বিক্রয়ের জন্য নহে!

19
প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না
রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

লেখিকাঃ রেহনুমা বিনত আনিস

আমার ক্যানাডিয়ান নওমুসলিমা ছাত্রী আয়শা- বয়স ১৯, পরীর মত সুন্দরী, সৌন্দর্য নিয়ে পড়াশোনা করছে। আমার কাছে আরবী পড়া শেখার পাশাপাশি ইসলাম সম্পর্কে কিছু কিছু তথ্য জেনে নেয়।

ওর সাথে পরিচয় এই রামাদানে। সেদিন ইফতার পার্টি ছিল, রাতে কিয়ামুল লাইল। ইফতারের পর আমরা পাশাপাশি নামাজে দাড়ালাম। সামনে, পেছনে, পাশে এত মহিলা এবং বাচ্চারা গিজ গিজ করছে যে নামাজে মনোযোগ ধরে রাখা যুদ্ধসম কঠিন ব্যাপার। লক্ষ্য করলাম এর মাঝেই সে একমনে স্রষ্টার সাথে বাক্যালাপ চালিয়ে যাচ্ছে। এই ময়দানের মধ্যে সে যেন একাই দাঁড়িয়ে! জানতে পারলাম পাঁচ ওয়াক্তের পাশাপাশি সে এমন অনেক এক্সট্রা নামাজ পড়ে যার নামও অনেক জন্মগত মুসলিমের অজানা।

ইসলামের প্রতি ওর আগ্রহ আমাকে চমৎকৃত করল। সে ইসলাম গ্রহণ করেছে দু’বছর। কিন্তু সে ইসলামকে গ্রহণ করেছে আন্তরিকভাবে, ফলে সে এর সবটুকুই পালন করার জন্য আগ্রহী এবং যত্নশীল। দেখলাম সে এর মাঝেই ভারী সুন্দর বোরকা এবং স্কার্ফের কালেকশন করে নিয়েছে। ওর পোশাক আশাক থেকে সবকিছুতে রুচিশীলতার বহিঃপ্রকাশ। তবে এর সবটুকুই ইসলামের দৃষ্টিতে যতটুকু গ্রহণযোগ্য সে বিবেচনা মাথায় রেখে। যেমন যেখানে ক্যানাডায় নেইল পলিশ ছাড়া কোন স্টাইলিশ মেয়ের দেখা পাওয়া অস্বাভাবিক, ওর হাতে পায়ে কোথাও নেইল পলিশ নেই। স্কার্ফ বা ওড়না যখন যাই পরে কোনটিতেই একটি চুলও কোনদিন বেরিয়ে থাকতে দেখিনি।

 

রাতে কুর’আনের আলোচনার সময় বাংলায় আলোচনা হওয়ায় বেচারী বুঝতে পারছিলোনা। আমি তখন ওর আগ্রহ দেখে কিছু অংশ মুখে এবং কিছু অংশ লিখে বুঝিয়ে দিতে লাগলাম। সে কৃতজ্ঞচিত্তে সব শুষে নিতে লাগল এবং মাঝে মাঝে প্রশ্ন করে সঠিকভাবে বুঝে নিল। যখন আলোচনা শেষে নামাজ শুরু হবে সে এসে আমাকে বলল, “আমি কি আপনার পাশে দাঁড়াতে পারি? তাহলে আমি আপনাকে দেখে আমার posture গুলো ঠিক হচ্ছে কি’না ঠিক করে নিতে পারব”।

আমি তো হতবাক! অনেক সময় অনেক আত্মীয় বন্ধুবান্ধবকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিশেষ করে রুকু এবং সিজদায় posture এর ভুলের ব্যাপারে বলতে গিয়ে তাদের বিরাগভাজন হয়েছি। আর সে কি’না বলে নামাজ সঠিকভাবে পড়ার জন্য posture ঝালাই করে নেবে! ওর আগ্রহ আবারও আমাকে চমৎকৃত করল।

এর পর থেকে কুর’আনের লিঙ্ক নেয়া থেকে শুরু করে ভ্রূ তোলার মাসয়ালা পর্যন্ত নানান বিষয়ে ওর সাথে আলাপ হয়েছে। ভাল লেগেছে যে সে কোন বিষয়ে জানার সাথে সাথে তাকে গ্রহণ করেছে, কুতর্কের আশ্রয় নেয়নি। অথচ এতটা স্বতঃস্ফুর্তভাবে ইসলামের সকল হুকুম আহকামকে আঁকড়ে ধরার আগ্রহ আমি অনেক ইসলাম জানা মানুষের মাঝেও দেখিনি!

ক’দিন আগে নতুন করে ওর ইসলামের বোধ এবং অনুভূতির পরিচয় পেয়ে আবারও মুগ্ধ হলাম। ক্যানাডার একটি বৃহৎ ফ্যাশন হাউজ একটি ফ্যাশন শোর আয়োজন করছে। একপর্বে সমাপ্য শোটিতে মডেলিং করার জন্য ওকে ৪০,০০০ ক্যানাডিয়ান ডলার অফার করা হয়। সে স্রেফ না করে দেয় এই বলে, “আমার ধর্ম আমাকে নিজেকে পুঁজি করার অনুমতি দেয়না”। শুনে এত ভাল লাগল! মনে হল এই মেয়েটি খানিকটা দেরীতে ইসলামকে খুঁজে পেয়েছে, কিন্তু সেই তো পেয়েছে এর আসল আস্বাদ! দোকানে, লাইব্রেরীতে, মসজিদে ওর মত এমন আরো অনেক নওমুসলিমা বোনকে দেখে পুলকিত হই, আশা জাগে আগামী দিনে ইসলামের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত নিয়ে।

আবার ভয় হয় আমরা যারা জন্মগতভাবে একে পেয়েও হেলায় হারিয়েছি তারা বুঝি আবার অপ্রয়োজনীয় এবং অপাংক্তেয় হয়ে পড়ি!

*****************
( মূল লেখাটি এখানে )

Print Friendly, PDF & Email


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

19 মন্তব্য

  1. মাশআল্লাহ আল্লাহ আমাদের এই বোনটিকে আরো খাঁটি মুসলমান হওয়ার তাওফিক দান করুক।
    আর আমাদের কে ও পূর্ন হিদায়াত দান করুক

  2. আমরা, যাদেরকে আল্লাহ্‌ (সুবহানাহুতায়ালা) জন্ম নির্ধারণ করে দিয়েছেন একটি মুসলিম পরিবারে, তারা কত বড় ভাগ্যবান, আমাদের চিন্তা করে দেখা উচিত। আমাদের ইসলাম জানার ও পালন করার জন্য আমাদের আগ্রহই যথেস্ট (আল্লাহ্‌র ইচ্ছায়), আমাদের ইসলামের পথে চলার জন্য পরিবার ত্যাগ করতে হবে না, সমাজ ত্যাগ করতে হবে না, যন্ত্রনার সম্মুখীন হতে হবে না। যা একজন অমুসলিম মুসলিম হলে তাঁর সবগুলোই ত্যাগ করতে হয়, পরিবার (বাবা, মা, ভাই, বোন, আত্মীয়স্বজন, স্ত্রী-সন্তান যদি ইসলাম গ্রহণ না করে অথবা তাঁর মুসলিম হওয়াকে সমর্থন না করে), সমাজ।
    একজন অমুসলিম যখন ইসলামকে তাঁর জীবনবিধান হিসাবে গ্রহণ করে মুসলিম হয় তখন তাঁর মাঝে কতবড় পরিবর্তন আল্লাহ্‌ দেন তা একমাত্র তারাই অনুভব করতে পারে। একজন নওমুসলিম ইসলামকে, আল্লাহকে, রাসুল (সাঃ) কে ভালবেসেই মুসলিম হয়েছে। আমি মাঝে মাঝেই বিভিন্ন দেশের নওমুসলিমের লেকচার শুনি, ইসলাম সম্পর্কে তাদের জ্ঞান জেনে নিজের কাছে লজ্জা লাগে, যখন আমি জন্মগত মুসলিম পরিবারের হয়েও সেসব জানি না বা জানার চেষ্টা করিনি কখনো। আল্লাহ্‌ আমাদের উপর কতটুকু রহম করেছেন, যার কারনে আমাদের মুসলিম পরিবারে জন্ম অনুমোদন করেছেন। আল্লাহর কাছে এর জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা। আর আমাদের মধ্যেই কিছু কিছু মানুষ ইসলাম, মুসলমানদের সম্পর্কে এমন সব কথা, অবিশ্বাস পোষণ করে যে আফসোস ও আশ্চর্য হতে হয়।
    আসুন আমরা ইসলাম জানি সঠিকভাবে। অন্যকে জানাই আমরা যতটুকু সঠিক জানি।
    আর মুসলিম হিসাবে গর্বিত হই।
    আল্লাহ আমাদের সাহায্য করুন যাতে আমরা প্রত্যেকেই খাঁটি মুসলমান হতে পারি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.