কিভাবে আমরা এক আল্লাহ্র কাছে আত্মসমর্পণ করব
প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু
লেখকঃ রফীক আহমাদ
আত্মসমর্পণ একটি সর্বজনবিদিত ও পরিচিত শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হ’ল সম্পূর্ণরূপে অন্যের কাছে নতি স্বীকার করা। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ হ’তে আল্লাহর নিকট নিজেকে সমর্পণ করা বা উৎসর্গ করা। অবশ্য উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে যে কোন ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করা হোক না কেন, তাদের মৌলিক অর্থ ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য মোটামুটি সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে আত্মসমর্পণের প্রথম অর্থ নতি স্বীকার সম্পূর্ণরূপে পার্থিব জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে এর কার্যক্রম স্পষ্টতঃই সীমাবদ্ধ। পৃথিবীর প্রাচীন জ্ঞানী-গুণী পন্ডিতগণ তাঁদের গবেষণালব্ধ ফলাফল হ’তে আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়াকে শান্তি ও মীমাংসার প্রয়াসে আন্তর্জাতিক আইনে পরিণত করেন। এর ফলশ্রুতিতেই পৃথিবীর বুকে বিবদমান গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে পারস্পরিক রক্তক্ষয় অপেক্ষাকৃত হরাস পায় এবং সন্ধি-চুক্তির পথ সহজতর হয়। এর ফলে সাধারণত দুর্বলরা সবল বা শক্তিশালীদের অধীনস্থ থেকে কালাতিপাত করে। এমনকি কোন কোন সময় সমঝোতার অভাবে বা একে অন্যের ভুল বোঝাবুঝির এক পর্যায়ে প্রচন্ড যুদ্ধ-বিগ্রহ বেধে যায় এবং শেষ পর্যন্ত শক্তিশালী দলের নিকট দুর্বল দল আত্মসমর্পণ করে। এ প্রক্রিয়ায় দুর্বল বা অত্যাসন্ন পরাজিত দল আত্মরক্ষার মানসে বিজয়ী দলের সম্মুখে প্রকাশ্যভাবে দু’হস্ত উত্তোলনপূর্বক সর্বান্তকরণে আত্মসমর্পণ করে। ফলে সঙ্গে সঙ্গে চরম উত্তেজনার বিশাল রণক্ষেত্রে শান্তির ছায়া নেমে আসে। এতদসঙ্গে স্তব্ধ হয় শত্রুতার যাবতীয় কলা-কৌশল ও প্রতিহিংসার নির্মম ছোবল। শান্তির প্রয়াসে শুরু হয়ে যায় মানবিক আচরণবিধির প্রয়োগ ও তার উত্তম বাস্তবায়ন।
Page 1 of 13 | Next page
