হারাম খাবার যে জন্য নিষিদ্ধ


প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না

রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

Dinner
লেখক: আখতারুজ্জামান মুহাম্মদ সুলাইমান | সম্পাদক: আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার, তার নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করি, তার নিকট ক্ষমা চাই, আমাদের অন্তরের অনিষ্ট এবং মন্দ আমল থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ তাআলা যাকে হেদায়েত দেবেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারবে না। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করবেন সে কাউকে তার সাহায্যকারী ও পথপ্রদর্শক হিসেবে পাবে না।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ এক, তার কোন শরিক নেই। এবং কথারও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহর দয়া ও অধিক পরিমাণ সালাম তার উপর এবং তার পরিবারবর্গ ও সাহাবাদের উপর বর্ষিত হউক।

হে মুসলমানেরা!

আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিকে সৃষ্টি করেছেন যাতে তারা একমাত্র তারই ইবাদত করে, এবং তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আল্লাহ তাআলা যা রিযক দিয়েছেন তার মধ্য থেকে হালাল ভক্ষণ করে, অপবিত্র এবং হারাম থেকে বেচেঁ থাকে, আল্লাহ তাআলা বলেন:

الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِندَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ يَأْمُرُهُم بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ سورة الأعراف: 157.

“যারা অনুসরণ করে রাসূলের, যে উম্মী নবী, যার গুণাবলী তারা নিজদের কাছে তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়, যে তাদেরকে সৎ কাজের আদেশ দেয় ও বারণ করে অসৎ কাজ থেকে এবং তাদের জন্য পবিত্র বস্তু হালাল করে আর অপবিত্র বস্তু হারাম করে।” [সূরা আল আরাফ ১৫৭ আয়াত ]

হে আল্লাহর বান্দারা!

প্রত্যেক মুসলমানের উপর হালাল উপার্জন করা ওয়াজিব যদিও তা কষ্টকর হয়। বাস্তবে হালাল উপার্জন কঠিন কাজ নয়। কিন্তু দিন থেকে আমরা দুরে থাকার কারণে এবং বস্তুগত মাধ্যমের প্রতি বেশী আকৃষ্ট হয়ে পড়ার কারণে এবং নীতিবোধ উঠে যাওয়ার কারণে কঠিন মনে হয়। মানুষের চিন্তা চেতনায় পরিবর্তন আসার কারণে অনেক মানুষ হারামের দিকে পতিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের হালাল চিনতে অসুবিধা হচ্ছে, তারা মনে করছে এখন হালাল হারিয়ে গেছে। হালাল খুজে পাওয়া সম্ভব নয়। হারামের দিকে রাস্তা ধরা ছাড়া আর কোন রাস্তা নেই।  আর যিনি আমাদেরকে সত্য দিন এর উপর রেখে গেছেন তিনি বলেছেন:

” إن الحلال بيِّن، وإن الحرام بيِّن، وبينهما أمور مشتبهات لا يعلمهن كثير من الناس، فمن اتقى الشبهات فقد استبرأ لدينه وعرضه، ومن وقع في الشبهات وقع في الحرام، كالراعي يرعى حول الحمى يوشك أن يرتع فيه، ألا وإن لكل ملكٍ حمى، ألا وإن حمى الله محارمه، ألا وإن في الجسد مضغة.. الحديث “1.

নিশ্চয় হালাল স্পষ্ট এবং হারাম স্পষ্ট এদুটির মাঝখানে সন্দেহযুক্ত বিষয় আছে অনেক লোক তা জানে না। যে সন্দেহযুক্ত জিনিস থেকে বেঁচে থাকবে সে তার দিন এবং সম্মানকে ত্রুটি মুক্ত রাখল। আর যে সন্দেহযুক্ত জিনিসের মধ্যে পতিত হল সে হারামের মধ্যে পতিত হল। ঐ রাখালের ন্যায় যে সংরক্ষিত এলাকার নিকট চারণ করে আশংকা আছে তার মধ্যে ঢুকে পড়ার। সাবধান! প্রত্যেক বাদশার একটি সংরক্ষিত এলাকা আছে, জেনে রাখ‍! আল্লাহ  তাআলার সংরক্ষিত এলাকা হল তার হারাম করা বিষয়, জেনে রাখ! শরীরের মধ্যে একটি মাংসপিন্ড আছে। [ বুখারি, মুসলিম, আন নবাবি ৪০ হাদিস, হাদিস নং ৬ ]

যে ব্যক্তি দিন রক্ষার ব্যাপারে যত্নবান তার নিকট যদি কোন বিষয় হারাম হালাল হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ হয় তবে না জানা থাকলে জ্ঞানীলোকদের থেকে জেনে নেবে যেমন আল্লাহ তাআলা নির্দেশ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:

فَاسْأَلُواْ أَهْلَ الذِّكْرِ إِن كُنتُمْ لاَ تَعْلَمُونَ سورة النحل: 43.

“সুতরাং জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা কর, যদি তোমরা না জান।” [ সূরা আন-নাহল ৪৩ আয়াত ]

ঐ সকল লেন-দেন যা শরীয়ত ভিত্তিক নয় এবং তা স্পষ্ট তবে তা অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ ভক্ষণ করার পর্যায়ে পড়ে যাকে আল্লাহ তাআলা তা হারাম এবং নিষিদ্ধ করেছেন। মানুষ আজকাল হারাম উপার্জনের ব্যাপারে অনেক বেশি উদাসীন হয়ে গেছে: শ্রমিক তার কাজ সঠিকভাবে করে না। আবার অনেক সময় মালিক পক্ষ কাজের পারিশ্রমিক দেয় না। দায়িত্বরত কর্মকর্তা তার কর্ম সঠিকভাবে পালন করে না। ব্যবসায়ী তার দ্রব্যের মধ্যে ভেজাল দেয়। সুদী কারবারী সাহসী হয়ে উঠে। তারা মানুষের ক্ষতি করে এমন জিনিসের ব্যবসা করে এমনকি অনেক ব্যবসায়ের বস্তু মানুষের জীবন ধংস করে দেয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হল সেই ব্যক্তি যে হেদায়েতের রাস্তা ছেড়ে দিয়ে শয়তানের সাথে আপোস করল।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থাতো এই ছিল ঘরের কোনে একটি খেজুর তার বিছানায় পড়ে পেলেন সেটি উঠালেন খাওয়ার জন্য অত:পর আশঙ্কা করলেন এটি সাদকাহওতো হতে পারে, পরে ফেলে দিলেন। ইমাম বুখারি রহ: আবু হুরাইরাহ রা. থেকে বর্ণনা করেছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

 ” إني لأنقلب إلى أهلي فأجد التمرة ساقطة على فراشي فأرفعها لآكلها، ثم أخشى أن تكون صدقة فألقيها “،

“আমি আমার পরিবারের নিকট গেলাম আমার বিছানায় খেজুর পড়ে থাকা অবস্থায় পেলাম আমি সেটি খাওয়ার জন্য উঠালাম অত:পর ভয় হল তাতো সাদাকাহ হতে পারে তাই ফেলে দিলাম।” [ মুসলিম ১৭৮০ ]

  তার সাহাবীরাও হারাম থেকে এমন ভয়ে থাকতেন। দেখুন না আবু বকর সিদ্দিক রা. এর অবস্থা তার একটি কৃত দাস ছিল যে তার ট্যাক্স আদায় করত, আবু বকর রা. ট্যাক্সের পয়সায় তার সংসার চলত, সে একদিন তার জন্য একটা জিনিস আনল আবু বকর রা. তার থেকে খেলেন। কৃতদাসটি তাকে বলল এটা কি তা আপনি জানেন? তিনি প্রশ্ন করলেন এটা কি? সে বলল: আমি ইসলাম পূর্বযুগে এক ব্যক্তির রাশিফল গণনা করেছিলাম। আর এ রাশিফল গণনা করতে আমি তার সাথে ধোকাবাজী করতাম। তার সাথে আজ আমার সাক্ষাত হওয়ার পর সে আমাকে ঐ জিনিস দিয়েছিল। তার থেকেই আপনি খেয়েছেন, আবু বকর রা. মুখের ভিতর হাত দিলেন এবং পেটের ভিতর যা ছিল সব বমি করে দিলেন।

(আবু বকর রা. এর ঘটনা ইমাম বুখারি রহ. মানাকেব অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন।)
কায়াব বিন আজরা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন যে রাসূল সা. আমাকে বললেন:

: أعيذك بالله يا كعب بن عجرة من أمراء يكونون من بعدي فمن غشي أبوابهم فصدقهم في كذبهم وأعانهم على ظلمهم فليس مني ولست منه ولا يرد علي الحوض ومن غشي أبوابهم أو لم يغش فلم يصدقهم في كذبهم ولم يعنهم على ظلمهم فهو مني وأنا منه وسيرد علي الحوض يا كعب بن عجرة الصلاة برهان والصوم جنة حصينة والصدقة تطفئ الخطيئة كما يطفئ الماء النار يا كعب بن عجرة إنه لا يربو لحم نبت من سحت إلا كانت النار أولى به” رواه الترمذي وقال: هذا حديث حسن غريب وصححه الألباني 614

“হে কাআব বিন আজরা! আমি আল্লাহ তাআলার নিকট তোমার জন্য ঐ সমস্ত শাসক থেকে আশ্রয় পার্থনা করছি যারা আমার পরে আসবে। যে ব্যক্তি তাদের দরবারে যাবে তাদের মিথ্যাকে সত্য বলে সত্যায়ন করবে। তাদের অত্যাচারে সাহায্য করবে সে আমার সাথে নয়। আমিও তার সাথে নই। সে হাউজে আসতে পারবে না। আর যে তাদের দরবারে গেল অথবা না গেল, তাদের মিথ্যাকে সত্য বলে সত্যায়ন করল না। তাদের অত্যাচারে সাহায্য করল না। সে আমার সাথে আমিও তার সাথে এবং সে হাউজের কাছে আমার সাথে সাক্ষাত করবে। হে কাআব ইবনে আজরা নামাজ হল দলিল-প্রমাণ। সিয়াম হল শক্ত ঢাল। দান সদকা গোনাহকে তেমনই মিটিয়ে দেয় যেমন পানি আগুনকে মিটিয়ে দেয়। হে কাআব ইবনে আজরা! ঐ মাংশ বৃদ্ধি পায় না যা হারাম দ্বারা তৈরী হয়। বরং জাহান্নাম এর থেকে উত্তম।” [ তিরমিজি হাদিসটি বর্ণনা করে বলেছেন হাদিসটি হাসান এবং গরিব আলবানি হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন ৬১৪ ]

আবু বকর রা. বললেন: হে বৎস! তোমার ধংস হোক। তুমি আমাকে ধংসের দার প্রান্তে নিয়ে গিয়েছিলে। আমি ভয় পেয়েছিলাম এই হারাম মালের দ্বারা আমার গোস্তের বৃদ্ধি ঘটবে যদি এমন হয়ে যেত তাহলে আমার কি হত? আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:

: ” إنه لا يربو لحم نبت من سحت إلا كانت النار أولى به”3.

ঘুষের মাধ্যমে যে গোস্ত তৈরী হয় তা বৃদ্ধি পায় না বরং তা আগুনের জন্য বেশি উপযুক্ত। [ তিরমিযি, ভ্রমন অধ্যায় كتاب الصلاة]    

আয়েশা রা. বলেন: তোমরা সবাই উত্তম ইবাদত থেকে অমনোযগী হয়ে আছো আর তা হল : খোদাভীরু হয়ে চলা। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন: তোমরা যদি নামায পড়তে পড়তে ধনুকের মত বাঁকা হয়ে যাও। আর রোযা রাখতে রাখতে তারের মত কঙ্কাল হয়ে যাও তোমাদের পক্ষ থেকে তা অতক্ষণ পর্যন্ত কবুল হবে না যতক্ষণ না তোমরা খোদাভীরু হয়ে তা পালন  না করবা।

উমর ফারুক রা. বলেন: আমরা হালাল উশরের এক নবম অংশ এই ভয়ে নিতাম না যদি আমরা হারামের মধ্যে পড়ে যাই। পূর্বসুরীদের অবস্থা তো এমন পর্যায়ে পৌছেঁছিল কোন ওয়ায়েজ মানুষের উদ্দেশ্যে ওয়াজ করতে চাইলে তার মধ্যে তিনটি বিষয় খুজেঁ দেখতে বলতেন: যদি সে বিদআতের আকিদা পোষণ করে তবে সে শয়তানের ভাষায় কথা বলবে তার ওয়াজে বসবে না। আর যদি হারাম ভক্ষণ করে তবে সে প্রবৃত্তি অনুযায়ি কথা বলবে। আর যদি তার বুদ্ধি কম থাকে তবে সংশোধন করার চেয়ে অধিক পরিমাণে পথভ্রষ্ট করবে তার কাছে বসবে না।

ইয়াহইয়া ইবনে মুআজ রা. বলেন: আনুগত্য আল্লাহর ভান্ডারের মধ্য থেকে একটি ভান্ডার তার চাবি হল দুআ। কিন্তু হালাল খাদ্য তা নষ্ট হয়ে যাওয়া রোধ করে।

সবচেয়ে বিপদ জনক বিষয় হল মানুষ দুনিয়ার দিকে ঝাপিয়ে পড়েছে আর দুনিয়া উপার্জন করছে যে কোন পন্থায় হালাল হারাম বাঁচ বিচার করছে না। তাদের চিন্তা একটাই সম্পদ কিভাবে হাতে আসবে এটা দেখছে না তা হারাম না হালাল? কিভাবে ধনী হতে পারবে সেটাই চিন্তা করে সারা জীবন। এ কারনে অনেকে হিদায়েতের রাস্তা থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

 أَفَمَن يَمْشِي مُكِبًّا عَلَى وَجْهِهِ أَهْدَى أَمَّن يَمْشِي سَوِيًّا عَلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ سورة الملك: 22.

যে ব্যক্তি উপুড় হয়ে মুখের উপর ভর দিয়ে চলে সে কি অধিক হিদায়াতপ্রাপ্ত নাকি সেই ব্যক্তি, যে সোজা হয়ে সরল পথে চলে? [ সূরা আল মুলক ২২ আয়াত ]

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

” إن الله قسم بينكم أخلاقكم كما قسم بينكم أرزاقكم، وإن الله يعطي الدنيا من يحب ومن لا يحب، ولا يعطي الدين إلا من يحب، فمن أعطاه الله الدين فقد أحبه. والذي نفسي بيده لا يُسلم عبد حتى يسلم قلبه ولسانه، ولا يؤمن حتى يأمَن جاره بوائقه ” قالوا: وما بوائقه يا نبي الله؟ قال: ” غشمه وظلمه، ولا يكسب عبد مالاً من حرام فينفق منه فيبارك له فيه، ولا يتصدّق به فيقبل منه، ولا يتركه خلف ظهره إلا كان زاده إلى النار، إن الله لا يمحو السيئ بالسيئ، ولكن يمحو السيئ بالحسن، إن الخبيث لا يمحو الخبيث ” أخرجه الإمام أحمد في المسند وإسناده ضعيف.

অল্লাহ তাআলা তোমাদের মধ্যে তোমাদের চরিত্রকে বন্টন করেছেন যেমন তোমাদের রিযক তোমাদের মধ্যে বন্টন করেছেন। আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার সম্পদ দান করেন যাকে ভালবাসেন এবং যাকে ভাল না বাসেন তাকেও। আর দ্বীন দান করেন যাকে তিনি ভালবাসেন শুধু তাকে। যার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ কোন ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত মুসলমান হতে পারবে না, যতক্ষণ না তার অন্তর এবং জিহবা মুসলমান হবে। আর ততক্ষণ মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ তার প্রতিবেশি তার বাওয়ায়েক থেকে নিরাপদে থাকবে। সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন বাওয়ায়েক কি জিনিস হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: তার যুলুম অত্যাচার। আর এটা কখনো হবে না, যে কেহ হারাম উপার্জন করবে তার থেকে খরচ করবে আর আল্লাহ তাতে বরকত দেবেন এবং তার থেকে দান করবেন আর আল্লাহ সে দান কবুল করবেন। আর সে তার থেকে যা কিছু রেখে যাবে তা তার আগুনের দিকে নিয়ে যাওয়ার বস্তু হবে। আল্লাহ তাআলা খারাপ দ্বারা খারাপের প্রতিকার করেন না। কিন্তু ভাল দ্বারা খারাপ মিটিয়ে দেন। খারা কখনও খারাপ-কে মিটাতে পারে না। [ আহমাদ হাদিসের সনদটিতে দুর্বলতা রয়েছে  ] 

বুখারি মুসলিমে এসেছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

” إن أكثر ما أخاف عليكم ما يخرج الله لكم من بركات الأرض ” قيل: وما بركات الأرض؟ قال: ” زهرة الدنيا “، ثم قال: ” إن هذا المال خضرة حلوة، من أخذه بحقه ووضعه في حقه فنعم المعونة هو، وإن أخذه بغير حقه كان كالذي يأكل ولا يشبع، ويكون عليه شهيدًا يوم القيامة “.

তোমাদের জন্য আমি সবচেয়ে যে বিষয়টির বেশী ভয় করি তা হল আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য যে বারাকতুল আরদ বের করবেন। প্রশ্ন করা হল, বারাকাতে আরদ কি জিনিস? তিনি বললেন: দুনিয়ার চাকচিক্য। অতপর বললেন: এই মাল সম্পদ সবুজ এবং মিষ্ট। এই মালের অধিকারসহ যে গ্রহণ করবে এবং জায়গামত তা ব্যয় করবে, সে এর মাধ্যমে সে উত্তম সাহায্য পাবে। আর যদি অন্যায় ভাবে সম্পদ গ্রহণ করে, তাহলে তার দৃষ্টান্ত সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে খাদ্য গ্রহণ করে কিস্তু তৃপ্ত হয় না। আর ঐ সম্পদ কিয়ামতের দিন তার বিপক্ষে সাক্ষী হবে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথার সত্যতা প্রমাণের জন্য অনেক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। আমরা দেখতে পাই, যে ব্যক্তি হারাম পন্থায় সম্পদ উপার্জন করে লোভ লালসা তার মনের মধ্যে অনেক বেশি বাসা বাধেঁ। সে মনে কখনও শান্তি পায় না। সব সময় কৃপণতা করে। তাদের হাত ভর্তি কিন্তু মন খালি। মানুষ তাদের সম্পর্কে বলে: ধনীরা গরিবদের সম্পদের প্রতি বেশি লোভাতুর হয়। কেননা হাদিসের ভাষা অনুযায়ী তারা হল এমন যে, খাবার গ্রহণ করে তবে তাদের পেট ভরে না। আর যে সুদের কারবারের মধ্যে পড়ে যায়, সে তার থেকে তওবা করে না। ফলে সুদ গ্রহণ করা থেকে তার মধ্যে অনুশোচনা আসে না। আর যে ব্যক্তি মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে, অন্যায় কাজ তার জন্য সুন্দর করে দেখানো হয়। সে নিজে সেটিকে ভাল মনে করে। ফলে কোন বাহানা বা ষড়যন্ত্র করতে ত্রুটি করে না। আমরা দেখতে পাই তাদেরকে যারা মানুষের সাথে ধোকাবাজি করে মিথ্যার আশ্রয় নেয়, অথবা শুনতে পাই তাদের সম্পর্কে যারা কোন কাজ করে দিয়ে তার পরিবর্তে ঘুষ নেয়  অথবা জমির দালালি করে পয়সা নেয় তাদের এই হারাম উপায়ে অর্জন করতে অন্তর কাপে না। তারা মানুষের ন্যায্য অধিকার দিতে কার্পণ্য করে শ্রমিকের মজুরি ঠিকমত দেয় না। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর রব বলে ঈমান এনেছে। মুহাম্মাদ-কে নবী বলে মেনে নিয়েছে। ইসলাম-কে দ্বীন বলে স্বীকৃতি দিয়েছে তার পক্ষে এমন করা কিভাবে সম্ভব? সে কি করে হারাম খেতে পারে? সে তো জানে যে এর পরিণতি কি হবে আখেরাতে? দুনিয়াতেও এর শাস্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হারাম উপায়ে মাল সম্পদ উপার্জনে কিভাবে রাজি হতে পারে সে? সে তার দ্বীনকে সামান্য অর্থের বিনিময়ে কিভাবে বিক্রি করে দিতে পারে? এদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:

أُولَئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُاْ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا بِالآَخِرَةِ فَلاَ يُخَفَّفُ عَنْهُمُ الْعَذَابُ وَلاَ هُمْ يُنصَرُونَ سورة البقرة: 86.

“তারা আখিরাতের বিনিময়ে দুনিয়ার জীবনকে খরিদ করেছে। সুতরাং তাদের থেকে আযাব হালকা করা হবে না এবং তারা সাহায্য প্রাপ্তও হবে না।” [ সূরা বাকারা ৮৬ ]

সবশেষে এই দুআ করি যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছেন:

اللهم اكفنا بحلالك عن حرامك، وبطاعتك عن معصيتك، و وأغننا بفضلك عمن سواك.

হে আল্লাহ! হারাম থেকে বাঁচিয়ে হালাল আমাদের জন্য যথেষ্ট করে দিন। গোনাহ থেকে বাঁচিয়ে আনুগত্য যথেষ্ট করে দিন। আপনি অনুগ্রহ করে আমাদের মুখাপেক্ষীহীন করে দিন।

সমাপ্ত

 


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

আরও পড়তে পারেন

কিছু প্রশ্ন? উত্তর আছে আপনার কাছে?

Download article as PDF প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার …

ফজরের সালাতের জন্য জেগে উঠার কিছু কার্যকরী কৌশল

Download article as PDF প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার …

পাঠকের মন্তব্য

Loading Facebook Comments ...

Comments

  1. Shahid-ur Rahman

    salam admin, do you have english translation of this article? Thanks

  2. Amader iman k allah aro mojbut kore dek amin…..

  3. Shahid-ur Rahman

    Thank you so much Ahmed bhai.

  4. right

  5. right

  6. I like this Kalamullah.

  7. I love Allah

  8. Mohammad Abul Hossain Ripon

    Muslims baia ra add den……

  9. ধন্যবাদ।

  10. আমীন

  11. Right

আপনার মন্তব্য লিখুন