ফিরে এলো রামাযান…. কিন্তু মুসলিম জীবনে ঈমানী পরিবর্তন কবে?


প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না

রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

লেখকঃ আব্দুর রাকীব (মাদানী)

দাঈ, দাওয়া’হ সেন্টার, খাফজী, সউদী আরব।

 

7701077640_410011828fআলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন, ওয়াস্ স্বালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বাদ।
আমাদের মাঝে প্রতি বছরে রামাযান মাস আসে আর চলে যায়। আগমনের সাথে সাথে মুসলিম সমাজে ও মুসলিম পরিবারে কিছু পরিবর্তন দেখা যায়।

  • -দেখা যায় মসজিদের কাতারে নামাযীর আধিক্য।
  • -আযানের সাথে সাথে বেশ কিছু লোকের মসজিদে আগমন।
  • -এবং তারাবীহর নামায আদায়ের জন্য ছোট-বড় অনেক লোকের মসজিদে অপেক্ষা।
  • দেখা যায় কিছু লোকের পরিধানে পরিবর্তন।
  • -সুন্দর পাঞ্জাবী ও টুপি, যা তারা অন্য দিনে খুব কমই গায়ে দেয় কিন্তু এই মাসে প্রায় সময় তাদের শরীরে এই রকম লেবাস সজ্জা পায়।

দেখা যায় বিনোদনে পরিবর্তন।

  • -যারা অন্য দিনে আশঙ্কামুক্ত হয়ে টেলিভিশন, নেট, ফেসবুক ও মোবাইলে গান-বাজনা সহ অন্যান্য হারাম বিনোদনে লিপ্ত থাকতো, তারা অনেকে এই মাসে অনেকটা সংযত হয়ে যায়।
  • -অনেকে টেলিভিশনের ক্যাবেল সংযোগ কেটে দেয়, মোবাইলের রিং টোন পাল্টে দেয় এবং এই রকম আরো অন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

দেখা যায় বাড়ির ভিতরের পরিবেশে পরিবর্তন।

  • অনেকের বাড়ির ভিতর থেকে ভেসে আসতে শুরু করে কুরআন তেলাওয়াতের সুর।
  • মহিলারা মাথায় ঘোমটা টেনে গুণ গুণ সুরে পড়তে থাকে কুরআন মজীদ।
  • অনেকের টেপ রেকোর্ডার ও ডি.ভি.ডি. প্লেয়ারে গানের বদলে বাজতে লাগে কারী সাহেবের তিলাওয়াত নচেৎ গজল ও ইসলামী সঙ্গীত।

দেখা যায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর সাধুত্ব।

  • অন্য দিনে যারা দুধে পানি মিশ্রণ করে বিক্রি করত, কলাই, গম এবং সরিষায় পাথরের কুচি মিশ্রণ করে মালের ওজন বৃদ্ধি করত, মুদিখানার বিভিন্ন সামগ্রীতে বিভিন্ন কিছু মিক্চার করে বিনা দ্বিধায় গ্রাহকের হাতে তুলে দিত, তারা অনেকে এই মাসে এইসব অসাধু কাজে লাগাম দিয়ে এক মাসের জন্য সাধু ব্যবসায়ী হওয়ার চেষ্টা করে।

দেখা যায় বদান্যতা। অনেক মুসলিম ভাইর হাত এই মাসে প্রশস্ত হয়ে যায়।

  • তাই কেউ কাপড়-চপড় বিতরণ করে,
  • কেউ মসজিদ মাদ্রাসায় দান-খয়রাত করে
  • এবং কেউ যাকাত বের করে। যার ফলে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে চাঁদা আদায়কারীর সংখ্যাও বেড়ে যায়।

দেখা যায় ধুমপায়ী ও নেশাখোর ব্যক্তিদের সংযত হতে।

  • তাই দিনের বেলায় তাদের বিড়ি-সিগারেট টানতে দেখা যায় না,
  • হাতে খয়নি ডলে তাতে ফুৎকার দিতে দেখা যায় না।
  • এমনকি পানের দোকানে পান খেতে ও গুটকার পুরিয়া মুখে পুরতে দেখা যায় না।
  • প্রায় প্রত্যেক পান, বিড়ি, সিগারেট ও গুটকার দোকানের ব্যবসা মন্দা হয়ে পড়ে। তবে সূর্য্য ডুবলে তাদের ব্যবসা আবার অনেকটাই জমে উঠে।

আর একটি বিষয় দেখা যায়, যা উল্লেখ না করলে এই অবস্থা বর্ণনার ইতি করা অসম্পূর্ণই থেকে যাবে। তা হলো, দেশের সম্প্রচার মাধ্যমের সিডিউলে পরিবর্তন।

  • রামাযান আসতেই টেলিভিশন ও রেডিওতে রবীন্দ্রসঙ্গীত, পল্লীগীতি, ও লোকগীতির স্থানে শুরু হয় ইসলামী সঙ্গীত ও ইসলামী নজরুলগীতি।
  • মাঝে মাঝে কুরআন মজীদের অর্থ সহ তিলাওয়াত।
  • সাহরী অনুষ্ঠান সহ ইফতারী অনুষ্ঠান।
  • এছাড়া দৃষ্টি তখন ধোকা খায় যখন টেলিভিশনে মহিলা খবর পড়ুয়াদের দেখা যায়, তারা তাদের ১১ মাসের চিরাচরিত সাজ-সজ্জ্যা মলিন করে মাথায় কাপড় দিয়ে খবর পড়ে!

অতঃপর দীর্ঘ ৩০ দিনের এই আল্লাহ ভীরুতা, ঈমানী চেতনা, রামাযানী সভ্যতা, দ্বীনী অনুপ্রেরণা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং সুন্দর ইসলামী পরিবেশ মুখ থুবড়ে পড়ে, যখন পশ্চিম দিগন্তে ঈদের হেলাল উঁকি দেয়। ঈদের এই চাঁদ উঠার মাত্র এক ঘন্টার মধ্যে সেই মুসলিম সমাজে দেখা দেয় এর বিপরীত করুণ পরিবর্তন। আপনি আপনার মসজিদে মাগরিবের নামায পড়ে ঈদের সুসংবাদ নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন মাত্র। আর এর এক-দেড় ঘন্টা পর যখন ইশার নামাযে সেই মসজিদে যাবেন, তখন দেখেবেন মসজিদ খালি, ৫/৭টি কাতারের মধ্যে প্রথম লাইনও ভর্তি হয়নি, মসজিদের খাদেম পিছনের লাইনগুলির জায়নামায জোড়াতে ব্যস্ত।

বাড়ি ফিরেই সেই রেডিও টেলিভিশনগুলিতে দেখবেন ডিং ডাং শুরু হয়ে গেছে। খবর পড়ুয়াদের মাথা থেকে ঘোমটা সরে গেছে, চলছে বাজনা সহকারে ‘রামযানের ঐ রোযার শেষে এলো খুশীর ইদ’। ধুমপায়ী ও নেশাখোররা সানন্দে সস্থির নিঃশ্বাস ছেড়ে বিড়ি-সিগারেট টানছে ও নেশা করছে আর মনে মনে বলছেঃ বাঁচলাম! বিড়ি-তামাক না খেলে ভাত হজম হয় কি! অথচ একমাস যাবৎ তাদের বদ হজম হয়নি। সত্যিকারে রামাযান মাসে এই রকম লোকের চেহারা ধীরে ধীরে উজ্জ্বল হয়, তাদের চেহারায় একটি জ্যোতি প্রকাশ পায় কিন্তু তারা এই মূল্যবান জ্যেতির হেফাজত না করে আবার অন্ধকারের মরিচা লাগাতে থাকে। বাড়িতে কুরআন তেলাওয়াতের শব্দ আর শোনা যায় না বরং অনেকে তা কাপড়ের গেলাফে জোড়িয়ে আলমারীতে রেখে দেয়। ইসলামী পোষাক আর গায়ে থাকে না, টুপি আর মাথায় শোভা পায় না। এই ভাবে বাকি অন্যান্য ভাল স্বভাবগুলি পুনরায় কুস্বভাবে পরিবর্তন হওয়ার অনুমান করা যেতে পারে।

এছাড়া কিছু মডার্ন নামের মুসলিম পরিবার এমনও আছে যারা, রোযা-নামাযের তেমন ধার ধারে না তবে ঈদ পালনে পাকা মুসলমান। তারা ঈদের দিনটিকে উপভোগ করার উদ্দেশ্যে সেই রাতেই রুটিন তৈরি করে। কি ভাবে ও কতপ্রকার আনন্দ-বিনোদনে ঈদ কাটাতে হবে? তার পুরো সেটিং করে নেওয়া হয়। পরের দিন রুটিন মত শুরু হয়, পরিবার সহ সিনেমা দর্শন, গান-বাজনার আয়োজন, বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ডের সাথে সাক্ষাৎ ও গিফ্ট আদান-প্রদান, মদ পানের পার্টি ইত্যদি।
এই ভাবে আমরা অনেকে রোযা পালন করি, ঈদ উদযাপন করি কিন্তু আবার পূর্বের জীবন-যাত্রায় ফিরে আসি। রোযা তথা রামাযান আমাদের জীবনে কোন পরিবর্তন আনে না, কোন প্রকার প্রভাব ফেলে না। কারণ কি?

  • -আসলে স্বয়ং আমরাই পরিবর্তন চাই না। আমরাই আমাদের জীবনের দ্বীনী পরিবর্তনে অনিচ্ছুক। না হলে ভেবে দেখুন, রোযার মাসে কিন্তু আপামর জীবনে অনেক পরিবর্তন ছিল বা হয়েছিল কিন্তু সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা আমরাই পরে রক্ষা করি না। আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ

(إن اللهَ لا يغيّرُ ما بقومِ حتّى يُغيّروا ما بأنفسهم) الرعد/11

“আল্লাহ কোন সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেরাই তাদের অবস্থা পরিবর্তন করে।” [সূরা রাআ’দ/১১]

  • – এই প্রকার রোযাদাররা তাদের সাউম পালনে আন্তরিক নয়। তাই যখন রোযার মাস আসে, তখন শুরুতেই তারা ভেবে নেয় যে, এটা রোযার মাস তাই একটু ভাল হয়ে থাকতে হবে, কিছুটা সংযত হতে হবে। অতঃপর রোযা শেষ হলে পূর্বে যেমন ছিলাম তেমনই থাকবো। বুঝা গেল, তারা রোযা পালনে আন্তরিক নয়, খাঁটি নয়; কারণ সে এই মাসের পর পুনরায় মন্দের দিকে ফিরে যাওয়ার গোপন ইচ্ছা রাখে। বলুনতো, আল্লাহ কি আমাদের এই গোপন নিয়তটির খবর রাখেন না? মনে রাখতে হবে, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আন্তরিক ও খাঁটি ভাবে ইবাদত না করলে তা আল্লাহর নিকট গ্রহণ হয় না। মহান আল্লাহ বলেনঃ

(وَ ما أمِروا إلا ليعبدوا اللهَ مُخْلصينَ له الدّينَ حُنفآءَ) البينة/5

“তাদের এ ছাড়া অন্য কোন আদেশ দেয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহর ইবাদত করবে খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে।” [সূরা বাইয়্যিনাহ/৫]

  • – আসলে সমাজের অনেকাংশে রোযা এখন ইবাদত হিসাবে নয় বরং ‘আদত’ হিসাবে পালিত হচ্ছে।অর্থাৎ, ১ মাস রোযা পালন যে আল্লাহ আমাদের প্রতি ফরয করেছেন, এটি যে আল্লাহ প্রদত্ত একটি ফরয ইবাদত, এটা যে তাঁরই সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করতে হবে, কেবল সওয়াব অর্জনের উদ্দেশ্যেই হতে হবে, এমন উদ্দেশ্যে তা সম্পাদন না করে সমাজের আচার রক্ষার্থে বা সমাজের লোকের দেখা-দেখি পালন করা হচ্ছে। অনেকে মনে করছে, রোযা না রাখলে গ্রামের বা সমাজের লোকেরা কি বলবে!? অনেকে নেকীর উদ্দেশ্যে কম আর পার্থিব লাভের আশায় বেশী পালন করে। বলেঃ রোযা রাখলে শরীরের ওজন কম হবে, শুগার কন্ট্রোলে থাকবে, ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকবে ইত্যাদি। অথচ রোযা তখন ক্ষমার মাধ্যম হয়, যখন রোযাদার কেবল ঈমান ও সওয়াব অর্জনের আশায় তা সম্পাদন করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

” من صام رمضان إيمانا و احتسابا غفر له ما تقدم من ذنبه” رواه البخاري، رقم 1901

“যে ব্যক্তি ঈমান ও নেকীর আশায় (আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে) রামাযান মাসের রোযা পালন করবে, তার বিগত সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করা হবে”। [বুখারী, নং১৯০১]

  • – আমরা রোযাদার কিন্তু রোযার রহস্য ও মর্মাথ বুঝি না। আমরা এক মাস পানাহার থেকে বিরত থাকাকেই রোযার উদ্দেশ্য মনে করি। কিন্তু চিন্তা করার প্রয়োজন আছে যে, এই এক মাসের ইবাদত, সংযম ও পরহেযগারীতা আমাদের মানসিক ভাবে প্রস্তুত করে না কি যে, আমরা আগামী এক বছর তথা ভবিষ্যতে ধারাবাহিক সংযমে অভ্যস্ত হব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলা ও তার উপর অটল থাকা হতে বিরত থাকে না, আল্লাহর নিকট এইরকম লোকের পানাহার করা না করার কোনো প্রয়োজন নেই”। [বুখারী, অধ্যায়, সাউম, নং ১৯০৩]

হে রোযাদার মুসলিম ভাই! মনে রাখবেন, যিনি রামাযান মাসে আল্লাহ তিনি অন্য মাসেও মহান আল্লাহ। যিনি রামাযান মাসে সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা, তিনি অন্য মাসেও সেই গুণের অধিকারী। যিনি রোযার মাসে মাবুদ, তিনি অন্যান্য সময়েও উপাস্য। আর আমরা তাঁর গোলাম বা দাস। সবসময় ধারাবাহিক দাসত্ব করাই এক বান্দার মূল কর্তব্য।

মহান আল্লাহ বলেনঃ

  • “তুমি তোমার প্রভুর ইবাদত করো যতক্ষণে মৃত্যু না আসে।) [সূরা হিজর/৯৯]
  • আয়েশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “তোমরা জেনে রেখো অবশ্যই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় আমল হচ্ছে, ধারাবাহিক আমল যদিও তা অল্প হয়”। [মুসলিম, অধ্যায়, মুনাফেকদের স্বভাব ও তাদের বিধান, নং ৭৩০০]
  • একাধিক সালাফ হতে প্রমাণিত, তারা বলতেনঃ ‘কত নিকৃষ্ট সেই সম্প্রদায়, যারা রামাযান মাস ছাড়া অন্য সময়ে আল্লাহকে চিনে না’।

হে রোযার মাসে সংযমী ভাই! যদি আপনি আল্লাহর উদ্দেশ্যে ১২-১৪ ঘন্টা পানাহার ও অশ্লীলতা থেকে সংযমী হতে পারেন, তো ১২ মাসেও সংযম থাকার ক্ষমতা রাখেন। যদি ১২-১৩ ঘন্টা ধূমপান তথা অন্যান্য নেশা ত্যাগ করতে পারেন, তো ১২ মাস তথা ১২ বছরও তা পারেন। রোযার মাসে যদি হারাম ব্যবসা ত্যাগ করতে পারেন তো অন্য মাসেও তা পারেন। রামাযান মাসে যদি নিয়মিত কুরআন পড়তে পারেন, তো অন্য মাসেও তা পারেন। এই মাসে যদি ফজরের নামায জামাআ’তে আদায় করতে পারেন, তো অন্য মাসেও তা সম্ভব। এই মাসে যদি নফল নামায ও দান-খয়রাত করতে সক্ষম হোন, তো অন্য মাসেও তা সম্পাদন করতে সক্ষম হবেন।

তবে প্রয়োজন আছেঃ

  • প্রয়োজন আছে দৃঢ় সংকল্পের; কারণ সত্য সংকল্প, অসাধ্যকে সাধ্য করে, কঠিনকে সহজ করে এবং ইচ্ছা পূরণে সাহায্য করে। তার সাথে দরকার আছে স্থিরতা ও ধৈর্যের। ইবনুল ক্বাইয়্যূম (রহ) বলেনঃ “মানুষ দৃঢ় সংকল্প ও স্থায়িত্বের মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করে। যার সংকল্প নেই সে অসম্পূর্ণ। আর যার সংকল্প আছে কিন্তু তার প্রতি তার স্থায়িত্ব নেই, সেও অসম্পূর্ণ। অতঃপর যখন সংকল্পের সাথে স্থায়িত্বের সংযোগ হয়, তখন পূর্ণতা লাভ হয়। এই কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দুআ’য় উল্লেখ হয়েছে, যা ইমাম আহমদ ও ইবনু হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন “হে আল্লাহ! আমি প্রত্যেক বিষয়ে স্থায়িত্ব এবং সততার দৃঢ়তা প্রার্থনা করছি”। আর একথা সর্বজন বিদিত যে, ধৈর্যের মেরুদণ্ড ছাড়া স্থায়িত্ব ও সংকল্পের বৃক্ষ দণ্ডয়মান হয় না”। [ত্বরীকুল হিজরাতাঈন, ১/৪০১]

প্রয়োজন আছে রাঙ্গা চোখে, অভিশপ্ত শয়তানকে স্পষ্ট জানিয়ে দিতে যে, রামাযান মাসে যেমন আমি তোমার অনুসরণ করি নি, তোমার বন্ধু হয়নি, তোমার সুরে সুর মিলায় নি, তেমন অন্য মাসেও তোমার ধার ধারি না, তোমার সামান্যতমও সঙ্গ দিতে পারি না কারণ; তুমি আমার স্পষ্ট দুশমন। সত্যিকারে এই মরদূদ শয়তান রামাযান শেষে শিকল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর যখন দেখে তার সঙ্গী-সাথী অনেক কমে গেছে, তখন সে মরিয়া হয়ে আবার তাদের নিজ দলে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চালায়। আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ

(إنّ الشيطانَ لكم عدوٌ فاتّخذهُ عدوّاً، إنما يدعواْ حزبهُ ليكونوا من أصحابِ السعير) [الفاطر/6]

“শয়তার তোমাদের শত্রু। কাজেই তাকে শত্রু হিসেবে গ্রহণ কর। সে কেবল তার দলবলকে ডাকে, যাতে তারা জ্বলন্ত অগ্নির সঙ্গী হয়।” [সূরা ফাতির/৬]

  • আর এ সবের পূর্বে অবশ্যই প্রয়োজন আছে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনার, যেন তিনি আমাদের দ্বীনে অবিচল রাখেন, সৎ কাজে ধারাবাহিকতা প্রদান করেন এবং তা কবূল করেন। কারণ তিনিই সঠিক পথ প্রদর্শক, বান্দার আমল কবূল কারী ও তাওফীক দাতা। আল্লাহ বলেনঃ (আর তাঁকে ভয়-ভীতি ও আশা-ভরসা নিয়ে ডাকতে থাক, আল্লাহর দয়া তো তাদের নিকটে যারা সৎ কাজ করে।) [আ’রাফ/৫৬] আল্লাহুল মুওয়াফফিক ওয়াল মুস্তাআ’ন।

'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

আরও পড়তে পারেন

দাম্পত্য সম্পর্কের ৫০ টি বিষয় যা আপনার জেনে রাখা প্রয়োজন

Download article as PDF প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার …

আল্লাহর উপর ভরসা

Download article as PDF প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার …

পাঠকের মন্তব্য

Loading Facebook Comments ...

আপনার মন্তব্য লিখুন