একজন ঈমানদার দা‘ঈর বর্জিত গুণাবলি পর্ব ১০

0
প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না
রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

DawahMission_Gloucester_FB-01

লেখক:মুহাম্মদ শাহিদুল ইসলাম

পর্ব ১ | পর্ব ২ | পর্ব ৩ | পর্ব ৪| পর্ব ৫ | পর্ব ৬ | পর্ব ৭| পর্ব ৮ | পর্ব ৯ | পর্ব ১০

অন্তরের ভুল ধারণা

ভুল ধারণা বা গুরুর পরিচিতি

গুরুর (غرور) শব্দটি আরবী। যার আভিধানিক অর্থ প্রতারণা, প্রবঞ্চনা, ধোঁকা, মিথ্যা আশা, অহংকার ও অহমিকা ইত্যাদি। পরিভাষায়, অন্তরের ভুল ধারণার নাম গুরুর বা মোগালাতা। যখন শয়তান মানুষকে গুনাহের কাজে লিপ্ত রাখতে পারে না, তখন মানুষকে কোন এক নেক কাজে মশগুল রেখে ধারণা জন্মিয়ে দেয় যে, এ নেক কাজে তার মুক্তির যোগাড় হয়ে যাবে। একে গুরুর বলে।

গুরুর-এর কারণসমূহ

গুরুরের কতকগুলো কারণ রয়েছে। নিম্নে এ গুলো উল্লেখ করা হলো :

১.        সঠিক পথ ও পূর্ণাঙ্গ দ্বীন সম্বন্ধে অজ্ঞতা

২.       সত্য পথের সন্ধান না করা

৩.       কিতাবের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস না থেকে বরং তৎপরিবর্তে নিজ নিজ গোমরাহ নেতা

৪.       খাহেশে নফছানীর তাবেদারী করা

৫.       জ্বিন ও মানব শয়তানের ধোঁকায় পতিত হওয়া ইত্যাদি।

গুরুর-এর আলামত ও কৌশলসমূহ

গুরুরের কতকগুলো লক্ষণ রয়েছে। নিম্নে এ গুলো উল্লেখ করা হলো :

১.        ভুল মাসআলাকে সত্য মনে করা এবং গোমরাহ ও নাকিছ পীর, নাকিছ আলিমদের অনুসারী হওয়া

২.       ধর্মীয় মূল বিষয় বাদ দিয়ে শাখা বিষয়ে বেশী গুরুত্ব দেয়া

৩.       ইবাদত ও গ্রহণযোগ্য নয় এরূপ বিষয়কে ইবাদত ও গ্রহণযোগ্য ধারণা করত: উহাতে লিপ্ত হওয়া

৪.       দলীল ভিত্তিক সত্য আহ্বানে সাড়া না দেয়া ও বিপরীত নীতিতে বিশ্বাসী ভিন্ন ভিন্ন বহু দল থাকা ইত্যাদি।

গুরুর দূর করার কৌশল

১.        সত্য হাদীগণ ভুলে পতিত গাফিল লোকদেরকে দলীল প্রমাণের মাধ্যমে সত্যের সন্ধান প্রদান করবে।

২.       প্রয়োজনের ভিত্তিত কিতাবী ধারায় বাহাছের ব্যবস্থা করা হলে সমাজ থেকে গুরুর দূরীভূত হবে।

৩.       সত্য পথ চিনা ও দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করা।

৪.       সত্যবাদীর ওয়াজ শুনা ও সঙ্গ লাভ করা।

৫.       কিতাবের প্রতি পূর্ণরূপে ঈমান আনয়ন করা ও পরজগতে কাযৃসমূহের ফলাফল সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা এবং খাহেশে নফসানীর তাবেদারী না করা।

অসৎ গুণাবলীর বিপরীত সৎগুণাবলীর অনুপ্রবেশ : মানবজীবনে প্রধান প্রধান সৎগুণাবলী যা মুহলিকাত তথা মানবতা বিধ্বংসী দোষগুলো নষ্ট করতে পারে এ গুলো অর্জনের মাধ্যমে ক্বলবকে সংশোধন করা যায়। সেগুলোকে মুনজিয়াত (পরিত্রাণকারী গুণাবলী) বলা হয়। যেমন : তাওবাহ (জাহিরী ও বাতিনী গুনাহ থেকে বিরত থাকা), ছবর (ধৈর্য ধারণ করা), শোকর (কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা), তাওয়াক্কুল (আল্লাহর উপর ভরসা করা), ইখলাস (একনিষ্ঠ নিয়্যত), খাওফ (আল্লাহকে ভয় করা) রিজা (ক্ষমা ও বেহেশ্তের আশা করা), মহব্বত (আল্লাহর প্রতি ভালবাসা), মোরাকাবা (একাগ্রচিত্তে ধ্যান করা), মোহাছাবা (আত্মসমালোচনা) ইত্যাদি। ইতিপূর্বে তৃতীয় অধ্যায়ের মুহলিকাত তথা মানবতা বিধ্বংশী অসৎ স্বভাবসমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে বিধায় এখানে তা আর পুনরাবৃতি না করাই শ্রেয় এজন্য এখানে এ আলোচনা থেকে বিরত থাকা হলো।

মোটকথা, ক্বলবের রোগসমূহ হলো কিব্র (অহংকার), হাসাদ (হিংসা), বোগজ (অন্তরে অন্তরে শত্র“তা), গজব (রাগ-গোস্বা), গীবত (অসাক্ষাতে দোষ বর্ণনা), র্হিছ (লোভ-লালসা), কিজব (মিথ্যা কথা বলা), বুখল (কৃপণ), (লোক দেখানোর জন্য আমল করা), গুরুর ( অন্তরের ভুল ধারণা)। ইতিপূর্বে তৃতীয় অধ্যায়ের মুহলিকাত তথা মানবতা বিধ্বংশী অসৎ স্বভাবসমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ক্বলব পরিস্কারের দু’টি পদ্ধতি রয়েছে। এক. আল্লাহর যিকির করা দুই. অসৎ গুণাবলীর বিপরীত সৎগুণাবলীর অনুপ্রবেশ। মানবজীবনে প্রধান প্রধান সৎগুণাবলী যা মুহলিকাত তথা মানবতা বিধ্বংসী দোষগুলো নষ্ট করতে পারে এ গুলো অর্জনের মাধ্যমে ক্বলবকে সংশোধন করা যায়। সেগুলোকে মুনজিয়াত (পরিত্রাণকারী গুণাবলী) বলা হয়। যেমন : তাওবাহ (জাহিরী ও বাতিনী গুনাহ থেকে বিরত থাকা), ছবর (ধৈর্য ধারণ করা), শোকর (কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা), তাওয়াক্কুল (আল্লাহর উপর ভরসা করা), ইখলাছ (একনিষ্ঠ নিয়্যত), খাওফ (আল্লাহকে ভয় করা) রিজা (ক্ষমা ও বেহেশ্তের আশা করা), মহব্বত (আল্লাহর প্রতি ভালবাসা), মোরাকাবা (একাগ্রচিত্তে ধ্যান করা), মোহাছাবা (আত্মসমালোচনা) ইত্যাদি।

পর্ব ১ | পর্ব ২ | পর্ব ৩ | পর্ব ৪| পর্ব ৫ | পর্ব ৬ | পর্ব ৭| পর্ব ৮ | পর্ব ৯ | পর্ব ১০

Print Friendly, PDF & Email


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.