বিষয়ের উপর এর সাথে সাংঘর্ষিক কোন আদর্শ, নীতি বা ধ্যান-ধারনা বা কারো মতামতকে প্রাধ্যান্য বা অগ্রাধিকার দেয় তাহলে সে আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের ব্যাপারে শিরকে লিপ্ত হল। অথচ আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা বলেছেনঃ

“যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মাঝে রয়েছে উত্তম আদর্শ।” (সূরা আল আহযাব, ৩৩ : ২১)

“আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোন কাজের আদেশ করলে কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন ক্ষমতা নেই যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ অমান্য করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হয়।” (সূরা আল আহযাব, ৩৩ : ৩৬)

কুরআনের এ আয়াতগুলোর অর্থ খুব স্পষ্ট, যে কোন একজন সুস্থ মস্তিস্কের মানুষের পক্ষে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার এসব কথার অর্থ বুঝতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বিশ্বের অনেক স্থানের মতো আমাদের দেশেও শিক্ষিত মুসলিম জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ সাহিত্য-সংস্কৃতিতে ও সামাজিক-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এমন কিছু ধ্যান-ধারনা ও বিশ্বাস দ্বারা প্রভাবিত ও পরিচালিত হচ্ছেন যা স্পষ্টত আল্লাহ যা নাযিল করেছেন মৌলিকভাবে তার বিপরীত। এসব বিভ্রান্ত ধ্যান-ধারনা ও বিশ্বাসের প্রচার প্রসারকারী যারা তাদের কথা ও লেখা থেকে বুঝতে কারো অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে এরা আল্লাহর রাসুলের (সাঃ) হিদায়ত ও শেষ বিচারের দিন আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের ব্যাপারে চুড়ান্তভাবে সন্দেহগ্রস্থ। আর যে কোন বিষয়ে উচিত-অনুচিত, সত্য-মিথ্যা বা ভাল-মন্দ বিচার করতে এরা আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তাকে অবশ্য-অনুসরনীয় মানদন্ড হিসাবে ও পছন্দ করে না বরং নিজের খেয়াল-খুশি ও লালসার অনুসরন করে। এদের একদল এতটাই ধৃষ্ট যে তারা আল্লাহর আয়াতসমূহ ও তাঁর আদেশঘঠিত বিষয়াবলী নিয়ে ঠাট্রা করে – যা কোন সন্দেহ ব্যতিরেকেই কুফর; আল্লাহ বলেছেন,(ভাবার্থঃ)

হে রাসুল(সাঃ) বলুন! তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর প্রদত্ত বিধানসমূহ এবং তাঁর রাসুল (সাঃ) এর ঠাট্রা করছো? তোমরা কোনরকম ওজর পেশ করো না। কারন তোমরা ঈমান আনার পরে কুফরী আচরন করেছ (সুরা তাওবাঃ ৬৫-৬৬) ।

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এদের কার্যকলাপকে শয়তান তাদের নিজেদের সামনে উত্তম ও সৌন্দর্যমন্ডিত রুপে উপস্থাপন করে, ফলে তারা দুনিয়ায় এই জীবনের মৌলিক প্রশ্নগুলোর ব্যাপারে বিভ্রান্ত থেকে নিঃসীম অন্ধকারে ঘুরতে থাকে এবং নিজেদের মনগড়া ধ্যান-ধারনা ও খেয়াল-খুশি অনুসরন করে আর তাদের ভক্ত, অনুসারীদেরকেও বিভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতার চক্রে বিপর্যস্থ রাখে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ এই পর্যায়ের যে চিত্র অংকন করেছেন তা এদের ক্ষেত্রে সঠিক বলে প্রতীয়মান হয় (ভাবার্থঃ)

হে রসুল (সাঃ) বলুন! আমি কি তোমাদেরকে কার্যকলাপের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থদের সংবাদ দেব? (তারা হল ঐসব লোক) যাদের দুনিয়ার জীবনের সমস্ত প্রচেষ্টা পন্ড হয়ে গেছে, অথচ তারা মনে করত কত সুন্দর কাজই না তারা করছে। তারাই সেসব লোক যারা তাদের রবের আয়াতসমুহ ও তাঁর সাক্ষাতের বিষয় অস্বীকার করেছে, ফলে তাদের সমস্ত আমল বিনষ্ট হয়ে গেছে। সুতারাং কেয়ামতের দিন আমি তাদের জন্য ওজন স্থাপন করবো না।(সুরা কাহাফঃ১০৩-১০৫)

তাই আমাদের তরুনদের ভাবতে হবে তারা যেসব সাহিত্যিক-সাংস্কৃতিক ও সামাজিক-রাজনৈতিক আদর্শচিন্তা অনুসরন ও বাস্তবায়ন করার জন্য ঐ সকল আদর্শের প্রবক্তা ও প্রচার-প্রসারকারীদের প্রতি পরম ভালবাসা, শ্রদ্ধা এবং ভক্তি রেখে আদেশ মাথা পেতে নিচ্ছেন, তারা কোন পথের যাত্রী? তারা কি জাহান্নামের পথে চলছেন না? এভাবে নেতাদেরকে অনুসরণ করার পরিণতি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা স্পষ্টতঃ বর্ণনা করেছেন কুরআনেঃ

“অনুসৃতরা যখন অনুসারীদের সাথে তাদের সম্পর্ক অস্বীকার করবে/অনুসারীদেরকে প্রত্যাখ্যান করবে এবং আযাব প্রত্যক্ষ করবে আর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে তাদের পারস্পরিক সমস্ত সম্পর্ক, এবং অনুসারীরা বলবে কতই না ভাল হত, যদি আমাদিগকে পৃথিবীতে ফিরে যাবার সুযোগ দেয়া হত, তাহলে আমরাও তেমনিভাবে তাদেরকে অস্বীকার/প্রত্যাখ্যান করতাম, যেমন তারা আমাদেরকে অস্বীকার/প্রত্যাখ্যান করেছে। এভাবেই আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে দেখাবেন তাদের কৃতকর্ম তাদেরকে অনুতপ্ত করার জন্য। অথচ, তারা কস্মিনকালেও আগুন থেকে বের হতে পারবে না।” (সূরা আল বাকারাহ্‌, ২ : ১৬৬-১৬৭)

তাই যেসব গোষ্ঠীর ধ্যান-ধারনা ও আদর্শ্চিন্তা আল্লাহর রাসূলের আদর্শের বিপরীত, সেসবের অনুসারীদের উচিৎ অবিলম্বে এই  শ্রেণীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা। আর পথভ্রষ্টতায় নেতৃস্থানীয় ও প্রচার-প্রসারকারী যারা তাদের শাস্তি অনেকটা জ্যামিতিক হারে বর্ধনশীল, কেননা তাঁরা নিজেরা তো পথভ্রষ্ট, উপরন্তু যাদেরকে তারা পথভ্রষ্ট করেছেন, তাদের অপরাধের অংশীদারও তারা হবেন। তবে বড় বড় অপরাধীদেরও চুড়ান্তভাবে হতাশার কারণ নেই, যদি তাঁরা সত্যিই অনুতপ্ত হয়ে ফিরে আসেন, তবে আল্লাহর ক্ষমা তাঁদের অপরাধের চেয়ে অনেক বড়, আর নিষ্ঠাপূর্ণ তওবাকারীদের আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ক্ষমা করে দেন ও ভালবাসেন। আল্লাহ বলেনঃ

“… হে আমার বান্দাগণ যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে যেও না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গোনাহ্‌ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সুরা আয যুমার, ৩৯ : ৫৩)

৮) বর্তমান যুগে আল-লাত, মানাত, আল উযযার মত মূর্তি নয়, বরং মানুষ পূজা করে বহু ব্যক্তিকে। আজকের যুগে টম ক্রজ, ডেভিড বেকহাম কিংবা লিওনেল মেসিরা মানুষের উপাসনার বস্তু। বাংলাদেশে শিক্ষিত সমাজ় তো বটেই, এমনকি গ্রামে-গঞ্জেও আজ ছড়িয়ে পড়েছে বিনোদনের বহু মাধ্যম, টেলিভিশন, ভিডিও, স্যাটেলাইট চ্যানেল। শহরাঞ্চলে বহু যুবক-যুবতী ঘরে দেখা যাবে দেয়ালে দেয়ালে (এমনকি টয়লেটে পর্যন্ত) হিন্দী সিনেমার নায়ক-নায়িকা কিংবা ব্যান্ড সংগীতের শিল্পীর পোষ্টার, এ যেন মূর্তি পূজার নতুন রূপ। প্রিয় তারকাকে দেখলে মানুষের চেহারায় যে আনন্দ, বিস্ময়, উচ্ছ্বাস,আবেগ, ভালবাসা ও শ্রদ্ধায় পুর্ণ অভিব্যাক্তি দেখা যায়, সে ধরনের অনুভুতি এক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার স্মরণে ব্যতিত আর কারো উদ্দেশ্যে হওয়ার কথা নয়।

৯) এছাড়া সমাজে প্রতিষ্ঠিত কিংবা বিখ্যাত হওয়ার বাসনা মানুষকে আল্লাহর আদেশ পালন থেকে বিরত রাখছে। বস্তুর পূজারী মানুষ আজ তার ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, একাডেমিক ডিগ্রি, নিজেদের সন্তান-সন্ততির পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আল্লাহর ইবাদত করার সময় তাদের হাতে নেই। হ্যাঁ এগুলির পাশাপাশি ধর্ম যতুটুকু করা যায় তা কেউ কেউ করতে রাজী ঠিকই, কিন্তু যখনই ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, কোন ক্ষতির ভয় থাকে, তখন কেউ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার আনুগত্য করতে প্রস্তুত নয়। এজন্য এস এস সি/এইচ এস সি পরীক্ষার্থীর বাবা-মা সন্তানকে উপদেশ দেন রোযা না রাখার। যাহোক এভাবে বস্তুবাদী মানুষ সৃষ্টির উপাসনা করছে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলাকে ভুলে গিয়ে, কিন্তু ; এ কোন কিছুই কি তাকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে ফিরাতে পারবে? কতদিন পৃথিবীকে ভোগ করতে পারবে মানুষ? চিরকাল কি?

১০) মানুষ যখন নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে তখন সে শিরকে লিপ্ত হয়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন:

“আপনি কি তাকে দেখেন না যে তার প্রবৃত্তিকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে?” (সূরা আল ফুরকান, ২৫ : ৪৩)

এখানে ইসলাম ও শরীয়তবিরোধী কোন প্রবৃত্তির অনুসারীকে প্রবৃত্তির পূজারী বলা হয়েছে। ইবন আব্বাস (রা) বলেছেন, শরীয়া বিরোধী প্রবৃত্তিও এক প্রকার মূর্তি যার পূজা করা হয়। তিনি এর প্রমাণ হিসেবে এই আয়াত তিলাওয়াত করেন। দুঃখজনক হলেও সত্য যে আজকের মুসলিম সমাজে অনেক মুসলিমই নিজের খেয়ালখুশির অনুসরণ করে থাকে, এবং নিজের মতামতকে অর্থাৎ নিজের কাছে কি মনে হল, তাকে খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। অথচ একজন মু’মিনের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই যে সে প্রতিটি বিষয়ের ক্ষেত্রে জানতে সচেষ্ট হয় যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা ও তাঁর রাসূল (সা) কি বলেছেন, এবং সে তা জানামাত্র মাথা পেতে গ্রহণ করে নেয়, সেটা তার মন মত হোক বা না হোক, অথচ আমাদের সমাজের কিছু উদ্ধত লোক আছে, যাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কথা শোনানোর পরও তারা নিজেদের মতামতের পক্ষে সাফাই গাইতে থাকে এবং “আমার তা মনে হয় না।”, “আমার মনে হয় এটা ঠিক।” বা “এটা ঠিক না।” এরূপ মন্তব্য করার ধৃষ্টতা দেখায়।

এমন মানুষ তার যা মনে হয়, সেই অনুযায়ীই কাজ করে যায় এবং নিজের প্রবৃত্তি মত নিজের ধর্ম বানিয়ে নেয়। ধরা যাক একজন মানুষ খুব নামায পড়ে, কিন্তু যখনই তাকে যাকাতের কথা বলা হয়, সে নানা অজুহাত এবং নিজস্ব মতামত দিতে থাকে, কেননা যাকাতের বিধান তার মনমত হয় নি, অথবা সুদ খাওয়া থেকে তাকে নিষেধ করলে সে আঁতকে ওঠে এবং এই বিধান মানতেই চায় না, বরং নিজ খেয়ালখুশীর অনুসরণ করে। এমন মানুষ কিন্তু আমাদের সমাজে কম নেই, আমাদের আশেপাশেই অনেকে রয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আমাদেরকে সকল প্রকার শিরক থেকে রক্ষা করুন।

চলবে……….


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

পাঠকের মন্তব্য

Loading Facebook Comments ...

14 মন্তব্য

  1. আস সালামো অলাই কুম,
    ভাই হাসান,আপনার নামের সাথে আমার নামের শেষের দিকে মিল আছে, আপনার পোষ্টটি পড়লাম, বেশ ভাল হয়েছে এবং সমসাময়িক| আশা করি আপনি আমার কথাটা ভেবে দেখবেন; আপনি বলেছেন আল্লাহ্‌ পাক অস্তিত্বহী্নতা থেকে শক্তি সৄষ্টি করেছেন, আসলে আমার মনে হ্য় আপনার একটু ভাবার ভুল হচ্ছে, আল্লাহপাকের যেখানে অস্তিত্ব থাকে সেখানে অস্তিত্বহী্নতার প্রশ্নই আসতে পারে না, আর আল্লাহপাকের নাম গুলো ভালো মতো লক্ষ্য করলে দেখা যাবে তাঁর নাম গুলোই এক একটা শক্তি বা তার রুপ| আর আল্লাহপাকের পাক নামের গুনে এবং তাঁর প্রভাবে পদার্থের সৃষ্টি হয়| একটা প্রোটনে পজিটিভ কারেন্ট কিভাবে এল? বা জল উপর থেকে নীচে গড়িয়ে যাবার শক্তি কে দিল? গ্রহ-নক্ষত্রদের নির্দিষ্ট কক্ষপথে চলাচলের শক্তি কে দিল? আশাকরি আপনি বা সত্যিকারের মুসলমান উত্তর দেবে আল্লাহপাক| আর এগুলো সবই আল্লাহপাকের নির্দেশেই নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই চালিত হচ্ছে| আর যে নির্দেশ দিতে পারে তার শক্তি নেই কিভাবে বলাযায়; আল্লাহ পাক নি্জেই শক্তি বা শক্তির ভান্ডার যার কল্পনা স্বয়ং আল্লাহপাক ছাড়া আমাদের কারোই করার ঔদ্বত্ব নেই|
    আশাকরি আমার বলার উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছেন, আল্লাহপাক আমাদের এই ঔদ্ধত্বের জন্য ক্ষমা করবেন, এবং সঠিক পথের দিকে হেদায়েত করবেন, ইনস্‌আল্লাহ|

  2. ” আল্লাহ্‌ পাক অস্তিত্বহী্নতা থেকে শক্তি সৄষ্টি করেছেন”

    Thik e to ase. Ekhane to bujano hoini Allahpak nijei ostittohin chilen.

    Shokti bolte kono kichur ostitto chilona. Kintu allah pak sei shoktike ostitto deasen.

    Ekhane shokti bolte amader perception e shokti bolte ja bujano hoi ter kotha bola hoyeche.

    Briefly, ei universe er ostitto chilona. Kintu allah eke sristi korar maddhome ostitto deasen.

    Allah sobsomoy chilen, asen, thakben and tini sob shoktir sristikorta.

    Allah knows the best.

  3. আসসালামুওালাইকুম মেহেবুব ভাই,
    আপনি মনে হয় পোষ্টটির এই অংশটুকু ভালোমতো পড়েননি। পুনরায় পোষ্টটি পড়ুন এখানে আপনার বুঝতে একটু ভুল হয়েছে।

  4. vi, pir & ALLAHr OLY somporke jante…. Imam GAZZALI, Maulana RUMI, Muzadded ALFE SANI eder boi pora uchit…. Bole rakhi Somrat akbar jokhon DIN E ELAHI chalu korte চেয়েছিল তখন যারা হাজার হাজার ফতুয়া দেয় তারা কেও এগিয়ে আসে নায়। এগিয়ে এসেছিল মুজাদ্দেদ আলফে সানি। তিনি পীর ছিলেন। 
    আরেকটা কথা পীর যদি আসলেই খারাপ কিছু হয় তাহলে ভণ্ড পীর বলে কিছু থাকতো না। 

  5. আপনার মূল্যবান প্রবন্ধ / বইয়ের জন্য ধন্যবাদ! আল্লাহ আপনাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন. মসজিদ দারুস্সালাম, জর্জিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র. http://darussalamga.org

  6. ৩) স্রষ্টাকে সর্বত্র বিরাজমান মনে করা। Apnar likhar somy vul hote pare ……………………

  7. বরং আল্লাহ সুবহানাল্লাহু ওয়া তা’আলা অস্তিতহীনতা থেকে “শক্তি” সৃষ্টি
    করেছেন এবং তিনি তা “ধ্বংস” করার পূর্ণ ক্ষমতা রাখেন এবং তিনি তা ধ্বংস
    করে দেবেন:

    বরং আল্লাহ সুবহানাল্লাহু ওয়া তা’আলা  er pore ak ta (,) coma Dile Pathok dher bujte shubidha hobe..

    Just i think………………..

  8. আমাদের মধ্যে অনেকেরই ধারনা আল্লাহ্‌ সর্বত্র বিরাজমান। কিন্তু কথাটার মানে এই না যে আল্লাহ্‌ স্বয়ং সব ব্জায়গায় বিরাজমান। বরং কথাটা হবে, আল্লাহ্‌র ইলম
    সর্বত্র বিরাজমান, অর্থাৎ আল্লাহ্‌র দেখার ক্ষমতা, শোনার ক্ষমতা, সর্বোপরি তাঁর 
    প্রত্যেকটি  সৃষ্টির ব্যাপারে তিনি সম্যকরূপে ওয়াকিবহাল। তাঁর পবিত্র নামগুলোই তাঁর একেকটি ক্ষমতার পরিচায়ক। বস্তুত আল্লাহ্‌ তাঁর পবিত্র আরসে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই তিনি তাঁর ইলম দ্বারা সমস্ত সৃষ্টিকে ঘিরে রেখেছেন। যেমন পবিত্র কুর’আনে আল্লাহ্‌ বলেছেন-
    ১:‘ নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ্‌, যিনি আকাশ সমূহ এবং পৃথিবীকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আরশে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।’ (সূরা আরাফ-৫৪)
    ২) আল্লাহ্‌ তা’আলা আরও বলেন:
    الرحمن على العرش استوى
    অর্থ:  আল্লাহ্‌) আরশে সমুন্নত।’ (সূরা ত্বহা-৫) এ কথায় কোনই সন্দেহ নেই যে আরশ আসমান রয়েছে জমিনে নয়। কুর’আনের এই আয়াতটিই প্রমাণ করে আল্লাহ্‌ স্বয়ং আরসে অধিস্তিত এবং সেখান থেকেই তিনি তাঁর ইলম ও ক্ষমতা দ্বারা তাঁর সৃষ্টির প্রত্যেকটি ব্যপার পরিচালনা করে যাচ্ছেন। আরেকটু স্পষ্ট করে দিচ্ছি। আমরা জানি আল্লাহ্‌ পবিত্রময়। তিনি সমস্ত অপিবিত্রতা, নোংরা, ঘৃণ্য বস্তু থেকে পবিত্র। আল্লাহ্‌ স্বয়ং যদি সর্বত্র বিরাজমন হতেন তবে তিনি কি বাথরুমে আছেন? (নাউজুবিল্লাহ), যেখানে ঘৃণ্য ও খারাপ কাজ হয় সেখানে কি তিনি আছেন?(নাউজুবিল্লাহ)। এসব তাঁর পবিত্র সিফাতের বিরুদ্ধে। তিনি তাঁর সৃষ্টির প্রত্যেকটি ব্যপারের খুঁটিনাটি ও অতি সুক্ষ যাবতীয় বিষয়ও তাঁর পবিত্র মহা ক্ষমতাধর ইলম দ্বারা অবলোকন করছেন।  একটা উদাহরন দিলেই ব্যপারটা স্পষ্ট হবে। হযরত মুসা(আঃ) যখন তূর পর্বতে গিয়ে আল্লাহকে দেখার আশা ব্যক্ত করেছিলেন তখন আল্লাহ্‌ তাঁর সামান্য একটু নুর যা কিনা আল্লাহ্‌র আরসের সত্তর হাজার পর্দা অতিক্রম করে তূর পর্বতের চুড়ায় প্রকাশিত হয়েছিলো, ফলশ্রুতিতে আল্লাহ্‌র নূর সহ্য করতে না পেরে তূর পর্বত চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেলো আর মুসা (আঃ) অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন। তাহলে ভেবে দেখুন আল্লাহ্‌ পাকের সামান্য একটু নূর ই যখন পাথরের তৈরী পাহাড় সহ্য করতে পারলনা, আল্লাহ্‌র নবীও যার সামান্যতম নূর বরদাশত করতে পারল না তখন এটা কিভাবে সম্ভব যে আল্লাহ্‌ স্বয়ং সর্বত্র বিরাজমান থাকবেন? বরং আল্লাহ্‌ তা’আলা তাঁর পবিত্র আরসে অধিষ্টীতো হয়ে তাঁর ইলম দ্বারা, তাঁর সর্বময় ক্ষমতা দ্বারা, তাঁর প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে এমনভাবে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন যে আল্লাহ্‌ নিজেই পবিত্র কুর’আনে বলেছেন, অন্ধকার রাতে একটি কাল পাথরের উপরের ছোট্ট কালো পিপড়াও আল্লাহ্‌র দৃষ্টির বাইরে নয়।(সুবহানাল্লাহ)।আশা করি বুঝতে পেরেছেন। আল্লাহ্‌ আমাদের বুঝার তওফিক দিন। আমীন।      

  9. @Mehebub অস্তিত্, অস্তিত্বহী্নতা, শক্তি, কোন কিছুই আল্লাহ’তালার সমতুল্য নয়, তিনি সুউচ্চ ও মহান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here