নবী (সাঃ) যেভাবে হজ করেছেন পর্ব- ৫

0
393
প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না
রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

সংকলনঃ শাইখ মুহাম্মা নাসেরুদ্দীন আল-আলবানী (রহ)অনুবাদঃ   মুফতী নুমান আবুল বাশার, ড. এটিএম ফখরুদ্দীন

পর্ব- ১ | পর্ব- ২ | পর্ব- ৩ | পর্ব- ৪ | পর্ব- ৫ 

১০ যিলহজের আমলে ধারাবাহিকতা রক্ষা না হলে কোন অসুবিধা নেই

জাবের (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ পশু যবেহ করলেন, ‘অতপর মাথা মুন্ডন করলেন।’ [122] ‘কুরবানীর দিন মিনায়’ [123] মানুষের (প্রশ্নোত্তরের) জন্য বসলেন। ‘সে দিনের’ [124] আমলগুলোতে ‘আগে পরে হয়েছে’ [125] এমন বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘কোন সমস্যা নেই, কোন সমস্যা নেই’। [126]

এক ব্যক্তি এসে বলল, আমি যবেহ করার পূর্বে মাথা মুন্ডন করে ফেলেছি। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন,কোনো সমস্যা নেই। অন্য একজন এসে বলল, ‘আমি কঙ্কর নিক্ষেপের পূর্বে মাথা মুন্ডন করে ফেলেছি, তিনি বললেন,কোনো সমস্যা নেই। তারপর ‘আরেক জন এসে বলল, আমি কঙ্কর নিক্ষেপের পূর্বে তাওয়াফ করেছি, তিনি বললেন,কোনো সমস্যা নেই। [127] অন্য এক ব্যক্তি এসে বলল, আমি পশু যবেহের আগে তাওয়াফ করেছি। তিনি বললেন,যবেহ কর, কোনো সমস্যা নেই।[128] তারপর অন্য আরেক ব্যক্তি এসে বলল, ‘আমি কঙ্কর নিক্ষেপের পূর্বে কুরবানী করে ফেলেছি। তিনি বললেন,নিক্ষেপ কর। কোন সমস্যা নেই।’ [129] ‘অতপর আল্লাহর নবী ﷺ বললেন, আমি এখানে যবেহ করলাম, আরা মিনা পুরোটাই যবেহের স্থান।’ [130] মক্কার প্রতিটি অলিগলি চলার পথ এবং যবেহের স্থান।’ [131] অতএব, তোমরা তোমাদের অবস্থানস্থলে থেকে পশু যবেহ কর।[132]

ইয়াউমুন-নহর তথা ১০ তারিখের ভাষণ

জাবের রা. বলেন, ‘কুরবানীর দিন আমাদের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ ﷺ ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন,

  • ‘সম্মানের দিক থেকে কোন্ দিনটি সবচে’ বড় ? তাঁরা বললেন, আমাদের এই দিনটি।
  • ‘তিনি বললেন, কোন্ মাসটি সম্মানের দিক থেকে সবচে’ বড় ? তাঁরা বললেন, আমাদের এই মাসটি।
  • ‘তিনি বললেন, কোন্ শহরটি সম্মানের দিক থেকে সবচে’ বড় ? তাঁরা বললেন, আমাদের এই শহরটি।’
  • ‘তিনি বললেন, নিশ্চয় তোমাদের রক্ত ও তোমাদের সম্পদ আজকের এই দিন, এই শহর, এই মাসের ন্যায় সম্মানিত।’
  • ‘আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, হে আল্লাহ,  আপনি সাক্ষী থাকুন।’ [133]

তাওয়াফে ইফাযা তথা বায়তুল্লাহ্‌র ফরয তাওয়াফ আদায়

‘অতপর রাসূলুল্লাহ ﷺ বাহনে সওয়ার হয়ে বাইতুল্লাহ গেলেন এবং (বায়তুল্লাহ্র ফরয) তাওয়াফ করলেন। সাহাবীগণও তাওয়াফ করলেন।’‘রাসূলের সাথে যারা কিরান হজ করেছিলেন তাঁরা সাফা ও মারওয়ায় সা‘ঈ করেননি।’ [134] অতপর তিনি মক্কায় যোহরের সালাত আদায় করলেন। তারপর আবদুল মুত্তালিব বংশের কাছে এলেন, ‘তারা’ [135] যমযমের পানি পান করাচ্ছিল। তিনি বললেন, ‘হে আবদুল মুত্তালিবের বংশধর! বালতি ভর্তি করে পানি তুলে তা (হাজীদেরকে) পান করাও। তোমাদের কাছ থেকে পানি পান করানোর দায়িত্ব কেড়ে নেয়ার ভয় না থাকলে আমিও নিজ হাতে তোমাদের সাথে বালতি ভরে পানি তুলে তা পান করাতাম।’ [136]

অতপর তারা তাঁকে বালতি ভরে পানি দিলেন, আর তিনি তা পান করলেন।

হজের পর আয়েশা রা. এর উমরা পালন

জাবের (রা.) বলেন, ‘আয়েশা (রা.) ঋতুবতী হলেন। তখন বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ছাড়া তিনি হজের আর সব আমল সম্পন্ন করলেন।[137] তিনি বলেন, ‘যখন তিনি পবিত্র হলেন, তখন কা‘বার তাওয়াফ করলেন এবং সাফা-মারওয়ায় সা‘ঈ করলেন।’অতপর রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, ‘তুমি তোমার হজ ও উমরা উভয়টি থেকে হালাল হয়ে গিয়েছ।[138]

আয়েশা (রা.) বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল, ‘আপনারা সবাই হজ ও উমরা করে যাবেন আর আমি কি শুধু হজ করে যাব?[139]  তিনি বললেন, ‘তোমারও তাদের মতই হজ ও উমরা হয়ে গিয়েছে।’ [140]

আয়েশা (রা.) বললেন, ‘আমি মনে কষ্ট পাচ্ছি, কেননা, আমি তো শুধু হজের পরে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেছি।[141]

জাবের (রা.) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ ﷺ নরম স্বভাবের লোক ছিলেন। যখন আয়েশা. কিছু কামনা করতেন, তিনি সেদিকে লক্ষ্য রাখতেন।’ [142] রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, ‘হে আবদুর রহমান! তুমি তাকে নিয়ে যাও এবং তাকে তানঈম থেকে উমরা করাও। [143]

অতপর, ‘আয়েশা রা. হজের পরে উমরা করলেন।’ [144] ‘তারপর ফিরে এলেন।’ [145] ‘আর এটা ছিল হাসবার রাতে [146]।’ [147]

জাবের (রা.) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ ﷺ বিদায় হজে নিজের বাহনে আরোহন করে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করলেন এবং নিজের বাঁকা লাঠি দিয়ে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করলেন, যাতে লোকজন তাঁকে দেখতে পায় এবং তিনি ওপরে থেকে তাদের তত্ত্বাবধান করতে পারেন। আর যাতে তারা তাঁর কাছে জিজ্ঞেস করতে পারে। কেননা লোকজন তাঁকে ঘিরে রেখেছিল।’ [148]

জাবের (রা.) বলেন, ‘এক মহিলা তার একটি বাচ্চা তাঁর সামনে উঁচু করে ধরে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, এর কি হজ হবে? তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, আর তোমার জন্য রয়েছে পুরস্কার।’ [149]

সমাপ্ত

পর্ব- ১ | পর্ব- ২ | পর্ব- ৩ | পর্ব- ৪ | পর্ব- ৫ 

……………………………………………………………………………………………..

Source: IslamHouse.Com

……………………………………………………………………………………………..


[122] মুসনাদে আহমদ।
[123] ইবন মাজা
[124] ইবন মাজা
[125] ইবন মাজা
[126] অর্থাৎ তোমার যে আমলগুলো বাকি আছে তা আদায় করে নাও। আর যেগুলো করেছো- তাতে যা আগে-পিছে হয়েছে তাতে কোনো অসুবিধে নেই।
[127] দারেমী, ইবন মাজা।
[128] তাহাবী।
[129] মুসনাদে আহমদ।
[130] মুসনাদে আহমদ।
[131] আবূ দাউদ।
[132] মুসলিম।
[133] মুসনাদে আহমদ।
[134] আবূ দাউদ, তাহাবী।
[135] দারমী।
[136] অর্থাৎ
[137] বুখারী, মুসনাদে আহমদ।
[138] মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ।
[139] বুখারী, মুসনাদে আহমদ। অন্য হাদীসে রয়েছে, লোকেরা দুই ইবাদাতের নেকী নিয়ে ফিরবে আর আমি কি এক কাজের নেকী নিয়ে ফিরবো?
[140] মুসনাদে আহমদ।
[141] মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ, মুসনাদে আহমদ।
[142] মুসলিম।
[143] ইবন আববাস রা. বলেন ‘আল্লাহর শপথ! মুশরিকদের প্রথা বাতিল করার জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ আয়েশা রা. কে যিলহজ মাসে উমরা করিয়েছেন। কুরাইশ গোত্র ও তাদের অনুসারীরা বলতো, ‘যখন উটের লোম গজিয়ে বেশি হবে, পৃষ্ঠদেশ সুস্থ হবে এবং সফর মাস প্রবেশ করবে তখনই উমরাকারির  উমরা সহীহ হবে’। তারা যিলহজ ও মুহররম শেষ হওয়ার পূর্বে উমরা হারাম মনে করত’ (আবূ দাউদ : ১৯৮৭)।
[144] বুখারী, মুসনাদে আহমদ।
[145] মুসনাদে আহমদ।
[146] সেটি হচ্ছে আইয়ামে তাশরীকের পরের রাত্রি। অর্থাৎ ১৪ তারিখের রাত। এটাকে মুহাস্সাবের রাতও বলা হয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ ও সাহাবীগণ ১৪ তারিখের রাত এ স্থানে যাপন করেছিলেন। যেসব জায়গায় পূর্বে শিরক বা কুফরী কর্ম অথবা আল্লাহর শত্রুতা প্রকাশ করা হত সেসব জায়গায় রাসূলুল্লাহ ﷺ ইচ্ছাকৃতভাবে ইসলামের নিদর্শনসমূহ প্রকাশ করেছেন। এই মর্মে তিনি মিনায় বলেন, ‘আমরা আগামীকাল বনূ কিনানার খায়ফে (অর্থাৎ মুহাস্সাব তথা হাসবা নামক স্থানে) যেতে চাচ্ছি, যেখানে তারা কুফরীকর্মের ওপর অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছিল, আর তা ছিল এই যে, কুরাইশ ও বনূ কিনানা, বনূ হাশিম ও বনূ আবদুল মুত্তালিবের বিরুদ্ধে এই মর্মে শপথ করেছিল যে, তাদের সাথে তারা বৈবাহিক সম্পর্ক কায়েম করবে না, বেচাকেনা করবে না, যতক্ষণ না তারা নবীকে তাদের কাছে সোপর্দ করে (বুখারী : ১৫৯০)। ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন, ‘এটাই ছিল রাসূলুল্লাহ ﷺ এর অভ্যাস যে, তিনি কুফরের নিদর্শনের স্থানসমূহে তাওহীদের নিদর্শন প্রকাশ করতেন (যাদুল মা‘আদ)।
[147] মুসলিম।
[148] মুসলিম, আবূ দাউদ, মুসনাদে আহমদ।
[149] তিরমিযী, ইবন মাজা। বাচ্চাটিকে বহন করা এবং তাকে মুহরিমরা যেসব কাজ থেকে বিরত থাকে সেসব কাজ থেকে বিরত রাখার বিনিময়ে এই নেকী (নাববী রহ.)।

Print Friendly, PDF & Email


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here