ডান হাতের সাহায্য নিয়ে বাম হাতে পান করা কি সুন্নত পরিপন্থী?

22
প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না
রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

শাইখ মুফতি সানাউল্লাহ নজির আহমদ

প্রশ্ন: আমার পরিচিত এক ভাইয়ের বাড়িতে প্রতি শুক্রবার আকিদার দরস হয়, তার দাওয়াতে সেখানে আমি অংশ গ্রহণ করি। খাবারের সময় আমাদের একজন বাম‎‎ হাতে গ্লাস নিয়ে ডান হাতের তালুর উল্টো পিঠে রেখে পানি পান করছিল, উপস্থিত একজন তাকে বাঁ‎‎ধা দিয়ে বলল: “না, এভাবে পানি পান করবেন না। ডান হাতেই পানি পান করুন, গ্লাসে খাবার লাগলে লাগুক”। এরকম ঘটনা আমার জীবনে এটাই প্রথম। আমার জিজ্ঞাসা আমরা যে বাম‎‎ হাতে গ্লাস বা পানির পাত্র তুলে ডান হাতের সাহায্যে পান করি, তা কি সুন্নতের খিলাফ, অথবা বাম‎‎ হাতে খাওয়া শয়তানী কর্মের অন্তর্ভুক্ত? জানিয়ে বাধিত করবেন। আল্লাহ আপনাকে উত্তম বিনিময় দিন।

উত্তর: আল-হামদুলিল্লাহ,

হাদিসে স্পষ্টভাবে ডান হাতে পান করার নির্দেশ ও বাম হাতে পান করার নিষেধাজ্ঞা এসেছে। ইব্‌ন ওমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু ‎‎ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‎‘আলাইহি‎‎ ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

( إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَأْكُلْ بِيَمِينِهِ ، وَإِذَا شَرِبَ فَلْيَشْرَبْ بِيَمِينِهِ ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَأْكُلُ بِشِمَالِهِ ، وَيَشْرَبُ بِشِمَالِهِ ) .

“যখন তোমাদের কেউ খায় সে যেন ডান হাতে খায়, এবং যখন পান কর সে যেন ডান হাতে পান করে। কারণ শয়তান তার বাম‎‎ হাতে খায় ও বাম‎‎ হাতে পান করে”।[1]

জাবের ইব্‌ন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‎‘আলাইহি‎‎ ওয়াসাল্লাম‎ বলেছেন:

” لَا تَأْكُلُوا بِالشِّمَالِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَأْكُلُ بِالشِّمَالِ “

“তোমরা বাম‎‎ হাতে খেয়ো না, কারণ শয়তান বাম‎‎ হাতে খায়”।[2]

ইব্‌ন ওমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু‎‎ থেকে সালেম বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‎‘আলাইহি‎‎ ওয়াসাল্লাম‎ বলেছেন:

” لَا يَأْكُلَنَّ أَحَدُكُمْ بِشِمَالِهِ، وَلَا يَشْرَبَنَّ بِهَا، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَأْكُلُ بِهَا وَيَشْرَبُ بِهَا “، قَالَ: وَزَادَ نَافِعٌ: وَلَا يَأْخُذَنَّ بِهَا، وَلَا يُعْطِيَنَّ بِهَا “

“তোমাদের কেউ বাম‎‎ হাতেবা খাবে না এবং তার দ্বারা পান করবে না, কারণ শয়তান তার মাধ্যমে খায় ও পান করে”। ওমর ইব্‌ন মুহাম্মদ বলেন: ইব্‌ন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর অপর ছাত্র নাফে বাড়িয়ে বলেছেন: “… বাম‎‎ হাতে ধরবে না এবং বাম হাত দ্বারা কাউকে দিবে না”।[3]

ইয়াস ইব্‌ন সালমা ইব্‌ন আকওয়া থেকে বর্ণিত, তার পিতা তাকে বলেছেন:

أَنَّ رَجُلًا أَكَلَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشِمَالِهِ، فَقَالَ: ” كُلْ بِيَمِينِكَ “، قَالَ: لَا أَسْتَطِيعُ، قَالَ: ” لَا اسْتَطَعْتَ مَا مَنَعَهُ إِلَّا الْكِبْرُ “، قَالَ: فَمَا رَفَعَهَا إِلَى فِيهِ

জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‎‘আলাইহি‎‎ ওয়াসাল্লামের নিকট তার বাম‎‎ হাতে খেল, তিনি বললেন: “তোমার ডান হাতে খাও”। সে বলল: পারি না। তিনি বললেন: “তুমি কখনো পারবে না, অহংকার ব্যতীত কোন কারণ তাকে বাঁধা দেয়নি”। তিনি বলেন: সে তার ডান হাত কখনো মুখে তুলতে পারেনি।[4]

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‎‘আলাইহি‎‎ ওয়াসাল্লাম‎ বলেছেন:

“مَنْ أَكَلَ بِشِمَالِهِ أَكَلَ مَعَهُ الشَّيْطَانُ، وَمَنْ شَرِبَ بِشِمَالِهِ شَرِبَ مَعَهُ الشَّيْطَانُ”

“যে তার বাম‎‎ হাতে খায়, শয়তান তার সাথে খায়। আর যে তার বাম‎‎ হাতে পান করে, শয়তান তার সাথে পান করে”।[5]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‎‘আলাইহি‎‎ ওয়াসাল্লামের স্ত্রী হাফসা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

” أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَجْعَلُ يَمِينَهُ لِطَعَامِهِ وَشَرَابِهِ وَثِيَابِهِ، وَيَجْعَلُ شِمَالَهُ لِمَا سِوَى ذَلِكَ “

নবী সাল্লাল্লাহু ‎‘আলাইহি‎‎ ওয়াসাল্লাম‎ খানা, পান করা ও পরিধানের জন্য তার ডান হাত ব্যবহার করতেন, এ ছাড়া অন্যান্য কাজের জন্য তিনি তার বাম‎‎ হাত ব্যবহার করতেন”।[6]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‎‘আলাইহি‎‎ ওয়াসাল্লামের এসব নিষেধাজ্ঞা থেকে স্পষ্ট হয় যে, বাম‎‎ হাতে খাওয়া, পান করা ও আদান-প্রদান করা নিষেধ ও অবৈধ এবং শয়তানি কর্মের অন্তর্ভুক্ত। শয়তানি কর্ম সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা বলেন:

﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِنَّمَا ٱلۡخَمۡرُ وَٱلۡمَيۡسِرُ وَٱلۡأَنصَابُ وَٱلۡأَزۡلَٰمُ رِجۡسٞ مِّنۡ عَمَلِ ٱلشَّيۡطَٰنِ فَٱجۡتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ ٩٠ ﴾ [المائ‍دة: ٩٠] ‎

“হে মুমিনগণ, নিশ্চয় মদ, জুয়া, প্রতিমা-বেদী ‎ও ভাগ্যনির্ধারক তীরসমূহ তো নাপাক ‎শয়তানের কর্ম। সুতরাং তোমরা তা পরিহার ‎কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও”। সূরা মায়েদা: (৯০)‎

ইব্‌ন ওমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু‎‎ থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‎‘আলাইহি‎‎ ওয়াসাল্লাম‎ বলেছেন:

” مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ “

“যে কোন সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখল, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত”।[7]

অতএব প্রমাণ হল বাম হাতে পান করা যাবে না, কারণ বাম হাতে পান করা শয়তানি কর্ম, আল্লাহ যা ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। বাম হাতে পান করার অর্থ শয়তানের দলভুক্ত হওয়া, আল্লাহ যার থেকে সর্তক করেছেন, কারণ শয়তান আমাদের চিরশত্রু, সে তার দলকে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার জন্য আহ্বান করে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

﴿ إِنَّ ٱلشَّيۡطَٰنَ لَكُمۡ عَدُوّٞ فَٱتَّخِذُوهُ عَدُوًّاۚ إِنَّمَا يَدۡعُواْ حِزۡبَهُۥ لِيَكُونُواْ مِنۡ أَصۡحَٰبِ ٱلسَّعِيرِ ٦ ﴾ [فاطر: ٦]

“নিশ্চয় শয়তান তোমাদের শত্রু; অতএব ‎তাকে শত্রু হিসেবে গণ্য কর। সে তার ‎‎দলকে কেবল এজন্যই ডাকে যাতে তারা ‎জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসী হয়”। [ সূরা ফাতের: ৬]

হ্যাঁ কোন অপারগতা, হাতে জখম ও শরীয়ত অনুমোদিত কারণ থাকলে বাম হাতে পানাহার করা বৈধ। আল্লাহ তা’আলা বলেন:

﴿ وَقَدۡ فَصَّلَ لَكُم مَّا حَرَّمَ عَلَيۡكُمۡ إِلَّا مَا ٱضۡطُرِرۡتُمۡ إِلَيۡهِۗ ١١٩ ﴾ [الانعام: ١١٩]

“অথচ তিনি তোমাদের জন্য বিস্তারিত বর্ণনা ‎করেছেন, যা তোমাদের উপর হারাম করেছেন, ‎তবে যার প্রতি তোমরা বাধ্য হয়েছ”।[8]

সুতরাং বাধ্য হয়ে বাম হাতে পান করা বৈধ।

উভয় হাতে পান করা:

কতক বর্ণনা থেকে প্রমাণ হয় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‎‘আলাইহি‎‎ ওয়াসাল্লাম উভয় হাতে পানি পান করেছেন। যেমন ইব্‌ন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ” شَرِبَ مِنْ زَمْزَمَ مِنْ دَلْوٍ مِنْهَا وَهُوَ قَائِمٌ “

“নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দণ্ডায়মান অবস্থায় যমযমে রাখা বালতি দ্বারা যমযমের পানি পান করেছেন”।[9]

আব্দুর রহমান ইব্‌ন আবু ওমর নিজ দাদীর সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:

(دَخَلَ عَلَيَّ رَسُول اللَّه صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَفِي الْبَيْت قِرْبَة مُعَلَّقَة فَشَرِبَ قَائِمًا فَقُمْت إِلَى فِيهَا فَقَطَعْته) .

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‎‘আলাইহি‎‎ ওয়াসাল্লাম‎ আমার কাছে আগমন করেন, তখন বাড়িতে ঝুলন্ত [চামড়ার তৈরি] পানির মশক ছিল, তিনি দণ্ডায়মান অবস্থায় পান করেন, অতঃপর আমি তার মুখ দেয়ার জায়গা কেটে সংরক্ষণ করি”।[10]

জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত,

… ثُمَّ دَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَدَحٍ فَرَفَعَهُ عَلَى يَدَيْهِ فَشَرِبَ لِيَرَى النَّاسُ أَنَّهُ لَيْسَ بِصَائِمٍ

“… অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‎‘আলাইহি‎‎ ওয়াসাল্লাম‎ পাত্র তলব করলেন, তিনি তা উভয় হাতের ওপরে রাখলেন ও পান করলেন, যেন মানুষেরা দেখে তিনি সিয়াম অবস্থায় নেই”।[11]

আল্লাহ তা’আলার বাণী:

﴿ إِلَّا مَنِ ٱغۡتَرَفَ غُرۡفَةَۢ بِيَدِهِۦۚ ٢٤٩ ﴾ [البقرة: ٢٤٩]

“তবে যে তার হাতের অঞ্জলি ভরে পান করে”।[সূরা বাকারা ২৪৯]

ইমাম কুরতুবি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, কতক মুফাস্‌সির বলেছেন: “গারফাতুন” অর্থ এক হাত দ্বারা পান করা। আর “গুরফাতুন” অর্থ দুই হাত দ্বারা পান করা”। আয়াতে যেহেতু গুরফাতুন রয়েছে তাই আমরা বলতে পারি যে, বাদশাহ তালুতের অনুসারীগণ –যার মধ্যে দাউদ ‎‘আলাইহি‎‎স সালামও ছিলেন- দুই হাতে পানি পান করে ছিলেন”।

এসব দলিল থেকে প্রমাণ হয় যে, প্রয়োজন হলে দুই হাতে পান করা বৈধ। যেমন বড় পাত্র, অথবা কলসি, অথবা বালতী থেকে সরাসরি দুই হাতে পান করা। অথবা ডান হাতে সমস্যা হলে বাম‎‎ হাতের সাহায্য নিয়ে দুই হাতে পান করা বৈধ। কারণ শয়তান দু’হাতে পান করে না।

এক হাতে পান করার সময় অপর হাতের সাহায্য নেয়া:

এক হাতে পান করার সময় যখন অপর হাতের সাহায্য নেয়া হয়, তখন যে হাতের অংশ গ্রহণ বেশী থাকে সে হাতে পান করাই গণ্য হয়। অর্থাৎ পানির পাত্র যদি বড় হয়, অথবা হাত ফসকে গ্লাস পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, বা কোন জরুরতে ডান হাতে গ্লাস ধরে বাম হাতের সাহায্য নেয়া হয়, তাহলে ডান হাতেই পান করা গণ্য হয়। এতে কোন সমস্যা নেই। আর যদি বাম হাতে গ্লাস বা পানির পাত্র ধরে ডান হাতের সাহায্য বা সামান্য স্পর্শ গ্রহণ করা হয়, তাহলে বাম হাতে পান করা গণ্য হয়। শরীয়তে যা নিষেধ। কতক আলেম বাম হাতে পান করার নিষেধাজ্ঞাকে ইসলামী আদব, মোস্তাহাব ও সুন্নত পরিপন্থী হিসেবে দেখেছেন। কতক আলেম বলেছেন ডান হাতে পান করা অবশ্য জরুরী, বিনা প্রয়োজনে বাম হাতে পান করা হারাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সর্বদা ডান হাতে পান করা, বাম হাতে পান করাকে শয়তানি কর্ম বলা এবং বাম হাতে পানকারীকে বদ দোয়া দেয়া ইত্যাদি দ্বিতীয় মতকে যথাযথ প্রমাণ করে।

মুসলিমে বর্ণিত, জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর হাদিস “তোমরা বাম‎‎ হাতে খেয়ো না, কারণ শয়তান বাম‎‎ হাতে খায়” প্রসঙ্গে ইব্‌ন আব্দুল বারর রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: “জাবের থেকে বর্ণিত হাদিসে বাম‎‎ হাতে খাওয়া ও পান করার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ কথা সর্বজন বিদিত যে, কোন বিষয়ে নির্দেশ দেয়ার অর্থ তার বিপরীত বিষয় থেকে নিষেধ করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‎‘আলাইহি‎‎ ওয়াসাল্লামের বাম‎‎ হাতে খাওয়া ও পান করার কঠিন নিষেধাজ্ঞা জেনে যে বাম‎‎ হাতে খেল অথবা পান করল, অথচ ডান হাতে খেতে তার কোন সমস্যা ছিল না, বা কোন বাঁধা তাকে ডান হাত থেকে বিরত রাখেনি, সে অবশ্যই আল্লাহ ও তার রাসূলের নাফরমানি করল। যে আল্লাহ ও তার রাসূলের নাফরমানি করল সে পথভ্রষ্ট হল”।[12]

আমাদের দেশে বাম হাতে পান করার যে বদ অভ্যাস গড়ে ওঠেছে তা বৈধ নয়। যেমন বাম হাতে গ্লাস বা পানির পাত্র উঠিয়ে ডান হাতের সামান্য স্পর্শ নিয়ে পান করা। কারো ক্ষেত্রে দেখা যায় বাম‎‎ হাতে গ্লাস তুলে ডান হাতের সামান্য স্পর্শ নেয় অতঃপর বাম হাতেই পানি পান করে। অর্থাৎ শুরুতে বাম হাতে পানির গ্লাস তুলল অতঃপর ডান হাতের স্পর্শ নিল, আবার মুখের স্পর্শ লাগার আগেই ডান হাত গ্লাস থেকে বিচ্ছিন্ন হল। এভাবে মূলত বাম হাতেই পান করা হল, বা ডান হাতের সামান্য সাহায্য নেয়া হল, বা বাম হাতের সাথে সাথে ডান হাতও নাড়াল, প্রকৃত পক্ষে যা বাম হাতে পান করাই গণ্য হয়। কারো ক্ষেত্রে দেখা যায় ডান হাতের স্পর্শ পর্যন্ত লাগে না! এভাবে আস্তে আস্তে বাম হাতে পান করার বদ অভ্যাস গড়ে উঠে।

আমাদের অনেকে যে অজুহাত বা কারণ দেখিয়ে বাম হাতে পান করেন, শরীয়তের দৃষ্টিতে তা গ্রহণযোগ্য নয়। অনেকে বলেন ডান হাতে গ্লাস নিলে তাতে খাবার লাগে তাই বাম হাতে গ্লাস ধরি। এটা ইসলামের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য কোন কারণ নয়। গ্লাসে খাবার লাগলে কোন সমস্যা নেই, ধুলেই তা চলে যায়। বর্তমান যেহেতু সবাই আলাদা গ্লাস ব্যবহার করি, তাই এতে অপরের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। একাধিক ব্যক্তি একই গ্লাস ব্যবহার করার সময় হাত চেটে পরিষ্কার করে নিলে হয়, বা টিস্যু পেঁচিয়ে গ্লাস ধরা যায়। হোটেল, পার্টি বা নিমন্ত্রণ অনুষ্ঠানে সবাইকে আলাদা গ্লাস দেয়া হয়, বা ওয়ান টাইম ব্যবহারের জন্য কাগজ বা প্লাস্টিকের গ্লাস দেয়া হয়, সেখানে গ্লাসে খাবার লাগলেও সমস্যা নেই। দুঃখের বিষয় এ সুন্নতের বিপরীতে আমাদের দেশে বদ অভ্যাস কঠিন আকার ধারণ করেছে। কোন কারণ ছাড়াই আমরা বাম‎‎ হাতে গ্লাস নিয়ে পান করি, যা সুন্নত পরিপন্থী ও নিন্দনীয় কাজ।

একটি আশ্চর্য বিষয়! আমরা খাবার সময় বাম হাতের ব্যবহারকে খুব খারাপ দৃষ্টিতে দেখি। খাবারের মাঝে গোস্ত ইত্যাদি ছেড়ার জন্য আমরা দাঁতের সাহায্য নেই, অনেকে পাশে থাকা সহপাঠীর সাহায্য পর্যন্ত গ্রহণ করি, তবু বাম হাত ব্যবহার করি না, অথচ এখানে বাম হাত ব্যবহার করার অনুমতি রয়েছে। তাই দাঁতে কষ্ট না করে বা অপরের সাহায্য না নিয়ে বাম হাতের সাহায্য নেয়াই অধিক শ্রেয়। এ জন্য খাবার শুরুতে উভয় হাত ধুয়ে নেয়া সুন্নত। সালমান ফারসি রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‎‘আলাইহি‎‎ ওয়াসাল্লাম‎ বলেছেন:

بَرَكَةُ الطَّعَامِ الْوُضُوءُ قَبْلَهُ وَالْوُضُوءُ بَعْدَهُ “

“… খানার বরকত হচ্ছে তার পূর্বে ও পরে ওযু করা”।[13]

তবে মুখে খাবার অবশ্যই ডান হাতে তুলতে হবে। এ ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে বাম হাতের সাহায্য নেয়া বৈধ।

অনেকে বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‎‘আলাইহি‎‎ ওয়াসাল্লাম‎ ও সাহাবীগণের প্রধান খাদ্য ছিল রুটি বা শক্ত খাবার। তাই খাবার সময় ডান হাতে গ্লাস ধরলে তাতে খাবার লাগত না, কিন্তু আমাদের অধিকাংশ খাবার তরল। তাই আমাদের প্রয়োজন হয় বাম হাতে গ্লাস ধরা। বস্তুত বিষয়টা পুরোপুরি সঠিক নয়, যদিও তখনকার অধিকাংশ খাবার শুষ্ক ছিল, কিন্তু তরল খাবারও ছিল, বিশেষ করে “সারিদ” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‎‘আলাইহি‎‎ ওয়াসাল্লামের প্রিয় খাবার ছিল। গোস্তের শুরবায় রুটি ভিজিয়ে সারিদ তৈরি করা হয়, যা আমাদের ডাল-ভাতের ন্যায় তরল, কিন্তু তবুও কেউ কখনো বর্ণনা করেননি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‎‘আলাইহি‎‎ ওয়াসাল্লাম‎ বাম হাতে গ্লাস তুলে ডান হাতের সাহায্য নিয়ে পান করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‎‘আলাইহি‎‎ ওয়াসাল্লামকে ছায়ার মত অনুসরণকারী সাহাবি ও জীবন সঙ্গিনী ঘরের স্ত্রীগণ পর্যন্ত দেখেননি তিনি বাম হাতে পাত্র নিয়ে ডান হাতে সামান্য ভর রেখে পান করেছেন! যদি তারা দেখতেন অবশ্যই বর্ণনা করতেন। অথচ কম হলেও দিনে দুইবার তিনবার খাওয়া-দাওয়ার প্রয়োজন হয়, পানি তো তারচেয়ে বেশী! বরং আমরা দেখতে পাই খাবার দস্তরখানে তিনি নির্দেশ দিচ্ছেন:

” يا غلام سم الله وكل بيمينك وكل مما يليك “

“হে বৎস বিসমিল্লাহ বল, ডান হাতে খাও ও সামনে থেকে খাও”।

অতএব হাতে খাবার লাগা এমন অপারগতা নয় যে কারণে হারাম হালাল হয় ও নিষিদ্ধ কর্ম বৈধ হয়। তাই এসব অজুহাত পেশ করে বাম হাতে পান করা কোন মুসলিমের পক্ষে সমীচীন নয়।

সুতরাং আপনার সাথীদের ডান হাতে পানি পান করাই সঠিক ও সুন্নত মোতাবেক। আল্লাহ আমাদের সবাইকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‎‘আলাইহি‎‎ ওয়াসাল্লামের সুন্নত অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। আল্লাহ ভাল জানেন।

[1] মুসলিম: (২০২০)

[2] মুসলিম: (২০১৯)

[3] আহমদ: (৫৯৫০), মুস্তাখরাজ আবু আওয়ানাহ: (৬৪৮৩)

[4] মুসলিম: (৩৭৭৩)

[5] আহমদ: (২৩৯১৯)

[6] আবু দাউদ: (৩০)

[7] আবু দাউদ: (৩৫১৪)

[8] সূরা আন-আম: (১১৯)

[9] মুসলিম: (৩৭৮৪)

[10] তিরমিযি: (১৮৯২), ইব্‌ন মাজাহ: (৩৪২৩), মুহাদ্দিস আলবানি সহিহ তিরমিযিতে হাদিসটি সহিহ বলেছেন।

[11] আহমদ: (১৪২৩৪)

[12] আল-ইস্তেযকার: (৮/৩৪১-৩৪২)

[13] আবু দাউদ: (৩২৭১), তিরমিযি: (১৭৬৪)

Print Friendly, PDF & Email


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

22 মন্তব্য

  1. There might have some health benefits with eating and drinking with the right hand and hazards with left hand that the scientists need to find out. Disbelievers wouldn’t believe it until they find a scientific evidence against this claim. However, we muslims do believe it without any evidence as there is no greater scientist than our Creator, Allah, who taught Prophet (s), how to behave and act.

    Islam is a logical religion. Everything that Islam teaches has a rationale explanation. The explanation might be known or unknown but being muslim, we believe the right teachings of Islam is of course correct.

    I am not an Islamic scholar, but drinking water with the sticky right hand (for example, while eating rice) is very odd looking/impolite and Islam doesn’t teach to be impolite. As an example, in Islam it is not appreciated to chew bones in front of the guests because it is impolite.

    I have few points that can help us not being odd looking still maintain the teachings of the prophet. Please raise your voice if any of the points go against Islam.
    1. Eat with cutlery/spoon (so we have dry right hands)
    2. Don’t drink anything while you are eating (drink before or after the meal, and this is a good advice from the doctors too.)

    Eating with wet/sticky right hand not only odd looking but has the following issues.
    1. Glass might slip and make a disgusting situation
    2. Oily glasses touch with wet/sticky hands would need extra soap/time/effort to clean

    The article is very informative with the hadiths but suggesting someone to take the glass with their wet right hand doesn’t feel so comfortable.

    N.B: I always drink with left hand wheb I eat with hand. So, from now on, I will try to eat with cutlery (holding the knife on left and the fork/spoon on the right hand)

    May Allah guide us all.

  2. এক হাতে পান করার সময় অপর হাতের সাহায্য নেয়া:
    এক হাতে পান করার সময় যখন অপর হাতের সাহায্য নেয়া হয়, তখন যে হাতের অংশ গ্রহণ বেশী থাকে সে হাতে পান করাই গণ্য হয়। অর্থাৎ পানির পাত্র যদি বড় হয়, অথবা হাত ফসকে গ্লাস পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, বা কোন জরুরতে ডান হাতে গ্লাস ধরে বাম হাতের সাহায্য নেয়া হয়, তাহলে ডান হাতেই পান করা গণ্য হয়। এতে কোন সমস্যা নেই। আর যদি বাম হাতে গ্লাস বা পানির পাত্র ধরে ডান হাতের সাহায্য বা সামান্য স্পর্শ গ্রহণ করা হয়, তাহলে বাম হাতে পান করা গণ্য হয়। শরীয়তে যা নিষেধ। কতক আলেম বাম হাতে পান করার নিষেধাজ্ঞাকে ইসলামী আদব, মোস্তাহাব ও সুন্নত পরিপন্থী হিসেবে দেখেছেন। কতক আলেম বলেছেন ডান হাতে পান করা অবশ্য জরুরী, বিনা প্রয়োজনে বাম হাতে পান করা হারাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সর্বদা ডান হাতে পান করা, বাম হাতে পান করাকে শয়তানি কর্ম বলা এবং বাম হাতে পানকারীকে বদ দোয়া দেয়া ইত্যাদি দ্বিতীয় মতকে যথাযথ প্রমাণ করে।

    উপরোক্ত কথার কোন রেফারেন্স থাকলে বলবেন প্লীজ। এমনকি যখন দুই হাতে কাজ করি আমরা তখন এক হাতের প্রাধান্য থাকে, দুই হাতের সমান প্রাধান্য থাকে না। দুই হাত দিয়ে পানি খাওয়ার সময় যে হাতের অংশ বেশী থাকে ঐ হাত দিয়ে পানি খাওয়া হয়েছে গন্য করা হয় এটা মাথায় ঢুকলো না!

  3.  আসসালামুওালাইকুম,
    জী সকলের জন্যই আকই নিয়ম। জারা বাহাতি তাদের অভ্যাস পরিবরতন করতে হবে। কারণ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন ” তোমরা বাম হাত দিয়ে খেয়োনা, অবশই শয়তান বাম হাত দিয়ে খাবার খায় ও পান করে।”[সহীহ মুসলিম ২০১৯(ইংরেজি অনুবাদ)]
    তা ছাড়াও অন্য আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এক ব্যাক্তিকে বাম হাতে খাতে নিষেধ করার পরেও সে বাম হাতে খাওয়ায় রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাকে বদ দুয়া করেছিলেন। পরবরতিতে তার দান হাত আবশ হয়ে যায় সে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দান হাত দিয়ে খেতে পারে নাই। এই বর্ণনা আছে সহীহ মুসলিমে হাদিস নং ৩৭৭৬(ইংরেজি অনুবাদ)।

    প্রথমে কষ্ট হলেও বাম হাতে খাওয়ার এই অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে।

    আল্লাহ আমাদের কুরআন এবং রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সুন্নাহ মেনে জীবন যাপন করার তৌফিক দান করুন। আমীন

  4. ইসলামী আদব ও আখলাকের ক্ষেত্রে
    মূল বিষয় কুরআন ও হাদিস বা এক কথায় বলা যায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
    ওয়াসাল্লামের আদর্শ। আমি যথাসাধ্য অনুসন্ধান করেছি, কিন্তু কোথাও দেখিনি নবী সা. বাম
    হাতে গ্লাস নিয়ে ডান হাতের সাহায্যে পান করেছেন। হ্যাঁ এতটুকু পাওয়া যায় যে, তিনি
    বড় পাত্র থেকে পান করেছেন, যা একহাতে উঠানো সম্ভব নয়। এ থেকে আহলে ইলমগণ বুঝেছেন
    তিনি দু’হাতে পান করেছেন। মূল বিষয় এখানেই শেষ, যা উপরোক্ত লেখাতে স্পষ্ট।

    দ্বিতীয় বিষয়টি প্রমাণ
    করার জন্য পরিভাষা ও সাধারণ নীতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে। কারণ আমরা অনেকেই বাম হাতে
    পান করে হাদিসের নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তির জন্য ডান হাতের সামান্য স্পর্শ গ্রহণ
    করি। মনে করি ডান হাতে পান করার নির্দেশ পালন করেছি, অথচ পরিভাষায় একে ডান হাতে
    পান করা বলা হয় না। আমরা বড়দের সাথে আদান-প্রদানের সময়ও এরূপ করি না, অর্থাৎ ডান
    হাতের সামান্য স্পর্শ নিয়ে বাম হাতে তাদের কিছু দেই না। কারণ সামাজিকভাবে এরূপ
    আচরণ বাম হাতের আদান-প্রদান হিসেবে গণ্য হয়।

     

     মূল কথা হল এভাবে রাসূল
    পান করেনি, যদি করতেন অবশ্যই আমাদের পর্যন্ত সাহাবায়ে কেরাম নকল করতে। তাই মাথায়
    ঢুকলে ভাল, না ঢুকলেও হাদীসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা নিরাপদ। আল্লাহ আমাদের সঠিকভাবে
    বুঝার তাওফিক দিন।

  5. শায়খ, আমার কন্সার্ন হলো যেহেতু বাম হাতে পান করা নিশিদ্ধ আর ডান হাতে পানি পান করার কথা বলা হয়েছে। এখন কেও শুধু বাম হাতে পান না করে ( পরিস্থিতির কারনে) ডান হাত্ ও ব্যবহার করলো বাম হাতের সাথে, যেহেত রাসুল (সাঃ) এরকম ভাবে পান করেন নাই, সুন্নত পালন হবে না , একমত কিন্তু এরকম নিশিদ্ধ এটার কোন রেফারেন্স পেলে কোন প্রশ্নই থাকতো না । কিন্তু বাম হাতের সাথে সাথে ডান হাতের কিছু অংশ স্পর্শ করলে বাম হাতে পানি পান করা হচ্ছে এটার কোন রেফারেন্স যেহেতু নাই , কিভাবে বলতে পারি এটা বাম হাতে পান করা হচ্ছে বা এরকম ভাবে পান করা নিশিদ্ধ! মদ্যপান হারাম সুস্পষ্টভাবে কোন সন্দেহ নাই, কিন্তু আম খাওয়ার ব্যাপারে কিছু বলা আছে কি হাদিসে, বা ধরেন নতুন একটা ফল যেটার ব্যাপারে হাদিসে খেতে ও বলা নাই আবার নিষধ ও করা নাই , তাহলে কি আমরা নিষেধ ধরে নেব?

  6. Brother! You Said:
    Islam is a logical religion.Our Answer to you that Islam is only Religion that Based on Revelation from Our Merciful Creator Allah.

    what is the Definition of Impolite and Disgusting According to Islam?
    Quranul Majid has been Revealed to Our Teacher Muhammad(Peace be upon him).So To Define anything like impolite or Something like that  was the Exclusive duty for Muhammad(Peace be upon him),Not open for anyone.

    Brother! what will you tell for those Muslims boy who have been living with his family since his Childhood and Drinking the Whole Family with Single Glass but Still by Right hand.Islam has its own Cultures with Beauty we should try to Realize and Practise it.

    Brother! I love you and all my Muslim Brothers for the Sake of Allah and An Advice to You:
    Islam has come to Create a Sunned Society and eradicates the root of Ignorance.So Love Islam,Respect Islam.Don’t never dislike any Single Part of Islam Even you are Unable to Practise that act.

    We ask shelter From Our evil Deeds and Evil Consequences of Our Evil Mind or Desires and also from Those thinks and Knowledge which have no benefits at all.

  7. “এভাবে রাসূল পান করেনি, যদি করতেন অবশ্যই আমাদের পর্যন্ত সাহাবায়ে কেরাম নকল করতেন”

    রাসুল এবং সাহাবারা কিন্তু আমাদের মত ভাত খেতেননা, যা খেতে গেলে সবগুলো আঙ্গুল ভিজে যায় এবং সেই ভেজা হাত দিয়ে গ্লাস ধরলেই গ্লাসে ঝোল লেগে যাবে।

    আরবরা সাধারণত শুকনা খাবার খেত। ঝোল দিয়ে রুটি খেলেও কিন্তু শুধু আঙ্গুলের মাথা ভিজে এবং এই অবস্থায় গ্লাস ধরলে গ্লাস ভিজবে না। কিন্তু, আমরা যখন ভাত খাই, তখন এটা সম্ভব না।

    আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমাদের মত হাত ভিজিয়ে খাবার খেলে, দুই হাতের স্পর্শে গ্লাস ধরে পানি খাওয়াকে রাসুল নিষেধ করতেননা।

    আর যেহেতু, দুই হাতের স্পর্শে গ্লাস ধরে পানি খাওয়াকে রাসুল নিষেধ করেননি, অর্থাৎ রাসুল নিজে বড় পাত্রের ক্ষেত্রে এটা করেছেন, তাই এটাকে নিষিদ্ধ বলা যায়না।

    রাসুল দুই হাতে পানি পান করেছেন একটি অসুবিধায় পড়ে, এমনি এমনি না। তিনি কিন্তু চাইলে বড় পাত্র থেকে ছোট পাত্রে ঢেলে, শুধু ডান হাতে নিয়ে খেতে পারতেন। কিন্তু, ইসলাম সহজাত ধর্ম তাই জীবনকে কঠিন না করে দুই হাতে খাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।

    অথচ আমরা না বুঝেই ধর্মকে কঠিন বানাতে চাই, কন্টেক্সট না বুঝে অনেক সময়ই ইনফারেন্সের মাধ্যমে অনেক কিছুকে হারাম বলে দেই।

    যদি ভুল বলে থাকি, আল্লাহ মাফ করে দিও।

  8. Dear Brother,

    Thanks for your reply. I completely agree with you. In case, we have clear guidance from Quran and Sahih hadith what is beauty and what is disgusting, what is politeness and what is rude, we shouldn’t argue.

    If there is any hadith that says drinking with right hand even if it smears the glass is polite instead of drinking with left hand (not only with left) with the support of the right, I would undoubtly accept that it is ok and I should change my sense of politeness in case of a smeared glass.

    Please help me finding such an example. If we don’t have an example then we shouldn’t say it is haram or wrong etc to dring with both hands (left with the help of right).

    Allah hafiz

  9. ইসলাম একটা সহজ ধর্ম। কিন্তু পদে পদে আমরা এটাকে কঠিন বানিয়ে অগ্রহণযোগ্য করে তুলি। একটা দৃষ্টান্ত এখানেও দেখলাম। কোন কারণ ছাড়া কেউ বামহাতে পানি খেলে সেটা অবশ্যই অপরাধ। কিন্তু ভাত মাখা হাতে গ্লাস ধরে পানি খাওয়া, এটা কি রকম কথা? অদ্ভূত। যেমন আপনার উল্লেখিত হাদিস দিয়েই বলছি: অহংকার বশত ডান হাতে না খেয়ে বাম হাতে খাওয়া যায় না।”অহংকার ব্যতীত কোন কারণ তাকে বাঁধা দেয়নি” বাক্যটা দেখুন। তারপর:”অথচ ডান হাতে খেতে তার কোন সমস্যা ছিল না, বা কোন বাঁধা তাকে ডান হাত থেকে বিরত রাখেনি”, এই বাক্যটিও প্রমাণ করে যে যদি ডান হাতে ধরতে অসুবিধা না থাকার পরও কেউ বাম হাতে ধরে, তবে সেটা নিন্দাজনক। ভাত খাওয়ার সময় আমাদের হাত এটো থাকে, তাই যখন পানি খেতে চাই, তখন বাম হাতকেই প্রধানত ব্যবহার করতে চাই, আমার মতে এর কোন সমস্যা নেই, কারণ ডান হাতে তখন ধরাটা সম্ভব নয়। আপনি কি কি অদ্ভূত উপায় বলতেছিলেন, নিজেও জানেন এগুলো ইমপ্লিমেন্ট করা অনেক টাফ ও একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আর কতটা বাজে ও অস্বাস্হ্যকর দেখাবে যে এঁটো হাতে গ্লাস ধরে পানি খাওয়া। জানি বিভিন্ন পাল্টা যুক্তি দেখাবেন, এই সেই, কিন্তু যখন ডান হাতে ধরতে অসুবিধা থাকে, তখন সরাসরি বাম হাত দিয়ে খেতেও প্রবলেম হবার কথা। তাও যদি সম্ভব হয়, তখন ডান হাতের অল্প সাপোর্ট রেখে ধরলে এতে কোন সমস্যা নেই। বরং এটাই তাক্বওয়া প্রমাণ করে যে ডান হাতে ধরতে অসুবিধার জন্যই বাম হাতে খাচ্ছি, কিন্তু তাও ডান হাতের স্পর্শ নিয়ে নিচ্ছি। ইসলাম কত দিক থেকে মানুষের জন্য সহজ করে দেওয়া হয়েছে, সফরে গেলে চার ওয়াক্ত নামাজকে দু’ওয়াক্ত পড়ার সুবিধা দিচ্ছে, সাওমের সময় ভুলে খেয়ে ফেললে সেটার কাযা করতে হয় না, এভাবে আল্লাহ্‌ কতভাবে ইসলামকে সহজ করে দিয়েছেন মানুষের জন্য। আর আমরা আছি ইসলামকে ক্যামনে আরও কঠিন, আরও কঠিন করা যায়, সেই চেষ্টায়। খুবই বিরক্ত হলাম। আপনার উত্তরের দরকার নাই। জানি ফালতু কিছু পাল্টা যুক্তি দিবেন।

    একটাই অনুরোধ, ইসলামকে কঠিন, অযৌক্তিক, অগ্রহণযোগ্য ভাবে উপস্থাপন করাটা যত সম্ভব কমান। ইসলামকে আল্লাহ্‌ সহজ করে পাঠিয়েছেন, যৌক্তিক একটা জীবনপ্রথা হিসেবে পাঠিয়েছেন। যেখানে চুল আঁচড়ানোর জন্য পর্যন্ত নবীজি তাগিদ দিতেন, সেখানে এঁটো হাতে গ্লাস ধরে খাওয়ার মত অভদ্রতাকে ইসলামি নিয়ম বলাটা আসলেই ভীষণ দুঃখজনক।

  10.  আসসালামুওালাইকুম ভাই আহমাদ, আমাদের আর সাহাবাদের মধ্যে পার্থক্য কথাই জানেন? সাহাবাদের সামনে যখন রাসুল (সাঃ) এর কোন কথা চলে আসতো তাহলে তারা সাথে সাথে তা মেনে নিতেন। আর আমরা রাসুল (সাঃ) আর হাদিস পরে তাকে না মানার জন্য যুক্তি পেশ করছি। আর আপনি যে আহংকার আর কথা বলছেন  যা আপনাকে রাসুল (সাঃ) আর হাদিস মানতে বাধা দিচ্ছে বা যুক্তি পেশ করতে বাধ্য করছে তা কি আপনার আহংকার নয়? রাসুল (সাঃ) বলেছেন ডান হাতে পান করতে আমরা পান করি সমস্যা আর ডান হাতে পান করলে গ্লাস ময়লা হবে ক্যানো রাসুল (সাঃ)আর আরেক্তি সুন্নাহ হল রাসুল (সাঃ) খাবারের সময় তার হাত এর আঙ্গুলে যে খাবার লেগে থাকতো তা মুখ দিয়ে পরিশকার করে নিতেন। আমরা যদি এই সুন্নাহ কে মেনে নেই/ পালন করি তাহলে তো আর এতো সমস্যা হয় না। আমরা মানুষ কি বলবে সেই চিন্তা করি। আর একটু চেষ্টা করে দেখেন গ্লাসে খাবার নালা গিয়েও ডান হাতে খাওয়া যায়। আমি তার প্রমাণ।  আল্লাহ আমাদের সত্য কে বুঝে সালাফুস সালেহিন্দের মতকরে দীন কে মানার তওফিক ডান করুন আমীন

  11. আসসালামুআলাইকুম।
    অনেক তথ্যবহুল এবং অনেক উপকারী  একটি পোস্ট। আগে ভুলের মধ্যে ছিলাম, এখন ইনশাআল্লাহ সুধরানোর চেষ্টা করবো। আল্লাহ আমাদের সকলকে নবী কারিম(সাঃ)-এর জীবনাদর্শ অনুকরন ও অনুসরনের তৌফিক দিন।(আমীন)

  12. পান করার দু’টি পদ্ধতি:
    ডান হাতে পান করা ও বাম হাতে পান করা। ডান হাতে পান করা নবী সা. এর সুন্নত আর বাম
    হাতে পান করা শয়তানী কর্ম। এ বিষয়টি হাদিসে স্পষ্ট রয়েছে। আর
    তৃতীয় পদ্ধতির অস্তিত্ব রাসূল সা. এর যুগে ছিল না, অর্থাৎ ডান হাতের স্পর্শ নিয়ে
    বাম হাতে পান করার রেওয়াজ। রাসূল সা. ও তার কোন সাহাবী থেকে এ বিষয়ে প্রমাণ না
    থাকাই এ কথার প্রমাণ। তবে বড় পাত্রের ক্ষেত্রে উভয় হাতের সাহায্য নেয়ার প্রমাণ
    রয়েছে, যেখানে একহাত যথেষ্ট নয়।

  13. শায়খ আমার সালাম ও শ্রদ্ধা গ্রহন করুন। আপনার প্রশ্নের উত্তর এবং তার বিপরীতে সবার মন্তব্য ও পড়লাম। আমি অবশ্যই আপনার মত জ্ঞান রাখিনা। কিন্তু আমাকে একটা প্রশ্নের জবাব শুধু দিন, আপনার জবাব পড়ে “মুসলিম” নামে যে লোকটি সর্ব প্রথম মন্তব্য করেছে সে লিখেছে, সে এখন থেকে হাত দিয়ে ভাত না খেয়ে চামচ, কাঁটা চামচ ইত্যাদি দিয়ে খাবে এই লোকটাকে আপনি কি বলবেন? সে আগে যাও হাত দিয়ে ভাত খেত এখন সে এটাও ছেরে দিতে চাচ্ছে সুন্নত মানতে গিয়ে। আপনি কি বিষয়টা নিয়ে দয়া করে আরেকটু গবেষণা করবেন? কারন আমার মনেও এই প্রশ্ন জাগছে যে, আসলেই কি আগের আরবরা আমাদের মত এভাবে পুরো হাত ভরিয়ে খাবার খেত? তারা কি শুধু শুকনো খাবারই খেত যার কারনে ডান হাতে পানির গ্লাস ধরলেও সমস্যা হতো না?

    কারন গতকালই আমি ICD তে ডাঃ মঞ্জুর এলাহীর লেকচারে শুনেছি, দিনে দিনে দুনিয়ায় অনেক ধরনের সমস্যাই তৈরী হবে যেগুলোর ব্যাপারে ইজতিহাদ করে সমাধান বের করতে হবে। আগে আরবরা এক ধরনের জীবন জাপন করত আমরা করছি আরেক ধরনের জীবন। আমাদের হয়তো অনেক ভিন্নভিন্ন সমস্যায় ভবিষ্যতেও পরতে হতে পারে। এগুলোর সমাধান যদি আমরা আগের প্রেক্ষাপট অনুযায়ীই দেই সেগুলো হয়তো অনেকেই মেনে নিতে পারবে না। অনেকের কাছেই তা গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। কেউ হয়তো পুরো ব্যাপারটাকেই বাতিল করে অন্য ভাবে ভাবতে শুরু করবে। যেটা ভাই “মুসলিম” ভাবছেন। সে ক্ষেত্রে কেউ যদি সুন্নতটাকেই অবমাননা শুরু করে তবে তার দায় কিন্তু আপনাকেই নিতে হবে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। জাযাকাল্লাহ খাইর।

  14. দলীল সমৃদ্ধ চমৎকার সচেতনতা মূলক পোস্ট। জাযাকাল্লাহু খাইরান।

  15. দলীল সমৃদ্ধ চমৎকার সচেতনতা মূলক পোস্ট। জাযাকাল্লাহু খাইরান।

  16. দলীল সমৃদ্ধ চমৎকার সচেতনতা মূলক পোস্ট। জাযাকাল্লাহু খাইরান।

  17. আপনার সাথে সম্পূর্ণ একমত, আমরা শুধু শুধুই ইসলামকে কঠিন করে তুলি।

    শাইখ মুফতি সানাউল্লাহ নজির আহমদ কোন দেশের আমি জানিনা, কিন্তু, এ ব্যাপারে, আমাদের দেশের আলেমগন কি বলেন তাও জানা থাকা দরকার।

    এটা নিঃসন্দেহে সত্যি, এটো ডান হাতে পানি খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। কিন্তু, ডাল মাখানো হাত দিয়ে ভাবতেই আমি অস্বস্তি বোধ করি। অবশ্য, শুকনা রুটি/খেজুর এসব খাওয়ার সময় অস্বস্তি বোধ করবোনা।

    দেখি, তারপরেও আমার পরিচিত কোন দেশী আলেমকে জিজ্ঞাসা করে দেখব।

    ভাল থাকুন সবাই।

  18. Jazakallahu khairan for nice writing. i was reading the comments and one hadith came in my mind “Islam began as something strange and will revert to being strange as it began, so give glad tidings to the strangers.” (Muslim).

    today, if i say wearing pant above the ankle looks very bad. what other people will say looking at me. but during the time of Sahaba (ra), the culture was different………..is this logic acceptable?

    our problem is we think ourselves so much wise that we started putting our LOGIC against the Sunnah.

    i was also in a habit of drinking in traditional style. But after knowing about it, i have changed my habit and i drink with my RIGHT HAND in house, office, wedding programs etc…….ALHAMDULILLAH i am not facing any problem.

    Jazakallahu Khairan.

  19. আসসালামুওালাইকুম,
    শাইখ মুফতি সানাউল্লাহ নজির আহমদ একজন বাংলাদেশী। তিনি দেওবন্দ ইন্ডিয়া হতে পড়াশুনা করেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশেই থাকেন। এবং দাওতি কাজ করেন।

    জাযাকাল্লাহ খাইর 

  20.  আসসালামুওালাইকুম ভাই আপনার comments টা পরে অনেক ভাল লাগলো। কুরআন সুন্নাহের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এমনই হওয়া উচিত। শুনলাম ও মানলাম আমাদের যুক্তি খাটানোর কোন অবকাশ নেই। আর আল্লাহ মুমিন্দের গুনাবলির মধ্যে এটা উল্লেখ করেছেন যে মুমিন্দের সামনে জাখন কুরআন বা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আর বাণী আসে যাবে তারা বলবে শুনলাম আর মানলাম। আল্লাহ আমাদের কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ মেনে জীবন পরিছচালনা করার তওফিক দান করুন। আমীন

  21. { وقل الْحَقُّ مِنْ رَبِّكُمْ فَمَنْ شَاءَ فَلْيُؤْمِنْ
    وَمَنْ شَاءَ فَلْيَكْفُرْ }

     

    আর বল, “সত্য তোমাদের রবের পক্ষ থেকে। সুতরাং
    যে ইচ্ছা করে সে যেন ঈমান আনে এবং যে ইচ্ছা করে সে যেন কুফরী করে”। সূরা কাহাফ:
    (২৯)

     

    কুরআনে আছে বা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
    আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিশুদ্ধ সনদে প্রমাণিত এমন কোন বিষয় প্রচার করতে আমরা কুণ্ঠাবোধ
    করি না। আর সত্য জানার পর অহংকার করা বা বক্রপথ অবলম্বন করা যার যার ইচ্ছা। আমাদের
    দায়িত্ব কোন ধরণের পরিবর্তন ও সংযোজন ব্যতীত আল্লাহর বাণী ও তার নবী সাল্লাল্লাহু
    আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ মানুষের নিকট যথাযথ পৌঁছে দেয়া। এ ব্যাপারে ত্রুটি হলে
    অবশ্যই সকলের সতর্ক করা আশা করি।
     

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.