কিভাবে আমরা আমাদের সন্তানদের লালন- পালন করব?

2
2182
প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না
রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

 

কিভাবে আমরা আমাদের সন্তানদের লালন- পালন করব?

সন্তানের প্রতি সকলের মায়া মমতা স্বভাবতই বেশি থাকে তাই বলে, তারা যেন মাতা-পিতাকে বিপদগামী না করতে পারে সেদিকে সকলের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাতের পরিজনদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর।” [সূরা তাহরীম ৬৬: ৬আয়াত]

মাতা-পিতা শিক্ষক তথা সমাজের সকলেরই আল্লাহর নিকট জবাবদিহি করতে হবে সন্তানদের গঠন করার ব্যাপারে।যদি তারা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে তবে সন্তানরা সুখী হবে এবং অন্যরাও দুনিয়া ও আখিরাতে সুখী হবে । যদি তাকে উত্তমভাবে গড়ে না তোলা হয় তবে সে দুর্ভাগা হবে। ফলে, তার পাপের ভার অন্যদের উপরও বর্তাবে। এ জন্যই হাদীস শরীফে এসেছে: ‘তোমরা প্রত্যেকেই (রাখালের মত)দেখাশুনাকারী, আর এ দেখাশুনার ব্যাপারে প্রত্যেককেই জবাবদিহি করতে হবে।‘ [বুখারী মুসলিমের মিলিত হাদীস]

হে শিক্ষক! আপনার জন্য রাসূলের সা. দেয়া সুসংবাদ শ্রবণ করুন: ‘যদি তোমার দ্বারা কোন একজন ব্যক্তিও হেদায়েত প্রাপ্ত হয়, তবে তোমার জন্য একটি লাল উটনী পাওয়ার মতই উত্তম।‘ [বুখারী]

আর হে অভিভাবকগণ! আপনাদের জন্যও কতই না উত্তম সুসংবাদ। রাসূল সা. বলেছেন: ‘যখন কেউ মারা যায়, তখন তিন ধরণের আমল ব্যতীত অন্যান্য সমস্ত আমলের সওয়াব বন্ধ হয়ে যায়। তা হল- ছদকায়ে জারিয়া, উপকারী ইলম এবং নেককার সন্তান, যে তার মাতা পিতার জন্য দুআ করে।‘ [মুসলিম]

তাই হে আমার মুরব্বী! প্রথমে নিজের সংশোধনে সচেষ্ট হউন, অন্যান্য কর্মের আগেই। সন্তানদের সম্মুখে আপনি যে ভাল কাজ করবেন তাই উত্তম। যা খারাপ তা পরিত্যাগ করুন। যদি শিক্ষক ও পিতামাতা তাদের সন্তানদের সম্মুখে উত্তম চরিত্র ও ব্যবহারে মার্ধুযময়ী হন, তবেই তারা উত্তম শিক্ষা পাবে। তাই নিম্নোক্ত বিষয় সমূহের ব্যাপারে আমাদের বিশেষভাবে খেয়াল রাখা অতীব প্রয়োজন।

১) প্রথমে বাচ্চাদের ‍‍‌‌‍লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ পড়তে শিক্ষা দেয়া অত:পর যখন তারা বড় হবে, তখন তাদের এই কালেমার অর্থ শিক্ষা দেয়া।

২) সর্বদা সন্তানের হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাঁর প্রতি ভালবাসা সৃষ্টি করতে আন্তরিক হওয়া। কারণ, আল্লাহ তায়ালা আমাদের সৃষ্টি করেছেন, রিযক প্রদান করেন, বিপদ থেকে উদ্ধার করেন এবং তিনি এক ও শরিকবিহীন। আর সত্যিকার ভাবে তিনিই মাবুদ এবং ইবাদত পাওয়ার যোগ্য।

৩) সন্তানদের জান্নাতে প্রবেশের ব্যাপারে এভাবে উদ্ধুদ্ধ করা যে, যারা ষালাত আদায় করবে, সওম পালন করবে মাতা-পিতার বাধ্য থাকবে, আর আল্লাহ যাতে রাযী খুশী হন সে সব কাজ করবে, তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে। সাথে সাথে জাহান্নামের ব্যাপারে ভয় ভীতি প্রদর্শন করতে হবে। আর তাদের উপদেশ দিয়ে বলতে হবে-যারা ষালাত আদায় করে না, মাতা পিতার অবাধ্য আচারণ করে, আল্লাহকে ক্রোধান্বিত করে আল্লাহ প্রদত্ব শরীয়তী ব্যবস্থা ত্যাগ করে মানুষের তৈরী আইন দ্বারা বিচার কাজ সম্পন্ন করে আর অন্যদের ধন দৌলত ধোকা দিয়ে মিথ্যা কথা বলে সুদের মাধ্যমে অথবা অন্যান্য উপায়ে আত্মসাত করে তারাই জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

অনলাইনে নিরাপদ থাকতে ব্যাবহার করুন "Brave ব্রাউজার"। ডাউনলোড করতে এইখানে ক্লিক করুন

৪) সর্বদা বাচ্চাদের এ শিক্ষা দিতে হবে যে, একমাত্র আল্লাহপাকের নিকট দুআ করতে হবে এবং একমাত্র তাঁরই নিকট মাহায্য ভিক্ষা করতে হবে। কারণ, রাসূল সা. তাঁর চাচাতো ভাই ইবনে আব্বাসকে (রা.) বলেছেন: ‘যদি কোন দুআ কর, একমাত্র আল্লাহর নিকটই কর, যদি কোন সাহায্য ভিক্ষা কর, একমাত্র তাঁরই নিকট কর।‘ [তিরমিযী, হাসান, সহীহ]

সন্তানদের সালাত শিক্ষা দেয়া

১) অল্প বয়সেই ছেলে মেয়েদেরকে সালাত শিক্ষা দেয়া ওয়াজিব, যাতে বড় হলে সর্বদা তা আদায় করতে সচেষ্ট হয়।

রাসূল (সা.) এ সম্বন্ধে বলেছেন: ‘যখন সন্তানরা সাত বছরে পদার্পন করে তখনই তাদের সালাতের নিয়মাবলী শিক্ষা দান কর। আর সালাতের জন্য প্রহার কর দশ বছর অতিক্রান্ত হলে। আর তখন তাদের জন্য আলাদা আলাদা বিছানার ব্যবস্থা কর।‘ [মুসনাদে আহমাদ সহীহ]

তালীমের মধ্যে আছে- তাদের অযু শিক্ষা দেয়া ও তাদের সম্মুখে সালাত আদায় করা, যা দেখে তারা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। তাদেরকে সাথে নিয়ে মসজিদে গমন করা। আর তাদের ঐ সমস্ত কিতাব পড়তে উদ্বুদ্ধ করা যাতে সালাতের সহীহ নিয়মাবলী লিপিবদ্ধ আছে, যেন পরিবারের সকলে সালাতের নিয়মাবলী শিক্ষা করতে পারে। এটা শিক্ষক ও পিতামাতা উভয়েরই দায়িত্ব। যদি এতে কোন গাফেলতি করা হয়, তাহরে এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।

২) সন্তানদের কোরআন শিক্ষা দান করা। প্রথমে সূরা ফাতিহা এবং তার বাংলা অর্থ ও অন্যান্য ছোট সূরা সমূহ শিক্ষা দিতে হবে। সালাতের জন্য আত্তাহিয়াতু, দরুদ এবং অন্যান্য দোয়া শিক্ষা দিতে হবে। তাদের তজবিদ ও কোরআন হিফজ ও হাদীসের শিক্ষা দানের জন্য কোন শিক্ষককে নিয়োগ করতে হবে।

৩) সন্তানদের জুমআ ও মসজিদে গিয়ে জামাতে সালাত আদায় করার ব্যাপারে উৎসাহিত করা। যদি সমজিদে গিয়ে তারা কোন ভুল ত্রুটি করে তবে মিষ্টি ভাষায় তাদের ভুল সংশোধন করে দেয়া। তাদের কোন ধমক বা ভৎসনা না করা, যে কারণে ঐ অজুহাতে তারা সালাতকে পরিত্যাগ করে। ফলে উক্ত কারণে আমরা অপরাধী হয়ে যাব। যদি আমরা আমাদের শৈশবের ভুল ত্রুটি ও খেল তামাশার কথা স্মরণ করি, তাহলে সহজেই তাদের ক্ষমা করতে পারব।

হারাম কাজ হতে নিবৃত্ত রাখা

১) সন্তানদের সর্বদা কুফরী কালাম, গালি দেয়া, অভিশাপ দেয়া এবং আজেবাজে কথা বলা হতে উপযুক্ত উপদেশের মাধ্যমে নিবৃত্ত রাখতে হবে। আর মিষ্টি ভাষায় তাদের এটা শিকাষা দিতে হবে যে, কুফরী কাজ হারাম: ফলে চিরস্থায়ী খতিগ্রস্ত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করতে হবে। তাদের সম্মুখে সর্বদা আমাদের জিহবাকে সংযত রাখতে হবে, যাতে আমরা তাদের সম্মুখে উত্তম আদর্শ হতে পারি।

২) সন্তানদের সর্ব প্রকার জুয়া খেলা হতে নিবৃত্ত রাখতে হবে। রযমন- তাস, পাশা, দাবা লুডু, কেরাম ইত্যাদি। যদিও শুরুতে সাধারণভাবেই সময় কাটানোর জন্য খেলা করা হোক না কেন, পরিণামে তা জুয়ায় রুপান্তরিত হয়। ফলে একে অন্যের সাথে শত্রুতার  সৃষ্টি হয়। উহা তাদের ব্যক্তিগত টাকা পয়সা ও সময়কে নষ্ট করে এবং সাথে সাথে সালাত নষ্টকারী কাজও বটে।

৩) সন্তানদের আজেবাজে পত্রিকা পড়া হতে নিবৃত্ত রাখতে হবে। সাথে সাথে অশ্লীল ছবি, ডিটেকটিভ ও যৌন গল্প পড়া হতে নিবৃত্ত রাখতে হবে এবং ঐ জাতীয় সিনেমা, টেলিভিশন, ভিডিও দেখা হতেও নিষেধ করতে হবে। কারণ, ঐ জাতীয় ছবি সমূহ তাদের চরিত্রকে কলুষিত ও ভবিষ্যতকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে তোলে।

৪) সন্তানকে ধুমপান ও মাদক দ্রব্য ব্যবহারের ব্যাপারে নিষেধ করতে হবে। আর তাকে বুঝাতে হবে যে, সমস্ত চিকিৎসকগণের মিলিত মতামত হল, ঐ সমস্ত জিনিস শরীরের মারাত্মক কাষতি করে এবং যক্ষ্মা ও ক্যান্সারের প্রধান কারণ। ধুমপান দাঁতকে নষ্ট করে, মুখে দুর্গন্ধ আনায়ন করে এবং বক্ষ ব্যাধির কারণ। এতে কোন উপকারিতাই নেই। তাই উহা পান করা ও বিক্রয় করা হারাম। এর পরিবর্তে কোন ফল বা লবণাক্ত কোন দ্রব্যাদি খেতে পরামর্শ দেয়া উচিত।

৫) সন্তানদের সর্বদা কথায় ও কাজে সত্যবাদী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তাদের সম্মুখে কখনো মিথ্যা কথা বলা যাবে না, যদিও তা হাসি ঠাট্টাচ্ছলে বলা হোক না কেন। তাদের সাথে কোন ওয়াদা করলে তা পালনে সচেষ্ট হতে হবে। রাসূল (সা.) বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি কোন বাচ্চাকে বলে, এসো তোমাকে কিছু দিব। তার পর যদি তাকে না দেয়া হয় তবে সে মিথ্যাবাদী।‘ [মুসনাদে আহমাদ সহীহ]

৬) সন্তানদের কোন হারাম মাল যেমন- ঘুষ, সুদ চুরি ডাকাতি, ধোকার পয়সায় আহার করালে এবং লালন পালন করলে সে সব সন্তানরা অসুখী, অবাধ্য ও নানা ধরণের পাপে লিপ্ত হবে।

৭) সন্তানদের উপর ধংসের বা গজবের দুআ করা উচিত নয়। কারণ দোয়া ভাল ও মন্দ উভয় অবস্থাতেই কবুল হয়ে যায়। ফলে তারা আরো বেশী গোমরাহ হয়ে যাবে। বরং এ কথা বলা উত্তম যে, আল্লাহ তোমার সংশোধন করুন।

৮) আল্লাহর সাথে শিরক করা হতে সাবধান করতে হবে। এর মধ্যে আছে, মৃত কোন ব্যক্তির নিকট দোয়া চাওয়া, তাদের নিকট কোন সাহায্য ভিক্ষা করা। তারাও আল্লাহর বান্দা, কারও কোন ভাল কিংবা মন্দ করার কোন ক্ষমতা তাদের নেই। আল্লাহ তায়ালা বলেন: “আল্লাহ ছাড়া এমন কাউকে ডেকনা যে না তোমার কোন উপকার করতে পারে আর না কোন ক্ষতি করতে পারে। যদি তা কর তবে নিশ্চয়ই তুমি যালিমদের (মুশরিকদের) অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবে।” [সূরা ইউনুস ১০: ১০৬ আয়াত]

কাপড় দ্বারা শরীর আবৃত করা ও পর্দা করা

১) বাল্য অবস্থা হতেই মেয়েদের শরীর আবৃত করার জন্য উৎসাহিত করতে হবে, যাতে বগ হওয়ার সাথে সাথে সে এর উপর আরো মজবুত হয়ে চলতে পারে। তাকে কখনও ছোট জামা পরিধান করান ঠিক নয়। অথবা প্যান্ট বা সার্ট এককভাবে কোনটাই পরাতে নেই। কারণ উহা কাফিরদের ও পুরুষদের পোষাকের মত। ফলে, এ কারণে অন্যান্য যুবকরা ফিৎনা ও ধোকায় পতিত হয়। যখনই তার বয়স সাত বছর অতিক্রম করবে তখন থেকেই সর্বদা তাকে হুকুম করতে হবে রুমাল দ্বারা মস্তক আবৃত করার জন্য। তারপর যখন বালেগা (প্রাপ্ত বয়স্কা) হবে, তখন তাকে মুখ মন্ডল ঢাকার ব্যাপারে উৎসাহিত করতে হবে। আর এমন বোরখা পরিধান করাতে হবে যা লম্বা ও ঢিলেঢালা হবে এবং যা তার সম্মানের হিফাযত করবে। কোরআন পাক মুমিনদের উৎসাহিত করছে পর্দা করার জন্য এই বলে: “হে নবী, তুমি তোমার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মুমিনদের নারীদেরকে বল, তারা যেন তাদের জিলবাবের (জিলবাব হচ্ছে এমন পোষাক যা পুরো শরীরকে আচ্ছাদিত করে) কিছু অংশ নিজেদের উপর ঝুলিয়ে দেয়, তাদেরকে চেনার ব্যাপারে এটাই সবচেয়ে কাছাকাছি পন্থা হবে। ফলে তাদেরকে কষ্ট দেয়া হবে না।” [সূরা আহযাব ৩৩: ৫৯ আয়াত]

আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের বাইরে ঘুরাফিরা ও বিনা পর্দায় চলাফেরা করতে নিষেধ করে বলেন: “এবং প্রাক- জাহেলী যুগের মত সৌন্দর্য প্রদর্শন করো না।” [সূরা আহযাব ৩৩ আয়াত]

২) সন্তানদের এই উপদেশ দিতে হবে যে, পুরুষরা পুরুষদের পোষাক ও মহিলারা মহিলাদের পোষাক পরিধান করবে, যাতে তাদের প্রত্যেককে আলাদা করে পার্থক্য করা যায় এবং চেনা যায়। আর তোরা যেন সাথে সাথে বিধর্মীদের পোষাক পরিচ্ছেদ যেমন সংকীর্ণ প্যান্ট বা এ জাতীয় পোষাক পরিধান করা থেকে বিরত থাকে। এ ছাড়া অন্যান্য যে সব ক্ষতিকারক অভ্যাস রয়েছে তা থেকে তারা যেন বিরত থাকে।

রাসূল (সা.) বলেছেন: ‘আল্লাহ তায়ালা পুরষের বেশধারী মহিলা ও মহিলাদের বেশধারী পুরুষদের উপর অভিশাপ বর্ষণ করেন। পুরুষদের মধ্যে যারা মহিলাদের মত চলাফিরা করে এবং মেয়েদের মধ্যে যারা পুরুশদের মত চলাফিরা করে তাদের উপরও আল্লাহর অভিশাপ।‘ [বুখারী]

অন্যত্র আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি কোন কওমের অনুসরণ করে সে তাদেরই অন্তর্ভূক্ত।‘ [আবু দাউদ সহীহ]

চারিত্রিক গুণাবলী ও আদব কায়দা

১) আমরা বাচ্চাদের এমন অভ্যাস গ[ড়ে তুলতে সাহায্য করব, যাতে তারা কোন কিছু গ্রহণ করার সময়, প্রদান করার সময়, পান করার সময়, লেখার সময় ও মেহমানদারী করার সময় ডান হাত ব্যবহার করে। আর তাদেরকে এই শিক্ষাও দিতে হবে যে প্রতিটি কাজের পূর্বে যেন বিসমিল্লাহ বলে। বিশেষ করে খাবার খাওয়ার সময় এবং পান করার সময়। আর খাবার গ্রহণ করবে বসা অবস্থায়। যখন খানা পিনা শেষ হয়ে যাবে তখন যেন বলে আলহামদুলিল্লাহ

২) তাদেরকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকার অভ্যাস করায় সাহায্য করতে হবে। এতে আছে- হাত পায়ের নখ ছোট করা, খাবার গ্রহণের পূর্বে ও পরে হস্তদ্বয় ধৌত করা, এস্তেঞ্জা করতে শিক্ষা দেয়া, প্রশ্রাবের পর টিস্যু কাগজ অথবা ঢিলা-কুলুফ ব্যবহার করা, অথবা পনি দ্বারাধৌত করার অভ্যাস গড়তে হবে। এর ফলে তার সালাত শুদ্ধ হবে এবং তার পোষাক পরিচ্ছেদেও কোন নাপাকি স্পর্শ করবে না।

৩) তাদের গোপনে উপদেশ দান করতে হবে। যদি কোন ভূল ত্রুটি করেও থাকে, তথাপি প্রকাশ্যভাবে অপমান করা ঠিক হবে না। যদি তারা কোন কথা গ্রহণ করতে ধৃষ্টতা প্রকাশ করে, তাহলে তাদের সাথে কথা বন্ধ রাথতে হবে তিন দিন পর্যন্ত।

৪) যখন আযান হয়, তখন তাদের নীরব থাকতে বলা উচিত। আর সাথে সাথে মুয়াজজি যা বলে তার জবাব দেয়ার অভ্যাস গড়তে হবে। তারপর রাসূলের উপর সালাত ও সালাম পড়তে হবে এবং অছিলার দোয়া করতে হবে। রাসূল (সা.) বলেছেন: ‘হে আল্লাহ আপনি এই পরিপূর্ণ আহবানের ও সালাতের রব।অনুগ্রহ করে মুহাম্মাদ সা. কে অছীলা ও মর্যাদা দান করুন। আর যে প্রসংশিত স্থানের ওয়াদা আপনি করেছেন, তা তাকে দান করুন।’ [বুখারী]

৫) যদি সম্ভব হয়, তবে প্রতিটি সন্তানকে আলাদা বিছনার ব্যবস্থা করতে হবে অথবা গায়ের জাদর আলাদা দিতে হবে। উত্তম হচ্ছে- মেয়েদের জন্য আলাদা এবং ছেলেদের জন্য আলাদা কামরার ব্যবস্থা করা। ফলে, এটা তাদের চরিত্র ও স্বাস্থ্যের হিফাযত করবে।

৬) তাদের এমন অভ্যাস গড়তে হবে যাতে রাস্তা ঘাটে কোন আবর্জনা না ফেলে। বরঞ্চ এই অভ্যাস করাতে হবে, যাতে সম্মুখে কখনও কোন আবর্জনা দেখলে তা যেন দুরে সরিয়ে রাখে।

৭) খারাপ বন্ধুদের সাথে উঠ বসার ব্যাপারে সর্বদা সাবধান করতে হবে। আর রাস্তা ঘাটে তাদের অবস্থান করার ব্যাপারে সাবধান করতে হবে।

৮) সন্তানদের বাড়িতে, রাস্তায় এবং শ্রেণী কক্ষে এই বলে সালাম দেয়ার অভ্যাস করতে হবে আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহে ওয়া বারাকাতুহ।

৯) প্রতিবেশীর সাথে সদভাব রাখার ব্যাপারে উপদেশ দিতে হবে এবং তাদের কষ্ট দেয়া হতেও তাদেরকে বিরত রাখতে হবে।

১০) বাচ্চাদের এমন অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা মেহমানদের সম্মান করে এহতেরাম করে এবং উত্তমভাবে তাদের মেহমানদারী করে।

জিহাদ ও বীরত্ব

১) মাঝে মাঝে পরিবারের লোকেরা ও ছাত্ররা একত্রে কোন বৈঠকে বসবে। সেই বৈঠকে রাসূলের সা. জীবনী ও সাহাবীদের জীবনী পাঠ করে শোনাতে হবে, যাতে তারা বুঝতে পারে যে, রাসূল সা. ছিলেন নির্ভিক সেনাপতি। আর তাঁর সাহাবীগণ যেমন- আবু বকর, ওমর, উসমান, আলী, মুয়াবিয়া রা. গণ আমাদের দেশকে জয় করেছিলেন। আর তারা জয় যুক্ত হয়েছিলেন ঈমানের কারণেই এবং যুদ্ধ অবস্থায়ও আমলে সর্বদা তারা কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী চলতেন। তাদের চারিত্রির গুণাবলী ছিল অতি উচ্চ।

২) সন্তানদের গড়ে তুলতে হবে বীর মনোভাবাপন্ন হিসেবে। তারা সৎকাজের আদেশ ও অন্যায় কাজের নিষেধ করবে। আর আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাবে না। কোন অবস্থাতেই মিথ্যা গল্প ও গুজব কাহিনী দ্বারা তাদের ভিত করা ঠিক হবে না।

৩) তাদের মধ্যে এই চেতনা জাগরত করতে হবে, যাতে অন্যয়কারী ও জালেমদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারে। আমাদের যুবকরা শীঘ্রই ফিলিস্তিন ও বাইতুল মুকাদ্দাসকে মুক্ত করতে পারবে, যদি তারা ইসলামের শিক্ষার উপর চলে এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে। ইনশাআল্লাহ তখন তারা জয়যুক্ত হবেই।

৪) তাদের উত্তম ইসলামি চরিত্র গঠন মূলক বই পুস্তক কিনে দিতে হবে। যেমন কোরআনের কাহিনী সমূহ, রাসূলের সা. জীবনী, সাহাবীদের ও মুসলিমদের বিরত্ব গাথা। যেমন শামায়েলে মুহাম্মাদীয়া, আল আকীদা আল ইসলামীয়া, আরকানুল ইমান ওয়াল ইসলাম, মিনহাজ ফিরকাতুন নাজিয়াহ, ধুমপানের ব্যপারে ইসলামের হুকুম, তাওজীহাত আল ইসলামিয়াহ, দীনের জরুরী জ্ঞান সমূহ, অদ্ভুত কাহিনী সমূহ, যা হক ও বাতিলকে আলাদা করে, ইত্যাদি বই পড়তে উদ্ধুদ্ধ করতে হবে।

সন্তানের মাতা পিতার প্রতি কর্তব্য সমূহ

দুনিয়া আখেরাতে নাজাত পেতে হলে, নিম্নোক্ত উপদেশগুলি পালন করতে হবে।-

১) মাতা পিতার সাথে ভদ্রভাবে কথা বলবে। তাদেরকে উহ্! শব্দটিও পর্যন্ত বলবে না। তাদের ধমক দিবে না। আর তাদের সংগে নম্র ব্যবহার করবে।

২) সর্বদা মাতা পিতার আদেশ নিশেধ পালন করতে তৎপর হবে, তবে কোন পাপের কাজ ব্যতীত। কারণ, স্রষ্টার সাথে কোন পাপের কাজে কোন সৃষ্টির আনুগত্য করা যাবে না।

৩) তাদের সংঙ্গে উত্তম ব্যবহার করবে। কখনও তাদের সম্মুখে বেয়াদবী করবে না। কখনও তাদের প্রতি রাগের সাথে দৃষ্টি নিক্ষেপ করবে না।

৪) সর্বদা মাতা পিতার মুনাম, সম্মান ও ধন সম্পদের হিফাযতে সচেষ্ট হবে। আর তাদের অনুমতি ব্যতিত তাদের কোন টাকা পয়সা ধরবে না।

৫) এমন কাজে তৎপর হও, যাতে তারা খুশি হন, যদিও তারা সেসবের হুকুম নাও করে থাকেন। যেমন তাদের খেদমত করা এবং তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয় করে দেয়া। আর সব সময় ইলম অর্জনে সচেষ্ট হবে।

৬) তোমার সর্ববিধ কাজে তাদের সাথে পরামর্শ করবে। আর যদি কোন অবস্থায় তাদের বিরোধিতা করতে, তবে তাদের নিকট ওযর পেশ করবে।

৭) সর্বদা তাদের ডাকে হাসিমূখে উপস্থিত হবে। আর বলবে: হে আমার মাতা! হে আমার পিতা! তাদের বাবা মা সম্বোধন করে ডাকবে না। উহা অনইসলামী শব্দ।

৮) তাদের বন্ধু বান্ধবদের ও আত্মীয় স্বজনদের সম্মান করতে হবে তাদের জিবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পরেও।

৯)তাদের সাথে ঝগড়া করবে না এবং তাদের ভূল ভ্রান্তি খঁজতে তৎপর হবে না। বরঞ্চ আদবের সাথে তাদেরকে সঠিক জিনিস জনাতে আপ্রাণ চেষ্টা করবে।

১০) তাদের অবাধ্য হবে না। তাদের সম্মুখে উচ্চস্বরে কথা বলবে না তাদের কথাবার্তা মনোযোগ সহকারে শ্রবন করবে। তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করবে। মাত পিতার সম্মানের খাতিরে, তোমার কোন ভাই বোনদের কষ্ট দিবে না।

১১) যখনই তাদের কেউ তোমার সম্মুখে উপস্থিত হন তখনই তাদের সম্মানে দাড়িয়ে যাবে। আর তাদের মস্তক চুম্বন করবে।

১২) বাড়িতে মাতাকে তার কাজে সর্বদা সহযোগিতা করবে। আর পিতার কাজে সহযোগিতা করতে কখনও পিছপা হবে না।

১৩) মাতা পিতার অনুমতি ব্যতিত কোথায়ও বের হবে না, যদিও সে কাজ যতই গুরুত্বপূর্ণ হউক না কেন। যদি বিশেষ অসুবিধার কারণে বের হতে হয়, তা হলে তাদের নিকট ওযর পেশ করবে। আর তেশের কিংবা শহরের বাইরে গেলে, সর্বদা তাদের সাথে চিঠি পত্রের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখবে।

১৪) অনুমতি ব্যতিত কক্ষনও তাদের কক্ষে প্রবেশ করবে না। বিশেষ করে তাদের ঘুম কিংবা বিশ্রামের সময়।

১৫) যদি তোমার ধুমপানের বদ অভ্যাস থাকে, তবে কক্ষনআ তাদের সম্মুখে উহা করবে না। তবে ছেড়ে দেয়াই উত্তম। কারণ, উহা সালাত আদায়ে বাধা স্বরুপ।

১৬) তাদেরর পূর্বে খাবার গ্রহণ করবে না। খানা পিনার সময় তাদের একরাম করতে সচেষ্ট হবে।

১৭) তাদের সম্মুখে কখনও মিথ্যা কথা বলবে না। তাদের কোন কাজ তোমার পছন্দ না হলে তাদের দোশ বের করতে তৎপর হবে না।।

১৮) তাদের সম্মুখে তোমার স্ত্রী বা সন্তানদের প্রধান্য দিবে না। সর্ব অবস্থাতেই তাদের রাজী খুশি রাখতে তৎপর হবে। তাদের রাজি খুশিতেই আল্লাহপাক রাজি হবেন। আর তাদের নারাজীতে, আল্লাহ তায়ালা নারাজ হবেন।

১৯) তাদের সম্মুখে কোন উচুঁ স্থানে উপবেশন করবে না। তাদের সম্মুখে কক্ষণই অহংকারের সাথে পদদয়কে লম্বা করে দিবে না।

২০) কক্ষণও পিতার সম্মুখে নিজের বড়ত্ব দেখাবে না। যদিও তুমি যত বড় উর্দ্ধতন কর্মচারী/কর্মকর্তা হও না কেন। তাদের কোন ভাল কাজকে খারাপ বলবে না কিংবা তাদের কোন কষ্ট দিবে না, যদিও তা মুখের কথার দ্বারাই হোক না কেন।

২১) তাদের জন্য খরচের ব্যাপারে কক্ষনও এত কৃপনতা করবে না, যাতে তারা কোন অভিযোগ উত্থাপন করে। এটা তোমার জন্য অত্যান্ত লজ্জাস্কর ব্যাপার। পরে তোমার সন্তানদের মধ্যেও তা দেখতে পাবে। তাই তোমার সন্তানদের ব্যাপারেও চিন্তা ভাবনা কর। মাতা পিতার সাথে যে ব্যবহার করবে, সন্তানদের নিকট হতে সে ব্যবহার আশা করতে পার।

২২) বেশী বেশী মাতা পিতার দেখা শূনা করবে এবং তাদের সর্বদা হাদিয়া উপহার দিতে তৎপর হবে তারা যে কষ্ট করে তোমাকে প্রতি পালন করেছেন তজ্জন্য তাদের শুকরিয়া আদায়ে তৎপর হবে। তুমি যেমন আজ তোমার সন্তানদের আদর কর এবং তাদের জন্য কষ্ট কর , একদা তারাও তোমার জন্য ঐ রকমই কস্ট করতেন।

২৩) তোমার নিকট সর্বাধিক সম্মানিত ও হকদার হলেন তোমার মাতা। তারপর তোমার পিতা। মনে রেখ, মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।

২৪) মাতা পিতার অবাধ্যচরণ ও তাদের সাথে রাগারাগি করা হতে বিরত থাকবে। অন্যথায় তুমি  দুনিয়া ও আখেরাতে দু:খ কষ্টের মধ্যে পড়বে। আজ তুমি তোমার মাতা পিতার সাথে যে ব্যবহার করবে, ভবিষ্যতে তোমার সন্তানরাও তোমার সাথে একই রকম ব্যবহার করবে।

২৫) যদি তাদের নিকট কোন কিছু চাও, তবে নম্রভাবে তা চাও। আর যখন তুমি তা তাদের নিকট হতে পাবে, তখন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে। আর যদি দিতে অপারগ হন, তবে তাদের ওযর গ্রহন করবে। তাদের নিকট এমন অনেক কিছু দাবী করবে না, যা দিতে তাদের কষ্ট হয়।

২৬) যখন তুমি রিযক উপার্জনক্ষম হবে, তখন হতেই রিযক অন্বেষণে তৎপর হও। আর সাথে সাথে মাতা পিতাকে সাহায্য করতে চেষ্টা কর।

২৭) মনে রেখ তোমার উপর তোমার মাতা পিতার হক আছে। তেমনিভাবে তোমার স্ত্রীরও। তাই প্রত্যেকের হককে সঠিকভাবে আদায় করতে সচেষ্ট হবে। আর তাদের মধ্যে কোন মনোমালিন্য দেখা দিলে তা দুর করতে চেষ্টা করবে এবং গোপনে গোপনে উভয়কেই হাদিয়া দিবে।

২৮) যদি কক্ষণও তোমার স্ত্রীর সাথে তোমার মাতা পিতার কোন মনোমালিন্য হয়, তবে তার উত্তম বিচারে সচেষ্ট হবে এবং স্ত্রীকে এটা ভালভাবে বুঝিয়ে বলবে যে, তুমি তার পক্ষে আছ যদি সে হকের উপর থাকে। কিন্তু মাতা পিতাকে খুশি করাও তোমার জন্য অত্যান্ত জরুরী।

২৯) যদি বিয়ে কিংবা তালাকের ব্যাপারে তোমার মাতা পিতার সাথে তোমার কোন মতবিরোধ দেখা দেয়, তবে শরীয়তের আইনের আশ্রয় গ্রহন কর, ওটাই হবে তোমাদের জন্য উত্তম সাহায্যকারী।

৩০) ভাল বা মন্দ উভয় ক্ষেত্রেই মাতা পিতার দুআ কবুল হয়। তাই তোমার উপর তাদের বদ দুআ হতে বাঁচতে সচেষ্ট হও।

৩১) অন্যদের সাথে উত্তম ব্যবহার করতে সচেষ্ট হও। যে অন্যদের গালি দেয়, সে নিজেও গালি খায়। রাসূল (সা.) বলেছেন: ‘কবিরাহ গুনাহের মধ্যে এটাও অন্তর্ভুক্ত যে, কেউ তার পিতা মাতাকে গালি দেয়। ছাহাবিগণ রা. বলেন: হে আল্লাহর রাসুল সা.! কেউ কে তার মাতা পিতাকে গালি দেয়? উত্তরে তিনি বললেন: যদি কেউ অন্য কোন ব্যক্তির মাতাকে বা পিতাকে গালি দেয় তবে সেও তার মাতা পিতাকে গালি দিবে।‘ [বুখারী ও মুসলিমের মিলিত হাদীস]

৩২) মাতা পিতার সাথে সাক্ষাত করতে থাক তাদের জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পরেও। তাদের পক্ষ হতে দান খয়রাত করতে থাক। সর্বদা তাদের  জন্য এই বলে বেশী বেশী করে দুআ করতে থাক। “হে আমার রব! আমাকে এবং আমার মাতা পিতাকে এবং ঈমান সহ যারা আমার ঘরে প্রবেশ করে তাদেরকে এবং অন্যান্য মুমিন নারী পুরুষদেরকে ক্ষমা করে দাও।” [সূরা নুহ ২৯ আয়াত]

অন্যত্র আছে: “হে আমার রব! তুমি আমার মাতা পিতার উপর দয়া কর যেমনিভাবে তারা আমাকে ছোট অবস্থায় লালন পালন করেছেন।” [সূরা ইসরা, ১৭: ২৪ আয়াত]

সমাপ্ত

Print Friendly, PDF & Email


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

2 মন্তব্য

  1. দয়া করে বানানগুলো ঠিক করুন।বানান ভুলের কারনে আর্টিক্যালটির সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন