সালাতুল জানাযা ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা

11
প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না
রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

লেখকঃ শায়খ আব্দুল আযীয ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইব্‌ন বায রাহিমাহুল্লাহ

অনুবাদঃ শিহাবউদ্দিন হোসাইন

প্রশ্ন -১ দাফনের পর সালাতে জানাযার হুকুম কি? তা কি একমাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ?

উত্তর – দাফনের পর জানাযা পড়া সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দাফনের পর জানাযার সালাত পড়েছেন। যে ব্যক্তি জামাতের সহিত সালাত পাড়েনি সে দাফনের পর পড়বে। যে একবার পড়েছে সে ইচ্ছা করলে অন্যান্য মুসল্লিদের সাথে একাধিকবার পড়তে পারবে, এতে কোন সমস্যা নেই। আলেমদের প্রসিদ্ধ মতানুসারে দাফনের একমাস পর পর্যন্ত জানাযার সালাত পড়া যায়।

প্রশ্ন ২- জানাযায় অংশগ্রহণকারীর যদি আংশিক সালাত ছুটে যায় তাহলে তা আদায় করতে হবে কি?

উত্তর – হ্যাঁ, ছুটে যাওয়া অংশ সাথে সাথে আদায় করে নিবে। যদি ইমামকে তৃতীয় তাকবীরে পায় তাহলে সে তাকবির বলে সূরা ফাতিহা পড়বে, ইমাম যখন চতুর্থ তাকবীর বলবে তখন সে দ্বিতীয় তাকবীর বলে রাসূলের উপর দরুদ পড়বে, ইমাম যখন সালাম ফিরাবে তখন সে তৃতীয় তাকবীর বলে দু’আ পড়বে অতঃপর চতুর্থ তাকবির দিয়ে সালাম ফিরাবে।

প্রশ্ন ৩- ছুটে যাওয়া আংশিক সালাত আদায়ের আগেই যদি লাশ তুলে নেয়া হয় তাহলে অবশিষ্ট সালাত কিভাবে আদায় করবে?

উত্তর – সাথে সাথে তাকবিরে তাহরিমা বলে সূরা ফাতিহা পড়বে, অতঃপর ইমামের সাথে তাকবির বলবে ও রাসূলের (সাঃ) উপর দরুদ পড়বে। অতঃপর ইমাম সালাম ফিরালে সে তাকবির দিয়ে দো‘আ করবে, যার অর্থ: “হে আল্লাহ, তুমি এ মৃতকে ক্ষমা কর”, অতঃপর তাকবির বলে সালাম ফিরাবে। ইমামের সাথে দু’তাকবির পেলে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করবে।

প্রশ্ন ৪- জানাযার সালাতে ইমামের ডানপাশে কাতার বন্ধি জায়েয কি না?

উত্তর – প্রয়োজনে ইমামের ডান ও বাম দিকে কাতার বন্ধি করা যেতে পারে, তবে ইমামের পিছনে কাতার বন্ধি করাই সুন্নত, কিন্তু জায়গার সঙ্কীর্ণতার কারণে ইমামের ডান ও বামে কাতার হতে পারবে।

প্রশ্ন ৫- মুনাফেকের উপর জানাযার নামাজ পড়া যাবে কি?

উত্তর – যার নেফাক সুস্পষ্ট, তার উপর জানাযার সালাত পড়া যাবে না। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

﴿وَلَا تُصَلِّ عَلَىٰٓ أَحَدٖ مِّنۡهُم مَّاتَ أَبَدٗا ٨٤﴾ [التوبة: 84]

“আর তাদের মধ্যে যে মারা গিয়েছে, তার উপর তুমি জানাযা পড়বে না”। (সূরা আত-তাওবাহ: ৮৪)

আর যদি নেফাকির বিষয়টি অস্পষ্ট বা অপবাদমুলক হয়, তাহলে তার উপর জানাযা পড়া যাবে, কারণ মৃতের উপর জানাযা পড়া অকাট্য দলীলের কারণে ওয়াজিব, যা কোন সন্দেহের দ্বারা রহিত হবে না।

প্রশ্ন ৬- লাশ দাফনের একমাস পর কবরের উপর জানাযা পড়া যাবে?

উত্তর – এ প্রসঙ্গে আলেমদের মতানৈক্য রয়েছে, তাই উত্তম হল একমাসের পর না পড়া। অধিকাংশ বর্ণনা মতে দেখা যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একমাস পর্যন্ত কবরের উপর জানাযা পড়েছেন, একমাসের বেশী সময় অতিবাহিত হওয়ার পর নামাজ পড়ছেন বলে কোন প্রমাণ নেই। তাছাড়া প্রকৃতপক্ষে জনাযা তো দাফনের পূর্বে পরে নয়।

প্রশ্ন ৭- জানাযার স্থানে পৌঁছতে অক্ষম ব্যক্তি গোসল খানায় জানাযা পড়তে পারবে?

উত্তর – হ্যাঁ, পড়তে পারবে যদি গোসলখানা পাক হয়।

প্রশ্ন ৮- মৃতব্যক্তিকে সালাত পর্যন্ত কোন কক্ষে রাখতে কোন অসুবিধা আছে কি?

উত্তর – না, তাতে কোন অসুবিধা নেই।

প্রশ্ন ৯-এ হাদিসটি কতটুকু শুদ্ধ যেখানে বলা হয় যে,

«إنَّ الشَّيَاطِيْنَ تَلْعَبُ بِالْمَيِّتِ»

“শয়তান মৃতব্যক্তিকে নিয়ে খেলা করে”।

উত্তর – এটি একটি বিভ্রান্তিকর কাথা, আমাদের জানামতে ইসলামি শরি‘আতে এর কোন ভিত্তি নেই।

প্রশ্ন ১০- যারা কবরের উপর নির্মিত মসজিদে নামায পড়া বৈধ মনে করে, তারা তাদের সপক্ষে দলিল পেশ করে যে, মসজিদে নববিও তো কবরের উপর, সেখানে কিভাবে সালাত শুদ্ধ হচ্ছে?

উত্তর – রাসূলের কবর মসজিদে নয় বরং রাসূলের কবর তাঁর ঘরের ভিতর। যারা ধারণা করে যে মসজিদে নববি রাসূলের কবরের উপর তাদের ধারণা ভুল।

প্রশ্ন ১১- জানাযার নামাজে ইমামতির জন্য মসজিদের স্থায়ী ইমাম অধিক হকদার, না মৃতের ওয়ারিসগণ?

উত্তর – জানাযা যদি মসজিদে হয়, তাহলে মসজিদের ইমামই জানাযা পড়াবে।

প্রশ্ন ১২- আমরা জানি যে দাফনের পর প্রায় একমাস পর্যন্ত মৃতের উপর নামাজ পড়া যায়। তাহলে প্রশ্ন জাগে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে তাঁর শেষ জীবনে “জান্নাতুল বাকি”তে (মসজিদের নববির পাশে অবস্থিত গোরস্তান) দাফন কৃত সাহাবাদের উপর জানাযা পড়েছেন এবং তাদেরকে সম্বোধন করে কথা বলেছেন?

উত্তর – তাদের উপর জানাযা পড়েছেন, এর অর্থ হচ্ছে তাদের জন্যে দু’আ করেছেন, আর মৃতদের জন্যে দো‘আ যে কোন সময় হতে পারে।

প্রশ্ন ১৩- যে মসজিদে কবর বিদ্যমান, সেখানে কি সালাত পড়া যাবে?

উত্তর – না, যে মসজিদে কবর রয়েছে সেখানে সালাত পড়া যাবে না। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াহূদী ও খৃস্টানদেরকে এ জন্যে অভিশাপ করেছেন যে, তারা তাদের নবীগণের কবরকে মসজিদে পরিণত করেছিল।

প্রশ্ন ১৪- যদি অবস্থা এমন হয় যে পুরা শহরে একটি মাত্র মসজিদ, আর তাতে রয়েছে কবর এমতাবস্থায় মুসলিমগণ কি ঐ মসজিদে নামায পড়বে?

উত্তর – মুসলিম কখনো সে মসজিদে সালাত পড়বে না। যদি কবরহীন অন্য কোন মসজিদ পাওয়া যায় তা হলে ঐ মসজিদে পড়বে অন্যথায ঘরেই সালাত পড়বে। কোন মসজিদে কবর থাকলে দেখতে হবে যে, মসজিদ আগে নির্মাণ হয়েছে না কবর আগে তৈরি হয়েছে, যদি মসজিদ আগে হয়ে থাকে তাহলে কর্তৃপক্ষের উপর ওয়াজিব হচ্ছে কবর খনন করে সেখান হতে অবশিষ্ট হাড্ডি মাংশ উত্তলন করে সাধারণ জনগনের জন্যে ব্যাবহারিত কবরস্থানে স্থানান্তর করা। আর যদি কবর পূর্ব হতে থাকে আর মসজিদ পরে নির্মাণ হয়। তাহলে সেখান থেকে মসজিদ ভেঙ্গে অন্য জায়গায় নির্মাণ করবে, যেখানে কোন কবর নেই।

কারণ আম্বিয়ায়ে কেরামের কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ করার কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াহূদী ও খৃস্টানদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন (মুসলিমঃ কিতাবুস সালাতঃ ১০৭৯)। মুমিন জননী উম্মে সালমা ও উম্মে হাবীবাহ যখন সংবাদ দিলেন যে, হাবশায় তাঁরা এমন একটি গির্জা দেখেছেন যেখানে প্রতিমার ছবি নির্মিত। এতদশ্রবণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ

“তাদের মাঝে কোন সৎকর্মশীল লোক মারা গেলে তারা তাদের কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ করত এবং সেখানে তাদের প্রতিমা স্থাপন করত। তারা আল্লাহর নিকট এ ভূ-পৃষ্ঠের মধ্যে নিকৃষ্টতম প্রাণী”(মুসলিম ১০৭৬)

এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, কোন ব্যক্তি কবরের উপর নির্মিত মসজিদে সালাত পড়লে তা বাতিল বলে গণ্য, এ সালাত পুনরায় পড়তে হবে।

প্রশ্ন ১৫- জানাযার নিয়ম কি ?

উত্তর – জানাযার নিয়ম এই যে, প্রথমে তাকবির বলে ইমাম সাহেব আউযুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়ে সূরা-ফাতিহা পড়বে। সূরা ফাতিহার সাথে সূরায়ে ইখলাস বা সূরায়ে ‘আসরের ন্যায় কোরআনের কোন ছোট সূরা বা কিছু আয়াত মিলিয়ে নেয়া মুস্তাহাব। সাহাবি আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে সূরা মিলিয়ে জানাযা পড়তেন। অতঃপর দ্বিতীয় তাকবির দিয়ে রাসূলের (সাঃ) উপর দরুদ পড়বে, যেমন অন্যান্য নামাযের শেষ বৈঠকে পড়া হয়। অতঃপর তৃতীয় তাকবির দিয়ে মৃতের জন্যে দু’আ করবে, দু’আর সময় নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে শব্দের আভিধানিক পরিবর্তন প্রয়োগ করবে, একাধিক জানাযা হলে বহুবচনের সর্বনাম ব্যবহার করবে। অতঃপর চতুর্থ তাকবির বলবে এবং ক্ষণকাল চুপ থেকে ডান দিকে এক সালাম ফিরিয়ে জানাযা শেষ করবে।

আর ছানা ইচ্ছা করলে পড়তেও পারে, আবার ইচ্ছা করলে ছেড়েও দিতে পারে। তবে তা পরিত্যাগ করাই উত্তম হবে। কেননা, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা জানাযা নিয়ে তাড়াতাড়ি করবে।” ( মুসলিম ২০৬১)

প্রশ্ন ১৬- যে ব্যক্তি জানাযা ও দাফনে অংশগ্রহণ করবে সে কি দু’কিরাত নেকি পাবে?

উত্তর – হ্যাঁ, সে দু’কিরাত নেকি পাবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

ولقوله صلى الله عليه وسلم «من شهد الجنازة حتى يصلى عليها فله قيراط ومن شهدها حتى تدفن فله قيراطان» قيل يارسول الله: وما القيراطان ؟ قال: «مثل الجبلين العظيمين»

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, যে ব্যক্তি জানাযায় অংশগ্রণ করত নামাজ পর্যন্ত অপেক্ষা করবে সে এক কিরাত নেকি পাবে, আর যে জানাযায় অংশগ্রহণ করে দাফন পর্যন্ত অপেক্ষা করবে সে দু’কিরাত নেকি পাবে”। জিজ্ঞসা করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! দু’কিরাত বলতে কি বুঝায়? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “দুইটি বড় পাহাড় সমপরিমাণ”। (বুখারি ৪৫; মুসলিম ২০৬৮, ২০৬৫, ২০৬৭, ২০৬৯)

প্রশ্ন ১৭- ইসলামে বিশেষ অবদান রেখেছেন এমন ব্যক্তির জানাযা একদিন বা ততোধিক বিলম্ব করা যাবে?

উত্তর – বিলম্ব করাতে যদি কল্যাণ থাকে তাহলে করা যাবে। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যু হয়েছে সোমবার অথচ তাঁর দাফন হয়েছে বুধবার রাতে। তাই ইসলামের সেবায় নিবেদিত এমন ব্যক্তির দাফন বিলম্বে যদি কোন কল্যাণ থাকে, যেমন তার আত্মীয় স্বজনের আগমন ইত্যাদি, তাহলে বিলম্ব করা যেতে পারে।

প্রশ্ন ১৮- কোন মৃতের উপর একাধিক বার জানাযা পড়ার হুকুম কি?

উত্তর – বিশেষ কারণে একাধিক বার জানাযা পড়া যেতে পারে, যেমন জানাযা শেষে কিছু লোক উপস্থিত হলো, তাহলে এরা মৃতের উপর দাফনের পূর্বে বা পরে জানাযা পড়তে পারবে। এমনিভাবে যে একবার সবার সাথে জানাযা পড়েছে সে আগত লোকদের সাথে লাশ দাফনের পরে ও পুনরায় জানাযা পড়তে পারবে। কারণ এতে সালাত আদায়কারী ও মৃত ব্যক্তি উভয়ের জন্য কল্যাণ রয়েছে।

প্রশ্ন ১৯- মায়ের গর্ভে মৃত সন্তানের জানাযা পড়া যাবে কি?

উত্তর – পাঁচ মাস বা ততোধিক সময় গর্ভে অবস্থান করে যদি কোন সন্তান মৃত ভূমিষ্ঠ হয়, তাহলে তাকে গোসল দেবে, তার জানাযা পড়বে ও তাকে মুসলিমদের গোরস্থানে দাফন করবে।

প্রশ্ন ২০- আত্মহত্যাকারীর জানাযা পড়া যাবে কি?

উত্তর – যেহেতু আহলে সূন্নত ওয়াল জামায়াতের মতানুসারে আত্মহত্যার কারণে কেউ মুসলিমদের গন্ডি হতে বেরিয়ে যায় না, তাই অন্যান্য অপরাধীদের ন্যায় তার উপরও কিছু সংখ্যক লোক জানাযা পড়ে নিবে।

প্রশ্ন ২১- নিষিদ্ধ সময়ে জানাযার নামাজা পড়ার বিধান কি?

উত্তর – নিষিদ্ধ সময়ে জানাযা পড়া যাবে না, তবে নিষিদ্ধ সময়টি যদি লম্বা হয়, যেমন ফজরের সালাতের পর হতে সূর্য উঠা পর্যন্ত এবং আসরের সালাতের পর হতে সুর্যাস্ত পর্যন্ত, বিশেষ প্রয়োজনে এ দু’সময়ে জানাযা পড়া ও লাশ দাফন করা যাবে। আর যদি নিষিদ্ধ সময়টি স্বল্প হয় তাহলে জানাযা ও দাফন কিছুই করা যাবে না। আর সল্প সময় বলতে বুঝায় ঠিক বেলা উঠার পূর্ব মুহূর্ত এবং ঠিক দ্বিপ্রহর ও সুর্যাস্তের সময়। সাহাবি উকবা ইবন আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,

«ثلاث ساعات كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ينهانا أن نصلي فيهن و أن نقبر فيهن موتانا: حين تطلع الشمس بازغة حتى ترفع وحين يقوم قائم الظهيرة حتى تزول وحين تضيّف الشمس للغروب».

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন সময়ে আমাদেরকে জানাযা পড়তে ও তাতে আমাদের মৃতদেরকে দাফন করতে নিষেধ করেছেন, সুর্যোদয়ের সময় যতক্ষণ না তা পরিপূর্ণরূপে উদয় হয়, ঠিক দ্বিপ্রহরের সময় যতক্ষণ না সূর্য পশ্চিম দিকে হেলে যায়  এবং ঠিক সূর্যাস্তের সময়। [মুসলিম]

প্রশ্ন ২২- বিদ’আতির জানাযায় অংশ গ্রহণ না করার বিধান কি?

উত্তর – বিদ’আতির বিদ‘আত যদি বিত’আতিকে কুফর পর্যন্ত নিয়ে যায়, যেমন খারেযি, মুতাযিলা ও জাহমিয়া প্রমূখ পথভ্রষ্ট সম্প্রদায়ের বিদ‘আত। তাহলে এরূপ বিদ’আতির জানাযায় অংশ গ্রহণ করা কারো পক্ষেই জায়েয নয়।

আর যদি তার বিদ‘আত এ পর্যায়ের না হয়, তবুও আলেমদের উচিত বিত’আতের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করে তার জানাযা পরিত্যাগ করা।

প্রশ্ন ২৩- আলেমদের ন্যায় জনসাধারণ কি বিদ’আতির জানাযা পরিত্যাগ করবে না ?

উত্তর – প্রতিটি মুসলিমের জানাযা পড়া ওয়াজিব, যদিও সে বিদ’আতি হয়। সুতরাং বিদ‘আত যদি কুফরের পর্যায়ের না হয়, তাহলে এরূপ বিদ’আতির জানাযা মুষ্টিমেয় কিছু লোক পড়ে নেবে। আর যদি বিদ‘আত কুফরের পর্যায়ের হয়, যেমন খারেযি, রাফেযি, মুতাযিলা ও জাহমিয়া প্রমূখদের বিদ‘আত, যারা বিপদে-আপদে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু ও রাসূলের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের শরণাপন্ন হয়, তাদেরকে আহ্বান করে, তাহলে এরূপ বিদ‘আতিদের জানাযায় অংশগ্রহণ করা কাহারো জন্যই জায়েয নেয়। আল্লাহ তাআলা মুনাফেক ও তাদের ন্যায় অন্যান্য কাফেরদের প্রসঙ্গে বলেছেনঃ

﴿وَلَا تُصَلِّ عَلَىٰٓ أَحَدٖ مِّنۡهُم مَّاتَ أَبَدٗا وَلَا تَقُمۡ عَلَىٰ قَبۡرِهِۦٓۖ إِنَّهُمۡ كَفَرُواْ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَمَاتُواْ وَهُمۡ فَٰسِقُونَ ٨٤﴾ [التوبة: 84]

“আর তাদের মধ্যে যে মারা গিয়েছে, তার উপর তুমি জানাযা পড়বে না এবং তার কবরের উপর দাঁড়াবে না। নিশ্চয় তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অস্বীকার করেছে এবং তারা ফাসিক অবস্থায় মারা গিয়েছে”। (সূরা আত-তাওবাহ: ৮৪)

প্রশ্ন ২৪- জানাযায় অধিক সংখ্যক লোকের অংশ গ্রহণে কি বিশেষ কোন ফজিলত আছে?

উত্তর – সাহাবি আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

«ما من رجل مسلم يموت فيقوم على جنازته أربعون رجلا لايشركون بالله شيئاً إلا شفعهم الله فيه»

“যদি কোন মুসলিম মৃত্যুবরণ করে, আর তার জানাযায় চল্লিশ জন লোক এমন উপস্থিত হয়, যারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করে না, আল্লাহ মৃত ব্যক্তির ব্যাপারে তাদের সুপারিশ কবুল করবেন”। (মুসলিম ২০৭২)

তাই আলেমগণ বলেছেন, যে মসজিদে মুসল্লি বেশী হয়, জানাযার জন্য ঐ মসজিদ অন্বেষণ করা মুস্তাহাব, মুসল্লি যত বেশী হবে ততই মৃতের জন্যে কল্যাণ হবে, কারণ এতে সে অধিক মানুষের দু’আ পাবে।

প্রশ্ন ২৫- জানাযার সালাতে ইমামের দাঁড়ানোর নিয়ম কি?

উত্তর – সুন্নত হচ্ছে ইমাম পুরুষদের মাথা বরাবর আর মহিলাদের মাঝা বরাবর দাঁড়াবে। জানাযা একাধিক লোকের হলে প্রথমে সালাবক পুরুষদের লাশ, অতঃপর নাবালেক ছেলেদের লাশ, অতঃপর সাবালক নারীদের লাশ, অতঃপর নাবালেক মেয়েদের লাশ রাখবে। একই সাথে সবার উপর নামাজ পড়ার জন্য প্রথমে পুরুষদের লাশ লাখবে, অতঃপর তাদের মাথা বরাবর বাচ্ছাদের মাথা রাখাবে, অতঃপর তাদের মাথা বরাবর নারী ও মেয়েদের কোমর রাখবে।

প্রশ্ন ২৬- জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পড়ার হুকুম কি?

উত্তর – জানাযার সালাতে সূরা ফাতিহা পড়া ওয়াজিব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

« صلوا كما رأيتموني أصلي »

“তোমরা আমাকে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখ, সেভাবেই সালাত আদায় কর”। (বুখারি)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

« لا صلاة لمن لم يقرأ بفاتحة الكتاب »

“ঐ ব্যক্তির কোন সালাত হয়নি, যে সূরা ফাতিহা পাঠ করে নি”। (বুখারি ৭২৩)

প্রশ্ন ২৭- চতুর্থ তাকবির শেষে কিছু পড়ার বিধান আছে কি?

উত্তর – চতুর্থ তাকবির শেষে কিছু পড়ার প্রমাণ নেই, তবে চতুর্থ তাকবির শেষে একটু চুপ থেকে অতঃপর সালাম ফিরাবে।

প্রশ্ন ২৮- ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মৃতলোকের জানাযায় অতিরিক্ত তাকবির বলা যাবে কি?

উত্তর – প্রচলিত নিয়ম তথা চার তাকবিরের উপর সীমাবদ্ধ থাকাই উত্তম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শেষ জীবনে জানাযার পদ্ধতি এরূপই ছিল। হাবশার বাদশা নাজ্জাশী অত্যন্ত সম্মানী মানুষ হওয়া সত্বেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযায় চারের অধিক তাকবির বলেননি।

প্রশ্ন ২৯- জানাযার নামাজে রাসূলের উপর দরূদ পড়ার হুকুম কি?

উত্তর – ওলামায়ে কেরামের প্রসিদ্ধ উক্তি অনুযায়ী জানাযার সালাতে রাসূলের উপর দরূদ পড়া ওয়াজিব। মুসল্লিরা জানাযায় কখনো রাসূলের উপর দরূদ পরিত্যাগ করবে না।

প্রশ্ন ৩০- জানাযায় সূরা-ফাতিহা পড়ার বিধান কি?

উত্তর – সূরা ফাতিহা পড়া উত্তম, সাহাবি ইব্‌ন ইব্বাস রাদিআল্লাহ আনহু সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাযায় সূরা ফাতেহা পড়তেন।

প্রশ্ন ৩১- জানাযার প্রতি তাকবিরে হাত উঠানো কি সুন্নত ?

উত্তর – জানাযার প্রতি তাকবিরে হাত উঠানো সুন্নত। বর্ণিত আছে যে, সাহাবি আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ওমর ও আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস প্রতি তাকবিরে হাত উঠাতেন। (দারা কুতনি)

প্রশ্ন ৩২- জনৈক ব্যক্তি জানাযা পড়তে মসজিদে প্রবেশ করল, কিন্তু তখনো সে ফরজ সালাত পড়েনি, এমতাবস্থায় সে কি প্রথমে ফরজ নামাজ পড়বে, না অন্যান্য লোকদের সাথে জানাযায় অংশগ্রহণ করবে। যদি ইতিমধ্যে লাশ তুলে নেয়া হয় তাহলে সে জানাযার নামাজ পড়বে কি না?

উত্তর -এমতাবস্থায় সে প্রথমে জানাযার নামাজ আদায় করবে অতঃপর ফরজ নামাজ পড়বে, কারণ তখন যদি সে জানাযা না পড়ে পরবর্তীতে পড়তে পারবে না, পক্ষান্তরে ফরজ নামাজ তো পরেও পড়া যাচ্ছে। লাশ তুলে নেয়ার হলে দাফনের পর জানাযা পড়বে।

প্রশ্ন ৩৩- আমাদেরে কর্মক্ষেত্রে দেখা যায় যে, কোন সহকর্মী মারা গেলে বিজ্ঞাপন বিতরণ করা হয়, যাতে জানাযার সময় ও দাফনের স্থানের উল্লেখ থাকে, এ ব্যাপারে শরি‘আতের হুকুম কি?

উত্তর – যদি এরূপ বলা হয় যে অমুক মসজিদে অমুকের জানাযা হবে ইত্যাদি, তাহলে আমার জানা মতে দোষের কিছু নেই, যেমন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজ্জাশির ব্যাপারে বলেছিলেন।

প্রশ্ন ৩৪- গায়েবানা জানাযার বিধান কি?

উত্তর – প্রসিদ্ধ মতানুসারে এটা নাজ্জাশীর জন্যে নির্দিষ্ট ছিল। তবে কতিপয় আলেম বলেছেন যে, মৃত ব্যক্তি যদি বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের অধিকারী হয়, যেমন বড় আলেম, বড় দায়ি, ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে যার বিশেষ অবদান রয়েছে, এরূপ ব্যক্তির ক্ষেত্রে গায়েবানা জানাযা পড়া যেতে পারে। কিন্তু আমাদের জানা মতে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক নাজ্জাশি ছাড়া অন্য কারো উপর গায়েবানা জানাযা পড়েননি, অথচ তাঁর নিকট মক্কাতুল মুক্কারামাহসহ বিভিন্ন স্থান হতে অনেক সাহাবিদের মৃত্যুর সংবাদ এসে ছিল। বাস্তবতার নিরিখে এটাই সত্য মনে হচ্ছে যে, গায়েবানা জানাযা নাজ্জাশির জন্যেই নির্দিষ্ট ছিল, তথাপিও যদি কেউ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের অধিকারী যেমন আলেম ও সরকারী কর্মকর্তা প্রমূখদের উপর পড়তে চায়, তাহলে পড়ার অবকাশ রয়েছে।

প্রশ্ন ৩৫- জানাযায় অধিক কাতার মুস্তাহাব, তাই প্রথম কাতারে জায়গা রেখে দ্বিতীয় কাতার করা যাবে কি?

উত্তর – ফরজ নামাজের কাতারের ন্যায় জানাযার নামাজের কাতার হবে। তাই আগে প্রথম কাতার পূর্ণ করবে অতঃপর দ্বিতীয় কাতার। এক্ষেত্রে সাহাবি মালেক ইব্‌ন হুবাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত হাদিসের উপর আমল করা যাবে না, কারণ তার বর্ণিত হাদিসটি বিশুদ্ধ হাদিসের বিপরীত, যার দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, প্রথম কাতার পূরণ করা ওয়াজীব।

প্রশ্ন ৩৬- জানাযার নামাজ কি মাঠে পড়া উত্তম না মসজিদে?

উত্তর – সম্ভব হলে মাঠে পড়াই উত্তম। তবে মসজিদে পড়াও জায়েয আছে, যেমন মুমিন জননী আয়শা রাদিয়াল্লাহু আনহা সূত্রে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বয়জা নামীয় ব্যক্তির দু’পুত্রের জানাযা মসজিদেই পড়েছেন। (মুসলিম)

প্রশ্ন ৩৭- জানাযায় সূরা ফাতিহা পড়া সুন্নত, এ ব্যাপারে লোকজনকে অবগত করার জন্যে মাঝে মধ্যে তা স্বশব্দে পড়া কেমন?

উত্তর – কখনো কখনো সূরা ফাতিহা স্বশব্দে পড়তে সমস্যা নেই, যদি সূরা ফাতিহার সাথে অন্য কোন ছোট একটি সূরা বা কিছু আয়াত মিলিয়ে নেয়া হয় তাহলে আরও ভাল। সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সূত্রে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাযার নামাজে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলিয়ে নিতেন। তবে যদি শুধু সূরা ফাতিহা পড়ে তাও যথেষ্ট।

প্রশ্ন ৩৮-গায়েবানা জানাযার পদ্ধতি কি?

উত্তর – লাশ উপস্থিত থাক আর না থাক জানাযার পদ্ধতি একই।

Print Friendly, PDF & Email


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

11 মন্তব্য

  1. আশা করি , এই article-টি আমাদের সবার উপকারে আসবে । তবে আমাদের ছিনাকে প্রশস্ত করতে হবে । হক-কে আঁকড়ে ধরার মতো তাকওয়া -র জন্য বুকে জায়গা রাখতে হবে । আল্লাহ্‌ , আমাদেরকে এগুলো করার তৌফিক দাও । আ-মিন ।

  2.  namajer bhongi te kono parthokko nei. onnanno parthokko ja ache ta holo,
    purusher kapor takhnur upore thakbe-mohilader goralir niche thakbe.
    purushra shoshobde namaj porte parbe- mohilara kono shobdo korbe na.
    jamate namaje imamer kono bhul hole purushra mukhe awaj korbe-mohilara haat diye shobdo korbe.
    mohilara purushder imamoti korte parbe na, azan dite parbe na.
    haat badha, ruku, sijda, boithok shob obhinno.

  3.  যাযাকাল্লাহু খাইরা। লেখাটি অত্যন্ত চমৎকার। আশা করি তা আমাদের অনেক উপকারে লাগবে। তবে একটি বিষয়ে আমি একটু পরিষ্কার ধারনা পেতে চাই। আমি জানতাম- “জানাযা” কোন নামায নয়, এটা হলো মৃত ব্যক্তির জন্য এক প্রকার দোয়া। এবং জানাযায় সূরা ফাতিহা এবং সাথে অন্য কোন সূরা মিলিয়ে পড়তে হয় না। প্রথম তাকবিরের পর “সানা” পড়তে হয়, তবে সাথে “অজাল্লাসানাউকা” যোগ করতে হয়। এই পর্যন্ত যত জানাযা পড়েছি তার সবগুলোতেই এই নিয়টি জানাযা শুরুর আগেও ইমাম সাহেব কতৃক শিখিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখানে তার ব্যতিক্রম দেখলাম। তাই আশা করি বিষয়টি সম্পর্কে আমাকে বিস্তারিত জানিয়ে সঠিক ভাবে জানাযা পড়তে সহযীগিতা করবেন।

  4. শরয়ী দলীলে

    পুরুষ ও মহিলার

    নামাযের পদ্ধতি

    সুমাইয়া ইয়াসমিন তামান্না

    সৃষ্টিগতভাবে পুরুষ ও মহিলা মানুষ হিসেবে সমান। এ ব্যাপারে তাদের মধ্যে
    কোনো তারতম্য নেই। তবে দৈহিক গঠন, সক্ষমতা, যোগ্যতা, সতর, পর্দাসহ বেশ কিছু
    বিষয়ে তাদের মাঝে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।

    পার্থক্যের এ দিকটি বাহ্যিক জীবনযাপনের মতোই ইবাদতের মধ্যেও কোনো কোনো
    ক্ষেত্রে রয়েছে। পদ্ধতিগত পার্থক্য বিদ্যমান থাকার মধ্যে অন্যতম একটি ইবাদত
    হলো নামায।

    নামাযে হাত তোলায় পুরুষ কান পর্যন্ত এবং মহিলা কাঁধ পর্যন্ত হাত তুলেন।
    পুরুষ নাভীর নীচে এবং মহিলা বুকের উপর হাত বাঁধেন। পুরুষ মাথা সটান করে
    ঝুঁকিয়ে হাত দ্বারা হাঁটু চেপে ধরে রুকু করেন, আর মহিলা মাথা কিছুটা
    ঝুঁকিয়ে হাত হাঁটু পর্যন্ত পৌঁছিয়ে রুকু করেন। পুরুষ কনুই, পাছা ইত্যাদি
    জমিন থেকে আলাদা এবং পেট উরু থেকে পৃথক রেখে সিজদা করেন, অপরদিকে মহিলা
    কনুইসহ হাত বিছিয়ে পাছাসহ শরীর মাটির সাথে মিশিয়ে এবং পেটকে উরুর সাথে
    মিলিয়ে জড়সড় হয়ে সিজদা করেন। বৈঠকে পুরুষ ডান পা খাড়া রেখে বাম পায়ের ওপর
    বসেন এবং মহিলা উভয় পা ডানদিক দিয়ে বের করে এবং ডান উরুকে বাম উরুর উপর
    রেখে জমিনের উপর বসেন। প্রভৃতি বিভিন্ন পার্থক্য পুরুষ ও মহিলার নামাযের
    মধ্যে প্রত্যক্ষ করা যায়।

    পুরুষ ও মহিলার নামাযের এ পার্থক্য সুন্নাহ, আছার ও ইজমার দ্বারা
    প্রমাণিত। এতদসত্ত্বেও গ্রহণযোগ্য কোনো দলীল ও যুক্তির ওপর নির্ভর না করেই
    কিছু মহলের পক্ষ থেকে এই পার্থক্য অস্বীকার করার প্রবণতা লক্ষ্য করা
    যাচ্ছে। তাই এ বিষয়ে দলীলভিত্তিক কিছু আলোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছি।

    হাদীস শরীফের আলোকে

    হাদীস – ১

    “তাবেয়ী ইয়াযীদ ইবনে আবী হাবীব (রহ.) বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা.)
    নামাযরত দুই মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তাদেরকে বললেন, “যখন সিজদা
    করবে, তখন শরীর জমিনের সাথে মিলিয়ে দিবে। কেননা, মহিলারা এক্ষেত্রে
    পুরুষদের মতো নয়।” (কিতাবুল মারাসিল, ইমাম আবু দাউদ – ৫৫, হাদীস নং ৮০)

    প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস আল্লামা নওয়াব সিদ্দীক হাসান খান বুখারী শরীফের
    ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘আওনুল বারী’তে লিখেছেন, “উল্লিখিত হাদীসটি সকল ইমামের উসূল
    অনুযায়ী দলীল হিসেবে পেশ করার যোগ্য।”

    (আওনুল বারী, ১ম খ-, ৫২০ পৃষ্ঠা)

    মুহাদ্দিস মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আমীর ইয়ামানী ‘সুবুলুস সালাম শরহু
    বুলুগিল মারাম’ গ্রন্থে এই হাদীসকে দলীল হিসেবে পেশ করে পুরুষ ও মহিলার
    সিজদার পার্থক্য বর্ণনা করেছেন।

    (বুলুগুল মারাম, ১ম খ-, ৩৫১-৩৫২ পৃষ্ঠা)

    হাদীস – ২

    হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন,
    “মহিলা যখন নামাযের মধ্যে বসবে, তখন যেন (ডান) উরু অপর উরুর উপর রাখে। আর
    যখন সিজদা করবে, তখন যেন পেট উরুর সাথে মিলিয়ে রাখে। যা তার সতরের জন্য
    অধিক উপযোগী। আল্লাহ তা‘আলা তাকে দেখে বলেন, ওহে আমার ফেরেশতারা! তোমরা
    সাক্ষী থেকো, আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম।”

    (সুনানে কুবরা – বাইহাকী, ২য় খ-, ২২৩ পৃষ্ঠা) এটি হাসান হাদীস।

    হাদীস – ৩

    হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ
    (সা.)-এর দরবারে হাজির হলাম। তিনি আমাকে (অনেক কথার মাঝে একথাও) বললেন, “হে
    ওয়াইল ইবনে হুজর! যখন তুমি নামায শুরু করবে, তখন কান বরাবর হাত উঠাবে। আর
    মহিলারা হাত উঠাবে বুক বরাবর (হাতের মাথা কাঁধ বরাবর থাকবে)।” (আল-মু‘জামুল
    কাবীর – তাবরানী ২২/২৭২) এ হাদীসটিও হাসান।

    এ ছাড়াও এসব হাদীসের সমর্থনে মহিলাদের নামাযের পদ্ধতির পার্থক্য ও
    ভিন্নতাকে নির্দেশ করে এমন আরো কিছু হাদীস রয়েছে। পক্ষান্তরে এগুলোর সাথে
    বিরোধপূর্ণ একটি হাদীসও পাওয়া যায় না, যাতে বলা হয়েছে যে, পুরুষ ও মহিলার
    নামায আদায়ের পদ্ধতিতে কোনো পার্থক্য নেই বা উভয়ের নামাযই একরকম।

    সাহাবায়ে কিরামের বক্তব্যের আলোকে

    তাবেয়ী হারেস (রহ.) হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আলী (রা.)
    বলেন, “মহিলা যখন সিজদা করবে, তখন সে যেন খুব জড়সড় হয়ে সিজদা করে এবং উভয়
    উরু পেটের সাথে মিলিয়ে রাখে।”

    (মুসান্নাফ – আবদুর রাযযাক, ৩য় খ-, ১৩৮ পৃষ্ঠা/ সুনানে কুবরা – বাইহাকী, ২য় খ-, ২২২ পৃষ্ঠা)

    হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)কে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, মহিলা কিভাবে
    নামায আদায় করবে? তিনি বললেন, “খুব জড়সড় হয়ে অঙ্গের সাথে অঙ্গ মিলিয়ে নামায
    আদায় করবে।” (মুসান্নাফ – ইবনে আবী শাইবা, ১ম খ-, ৩০২ পৃষ্ঠা)

    এখানে খলীফায়ে রাশেদ হযরত আলী (রা.) ও ফকীহুল উম্মাহ হযরত আবদুল্লাহ
    ইবনে আব্বাস (রা.)-এর কওল বর্ণনা করা হলো। এ দু’জন সাহাবী মহিলাদের নামাযের
    যে পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন, কোনো হাদীসের কিতাবে একজন সাহাবী থেকেও এর
    বিপরীত কিছু বিদ্যমান নেই।

    তাবেয়ীগণের বক্তব্যের আলোকে

    ১। প্রসিদ্ধ তাবেয়ী হযরত আতা ইবনে আবী রবাহ (রহ.) ছিলেন মক্কাবাসীদের
    ইমাম। তাঁর বক্তব্য সম্পর্কে ইমাম ইবনে আবী শাইবা (রহ.) বর্ণনা করেন, হযরত
    আতা ইবনে আবী রবাহ (রহ.)কে জিজ্ঞাসা করা হলো, নামাযে মহিলা কতটুকু হাত
    উঠাবে? জবাবে তিনি বললেন, বুক বরাবর (যাতে হাতের আঙ্গুলগুলো কাঁধ বরাবর
    হয়)।”

    (মুসান্নাফ – ইবনে আবী শাইবা, ১ম খ-, ২৭০ পৃষ্ঠা)

    ২। মক্কাবাসীদের আরেক ইমাম হযরত মুজাহিদ ইবনে জাবর (রহ.)-এর উদ্ধৃতি
    দিয়ে ইবনে আবী শাইবা (রহ.) বর্ণনা করেন, “হযরত মুজাহিদ ইবনে জাবর (রহ.)
    পুরুষদের জন্য মহিলাদের মতো উরুর সাথে পেট লাগিয়ে সিজদা করাকে অপছন্দ
    করতেন।”

    (মুসান্নাফ – ইবনে আবী শাইবা, ১ম খ-, ৩০২ পৃষ্ঠা)

    ৩। ইমাম ইবনে শিহাব যুহরী (রহ.) মদীনাবাসীদের ইমাম ছিলেন। তাঁর কওল
    বর্ণনা করে ইবনে আবী শাইবা (রহ.) বলেন, যুহরী (রহ.) বলেন, “মহিলারা কাঁধ
    পর্যন্ত হাত উঠাবে।”

    (মুসান্নাফ – ইবনে আবী শাইবা, ১ম খ-, ২৭০ পৃষ্ঠা)

    ৪। হযরত হাসান বসরী (রহ.) ও হযরত কাতাদাহ ইবনে দি‘আমা (রহ.) বসরাবাসীদের
    ইমাম ছিলেন। তাঁদের বক্তব্য বর্ণনা করে আবদুর রাযযাক ও ইবনে আবী শাইবা
    (রহ.) বলেন, হযরত হাসান বসরী ও হযরত কাতাদা (রহ.) বলেন, “মহিলারা যখন সিজদা
    করবে, তখন তারা যথাসম্ভব জড়সড় হয়ে থাকবে। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ফাঁকা রেখে সিজদা
    করবে না। যাতে কোমর উঁচু হয়ে না থাকে।”

    (মুসান্নাফ – আবদুর রাযযাক, ৩য় খ-, ১৩৭ পৃষ্ঠা/ মুসান্নাফ – ইবনে আবী শাইবা, ১ম খ-, ৩০৩ পৃষ্ঠা)

    ৫। কুফাবাসীদের ইমাম হযরত ইবরাহীম নাখায়ী (রহ.) এ সম্পর্কে বলেন,
    “মহিলাদের আদেশ করা হত, তারা যেন সিজদা অবস্থায় হাত ও পেট উরুর সাথে মিলিয়ে
    রাখে, পুরুষদের মতো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ফাঁকা না রাখে। যাতে কোমর উঁচু হয়ে না
    থাকে।”

    (মুসান্নাফ – আবদুর রাযযাক ,৩য় খ-, ১৩৭ পৃষ্ঠা)

    পূর্বোক্ত বর্ণনাগুলো ছাড়াও আয়িম্মায়ে তাবেয়ীগণের আরো কিছু বর্ণনা
    রয়েছে, যারা সাহাবায়ে কিরাম (রা.) থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে
    পরবর্তীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তাদের প্রত্যেকেরই বর্ণনা দ্বারা
    পুরুষ-মহিলার নামাযের পাথর্ক্য প্রমাণিত হয়।

    চার ইমামের ফিকহের আলোকে

    ফিকহে হানাফী :

    ১। ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর অন্যতম প্রধান শাগরেদ ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)
    বলেন, “আমাদের নিকট মহিলাদের নামাযে বসার পছন্দনীয় পদ্ধতি হলো, উভয় পা
    একপাশে মিলিয়ে রাখবে, পুরুষের মতো এক পা দাঁড় করিয়ে রাখবে না।”

    (কিতাবুল আসার – ইমাম মুহাম্মদ, ১ম খ-, ৬০৯ পৃষ্ঠা)

    ২। মুহাদ্দিস আবুল ওয়াফা আফগানী (রহ.) কিতাবুল আসার-এর ব্যাখ্যা গ্রন্থে
    বলেন – “আমাদের ইমামে আযম হযরত ইমাম আবু হানীফা (রহ.) নাফে (রহ.) থেকে
    বর্ণনা করেন –

    হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রহ.)কে প্রশ্ন করা হলো, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর
    যুগে মহিলারা কিভাবে নামায পড়তেন? তিনি বললেন, “আগে তারা চারজানু হয়ে
    বসতেন। পরে তাদেরকে জড়সড় হয়ে বসতে বলা হয়েছে।” (জামি‘উল মাসানিদ, ১ম খ-,
    ৪০০ পৃষ্ঠা)

    মুহাদ্দিস আবুল ওয়াফা আফগানী (রহ.) এ হাদীস সম্পর্কে লিখেছেন, “উক্ত
    হাদীসটি এ বিষয়ে সর্বাধিক শক্তিশালী। এ কারণেই আমাদের ইমাম এর দ্বারা দলীল
    পেশ করেছেন, এ অনুযায়ী আমল করেছেন এবং এটিকে মাযহাব বানিয়ে নিয়েছেন।
    (কিতাবুল আসার (টীকা), ১ম খ-, ৬০৭ পৃষ্ঠা)

    ফিকহে মালেকী :

    মালেকী মাযহাবের প্রসিদ্ধ ফকীহ ইমাম আবুল আব্বাস আল-কারাফী (রহ.) বলেন,
    “নামাযে মহিলা পুরুষের মতো কিনা এ নিয়ে ইমাম মালেক (রহ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে
    যে, মহিলা ডান উরু বাম উরুর উপর রাখবে এবং যথাসম্ভব জড়সড় হয়ে বসবে। রুকু,
    সিজদা ও বৈঠক কোনো সময়ই ফাঁক ফাঁক হয়ে বসবে না। পক্ষান্তরে পুরুষের পদ্ধতি
    ভিন্ন।”

    (যাখীরা – ইমাম কারাফী, ২য় খ-, ১৯৩ পৃষ্ঠা)

    ফিকহে শাফেয়ী :

    ইমাম শাফেয়ী (রহ.) বলেন, “আল্লাহ তা‘আলা মহিলাদেরকে পুরোপুরি আবৃত থাকার
    শিক্ষা দিয়েছেন। আর তাঁর রাসূলও অনুরূপ শিক্ষা দিয়েছেন। তাই আমার নিকট
    পছন্দনীয় হলো, সিজদা অবস্থায় মহিলারা এক অঙ্গের সাথে অপর অঙ্গকে মিলিয়ে
    রাখবে; পেট উরুর সাথে মিলিয়ে রাখবে এবং সিজদা এমনভাবে করবে, যাতে সতরের
    চূড়ান্ত হিফাজত হয়। অনুরূপ রুকু, বৈঠক ও গোটা নামাযে এমনভাবে থাকবে, যাতে
    সতরের পুরোপুরি হিফাজত হয়।

    (কিতাবুল উম্ম – শাফেয়ী, ১ম খ-, ১৩৮ পৃষ্ঠা)

    ফিকহে হাম্বলী :

    ইমাম ইবনে কুদামা মাকদিসী আল হাম্বলী (রহ.) স্বীয় রচিত ‘আল মুকনী’
    কিতাবে পুরুষের নামাযের পদ্ধতি উল্লেখ করার পর বলেন, “এসব ক্ষেত্রে মহিলার
    হুকুম পুরুষের মতোই। তবে মহিলা রুকু ও সিজদায় নিজেকে গুটিয়ে রাখবে। অনুরূপ
    নামাযের অন্যান্য রুকনেরও এই হুকুম। এতে কারো দ্বিমত নেই। মহিলা চারজানু
    হয়ে বসবে কিংবা উভয় পা এক সাথে করে ডান পাশ দিয়ে বের করে দিবে।”

    (আল-মুকনী, ২য় খ-, ৯০ পৃষ্ঠা)

    উপরোক্ত বক্তব্য উল্লেখ করে আল্লামা মারদাভী (রহ.) বলেন, ইমাম আহমদ থেকে
    স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে যে, “মহিলাদের জন্য উভয় পা ডান দিক দিয়ে বের করে বসাই
    উত্তম।”

    (আল-ইনসাফ ফী মা‘রিফাতির রাজিহি মিনাল খিলাফ – আল্লামা মারদাভী (রহ.), ২য় খ-, ৯০ পৃষ্ঠা)

    উপরোক্ত আলোচনার মাধ্যমে এ কথা স্পষ্ট হলো যে, ফিকহে ইসলামীর অধিক
    প্রচলিত চারটি ধারা ফিকহে হানাফী, ফিকহে মালেকী, ফিকহে হাম্বলী ও ফিকহে
    শাফেয়ী এই চার ফিকহের ইমামদের মাঝে বিভিন্ন মাসআলায় দলীল ভিত্তিক ইখতিলাফ
    থাকলেও মহিলাদের নামাযের পদ্ধতিতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরুষদের থেকে
    ভিন্নতার ব্যাপারে তাদের ভাষ্য ও বক্তব্য এক।

    গাইরে মুকাল্লিদ আলেমগণের ফাতওয়া

    যারা পুরুষ-মহিলার নামাযের পদ্ধতির বিষয়টিকে উপেক্ষা করেন, তাদের মধ্যে
    অন্যতম হলেন গাইরে মুকাল্লিদরা। তাদের এক আলেম নাসিরুদ্দীন আলবানী তার
    ‘সিফাতুস সালাত’ গ্রন্থে লিখেছেন, “পুরুষ ও মহিলার নামাযের পদ্ধতি একই।”
    অথচ তিনি এই দাবীর স্বপক্ষে না কোনো আয়াত কিংবা না কোনো হাদীস পেশ করেছেন।
    আর না কোনো সাহাবী বা তাবেয়ীর বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন। বরং তিনি মহিলার
    নামাযের পার্থ্যক্যের সমর্থনে তাবেয়ী ইয়াযীদ ইবনে আবী হাবীব (রহ.)-এর
    বর্ণিত হাদীসকে (যা বক্ষমান নিবন্ধের প্রথমেই বর্ণিত হয়েছে) ‘মুরসাল’ আখ্যা
    দিয়ে মহিলাদের নামাযের পার্থক্যকে অস্বীকার করেছেন। অথচ গাইরে
    মুকাল্লিদদেরই বিখ্যাত আলেম ও মুহাদ্দিস নওয়াব সিদ্দীক হাসান খান ওই হাদীস
    সম্পর্কে ‘আউনুল বারী’ ১ম খ-, ৫২০ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, “এই মুরসাল হাদীসটি সকল
    ইমামের উসূল ও মূলনীতি অনুযায়ী দলীল হওয়ার যোগ্য।”

    তাদেরই আরেক আলেম মুহাম্মদ দাউদ গজনবী (রহ.)-এর পিতা আল্লামা আবদুল
    জব্বার গজনবী (রহ.)কে জিজ্ঞেস করা হলো, মহিলাদের নামাযে জড়সড় হয়ে থাকা কি
    উচিত? জবাবে তিনি একটি হাদীস উল্লেখ করে বলেন, “এর উপরই আহলে সুন্নাত ওয়াল
    জামা‘আতের চার মাযহাব ও অন্যান্যদের আমল চলে আসছে।” তিনি আরো বলেন – “এর
    অস্বীকারকারীরা হাদীসের কিতাবসমূহ ও উম্মতের সর্বসম্মত আমল সম্পর্কে বেখবর ও
    অজ্ঞ।” (ফাতাওয়া গজনবিয়্যা, ২৭ – ২৮ পৃষ্ঠা, ফাতাওয়া উলামায়ে আহলে হাদীস, ৩
    খ-, ১৪৮ – ১৪৯ পৃষ্ঠা)

    এছাড়াও গাইরে মুকাল্লিদদের অনেক আলেম পুরুষ-মহিলাদের নামাযের পার্থক্যকে
    স্বীকার করেছেন। যা এ সংক্রান্ত বিভিন্ন কিতাবাদিতে পাওয়া যাবে।

    পুরুষ-মহিলার নামাযের পদ্ধতির পার্থক্য সম্পর্কে শরয়ী দলীলের আলোকে বিশদ
    আলোচনা করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা সকলকে সেগুলো বোঝার এবং মানার তাওফীক দান
    করুন। (আমীন।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.