পর্দা: নারীর দুর্গ ও রক্ষাকারী ঢাল

12
1907
প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না
রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

সম্পাদক: ড.আবুবকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

পর্দা একটি ইবাদত,সালাত যেমন ইবাদত। এটি আল্লাহর নির্দেশ। বিষয়টি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণএবং সময়োপযোগী। আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে মাজীদে বলেন, “হে নবী, আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মুমিনদের স্ত্রীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের জিলবাবের কিছু অংশ নিজেদের উপর ঝুলিয়েদেয়। তাদেরকে চেনার ব্যাপারে এটাই সবচেয়ে কাছাকাছি পন্থা হবে। ফলে তাদেরকে কষ্ট দেওয়া হবে না।আর আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়াময়।” [সূরাআল-আহযাব, আয়াত: ৫৯]

বেপর্দা আর নারী-পুরুষের অবাধ মেলা-মেশা সমাজে কেমন বিরূপপরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে এবং নারীকে কীভাবে ভোগ্য-পণ্যের বস্তুতে পরিণত করেছে তাআমরা আমাদের চারদিকে লক্ষ্য করলেই দেখতে পাই। পারিবারিক ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা, অশান্তি, দাম্পত্য-কলহ ও পারস্পরিক অবিশ্বাস, বিবাহ-বিচ্ছেদ, নারী-নির্যাতন ইত্যাদিসবকিছুর পেছনেই একটি প্রধান কারণ হলো পর্দাহীনতা এবং নর-নারীর অবাধ মেলা-মেশা।

যদিও ইসলামের পর্দা-ব্যবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞতা অথবা এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্যকে নাবুঝার কারণে কেউ কেউ একে পশ্চাৎপদতা, সেকেলে, নারীকে শৃঙ্খলিতকরণের পন্থা, উন্নয়নেরঅন্তরায় এবং নারী ও পুরুষের মধ্যে একটি বৈষম্য সৃষ্টির প্রয়াস বলে আখ্যায়িত করেথাকেন। মূলতঃ এ ভুল বুঝাবুঝির জন্য মুসলিমবিশ্বের কতিপয় এলাকায় ইসলামের সত্যিকারশিক্ষার অপপ্রয়োগ আর পাশ্চাত্য গণমাধ্যমের নেতিবাচক ভূমিকাই দায়ী। পাশ্চাত্যগণমাধ্যমের এটা একটা নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, ইসলামের কথা উঠলেই তার প্রতি একটাকুৎসিৎ আচরণ প্রদর্শন করা হয়। আর তাদের এই অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে আমাদের এইঅঞ্চলেও অনেকে পর্দা সম্পর্কে বিরূপ ধারণা পোষণ করে থাকেন। একজন খ্রীষ্টান‘নান’বা ধর্মজাজিকা যখন লম্বা গাউন আর মাথা-ঢাকা পোশাক পরিধান করে থাকেন তখন তা আরপশ্চাৎপদতা, উন্নয়নের অন্তরায় বা নারীকে শৃঙ্খলিতকরণের প্রয়াস বলে বিবেচিত হয় না;বরং তা  শ্রদ্ধা, ভক্তি বা মাতৃত্বের প্রতীক রূপেই বিবেচিত হয়।

অতএব, ইসলামের পর্দা-ব্যবস্থা নারীকেশৃঙ্খলিত করার পরিবর্তে তাঁকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে, সমাজে একটিভারসাম্যপূর্ণ সমাজ-ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছে। ইসলাম নারীকে কিরূপ আসনে অধিষ্ঠিতকরেছে বা পর্দা নারীকে কী মর্যাদা দিয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনায় যাওয়ারআগে আসুন আমরা দেখি, তথাকথিত প্রগতি, নারী-স্বাধীনতা, নারী-পুরুষের অবাধমেলামেশা সমাজকে বা নারীকে কী দান করেছে।

বর্তমান যুগে, বিশেষত পাশ্চাত্য-বিশ্বে নারীকে তাঁর নিজের ভাগ্যনিয়ন্তারূপেআখ্যায়িত করা হয়। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী পুরুষের সাথে তাল-মিলিয়ে এবংঅনেক ক্ষেত্রে নারীকে পুরুষের তুলনায় অধিকতর যোগ্য বাefficientবলেও চিহ্নিত করা হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সত্যিইকি নারী লিঙ্গ-বৈষম্যকে অতিক্রম করে পুরুষের সমান মর্যাদা লাভ করতে পেরেছে?‘কলঙ্কময় অতীতের’নিগ্রহ ও দমন-নিপীড়ন থেকে রক্ষা পেয়েছে?তথাকথিত নারী-স্বাধীনতাকি নৈতিকতা সমৃদ্ধ শান্তিপূর্ণ একটি নতুন সমাজ-ব্যবস্থার ইঙ্গিত প্রদান করে?সত্যিই কি নারী প্রকৃত সামাজিক ন্যায়-বিচার লাভে সমর্থ হয়েছে?আমরা যদি বর্তমানপাশ্চাত্য-সমাজের দিকে তাকাই তাহলে এর উত্তর হবে: ‘না’। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারীতাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হলেও পাশ্চাত্যের সমাজ-ব্যবস্থা আজ এক ভয়াবহসঙ্কটের সম্মুখীন। তাই এককালের ‘সেকেলে’’বা‘out dated family concept’বা পারিবারিক প্রথা নিয়ে সমাজবিজ্ঞানীগণ নতুন করে ভাবতে শুরুকরেছেন। নারী-নির্যাতন, শিশুহত্যা, পতিতাবৃত্তি, ধর্ষণ, বিবাহ-বিচ্ছেদ, লিভিংটুগেদার, মাদকাসক্তি, কুমারী-মাতৃত্ব বাsingle mother, ইত্যাদি সমস্যা আজ পাশ্চাত্য-সমাজকে কুরে কুরে খাচ্ছে। কেবলপাশ্চাত্য বা উন্নত বিশ্বই নয়, আজ আমাদের সমাজেও এ-সকল ব্যাধির ক্রমশ সংক্রমন ঘটছে।বাহ্যিক চাকচিক্য আর উন্নতির খোলস ভেদ করতে পারলেই আমরা সেই অন্তর্নিহিত সমস্যাগুলোদেখতে পাই। প্রচলিত সাধারণ ধারণায় বিংশ শতাব্দি, বিশেষ করেদ্বিতীয়-বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময় থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত সময়কে নারী স্বাধীনতারস্বর্ণযুগ বলে আখ্যায়িত করা হলেও এক সমীক্ষায় দেখা যায় যে, এ সময়ে বিশ্বেনারী-নির্যাতন বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা পঁচিশ ভাগ। এ বিষয়ে এখানে কয়েকটি জরিপেরউল্ল্যেখ করা হলোঃ

১. গর্ভপাত

১৯৬৮ সালে ইংল্যাণ্ডে গর্ভপাতকে বৈধতা প্রদান করার পর সেখানে কেবল রেজিস্টার্ডগর্ভপাতের ঘটনাই বৃদ্ধি পেয়েছে দশগুণ। এর মধ্যে মাত্র শতকরা একভাগ (১%) স্বাস্থ্যগতকারণে আর বাকী ৯৯%-ই অবৈধ গর্ভধারণের কারণে ঘটেছে। ১৯৬৮ সালে যেখানে ২২,০০০রেজিস্টার্ড গর্ভপাত ঘটানো হয় সেখানে ১৯৯১ সালে এক লক্ষ আশি হাজার আর ১৯৯৩ সালে তাদাঁড়ায় আট লক্ষ উনিশ হাজারে। এর মধ্যে পনের বছরের কম বয়সী মেয়ের সংখ্যা তিন হাজার।এটা তো গেল যুক্তরাজ্যের অবস্থা। এখন আসুন যুক্তরাষ্ট্র বা আমেরিকার দিকে দৃষ্টিদেওয়া যাক। সেখানকার পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। রেজিস্টার্ড পরিসংখ্যান অনুযায়ী কেবলমাত্র১৯৯৪ সালেই যুক্তরাষ্ট্রে দশ লক্ষ গর্ভপাত ঘটানো হয়।The Alan Guttmachere Instituteনামের একটি গবেষণা-প্রতিষ্ঠানের মতে প্রকৃত গর্ভপাতেরসংখ্যা উক্ত সংখ্যার তুলনায় ১০%-২০% বেশি। এক্ষেত্রে ক্যানাডার পরিস্থিতি কিছুটা‘ভালো’। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেক। তবে জাপানের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রেরদ্বিগুণ। অর্থাৎজাপানে প্রতি বছর প্রায় বিশ লক্ষ রেজিস্টার্ড গর্ভপাত ঘটানো হয়েথাকে। তথাকথিত সভ্য-জগতে ‘ইচ্ছার স্বাধীনতা’-র জন্য বিগত ২৫ বছরে এক বিলিয়ন অর্থাৎদশ কোটিরও অধিক ভ্রুণকে হত্যা করা হয়। উক্ত সংখ্যা কেবলমাত্র রেজিস্টার্ডপরিসংখ্যান থেকে নেওয়া হয়েছে। প্রকৃত সংখ্যা আরো ভয়াবহ। ‘বর্বরযুগে’ কন্যা-সন্তানদের হত্যা করা হতো অর্থনৈতিক কারণে। কিন্তু আজ তথাকথিত সভ্য-জগতেব্যাভিচার, অবৈধ-মিলন আর অনৈতিকতার চিহ্ন মুছে ফেলতে এইসব হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে।এ-সবই হলো বেপর্দা আর নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার কুফল।

২. ধর্ষণ

ধর্ষণের প্রকৃত সংখ্যা জানা সহজ নয়। অনেক ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগী এ-বিষয়ে রিপোর্টকরে না। ফলে, যে-সংখ্যা পাওয়া যায়, বাস্তবে তা অনেক বেশি ঘটে। ব্রিটিশ পুলিশের মতে১৯৮৪ সালে, এই এক বছরে, বৃটেনে ২০,০০০ (বিশ হাজার)-এর অধিক নিগ্রহ এবং ১৫০০ (পনেরশত) ধর্ষণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়।The London Rape Crisis Center -এর মতে বৃটেনে প্রতিবছর অন্তত পাঁচ থেকে ছয় হাজার ধর্ষণের ঘটনারেকর্ড হয়ে থাকে, আর প্রকৃত সংখ্যা তার চাইতেও বেশি। ১৯৯৪ সাল নাগাদ এই সংখ্যা গিয়েদাঁড়িয়েছে ৩২,০০০ হাজারে। উক্ত সংস্থার মতে”If we accept the highest figures, we may say that, on average, one rape occurs every hour in England.”মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি সবচাইতে ভয়াবহ। এখানে বিশ্বেরসর্বাধিক সংখ্যক ধর্ষণের ঘটনা ঘটে থাকে। সে সংখ্যা জার্মানীর সংখ্যার চাইতে চারগুণ, বৃটেনের চাইতে ১৮ গুণ আর জাপানের চাইতে প্রায় বিশগুণ বেশি। সবচাইতে উদ্বেগজনক এবংবাস্তবতা এই যে, ৭৫% ভাগ ধর্ষণের ঘটনাই ঘটে থাকে পূর্ব-পরিচিতের দ্বারা আর ১৬%নিকট-আত্মীয় বা বন্ধুর দ্বারা।National Council for Civil Libertiesনামক সংস্থার মতে ৩৮% ক্ষেত্রে পুরুষ তাঁর অফিসিয়াল ক্ষমতা বাকর্তৃত্ব প্রয়োগ করে নারীকে ধর্ষণ করে থাকে। আর ৮৮% মহিলা কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানিরস্বীকার হয়ে থাকেন। এই হলো তথাকথিত উন্নত ও নারী-স্বাধীনতার দাবীদার দেশগুলোরঅবস্থা।

৩. বিবাহ-বিচ্ছেদ

বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে বিবাহপূর্ব সহবাস এবং’Live Together’ -এর প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ১৯৬০ সালে জন্ম গ্রহণকারী বৃটেনেরনারীদের প্রায় অর্ধেক প্রাক-বিবাহ সহবাসের অভিজ্ঞতা অর্জন করে। এর পক্ষে তাঁদেরযুক্তি ছিল যে, এর ফলে নর-নারী একে অপরকে ভালোভাবে জানতে পারে এবং এর পর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলে তা স্থায়ীত্ব লাভ করে থাকে।কিন্তু বাস্তবতা তার সম্পূর্ণ বিপরীত।ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ইংল্যাণ্ডেই সর্বাধিক বিবাহ-বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেথাকে। ১৯৮৩ সালে যুক্তরাজ্যে যেখানে এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনাঘটে, ১৯৯৪ সালে তার সংখ্যা দাঁড়ায় এক লক্ষ পয়ষট্টি হাজারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে১৯৭০ সালে বিবাহ-বিচ্ছেদের সংখ্যা ছিল সাত লক্ষ আট হাজার, আর ১৯৯০ সালে তা দাঁড়ায়এগার লক্ষ পঁচাত্তর হাজারে। পক্ষান্তরে, বিবাহের হারে তেমন কোনোউল্ল্যেখযোগ্য-সংখ্যক পরিবর্তন হয়নি।

৪. কুমারী-মাতৃত্ব ও একক-মাতৃত্ব

পশ্চিমা-বিশ্বের তথাকথিত “নারী স্বাধীনতার” আরেক অভিশাপ হলো কুমারী-মাতৃত্ব।বৃটেনে এক জরিপে দেখা যায় যে, ১৯৮২ সালে যেখানে কুমারী-মাতার সংখ্যা ছিল নব্বইহাজার, ১৯৯২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় দুই লক্ষ পনের হাজারে। ১৯৯২ সালে জন্ম নেওয়াশিশুদের ৩১% ছিল অবিবাহিতা মাতার সন্তান। এই অবিবাহিতা বা কুমারী-মাতাদের মধ্যেআড়াই হাজারের বয়স ১৫ (পনের) বছরের নীচে। বৈধ বিবাহের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া শিশুরতুলনায় অবৈধ শিশুর জন্মের হারও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপরদিকে, অবৈধভাবে জন্মনেওয়া শিশুর দায়ভার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বর্তাচ্ছে কুমারী-মাতা বা একক-মাতৃত্বের(single mother)উপর। নারীর উপর কুমারী-মাতৃত্বের এইদায়ভার পশ্চিমা-বিশ্বে নারী-নিপীড়নের এক নিষ্ঠুর উদাহরণ।

৫. মদ্যপান ও ধুমপান

পশ্চিমা ধাঁচের নারী-পুরুষের সমানাধিকার নারী সমাজের মধ্যে অনেক মন্দ অভ্যাসেরজন্ম দিয়েছে। একসময় মদ্যপান ও ধূমপানকে কেবল পুরুষের বদঅভ্যাস হিসাবে চিহ্নিত করাহতো। কিন্তু আজ নারীও তাতে আসক্ত হয়ে পড়েছে।The Sunday Times – এর এক রিপোর্টে দেখা যায় যে, নারীরা ‘নির্ধারিত মাত্রার’ চাইতেঅধিক পরিমাণে মদ্যপানে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। আর ধুমপানের ক্ষেত্রে এর সংখ্যা এবংপরিমাণ পুরুষের সমান সমান।

৬. বিজ্ঞাপনে ও পর্নোগ্রাফীতে

তথাকথিত নারী-স্বাধীনতার নামে নারীকে আজ যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করা হচ্ছেবিজ্ঞাপন-সামগ্রী এবং পর্নোগ্রাফীতে। পণ্যের বিজ্ঞাপনে নারী যেন আজ একটি অপরিহার্যবিষয়। সম্প্রতি দি ওয়াশিংটন পোষ্ট পত্রিকার বরাত দিয়ে আমাদের ঢাকার দৈনিক জনকন্ঠেপ্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়,

“আমেরিকার মেয়েরা যৌন-আবেদনময়ী হওয়ার পরিবেশেই বড় হচ্ছে। তাঁদের সামনে যেসব পণ্যও ছবি তুলে ধরা হচ্ছে তাতে তাঁরা যৌনতার দিকেই আকৃষ্ট হচ্ছে। মার্কিন সংস্কৃতি, বিশেষ করে প্রধান প্রধান প্রচার-মাধ্যমে মহিলা ও তরুনীদের যৌন-ভোগ্য-পণ্য হিসেবেদেখানো হচ্ছে। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল এসোসিয়েশন (এপিএ) টাষ্ক ফোর্স অন দ্যাসেক্সুয়ালাইজেশন অব গার্লস-এর সম্প্রতি প্রকাশিত এক রিপোর্টে একথা বলা হয়।রিপোর্টের প্রণেতাগণ বলেন, টিভি-শো থেকে ম্যাগাজিন এবং মিউজিক-ভিডিও থেকে ইণ্টারনেটপর্যন্ত প্রতিটি প্রচার-মাধ্যমেই এই চিত্রই দেখা যায়। …………. প্রণেতাদেরমতে, যৌনরূপদান তরুনী ও মহিলাদের তিনটি অতি সাধারণ মানসিকস্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গেসম্পর্কযুক্ত।এগুলো হলো পেটের গোলযোগ, আত্মসম্মানহানিবোধ এবং মনমরা ভাব। …………….. লিজ গুয়া নামের একজন মহিলা বলেন, তিনি তাঁর ৮ (আট) বছরের মেয়েতানিয়ার উপযোগী পোশাক খুঁজে পেতে অসুবিধায় রয়েছেন। প্রায়ই সেগুলো খুবই আঁটসাঁট, নয়তো খুবই খাটো। যৌন-আবেদন ফুটিয়ে তোলার জন্যই এ ধরনের পোশাক তৈরি করা হয়।” (দৈনিক জনকন্ঠ, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০০৭)

এতক্ষণ পর্যন্ত তথাকথিত নারী-স্বাধীনতার নামে পশ্চিমা-জগতের ঘুনেধরা সমাজের একটিভয়ঙ্কর চিত্র আপনাদের সম্মুখে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। বাস্তবচিত্র তার চাইতেও আরোঅনেক বেশি ভয়াবহ। অর্থনৈতিক চাকচিক্য আর প্রযুক্তিগত উন্নতির আড়ালে তথাকথিত ‘আধুনিক’ বিশ্বের সমাজ ও পারিবারিক ব্যবস্থায় আজ ধ্বস নেমেছে। নারী-স্বাধীনতা ওব্যক্তি-স্বাধীনতার নামে নারী আজ পদে পদে লাঞ্ছিত ও নিগৃহীত হচ্ছে, ব্যবহৃত হচ্ছে’ ভোগের সামগ্রী হিসাবে। এথেকে মুক্তির একমাত্র উপায় ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ওজীবন-নির্ধারণের সঠিক ও পূর্ণ অনুসরণ।

আমি আমার বক্তব্যের শুরুতে পবিত্র কুরআন মজিদের সূরা আল-আহযাবের যে আয়াতটিউল্লেখ করেছি সেখানে সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ্‌ তা‘আলা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএবং মুমিনগণকে এ নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাঁদের স্ত্রী এবং কন্যাগণ যেন চাদরদ্বারা নিজেদের শরীর ঢেকে রাখে। যার মধ্যে তাঁদের জন্য রয়েছেস্বাচ্ছন্দ্য এবং প্রশান্তি।

আমি শুরুতেই উল্লেখ করেছি যে, অনেকে ইসলামের পর্দা-ব্যবস্থাকে সঠিকভাবে নাবুঝার কারণে একে নানাভাবে সমালোচনা করে থাকেন। তাঁরা মনে করেন, এ-ব্যবস্থারমাধ্যমে মুসলিম-সমাজে নারীদের উপরে একপ্রকার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। যার ফলে, তাঁরা মানবীয় কার্যাদিতে ইচ্ছামত অংশগ্রহণ করতে পারে না। কিন্তু এই ধারণা ঠিক নয়।পর্দা এবং নারী-পুরুষের পৃথকীকরণের ইসলামী ধারণাকে বুঝতে হলে তা বুঝতে হবেনারীদের সতীত্বের পবিত্রতা রক্ষার্থে এবং সমাজে নারীদের মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখারস্বার্থে গৃহীত ব্যবস্থাদির প্রেক্ষাপটে, যার মাধ্যমে ঐসব উদ্দেশ্য লঙ্ঘনের আশঙ্কাতিরোহিত হয়।

পবিত্র কুরআনে সূরা নূরের ৩১ ও ৩২ নং আয়াতে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, “(হে নবী আপনি) মুমিন পুরুষদেরকে বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। এটিই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয় তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত।” [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩০]

তিনি আরো বলেন, “আর “(হে নবী আপনি) মুমিন নারীদেরকে বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। আর যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য তারা প্রকাশ না করে। তারা যেন তাদের ওড়না দিয়ে বক্ষদেশকে আবৃত করে রাখে। আর তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, নিজদের ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাই এর ছেলে, বোনের ছেলে, আপন নারীগণ, তাদের ডান হাত যার মালিক হয়েছে (ক্রিতদাস-ক্রিতদাসী), অধীনস্থ যৌনকামনামুক্ত পুরুষ অথবা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া কারো কাছে নিজদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন নিজদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশ করার জন্য সজোরে পদচারণা না করে। হে মুমিনগণ, তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তাওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।” [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩১]

নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা এবং নর-নারীর মধ্যে চুপিসারে সংঘটিত সব অনৈতিকক্রিয়াকলাপের পরিণাম কি ভয়ঙ্কর হতে পারে, তা আমি ইতোপূর্বে আপনাদের সম্মুখেউপস্থাপন করেছি। আমরা দেখেছি যে, আপাত দৃষ্টে নারী-পুরুষ উভয়ের সম্মতিতে সংঘটিতঅপরাধের ফল নারীকেই এককভাবে ভুগতে হয়েছে বেশি। তাই, ইসলাম নারী-পুরুষ উভয়কে শুধুপরস্পরের প্রতি লোলুপ দৃষ্টি দিতেই বারণ করেনি, অধিকন্তু সকল প্রকারের দৈহিকসংস্পর্শ থেকেও বিরত থাকতে নির্দেশ প্রদান করেছে, যাতে করে অদম্য তাড়নার উদ্রেকঘটতে না পারে। ইসলাম মনে করে”Prevention is better than the cure”অর্থাৎ, দুর্ঘটনা ঘটার আগে তার পথগুলো বন্ধ করাই শ্রেয়তর।

একজন নারী, যিনি তাঁর পোশাক ও চলা-ফেরায় পর্দার নিয়মাবলী বা ‘হিজাব’পালন করেথাকেন, তিনি সাধারণত অন্য পুরুষ দ্বারা অসম্মানিত ও লাঞ্ছিত হন না। এভাবেএকজনমুসলিম নারী ‘হিজাব’বা পর্দা-পালনের মাধ্যমে অনেক সমস্যা থেকে নিজেকে মুক্তরাখতে পারেন, যা আজ পশ্চিমা জগতের নারীরা অহরহ মোকাবিলা করছেন।

ইসলাম নিঃসন্দেহে পর্দার মাধ্যমে নারী জাতিকে মর্যাদা ও সম্মানের আসনেঅধিষ্ঠিত করেছে এবং তাকে এমন এক নিরাপত্তা দান করেছে, যার ফলে একজন নারী অধিকতরস্বাচ্ছন্দে তাঁর কাজকর্মসমূহ সমাধা করতে পারে। পর্দা মুসলিম নারীকে প্রশান্তি দানকরেছে। আমরা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করে থাকবো যে, পর্দা বা হিজাব পালনকারী একজন নারীঅধিকতর নিরুদ্বেগ ও স্বাচ্ছন্দপূর্ণ জীবন যাপন করে থাকেন। এটা এ কারণে যে, আত্ম-মর্যাদাশীল নারী হওয়ার জন্য ইসলাম দৈহিক অবয়বের গুরুত্বকে কমিয়ে দিয়েছে।

আল্লাহ আমাদের সঠিকভাবে বুঝে, সে অনুযায়ী আমল করার তাওফীক দান করুক। আমীন।

সমাপ্ত

Print Friendly, PDF & Email


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

12 মন্তব্য

  1. এই প্রবন্ধে আল-কুর’আনের
    আয়াতের নাম্বার গুলো ভুল হয়েছে। দয়া করে ঠিক করুন। 
    (১) “হে নবী, তুমি
    তোমার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মুমিনদের
    স্ত্রীদেরকে বল, তারা যেন তাদের জিলবাবের কিছু অংশ
    নিজেদের উপর ঝুলিয়ে দেয়। তাদেরকে চেনার ব্যাপারে এটাই সবচেয়ে কাছাকাছি পন্থা
    হবে। ফলে তাদেরকে কষ্ট দেয়া হবে না।আর
    আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়াময়।” [সূরা
    আল-আহযাব (৩৩) : আয়াত নং ৫৯]
    http://al-quran.info/#33:59/11FaFbN3N8 
    (২) “মুমিন পুরুষদেরকে বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত
    করবে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয় তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক
    অবহিত। ” [সূরা আল-নূর (২৪): আয়াত নং ৩০] http://al-quran.info/#24:30/11FaFbN3N8

    (৩) “আর মুমিন নারীদেরকে বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত
    করবে। আর যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য তারা প্রকাশ করবে না। তারা
    যেন তাদের ওড়না দিয়ে বক্ষদেশকে আবৃত করে রাখে। আর তারা যেন তাদের
    স্বামী, পিতা, শ্বশুর, নিজদের ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাই এর ছেলে, বোনের ছেলে, আপন নারীগণ, তাদের ডান হাত যার মালিক হয়েছে, অধীনস্থ
    যৌনকামনামুক্ত পুরুষ অথবা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া কারো কাছে নিজদের
    সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন নিজদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশ করার জন্য সজোরে
    পদচারণা না করে। হে মুমিনগণ, তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তাওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।” [সূরা আল-নূর (২৪) : আয়াত নং ৩১] http://al-quran.info/#24:31/11FaFbN3N8

  2. এই প্রবন্ধে আল-কুর’আনের
    আয়াতের নাম্বার গুলো ভুল হয়েছে। দয়া করে ঠিক করুন। 
    (১) “হে নবী, তুমি
    তোমার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মুমিনদের
    স্ত্রীদেরকে বল, তারা যেন তাদের জিলবাবের কিছু অংশ
    নিজেদের উপর ঝুলিয়ে দেয়। তাদেরকে চেনার ব্যাপারে এটাই সবচেয়ে কাছাকাছি পন্থা
    হবে। ফলে তাদেরকে কষ্ট দেয়া হবে না।আর
    আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়াময়।” [সূরা
    আল-আহযাব (৩৩) : আয়াত নং ৫৯]
    http://al-quran.info/#33:59/11FaFbN3N8 
    (২) “মুমিন পুরুষদেরকে বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত
    করবে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয় তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক
    অবহিত। ” [সূরা আল-নূর (২৪): আয়াত নং ৩০] http://al-quran.info/#24:30/11FaFbN3N8

    (৩) “আর মুমিন নারীদেরকে বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত
    করবে। আর যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য তারা প্রকাশ করবে না। তারা
    যেন তাদের ওড়না দিয়ে বক্ষদেশকে আবৃত করে রাখে। আর তারা যেন তাদের
    স্বামী, পিতা, শ্বশুর, নিজদের ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাই এর ছেলে, বোনের ছেলে, আপন নারীগণ, তাদের ডান হাত যার মালিক হয়েছে, অধীনস্থ
    যৌনকামনামুক্ত পুরুষ অথবা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া কারো কাছে নিজদের
    সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন নিজদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশ করার জন্য সজোরে
    পদচারণা না করে। হে মুমিনগণ, তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তাওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।” [সূরা আল-নূর (২৪) : আয়াত নং ৩১] http://al-quran.info/#24:31/11FaFbN3N8

  3. এই
    প্রবন্ধে আল-কুর’আনের বিভিন্ন আয়াতের সঠিক নাম্বার
    গুলো হবেঃ

    (১)
    “হে নবী, তুমিতোমার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মুমিনদেরস্ত্রীদেরকে বল,
    তারা যেন তাদের জিলবাবের কিছু অংশনিজেদের
    উপর ঝুলিয়ে দেয়। তাদেরকে চেনার ব্যাপারে এটাই সবচেয়ে কাছাকাছি পন্থাহবে। ফলে তাদেরকে কষ্ট দেয়া হবে না।আরআল্লাহ
    অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়াময়।” [সূরাআল-আহযাব (৩৩): আয়াতনং৫৯] প্রমানের জন্য অনলাইন লিঙ্কঃhttp://al-quran.info/#33:59/11FaFbN3N8
     (২)
    “মুমিন পুরুষদেরকে বল,
    তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের
    হিফাযতকরবে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয় তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ
    সম্যকঅবহিত।
    ” [সূরা আল-নূর (২৪): আয়াতনং৩০] প্রমানের জন্য অনলাইন লিঙ্কঃhttp://al-quran.info/#24:30/11FaFbN3N8
    (৩)
    “আর মুমিন নারীদেরকে বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের
    হিফাযতকরবে। আর যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য তারা প্রকাশ করবে
    না। তারাযেন তাদের ওড়না দিয়েবক্ষদেশকে
    আবৃত করে রাখে। আর তারা যেন তাদেরস্বামী, পিতা, শ্বশুর, নিজদের
    ছেলে, স্বামীর ছেলে,
    ভাই,
    ভাই এর ছেলে, বোনের ছেলে, আপন
    নারীগণ, তাদের ডান হাত যার মালিক হয়েছে, অধীনস্থযৌনকামনামুক্ত
    পুরুষ অথবা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া কারো কাছে নিজদেরসৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন নিজদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশ করার জন্য
    সজোরেপদচারণা না করে। হে মুমিনগণ, তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তাওবা কর, যাতে
    তোমরা সফলকাম হতে পার।”
    [সূরা আল-নূর (২৪) : আয়াতনং৩১] প্রমানের জন্য অনলাইন লিঙ্কঃhttp://al-quran.info/#24:31/11FaFbN3N8
    অর্থাৎ সূরাআল-আহযাবের ৬০ আয়াতনং-এরপরিবর্তে সঠিক আয়াত নং হবে ৫৯, সূরাআল-নূরের ৩১ আয়াতনং-এর পরিবর্তে সঠিক আয়াত নং হবে ৩০ এবং সূরাআল-নূরের ৩২ আয়াতনং-এর পরিবর্তে সঠিক আয়াত নং হবে ৩১।
     

    আশাকরি কুরআনের আলো সম্পাদনা পরিষদ এই বিষয়ের দিকে নজর দিবেন। মনে রাখবেন রাসূলুল্লাহমুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন (ব্যাখ্যার অর্থ): “কোনোব্যাক্তিরমিথ্যাবাদীহওয়ার
    জন্য এতটুকুইযথেষ্ঠযে, সে
    যা শুনে তাই যাচাই না করে বিশ্বাস করে এবং অন্যের কাছে প্রচার করে।” [সহীহ মুসলিম, ভূমিকা, অনুচ্ছেদঃ ০৩, হাদীস নং০৫]

  4. এই
    প্রবন্ধে আল-কুর’আনের বিভিন্ন আয়াতের সঠিক নাম্বার
    গুলো হবেঃ

    (১)
    “হে নবী, তুমিতোমার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মুমিনদেরস্ত্রীদেরকে বল,
    তারা যেন তাদের জিলবাবের কিছু অংশনিজেদের
    উপর ঝুলিয়ে দেয়। তাদেরকে চেনার ব্যাপারে এটাই সবচেয়ে কাছাকাছি পন্থাহবে। ফলে তাদেরকে কষ্ট দেয়া হবে না।আরআল্লাহ
    অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়াময়।” [সূরাআল-আহযাব (৩৩): আয়াতনং৫৯] প্রমানের জন্য অনলাইন লিঙ্কঃhttp://al-quran.info/#33:59/11FaFbN3N8
     (২)
    “মুমিন পুরুষদেরকে বল,
    তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের
    হিফাযতকরবে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয় তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ
    সম্যকঅবহিত।
    ” [সূরা আল-নূর (২৪): আয়াতনং৩০] প্রমানের জন্য অনলাইন লিঙ্কঃhttp://al-quran.info/#24:30/11FaFbN3N8
    (৩)
    “আর মুমিন নারীদেরকে বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের
    হিফাযতকরবে। আর যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য তারা প্রকাশ করবে
    না। তারাযেন তাদের ওড়না দিয়েবক্ষদেশকে
    আবৃত করে রাখে। আর তারা যেন তাদেরস্বামী, পিতা, শ্বশুর, নিজদের
    ছেলে, স্বামীর ছেলে,
    ভাই,
    ভাই এর ছেলে, বোনের ছেলে, আপন
    নারীগণ, তাদের ডান হাত যার মালিক হয়েছে, অধীনস্থযৌনকামনামুক্ত
    পুরুষ অথবা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া কারো কাছে নিজদেরসৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন নিজদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশ করার জন্য
    সজোরেপদচারণা না করে। হে মুমিনগণ, তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তাওবা কর, যাতে
    তোমরা সফলকাম হতে পার।”
    [সূরা আল-নূর (২৪) : আয়াতনং৩১] প্রমানের জন্য অনলাইন লিঙ্কঃhttp://al-quran.info/#24:31/11FaFbN3N8
    অর্থাৎ সূরাআল-আহযাবের ৬০ আয়াতনং-এরপরিবর্তে সঠিক আয়াত নং হবে ৫৯, সূরাআল-নূরের ৩১ আয়াতনং-এর পরিবর্তে সঠিক আয়াত নং হবে ৩০ এবং সূরাআল-নূরের ৩২ আয়াতনং-এর পরিবর্তে সঠিক আয়াত নং হবে ৩১।
     

    আশাকরি কুরআনের আলো সম্পাদনা পরিষদ এই বিষয়ের দিকে নজর দিবেন। মনে রাখবেন রাসূলুল্লাহ মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন (ব্যাখ্যার অর্থ): “কোনোব্যাক্তিরমিথ্যাবাদীহওয়ার
    জন্য এতটুকুইযথেষ্ঠযে, সে
    যা শুনে তাই যাচাই না করে বিশ্বাস করে এবং অন্যের কাছে প্রচার করে।” [সহীহ মুসলিম, ভূমিকা, অনুচ্ছেদঃ ০৩, হাদীস নং০৫]

  5. জাযাকাল্লাহু খাইরান। এই ভুলটি ধরিয়ে দেয়ার জন্য ইনশাহআল্লাহ আমারা এখন থেকে আরও সতর্ক হব। আল্লাহ্‌ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমীন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here