জিনের জগৎ


প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না

রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

119

কিছু লোক জিন এর বাস্তবতা অস্বীকার করার চেষ্টা করেছে। জিনের সম্বন্ধে কোরআনে একটি সম্পুর্ণ সূরা,সূরা আল্-জিন (৭২নং সূরা) অবর্তীর্ণ হয়েছে।

ক্রিয়াপদ জান্না,ইয়াজুন্নুঃ – যে গুলির অর্থ অন্তরালে রাখা,আত্মগোপন করা অথবা ছদ্মবেশে পরানো ইত্যাদি হতে প্রাপ্ত জিন শব্দের আক্ষরিক অর্থের উপর নির্ভর করে তারা দাবি করে যে জিন হচ্ছে আসলে “চতুর বিদেশী”। অন্যেরা এমনও দাবী করে যে,যাদের মগজে কোন মন নেই এবং স্বভাবে অগ্নি প্রকৃতির তারাই জিন। প্রকৃতপক্ষে জিন আল্লাহর অপর একটি সৃষ্টি যারা এই পৃথিবীতে মানুষের সঙ্গে সহ-অবস্থান করে। আল্লাহ মানবজাতি সৃষ্টির পূর্বে জিন সৃষ্টি করেন এবং তিনি মানুষ সৃষ্টির উপাদান হতে ভিন্নতর উপদানের সমষ্টি দিয়ে জিন সৃষ্টি করেছেন।

আল্লাহ বলেনঃ

 “আমি তো মানুষ সৃষ্টি করিয়াছি ছাঁচে-ঢালা শুষ্ক ঠনঠনে মৃত্তিকা হইতে। এবং ইহার পূর্বে সৃষ্টি করিয়াছি জিন অত্যুষ্ণ বায়ুর উত্তাপ হইতে।” [সূরা আল্-হিজর ১৫:২৬,২৭]

তাদের জিন নামকরণ করা হয়েছে কারণ তারা মানব জাতির চোখের অন্তরালে রয়েছে। ইবলিশ (শয়তান) জিন জগতের,যদিও আল্লাহ যখন আদমকে সিজদা করার হুকুম দিয়েছিলেন তখন সে ফেরেশতাদের মধ্যে অবস্থান করছিল। যখন সে সিজদাহ করতে অসম্মত হল এবং তাকে তার অবাধ্যতার কারণ জিজ্ঞেস করা হল। যে সম্পর্কে আল্লাহ বলেনঃ

 ”সে বললঃ আমি তার চেয়ে উত্তম আপনি আমাকে আগুনের দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা।” [ সূরা সাদ ৩৮:৭৬ ] 

আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা দেন যে রাসূল (সঃ) বলেছেন,

 “ফেরেশতাদের আলো হতে সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং জিনদের ধুম্রবিহীনঅগ্নি হতে।” [মুসলিম কর্তৃক সংগৃহীত Sahih Muslim, enlgish trans, vol. 4 p.1540 , no. 7134] 

আল্লাহ আরও বলেনঃ

“এবং স্মরণ কর,আমি যখন ফেরেশতাগণকে বলিয়াছিলাম আদমের প্রতি সিজদা কর,তখন সকলেই সিজদা করিল ইবলীস ব্যতীত,সে জিনদিগের একজন।” [সূরা আল্-কাহ্ফ ১৮:৫০] 

সুতরাং তাকে প্রত্যাখ্যাত ফেরেশতা অথবা ফেরেশতাদের একজন মনে করা ভুল হবে।

জিনদের অস্তিত্বের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণতঃ তাদেরকে

তিন শ্রেণীর ভাগ করা যেতে পারে ।

রাসুল (সঃ) বলেন,

 “তিন রকম জিন আছেঃ এক রকম যারা সারাক্ষণ আকাশে উড়ে,

অন্য আর এক রকম যারা সাপ এবং কুকুর হিসাবে বিদ্যমান এবং পৃথিবীর উপর বসবাসকারী

আর এক রকম যারা একস্থানে বাস করে অথবা উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ায়।” [আত্ তাবারী এবং আল্-হাকিম কর্তৃক সংগৃহিত] 

বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে জিনদের আবার

দুই শ্রেণীতে বিভক্ত করা যায়ঃ

মুসলিম (বিশ্বাসীগণ) এবং কাফির (অবিশ্বাসীগণ)।

আল্লাহ সূরা আল-জিন এ বিশ্বাসী জিনদের সম্বন্ধে বলেনঃ

“বল,আমার প্রতি প্রেরিত হইয়াছে যে,জিনদিগের একটি দল মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করিয়াছে এবং বলিয়াছে,আমারাতো এক বিস্ময়কর কুরআন শ্রবন করিয়াছি। যাহা সঠিক পথ -নির্দেশ করে;ফলে আমরা ইহাতে বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছি। আমরা কখনও আমাদিগের প্রতিপালকের কোন শরীক স্থির করিব না এবং নিশ্চয়ই সমুচ্চ আমাদিগের প্রতিপালকের মর্যাদা, তিনি গ্রহণ করেন নাই কোন পত্মী এবং না কোন সন্তান। এবং যে আমাদিগের মধ্যকার নির্বোধরা আল্লাহর সম্বন্ধে অতি অবাস্তব উক্তি করিত।” [ সুরা আল্-জিন ৭২:১-৪ ] 

 “আমাদিগের কতক আত্মসমর্পণকারী এবং কতক সীমালংঘনকারী;যাহারা আত্মসমর্পণ করে তাহারা সুচিন্তিতভাবে সত্য পথ বাছিয়ে লয়। অপরপক্ষে,সীমালংঘনকারী তো জাহান্নামেরই ইন্ধন।” [সুরা আল্-জিন ৭২:১৪-১৫] 

জিনদের মধ্যে অবিশ্বাসীদের বিভিন্ন নামে উল্লেখ করা হয়ঃ

ইফরিত্, শয়তান, ক্বারিন, অপদেবতা, অশুভ আত্মা, আত্মা, ভুতপ্রেত ইত্যাদি। তারা বিভিন্নভাবে মানুষকে ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা করে। যারাই তাদের কথা শুনে এবং তাদের জন্য কাজ করে তাদেরকেই মানব শয়তান বলে উল্লেখ করা হয়।

আল্লাহ বলেছেনঃ

“এইরূপে মানব ও জিনের মধ্যে শয়তানদিগকে প্রত্যেক নবীর শত্রু করিয়াছি।” [সুরা-আল্-আন্’আম ৬:১১২] 

প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে স্বতন্ত্র একজন করে জিন রয়েছে যাকে ক্বারিন (সঙ্গী) বলা হয়। এটা মানুষের এই জীবনের পরীক্ষার অংশ বিশেষ। জিনটি তাকে সর্বদা অবমাননাকর কামনা-বাসনায় উৎসাহিত করে এবং সার্বক্ষণিকভাবে তাকে ন্যায়-নিষ্ঠা হতে অন্য দিকে সরিয়ে নেবার চেষ্টা করে।

রাসুল (সঃ) এই সম্পর্ককে এভাবে বর্ণনা দিয়েছেন,

 “তোমাদের প্রত্যেককে জিনদের মধ্য হতে একজন সঙ্গী দেয়া হয়েছে।” সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন, “এমনকি আপনাকেও ইয়া আল্লাহর রাসুল (সঃ)? তিনি বলেনঃ এখন সে আমাকে শুধু ভাল করতে বলে।” [মুসলিম কর্তৃক সংগৃহীত Sahih MusliM, enlgishtrans, vol. 4 p.1540 , no. 7134] 

“সুলায়মানের সম্মুখে সমবেত করা হইল তাহার বাহিনীকে-জিন,মানুষ ও বিহংগকুলকে এবং উহাদিগকে বিন্যস্ত করা হইল বিভিন্ন ব্যূহে।” [সুরা আন-নামল ২৭:১৭] 

কিন্তু অন্য কাউকে এই ক্ষমতা প্রদান করা হয় নাই। অন্য কাউকে জিন নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা দেয়া হয়নি এবং কেউ পারেও না। রাসুল (সঃ) বলেছেন,

 “যথার্থই গত রাতে জিনদের মধ্যে হতে একজন ইফরিত (একটি বলিষ্ঠ অথবা খারাপ জিন)” আমার সালাত ভেঙ্গে দেবার জন্য থু থু নিক্ষেপ করেছিল। যাহোক আল্লাহ তাকে পরাভূত করতে আমাকে সাহায্য করেন এবং যাতে তোমরা সকালে তাকে দেখতে পারো সে জন্য তাকে আমি মসজিদের একটি স্তম্ভের সঙ্গে বেঁধে রাখতে চেয়েছিলাম। অতঃপর আমার ভ্রাতা সোলাইমানের দোয়া মনে পড়লঃ “হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা কর এবং আমাকে দান কর এমন এক রাজ্য যাহার অধিকারী আমি ছাড়া কেহ না হয়।” [সুরা সাদ ৩৮:৩৫] 

মানুষ জিনকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম নয় কারণ এই বিশেষ অলৌকিক ক্ষমতা শুধু পয়গম্বর সোলায়মানকে দেয়া হয়েছিল।প্রকৃতপক্ষে, আছর অথবা ঘটনাক্রম ছাড়া জিনদের সাথে যোগাযোগ হওয়া বেশীর ভাগ সময়ই নিষিদ্ধ বা ধর্মদ্রোহী কাজের মাধ্যমেই হয়। [আবু আমিনাহ বিলাল ফিলিপস্ এর Ibn taymeeyah`s Essay on the Jinn:: রিয়াদ তৌহিদ প্রকাশনী,১৯৮৯,পৃ.২১]

এভাবে তলব করে আনা দুষ্ট জিন তাদের সঙ্গীদের গুনাহ করতে এবং স্রষ্টাকে অবিশ্বাস করতে সাহায্য করতে পারে। তাদের লক্ষ্য হল স্রষ্টা ছাড়া অথবা স্রষ্টার পাশাপাশি অন্যকে উপাসনা করার মত গুরুতর গুনাহ করতে যত বেশী জনকে পারা যায় তত জনকে আকৃষ্ট করে। একবার গণকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং চুক্তি হয়ে গেলে, জিন ভবিষ্যতের সামান্য কিছ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা জানাতে পারে।

রাসুল (সাঃ) বর্ণনা দিয়েছেন জিনরা কিভাবে ভবিষ্যত সম্বন্ধে সংবাদ সংগ্রহ করে। তিনি বর্ণনা দেন যে,

 

জিনরা প্রথম আসমানের উপর অংশ পর্যন্ত ভ্রমণ করত এবং ভবিষ্যতের উপর কিছু তথ্যাদি যা ফিরিশতারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত তা শুনতে সক্ষম হত। তারপর তারা পৃথিবীতে ফিরে এসে তাদের পরিচিত মানুষের কাছে ঐ তথ্যগুলি পরিবেশন করত।আল্-বুখারী এবং মুসলিম কতৃর্ ক সংগৃহীত। [ Sahih Muslim, Englishtrans, vol.4, p.1210, no, 5538] 

মুহাম্মদ (সাঃ) এর নবুওত প্রাপ্তির পূর্ব পর্যন্ত এই ধরণের বহু ঘটনা সংঘটিত হত। এবং গণকরা তাদের তথ্য প্রদানে নির্ভূল ছিল। তারা রাজকীয় আদালতে আসন লাভ করতে সক্ষম হয়েছিল এবং প্রচুর জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।এমনকি পৃথিবীর কিছু অঞ্চলে তাদের পুজাও করা হত।

রাসুল (সাঃ) কর্তৃক ধর্ম প্রচার শুরু করার পর হতে অবস্থার পরিবর্তন হয়। আল্লাহ ফিরিশতাদের দিয়ে আসমানের নীচের এলাকা সতর্কতার সঙ্গে পাহাড়া দেবার ব্যবস্থা করলেন। তারপর হতে বেশীরভাগ জিনদের উল্কা এবং ধাবমান নক্ষত্ররাজি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়া হত। আল্লাহ এই বিস্ময়কর ঘটনা কোরআনের ভাষায় বর্ণনা করেছ্নেঃ

 “এবং আমরা চাহিয়াছিলাম আকাশের তথ্য সংগ্রহ করিতে কিন্তু আমরা দেখিতে পাইলাম কঠোর প্রহরী ও উল্কা পিন্ড দ্বারা আকাশ পরিপূর্ণ ;আর পূর্বে আমরা আকাশের বিভিন্ন ঘাটিতে সংবাদ শুনিবার জন্য বসিতাম কিন্ত এখন কেহ সংবাদ শুনিতে চাহিলে সে তাহার উপর নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুত জলন্ত উল্কা পিন্ডের সম্মুখীন হয়।” [সূরা আল-জ্বিন ৭২:৮-৯] 

আল্লাহ আরও বলেনঃ

 “প্রত্যেক অভিশপ্ত শয়তান হইতে আমি উহাকে রক্ষা করিয়া থাকি; আর কেহ চুরি করিয়া সংবাদ শুনিতে চাহিলে উহার পশ্চাদ্ধাবন করে প্রদীপ্ত শিখা।” [সূরা আল হিজর ১৫:১৭-১৮] 

ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন,

 “যখন রাসুল (সাঃ) এবং তাঁর একদল সাহাবা উকাধ বাজারের দিকে রওয়ানা হলেন, তখন শয়তানদের ঐশী খবরাখবর শোনায় বাধা প্রদান করা হল। উল্কাপিন্ড তাদের উপর ছেড়ে দেয়া হল। ফলে তারা তাদের লোকদের কাছে ফিরে এল। যখন তাদের লোকরা জিজ্ঞাসা করল কি হয়েছিল, তারা তাদের জানালো। কেউ কেউ পরামর্শ দিল যে নিশ্চয়ই কিছু ঘটেছে, কাজেই তারা কারণ খুজে বের করার জন্য পৃথিবীর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। তাদের কয়েকজন রাসুল (সাঃ) এবং তাঁর সাহাবাগণের সালাত রত অবস্থা দেখতে পেল এবং তারা তাদের কোরআন পড়া শুনলো। তারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করল যে নিশ্চয় এটাই তাদের শোনায় বাধা প্রদান করেছিল। যখন তারা তাদের লোকদের মধ্যে ফিরে গেল তখন তারা বলল, “আমরা তো এক বিস্ময়কর কোরআন শ্রবণ করিয়াছি। যাহা সঠিক পথ নির্দেশ করে, ফলে আমরা ইহাতে বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছি। আমরা কখনও আমাদিগের প্রতিপালকের কোন শরীক স্থির করিব না।” [সুরা আল জিন ৭২:১-২] [ আল্-বুখারী, মুসলিম, আত্ তিরমিজী এবং আহমদ কর্তৃক সংগৃহীত।Sahih Al-Bukhari, Arabic-English, vol.6, pp.415-6.no.443 and Sahih Muslim, English trans, vol.1, pp.243-44, no, 908] 

এইভাবে রাসূল (সাঃ) কর্তৃক ধর্ম প্রচারের পূর্বে জিনরা যেভাবে সহজে ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে খবরাখবর সংগ্রহ করত তা আর আর পারেনি। ঐ কারণে তারা এখন তাদের খবরাখবরের সঙ্গে অনেক মিথ্যা মিশ্রিত করে।

রাসুল (সাঃ) বলেন,

 “জাদুকর অথবা গনকের মুখে না পৌছান পর্যন্ত তারা (জিনরা) খবরাখবর নীচে ফেরত পাঠাতে থাকবে। কখনও কখনও তারা খবর চালান করার আগেই একটি উল্কা পিন্ড তাদের আঘাত প্রাপ্ত করার পূর্বে পাঠাতে পারলে এর সঙ্গে তারা একশটা মিথ্যা যোগ করবে। [আল্-বুখারী, মুসলিম এবং আত্ তিরমিজী কর্তৃক সংগৃহীত। Sahih Al-Bukhari, Arabic-English, vol.8, p.150 , no.232] 

আয়শা (রাঃ) তখন উল্লেখ করলেন যে গণকরা কখনও কখনও যা বলে সত্য হয়।

রাসুল (সঃ) বলেন,

 ‘‘ওতে সত্যতার কিছু অংশ যা জিনরা চুরি করে এবং তার বন্ধুর কাছে বলে কিন্তু সে এর সাথে একশটি মিথ্যা যোগ করে। ”আয়েশা বর্ণনা দেন যে তিনি আল্লাহর রাসূলের (সঃ) কাছে গণকদের সম্বন্ধে জিজ্ঞসা করলে তিনি উত্তর দেন যে ওরা কিছু না। [আল্-বুখারী এবং মুসলিম কর্তৃক সংগৃহীত। Sahih Al-Bukhari, Arabic-English, vol.1, p.439.no.657 and Sahih Muslim, English trans, vol.4, p.1209, no, 5535] 

একদিন উমর ইবনে আল খাত্তাব যখন বসে ছিলেন তখন একটি সুদর্শণ লোক তার পাশ দিয়ে চলে গেলে তিনি বললেন, আমার যদি ভূল না হয় লোকটি এখনও প্রাক ইসলামি ধর্ম অনুসরণ করছে অথবা বোধ হয় সে তাদের একজন গণক। তিনি লোকটি কে তার সামনে আনতে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি তার অনুমান সম্পর্কে জিজ্ঞাস করলেন। লোকটি উত্তর দিল, আমি আজকের মত আর কোন দিন দেখিনি যেদিন মুসলিম এই ধরণের অভিযোগের সম্মূখীন হয়েছে। উমর (রাঃ) বললেন,অবশ্যই আমাকে তামার অবহিত করা উচিত। লোকটি তখন বলল, অজ্ঞতার যুগে আমি তাদের গণক ছিলাম। ঐ কথা শুনে উমর জিজ্ঞাসা করলেন,তোমার মহিলা জিন তোমাকে সব চেয়ে বিস্ময়কর কি বলেছে। লোকটি তখন বলল,একদিন আমি যখন বাজারে ছিলাম,সে (মহিলা জিন) উদ্বিগ্ন হয়ে আমার কাছে এসেছিল এবং বলেছিল মর্যাদাহানি হবার পর তুমি কি জিনদের হতাশাগ্রস্থ অবস্থায় দেখনি? তুমি কি দেখনি তাদেরকে (জিনদেরকে) মাদী উট ও তাতে আরোহণকারীদের অনুসরণ করতে? উমর বাধাদান পূর্বক বললেন,এটা সত্য।

[আল্-বুখারী কর্তৃক সংগৃহীত। Sahih Al-Bukhari, Arabic-English, vol.5, p.131-2. no.206]

জিনরা তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষাকারী মানুষকে আপতঃ ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে অবহিত করতে সক্ষম।

উদাহরণস্বরূপ,যখন কেউ একজন গণকের কাছে আসে সে আসার আগে কি কি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল তা গণকের জিন আগত লোকটির ক্বারিনের (প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে নিয়োজিত জিন) কাছ থেকে জিন জেনে নেয়। সুতরাং গণক লোকটিকে বলতে সক্ষম হয় যে সে এটা করবে অথবা অমুক অমুক জায়গায় যাবে। এই প্রক্রিয়ায় একজন সতিকার গণক অপরিচিত লোকের অতীত পরির্পূণ ভাবে জানতে সক্ষম হয়। সে একজন অচেনা ব্যক্তির পিতামার নাম, কোথায় জন্ম গ্রহণ করেছিল এবং তার ছেলে বেলার আচারণ ইত্যাদি সম্বন্ধে বলেতে সক্ষম হয়। অতীত সম্বন্ধে পরিপূর্ণ বর্ণনা দেবার ক্ষমতা জিন এর সঙ্গে মুহুর্তের মধ্যে বহু দুরত্ব অতিক্রম করতে এবং গোপন বিষয় হারানো জিনিস, অদেখা ঘটনা বলি সম্বন্ধে বহু তথ্যাদি সংগ্রহ করতেও সক্ষম।

কোরআনে বর্ণিত পয়গম্বর সুলায়মান এবং সিবার রাণী বিলকিসের গল্পে মধ্যে এই ক্ষমতার সত্যতা পাওয়া যায়।

 

যখন রাণী বিলকিসের গল্পে এলেন,তিনি একটি জিনকে রাণীর দেশ থেকে তার সিংহাসন নিয়ে আসতে বললেন। “এক শক্তিশালী জিন বলল,আপনি আপনার স্থান হইতে উঠিবার পূর্বে আমি উহা আনিয়া দিব এবং এই ব্যাপারে আমি অবশ্যই ক্ষমতাবান বিশ্বস্ত। [সূরা আন নামল, ২৭:৩৯]


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

আরও পড়তে পারেন

কিছু প্রশ্ন? উত্তর আছে আপনার কাছে?

Download article as PDF প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার …

কার্যকর অধ্যনের ৫টি ফলপ্রসূ বৈশিষ্ট্য

Download article as PDF প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার …

পাঠকের মন্তব্য

Loading Facebook Comments ...

Comments

  1. Thanks

  2. Salahuddin Asm

    JINN IS A MIRACULOUS CREATION OF ALLAH.I CAME TO KNOW MANY INFORMATION ON THIS TOPIC.MORE IS NEEDEDIN FUTURE.THANKS.
     
    A.S.M.SALAHUDDIN,KHAGRAGAR,RAJBATI,BURDWAN-4

  3. Thanks

  4. r8 admin vai

  5. Samiha Sultana Ruhi

    জ্বিনের ব্যাপারটা আমি জানি। কিন্তু অনেকে বলে মানুষ মারা যাওয়ার পর আত্মাটা নাকি পৃথিবীতে থেকে যায় এবং তারা বিভিন্ন সময় সামনে আসে। কিন্তু আমি জানি আত্মাটা আযরাঈল (আঃ) নিয়ে যায়। তাহলে প্রেতাত্মা ব্যাপারটা তো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ব্যাপার। এ বিষয়ে যদি আমাকে ক্লিয়ার কোনো ধারণা দেন তাহলে খুশি হই।

  6. আমি বিশ্বাস করি ব্যাপার টা কারন আমি নিজের চোখে দেখেছি জ্বীনে ধরা মানুষকে|

  7. Mahadi Hasan Joni

    হয়তো এমন ও হতে পারে যারা আত্নহত্যা করে তারা তো না জান্নাত পায়, না জাহান্নাম। ফলে তারা আমাদের পিরথিবীতেই থেকে যায় ,এবং তারা তখন দুষ্ট আত্না বা প্রেআত্না হয়ে আমাদের ই পাশে ঘুরপাক খায়
    (এটা আমার একান্ত ই নিজস্ব ধারনা)

  8. মাহফুজুর রহমান

    আমি যতটুকু শুনেছি, প্রত্যেক মানুষের সাথে একটি করে জ্বীন শয়তান থাকে। কোন মানুষ যখন মারা যায় এই শয়তান জ্বীন মৃত মানুষ এর রূপ ধারন করে তার কিছু অতীত মেমোরী রিপ্লে করে। বিশেষ করে যারা অস্বাভাবিক ভাবে মারা যায়। এই শয়তান এর উদ্দ্যেশ্য থাকে মুলত ভয় দেখানো, আর এক্সট্রিম পর্যায় এরা মানুষ কে শিরকের দিকে নিয়ে যায়। হলিউডের হরর মুভিতে এই রকমই দেখানো হয় । যদিওবা তারা একে এলিয়েন/স্পিরিট মনে করে !!! কোরআন-হাদীস অনুযায়ী মৃত মানুষ এর সাথে দুনিয়ার কোন সম্পর্ক থাকে না। তাদের সামনে পর্দা থাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত।
    আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’আলা সবচেয়ে ভাল জানেন।

  9. Samiha Sultana Ruhi

    #মাহফুজুর_রহমান আমি আপনার কথাটাই বিশ্বাস করি। কিন্তু সমস্যা মানুষকে বিশ্বাস করানো যাচ্ছে না।

  10. আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতঃ- ভারত

    (y)
    ▬ নবী করীম (সাঃ) চাঁদকে দ্বিখণ্ডিত করেছিলে ▬ মু’জিযা ▬
    ===>> আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ও খালীফা (রঃ)……… আনাস (ইবন মালিক) (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, মক্কাবাসী কাফিররা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর মুজিযা দেখানোর জন্য দাবী জানালে তিনি (রাসূলুল্লাহ সাঃ) তাদেরকে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত করে দেখালেন । (সহীহ বুখারী শরীফঃ- ৩৩৭৬, /সহীহ মুসলিম শরীফঃ- ৬৮৭৩) সুবহানাল্লাহ!! সুবহানাল্লাহ!!
    বিঃদ্রঃ- চাঁদকে খণ্ডিত করার ছবি দেখতে আমাদের পেইজ থেকে ঘুরে আসুন।

  11. vjjdsx

  12. MashaAllah. Good post.

  13. রাসূলুল্লাহ্ﷺ এর সহীহ সুন্নাহ

    “আবু বুরদা ইবনে আবু মূসা আশআরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি তোমার পিতাকে রাসূলুল্লাহ্(সাঃ) থেকে জুমুআর দিনের বিশেষ মুহূর্তটি সম্পর্কে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছো? রাবী বলেন, আমি বললাম, হাঁ। আমি তাকে বলতে শুনেছি, আমি রাসূলুল্লাহ্(সাঃ) কে বলতে শুনেছি : ইমামের বসা থেকে নামায শেষ করার মধ্যবর্তী সময়ের মধ্যে সেই মুহূর্তটি নিহিত।” [সহিহ মুসলিম: ১৮৫৫]

  14. আমি তুমি

    uhuy photonx keyen QuranerAlo.com

  15. tnx for this news

  16. Tajul Islam Sujon Islam

    thanx

  17. Thanks

  18. নামাজ পড় রোজা রাখ,আল্লাহ কে ভয় কর।

  19. Allah amader manob jatir skl k rokkh krun,Ama jno iblis ar dole na pri..Jeebjogoter sobai jno ak Allah r hefajote thak. Amin.

  20. Allah.

  21. thnx for news.Allah sobar kasa ovab mukto.(R. allahr kase sobai ovabe)S. Ekhlas

  22. Mdmahamud Hossain

    subhanallah

  23. Allah hu akbar

  24. Aamin

  25. Allah hu akbar

  26. Ohe manus gumia thekona

  27. Onek valo laglo alhamdulillah onek kicho janlam

  28. ALLAHO AKBAR

  29. নামাজ পড় রোজা রাখ,আল্লাহ কে ভয় কর।

  30. Alamgir Hossain Shishir

    অন্তরে তাক৩য়া পয়দা কর

  31. subhanallah

  32. Sandia Chowdhury

    subahan allah

  33. Subahan Allah

  34. Subanallah

  35. Allahu Akbar

  36. জহির রায়হান

    subhanallah

  37. Anika Tabassum Mou

    subhanallah.

  38. amen

  39. Ripon-The Stranger

    নাঈম ইসলাম ইসলামের কলম সৈনিক Elora Zaman Influential Sumon সাইনাস ErrAtic FirEfly

  40. মো মেহেদী হাসান

    ALLAHUAKBER

  41. আয়াতের শেষ অংশের অর্থ কি সঠিক হয়েছে? দেখুন ত, এরুপ কিনা? মিন=হইতে, নার=আগুন, আস সামুন=উত্তপ্ত। ( মিন নারিস সামুন = উত্তপ্ত আগুন হইতে)। আপনাদের অর্থ অনুযায়ী বায়ুর আরবি শব্দটি কি এই আয়াতে আছে???

আপনার মন্তব্য লিখুন