কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা

লেখকঃ মুহাম্মাদ নাসীল শাহরুখ

بسم الله الرحمن الرحيم

এক লোক বউ পেটায়। মেয়ের বাবা কিছু বলতে ভয় পায়। পাছে তালাক হয়ে মেয়ের দায়িত্ব না ঘাড়ে চলে আসে।

বহু পরিবারে দাম্পত্য অশান্তি। কিন্তু মেয়ের পরিবার হস্তক্ষেপ বা আলোচনায় প্রস্তুত নয়।

অনেক মুসলিম বাবাই মেয়েকে বোঝা মনে করে। তারা চায়, তাদের মেয়েরা যেকোন যুলুম-নির্যাতন মাথায় করে যে কোন মূল্যে স্বামীর ঘরে পড়ে থাকুক।

নির্যাতিত মেয়েরা আলেমগণের পরামর্শে আইনের সহায়তায় বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটালেও তারা বাবাদের দ্বারা পরিত্যক্ত হয় – দোষ যেন তাদেরই। এই বাবারা তাদের মেয়েদের পুনরায় বিয়ের চেষ্টা করেন না।

মেয়েদের বিয়ে দেয়া প্রাথমিকভাবে বাবার দায়িত্ব। মুসলিম বাবার অনুমোদন ছাড়া মেয়ের বিয়ে বিশুদ্ধ নয়। অবশ্য তিনি উপযুক্ত পাত্রের সাথে বিয়ে দিতে অস্বীকার করলে সেক্ষেত্রে ভিন্ন পন্থা আছে। যাহোক, এই বিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে বাবারা তাদের দায়িত্ব পালন করেন না। বাবারা মেয়ের বিয়ের পরিবর্তে বেশি আগ্রহী নিজের স্ট্যাটাস ঠিক রাখতে। ফলে ডাক্তার মেয়ের সাথে ডাক্তার ছেলে ছাড়া তিনি বিয়ে দেবেন না, যদিও বা মেয়ে রাজি। সুন্দর মেয়ের সাথে ততোধিক সুন্দর ছেলে ছাড়া বিয়ে হবে না, যদিও মেয়ের আপত্তি নেই। নিজ অঞ্চলের ছেলে ছাড়া বিয়ে হবে না, যদিও বা মেয়ে দু-পায়ে খাড়া। মেয়ের বিয়ের বয়স হলেও পড়া শেষ হওয়ার আগে বিয়ে দেবেন না, যদিও মেয়ে বিয়ের জন্য ব্যাকুল।

এই বাবাদেরকে অনুরোধ, মেয়ের প্রতি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করুন।কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার ধ্যান-ধারণা থেকে বেরিয়ে আসুন। আপনার মেয়ে আপনার কাছে আল্লাহ তাআলার দেয়া আমানত, তার প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত দায়-দায়িত্ব জেনে নিন, শিখে নিন। তাকে কাজ করতে পাঠাবেন না। সে আপনার পাতে ভাগ বসাবে, এই ভয়ে তাকে যুলুমের মুখে ঠেলবেন না। নিজের স্বার্থে তার বিয়েকে বিলম্বিত করবেন না, কিংবা তার অপছন্দনীয় বা অপাত্রে বিয়ে দেবেন না। একদিন আপনাকে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে, সেদিনের জবাবদিহিতা অত্যন্ত কঠিন, আজই সাবধান হোন।

একটি ঘটনা দিয়ে শেষ করি। এক বিবাহযোগ্য মেয়ের বিয়ে তার বাবার গড়িমসিতে বিলম্বিত হতে থাকে। একের পর এক উপযুক্ত পাত্র প্রত্যাখ্যাত হতে থাকে বাবার লোভের কারণে। শেষ পর্যন্ত মেয়ে কোন এক রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। মৃত্যুকালে সে বাবার বিরুদ্ধে দোয়া করেছিল: যেমনিভাবে তিনি আমাকে দাম্পত্য সম্পর্কের স্বাদ থেকে বঞ্চিত করেছেন, সেভাবে আপনি তাকে জান্নাতের স্বাদ থেকে বঞ্চিত করুন হে আল্লাহ! কেমন কেটেছে এই বাবার বাকি জীবন? সবাই ভেবে দেখি।